নতুন লেখা

বিদায় হজ্জের ভাষণ হাদিস বিস্তারিত

বিদায় হজ্জের ভাষণ হাদিস বিস্তারিত

বিদায় হজ্জের ভাষণ হাদিস বিস্তারিত >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ১১, অধ্যায়ঃ ২

  • অধ্যায়ঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

অধ্যায়ঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ

২৫৫৫. জাবির ইবনি আব্দুল্লাহ হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ মাদীনায় নয় বছর অবস্থানকালে হজ্জ পালন করেননি। অতঃপর দশম বছরে মানুষের মধ্যে ঘোষণা করিলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ এ বছর হজে যাবেন। তাই মাদীনায় বহু লোক আগমন করলো। অতঃপর আমরা তাহাঁর [সাঃআঃ] সাথে হজ্জ করিতে রওয়ানা হলাম এবং যখন যুলহুলায়ফাহ্ নামক স্থানে পৌঁছলাম [আবু বাকর-এর স্ত্রী] আসমা বিনতু উমায়স মুহাম্মাদ ইবনি আবু বাকর-কে প্রসব করিলেন। তাই আসমা [রাদি.] রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ-কে জিজ্ঞেস করে পাঠালেন, আমি এখন কি করবো? রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলে পাঠালেন, তুমি গোসল করিবে এবং কাপড়ের টুকরা দিয়ে টাইট করে লেঙ্গুট [প্যান্ট] পরবে। এরপর ইহরাম বাঁধবে। তখন [বর্ণনাকারী জাবির] বলেন, এ সময় রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ মাসজিদে দু রাক্আত সালাত আদায় করিলেন। এরপর ক্বাস্ওয়া নামক উটনীর উপর আরোহণ করিলেন।

অতঃপর যখন বায়দা নামক স্থানে তাঁকে নিয়ে উটনী সোজা হয়ে দাঁড়াল তিনি আল্লাহর তাওহীদ সম্বলিত এ তালবিয়াহ্ পাঠ করিলেন, লাব্বায়কা আল্লা-হুম্মা লাব্বায়কা, লাব্বায়কা লা- শারীকা লাকা লাব্বায়কা, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান্নিমাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারীকা লাকা। জাবির [রাদি.] বলেন, আমরা হজ্জ ব্যতীত আর অন্য কিছুর নিয়্যাত করিনি। আমরা উমরা বিষয়ে কিছু জানতাম না। অবশেষে আমরা রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ-এর সাথে বায়তুল্লাহয় আসলাম তখন তিনি হাজরে আসওয়াদ [কালো পাথর]-এ হাত লাগিয়ে চুমু খেলেন এবং সাতবার কাবার [বায়তুল্লাহ] তাওয়াফ করিলেন। তাতে তিনবার জোরে জোরে [রমল] ও চারবার স্বাভাবিকভাবে হেঁটে হেঁটে তাওয়াফ করিলেন। অতঃপর তিনি [সাঃআঃ] মাকামে ইব্রাহীমের দিকে অগ্রসর হলেন এবং কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করিলেন, وَاتَّخِذُوْا مِنْ مَقَامِ إِبرَاهِيْمَ مُصَلّٰى এবং মাকামে ইব্রাহীমকে সলাতের স্থানে রূপান্তরিত করো- [সূরা আল বাক্বারাহ্ ২ : ১২৫] [অর্থাৎ- এর কাছে নামাজ আদায় করো]। এ সময় তিনি [সাঃআঃ] মাকামে ইব্রাহীমকে তার ও বায়তুল্লাহর মাঝখানে রেখে দু রাক্আত সালাত আদায় করিলেন।

অপর এক বর্ণনায় আছে, এ দু রাক্আত সলাতে তিনি [সাঃআঃ] কুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ ও কুল ইয়া- আইয়্যুহাল কা-ফিরূন পড়েছিলেন। অতঃপর তিনি [সাঃআঃ] হাজারে আস্ওয়াদের দিকে ফিরে গেলেন, একে স্পর্শ করে চুমু খেলেন। তারপর তিনি [সাঃআঃ] দরজা দিয়ে সাফা পর্বতের দিকে বের হয়ে গেলেন। যখন তিনি [সাঃআঃ] সাফার নিকটে পৌঁছলেন তখন কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করিলেন, إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللّٰهِ অর্থাৎ- নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়াহ্ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত- [সূরা আল বাক্বারাহ্ ২ : ১৫৮]। আর বললেন, আল্লাহ তাআলা যেখান হইতে শুরু করিয়াছেন আমিও তা ধরে শুরু করবো। তাই তিনি [সাঃআঃ] সাফা হইতে শুরু করিলেন এবং এর উপরে চড়লেন। এখান থেকে তিনি [সাঃআঃ] আল্লাহর ঘর দেখিতে পেলেন।

অতঃপর তিনি [সাঃআঃ] কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা দিলেন এবং তাহাঁর মহিমা বর্ণনা করিলেন। আর তিনি [সাঃআঃ] বললেন, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই, তিনি অদ্বিতীয়, তাহাঁর কোন শারীক নেই, তাহাঁরই সার্বভৌমত্ব ও তাহাঁরই সব প্রশংসা, তিনি সব কিছুতেই ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া কোন মাবূদ নেই, তিনি অদ্বিতীয়, তিনি তাহাঁর ওয়াদা পূর্ণ করিয়াছেন, তিনি তাহাঁর বান্দাকে সাহায্য করিয়াছেন, একাই তিনি সম্মিলিত কুফরী শক্তিকে পরাভূত করিয়াছেন- এ কথা তিনি [সাঃআঃ] তিনবার বললেন। এর মাঝে কিছু দুআ করিলেন। অতঃপর সাফা হইতে নামলেন এবং মারওয়াহ্ অভিমুখে হেঁটে চললেন, যে পর্যন্ত তাহাঁর পবিত্র পা উপত্যকার মধ্যমর্তী সমতলে গিয়ে ঠেকলো।

তারপর তিনি [সাঃআঃ] দ্রুতবেগে হেঁটে চললেন, মারওয়ায় না পৌঁছা পর্যন্ত। এখানেও তিনি [সাঃআঃ] সাফায় যা করিয়াছেন, মারওয়ার শেষ চলা পর্যন্ত তাই করিলেন। এমনকি যখন মারওয়াতে শেষ তাওয়াফ শেষ হলো, তখন তিনি মারওয়ার উপর দাঁড়িয়ে লোকদেরকে সম্বোধন করিলেন এবং লোকেরা তখন তাহাঁর নীচে [অপেক্ষমাণ] ছিল। তিনি [সাঃআঃ] বললেন, যদি আমি আমার ব্যাপারে আগে জানতে পারতাম যা পরে আমি জেনেছি, তবে আমি কখনো কুরবানীর পশু সাথে নিয়ে আনতাম না এবং একে উমরার রূপ দান করতাম। তাই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কুরবানীর পশু সাথে নিয়ে আসেনি সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে। একে উমরার রূপ দান করে। এ সময় সুরাক্বাহ্ বিন মালিক ইবনি জুশুম দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহর রসূল! এটা কি আমাদের জন্য এ বছর, নাকি চিরকালের জন্য? তখন রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ নিজ হাতের আঙুলগুলো পরস্পরের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে দুবার বললেন, উমরা হজ্জের মধ্যে প্রবেশ করলো না। বরং চিরকালের জন্যে।

এ সময় আলী [রাদি.] ইয়ামান হইতে নবী সাঃআঃ-এর কুরবানীর পশু নিয়ে আসলেন [তিনি সেখানে বিচারক পদে নিযুক্ত ছিলেন]। তিনি [সাঃআঃ] তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি [ইহরাম বাঁধার সময় নিয়্যাতে] কি বলেছিলে? আলী [রাদি.] বললেন, আমি বলেছি- হে আল্লাহ! আমি ইহরাম বাঁধছি যেভাবে তোমার রসূল ইহরাম বেঁধেছেন! নবী সাঃআঃ বললেন, আমার সাথে কুরবানীর পশু রয়েছে, তাই তুমি ইহরাম খুলো না। রাবী জাবির [রাদি.] বলেন, যেসব কুরবানীর পশুগুলো আলী [রাদি.] ইয়ামান হইতে নিয়ে এসেছিলেন এবং যেগুলো নবী সাঃআঃ নিজের সাথে নিয়ে এসেছিলেন তাতে মোট একশ হয়ে গেলো। রাবী জাবির বলেন, নবী সাঃআঃ ও তাহাঁর সাথে যারা নবীর মতো পশু নিয়ে এসেছিলেন, তারা ছাড়া সকলে ইহরাম খুলে হালাল হয়ে গেলেন এবং চুল কাটলেন। অতঃপর [৮ যিলহাজ্জ] তারবিয়ার দিন তাঁরা সকলেই নতুন করে ইহরাম বাঁধলেন এবং মিনা অভিমুখে রওয়ানা হলেন এবং নবী সাঃআঃ-ও সওয়ার হয়ে গেলেন এবং সেখানে যুহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজরের সালাত আদায় করিলেন। অতঃপর সূর্যোদয় পর্যন্ত স্বল্প সময় অবস্থান করিলেন।

এ সময় রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ আদেশ করিলেন যেন তাহাঁর জন্যে নামিরাহ্য় একটি পশমের তাঁবু খাটানো হয়। এ কথা বলে তিনিও সেদিকে রওয়ানা হয়ে গেলেন। তখন কুরায়শগণের এ বিষয়ে সন্দেহ ছিল না যে, রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ নিশ্চয়ই মাশ্আরুল হারাম-এর নিকটে অবস্থান করিবেন, যেভাবে তারা জাহিলিয়্যাতের যুগে করতো [নিজের মর্যাদাহানির আশঙ্কায় সাধারণের সাথে আরাফাতে সহবস্থান করিবেন না]। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ আরাফাতে না পৌঁছা পর্যন্ত সামনে অগ্রসর হলেন। সেখানে গিয়ে দেখলেন, নামিরাহ্য় তাহাঁর জন্য তাঁবু খাটানো হয়েছে। তাই তিনি [সাঃআঃ] সেখানে নামলেন [অবস্থান নিলেন] সূর্য ঢলা পর্যন্ত। অতঃপর তিনি [সাঃআঃ] তাহাঁর ক্বাস্ওয়া উষ্ট্রীর জন্য আদেশ করিলেন।

ক্বাস্ওয়া সাজানো হলে তিনি [সাঃআঃ] বাত্বনি ওয়াদী বা আরানা উপত্যকায় পৌঁছলেন এবং লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন, তিনি [সাঃআঃ] বললেন- তোমাদের একজনের জীবন ও সম্পদ অপরের প্রতি [সকল দিন, কাল ও স্থানভেদে] হারাম যেভাবে এ দিনে, এ মাসে, এ শহরে হারাম। সাবধান! জাহিলিয়্যাতের যুগের সকল অপকর্ম আমার পদতলে প্রোথিত হলো, জাহিলিয়্যাত [মূর্খতার] যুগের রক্তের দাবীগুলো রহিত হলো। আর আমাদের রক্তের দাবীসমূহের যে দাবী আমি প্রথমে রহিত করলাম, তা হলো [আমার নিজ বংশের আয়াশ] ইবনি রবীআহ্ ইবনি হারিস-এর রক্তের দাবী। যে বানী সাদ গোত্রের দুধপানরত অবস্থায় ছিল তখন হুযায়ল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে। এভাবে জাহিলিয়্যাত যুগের সূদ মাওকূফ [রহিত] হয়ে গেল। আর আমাদের [বংশের] যে সূদ আমি প্রথমে মাওকূফ করলাম তা [আমার চাচা] আব্বাস ইবনি আবদুল মুত্ত্বালিব-এর [পাওনা] সূদ, তা সবই মাওকূফ করা হলো।

তোমরা তোমাদের নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করিবে। কেননা তোমরা তাদেরকে গ্রহণ করেছো আল্লাহর আমানাত হিসেবে এবং আল্লাহর নামে তাদের গুপ্তাঙ্গকে হালাল করেছো। তাদের ওপর তোমাদের হাক্ব হলো তারা যেন তোমাদের বিছানায় এমন কাউকেও আসতে না দেয়, যাকে তোমরা অপছন্দ কর। যদি তারা তা করে, তবে তাদেরকে মৃদু প্রহার করিবে। আর তোমাদের ওপর তাদের হাক্ব হলো, তোমরা ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদের খাদ্য ও পোশাকের ব্যবস্থা করিবে।

আমি তোমাদের মাঝে এমন একটি জিনিস রেখে যাচ্ছি যদি তোমরা তা আকড়ে ধরো, তবে তোমরা আমার মৃত্যুর পর কখনো বিপথগামী হবে না- তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব।

হে লোক সকল! তোমরা আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে, তখন তোমরা কি বলবে? লোকেরা উত্তরে বললো, আমরা সাক্ষ্য দিবো যে, আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর বাণী আমাদের কাছে পৌঁছিয়েছেন। নিজের কর্তব্য সম্পূর্ণরূপে পালন করিয়াছেন এবং আমাদের কল্যাণ কামনা করিয়াছেন। তখন তিনি [সাঃআঃ] নিজের শাহাদাত অঙ্গুলি আকাশের দিকে উঠিয়ে এবং মানুষের দিকে তা ইঙ্গিত করে তিনবার বললেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থেকো, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থেকো।

অতঃপর বিলাল [রাদি.] আযান ও ইক্বামাত দিলেন। নবী সাঃআঃ যুহরের সালাত আদায় করিলেন। বিলাল আবার ইক্বামাত দিলেন। নবী সাঃআঃ আসরের সালাত আদায় করিলেন। এর মাঝে কোন নফল সালাত আদায় করিলেন না। এরপর তিনি [সাঃআঃ] ক্বাস্ওয়া উষ্ট্রীতে আরোহণ করে [আরাফাতে] নিজের অবস্থানস্থলে পৌঁছলেন। এখানে এর পিছন দিক [জাবালে রহমাতের নীচে] পাথরসমূহের দিকে এবং হাবলুল মুশাত-কে নিজের সম্মুখে করে কিবলার দিকে ফিরলেন। সূর্য না ডুবা ও পিত রং কিছুটা না চলে যাওয়া পর্যন্ত এভাবে তিনি [সাঃআঃ] এখানে দাঁড়িয়ে রইলেন।

এরপর সূর্যের গোলক পরিপূর্ণ নীচের দিকে অদৃশ্য হয়ে গেলো। এরপর তিনি [সাঃআঃ] উসামাকে নিজের সওয়ারীর পেছনে বসালেন এবং মুযদালিফায় পৌঁছা পর্যন্ত সওয়ারী চালাতে থাকলেন। এখানে তিনি [সাঃআঃ] এক আযান ও দুই ইক্বামাতের সাথে মাগরিব ও ইশার সালাত আদায় করিলেন। এর মধ্যে কোন নফল সালাত আদায় করিলেন না। তারপর ভোর না হওয়া পর্যন্ত শুয়ে রইলেন। ভোর হয়ে গেলে তিনি [সাঃআঃ] আযান ও ইক্বামাত দিয়ে ফজরের সালাত আদায় করিলেন। তারপর তিনি [সাঃআঃ] ক্বাস্ওয়া নামক উষ্ট্রীতে আরোহণ করে চলতে লাগলেন যতক্ষণ না মাশ্আরাল হারামে এসে পৌঁছলেন। সেখানে তিনি [সাঃআঃ] কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করিলেন। তাহাঁর মহিমা ঘোষণা করিলেন, কালিমায়ে তাওহীদ [লা- ইলা-হা ইল্লালস্ন-হ] পড়লেন এবং তাহাঁর একত্ব ঘোষণা করিলেন। এভাবে তিনি [সাঃআঃ] সেখানে আকাশ পরিষ্কার হওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকলেন।

অতঃপর তিনি সূর্যোদয়ের পূর্বেই সওয়ারী চালিয়ে দিলেন এবং আপন [চাচাতো ভাই] ফযল ইবনি আব্বাস-কে সওয়ারীর পেছনে বসালেন। এভাবে তিনি [সাঃআঃ] বাত্বনি মুহাস্‌সির নামক স্থানে পৌঁছলেন এবং সওয়ারীকে কিছুটা দৌড়ালেন। তারপর তিনি [সাঃআঃ] মধ্যম পথে চললেন যা বড় জামারার দিকে গিয়েছে। সুতরাং তিনি [সাঃআঃ] ওই জামারায় পৌঁছলেন যা গাছের নিকট অবস্থিত [অর্থাৎ- বড় জামারাহ্] এবং বাত্বনি ওয়াদী [অর্থাৎ- নীচের খালি জায়গা] হইতে এর উপর বুটের মতো সাতটি কংকর মারলেন। আর প্রত্যেক কংকর মারার সময় আল্লা-হু আকবার বললেন। এরপর তিনি [সাঃআঃ] সেখান থেকে কুরবানীর জায়গায় ফিরে আসলেন এবং তেষট্টিটি উট নিজ হাতে কুরবানী করিলেন। অতঃপর যা বাকী রইলো তা আলীকে বাকী পশুগুলো দিলেন, তিনি তা কুরবানী করিলেন। তিনি [সাঃআঃ] নিজের পশুতে আলীকেও শারীক করিলেন। তখন তিনি [সাঃআঃ] প্রত্যেক পশু হইতে এক টুকরা নিয়ে একই হাড়িতে পাকানোর নির্দেশ দেন। সুতরাং নির্দেশ অনুযায়ী একটি ডেকচিতে তা পাকানো হয়।

তারা উভয়ে এর গোশ্‌ত [গোসত/গোশত] খেলেন ও ঝোল পান করিলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] সওয়ারীতে আরোহণ করিলেন এবং বায়তুল্লাহর দিকে রওয়ানা হলেন। মাক্কায় পৌঁছে তিনি [সাঃআঃ] যুহরের সালাত আদায় করিলেন। এরপর তিনি [সাঃআঃ] [নিজ বংশ] বানী আবদুল মুত্ত্বালিব-এর নিকট পৌঁছলেন। তারা তখন যমযমের পাড়ে দাঁড়িয়ে লোকজনকে পানি পান করাচ্ছিলেন। তিনি [সাঃআঃ] তাদেরকে বললেন, হে বানী আবদুল মুত্ত্বালিব! তোমরা টানো [দ্রুত কর], আমি যদি আশংকা না করতাম যে, পানি পান করানোর ব্যাপারে লোকেরা তোমাদের উপরে জয়লাভ করিবে, তবে আমিও তোমাদের সাথে পানি টানতাম। তখন তারা তাঁকে এক বালতি পানি এনে দিলেন, তা হইতে তিনি [সাঃআঃ] পানি পান করিলেন

। [মুসলিম]{১}, {১} সহীহ : মুসলিম ১২১৮, আবু দাউদ ১৯০৫, নাসায়ী ২৭৬১, ইবনি মাজাহ ৩০৭৪, ইবনি আবী শায়বাহ্ ১৪৭০৫, দারিমী ১৮৯২। বিদায় হজ্জের ভাষণ হাদিস -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৫৫৬. আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা নবী সাঃআঃ-এর সাথে বিদায় হজে বের হলাম। আমাদের কেউ কেউ উমরার ইহরাম বেঁধেছিল আর কেউ কেউ হজ্জের ইহরাম। আমরা যখন মাক্কায় পৌঁছলাম, রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ বললেন, যে ব্যক্তি উমরার ইহরাম বেঁধেছে এবং কুরবানীর পশু সাথে নিয়ে আসেনি সে যেন উমরার কাজ শেষ করে [ইহরাম খুলে] হালাল হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি উমরার ইহরাম বেঁধেছে, সাথে করে কুরবানীর পশুও এনেছে, সে যেন হজ্জের তালবিয়াহ্ পাঠ করে উমরার সাথে এবং ইহরাম না খুলে, যে পর্যন্ত হজ্জ ও উমরা উভয় হইতে অবসর গ্রহণ না করে। অপর এক বর্ণনায় আছে, সে যেন ইহরাম না খুলে যে পর্যন্ত পশু কুরবানী করে অবসর গ্রহণ না করে। আর যে শুধু হজ্জের ইহরাম বেঁধেছে সে যেন হজ্জের কাজ পূর্ণ করে। তিনি {আয়িশাহ্ [রাদি.]] বলেন, আমি ঋতুমতী হয়ে গেলাম, [উমরার জন্য] বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করিতে পারলাম না এবং সাফা-মারওয়ার সাঈও করিতে পারলাম না। আমার অবস্থা আরাফার দিন উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত এরূপই থাকলো। অথচ আমি উমরা ছাড়া অন্য কিছুর ইহরাম বাঁধিনি।

তখন নবী সাঃআঃ আমাকে আদেশ করিলেন, আমি যেন আমার মাথার চুল খুলে ফেলি ও চিরুনী করি। সুতরাং হজ্জের ইহরাম বাঁধি, আর উমরা ত্যাগ করি। আমি তা-ই করলাম এবং আমার হজ্জ আদায় করলাম। এরপর আমার ভাই আবদুর রহমান ইবনি আবু বাকর-কে আমার সাথে পাঠালেন এবং আমাকে নির্দেশ দিলেন, আমি যেন আমার সেই উমরার পরিবর্তে তান্ঈম হইতে উমরা করি। তিনি {আয়িশাহ্ [রাদি.]] বলেন, যারা শুধু উমরার ইহরাম বেঁধেছিল, তারা বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করলো এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করলো। অতঃপর তারা হালাল হয়ে গেলো। তারপর যখন মিনা হইতে [১০ তারিখে] ফিরে এসে তখন [হজের জন্যে] তাওয়াফ করিল, আর যারা হজ্জ ও উমরা একসাথে [ইহরাম বেঁধেছিল] করেছিল তারা শুধু [১০ তারিখে] একটি মাত্র তাওয়াফ করলো।

[বোখারী ও মুসলিম]{১}, {১} সহীহ : বোখারী ৩১৯, ১৫৫৬, মুসলিম ১২১১, আবু দাউদ ১৭৭৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮৮০১, ইরওয়া ১০০৩। বিদায় হজ্জের ভাষণ হাদিস -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৫৫৭. আব্দুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ বিদায় হজে হজ্জের সাথে উমরা মিলিয়ে হজে তামাত্তু আদায় করিয়াছেন। তিনি [সাঃআঃ] যুলহুলায়ফাহ্ হইতে কুরবানীর পশু সাথে নিয়েছিলেন এবং কাজের শুরুতে উমরার তালবিয়াহ্ পাঠ করিলেন, তারপর হজ্জের তালবিয়াহ্ পাঠ করিলেন। তাই লোকেরাও নবী সাঃআঃ-এর সাথে হজ্জের সাথে উমরা মিলিয়ে হজে তামাত্তু করিলেন। তাদের কেউ কুরবানীর পশু সাথে নিয়ে এসেছে, আর কেউ সাথে আনেনি। অতঃপর নবী সাঃআঃ মাক্কায় পৌঁছে লোকদেরকে বললেন, তোমাদের মধ্যে যারা কুরবানীর পশু সাথে করে এনেছে সে যেন এমন কোন বিষয়কে হালাল মনে না করে যা ইহরামের কারণে তার ওপর হারাম হয়ে গিয়েছে যে পর্যন্ত সে নিজের হজ্জ সম্পন্ন না করে। আর তোমাদের মধ্যে যারা কুরবানীর পশু সাথে নিয়ে আসেনি, সে যেন বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ করে এবং মাথার চুল ছেটে হালাল হয়ে যায়। এরপর হজ্জের জন্যে পুনরায় ইহরাম বাঁধে ও কুরবানীর পশু নেয়। আর যে কুরবানীর পশু সাথে নিতে পারলো না, তাহলে সে যেন তিনদিন হজ্জের সময়েই সওম পালন করে এবং বাড়ীতে ফিরে আসার পর সাতদিন সওম রাখে।

অতঃপর তিনি [সাঃআঃ] মাক্কায় পৌঁছে প্রথমে [উমরার জন্য বায়তুল্লাহর] তাওয়াফ করিলেন ও হাজারে আসওয়াদে চুম্বন করিলেন। তারপর তিনি [সাঃআঃ] সজোরে তিনবার তাওয়াফ করিলেন আর চারবার স্বাভাবিক হাঁটলেন। বায়তুল্লাহর তাওয়াফ শেষে মাকামে ইব্রাহীমের নিকট দাঁড়িয়ে দু রাক্আত সালাত আদায় করিলেন, তারপর সালাম ফিরালেন। তারপর সেখান থেকে সাফা মারওয়ায় ফিরে গেলেন। তারপর সাফা ও মারওয়ায় গিয়ে সাতবার সাঈ করিলেন। এরপরও তিনি [সাঃআঃ] [ইহরামের কারণে] যা তার ওপর হারাম ছিল তা নিজের হজ্জ সম্পন্ন না করা পর্যন্ত হালাল করিলেন না। কুরবানীর তারিখে কুরবানীর পশু যাবাহ করিলেন এবং [মিনা হইতে] মাক্কায় গিয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করিলেন। তারপর ইহরামের কারণে যা তার প্রতি হারাম ছিল তা হইতে তিনি পূর্ণ হালাল হয়ে গেলেন। আর লোকেদের মধ্যে যারা কুরবানীর পশু সাথে নিয়ে এসেছিল তারাও রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ যেরূপ করেছিলেন সেরূপ করিয়াছেন।

[বোখারী ও মুসলিম]{১}, {১} সহীহ : বোখারী ১৬৯২, মুসলিম ১২২৭, আবু দাউদ ১৮০৫, নাসায়ী ২৭৩২, আহমাদ ৬২৪৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮৮৮৮, ইরওয়া ১০৪৮। বিদায় হজ্জের ভাষণ হাদিস -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৫৫৮. আব্দুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেনঃ এটা উমরা, যা দিয়ে আমরা তামাত্তু করলাম। অতএব যার কাছে কুরবানীর পশু সাথে নেই, সে যেন [উমরা শেষ করে] পূর্ণভাবে হালাল হয়ে যায়। তবে এটা মনে রাখবে যে, ক্বিয়ামাত পর্যন্ত উমরা হজ্জের মাসে প্রবেশ করলো।

[মুসলিম]{১}, {১} সহীহ : মুসলিম ১২৪১, ইরওয়া ৯৮২, সহীহ আল জামি ৭০১৩, আবু দাউদ ১৭৯০, ইবনি আবী শায়বাহ্ ১৫৭৮৪, আহমাদ ২১১৫, দারিমী ১৮৯৮, মুজামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১১০৪৫। বিদায় হজ্জের ভাষণ হাদিস -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

অধ্যায়ঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

২৫৫৯. আত্বা ইবনি আবু রবাহ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি এবং আমার সাথে কতিপয় লোকের মধ্যে জাবির [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি, আমরা মুহাম্মাদ সাঃআঃ-এর সাহাবীগণ কেবলমাত্র হজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলাম। আত্বা বলেন, জাবির [রাদি.] বলেছেনঃ নবী সাঃআঃ যিলহজের চার তারিখ পার হবার পর সকালে মাক্কায় আসলেন এবং আমাদেরকে ইহরাম ছেড়ে হালাল হইতে নির্দেশ দিলেন। আত্বা জাবিরের মাধ্যমে বলেন, তিনি [সাঃআঃ] [এ কথাও] বলেছেন, তোমরা হালাল হও এবং স্বীয় স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করো। আত্বা আরো বলেন, এতে তিনি [সাঃআঃ] তাদেরকে বাধ্য করিলেন না; বরং স্ত্রীদেরকে তাদের জন্য হালাল করে দিলেন। [জাবির বলেন,] তখন আমরা পরস্পর বলাবলি করিতে লাগলাম, আমাদের ও আরাফাতে উপস্থিত হবার মধ্যে যখন মাত্র পাঁচদিন বাকী, এমন সময় তিনি [সাঃআঃ] আমাদেরকে স্ত্রীর সাথে মিলতে অনুমতি দিলেন, তবে কি আমরা আরাফাতে উপস্থিত হবো আর আমাদের লিঙ্গ থেকে শুক্র ঝরতে থাকিবে? আত্বা বলেন, তখন জাবির [রাদি.] নিজের হাত নেড়ে ইশারা করিলেন, আমি যেন তাহাঁর হাত নাড়ার ইঙ্গিত এখনো দেখছি।

জাবির [রাদি.] বলেন, নবী সাঃআঃ তখন [ভাষণ দানের উদ্দেশে] আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং বললেন, তোমরা জানো যে, আমি তোমাদের অপেক্ষা আল্লাহকে বেশি ভয় করি, তোমাদের অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী এবং তোমাদের অপেক্ষা অধিক পুণ্যবান। আমি যদি কুরবানীর পশু সাথে না আনতাম, আমিও তোমাদের ন্যায় ইহরাম ভেঙ্গে হালাল হয়ে যেতাম। আর আমি যদি আমার ব্যাপারে পূর্বে বুঝতে পারতাম, যা আমি পরে বুঝেছি, তাহলে আমি কক্ষনো কুরবানীর পশু সাথে নিয়ে আসতাম না। সুতরাং তোমরা [ইহরাম ভেঙ্গে] হালাল হয়ে যাও। তাই আমরা হালাল হয়ে গেলাম এবং তাহাঁর কথা শুনলাম ও তাহাঁর কথামোতো কাজ করলাম।

আত্বা [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, জাবির [রাদি.] বলেছেন, এ সময় আলী [রাদি.] তাহাঁর কর্মস্থল হইতে আসলেন। তিনি [সাঃআঃ] তাঁকে জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছো। আলী [রাদি.] বললেন, আমি ইহরাম বেঁধেছি, যার জন্যে নবী সাঃআঃ ইহরাম বেঁধেছেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ তাঁকে বললেন, তবে তুমি কুরবানী কর এবং ইহরাম অবস্থায় থাক। জাবির [রাদি.] বলেন, আলী [রাদি.] তার সাথে কুরবানীর পশু সাথে নিয়ে এসেছিলেন। [জাবির [রাদি.] বলেন] এ সময় সুরাক্বাহ্ ইবনি মালিক ইবনি জুশুম দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! [হজের সাথে উমরা করা কি] আমাদের শুধু এ বছরের জন্য, নাকি চিরকালের জন্যে? তিনি [সাঃআঃ] বললেন, চিরকালের জন্য।

[মুসলিম]{১}, {১} সহীহ : মুসলিম ১২১৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮৮৬৪।

{বিঃ দ্রঃ এ অধ্যায়ে দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ নেই [وَهٰذَا الْبَابُ خَالٍ عَنِ الْفَصْلِ الثَّانِىْ]]

বিদায় হজ্জের ভাষণ হাদিস -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৫৬০.আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ যিলহজ্জ মাসের চার বা পাঁচ তারিখে আমার কাছে রাগান্বিত অবস্থায় আসলেন। এ সময় আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লার রসূল! কে আপনাকে রাগান্বিত করলো? আল্লাহ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করুন। তখন তিনি [সাঃআঃ] বললেন, তুমি কি জান না, আমি [কিছু] লোকদেরকে একটা বিষয়ে আদেশ করেছি? আর তারা এ ব্যাপারে দ্বিধাবোধ করছে। যদি আমি আমার ব্যাপারে প্রথমে বুঝতে পারতাম যা পরে বুঝেছি, তাহলে কক্ষনো আমি কুরবানীর পশু সাথে করে নিয়ে আসতাম না; বরং পরে তা কিনে নিতাম। অতঃপর আমিও তাদের ন্যায় হালাল হয়ে যেতাম।

[মুসলিম]{১}, {১} সহীহ : মুসলিম ১২১১, সহীহ ইবনি খুযায়মাহ্ ২৬০৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮৮৬৫। বিদায় হজ্জের ভাষণ হাদিস -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

হজ্জ পর্ব

হজ্জ পর্ব হজ্জ পর্ব >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন পর্ব-১১ হজ্জ পর্বঅধ্যায়বিষয়হাদিস সংখ্যা১১১-১৫হজ্জ পর্ব(২৫০৫-২৭৫৮)=২৫৪১১০হজ্জ ১১১ইহরাম ও …

Leave a Reply

%d bloggers like this: