বাদশাহ হিরাকল -এর নিকট ইসলামের দাওয়াত দিয়ে নবী [সাঃ] এর পত্র

বাদশাহ হিরাকল -এর নিকট ইসলামের দাওয়াত দিয়ে নবী [সাঃ] এর পত্র

বাদশাহ হিরাকল -এর নিকট ইসলামের দাওয়াত দিয়ে নবী [সাঃ] এর পত্র >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২৬. অধ্যায়ঃ বাদশাহ হিরাকল -এর নিকট ইসলামের দাওয়াত দিয়ে নবী [সাঃআঃ] -এর পত্র

৪৪৯৯

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু সুফ্‌ইয়ান [রাদি.] তাঁকে সামনা-সামনি খবর দিয়েছেন, আমি তথায় [শাম দেশে] যাত্রা করলাম। যখন আমার মধ্যে এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর মধ্যে [হুদাইবিয়ার] সন্ধির সময়কাল কার্যকর ছিল [ষষ্ঠ হিজরীতে]। যখন আমি শাম দেশে উপস্থিত হলাম, তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর প্রেরিত একটা পত্র হিরাকল [হিরাক্লিয়াস] বাদশাহ্‌র নিকট পৌঁছল। দিহ্‌ইয়াতুল কালবী [রাদি.] [দূত] এ পত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি সে পত্র বসরার এক নেতাকে প্রদান করেন। এরপর বসরার সে নেতা, হিরাকল বাদশাহ্‌র নিকট পত্রটি হস্তান্তর করেন। তখন হিরাকল বাদশাহ বলিলেন, এখানে ঐ লোকটির [মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর] সম্প্রদায়ের কোন লোক আছে কি, যিনি নিজেকে নবী বলে দাবী করছেন? তারা বলিল, হ্যাঁ। তখন কুরায়শের এক দল লোকের মধ্যে আমাকেও ডাকা হল। এরপর আমরা হিরাকল বাদশাহর দরবারে প্রবেশ করলাম। আমাদেরকে তার সম্মুখেই বসান হল। তখন তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, যিনি নবী দাবী করছেন তাহাঁর সাথে আত্মীয়তার দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে কে অধিক নিকটবর্তী? তখন আবু সুফ্‌ইয়ান বলিলেন, আমি। তখন তারা আমাকে বাদশাহর সামনেই বসালেন এবং আমার সঙ্গীদেরকে আমার পিছনে বসালেন। এরপর তিনি তাহাঁর দোভাষীকে ডাকলেন এবং তাকে বলিলেন, “আপনি তাদেরকে আমার পক্ষ হইতে বলে দিন যে, আমি তাঁকে [আবু সুফ্‌ইয়ানকে] ঐ লোকটি সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করব নবী বলে যিনি দাবী করছেন। যদি তিনি [আবু সুফ্‌ইয়ান] আমার নিকট মিথ্যা কথা বলেন, তবে আপনারাও তাকে মিথ্যাবাদী বলে ঘোষণা দেবেন। তখন আবু সুফ্‌ইয়ান বলিলেন, আল্লাহর শপথ! যদি আমার এ ভয় না হত যে, মিথ্যা বললে তা আমার বরাতে বর্ণিত হইতে থাকিবে তবে নিশ্চয়ই [তাহাঁর সম্পর্কে] মিথ্যা কথা বলতাম। অতঃপর বাদশাহ তাহাঁর দোভাষীকে বলিলেন, আপনি তাঁকে [আবু সুফ্‌ইয়ানকে] জিজ্ঞেস করুন, আপনাদের মাঝে ঐ লোকটির বংশ পরিচয় কেমন? আমি প্রতি উত্তরে বললাম, তিনি আমাদের মাঝে সম্ভ্রান্ত বংশীয়। এরপর জিজ্ঞেস করিলেন, তাহাঁর পূর্ব পুরুষদের মধ্যে কেউ কি কখনও বাদশাহ ছিলেন? আমি বললাম, না। এরপর জিজ্ঞেস করিলেন, আপনারা কি কখনও তাঁকে এ কথা বলার পূর্বে, যা তিনি বলেছেন, মিথ্যা বলার অভিযোগ করিয়াছেন? আমি বললাম, না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করিলেন,সমাজের কোন শ্রেনীর লোক তাহাঁর অনুসরণ করে? সম্ভ্রান্ত প্রভাবশালীরা, না দুর্বলেরা? আমি বললাম, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা নয়; বরং দুর্বল শ্রেনীর লোকেরা।

তিনি আবার জিজ্ঞেস করিলেন, তাহাঁর অনুগামীর সংখ্যা কি বৃদ্ধি পাচ্ছে, না কমছে? আমি বললাম, কমছে না, বরং দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, যেসব লোক তাহাঁর ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে তারা কি পরবর্তীতে তাহাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে সে ধর্ম থেকে ফিরে আসছে? আমি বললাম, না। এরপর তিনি বলিলেন, আপনারা কি কখনও তাহাঁর সাথে কোন যুদ্ধ করিয়াছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, আপনাদের এবং তাহাঁর মাঝে সংঘটিত যুদ্ধের ফলাফল কিরূপ? আমি বললাম, আমাদের এবং তাহাঁর মাঝে যুদ্ধের অবস্থা পালাবদল হচ্ছে। কখনও তিনি বিজয়ী হন এবং কখনও বা আমরা বিজয়ী হই। সম্রাট হিরাকল আবার জিজ্ঞেস করিলেন, তিনি কি কখনও সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করিয়াছেন? আমি বললাম, না। কিন্তু আমরা বর্তমানে তাহাঁর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ আছি। আমরা জানি না যে, পরিশেষে তিনি তাতে কী করেন। আবু সুফ্‌ইয়ান বলিলেন, আল্লাহর শপথ! প্রশ্ন উত্তরে আমার পক্ষ হইতে এ কথাটি ছাড়া অন্য কোন অতিরিক্ত কথা সংযোগ করা সম্ভব হয়নি। এরপর সম্রাট হিরাকল বলিলেন, [আপনাদের দেশে] তাহাঁর নবূওয়াত দাবীর পূর্বে কি কোন ব্যক্তি কখনো এরূপ দাবী করেছে? আমি বললাম, না। এরপর সম্রাট হিরাকল তাহাঁর দোভাষীকে বলিলেন, আপনি তাঁকে [আবু সুফ্‌ইয়ানকে] বলে দিন যে, আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তাহাঁর [মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] -এর] বংশ পরিচয় সম্পর্কে। আপনি তখন উত্তর দিয়েছিলেন যে, তিনি সম্ভ্রান্ত বংশীয়। এমনিভাবে রসূলগণ স্বীয় সম্প্রদায়ের উত্তম বংশে প্রেরিত হয়ে থাকেন। এরপরে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তাহাঁর পিতৃপুরুষদের মধ্যে কি কেউ বাদশাহ ছিলেন? আপনি এর উত্তরে বলেছিলেন, না। আমি এ কথা বলেছিলাম এ কারণে যে, যদি তাহাঁর পিতৃপুরুষদের মধ্যে কেউ বাদশাহ থাকতেন, তবে আমি মনে করতাম যে, হয়ত বা তিনি তাহাঁর পিতৃপুরুষদের রাজ্য পুনরুদ্ধার করিতে চান। তারপর আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তাহাঁর অনুসারীগণ কি সমাজের দুর্বল শ্রেনীর লোক, না সম্ভ্রান্ত শ্রেণীর লোক? আপনি উত্তরে বলেছিলেন, দুর্বল শ্রেনীর লোক তাহাঁর অনুসারী হয়ে থাকে। এরপর আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, যে তিনি [নুবূওয়াতের] যে কথা বলেছেন এর পূর্বে কি আপনারা তাঁকে কখনও মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করিয়াছেন? প্রতি উত্তরে আপনি বলেছিলেন যে ,না। এতে আমি বুঝতে পারলাম, যে ব্যক্তি জাগতিক ব্যাপারে মিথ্যা বলেন না, তিনি কি কারণে আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করিতে যাবেন? এরপর আমি আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম যে, কোন ব্যক্তি কি তাহাঁর ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর তাহাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তাহাঁর ধর্ম পরিত্যাগ করেছে? আপনি উত্তরে বলেছিলেন, না। ঈমানের প্রকৃত অবস্থা এটাই। যখন অন্তরের অন্তঃস্থলে একবার তা প্রবেশ করে তখন সেখানেই স্থায়ীভাবে অবস্থান করে। এরপর আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, তাহাঁর অনুগামীদের সংখ্যা কি দিন দিন বাড়ছে, না কমছে? প্রতি উত্তরে আপনি বলেছিলেন, তারা সংখ্যায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটাই হল ঈমানের প্রকৃর অবস্থা। তা বৃদ্ধি পেতে পেতে অবশেষে পূর্ণত্ব লাভ করে।

এরপর আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনারা কি তাহাঁর সাথে কোন যুদ্ধ করিয়াছেন? উত্তরে আপনি বলেছেন যে, হ্যাঁ, আপনারা তাহাঁর সাথে যুদ্ধ করিয়াছেন। তবে আপনাদের মাঝে ও তাহাঁর মাঝে যুদ্ধের অবস্থা হল পালাবদলের মত। কখনও তিনি বিজয়ী হন, আবার কখনও আপনারা বিজয়ী হন। এভাবে রসূলগনকে পরীক্ষার সম্মুখীন করা হয়। পরিণামে তাঁরাই বিজয়ী হয়ে থাকেন। এরপর আমি আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম, তিনি কি কখনও কোন সন্ধির চুক্তিভঙ্গ করিয়াছেন? প্রতি উত্তরে আপনি বলছেন, তিনি কোন চুক্তিভঙ্গ করেননি! এভাবে রসূলগণ কখনও চুক্তি ভঙ্গ করেন না। আর আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তাহাঁর এ কথা [নুবূওয়াতের কথা] বলার পূর্বে কি কোন ব্যক্তি অনুরূপ কথা বলেছেন? আপনি বলেছিলেন যে, না। আমি তা এ কারণে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, যদি তাহাঁর পূর্বে কেউ এরূপ দাবী করে থাকতো, তবে আমি মনে করতাম যে, সে ব্যক্তি তার পূর্বে যে কথা বলা হয়েছে তার অনুকরণ করেছে। রাবী বলেন, এরপর হিরাকল জিজ্ঞেস করিলেন, তিনি আমাদেরকে নামাজ আদায় করিতে, যাকাত দিতে, নিকট আত্মীয় ও হকদার ব্যক্তিদের প্রতি সদ্ব্যবহার করিতে এবং অবৈধ ও অসৌজন্যমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়ে থাকেন। বাদশাহ হিরাকল বলিলেন, তিনি আপনাদেরকে কী কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকেন? আমি তাকে বললাম আপনি তাহাঁর সম্পর্কে যা বলিলেন তাহাঁর অবস্থা যদি ঠিক তাই হয় তবে তিনি অবশ্যই নবী। আমি জানতাম যে, একজন নবীর আবির্ভাব ঘটবে। কিন্তু আমি ধারণা করিনি যে, তিনি আপনাদের থেকে হইবেন। যদি আমি জানতাম যে, আমি তাহাঁর নিকট নির্বিঘ্নে পৌঁছতে পারবো তবে নিশ্চয়ই আমি তাহাঁর মুবারক পদদ্বয় ধুয়ে দিতাম। [জেনে রেখো] নিশ্চয়ই তাহাঁর রাজত্ব আমার দুপায়ের নীচ পর্যন্ত পৌঁছবে।

এরপর তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর চিঠিটি তলব করেলন এবং তা পাঠ করিলেন। এতে ছিল- “বিস্‌মিল্লা-হির রহ্‌মান-নির রহীম! এটা মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর পক্ষ হইতে রোমের মহান ব্যাক্তি হিরাকল-এর প্রতি। শান্তি ধারা সে ব্যক্তির উপর, যিনি সঠিক পথ অনুসরণ করেন। অতঃপর, নিশ্চয়ই আমি আপনাকে ইসলামের আহবান জানাচ্ছি। ইসলাম গ্রহন করুন, নিরাপত্তা লাভ করুন। আপনি মুসলিম হোন, আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দান করবেন। আর যদি আপনি [ইসলাম থেকে] মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে নিশ্চয়ই প্রজাদের অপরাধ আপনার উপর আরোপিত হইবে। “হে আহলে কিতাব! তোমরা এসো সে কথায়, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই; যেন আমরা আল্লাহ ব্যাতীত অন্য কারও ইবাদাত না করি, কোন কিছুকেই তাহাঁর শরীক না করি…তবে বল, তোমরা সাক্ষী থাক আমরা মুসলিম” পর্যন্ত। এরপর তিনি পত্র পাঠ শেষ করলে তাহাঁর নিকটে শোরগোল এবং অযথা কথাবার্তা হইতে লাগল। এদিকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসার নির্দেশ দেয়া হল। আমরা বেরিয়ে এলাম। আবু সুফ্‌ইয়ান বলেন, আমরা যখন বেরিয়ে এলাম তখন আমি আমার সঙ্গীদের বললাম, আবু কাবশার {৩৮} পুত্রের মর্যাদা অনেক বেড়ে গেছে। রোমীয়দের বাদশাহ্‌ও তাঁকে ভয় করছে।

তিনি আরও বলেন, সেদিন থেকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর ব্যাপারে আমার দৃঢ় প্রত্যয় হল যে, নিশ্চয়ই তিনি বিজয়ী হইবেন। অবশেষে আল্লাহ্‌ তাআলা আমার অন্তরে ইসলাম প্রবেশ করিয়ে দিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৪৫৬, ইসলামিক সেন্টার- ৪৪৫৮]

{৩৮} আবু কাবশাহ্‌ আরবের একজন ভিন্নমতাবলম্বী ছিল। কারো মতে নবী [সাঃআঃ]-এর নানা, আবার কারও মতে নবী [সাঃআঃ]-এর দুধমাতা হালিমার স্বামীর নাম। [বস্তুত কথাটি ব্যঙ্গাত্মক হিসেবে বলা হয়েছে] [মুখতাসার শারহে মুসলিম, আল্লামা ওয়াহিদুজ্জামানঃ ৫ম খন্ড, ৪৮ পৃষ্ঠা]

৪৫০০

ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ একই সূত্রে উল্লিখিত হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু এ হাদীসে বাড়িয়ে বর্ণনা করিয়াছেন, “যখন আল্লাহ তাআলা রোম সম্রাট [কায়সার] দ্বারা পারস্যের সেনাদলকে পরাজিত করিলেন, তখন তিনি এ বিজয়ের জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে হিম্স থেকে ঈলিয়া [বাইতুল মুকাদ্দাস] পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যান আর তিনি তাহাঁর হাদীসে “এ পত্র মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাহাঁর রসূলের পক্ষ হইতে” এবং [আরবি] শব্দের পরিবর্তে [আরবি] শব্দ বলেছেন। আর তিনি [আরবি] শব্দের পরিবর্তে [আরবি] শব্দ বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৪৫৭, ইসলামিক সেন্টার- ৪৪৫৯]

By Muslim

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply