বিতরের নামাজ প্রতি উৎসাহ দান, তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ

বিতরের নামাজ প্রতি উৎসাহ দান, তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ

বিতরের নামাজ প্রতি উৎসাহ দান, তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ  >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ২০৫: বিতরের নামাজ প্রতি উৎসাহ দান, তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ এবং তা পড়ার সময়

1/1139 عَن عَليٍّ رضي الله عنه، قَالَ: الوِتْرُ لَيْسَ بِحَتْمٍ كَصَلاَةِ المَكْتُوبَةِ، وَلَكِنْ سَنَّ  رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم،  قَالَ: «إنَّ اللهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الوِتْرَ، فَأَوْتِرُوا يَا أهْلَ القُرْآنِ». رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن

১/১১৩৯। আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘বিতরের নামায, ফরয নামাযের ন্যায় অপরিহার্য নয়। কিন্তু নবী সাঃআঃ এটিকে প্রচলিত করিয়াছেন [অর্থাৎ এটি সুন্নত]। তিনি বলেছেন, “নিশ্চয় আল্লাহ বিতির [বিজোড়] সেহেতু তিনি বিতির [বিজোড়কে] ভালবাসেন। অতএব হে কুরআনের ধারক-বাহকগণ! তোমরা বিতির পড়।” [আবূ দাউদ, তিরমিযী হাসান] [1]

2/1140 وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، قَالَتْ: مِنْ كُلِّ اللَّيْلِ قَدْ أَوْتَرَ  رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ، وَمِنْ أوْسَطِهِ، وَمِنْ آخِرِهِ، وَانْتَهَى وِتْرُهُ إِلَى السَّحَرِ . متفقٌ عَلَيْهِ

২/১১৪০। হাদিসের রাদিয়াল্লাহু আনহা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাতের প্রতিটি ভাগেই রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বিতির পড়েছেন; রাতের প্রথম ভাগে, এর মধ্য ভাগে ও শেষ ভাগে। তাহাঁর বিতরের শেষ সময় ছিল ভোরবেলা পর্যন্ত।’ [বুখারী, মুসলিম][2]

[অর্থাৎ এর প্রথম সময় এশার পর পরই শুরু হয় আর শেষ সময় ফজর উদয়কাল অবধি অবশিষ্ট থাকে। এর মধ্যে যে কোন সময় ১,৩,৫,৭, প্রভৃতি বিজোড় সংখ্যায় বিতির পড়া বিধেয়।]

3/1141 وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «اجْعَلُوا آخِرَ صَلاَتِكُمْ بِاللَّيْلِ وِتْراً». متفقٌ عَلَيْهِ

৩/১১৪১। ইবনি উমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, “তোমরা তোমাদের রাতের শেষ নামায বিতির কর।” [বুখারী ও মুসলিম][3]

4/1142 وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ الخُدرِي: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَوْتِرُوا قَبْلَ أَنْ تُصْبِحُوا». رواه مسلم

৪/১১৪২। আবূ সাঈদ খুদরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, “ফজর হওয়ার পূর্বেই তোমরা বিতির পড়ে ফেল।” [মুসলিম][4]

5/1143 وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا: أَنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي صَلاَتَهُ بِاللَّيْلِ، وَهِيَ مُعْتَرِضَةٌ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَإذَا بَقِيَ الوِتْرُ، أَيْقَظَهَا فَأَوْتَرتْ . رواه مسلم

وفي روايةٍ لَهُ: فَإذَا بَقِيَ الوِتْرُ، قَالَ: «قُومِي فَأَوتِرِي يَا عَائِشَة».

৫/১১৪৩। হাদিসের রাদিয়াল্লাহু আনহা কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাঃআঃ রাতে তাহাঁর [তাহাজ্জুদ] নামায পড়তেন। আর তিনি [হাদিসের] তাহাঁর সামনে আড়াআড়ি শুয়ে থাকতেন। অতঃপর যখন [সব নামায পড়ে] বিতির বাকি থাকত, তখন তাঁকে তিনি জাগাতেন এবং তিনি [হাদিসের] বিতির পড়তেন। [মুসলিম][5]

অন্য বর্ণনায় আছে, যখন বিতির অবশিষ্ট থাকত, তখন তিনি বলিতেন, “হাদিসের! উঠ, বিতির পড়ে নাও।”

6/1144 وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «بَادِرُوا الصُّبْحَ بِالوِتْرِ».رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح

৬/১১৪৪। ইবনি উমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, “ফজর হওয়ার আগে ভাগেই বিতির পড়ে নাও।” [আবূ দাউদ, তিরমিযী হাসান সহীহ][6]

7/1145 وَعَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ خَافَ أَنْ لاَ يَقُومَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ، فَلْيُوتِرْ أَوَّلَهُ، وَمَنْ طَمِعَ أَنْ يَقُومَ آخِرَهُ فَلْيُوتِرْ آخِرَ اللَّيلِ، فَإِنَّ صَلاَةَ آخِرِ اللَّيْلِ مَشْهُودَةٌ، وَذَلِكَ أَفْضَلُ». رواه مسلم

৭/১১৪৫। জাবের রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “যে ব্যক্তি শেষ রাতে উঠতে না পারার আশংকা করিবে, সে যেন শুরু রাতেই বিতির পড়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি রাতের শেষ ভাগে উঠে [ইবাদত] করার লালসা রাখে, সে যেন রাতের শেষ ভাগেই বিতির সমাধা করে। কারণ, রাতের শেষ ভাগের নামাযে ফেরেশতারা হাজির হন এবং এটিই উত্তম আমল। [মুসলিম][7]


[1] আবূ দাউদ ১৪১৬, তিরমিযী ৪৫৩, নাসায়ী ১৬৭৫, ইবনু মাজাহ ১১৬৯

[2] মুসলিম ৭৪৫, তিরমিযী ৪৫৬, নাসায়ী ১৬৮১, আবূ দাউদ ১৪৩৫, ইবনু মাজাহ ১১৮৫, আহমাদ ২৪৪৫৩, দারেমী ১৫৮৭

[3] সহীহুল বুখারী ৪৭২, ৯৯৫, নাসায়ী , ৪৭৩, ৯৯১, ৯৯৩, ৯৯৮, ১১৩৭, মুসলিম ৭৪৯, ৭৫১, তিরমিযী ৪৩৭, ৪৬১, নাসায়ী ১৬৬৬, ১৬৬৭, ১৬৬৮, ১৬৬৯, ১৬৭০, ১৬৭১, ১৬৭২, ১৬৭৩, ১৬৭৪, ১৬৮২, ১৬৯২, ১৬৯৪, আবূ দাউদ ১৪২১, ১৪৩৮, ইবনু মাজাহ ১১৭৪, ১১৭৫, ১১৭৬, ১৩২২, আহমাদ ৪৪৭৮, ৪৫৪৫, ৪৬৯৬, ৪৭৭৬, ৪৮৩২, ৪৮৪৫, ৪৯৫১, ৫০১২, মুওয়াত্তা মালিক ২৬১, ২৬৯, ২৭৫, ২৭৬, দারেমী ১৪৫৮

[4] মুসলিম ৭৫৪, তিরমিযী ৪৬৮, নাসায়ী ১৬৮৩, ১৬৮৪, ইবনু মাজাহ ১১৮৯, আহমাদ ১০৭১, ১০৯০৯, ১০৯৩১, ১১২০৮, দারেমী ১৫৮৮

[5] মুসলিম ৭৪৪, সহীহুল বুখারী ৫১২-১৫, ৫১৯, নাসায়ী ১৬৬-৬৮, ৭৫৯, আবূ দাউদ ৭১০-১৪, আহমাদ ২৪৬৫৮, ২৫১৬৮

[6] সহীহুল বুখারী ৯৯৫, ৪৭২, নাসায়ী , ৪৭৩, ৯৯১, ৯৯৩, ৯৯৮, ১১৩৭, মুসলিম ৭৪৯, ৭৫১, তিরমিযী ৪৩৭, ৪৬১, নাসায়ী ১৬৬৬, ১৬৬৭, ১৬৬৮, ১৬৬৯, ১৬৭০, ১৬৭১, ১৬৭২, ১৬৭৩, ১৬৭৪, ১৬৮২, ১৬৯২, ১৬৯৪, আবূ দাউদ ১৪২১, ১৪৩৮, ইবনু মাজাহ ১১৭৪, ১১৭৫, ১১৭৬, ১৩২২, আহমাদ ৪৪৭৮, ৪৫৪৫, ৪৬৯৬, ৪৭৭৬, ৪৮৩২, ৪৮৪৫, ৪৯৫১, ৫০১২, মুওয়াত্তা মালিক ২৬১, ২৬৯, ২৭৫, ২৭৬, দারেমী ১৪৫৮

[7] মুসলিম ৭৫৫, তিরমিযী ৪৫৫, ইবনু মাজাহ ১১৮৭, আহমাদ ১৩৯৭২, ১৪২১৫, ১৪৩৩৫, ২৭০২১

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply