যুদ্ধের অভিপ্রায়কালে ঈমাম কর্তৃক সেনাদলের বাইআত গ্রহন উত্তম

যুদ্ধের অভিপ্রায়কালে ঈমাম কর্তৃক সেনাদলের বাইআত গ্রহন উত্তম

যুদ্ধের অভিপ্রায়কালে ঈমাম কর্তৃক সেনাদলের বাইআত গ্রহন উত্তম >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৮. অধ্যায়ঃ যুদ্ধের অভিপ্রায়কালে ঈমাম কর্তৃক সেনাদলের বাইআত গ্রহন উত্তম এবং বৃক্ষতলে বাইআতে রিযওয়ান প্রসঙ্গ

৪৭০১

জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হুদাইবিয়ার দিন আমরা ছিলাম চৌদ্দশ, আমরা তাহাঁর [রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর] হাতে বাইআত হলাম। আর উমর [রাদি.] তাহাঁর হাত ধরে [বাইআত গ্রহন করেছিলেন] সামুরা নামক গাছের তলে এবং তিনি বলেছেন, আমরা এ মর্মে তাহাঁর হাতে বাইআত হলাম যে, আমরা পলায়ন করবো না। কিন্তু “আমরা মৃত্যুবরণ করবো” এ শপথ গ্রহন করি নি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৫৪, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৫৬]

৪৭০২

জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর হাতে মৃত্যুর শপথ গ্রহন করিনি, আমরা তো তাহাঁর কাছে এ মর্মে শপথ করেছি যে, আমরা পলায়ন করবো না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৫৫, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৫৭]

৪৭০৩

আবু যুবায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি শুনতে পেলেন যে, জাবির এ মর্মে জিজ্ঞেস করা হল, হুদাইবিয়ার দিন সাহাবীর সংখ্যা কত ছিল? তিনি বলিলেন, আমরা সংখ্যায় ছিলাম চৌদ্দশ। আমরা তাহাঁর [রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর] হাতে বাইআত হলাম, আর উমর [রাদি.] তাহাঁর হাত ধরে [বাইআত হয়েছিলেন] সামুরাহ নামক গাছের তলে। জাদ ইবনি কায়স আনসারী ছাড়া আমরা সকলেই সেদিন তাহাঁর হাতে বাইআত হয়েছিলাম। আর সে তাহাঁর উটের পেটের নীচে আত্মগোপন করে বসে ছিল। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৫৬, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৫৮]

৪৭০৪

আবু যুবায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি জাবির [রাদি.] এর নিকট শুনতে পেলেন, তাকে এ মর্মে জিজ্ঞেস করা হল যে, নবী [সাঃআঃ] যুল হুলাইফাহ নামক স্থানে বাইআত গ্রহন করেছিলেন কি? তিনি বলিলেন না, বরং তিনি সেখানে নামাজ আদায় করিয়াছেন, আর হুদাইবিয়ার বৃক্ষের নিকট ব্যতীত অন্য কোন বৃক্ষের নিকট তিনি বাইআত গ্রহন করেননি।

রাবী ইবনি জুরায়জ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আবু যুবায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আমাকে বলেছেন, তিনি জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] কে বলিতে শুনেছেন, নবী [সাঃআঃ] হুদাইবিয়ার কূপের নিকট দুআ করেছিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৫৭, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৫৯]

৪৭০৫

জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হুদাইবিয়ার দিনে আমরা [সংখ্যায়] ছিলাম চৌদ্দশ। তখন নবী [সাঃআঃ] আমাদেরকে লক্ষ্য করে বলিলেন, আজকের দিন তোমরা গোটা দুনিয়াবাসীর মধ্যে সর্বোত্তম।

জাবির [রাদি.] বলেন, যদি আমি দেখিতে পারতাম তবে তোমাদেরকে অবশ্যই সে গাছটির জায়গা দেখিয়ে দিতাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৫৮, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৬০]

৪৭০৬

মুহাম্মদ ইবনি মুসান্না ও ইবনি বাশশার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সালিম ইবনি আবু জাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.]-কে গাছ তলায় [বাইআতকারী] নবী সহচরদের [সংখ্যা] সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তখন তিনি বলিলেন, আমরা যদি [সেদিন] এক লাখও হতাম তবুও [হুদাইবিয়ার কূপের পানি] আমাদের জন্য যথেষ্ট হতো। আমরা সংখ্যায় ছিলাম পনেরশ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৫৯, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৬১]

৪৭০৭

জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা যদি সংখ্যায় এক লাখও হতাম [হুদাইবিয়ার কূপের সে বারাকাতপ্রাপ্ত পানি] যথেষ্ট হতো, আমরা সংখ্যায় ছিলাম পনেরশ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৬০, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৬২]

৪৭০৮

সালিম ইবনি আবু জাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি জাবির [রাদি.] কে জিজ্ঞেস করলাম, সেদিন আপনারা সংখ্যায় কত জন ছিলেন? তিনি বলিলেন, চৌদ্দশ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৬১; ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৬৩]

৪৭০৯

আবদুল্লাহ ইবনি আবু আওফা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বৃক্ষতলে বাইআত গ্রহণকারী সাহাবীদের সংখ্যা ছিল তেরশ। আর আসলাম গোত্রীয় লোকদের সংখ্যা ছিল মুহাজিরদের এক অষ্টমাংশ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৬২, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৬৪]

৪৭১০

শুবাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৬৩, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৬৫]

৪৭১১

মাকিল ইবনি ইয়াসার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নিজেকে বৃক্ষ দিবসে দেখেছি [আমি তথায় উপস্থিত ছিলাম]। আর নবী [সাঃআঃ] তখন লোকদের বাইআত গ্রহণ করছিলেন, এ অবস্থায় আমি তাহাঁর মাথার উপর বৃক্ষের একটি ডাল সরিয়ে রেখেছিলাম। আমরা তখন সংখ্যায় ছিলাম চৌদ্দশ। রাবী বলেন, আমরা তাহাঁর কাছে মৃত্যুর বাইআত গ্রহণ করিনি, বরং আমরা পলায়ন করব না মর্মে শপথ গ্রহণ করেছিলাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৬৪, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৬৬]

৪৭১২

ইউনুস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উক্ত সানাদে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৬৫, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৬৭]

৪৭১৩

সাঈদ ইবনি মুসাইয়্যাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার আব্বা সে বাইআত গ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন, যারা সেদিন গাছের নিচে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর হাতে বাইআত গ্রহন করেছিলেন। তিনি বলেন, পরবর্তী বছর যখন আমরা হাজ্জ করিতে এসে সেখানে গেলাম তখন সে স্থানটি আমাদের কাছে অস্পষ্ট হয়ে গেল। যদি তোমাদের নিকট সে স্থানটি স্পষ্ট হয়ে থাকে তবে তোমরাই ভাল জান। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৬৬, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৬৮]

৪৭১৪

সাঈদ ইবনি মুসাইয়্যাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর পিতা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

বৃক্ষবর্ষে [হুদাইবিয়ার বছর] তাঁরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট ছিলেন। তিনি বলেন, পরবর্তী বছর তাঁরা সে স্থানটির অবস্থান ভুলে যান। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৬৭, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৬৯]

৪৭১৫

সাঈদ ইবনি মুসাইয়্যাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর পিতা [রাদি.] এর পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি সে স্থানটি দেখেছি, তবে পরে যখন সেখানে গেলাম, তখন আর তা চিনতে পারলাম না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৬৮, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৭০]

৪৭১৬

ইয়াযীদ ইবনি আবু উবায়দ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি সালামাহ [রাদি.] কে জিজ্ঞেস করলাম, হুদাইবিয়ার দিন আপনারা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর হাতে কিসের শপথ গ্রহণ করেছিলেন? তিনি বলিলেন, মৃত্যুর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৬৯, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৭১]

৪৭১৭

সালামাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৭০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৭২]

৪৭১৮

আবদুল্লাহ ইবনি যায়দ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা জনৈক আগন্তক তাহাঁর কাছে আসল এবং বলিল, ইনি হচ্ছেন হানযালার পুত্র। ইনি লোকের নিকট থেকে বাইআত নিচ্ছেন। জিজ্ঞেস করিলেন, কিসের বাইআত? বলিলেন, মৃত্যুর বাইআত। তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পরে আমরা আর কারো হাতে মৃত্যুর উপর বাইআত নেবো না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৭৩]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply