যে খলীফার কাছে প্রথম বাইআত হইবে তাকে অগ্রাধিকার দিবে

যে খলীফার কাছে প্রথম বাইআত হইবে তাকে অগ্রাধিকার দিবে।

যে খলীফার কাছে প্রথম বাইআত হইবে তাকে অগ্রাধিকার দিবে। >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১০. অধ্যায়ঃ যে খলীফার কাছে প্রথম বাইআত হইবে তাকে অগ্রাধিকার দিবে।

৪৬৬৭

আবু হাযিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা [রাদি.] –এর সাথে পাঁচ বছর থেকেছি। আমি তার কাছে শুনেছি, নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেনঃ বানী ইসরাঈলদের পরিচালনা করিতেন নবীগন। তাঁদের মধ্যেকার একজন নবী মৃত্যুবরণ করলে অপর একজন নবী তার স্থলাভিষিক্ত হইতেন। আমার পরে আর কোন নবী নেই বরং খলীফাগণ হইবেন এবং তারা সংখ্যায় প্রচুর হইবেন। তখন সাহাবীগন বললেনঃ তাহলে আপনি [এ ব্যাপারে] আমাদেরকে কি আদেশ করেন? তিনি বলিলেন, যার হাতে প্রথম বাইআত বা অনুগত্যের শপথ করিবে, তাহাঁরই অনুগত্য করিবে এবং তাঁদেরকে তাঁদের হক প্রদান করিবে, আল্লাহ্‌ই তাদেরকে সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন তারা কতটুকু দায়িত্ব পালন করেছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬২১, ইসলামিক সেন্টার-৪৬২২]

৪৬৬৮

হাসান ইবনি ফুরাত [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

উপরোক্ত বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬২২, ইসলামিক সেন্টার-৪৬২৩]

৪৬৬৯

আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন, আমার পরে স্বজনপ্রীতি ও তোমাদের অপছন্দনীয় অনেক কিছু ঘটবে। তখন সাহাবাগণ বলিলেন, আমাদের মধ্যকার যাঁরা তা পাবে তাঁদের ব্যাপারে আপনার নির্দেশ কি হে আল্লাহর রসূল? তিনি বলিলেন, তোমাদের উপর আরোপিত দায়িত্ব তোমরা পালন করে যাবে, আর তোমাদের প্রাপ্য হক তোমরা আল্লাহ্‌র কাছে চাইবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬২৩, ইসলামিক সেন্টার-৪৬২৪]

৪৬৭০

আবদুর রহমান ইবনি আবদ রাব্বিল কাবা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি একদা মসজিদে প্রবেশ করলাম। তখন আবদুল্লাহ ইবনি আমর ইবনি আস [রাদি.] কাবার ছায়ায় বসেছিলেন। লোকজন তাকে চারপাশ থেকে ঘিরেছিল। আমি তাদের নিকট গেলাম এবং তাহাঁর পাশেই বসে পড়লাম। তখন তিনি বলিলেন, কোন সফরে আমরা রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর সাথে ছিলাম। আমরা একটি অবস্থান গ্রহণ করলাম। আমাদের মধ্যেকার কেউ তখন তার তাঁবু ঠিকঠাক করছিল, কেউ তীর ছুঁড়ছিল, কেউ তার পশুপাল দেখাশুনা করছিল। এমন সময় রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর নকীব হাঁক দিল নামাযের ব্যবস্থা প্রস্তুত! তখন আমরা গিয়ে রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর পাশে মিলিত হলাম। তিনি বলিলেন, আমার পূর্বে এমন কোন নবী অতিবাহিত হননি যাঁর উপর এ দায়িত্ব বর্তায়নি যে, তিনি তাদের জন্য যে মঙ্গলজনক ব্যাপার জানতে পেরেছেন তা উম্মাতদেরকে নির্দেশনা দেননি এবং তিনি তার জন্য যে অনিষ্টকর ব্যাপার জানতে পেরেছেন, সে বিষয়ে তাদেরকে সাবধান করেননি। আর তোমাদের এ উম্মাত [উম্মাতে মুহাম্মাদ]-এর প্রথম অংশে তার কল্যাণ নিহিত এবং এর শেষ অংশ অচিরেই নানাবিধ পরীক্ষা ও বিপর্যয়ের এবং এমন সব ব্যাপারের সম্মুখীন হইবে, যা তোমাদের নিকট অপছন্দনীয় হইবে। এমন সব বিপর্যয় একাদিক্রমে আসতে থাকিবে যে , একটি অপরটিকে ছোট প্রতিপন্ন করিবে। একটি বিপর্যয় আসবে তখন মুমিন ব্যক্তি বলবে – এটা আমার জন্য ধ্বংসাত্মক, তারপর যখন তা দূর হয়ে অপর বিপর্যয়টি আসবে তখন মুমিন ব্যক্তি বলবে, আমি তো শেষ হয়ে যাচ্ছি ইত্যাদি। সুতরাং যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে দূরে থাকতে চায় এবং জান্নাতে প্রবেশ করিতে চায় –তার মৃত্যু যেন এমন অবস্থায় আসে যে, সে আল্লাহ্‌ ও আখিরাতের দিবসের প্রতি ঈমান রাখে এবং সে যেন মানুষের সাথে এমনি আচরণ করে যে আচরণ সে নিজের জন্য পছন্দ করে। আর যে ব্যক্তি কোন ঈমাম [বা নেতার] হাতে বাইআত হয় –আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করে তার হাতে হাত দিয়ে এবং অন্তরে সে ইচ্ছা পোষণ করে, তবে সে যেন সাধ্যনুসারে তার অনুগত্য করে যায়। তারপর যদি অপর কেউ তার সাথে [নেতৃত্ব লাভের অভিলাষে] ঝগড়ায় প্রবৃত্ত হয় তবে ঐ পরবর্তী জনের গর্দান উড়িয়ে দেবে। [রাবী বলেন] তখন আমি তাহাঁর নিকটে ঘেঁষলাম এবং তাঁকে বললাম, আমি আপনাকে আল্লাহ্‌র কসম দিয়ে বলছি সত্যিই আপনি [নিজ কানে] কি তা রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর নিকট থেকে শুনেছেন? তখন তিনি তাহাঁর দুকান ও অন্তঃকরণের দিকে দুহাত দিয়ে ইশারা করে বলিলেন, আমার দুকান তা শুনেছে এবং আমার অন্তঃকরণ তা সংরক্ষণ করেছে। তখন আমি তাঁকে লক্ষ্য করে বললাম, ঐ যে আপনার চাচাতো ভাই মুআবিয়্যাহ [আল্লাহ্‌ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন] তিনি আমাদেরকে আদেশ দেন যেন আমরা আমাদের পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করি আর নিজেদের মধ্যে পরস্পরে হানাহানি করি অথচ আল্লাহ্‌ বলেছেন,  হে মুমিনগণ ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, ব্যবসার মাধ্যমে পারস্পরিক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে ব্যতীত এবং তোমরা পরস্পরে হানাহানি করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তোমাদের প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান –[সূরা আন নিসা ৪: ২৯]। রাবী বলেন, তখন তিনি কিছুক্ষণের জন্য চুপ থাকলেন। তারপর বলিলেন, আল্লাহ্‌র অনুগত্যের ব্যাপারসমূহে তুমি তার আনুগত্য করিবে এবং আল্লাহ্‌র অবাধ্যতার বিষয়গুলোতে তার অবাধ্যতা করিবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬২৪, ইসলামিক সেন্টার-৪৬২৫]

৪৬৭১

আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬২৫, ইসলামিক সেন্টার-৪৬২৬]

৪৬৭২

আব্দুর রহমান ইবনি আবদ রাব্বিল কাবাহ সায়িদী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি একদল লোককে কাবার নিকট দেখলাম। অতঃপর আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬২৬, ইসলামিক সেন্টার-৪৬২৭]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply