বায়তুল মুকাদ্দাস হইতে কাবার দিকে ক্বিবলাহ্ পরিবর্তন

বায়তুল মুকাদ্দাস হইতে কাবার দিকে ক্বিবলাহ্ পরিবর্তন

বায়তুল মুকাদ্দাস হইতে কাবার দিকে ক্বিবলাহ্ পরিবর্তন >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২. অধ্যায়ঃ বায়তুল মুকাদ্দাস হইতে কাবার দিকে ক্বিবলাহ্ পরিবর্তন

১০৬৩

বারা ইবনি আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কুরআন মাজীদের আয়াত ওয়া হায়সু মা কুনতুম ফাওয়ালু উজূহাকুম শাত্বরাহ্ [অর্থাৎ – এখন যেখানেই তোমরা অবস্হান করো না কেন, ঐ [কাবাহ ঘরের] দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করো] অবতীর্ণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমরা ষোল মাস যাবৎ বায়তুল মাক্বদিসের দিকে মুখ করে নবী [সাঃআঃ] -এর পিছনে নামাজ আদায় করেছি। নবী [সাঃআঃ] নামাজ আদায়ের পর এ আয়াত অবতীর্ণ হলো। তখন সবার মধ্য হইতে জনৈক ব্যাক্তি উঠে রওয়ানা হলো। সে নামাজরত একদল আনসারের নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাদের কাছে হাদীসটি বর্ণনা করিলেন। তারা সবাই [নামাজরত অবস্থায়ই] মুখ ফিরিয়ে বায়তুল্লাহ বা কাবাহ্ ঘরের দিকে করে নিলো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৫৭ ইসলামিক সেন্টার-১০৬৫]

১০৬৪

বারা ইবনি আযিয [রাদি. হইতে বর্ণীতঃ

আমরা বায়তুল মাক্বদিসের দিকে মুখ করে ষোল কিংবা সতের মাস পর্যন্ত রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর পেছনে নামাজ আদায় করেছি। এরপর আমাদেরকে কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে দেয়া হয়। অর্থাৎ – ষোল কিংবা সতের মাস পরে আমরা কাবার দিকে মুখ করে নামাজ আদায়ের নির্দেশ লাভ করি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৫৮ ইসলামিক সেন্টার-১০৬৬]

১০৬৫

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, কুবা নামক মাসজিদে লোকজন ফাজরের নামাজ আদায় করছিল। ঠিক তখনই একজন আগন্তুক এসে তাদেরকে বলিল,আজ রাতে কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর ওপর একটি আয়াত অবর্তীণ হয়েছে। তখন তাদের [মাসজিদে কুবায় নামাজ আদায়কারী মুসল্লীদের] মুখ ছিল শামের [বায়তুল মাক্বদিস বা মাসজিদে আক্বসার, বা যা বর্তমানে ফিলিস্তীনে অবস্হিত] দিকে। অতঃপর [নামাজরত অবস্হায়] তারা কাবার দিকে ঘুরে দাঁড়ালো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৫৯ ইসলামিক সেন্টার-১০৬৭]

১০৬৬

সুওয়াইদ ইবনি সাঈদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ইবনি উমর ও আবদুল্লাহ ইবনি দীনার-এর মাধ্যমে আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, লোকজন ফাজ্বরের নামাজ আদায় করছিল। ঠিক তখন একজন সেখানে এসে হাজির হলো … এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয়বস্তু বর্ণনা করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৬০ ইসলামিক সেন্টার-১০৬৮]

১০৬৭

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বায়তুল মাক্বদিসের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করিতেন। তারপর এক সময় এ আয়াত অবর্তীর্ণ হলো [আরবি] অর্থাৎ- “আমি বার বার তোমাকে আসমানের দিকে তাকানো দেখছিলাম। এখন আমি তোমাকে তোমার পছন্দনীয় ক্বিবলার দিকে ফিরিয়ে দিলাম। সুতরাং তুমি তোমার মুখ মাসজিদে হারামের দিকে ফিরিয়ে নাও”- [সূরাহ আল বাক্বারাহ্ ২ : ১৩৩]। এরপর জনৈক ব্যক্তি ভোরবেলা বানী সালমাহ্ গোত্রের এলাকা দিয়ে অতিক্রম করছিল। সে দেখিতে পেলো তারা ফজর সলা্তের এক রাকআত আদায় করেছে এবং দ্বিতীয় রাকআতে রুকূরত আছে। তখন সে ডেকে বলিল, ক্বিবলাহ্ কিন্তু পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে। [এ কথা শুনার পর] তারা নামাজরত অবস্থায়ই [নতুন] ক্বিবলার দিকে ঘুরে গেল। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৬১, ইসলামিক সেন্টার- ১০৬৯]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply