বিদাত বিষয়ক উপদেশ মুলক গুরুত্তপূর্ণ হাদিস

বিদাত বিষয়ক উপদেশ মুলক গুরুত্তপূর্ণ হাদিস

বিদাত বিষয়ক উপদেশ মুলক গুরুত্তপূর্ণ হাদিস , এই অধ্যায়ে মোট (১৬৩-১৮২) =২০টি হাদীস >> উপদেশ হাদিস এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-১২ঃ বিদ’আত

পরিচ্ছেদঃ বিদাত

১৬৩. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছুর উদ্ভব ঘটাল, যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/১৪০]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৬৪. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি এমন আমল করিল যাতে আমার কোন নির্দেশনা নেই, তা পরিত্যাজ্য

[মুসলিম হাদিস/১৭১৮]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৬৫. জাবের [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] হামদ ও ছালাতের পর বলেন, নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ বাণী হল আল্লাহর কিতাব এবং শ্রেষ্ঠ হেদায়াত হল মুহাম্মাদের হেদায়াত। আর নিকৃষ্টতম কাজ হল দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি এবং প্রত্যেক নতুন সৃষ্টিই হল ভ্রষ্টতা [মুসলিম, মেশকাত হাদিস/১৪১]। আর নাসাঈতে রয়েছে, প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণতি জাহান্নাম [নাসাঈ হাদিস/১৫৭৮]।

এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৬৬. আব্দুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন তিন ব্যক্তি আল্লাহর নিকটে সবচেয়ে বেশী ঘৃণিত।- [১] যে ব্যক্তি হারামে নিষিদ্ধ কাজ করে [২] যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে জাহেলী যুগের রীতি চালুর আকাংখা করে [৩] যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো রক্ত কামনা করে স্রেফ রক্তপাতের উদ্দেশ্যে [বুখারী, মেশকাত হাদিস/১৪২]। ইসলামী রীতি-নীতি ছাড়া সবকিছুই জাহেলী রসম-রেওয়াজ।

এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৬৭. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন আমার সকল উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করিবে কেবল ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যে অসম্মত। জিজ্ঞেস করা হল, কে অসম্মত? তিনি বলিলেন, যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করিবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। আর যে ব্যক্তি আমার অবাধ্যতা করিবে, সে [জান্নাতে যেতে] অসম্মত

[বুখারী, মেশকাত হাদিস/১৪৩]।এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৬৮. জাবের [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন একদিন একদল ফেরেশতা নবী করীম [সাঃআঃ]-এর নিকটে আসলেন। এমতাবস্থায় তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। ফেরেশতাগণ পরস্পরে বলিলেন যে, তোমাদের এই সাথীর জন্য একটি উদাহরণ রয়েছে। তাঁকে উদাহরণটি বল। তখন তাদের কেউ কেউ বলিলেন, তিনি যে নিদ্রিত। জবাবে অন্যরা বলিলেন, তাহাঁর চক্ষু নিদ্রিত কিন্তু তাহাঁর অন্তর জাগ্রত। তখন তাদের কেউ কেউ বলিলেন, তাহাঁর উদাহরণটি হল, যেমন এক ব্যক্তি একটি গৃহ নির্মাণ করেন। অতঃপর সেখানে একটি ভোজের আয়োজন করেন। অতঃপর [লোকদের আহ্বান করার জন্য] তিনি একজন আহ্বায়ক পাঠালেন। এখন যে ব্যক্তি তার আহ্বানে সাড়া দিল, সে উক্ত গৃহে প্রবেশ করিতে পারল এবং খাদ্য গ্রহণ করিল। আর যে ব্যক্তি তার আহ্বানে সাড়া দিল না, সে উক্ত গৃহে প্রবেশ করিতে পারল না এবং খেতেও পারল না। অতঃপর তারা পরস্পরকে বলিলেন, তাঁকে এই উদাহরণের তাৎপর্য বলে দাও, যাতে তিনি বুঝতে পারেন। এবারেও কেউ কেউ বলিলেন, তিনি তো নিদ্রিত। অন্যরা বলিলেন, তাহাঁর চক্ষু নিদ্রিত, কিন্তু তাহাঁর অন্তর জাগ্রত। তারা বলিলেন, গৃহটি হল জান্নাত। আহ্বায়ক হলেন মুহাম্মাদ [এবং গৃহ নির্মাণ ও খাদ্য প্রস্তুতকারী হলেন আল্লাহ]। অতএব যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের আনুগত্য করিল, সে আল্লাহর আনুগত্য করিল। আর যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের অবাধ্য হল, সে আল্লাহর অবাধ্য হল। মুহাম্মাদ হলেন মানুষের মধ্যে [ঈমান ও কুফরের] পার্থক্যকারী

[বুখারী, মেশকাত হাদিস/১৪৪]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৬৯. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

একদিন তিনজন ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর স্ত্রীগণের নিকটে এল তাহাঁর ইবাদত-বন্দেগী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য। অতঃপর যখন রাসূলের ইবাদত সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করা হল। তখন তারা যেন তাকে কম মনে করিল এবং বলল, নবী করীম [সাঃআঃ] থেকে আমরা কত দূরে! তাহাঁর আগে-পিছের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়েছে। অতঃপর তাদের একজন বলল, আমি এখন থেকে সর্বদা সারা রাত ছালাতে রত থাকব। অন্যজন বলল, আমি প্রতিদিন ছিয়ামে কাটাব, কখনো ইফতার করব না। অন্যজন বলল, আমি নারীসঙ্গ থেকে দূরে থাকব, কখনো বিয়ে করব না। এমন সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাদের মধ্যে উপস্থিত হলেন এবং বলিলেন, তোমরাই কি সেই লোকেরা, যারা এমনামন কথা বলছিলে? শুনে রাখ, আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক আল্লাহভীরু ও সর্বাধিক পরহেযগার। কিন্তু আমি ছিয়াম রাখি আবার ছেড়েও দেই। ছালাত পড়ি, নিদ্রাও যাই। আমি বিবাহ করেছি। অতএব যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত হইতে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে ব্যক্তি আমার শরীআতের অন্তর্ভুক্ত নয়

[বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/১৪৫]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭০. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি কাউকে সৎ পথের দিকে আহ্বান করে, তার জন্য সেই পরিমাণ ছওয়াব রয়েছে, যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে। অথচ এতে তাদের নিজস্ব ছওয়াবে কোনরূপ কমতি হইবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কাউকে পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করে, তার জন্যও ঠিক সেই পরিমাণ গোনাহ রয়েছে, যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে। অথচ তাদের নিজস্ব গোনাহে কোনরূপ কমতি হইবে না

[মুসলিম, মেশকাত হাদিস/১৫৮]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭১. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এরশাদ করিয়াছেন যে, ইসলাম মুষ্টিমেয় লোকদের মাধ্যমে সূচনা করেছে। সত্বর তা মুষ্টিমেয় লোকদের মধ্যেই ফিরে আসবে, যেমন সূচনাতে ছিল। অতএব সুসংবাদ হল ঐ মুষ্টিমেয় লোকদের জন্য [মুসলিম, মেশকাত হাদিস/১৫৯]। আর তিরমিজি গ্রন্থে রয়েছে, নিশ্চয়ই সংখ্যালঘু অবস্থায় দ্বীন ছড়িয়ে পড়েছে। আর সংখ্যালঘুরাই সফল। আর তারা ওরাই, যারা আমার পরে আমার সুন্নাতের সংশোধন করে মানুষ যেগুলির বিপর্যয় ঘটিয়েছে

[তিরমিজি হাদিস/২৬৩০]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭২. ইরবায বিন সারিয়াহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একদিন আমাদের নিয়ে ছালাত আদায় করিলেন। অতঃপর আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসলেন। অতঃপর আমাদেরকে এমন মর্মস্পর্শী ভাষায় ওয়ায করিলেন যে, চক্ষু সমূহ অশ্রুসজল হয়ে গেল এবং হৃদয় সমূহ ভীত-বিহ্বল হয়ে গেল। এমন সময় একজন লোক বলে উঠল, হে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]! মনে হচ্ছে এটা বিদায়ী উপদেশ। অতএব আপনি আমাদেরকে আরও বেশী উপদেশ দিন। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ ভীতির উপদেশ দিচ্ছি এবং তোমাদের আমীরের আদেশ শুনতে ও মান্য করিতে উপদেশ দিচ্ছি যদিও তিনি একজন হাবশী গোলাম হন। কেননা আমার পরে তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকিবে, তারা সত্বর বহু মতভেদ দেখিতে পাবে। তখন তোমরা আমার সুন্নাতকে এবং সুপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদ্বীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে। তাকে কঠিনভাবে ধরবে এবং মাড়ির দাঁত সমূহ দিয়ে কামড়ে ধরে থাকিবে। সাবধান! দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি হইতে দূরে থাকিবে। কেননা [দ্বীনের ব্যাপারে] যেকোন নতুন সৃষ্টি হল বিদাত এবং প্রত্যেক বিদাত হল পথভ্রষ্টতা

[আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনি মাজাহ, মেশকাত হাদিস/১৬৫]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৩. জাবের [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

জাবের [রাদি.] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করেন যে, একদিন যখন ওমর [রাদি.] তাহাঁর কাছে এসে বলিলেন, আমরা ইহুদীদের নিকটে তাদের অনেক পুরানো ধর্মীয় কাহিনীগুলি, যা আমাদের নিকটে চমৎকার বোধ হয়, তার কিছু কিছু লিখে রাখার জন্য আপনি আমাদের অনুমতি দিবেন কি? তখন জবাবে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমরা কি দিকভ্রান্ত হয়েছ, যেমন ইহুদী-নাছারারা দিকভ্রান্ত হয়েছে? অথচ আমি তোমাদের কাছে এসেছি উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন দ্বীন নিয়ে। যদি আজকে মূসাও বেঁচে থাকতেন, তাহলে তাহাঁর পক্ষেও আমার অনুসরণ ব্যতীত গত্যন্তর থাকত না

[আহমাদ, বায়হাক্বী, শুআবুল ঈমান, মেশকাত হাদিস/১৭৭]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৪. ঈমাম মালেক বিন আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ঈমাম মালেক বিন আনাস [রাদি.] মুরসাল সূত্রে বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এরশাদ করিয়াছেন যে, আমি তোমাদের মাঝে দুটি বস্তু ছেড়ে গেলাম। তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হইবে না, যতদিন তোমরা সে দুটিকে কঠিনভাবে ধরে থাকিবে। সে দুটি বস্তু হল : আল্লাহর কিতাব ও তাহাঁর রাসূলের সুন্নাত

[মুওয়াত্ত্বা, মেশকাত হাদিস/১৮৬]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৫. হাসসান বিন আত্বিয়াহ মুহারেবী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

যখনই কোন সম্প্রদায় তাদের দ্বীনের মধ্যে কোন বিদাত সৃষ্টি করে, তখনই আল্লাহ তাদের মধ্য হইতে সেই পরিমাণ সুন্নাত উঠিয়ে নেন। অতঃপর ক্বিয়ামত অবধি তা আর তাদের মধ্যে ফিরে আসে না

[দারেমী, মেশকাত হাদিস/১৮৮]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৬. জাবের [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ওমর ইবনিল খাত্ত্বাব [রাদি.] বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের জীবন নিহিত, তার কসম করে বলছি, যদি আজ মূসা তোমাদের নিকটে আবির্ভূত হইতেন। আর তোমরা তার অনুসরণ করিতে এবং আমাকে পরিত্যাগ করিতে, তাহলে অবশ্যই তোমরা সরল পথ হইতে বিচ্যুত হইতে। যদি মূসা বেঁচে থাকতেন ও আমার নবুঅতকাল পেতেন, তাহলে অবশ্যই তিনি আমার অনুসরণ করিতেন

[দারেমী, মেশকাত হাদিস/১৯৪]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৭. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

কুরআন এবং এই কাগজে যা আছে তা ব্যতীত আমি রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] নিকট হইতে আর কিছু লিখে নেইনি। তিনি বলেন, এতে আছে- রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেন, মদীনা হারাম [সম্মানার্হ] আইর হইতে সওর পর্যন্ত। যে তাতে কোন বিদাত সৃষ্টি করিবে অথবা বিদাত সৃষ্টিকারীকে আশ্রয় দিবে, তার উপর আল্লাহ ও ফেরেশতাগণ এবং মানুষ সকলেরই অভিসম্পাত। তার ফরয বা নফল কিছুই কবুল করা হইবে না। সকল মুসলমানের প্রতিশ্রুতি এক, তাদের ক্ষুদ্র ব্যক্তিও তার চেষ্টা করিতে পারে। অতএব যে ব্যক্তি কোন মুসলামানে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে তার উপর আল্লাহ ও ফেরেশতাগণ এবং সকল মানুষের লানত; তার ফরয বা নফল কোনটাই গ্রহণ করা হইবে না। আর যে ব্যক্তি নিজের মালিকদের অনুমতি ব্যতীত অন্য সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করিবে, তার উপর আল্লাহ্ ও ফেরেশতাগণ এবং সকল মানুষের লানত; তার ফরয বা নফল কোনটাই গ্রহণ করা হইবে না

[মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মেশকাত হাদিস/২৭২৮; বঙ্গানুবাদ মেশকাত হাদিস/২৬০৮]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে যা ছেড়ে যাচ্ছি, তা শক্তভাবে গ্রহণ করলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হইবে না। আর তা হচ্ছে- আল্লাহর কিতাব এবং তাহাঁর নবীর সুন্নাত

[আত-তারগীব হাদিস/৬২]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৭৯. ইবনি মাসুদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

শরীআতে নতুন কাজ সম্পর্কে চিন্তা করার চেয়ে মধ্যম পন্থায় সুন্নাতের উপর আমল করা অতীব উত্তম

[আত-তারগীব হাদিস/৬৩]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৮০. উমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি হাজারে আসওয়াদের কাছে এসে তা চুম্বন করে বলিলেন, আমি অবশ্যই জানি যে, তুমি একখানা পাথর মাত্র, তুমি কারো কল্যাণ বা অকল্যাণ করিতে পারো না। নবী [সাঃআঃ]-কে তোমায় চুম্বন করিতে না দেখলে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না

[বুখারী হাদিস/১৫৯৭]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৮১. তাবেঈ মুজাহিদ [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমরা একদা এক সফরে ইবনি ওমরের সাথে ছিলাম। তিনি এক স্থান দিয়ে পার হওয়ার সময় একটু জায়গা রাস্তা থেকে সরে পার হলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হল- আপনি কেন এরূপ করিলেন? তিনি বলিলেন, আমি রাসূল [সাঃআঃ]-কে এই স্থানে এরূপ করিতে দেখেছি, তাই আমি করলাম [আহমাদ হাদিস/৪৮৭০; তারগীব হাদিস/৭০]। একেই অনুসরণ বলে।

এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৮২. আবু বারযাহ আসলামী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নবী কারীম [সাঃআঃ] বলেছেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ব্যাপারে তোমাদের অবৈধ উপার্জনের প্রবৃত্তি এবং অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়ার প্রবৃত্তি সম্পর্কে ভয় করি এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করে সুন্নাতের ব্যাপারে ভ্রান্ত পথে চলার আশংকা করি

[মুসনাদু বাযযার হাদিস/৩৮৪৪; আত-তারগীব হাদিস/৭৭]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

Leave a Reply