বাংলা নামাজ শিক্ষা – রাসূল [সাঃ] এর ইবাদাত

বাংলা নামাজ শিক্ষা – রাসূল [সাঃ] এর ইবাদাত

 বাংলা নামাজ শিক্ষা – রাসূল [সাঃ] এর ইবাদাত , এই অধ্যায়ে হাদীস ২১ টি ( ১৯৫-২১৫ পর্যন্ত )<< শামায়েলে তিরমিযী হাদীসের মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-৪০ঃ রাসূল (সাঃ) এর ইবাদাত

পরিচ্ছদঃ সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানোর কারণে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর পা ফুলে যেত
পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) রাতের প্রথমাংশে ঘুমাতেন এবং সাহরীর পূর্ব পর্যন্ত নামাজ আদায় করিতেন
পরিচ্ছদঃ তিনি রাতের শেষ অর্ধাংশেও নামাজ আদায় করিতেন
পরিচ্ছদঃ রাত্রে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করিতে না পারলে দিনে তা আদায় করে নিতেন
পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) রাতের নামাজ দুরাকআত করে আদায় করিতেন
পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) রমাযান মাসে ১১ রাকআত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করিতেন
পরিচ্ছদঃ তিনি ১ রাকআত বিতর আদায় করিতেন
পরিচ্ছেদঃ কখনো কখনো তিনি রাতে ৯ রাকআত নামাজ আদায় করিতেন
পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর এক রাতের নামাজের বিবরণ
পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) নামাজের মধ্যে একটি আয়াত বারবার তিলাওয়াত করিতেন
পরিচ্ছদঃ বসে নামাজ আদায় করলে তিলাওয়াতও বসে করিতেন
পরিচ্ছদঃ দাঁড়িয়ে কিরাআত পাঠ করলে রুকূ-সিজদাও দাঁড়ানো অবস্থাতেই করিতেন
পরিচ্ছদঃ নাবী (সাঃআঃ) মৃত্যুর পূর্বে অধিকাংশ নফল নামাজ বসে আদায় করিতেন
পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর ৮ রাকআত সুন্নাতের বর্ণনা
পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর ১০ রাকআত সুন্নাতের বিবরণ
পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর দিনের ১৬ রাকআত নফল নামাজের বিবরণ

পরিচ্ছদঃ সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানোর কারণে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর পা ফুলে যেত

১৯৫. মুগীরা ইবনি শুবা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করিতেন যে, তাহাঁর পা ফুলে যেত। তাকে বলা হলো, আপনি এত কষ্ট করছেন অথচ আল্লাহ তাআলা আপনার পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি বলিলেন, আমি কি শোকরিয়া আদায়কারী বান্দা হব না ?{১}

{১} সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/৭৩০২; সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং/১৬৪৪; ইবনি মাজাহ, হাদিস নং/১৪১৯; ইবনি খুযাইমা, হাদিস নং/১১৮২; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/১৮২২৩; সহিহ ইবনি খুযাইমা, হাদিস নং/১১৮৩; সহিহ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/৩১১; সহিহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদিস নং/৬১৯। বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) রাতের প্রথমাংশে ঘুমাতেন এবং সাহরীর পূর্ব পর্যন্ত নামাজ আদায় করিতেন

১৯৬. আসওয়াদ ইবনি ইয়াযীদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়েশাহ [রাদি.] এর কাছে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর তাহাজ্জুদ নামাজ [রাতের নামাজ] সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলিলেন, তিনি রাতের প্রথমাংশে ঘুমাতেন। তারপর সালাতে দাঁড়াতেন এবং সাহরীর পূর্বক্ষণে বিতর আদায় করিতেন। এরপর প্রয়োজন মনে করলে বিছানায় আসতেন। তারপর আযানের শব্দ শুনে জেগে উঠতেন এবং অপবিত্র হলে সর্বাগ্রে পানি বইয়ে গোসল করে নিতেন নতুবা ওযু করিতেন। তারপর নামাজ আদায় করিতেন।{১}

{১} সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং/১৬৮০; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২৫৪৭৪; সহিহ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/২৫৯৩। বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ তিনি রাতের শেষ অর্ধাংশেও নামাজ আদায় করিতেন

১৯৭. ইবনি আব্বাস [আঃ] হইতে বর্ণীতঃ

একবার তিনি তাহাঁর খালা মায়মূনা [রাদি.]-এর গৃহে রাত্রিযাপন করেন। তিনি বলেন, তিনি মায়মূনা [রাদি.] এবং রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর বালিশের লম্বা দিকে ঘুমান আর আমি প্রস্থের দিকে ঘুমাই। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) অর্ধ রাত কিংবা তাহাঁর কিছুক্ষণ পূর্ব পর্যন্ত ঘুমালেন। তারপর তিনি জাগ্রত হন এবং মুখমণ্ডল মুছে ঘুমের জড়তা দূর করেন। তারপর তিনি সূরা আলে ইমরানের শেষ ১০ আয়াত তিলাওয়াত করেন। এরপর তিনি ঝুলন্ত পানির মশকের কাছে যান এবং উত্তমরূপে ওযু করেন। এরপর সালাতে দাঁড়ান।

আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলেন, আমি তাহাঁর পার্শ্বে দাড়ালাম। তিনি আমার মাথার উপর ডান হাত রাখলেন, এরপর তিনি আমার ডান কান ধরে একটু মললেন [এতে আমি তাহাঁর ডান পাশে এসে দাড়ালাম]। অতঃপর ২ রাকআত নামাজ আদায় করিলেন, তারপর ২ রাকআত নামাজ আদায় করিলেন, তারপর ২ রাকআত নামাজ আদায় করিলেন, তারপর ২ রাকআত নামাজ আদায় করিলেন, তারপর ২ রাকআত নামাজ আদায় করিলেন, তারপর ২ রাকআত নামাজ আদায় করিলেন। মানের বর্ণনা মতে তিনি ২ রাকআত করে ৬ বার [১২ রাকআত] নামাজ আদায় করেন। এরপর বিতর নামাজ আদায় করেন। এরপর আরাম করেন।

এরপর তাহাঁর কাছে মুয়াযযিন এল। তখন তিনি সংক্ষেপে ২ রাকআত নামাজ আদায় করেন। এরপর মসজিদের উদ্দেশে বের হন এবং ফজরের নামাজ আদায় করেন।{১}

{১} মুয়াত্তা মালেক, হাদিস নং/২৬৫; সহিহ বোখারী, হাদিস নং/১৮৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/১৮২৫; আবু দাউদ, হাদিস নং/১৩৬৯; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২১৬৪; ইবনি খুযাইমা, হাদিস নং/১৬৭৫। বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৯৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) [তাহাজ্জুদ ও বিতরসহ কখনো কখনো] রাত্রে ১৩ রাকআত নামাজ আদায় করিতেন।{১}

{১} সহিহ বোখারী, হাদিস নং/১১৩৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/১৮৩৯; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২০১৯। বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রাত্রে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করিতে না পারলে দিনে তা আদায় করে নিতেন

১৯৯. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যদি কখনো নাবী (সাঃআঃ) নিদ্রা বা প্রবল ঘুমের চাপের কারণে তাহাজ্জুদ আদায় করিতে না পারতেন, তাহলে তিনি দিনে [চাশতের সময়] ১২ রাকআত নামাজ আদায় করে নিতেন।{১}

{১} শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৯৮৬; সহিহ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/২৬৪৫। বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) রাতের নামাজ দুরাকআত করে আদায় করিতেন

২০০. যায়েদ ইবনি খালিদ আল জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি একবার রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর নামাজ গভীর মনোযোগ সহকারে লক্ষ্য করার ইচ্ছা করলাম। তাই আমি তাহাঁর বাড়ি অথবা তাঁবুর চৌকাঠের উপর মাথা ঠেস দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) প্রথমে সংক্ষেপে ২ রাকআত নামাজ আদায় করিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ২ রাকআত নামাজ আদায় করিলেন। এরপর তদপেক্ষা সংক্ষেপে ২ রাকআত, এরপর তাহাঁর চেয়ে সংক্ষেপে আরো ২ রাকআত এবং তাহাঁর চেয়ে সংক্ষেপে আরো ২ রাকআত নামাজ আদায় করিলেন। এরপর সংক্ষেপে আরো ২ রাকআত নামাজ আদায় করিলেন। তারপর বিতর আদায় করেন। এভাবে ১৩ রাকআত নামাজ আদায় করেন।{১}

{১} মুয়াত্তা মালেক, হাদিস নং/২৬৬; আবু দাউদ, হাদিস নং/১৩৬৮; ইবনি মাজাহ, হাদিস নং/১৩৬২। বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) রমাযান মাসে ১১ রাকআত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করিতেন

২০১. আবু সালামা ইবনি আবদুর রহমান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আয়েশাহ [রাদি.] এর নিকট জিজ্ঞেস করিলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) রমযান মাসে কত রাকআত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করিতেন ? তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) রমাযান অথবা অন্য সময় ১১ রাকআতের বেশি আদায় করিতেন না। প্রথমে ৪ রাকআত আদায় করিতেন। কী রকম একাগ্রতা নিয়ে ও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করিতেন সে বিষয়ে তুমি জিজ্ঞেস করো না। তারপর আবার ৪ রাকআত আদায় করেন। তবে এর একাগ্রতা ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। এরপর ৩ রাকআত আদায় করিতেন। আয়েশাহ [রাদি.] বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বিতর আদায়ের পূর্বে কি নিদ্রা যান? তিনি বলিলেন, আমার চোখ নিদ্রা যায় কিন্তু অন্তর নিদ্রা যায় না।{১}

{১} মুয়াত্তা মালেক, হাদিস নং/২৬৩; সহিহ বোখারী, হাদিস নং/১১৪৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/১৭৫৭; আবু দাউদ, হাদিস নং/১৩৪৩।বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ তিনি ১ রাকআত বিতর আদায় করিতেন

২০২. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) রাত্রে ১১ রাকআত নামাজ আদায় করিতেন, যার মধ্যে ১ রাকআত হতো বিতর। যখন নামাজ শেষে করিতেন তখন তিনি ডান কাতে আরাম করিতেন।{১}

{১} মুয়াত্তা মালেক, হাদিস নং/২৬২; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/১৭৫১; আবু দাউদ, হাদিস নং/১৩৩৭; সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং/১৬৯৬; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২৪১১৬; বায়হাকী, হাদিস নং/৪৫৫১। বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ কখনো কখনো তিনি রাতে ৯ রাকআত নামাজ আদায় করিতেন

২০৩. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) রাত্রে ৯ রাকআত নামাজ আদায় করিতেন।{1}

{1} সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/১৭৩৩; আবু দাউদ, হাদিস নং/১২৫৩; সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং/১৭২৫; ইবনি মাজাহ, হাদিস নং/১৩৬০; মুসনাদে আহমদ, হ২৪০৬৫ সহিহ ইবনি খুযাইমা, হাদিস নং/১১৬৭; সহিহ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/২৬১৫। বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর এক রাতের নামাজের বিবরণ

২০৪. হুযায়ফা ইবনি ইয়ামান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা তিনি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর সঙ্গে রাত্রে নামাজ আদায় করেন। তিনি বলেন, যখন তিনি নামাজ আরম্ভ করিলেন, তখন বলিলেন,

“আল্ল-হু আকবার যুল মালাকূতি ওয়াল জাবারুতি ওয়াল কিবরিয়া-য়ি ওয়াল আযামাহ”

অর্থাৎ আল্লাহ মহান, রাজাধিরাজ, অসীম শক্তির অধিকারী, বড়ত্ব ও মাহাত্ম্য তাহাঁরই জন্য।

তারপর তিনি [সূরা ফাতিহার পর] সূরা বাকারা তিলাওয়াত করেন। এরপর কিয়ামের ন্যায় দীর্ঘ রুকূ করেন। তিনি তাতে বলেন,

এরপর “সুবহা-না রব্বিয়াল আযীম”, “সুবহা-না রবিবয়াল আযীম”

অর্থাৎ আমার প্রভু পুত-পবিত্র ও মহান; আমার প্রভু পুত-পবিত্র ও মহান।

তারপর মাথা উঠালেন এবং তাহাঁর কিয়াম রুকূর ন্যায় দীর্ঘ হলো। এরপর বলিলেন,

অর্থাৎ সকল প্রশংসা আমার প্রভুর জন্য; সকল প্রশংসা আমার প্রভুর জন্য।

তারপর তিনি সিজদা করিলেন, আর তাহাঁর সিজদা কিয়ামের মতো দীর্ঘ হলো। তিনি বলিলেন,

“সুবহা-না রব্বিয়াল আলা, সুবহা-না রব্বিয়াল আলা”

অর্থাৎ আমার প্রভু পবিত্র ও মহান, আমার প্রভূ পবিত্র ও মহান।

তারপর মাথা উঠালেন [অর্থাৎ সিজদা হতে উঠে বসেন]। আর ২ সিজদার মধ্যকার সময় ছিল সিজদায় থাকা সময়ের ব্যবধানের মতো। এ সময় তিনি বলিতেন,

“রব্বিগ ফিরলী”, “রব্বিগ ফিরলী”

অর্থাৎ হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করো; হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করো।

এমনকি তিনি সূরা বাকারা, আলে ইমরান, নিসা, মায়েদা অথবা আনআম তিলাওয়াত করেন। বর্ণনাকারী সূরা মায়েদা না আনআম পর্যন্ত তিলাওয়াত করিয়াছেন সে সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেন।{১}

{১} আবু দাউদ, হাদিস নং/৮৭৪; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২৩৪২৩। বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) নামাজের মধ্যে একটি আয়াত বারবার তিলাওয়াত করিতেন

২০৫. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একবার রাতে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) একটি আয়াত [পূনরাবৃত্তি করে] তিলাওয়াত করিতে থাকেন।{১}

{১} শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৯১৪। বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৬. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক রাতে আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর সাথে নামাজ আদায় করি। তিনি এত দীর্ঘ [সময়] কিয়াম করেন যে, আমি একটি খারাপ কাজ করার সংকল্প করে বসি। তাকে বলা হলো আপনি কি করিতে চেয়েছিলেন? তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃআঃ) কে ছেড়ে বসে পড়ার ইচ্ছা করেছিলাম।{১}

{১} সহিহ বোখারী, হাদিস নং/১১৩৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/১৮৫১; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/৩৯৩৭; বায়হাকী, হাদিস নং/৪৪৬০। বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ বসে নামাজ আদায় করলে তিলাওয়াতও বসে করিতেন

২০৭. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বসে নামাজ আদায় করলে তিলাওয়াতও বসে করিতেন। যখন মাত্র ৩০ অথবা ৪০ আয়াত বাকী থাকত তখন দাঁড়িয়ে তিলাওয়াত করিতেন তারপর রুকু ও সিজদা করিতেন। এরপর তিনি দ্বিতীয় রাকআতও অনুরূপভাবে আদায় করিতেন।{১}

{১} মুয়াত্তা মালেক, হাদিস নং/৩১১; সহিহ বোখারী, হাদিস নং/১১১৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/১৭৩৯; আবু দাউদ, হাদিস নং/৯৫৫। বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ দাঁড়িয়ে কিরাআত পাঠ করলে রুকূ-সিজদাও দাঁড়ানো অবস্থাতেই করিতেন

২০৮. আবদুল্লাহ ইবনি শাকীক [রহঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি আয়েশাহ [রাদি.] এর কাছে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর নফল নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলিলেন, তিনি দীর্ঘ রাত্রি দাঁড়িয়ে কিংবা দীর্ঘ রাত্রি বসে নামাজ আদায় করিতেন। তিনি দাঁড়িয়ে কিরাআত পড়লে রুকূ-সিজদাও দাঁড়ানো অবস্থাতেই করিতেন। আবার যখন কিরাআত বসে পড়তেন, তখন বসা অবস্থাতেই রুকূ-সিজদা করিতেন।{১}

{১} সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/১৭৩৬; আবু দাউদ, হাদিস নং/৯৫৬; ইবনি মাজাহ, হাদিস নং/১২২৮; ইবনি খুযাইমা, হাদিস নং/১২৪৫; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২৬০৮১; সহিহ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/২৬৩১। বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২০৯. হাফসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) নফল নামাজ বসে আদায় করিতেন। তাতে তারতীল [তাজবীদ] সহকারে কিরাআত পাঠ করিতেন। ফলে তা দীর্ঘ সূরার চেয়ে দীর্ঘতর মনে হতো।{১}

{১} মুয়াত্তা মালেক, হাদিস নং/৩০৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/১৭৪৬; সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং/১৬৫৮; ইবনি খুযাইমা, হাদিস নং/১২৪২; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২৬৪৮৪; সহিহ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/২৫০৮; দারিমী, হাদিস নং/১৩৮৫। বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ নাবী (সাঃআঃ) মৃত্যুর পূর্বে অধিকাংশ নফল নামাজ বসে আদায় করিতেন

২১০. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী (সাঃআঃ) মৃত্যুর পূর্বে অধিকাংশ নফল নামাজ বসে আদায় করিয়াছেন।{১}

{১} সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/১৭৪৫; সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং/১৬৫২; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২৬৭৭৩; সহিহ ইবনি খুযাইমা, হাদিস নং/১২৩৯; মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস নং/১১৮৪।বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর ৮ রাকআত সুন্নাতের বর্ণনা

২১১. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর সাথে যোহরের পূর্বে ২ রাকআত ও পরে ২ রাকআত, মাগরিবের পর ঘরে ২ রাকআত এবং এশার পরে তাহাঁর ঘরে ২ রাকআত নামাজ আদায় করেছি।{১}

{১} মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/৪৫০৬; সহিহ ইবনি খুযাইমা, হাদিস নং/১১৯৭; মুসনাদুল বাযযার, হাদিস নং/৫৮২৩। বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১২. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হাফসা [রাদি.] আমাকে [এ মর্মে] হাদিস শোনান যে, সুবহে সাদিকের সময় যখন মুয়াযযিন আযান দিত, তখন রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ২ রাকআত নামাজ আদায় করে নিতেন। আইয়ুব বলেন, আমি মনে করি তিনি خَفِيفَتَيْنِ [সংক্ষিপ্ত ২ রাকআত] বলেছেন।{১}

{১} মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/৪৫০৬; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৮৬৭; মুসনাদে মুস্তাখরাজ আলাস সহীহাইন, হাদিস নং/১৬৩৬।বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর ১০ রাকআত সুন্নাতের বিবরণ

২১৩. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) হতে ৮ রাকআত স্মরণ রেখেছি যোহরের পূর্বে ২ রাকআত ও পরে ২ রাকআত, ২ রাকআত মাগরিবের পরে এবং ২ রাকআত এশার পরে। ইবনি উমার [রাদি.] বলেন, হাফসা [রাদি.] আমার কাছে ফজরের ২ রাকআতের খবর দিয়েছেন। অথচ আমি নাবী (সাঃআঃ) কে তা আদায় করিতে দেখিনি।{১}

{১} সহিহ বোখারী, হাদিস নং/১১৮০; মুসনাদে ইসহাক ইবনি রাহওয়াই, হাদিস নং/১৯৯৭; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদিস নং/৪৮২৪। বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২১৪. আবদুল্লাহ ইবনি শাকীক [রহঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়েশাহ [রাদি.] এর কাছে নাবী (সাঃআঃ) এর [নফল] নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলিলেন, তিনি ঐ যোহরের পূর্বে ২ রাকআত এবং পরে ২ রাকআত, মাগরিবের পরে ২ রাকআত, এশার পরে ২ রাকআত এবং ফজরের পূর্বে ২ রাকআত নামাজ আদায় করিতেন।{১}

{১} শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৮৭০। বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর দিনের ১৬ রাকআত নফল নামাজের বিবরণ

২১৫. আসিম ইবনি যামরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা আলী [রাদি.] এর কাছে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর দিনের [নফল] নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বল লন, তোমরা আসেভাবে আদায় করার ক্ষমতা রাখো না। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, আমাদের মধ্যে যে সামর্থ্য রাখে সে আদায় করিবে। এরপর তিনি বলিলেন, আসরের সময় সূর্য যতটা উপরে থাকে তেমন হলে তিনি ২ রাকআত [ইশরাক নামাজ] আদায় করিতেন। আবার যোহরের সময় সূর্য যতটা উপরে থাকে [পূর্ব দিকে সূর্য ততটা উপর হলে] তিনি ৪ রাকআত [চাশতের নামাজ] আদায় করিতেন। যোহরের পূর্বে ৪ রাকআত ও পরে ২ রাকআত এবং আসরের পূর্বে ৪ রাকআত আদায় করিতেন। প্রতি ২ রাকআতে নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা, নাবীগণ এবং যেসকল মুমিন-মুসলিম তাহাদের অনুসরণ করিয়াছেন তাহাদের প্রতি সালাম প্রেরণের মাধ্যমে ব্যবধান করিতেন।{১}

{১} সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং/৮৭৪; ইবনি মাজাহ, হাদিস নং/১১৬১; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/১৩৭৫; মুসনাদুল বাযযার, হাদিস নং/৬৭৭; বায়হাকী, হাদিস নং/৪৬৯৪; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৮৯২; সিলসিলা সহিহাহ, হাদিস নং/২৩৭। বাংলা নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply