বিদ্যা অনুসন্ধান শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেয়ার প্রতি উদ্ধৃদ্ধ করণ

বিদ্যা অনুসন্ধান শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেয়ার প্রতি উদ্ধৃদ্ধ করণ

<< সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব হাদীস বই এর মুল সুচিপত্র

পরিচ্ছেদঃ বিদ্যা অনুসন্ধান শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেয়ার প্রতি উদ্ধৃদ্ধ করণ। ওলামা এবং ছাত্রদের ধবীলতের ব্যাপারে যা এসেছে তার বর্ণনা।

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৬৭ – মুআবিয়া [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এরশাদ করেনঃ “আল্লাহ যার কল্যান চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।” [১]

[বুখারী, মুসলিম ও ইবনু মাজাহ হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন।]
[হাসান লি গাইরিহী] হাদীছটি ত্বাবারানীও [কাবীর গ্রন্থে] বর্ণনা করিয়াছেন। তাহাঁর বর্ণনার বাক্য এরকমঃ
আমি রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে একথা বলিতে  শুনেছিঃ
يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّمَا الْعِلْمُ بِالتَّعَلُّمِ، وَالْفِقْهُ بِالتَّفَقُّهِ، وَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ، وَإِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ”
“হে লোক সকল! শিক্ষার্জনের মাধ্যমে জ্ঞান লাভ করা যায়, গবেষণার মাধ্যমেই ফিক্বাহ অর্জন করা যায়। আর আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের ফিক্বহ [গভীর জ্ঞান] দান করেন। إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ {আল্লাহকে তো তাহাঁর বান্দাদের মধ্যে আলেমরাই ভয় করে চলে।}[সূরা ফাতেরঃ ২৮]

[১] ফিকাহ শব্দের আসল অর্থ হচ্ছে বুঝা। বলা হয় [আরবি] লোকটি বুঝেছে ও জেনেছে। আর ক্বাফ অক্ষরে পেশ দিয়ে অর্থ হইবে ফিকাহাবিদ ও আলেম। পরিভাষায় শরীয়তের বিদ্যাকেই ফিকাহ বলা হয়। বিশেষ করে শরীয়তের শাখা-প্ৰশাখাগত জ্ঞানকে ফিকহ বলা হয়। আবুস সা`আদাত একথাটি বলেছেন।
শায়খ আলবানী বলেন, কিন্তু তাহাঁর এই কথার পক্ষে কোন দলীল নেই। কেননা দারেমী বর্ণনা করেন ইমরান মিনকারী থেকে। তিনি বলেন, আমি কোন একটি বিষয়ে হাসান বাসরীকে বললাম ফিকাহবিদগণ তো এরূপ বলেননি। তিনি বলিলেন, তোমার ধ্বংস হোক! তুমি প্রকৃত ফিকাহবিদ দেখেছো? প্রকৃত ফিকাহবিদ হচ্ছে সেই ব্যক্তি যিনি দুনিয়া বিমুখ, আখেরাত মুখী, ধর্মের যাবতীয় বিষয়ে পণ্ডিত এবং সর্বদা পালনকর্তার ইবাদতে লিপ্ত। হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৬৮ – হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেনঃ “ইবাদতের মর্যাদার চেয়ে বিদ্যার মর্যাদা অনেক বেশী। তোমাদের দ্বীনের মাঝে সর্বোত্তম বিষয় হল পরহেযগারিতা।”

[ত্বাবরানী আওসাত গ্রন্থে ও উত্তম সনদে বাযযার হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন] হাদিসের তাহকিকঃসহীহ লিগাইরিহি

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৬৯ – আবু হুরায়রা [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি কোন মুমিনের দুনিয়ার বিপদ সমূহ [১] থেকে একটি বিপদ দূরভীত করিবে [২], আল্লাহ তা`আলা কিয়ামত দিবসের বিপদ সমূহ থেকে তার একটি বিপদ দূরভীত করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন [৩] রাখবে। আল্লাহ তা`আলা দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্থ বা অভাবী ব্যক্তিকে [৪] সহযোগিতা করিবে, আল্লাহ তা`আলা দুনিয়া ও আখেরাতে তাকে সহযোগিতা দান করবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাইকে সাহায্য করিবে, আল্লাহ ততক্ষণ তাকে সাহায্য করবেন।
যে ব্যক্তি বিদ্যার্জনের জন্য রাস্তা চলবে, বিনিময়ে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি পথ সহজ করে দেবেন। যখনই কিছু সংখ্যক মানুষ আল্লাহর কোন ঘরে [৫] একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করে, তার পঠন-পাঠন ও গবেষণায় [৬] লিপ্ত হয় তখনই ফেরেশতাগণ তাহাদেরকে ঘিরে নেন। নাযিল হয় তাহাদের প্রতি প্রশান্তি ও দৃঢ়তা, তাহাদেরকে আচ্ছাদিত করে [আল্লাহর] রহমত এবং আল্লাহ তাহাঁর নিকটের ফেরেশতাহাদের মাঝে তাহাদের সম্পর্কে আলোচনা করেন। যার [মন্দ] কর্ম তাকে পিছে ফেলেছে [৭l, তার বংশ মর্যাদা তাকে [জান্নাতের পথে] অগ্রবর্তী করিতে পারবে না।”

[হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, ইবনু হিব্বান ও হাকেম। হাকেম বলেন, বুখারী ও মুসলিমের শর্তনুযায়ী হাদীছটি সহীহ] [৮]

[১] অর্থাৎ দুনিয়ার কোন বিপদ বা দুশ্চিন্তা ছোট-বড় যাই হোক না কেন। চাই তা ইজ্জত সংক্রান্ত হোক বা ধন-সম্পদের বিষয়ে হোক শরীয়ত সম্মত হলে তা দূর করে দিবে। কিন্তু শরীয়ত বহির্ভূত হারাম বা মাকরূহ হলে উক্ত বিপদ দূর করা জায়েয নয়।
[২] অর্থাৎ তার সম্পদ বা সম্মান বা ইঙ্গিত বা মুখের কথা বা মধ্যস্থতা বা দু`আ বা সুপারিশ ইত্যাদি দ্বারা মুমিনের বিপদ দূর করিবে।
[৩] গোপন করার অর্থ হল, বস্ত্ৰ দ্বারা শারীরিক ক্ৰটি ঢেকে দিবে অথবা চারিত্রিক দোষ-ত্রুটি গোপন করিবে। কিন্তু লোকটি যদি দুশ্চরিত্র হিসেবে পরিচিত থাকে, তবে তার অন্যায় গোপন করা জায়েয নয়। আর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ও উত্তম চরিত্রের লোক হলে তার দোষ-ত্রুটি গোপন করিবে। নবী [সাঃ] বলেন, “ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন উত্তম চরিত্রের লোকদের দন্ডবিধি সংক্রান্ত অপরাধ ব্যতীত অন্যান্য ত্রুটি মার্জনা করে দিও।” [আবু দাউদ]। অর্থাৎ আল্লাহর অধিকার সম্পর্কিত অপরাধ যেমন ব্যভিচার, মদ্যপান ইত্যাদি গোপন করিবে। কিন্তু মানুষের অধিকার সম্পর্কিত হলে যেমন খুন, চুরি ইত্যাদি। তবে তা গোপন করা হারাম; বরং এ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো ওয়াজিব।
[৪] অর্থাৎ ঋণে জর্জরিত ব্যক্তি। তাকে সহযোগিতা করার অর্থ হচ্ছে ঋণ মওকুফ করে দেয়া বা পরিশোধের সময় বৃদ্ধি করে দেয়া। অথবা উদ্দেশ্য হচ্ছে যে কোন অভাবী মানুষকে উপহার দিয়ে বা সাদকা প্ৰদান করে বা কর্য দিয়ে তাকে সহযোগিতা করা।
[৫] এখানে ঘর বলিতে  উদ্দেশ্য হচ্ছে, মসজিদ বা মাদ্রাসা বা মক্তব ইত্যাদি যা দ্বীনী কাজের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
[৬] অর্থাৎ কুরআন শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেয়া, একজন অপরজনকে পড়ানো, তাফসীর করা, তার শাব্দিক অর্থ ও ব্যাখ্যা করা, গবেষণা করে মাসআলা-মাসায়েল বের করা ইত্যাদি।
[`৭`] অর্থাৎ অসৎ কর্মের কারণে এবং নেক কর্মে উদাসীনতার কারণে যে লোক পিছনে পড়ে যাবে তার বংশ মর্যাদা ও বাপ-দাদার দোহাই কোন উপকারে আসবে না, তাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে না। বান্দা যদি হাবশী গোলামও হয় তবু তার আনুগত্যশীল কর্ম তাকে অগ্রগামী করিবে সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশের উদাসীন লোকের উপর। আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহর নিকট অতি সম্মানিত সেই লোক যে তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে অধিক ভয় করে।”
[৮] শায়খ আলবানী বলেন, হাদীছটির উল্লেখিত বাক্যগুলা ইবনি মাজাহ থেকে নেয়া। হুবহু এই বাক্যগুলো অন্যান্য গ্রন্থগুলোতে নেই। হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৭০ – আবু দারদা [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কে একথা বলিতে  শুনেছিঃ “যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে রাস্তা চলবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের একটি পথ সহজ করে দিবেন। আর নিঃসন্দেহে তালেবে ইলমের কাজে সন্তুষ্ট হয়ে ফেরেশতাগণ ডানাগুলো তাহাদের জন্যে বিছিয়ে দেন। আসমান সমূহ ও যমীনের মধ্যে যা কিছু আছে সবই আলেম ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিতে থাকে, এমনকি পানির মাছও তার জন্য ইস্তেগফার করে। সাধারণ আবেদ [ইবাদত গুজর] ব্যক্তির উপর একজন আলেম [জ্ঞানী] ব্যক্তির মর্যাদা ঠিক সেরূপ, যেরূপ সমস্ত নক্ষত্ররাজীর উপর চন্দ্রের মর্যাদা। নিঃসন্দেহে ওলামাগণ নবীদের উত্তরসূরী। নিশ্চয় নবীগণ কোন দীনার বা দিরহামের মীরাছ ছেড়ে যান না, বরং তারা ইলম বা জ্ঞানের উত্তরাধিকার ছেড়ে যান। সুতরাং যে ব্যক্তি উহা গ্রহণ করিল সে পরিপূর্ণ অংশ গ্রহণ করিল।”

[হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, ইবনু হিব্বান, বায়হাকী] হাদিসের তাহকিকঃহাসান লিগাইরিহি

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৭১ – ছাফওয়ান বিন আসসাল আল মুরাদী [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ একদা আমি নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]এর নিকট এলাম। তখন তিনি একটি লাল চাদরে হেলান দেয়া অবস্থায় মসজিদে নববীতে বসে ছিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার নিকট এসেছি, উদ্দেশ্য জ্ঞানার্জন করব। তিনি বললেনঃ “তালেবে ইলম স্বাগতম। নিশ্চয় ফেরেশতাগণ জ্ঞানাম্বেষণকারীকে ঘিরে রাখেন এবং ডানাগুলো দ্বারা তাকে ছায়া দান করেন। অতঃপর সে যা অম্বেষণ করে তার ভালবাসায় তারা একে অপরের উপর সওয়ার হয়ে দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত পৌছে যায়।”

[আহমাদ, ত্বাবরানী উত্তম সনদে হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন। হাদীছের উপরোক্ত বাক্যগুলো তুবরানী থেকে গৃহিত। হাদীছটি আরো বর্ণনা করিয়াছেন ইবনু হিব্বান ও হাকেম। হাকেম বলেন, তার সনদ সহীহ। হাদীছটি অনুরূপভাবে ইবনি মাজাহ সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করেছন।] হাদিসের তাহকিকঃহাসান হাদীস

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৭২ – আনাস বিন মালেক [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, “জ্ঞানার্জন প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির উপর ফরয।”

[ইবনু মাজাহ প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন] হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৭৩ – আনাস বিন মালেক [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেনঃ “সাতটি আমলের ছোয়াব বান্দার মৃত্যুর পর কবরে থাকা অবস্থায় তার জন্য জারি থাকে। যে ব্যক্তি কাউকে বিদ্যা শিক্ষা দিবে, অথবা নদী খনন করিবে, অথবা কুপ খনন করিবে, অথবা খেজুর গাছ লাগিয়ে যাবে, অথবা মসজিদ তৈরী করিবে, অথবা পবিত্র কুরআনের উত্তরাধিকার রেখে যাবে অথবা এমন সন্তান রেখে যাবে যে মৃত্যুর পর তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিবে।”

[এসকল নেক কাজের ছোয়াব মৃত্যুর পরও লাভ করিতে থাকিবে।]
[হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন বাযযার ও আবু নাঈম [হিলইয়া গ্রন্থে], আরো বর্ণনা করিয়াছেন বায়হাকী] হাদিসের তাহকিকঃহাসান লিগাইরিহি

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৭৪ – আবু হুরায়রা [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি শুনিয়াছি রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেনঃ “দুনিয়াটা অভিশপ্ত এবং এর মধ্যস্থিত সব কিছুই অভিশপ্ত। তবে আল্লাহর যিকির, যিকিরের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়, আলেম [জ্ঞানী] ও জ্ঞানার্জনকারী [অভিশপ্ত নয়]। [১]”
[হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন তিরমিয়ী, ইবনু মাজহ ও বায়হাকী। তিরমিয়ী বলেনঃ হাদীছটি হাসান]

[১] এখানে দুনিয়া বলিতে  উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহ তা`আলা থেকে যা দূরে রাখে তা সবই। অভিশপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর রহমতের নযর থেকে বঞ্চিত হওয়া। আল্লাহর যিকিরের সাথে সংশ্লিষ্ট দুনিয়াবী বস্তু আল্লাহ যা পছন্দ করেন। অর্থাৎ আল্লাহর আদেশ-নিষেধের সাথে সামঞ্জস্যশীল বিষয়। হাদিসের তাহকিকঃহাসান হাদীস

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৭৫ – ইবনু মাসউদ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেনঃ “দুটি কাজ ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে হিংসা[[১] করা বৈধ নয়। [১] এক ব্যক্তি, আল্লাহ তাকে সম্পদ দিয়েছেন এবং তাকে শক্তি দিয়েছেন সৎপথে উহা ব্যয় করিতে। [২] আর এক ব্যক্তি আল্লাহ তাকে হিকমত তথা প্রজ্ঞা দিয়েছেন, সে তা দ্বারা বিচার ফায়সালা করে বা সিদ্ধান্ত নেয় এবং অন্যকে উহা শিক্ষা দান করে।”

[হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন বুখারী ও মুসলিম] [১] আরবীতে الحسد শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়ঃ [১] হিংসা- অর্থাৎ কারো ভাল দেখে তার ধ্বংস কামনা করা। এটা হারাম। [২] হিংসা অর্থ গিবতা অর্থাৎ অন্যের ভাল দেখে তা নিজের জন্য আকাংখা করা, এটা বৈধ। উল্লেখিত হাদীছে দ্বিতীয় অর্থটি উদ্দেশ্য করা হয়েছে। হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৭৬ – আবু মূসা [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেনঃ “যে ইলম ও হেদায়াত দিয়ে আল্লাহ তা`আলা আমাকে প্রেরণ করেছে তার উদাহরণ হল যমীনে বৃষ্টিপাতের মত। কোন কোন জায়গার মাটি ভাল, পানি ধারণ করে এবং তাতে প্রচুর উদ্ভিদ ও ঘাষ-পাতা উৎপন্ন হয়। আবার কোন জায়গার মাটি শক্ত, সেখানে উদ্ভিদ হয় না। তবে সে পানি ধরে রাখে। অতঃপর আল্লাহ তা দ্বারা মানুষের উপকার করেন। তারা সে পানি পান করে, সেচের কাজে ব্যবহার করে ও চাষাবাদ করে। আর এক ধরণের মাটি রহিয়াছে যা শক্ত ও খারাপ, পানিও ধরে রাখে না। উদ্ভিদও উৎপন্ন করে না।
প্রথম দুপ্রকার মাটির উদাহরণ ঐ ব্যক্তির সাথে যে আল্লাহ তা`আলার দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করেছে, আর আল্লাহ যা দিয়ে আমাকে প্রেরণ করিয়াছেন তা দ্বারা তাকে উপকৃত করিয়াছেন। অতঃপর সে নিজে উহা শিখেছে ও অন্যকে শিক্ষা দিয়েছে।
আর তৃতীয় প্রকার মাটির উদাহরণ ঐ ব্যক্তির সাথে, যে আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে মাথা উঠায়নি এবং আল্লাহর হেদায়াত কবুল করেনি, যা দিয়ে আমি প্রেরীত হয়েছি।”

[হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন বুখারী ও মুসলিম] হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৭৭ – আবু হুরায়রা [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেনঃ “মুমিন ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার আমল ও নেকীর কাজ থেকে যা তার নিকট পৌঁছবে, তা হল ইলম যা সে শিক্ষা দান করেছে ও প্রচার করেছে। রেখে যাওয়া সৎ সন্তান [তার দু`আ]। অথবা একটি কুরআন যা সে উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে গিয়েছে। অথবা একটি মসজিদ তৈরী করেছে বা মুসাফিরদের জন্য একটি ঘর তৈরী করে গিয়েছে। অথবা একটি নদী প্রবাহিত করেছে বা তার জীবদ্দশায় সুস্থ থাকাকালে নিজ সম্পদ থেকে কিছু সাদকা বের করেছে। এগুলোর ছোয়াব মৃত্যুর পর তার কাছে পৌঁছতে থাকিবে।”

[হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন ইবনু মাজাহ হাসান সনদে, বায়হাকী ও ইবনু খুযায়মা অনুরূপ ভাবে।] তবে তার বর্ণনায় বলা হয়েছেঃ অথবা একটি নদী খনন করে, তিনি কুরআনের কথা উল্লেখ করেন নি। হাদিসের তাহকিকঃনির্ণীত নয়

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৭৮ – আবু হুরায়রা [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেনঃ “আদম সন্তান যখন মৃত্যু বরণ করে, তখন তিনটি আমল ব্যতীত সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়। [১] সাদকায়ে জারিয়া বা প্রবাহমান সাদকা [২] উপকারী বিদ্যা [৩] সৎ সন্তান, যে তার জন্য দু`আ করে।

[মুসলিম প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন] হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৭৯ – আবু কাতাদাহ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] করেছেনঃ “কোন ব্যক্তি তার [মৃত্যুর] পর যা ছেড়ে যায় তন্মধ্যে সর্বোত্তম হল তিনটি বিষয়ঃ [১] নেক সন্তান যে তার জন্য দু`আ করিবে। [২] সাদকা, মানুষ যা দ্বারা উপকৃত হতে থাকে, এর প্রতিদান তার নিকট পৌঁছতে থাকিবে। [৩] ইলম, তার মৃত্যুর পর সে অনুযায়ী আমল করা হইবে।”

[ইবনু মাজাহ সহীহ সনদে হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন] হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৮০ – সাহল বিন মুআয বিন আনাস স্বীয় পিতা [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, “যে ব্যক্তি ইসলামের জ্ঞান শিক্ষা দিবে, সে তদানুযায়ী আমলকারীর অনুরূপ প্রতিদান লাভ করিবে। এতে আমলকারীর প্রতিদান কোন অংশে কম হইবে না।”

[হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন ইবনু মাজাহ] হাদিসের তাহকিকঃহাসান লিগাইরিহি

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৮১ – আবু উমামা বাহেলী [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর নিকট দু`ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হল, একজন আবেদ [সাধারণ ইবাদত গুজর] অন্যজন আলেম [ইসলামী জ্ঞানে পারদর্শী] তিনি বললেনঃ [তাহাঁর উপর সর্বোত্তম রহমত ও সালাম নাযিল হোক] “আবেদের উপর আলেমের মর্যাদা ঠিক তেমন, যেমন তোমাদের সাধারণ ব্যক্তির উপর আমার মর্যাদা।” অতঃপর রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহ[১], ফেরেশতাকুল, আসমান সমূহ ও যমীনের অধিবাসীগণ এমনকি পিপিলিকা তার গর্ত থেকে- এমনকি পানির মাছও মানুষকে কল্যাণের শিক্ষাদানকারীর জন্য দু`আ করিতে থাকে।”

[হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন তিরমিযী, তিনি বলেন, হাদীছটি হাসান সহীহ] হাদিসের তাহকিকঃহাসান লিগাইরিহি . [১] আল্লাহ দুআ করেন অর্থ রহমত নাযিল করেন। ফেরেশতাহাদের দুআর অর্থ হল ইক্তেগফার বা ক্ষমা প্ৰাথনা করা

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৮২ – উল্লেখিত হাদীছটি বাযযার আয়েশা [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ “কল্যাণের শিক্ষাদানকারীর জন্য প্রত্যেক বস্তু ক্ষমা প্রার্থনা করে এমনকি সমুদ্রের মৎস্যকুলও।”

হাদিসের তাহকিকঃসহীহ লিগাইরিহি

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৮৩ – আবু হুরায়রা [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি একদা মদীনার বাজার অতিক্রম করছিলেন। তখন বাজারে দাঁড়িয়ে বললেনঃ হে বাজারের লোক সকল! কিসে তোমাদেরকে অপারগ করিল? তারা বলিল, উহা কি হে আবু হুরায়রা? তিনি বললেনঃ ওখানে রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর মীরাছ বন্টন হচ্ছে আর তোমরা এখানে? তোমরা সেখানে গিয়ে কিছু অংশ নাও না কেন? তারা বললঃ উহা কোথায়? তিনি বললেনঃ মসজিদে। একথা শুনে তারা সেখানে ছুটে গেল। আর আবু হুরায়রা দাঁড়িয়ে থাকলেন, শেষ পর্যন্ত তারা ফিরে এল। তারপর তিনি তাহাদেরকে বললেনঃ তোমরা কি করলে? তারা বললঃ হে আবু হুরায়রা! আমরা গিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলাম। কিন্তু কোন কিছু বন্টন হচ্ছে তা তো দেখলাম না? আবু হুরায়রা তাহাদেরকে বললেনঃ তোমরা মসজিদে কাউকে দেখিতে পাওনি? তারা বললঃ হ্যাঁ, আমরা দেখেছি কিছু লোক নামায আদায় করছে, কিছু লোক কুরআন পাঠ করছে, কিছু লোক হালাল-হারামের বিষয়ে পরস্পরে আলোচনা করছে। তখন আবু হুরায়রা তাহাদেরকে বললেনঃ আফসোস তোমাদের জন্যে ওটাই তো মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর মীরাছ [উত্তরাধিকার]।

[ত্বাবরানী উত্তম সনদে [আওসাত্ব গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন।] হাদিসের তাহকিকঃহাসান মাওকুফ

Leave a Reply