বর্গাচাষ । চুক্তিপত্র সম্পর্কে বিভিন্ন হাদীস

বর্গাচাষ

বর্গাচাষ । চুক্তিপত্র সম্পর্কে বিভিন্ন হাদীস >> সুনানে নাসাই শরিফের মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ৩৬, বর্গাচাষ, হাদীস (৩৮৫৭ – ৩৯৩৮)

১.পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় প্রকার শর্তাবলী কৃষিতে বর্গা ও চুক্তি ইত্যাদি
২.পরিচ্ছেদঃ ফসলের তৃতীয়াংশ বা চতুর্থাংশ দেয়ার শর্তে বর্গা দেয়া সম্পর্কে বিভিন্ন হাদীস এবং হাদিসের বর্ণনাকারীদের বর্ণনাগত পার্থক্য
৩.পরিচ্ছেদঃ বর্গাচাষ সংক্রান্ত চুক্তিপত্র
৪.পরিচ্ছেদঃ বর্গাচাষ সম্পর্কে বর্ণিত ভাষাগত বিভিন্নতা
৫.পরিচ্ছেদঃ শারিকাতুল ইনান [অসম অংশীদারি কারবার] —এর চুক্তিপত্র
৬.পরিচ্ছেদঃ শারিকাতুল মুফাওয়াযা [সমঅংশীদারি কারবার ] -এর চুক্তিপত্র
৭.পরিচ্ছেদঃ শারীরিকভাবে শরীক হওয়া
৮.পরিচ্ছেদঃ অংশীদারদের একজনের অংশ ত্যাগ করা
৯.পরিচ্ছেদঃ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হলে কিরূপে লিখবে
১০.পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসীকে মুকাতাব বানানোর চুক্তিপত্র
১১.পরিচ্ছেদঃ মুদাব্বার বানানোর চুক্তিপত্র

১.পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় প্রকার শর্তাবলী কৃষিতে বর্গা ও চুক্তি ইত্যাদি

৩৮৫৭. আবু সাইদ খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ যখন তুমি কোন শ্রমিকের দ্বারা পরিশ্রম করাতে ইচ্ছা কর, তখন তার পারিশ্রমিক ঠিক করে নিও।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৫৮. হাসান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি কোন শ্রমিকের মজুরী নির্ধারণ না করে, তাকে মজুর হিসেবে নিয়োগ করাকে অপছন্দ করিতেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৫৯. হান্নাদ ইবনি আবু সুলায়মান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

একদা তাকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল, যে খাদ্যের বিনিময়ে শ্রমিক নিয়োগ করে। তিনি বললেনঃ তার মজুরীর পরিমাণ তাকে না জানিয়ে এরূপ করিবে না।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৬০. হাম্মাদ এবং কাতাদা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

ঐ দুই ব্যক্তি সম্বন্ধে বলেন, যাদের একজন অপরজনকে বললো, আমি তোমার জন্য মক্কা পর্যন্ত পথের ভাড়া এত ঠিক করলাম। যদি আমি একমাস কিংবা এর কম ও বেশি চলি, তা হলে তোমাকে আরও এত এত ভাড়া বেশি দিব- অর্থাৎ সে ভাড়া এবং সময় নির্ধারিত করে নিল। তাঁরা বলেনঃ এতে কোন ক্ষতি নাই। কিন্তু এরূপ বলা যে, আমি তোমার জন্য এত টাকা ভাড়া নির্ধারণ করলাম। যদি আমি এক মাসের বেশি সফর করি, তাহলে তোমার ভাড়া কম দেবো, তাঁরা এরূপ বলাকে অপছন্দ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৬১. ইবনি জুরায়জ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

আমি আতা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] -কে জিজ্ঞেস করলামঃ যদি আমি এক শ্রমিককে এক বছর পর্যন্ত শুধু খোরাকীর বিনিময়ে কাজে নিয়োগ করি এবং পরবর্তী বছর এত এত মজুরীর বিনিময়ে? তিনি বলেনঃ এতে কোন দোষ নেই। আর তোমার এই শর্ত করাই যথেষ্ট যে, আমি তাকে এতদিন পর্যন্ত মজুর হিসেবে রাখবো। [ইবনি জুরায়জ বলেন] যদি বছরের কয়েকদিন অতিবাহিত হইয়া যাওয়ার পর তাকে কাজে নিযুক্ত কর, তবে বলবেঃ যতদিন চলে গেছে আমার সঙ্গে তা হিসাব করিবে না।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২.পরিচ্ছেদঃ ফসলের তৃতীয়াংশ বা চতুর্থাংশ দেয়ার শর্তে বর্গা দেয়া সম্পর্কে বিভিন্ন হাদীস এবং হাদিসের বর্ণনাকারীদের বর্ণনাগত পার্থক্য

৩৮৬২. উসায়দ ইবনি যুহায়র [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি তাহাঁর কাওম বনু হারিসার নিকট এসে বললেনঃ হে বনূ হারিসা! তোমাদের উপর এক বিপদ আপতিত হইয়াছে। তারা বললোঃ সেই বিপদ কী? তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জমি বর্গা দিতে নিষেধ করিয়াছেন। আমরা বললামঃ ইয়া রসূলুল্লাহ! যদি আমরা শস্যদানার পরিবর্তে জমি বর্গা দেই তবে? তিনি বললেনঃ না। আমরা বললামঃ আমরা আনজিরের বিনিময়ে জমি বর্গা দিতাম। তিনি বললেনঃ এটাও না। আমরা আবার বললামঃ আমরা ঐ ফসলের বিনিময়ে দিতাম, যা নালার পাশে উৎপন্ন হতো। তিনি বললেনঃ তাও না। তোমরা জমি নিজেরা চাষ কর অথবা আপন ভাইদের দান কর।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৬৩. উসায়দ ইবনি যুহায়র [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাফে ইবনি খাদীজা [রাঃআঃ] আমাদের নিকট এসে বললেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তোমাদেরকে হাকল; অর্থাৎ এক-তৃতীয়াংশ অথবা এক-চতুর্থাংশ অংশ শস্যের বিনিময়ে জমি বর্গা দিতে নিষেধ করিয়াছেন এবং ফল গাছে থাকাবস্থায় নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুরের বিনিময়ে তা বিক্রয় করিতে, যাকে মুযাবানা বলা হয়, নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৬৪. উসায়দ ইবনি যুহায়র [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

বর্ণিত। তিনি বলেন, রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] আমাদের নিকট এসে বললেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে এমন এক কাজ করিতে নিষেধ করিয়াছেন, যা আমাদের জন্য লাভজনক ছিল। আর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর কথা মেনে নেয়া তোমাদের জন্য উত্তম। তিনি তোমাদেরকে হাকল হইতে নিষেধ করিয়াছেন। তিনি বলেছেনঃ যাহার জমি আছে, তার উচিত তা দান করে দেয়া, অথবা ছেড়ে দেয়া। আর তিনি মুযাবানা হইতে নিষেধ করিয়াছেন। আর মুযাবানা বলা হয়, কোন ব্যক্তির হয়ত খেজুর বাগানের বিপুল সম্পত্তি আছে, আর অন্য কোন ব্যক্তি এসে নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুরের বিনিময়ে তা [তার গাছের খেজুর] গ্রহণ করিল।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৬৫. উসায়দ ইবনি যুহায়র [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] আমাদের নিকট এসে বলিলেন, কিন্তু আমি কিছু বুঝতে পারিনি। তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তোমাদেরকে একটি কাজ করিতে নিষেধ করিয়াছেন, যা তোমাদের জন্য উপকারী ছিল। আর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর কথা মেনে নেয়া তোমাদের জন্য অধিকতর উপকারী। তিনি তোমাদেরকে হাকল হইতে নিষেধ করিয়াছেন। আর হাকল হলো, ক্ষেত বা বাগানকে তৃতীয়াংশ বা চতুর্থাংশের বিনিময়ে বর্গা দেয়া। রাবী বলেন, যাহার নিকট তার প্রয়োজনের অধিক জমি থাকে, তার কোন মুসলমান ভাইকে তা দান করা অথবা ফেলে রাখা উচিত। আর তিনি তোমাদেরকে মুযাবানা হইতে নিষেধ করিয়াছেন। আর মুযাবানা হলো, কোন মালদারের নিকট অনেক খেজুর গাছ রয়েছে, সে অন্য ব্যক্তিকে বললোঃ তুমি এই বাগান [-এর খেজুর] এ বছরের এ পরিমাণ খেজুরের বিনিময়ে গ্রহণ কর।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৬৬. রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তোমাদেরকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এমন কাজ হইতে নিষেধ করিয়াছেন, যা আমাদের জন্য লাভজনক ছিল। আর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর কথা মেনে চলা আমাদের জন্য তা অপেক্ষা লাভজনক। তিনি বলেছেনঃ যাহার নিকট কৃষির জমি রয়েছে, সে নিজে তাতে চাষাবাদ করিবে। আর যদি সে চাষাবাদ করিতে না পারে, তবে মুসলমান ভাইকে দিয়ে দেবে, আর সে তাতে চাষাবাদ করিবে।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৬৭. রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি জমি বর্গা দিতে নিষেধ করিয়াছেন। তাউস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তা অস্বীকার করে বলেন, আমি ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] -কে বলিতে শুনিয়াছি। তিনি বলিতেনঃ তাতে কোন ক্ষতি নেই।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৬৮. মুজাহিদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে এমন এক কাজ হইতে নিষেধ করিয়াছেন, যা ছিল আমাদের জন্য লাভজনক। আর তাহাঁর আদেশ আমাদের জন্য শিরোধার্য। তিনি আমাদেরকে উৎপন্ন শস্যের কিয়দাংশের বিনিময়ে জমি গ্রহণ করিতে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৬৯. রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক আনসারীর জমির উপর দিয়ে যাওয়ার সময় জানিতে পারলেন যে, এ ব্যক্তি একজন গরীব লোক। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এই জমি কার? সে ব্যক্তি বললোঃ এ জমি আমাকে অমুক ব্যক্তি বর্গা চুক্তিতে দিয়েছে। একথা শুনে তিনি বললেনঃ যদি সে তা তার কোন মুসলমান ভাইকে এমনিই দান করতো তবে তার জন্য উত্তম হতো। একথা শুনে রাফে [রাঃআঃ] আনসারী ভাইয়ের নিকট এসে বললেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তোমাদেরকে এক কাজ হইতে নিষেধ করিয়াছেন, তা তোমাদের জন্য লাভজনক ছিল। আর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর আদেশ পালন করা তোমাদের জন্য তার চাইতে অধিক লাভজনক।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৭০. রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হাকল হইতে তোমাদেরকে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৭১. রাফে ইবনি কাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নিকট এসে আমাদেরকে এমন এক কাজ হইতে নিষেধ করিলেন, যা ছিল আমাদের জন্য লাভজনক। তিনি বললেনঃ যাহার জমি আছে, তার তা চাষ করা উচিত; না হয় তা কাউকে দান করা বা ফেলে রাখা উচিত।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ লিগাইরিহি

৩৮৭২. রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নিকট এসে আমাদেরকে এমন এক কাজ হইতে নিষেধ করিলেন, যা আমাদের জন্য লাভজনক ছিল। আর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর আদেশ আমাদের জন্য অতি উত্তম। তিনি বললেনঃ যাহার জমি আছে, সে যেন তা চাষ করে, অথবা ফেলে রাখে বা দান করে।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ লিগাইরিহি

৩৮৭৩. আমর ইবনি দীনার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তাউস [রাঃআঃ] সোনা-রূপার বিনিময়ে জনি কেরায়া দেয়াকে অপছন্দ করিতেন। কিন্তু তিনি তৃতীয়াংশ কিংবা চতুর্থাংশ শস্যের বিনিময়ে তা বর্গা দেয়াকে দূষণীয় মনে করিতেন না। মুজাহিদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাউসকে বললেনঃ তুমি রাফে ইবনি খাদীজের ছেলের নিকট যাও এবং তার নিকট হইতে ঐ হাদীস শ্রবণ কর। তাউস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বললেনঃ আল্লাহর কসম! যদি আমি জানিতে পারতাম যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ কাজ করিতে নিষেধ করিয়াছেন, তাহলে আমি সে কাজ করতাম না। আর আমার কাছে অধিকতর জ্ঞানীজন, অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] বর্ণনা করেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তো কেবল এটাই বলেছেন যে, তোমরা কোন বিনিময় ব্যতীত জমি তোমার ভাইকে দিয়ে দাও। যেন সে তাতে ফসল জন্মাতে পারে। কেননা এই দান তোমার জন্য বিনিময়ে দেয়া হইতে উত্তম।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৭৪. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যাহার জমি আছে, সে যেন তা চাষ করে। আর যদি সে অপারগ হয়, তবে সে যেন তার মুসলমান ভাইকে দান করে এবং সে যেন তাতে তা বর্গা না দেয়।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৭৫. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যাহার জমি আছে, সে যেন তা চাষ করে। অথবা কোন মুসলমান ভাইকে দান করে কোন বিনিময় না নিয়ে।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৭৬. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ কতিপয় লোকের নিকট প্রয়োজনের অধিক জমি ছিল, তারা তা অর্ধেক, তৃতীয়াংশ বা চতুর্থাংশের উপর বর্গা দিত। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ যাহার নিকট জমি আছে, সে তা নিজে চাষ করিবে অথবা তা অন্যের দ্বারা চাষ করাবে বা তা রেখে দেবে।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৭৭. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নিকট খুতবা দিতে গিয়ে বললেনঃ যাহার নিকট জমি আছে, তার উচিত তা নিজে অথবা অন্যের দ্বারা চাষ করানো এবং তা কেরায়া না দেয়া।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

৩৮৭৮. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জমি কেরায়া দিতে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ লিগাইরিহি

৩৮৭৯. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বর্গা দিতে এবং মুযাবানা ও মুহাকালা করিতে আর খাওয়ার উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ফল বিক্রি করিতে নিষেধ করিয়াছেন, যে সকল খেজুর বৃক্ষ আরায়া১ দেয়া হইয়াছে তা ব্যতীত।

আরায়া- ঐ সব খেজুর গাছকে বলা হয়, যাহার মালিক অন্যকে এ ফল খাওয়ার জন্য দিয়েছে।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৮০. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুহাকালা, মুযাবানা এবং মুখাবারা করিতে নিষেধ করিয়াছেন। আর তিনি ছুনয়া১ করিতে নিষেধ করিয়াছেন, কিন্তু যদি জানা থাকে।

{১} ছুনয়া অর্থ ব্যতিক্রম করা, বাদ রাখা। এ স্থলে ছুনয়া দ্বারা এমন বেচাকেনাকে বোঝানো হইয়াছে যাতে সর্বমোট পরিমাণ থেকে অংশবিশেষ বাদ রাখা হয়। যেমন বলিল, আমি তোমার কাছে খাদ্যের এই স্তুপ বিক্রি করলাম, তবে এর কিয়দাংশ বাদ বা এই কাপড়গুলো বিক্রি করলাম তবে কিছু কাপড় বাদ। হ্যাঁ, যদি সর্বমোট পরিমাণ ও বাদ পরিমাণ জানা থাকে, তবে জায়েয হইবে। যেমন বললাম, তোমার কাছে এই দশমণ চাল বিক্রি করলাম, তবে এর থেকে দুমণ বাদ বা এই পঞ্চাশটি কাপড় বিক্রি করলাম, তবে এই পাঁচটি বাদ।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৮১. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যাহার জমি আছে ,তার উচিত তা নিজে চাষ করা, অথবা তার ভাইকে চাষ করিতে দেয়া। কিন্তু সে যেন তার ভাইকে জমি কেরায়া না দেয়।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৮২. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হাকাল অর্থাৎ মুযাবানা থেকে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৮৩. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুযাবানা, মুখাদারা হইতে নিষেধ করিয়াছেন। তিনি বলেনঃ মুখাদারা হলো, খাওয়ার উপযুক্ত হওয়ার পূর্বে ফল বিক্রি করা। আর মুখাবারা হলো, [অনুমান করে] গাছের আঙুরকে, পাড়া আঙুরের সুনির্দিষ্ট পরিমাণের বিনিময়ে বিক্রি করা।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৮৪. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুহাকালা এবং মুযাবানা হইতে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৮৫. আবু সাইদ খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুহাকালা এবং মুযাবানা হইতে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

৩৮৮৬. রাফে ইবন্ খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুহাকালা এবং মুযাবানা হইতে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৮৭. রাফে ইবন্ খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুহাকালা এবং মুযাবানা হইতে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩৮৮৮. উসমান ইবন্ মুর্‌রা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি কেরায়া দেয়ার ব্যাপারে কাসেমের নিকট জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ রাফে ইবন্ খাদীজ [রাঃআঃ] বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জমি কেরায়া দিতে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩৮৮৯. ইয়াহ্ইয়া ইবন্ আবু জাফর খাতমী তাহাঁর নাম উমায়র ইবন্ ইয়াযীদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমাকে আমার চাচা একটি গোলাম সঙ্গে দিয়ে সাঈদ ইবন্ মুসাইয়্যাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] -এর নিকট মুযারাআ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠালে তিনি বললেনঃ ইবন্ উমার [রাঃআঃ] এটাকে দূষণীয় মনে করিতেন না। পরে তিনি রাফে ইবন্ খাদীজ [রাঃআঃ] -এর হাদীস জানিতে পারলে তিনি তাহাঁর সাথে সাক্ষাত করিলেন। রাফে [রাঃআঃ] বললেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হারিসা গোত্রে আগমন করলে একটি কৃষি জমি দেখিতে পেলেন। তিনি বললেনঃ যুহায়র -এর ক্ষেত কত সুন্দর! লোকসকল বললেনঃ ইয়া রসূলুল্লাহ! এই জমি যুহায়র -এর নয়। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ এটা কি যুহায়র -এর জমি নয়? তারা বললেনঃ হ্যাঁ, তবে, সে তা অন্যকে চাষ করিতে দিয়েছে। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমরা নিজের জমি নিয়ে নাও এবং তাতে যে খরচ হইয়াছে, তা তাকে দিয়ে দাও। রাবী বলেনঃ আমরা জমি নিয়ে নিলাম, আর যা খরচ হইয়াছিল, তা তাকে ফিরিয়ে দিলাম।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩৮৯০. রাফে ইবন্ খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুহাকালা এবং মুযাবানা হইতে নিষেধ করিয়াছেন। তিনি বলেছেনঃ তিন ব্যক্তি কৃষি করিতে পারে। প্রথমত যাহার জমি, সে তা চাষাবাদ করিবে। দ্বিতীয়ত ঐ ব্যক্তি যাকে জমি দান করা হইয়াছে। তৃতীয়ত ঐ ব্যক্তি, যে জমি সোনা ও রূপার বিনিময়ে কেরায়া নিয়েছে। ইস্‌রাঈল এ বর্ণনাটি তারিক হইতে শুনে পৃথক করিয়াছেন। প্রথম কথাটিকে মুরসাল বলেছেনঃ শেষের কথা সম্বন্ধে তিনি বলেছেনঃ এটি সাঈদ ইবন্ মুসাইয়াবের নিজের উক্তি [হাদীস নয়]।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৯১. সাঈদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুহাকালা হইতে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩৮৯২. তারিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি সাঈদ ইবন্ মুসাইয়াব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] –কে বলিতে শুনেছিঃ তিন ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ চাষাবাদ করিবে না। প্রথম ঐ ব্যক্তি যে মালিক হয়; দ্বিতীয় ঐ ব্যক্তি যাকে জমি দান করা হইয়াছে এবং তৃতীয় ঐ ব্যক্তি যে টাকা-পয়সার বিনিময়ে তা ইজারা নিয়েছে।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ মাকতু

৩৮৯৩’. বর্ণনাকারী হইতে বর্ণিতঃ

অনুবাদ পাওয়া যায়নি।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ লিগাইরিহি

৩৮৯৪. সাদ ইবন্ আবু ওয়াক্‌কাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর সময়ে জমির মালিকেরা ইজারায় জমি চাষ করিতে দিত ঐ শস্যের বিনিময়ে, যা নালার আশে পাশে জন্মাত। এরপর তারা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর খিদমতে উপস্থিত হইয়া কোন কোন জমির ব্যাপারে বিচারপ্রার্থী হয়। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাদেরকে এভাবে জমি কেরায়ায় দিতে নিষেধ করেন এবং বলেনঃ তোমরা স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিনিময়ে জমি কেরায়া দাও।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদীস

৩৮৯৫. রাফে ইবন্ খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সময়ে আমরা তৃতীয়াংশ বা চতুর্থাংশ শস্যের বিনিময়ে জমি বর্গা দিতাম অথবা নির্দিষ্ট খাদ্যের বিনিময়ে। আমার চাচাদের এক ব্যক্তি একদিন উপস্থিত হইয়া বললেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে এমন কাজ হইতে নিষেধ করিয়াছেন; যাতে আমাদের লাভ ছিল। আর আল্লাহ এবং তাহাঁর রাসূলের আদেশ মান্য করা আমাদের জন্য আরও লাভজনক। তিনি আমাদেরকে হাকল করিতে এবং তৃতীয়াংশ বা চতুর্থাংশ শস্য অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যের বিনিময়ে জমি বর্গা দিতে নিষেধ করিয়াছেন। তিনি জমির মালিকদের আদেশ করেছেনঃ সে যেন নিজে চাষ করে, অথবা অন্যকে চাষ করিতে দেয়। আর তিনি ইজারা দিতে এবং অন্য কোন প্রকারকে অপছন্দ করেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৯৬. রাফে ইবন্‌ খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা জমিতে মুহাকালা করতাম। তৃতীয়াংশ অথবা চতুর্থাংশের বিনিময়ে কিংবা নির্দিষ্ট খাদ্যের বিনিময়ে কেরায়া দিতাম।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৯৭. রাফে ইবন্‌ খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর সময়ে হাকল করতাম। তখন আমাদের চাচাদের একজন এসে বললেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে একটি লাভজনক কাজ হইতে নিষেধ করিয়াছেন। আর আল্লাহ এবং তাহাঁর রাসূলের কথা মেনে চলা আমাদের জন্য আরও অধিক লাভজনক। আমরা জিজ্ঞাসা করলামঃ তা কোন্‌ বস্তু? তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যাহার জমি আছে, সে যেন তা নিজে চাষ করে, অথবা তার অন্য ভাইকে চাষ করিতে দেয়, কিন্তু সে যেন তা তৃতীয়াংশ বা চতুর্থাংশ বা নির্দিষ্ট খাদ্যের বিনিময়ে কেরায়া না দেয়।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৯৮. রাফে ইবন্‌ খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার চাচা আমার নিকট বর্ণনা করিলেন যে, তারা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর সময়ে যা নালার ধারে উৎপন্ন হতো এবং জমির মালিক যা বাদ দিত তার বিনিময়ে জমি কেরায়া দিতাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে তা করিতে নিষেধ করেন। আমি রাফে [রাঃআঃ] -কে বললাম, দীনার ও দিরহামের বিনিময়ে কেরায়া দেয়া কিরূপ? তিনি বললেনঃ দীনার ও দিরহামের বিনিময়ে দেওয়ায় কোন দোষ নেই।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮৯৯. হানযালা ইবন্‌ কায়স আল-আনসারী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাফে ইবন্‌ খাদীজ [রাঃআঃ] -কে স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিনিময়ে ভূমি বর্গা দেয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি বলিলেন, এতে কোন দোষ নেই। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর যুগে লোকেরা বড়-ছোট নালার পাশে উৎপন্ন ফসলের বিনিময়ে ভূমি বর্গা দিতেন। কোন সময়ে এটায় ফসল ফলতো, ওটায় ফসল ফলতো না। আবার কোন সময়ে ওটায় ফসল ফলতো, এটাতে ফলতো না [এতে লোকের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হত]। তখন বর্গা বলিতে এই ছিল। এ জন্য তা থেকে নিষেধ করা হইয়াছে। তবে যদি নির্দিষ্ট কিছুর বিনিময়ে বর্গা দেওয়া হয় যা কেরায়া গ্রহীতার দায়িত্বে থাকিবে তবে কোন অসুবিধা নেই।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯০০. হানযালা ইবন্‌ কায়স [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাফে ইবন্‌ খাদীজকে [রাঃআঃ] জমি বর্গা দেওয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করলে উত্তরে তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জমি বর্গা দিতে নিষেধ করিয়াছেন। আমি বললাম, স্বর্ণ ও রৌপ্যের বিনিময়েও কি? তিনি বলিলেন, না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] উৎপন্ন নির্দিষ্ট ফসলের বিনিময়ে বর্গা দিতে নিষেধ করিয়াছেন। স্বর্ণ-রৌপ্যের বিনিময়ে বর্গা দেওয়াতে কোন দোষ নেই।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯০১. হান্‌যালা ইবন্‌ কায়স [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাফে ইবন্‌ খাদীজকে [রাঃআঃ] স্বর্ণ-রৌপ্যের বিনিময়ে অনাবাদী ভূমি বর্গা দেওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বলিলেন, এটা বৈধ। এতে কোন দোষ নেই। এটা জমির অধিকার।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩৯০২. রাফে ইবন্‌ খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ভূমি বর্গা দিতে আমাদেরকে নিষেধ করিয়াছেন। তখন স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার প্রচলন ছিল না। লোকে নির্দিষ্ট বস্তুর বিনিময়ে এবং নালার কাছে ও সম্মুখভাগে উৎপন্ন ফসলের বিনিময়ে ভূমি বর্গা দিত।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩৯০৩. সালিম ইবন্‌ আব্দুল্লাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

উকায়ল ইবন্‌ খালিদও অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩৯০৪. সালিম ইবন্‌ আবদুল্লাহ্‌ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্‌ ইবন্‌ উমার [রাঃআঃ] জমি কেরায়া দিতেন। যখন তিনি শুনতে পেলেন, রাফে ইবন্‌ খাদীজ [রাঃআঃ] জমি কেরায়া দিতে নিষেধ করিয়াছেন, তখন আবদুল্লাহ্‌ [রাঃআঃ] তাহাঁর সাথে সাক্ষাত করে বললেনঃ হে রাফে ইবন্‌ খাদীজ! আপনি জমি কেরায়া দেয়ার ব্যাপারে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে কী হাদীস বর্ণনা করেন? তিনি আবদুল্লাহ্‌ [রাঃআঃ] -কে বললেনঃ আমি আমার দুই চাচার নিকট শুনিয়াছি, তারা উভয়ে ছিলেন বদরের যোদ্ধা, তাঁরা লোকদেরকে হাদীস শোনাতেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জমি কেরায়া দিতে নিষেধ করিয়াছেন। আবদুল্লাহ্‌ ইবন্‌ উমার [রাঃআঃ] বললেনঃ আমার জানা আছে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর সময়ে জমি কেরায়া দেয়া হতো। তখন আব্দুল্লাহ [রাঃআঃ] শংকিত হলেন যে, হয়তো রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ ব্যাপারে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন, আর তিনি তা জানিতে পারেন নি। তখন তিনি জমি কেরায়া দেয়া পরিত্যাগ করেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯০৫. যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাদের নিকট রাফে ইবন্‌ খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে এ মর্মে এ খবর পৌঁছেছে যে, তিনি তাহাঁর চাচাদের থেকে যাঁরা ছিলেন বদরী– বর্ণনা করেন যে, তাঁরা বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জমি কেরায়া দিতে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ লিগাইরিহি

৩৯০৬. শুআয়ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেছেন, সাঈদ ইবনি মুসায়্যাব [রাঃআঃ] বলিতেনঃ সোনা ও রূপার বিনিময়ে জমি কেরায়া দেয়ার কোন ক্ষতি নেই। আর রাফে ইবনি খাদীজ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণনা করেছেনঃ রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] তা থেকে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ লিগাইরিহি

৩৯০৭. রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] জমি কেরায়া দিতে নিষেধ করিয়াছেন। ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেনঃ পরবর্তীতে রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] -কে জিজ্ঞাসা করেছিল যে, তখন লোকে কিরূপে জমি কেরায়া দিত? তিনি বললেনঃ লোক কিছু উৎপন্ন দ্রব্য নির্দিষ্ট করতো এবং শর্ত করে নিত, যা নালা বা নহরের কিনারায় উৎপন্ন হইবে তা আমাদের থাকিবে।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ লিগাইরিহি

৩৯০৮. রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাঃআঃ] -কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাহাঁর চাচাগণ রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] –এর খিদমতে উপস্থিত হন এবং সেখান থেকে ফিরে এসে সংবাদ দেন যে, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] কৃষি জমি কেরায়া দিতে নিষেধ করিয়াছেন। আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] বলেনঃ আমাদের পরিস্কার জানা আছে যে, জমির মালিক রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] -এর সময় জমি কেরায়া দিত এই শর্তে যে, জমির মালিকের অংশে ঐ শস্যে হইবে, যা নহরের নিকটবর্তী অংশে উৎপন্ন হইবে যেই নহর হইতে ঐ জমিতে পানি দেয়া হয় এবং কিছু ঘাসের পরিবর্তে কেরায়া দেয়া হতো, যে ঘাসের পরিমাণ আমার জানা নেই।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩৯০৯. নাফে [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি উমার [রাঃআঃ] জমির কেরায়া গ্রহণ করিতেন। এরপর তাহাঁর নিকট রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে কিছু সংবাদ পৌঁছায়। তিনি আমার হাত ধরে রাফে ইবনি খাদীজা [রাঃআঃ] -এর নিকট নিয়ে যান। রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] তাহাঁর চাচা হইতে হাদীস বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] জমি কেরায়া দিতে নিষেধ করিয়াছেন। এরপর থেকে আবদুল্লাহ্‌ [রাঃআঃ] জমির কেরায়া দেয়া পরিত্যাগ করেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯১০. ইবনি উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি কেরায়া গ্রহণ করিতেন, এরপর যখন রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] তাহাঁর চাচা থেকে তাঁকে হাদীস শুনান যে, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] জমির কেরায়া নিতে নিষেধ করিয়াছেন; তখন হইতে তিনি তা পরিত্যাগ করেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯১১. নাফে [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি উমার [রাঃআঃ] তাহাঁর কৃষি জমি কেরায়া দিতেন। মুআবিয়া [রাঃআঃ] -এর খিলাফতের শেষভাগে তিনি সংবাদ পান যে, রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] এ ব্যাপারে রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] হইতে নিষেধাজ্ঞামূলক হাদীস বর্ণনা করেন। তখন তিনি তাহাঁর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করিলেন, আমিও তাহাঁর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] জমি কেরায়া দিতে নিষেধ করিয়াছেন। তখন ইবনি উমার [রাঃআঃ] তা ত্যাগ করেন। এরপর ইবনি উমার [রাঃআঃ] -এর নিকট কেউ এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলিতেনঃ রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] বললেনঃ রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] জমির কেরায়া নিতে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯১২. নাফে [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

আব্দুল্লাহ্‌ ইবনি উমার [রাঃআঃ] জমি কেরায়া দিতেন। তাঁকে বলা হলোঃ রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] কেরায়া দিতে নিষেধ করিয়াছেন। তখন ইবনি উমার [রাঃআঃ] বালাত নামক স্থানে তাহাঁর সাথে দেখা করিতে যান, আর আমিও তখন তাহাঁর সাথে ছিলাম। ইবনি উমার [রাঃআঃ] রাফে [রাঃআঃ] -কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] জমি কেরায়া দিতে নিষেধ করিয়াছেন। তখন হইতে আবদুল্লাহ্‌ [রাঃআঃ] কেরায়া দেয়া পরিত্যাগ করেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩৯১৩. নাফে [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি ইবনি উমার [রাঃআঃ] -কে সংবাদ দিল যে, রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] জমি কেরায়া দেয়ার ব্যাপারে একটি হাদীস বর্ণনা করেন। নাফে বলেনঃ আমি এবং সংবাদদাতা আবদুল্লাহ্‌ [রাঃআঃ] -এর সাথে রাফে [রাঃআঃ] -এর নিকট যাই। তখন রাফে [রাঃআঃ] তাঁকে বললেনঃ রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] জমি কেরায়া দিতে নিষেধ করিয়াছেন। সেদিন হইতে তিনি তা পরিত্যাগ করেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩৯১৪. নাফে [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] আবদুল্লাহ্‌ ইবনি উমার [রাঃআঃ] -কে এ মর্মে হাদীস শোনান যে, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] জমি কেরায়া দিতে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯১৫. নাফে [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি উমার [রাঃআঃ] জমি কেরায়া দিতেন জমির উৎপন্ন দ্রব্যের কিয়দংশের বিনিময়ে। এরপর তিনি জানিতে পারেন যে, রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] জমি কেরায়া দিতে নিষেধ করিয়াছেন এবং তিনি বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] তা থেকে নিষেধ করিয়াছেন। আমরা রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] থেকে জানার আগে কৃষি জমি কেরায়া দিতাম। এরপর তার [ইবনি উমরের] মনে কিছু আসলে তিনি আমার কাঁধে হাত রাখলেন। অবশেষে আমরা রাফে পর্যন্ত পৌঁছালাম। আবদুল্লাহ্‌ [রাঃআঃ] রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] -কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ আপনি কি শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] জমি কেরায়া দিতে নিষেধ করিয়াছেন? রাফে [রাঃআঃ] বললেনঃ আমি রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনেছিঃ তোমরা কোন কিছুর বিনিময়ে জমি কেরায়া দিও না।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩৯১৬. রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] জমি কেরায়া দিতে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯১৭. আমর ইবনি দীনার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ইবনি উমার [রাঃআঃ] -কে বলিতে শুনেছিঃ আমরা মুখাবারা করতাম এবং তাকে দূষণীয় মনে করতাম না। পরে রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] বলেনঃ রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] মুখাবারা করিতে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯১৮. ইবনি জুরায়জ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমর ইবনি দীনার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] -কে বলিতে শুনিয়াছি, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, যখন ইবনি উমার [রাঃআঃ] -কে মুখাবারা সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হতো, তখন তিনি বলিতেনঃ আমাদের মতে মুখাবারা করায় কোন ক্ষতি নেই। কিন্তু {মুআবিয়া [রাঃআঃ] -এর খিলাফতের} প্রথম বছর রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছিলেন যে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনেছেন, তিনি মুখাবারা হইতে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯১৯. আমর ইবনি দীনার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি উমার [রাঃআঃ] -কে বলিতে শুনেছিঃ আমরা মুখাবারা করায় কোন ক্ষতি মনে করতাম না। {মুআবিয়া [রাঃআঃ] -এর খিলাফতের} প্রথম বছর রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] বললেনঃ রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] তা থেকে নিষেধ করিয়াছেন।

আমর ইবনি দীনার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্রে জাবির ইবনি আবদুল্লাহ্‌ [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] জমি কেরায়া দিতে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯২০. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] আমাকে মুখাবারা, মুহাকালা এবং মুযাবানা হইতে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ লিগাইরিহি

৩৯২১. ইব্ন উমার এবং জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] উপযোগিতা প্রকাশের আগে ফল বিক্রি করিতে নিষেধ করিয়াছেন। আর তিনি মুখাবারা হইতে অর্থাৎ জমিতে উৎপাদিত শস্যের তৃতীয়াংশ বা চতুর্থাংশের বিনিময়ে জমি কেরায়া দিতে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯২২. রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ হে রাফে! তুমি তোমার জমি কেরায়া দিয়ে থাক? রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] বলেনঃ হ্যাঁ, ইয়া রসূলুল্লাহ্! আমরা এক-চতুর্থাংশের বিনিময়ে অথবা কয়েক অসাক যবের বিনিময়ে কেরায়া দিয়ে থাকি। তখন রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বললেনঃ এরূপ করো না। হয় নিজে চাষ কর অথবা কাউকে ধার হিসেবে দান কর। যদি তা-ও না কর, তবে জমি এমনিই পড়ে থাকতে দাও।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯২৩. আবু নাজ্জাশী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ যুহায়র ইবনি রাফে [রাঃআঃ] এসে বললেনঃ রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] আমাদেরকে এমন এক কাজ হইতে নিষেধ করিয়াছেন, যা আমাদের জন্য লাভজনক ছিল। আমি বললামঃ তা কি? তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] -এর আদেশ আর তাহাঁর আদেশ যথার্থ। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমরা ক্ষেতের ব্যাপারে কিরূপ কর? আমি বললামঃ আমরা ফসলের চতুর্থাংশের উপর, আবার কোন সময় কয়েক অসাক খেজুর অথবা যবের বিনিময়ে ইজারা দিয়ে থাকি। তিনি বললেনঃ এরূপ করো না; বরং নিজে চাষ কর অথবা অন্যকে চাষ করিতে দাও অথবা জমি ফেলে রাখ।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯২৪. উসায়দ ইবনি রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

যে, রাফে [রাঃআঃ] -এর ভাই স্বীয় গোত্রকে বললোঃ রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] আজ এমন বস্তু হইতে নিষেধ করিলেন, যা বাহ্যত তোমাদের জন্য লাভজনক ছিল আর রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] -এর আদেশ শিরোধার্য ও সর্বোত্তম। তিনি হাক্‌ল [বর্গাচাষ] নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯২৫. আবদুর রহমান ইবনি হুরমুয [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

আমি উসায়দ ইবনি রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে শ্রবণ করেছি, তিনি বলেন, তাহাদেরকে মুহাকালা হইতে নিষেধ করা হইয়াছে। মুহাকালার অর্থ হলো উৎপন্ন শস্যের কিয়দংশ বিনিময়ে জমি চাষ করিতে দেওয়া।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩৯২৬. ঈসা ইব্ন সাহল ইব্ন রাফে ইব্ন খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমি আমার দাদা রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] -এর কাছে ইয়াতীম হিসেবে ছিলাম। পরে আমি বালেগ হইয়া তাহাঁর সাথে হজ্জ করিতে গেলাম। এরপর আমার ভাই ইমরান ইবনি সাহল ইবনি রাফে এসে বলিতে লাগলোঃ দাদা! আমরা আমাদের অমুক জমি দুইশত দিরহামের বিনিময়ে কেরায়া দিয়েছি। তখন তিনি বললেনঃ বৎস! এটা ত্যাগ কর। আল্লাহ তাআলা অন্য পথে তোমাদের রিযকের ব্যবস্থা করবেন। কেননা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কেরায়া দিতে নিষেধ করিয়াছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩৯২৭. উরওয়া ইবনি যুবায়র [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ যায়দ ইবনি সাবিত [রাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা রাফে ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] -কে ক্ষমা করুন। আল্লাহর কসম! আমি এই হাদীস তাহাঁর চাইতে অধিক জ্ঞাত। তা এই যে, দুই ব্যক্তির পরস্পর ঝগড়াকালে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমাদের অবস্থা যদি এই হয়, তাহলে তোমরা তোমাদের জমি কেরায়া দিও না। আর তিনি শুধু “কৃষি ভূমি কেরায়া দিও না” এতটুকুই শুনেছেন।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ জইফ হাদীস

৩.পরিচ্ছেদঃ বর্গাচাষ সংক্রান্ত চুক্তিপত্র

আবু আবদুর রহমান ঈমাম নাসাঈ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেনঃ বর্গাচাষে বীজ এবং খরচ বহন করিবে জমির মালিক আর যে চাষ করিবে সে জমির উৎপন্ন দ্রব্যের এক-চতুর্থাংশ পাবে। এ মর্মে একটা চুক্তিপত্র থাকা চাই যা নিম্নরূপ হবেঃ

এটি একটি চুক্তিপত্র যা অমুকের পুত্র অমুকের নাতি অমুখ লিখেছেন। তিনি তা স্বজ্ঞানে ও সুস্থ অবস্থায় লিখেছেন। তিনি তা এমন অবস্থায় লিখেছেন, যে অবস্থায় তার সকল কারবার লেনদেন করা বৈধ ছিল। এতে রয়েছে, তুমি অর্থাৎ জমির মালিক, তোমার সমস্ত ভূমি যা অমুক পরগণার অমুক স্থানে অবস্থিত, তা আমাকে চাষ করার জন্য দিয়েছে। এই জমির নাম চিহ্ন এবং চতুর্সীমা, যাহার একদিক ঐ জমির সাথে এবং দ্বিতীয় এবং তৃতীয় এবং চতুর্থ সীমা এভাবে অমুক স্থানের সাথে মিলিত। তুমি এই তপসিলের জমি, এর সমস্ত হক, পানির অংশ নালা এবং নহরসহ আমকে দিয়েছ। এই জমি এখন খালি, পরিষ্কার, এতে গাছ এবং শস্য নেই। পূর্ণ এক বছরের জন্য এটা দিয়েছ যা অমুক মাসের চাঁদ দেখার সাথে সাথে শুরু হইয়া অমুক বছরের অমুক মাসের শেষ দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে। এই শর্তে যে, আমি উপরোক্ত তপসিলের জমিতে যখনই ইচ্ছা করবো এবং যা ইচ্ছা চাষ করিতে পারবো। যেমন গম ও যব অথবা ধান-তুলা, তরিতরকারির বাগান বা বুট, মসুর, খিরাই, তরমুজ, গাজর, শালগম, মূলা, পিঁয়াজ, রসুন, শাক যে কোন প্রকার ফুল গাছ বা চারা ইত্যাদি। যে ফসলই হোক, তা শীতকালে হোক অথবা গ্রীষ্মকালে বপন করিতে পারবো। কিন্তু বীজ ও চারা তোমার দায়িত্বে থাকিবে। আমার কাজ শুধু চাষাবাদ করা, তাতে আমি আমার ইচ্ছামত সহযোগী শ্রমিক, গরু-লাঙ্গল ইত্যাদি ব্যবহার করে জমি চাষ করা, আবাদ করা, জমিকে ঠিক করা, হাল চালান, আগাছা পরিষ্কার করা, যেখানে পানি দেয়া আবশ্যক হয় তাতে পানি দেওয়া; যেখানে সারের প্রয়োজন তথায় সার দেওয়া, দরকার হলে নালা খনন করা, ফল সংগ্রহ করা, যে ফল কাটার মত হয়, তা কাটা, পরিষ্কার করা সবই আমার দায়িত্বে থাকিবে। কিন্তু যা খরচ হইবে, তা তোমাকে বহন করিতে হইবে। হ্যাঁ, কাজ, শ্রম আমার পক্ষ হইতে এবং আমার লোকদের পক্ষ হইতে, তোমার পক্ষ হইতে নয়, এই শর্তে যে, আল্লাহ তাআলা এই কাজের পর ঐ মুদ্দতের মধ্যে যা দান করবেন, তা হইতে চার ভাগের তিন ভাগ জমি, পানি, বীজ এবং খরচের বিনিময়ে তোমার থাকিবে। অবশিষ্ট চার ভাগের এক ভাগ চাষ, কাজ, মেহনত –এর বদলে আমার থাকিবে। উপরিউক্ত তপসিলভুক্ত এই জমি এর যাবতীয় অধিকার ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদিসহ তুমি আমাকে দিলে, আর আমি তা অমুক দিন, অমুক মাস এবং অমুক বছর হইতে গ্রহণ করলাম। এখন এই জমি আমার অধিকারে এলো। তবুও এতে আমার কোন মালিকানা স্বত্ব নেই, আর এতে আমার কোন দাবিও নেই। শুধু কৃষি করার জন্য তুমি আমাকে দিলে, যা এই কাগজে উল্লেখ রয়েছে। আর আমি অমুক বছরের অমুক মাসের অমুক দিন হইতে কর্তৃত্ব গ্রহণ করলাম। এ সময় শেষ হলে, আমি এ জমি তোমাকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য থাকব। আর মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্র এ জমি আমার ও আমার লোকদের থেকে মুক্ত করে নেওয়ার এখতিয়ার তোমার থাকিবে।

এতে উভয় পক্ষের তসদীক ও দস্তখত থাকিবে এবং এর দুটি কপি করা হইবে।

৪.পরিচ্ছেদঃ বর্গাচাষ সম্পর্কে বর্ণিত ভাষাগত বিভিন্নতা

৩৯২৮. ইবনি আওন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ মুহাম্মদ [saঃ] বলিতেনঃ আমার নিকট জমির বিষয়টা মুযারাবার {১} মূলধনের মত, মুযারাবার মূলধনে যা বৈধ, তা জমিতে বৈধ। যা মুযারাবার মালে অবৈধ, তা জমিতেও অবৈধ। তিনি বলিতেনঃ আমার নিকট এতে কোন ক্ষতি নেই। তিনি তাহাঁর সমস্ত জমিই কৃষকের হাওলা করেন, এ শর্তে যে, সে নিজে এবং তার সন্তানগণ অন্যদের সহযোগিতা নিয়ে নিজ গরু দ্বারা তাতে চাষ করিবে কিন্তু খরচ তার যিম্মায় থাকিবে না। সমস্ত খরচ জমির মালিকের দিতে হইবে।

{১} লাভ-লোকসানের সুনির্দিষ্ট হারে একজনের মূলধন দ্বারা অন্যজন ব্যবসা করলে তাকে মুযারাবা বলে।বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৩৯২৯. ইবনি উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খায়বরের ইয়াহুদীদেরকে সেখানকার খেজুরগাছ গাছ দান করিলেন এবং জমিও দান করিলেন; যেন তারা নিজ খরচে সেখানে চাষাবাদ করে। যা সেখানে উৎপন্ন হইবে, তাতে আমাদেরও অর্ধাংশ থাকিবে।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯৩০. ইবনি উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] খায়বরের ইয়াহুদীদেরকে সেখানকার খেজুরগাছ এবং জমি দান করেন এ শর্তে যে, তারা সেখানে নিজেদের খরচে পরিশ্রম করে যা উৎপন্ন করিবে, তার অর্ধেক রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে দিতে হইবে।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯৩১. নাফে [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাঃআঃ] বলিতেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সময়ে আমরা জমি কেরায়া দিতাম এই শর্তে যে, তাতে যা উৎপন্ন হইবে এবং কিছু ঘাস যাহার পরিমাণ আমার জানা নেই, মালিক পাবে।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯৩২. আবদুর রহমান ইবনি আসওয়াদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমার দুই চাচা উৎপন্ন দ্রব্যের এক-তৃতীয়াংশ ও এক-চতুর্থাংশের বিনিময়ে চাষ করিতেন। আমি তাহাদের উভয়ের সাথে শরীক ছিলাম, আর আলকামা এবং আসওয়াদ [রাঃআঃ] -ও একথা জানিতেন, তবুও তাঁরা কিছু বলিতেন না।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ জইফ হাদীস

৩৯৩৩. সাঈদ ইবনি জুবায়র [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] বলেনঃ তোমরা যে স্বর্ণ-রৌপ্যের বিনিময়ে জমি কেরায়া দাও, তা বড় উত্তম কাজ।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ মাওকুফ

৩৯৩৪. ইবরাহীম এবং সাঈদ ইবনি জুবায়র [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁরা জমি কেরায়া দেওয়াকে মন্দ মনে করিতেন না।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ মাকতু

৩৯৩৫. মুহাম্মদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ কুফার কাযী শুরায়হ মুযারাবা চুক্তির ব্যবসায় দুই ধরণের আদেশ করিতেন। কখনও তিনি মূলধন গ্রহীতাকে বলিতেনঃ তুমি এমন কোন বিষয়ের পক্ষে তুমি সাক্ষী পেশ কর যাতে তোমাকে নিষ্কৃতি দেওয়া যায় এবং তোমাকে ক্ষতিপূরণ দিতে না হয়। আর কোন সময় তিনি মূলধনের মালিককে বলিতেনঃ তুমি এই কথার সাক্ষী দান কর যে, মূলধন গ্রহীতা খেয়ানত করেছে, অথবা তুমি তার থেকে আল্লাহর শপথ নাও যে, সে তোমার খেয়ানত করেনি।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ মাকতু

৩৯৩৬. সাঈদ ইবনি মুসাইয়্যাব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খালি জমি সোনা-রূপার বিনিময়ে কেরায়া দেয়াতে কোন দোষ নেই। যে ব্যক্তি কাউকে মুযারাবা হিসেবে কিছু দেবে, তখন তার উচিত হইবে কিছু লিখে রাখা এবং তা এভাবে লিখবেঃ ইহা ঐ লিখিত স্বীকারোক্তি যা অমুকের পুত্র অমুক স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে লিখেছে এবং অমুকের পুত্র অমুককে প্রদান করেছে। এই মর্মে যে, অমুক সালের অমুক মাস আরম্ভ হলে তুমি আমাকে খাঁটি দশ হাজার দিরহাম প্রদান করেছ এই শর্তে যে, আমি প্রকাশ্যে এবং অপ্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করবো এবং আমানত রক্ষা করবো। আর এই শর্তে যে, এই দিরহাম দ্বারা যা ইচ্ছা তা ক্রয় করবো, যেখানে ইচ্ছা ব্যয় করবো এবং যেখান থেকে ইচ্ছা ব্যয় করবো এবং যেখান থেকে ইচ্ছা উঠিয়ে নেব, খরিদকৃত মাল হইতে যা ইচ্ছা তা নগদ বা বাকী বিক্রি করবো, আর নিজের ইচ্ছায় টাকা বা অন্য মাল নেব। আর যাকে ইচ্ছা আমি উকিল নির্বাচন করবো। তুমি যেমন দিয়েছ, যা লিখিত আছে, তাতে আল্লাহ যে মুনাফা দেবেন, তা আমাদের উভয়ের মধ্যে আধাআধি হারে বন্টিত হইবে। তুমি তোমার মালের বিনিময়ে এবং আমি আমার মেহনত ও শ্রমের বিনিময়ে আধাআধি পাব। আর যদি ব্যবসায়ে ক্ষতি হয়, তবে তা তোমার মূলধন থেকে যাবে। এই শর্তে আমি এই দশ হাজার দিরহাম তোমার থেকে গ্রহণ করলাম। অমুক সালের অমুক তারিখ হইতে এই মাল মুযারাবাত হিসেবে আমার দায়িত্বে এলো। অমুক অমুক ব্যক্তি এ কথার অঙ্গীকার করলো। যদি সম্পদের মালিক এই ইচ্ছা করে যে, সে ব্যক্তি বাকীতে মাল বেচাকেনা করিবে না, তবে এভাবে লিখবে যে, তুমি আমাকে বাকীতে বেচাকেনা করিতে নিষেধ করলে।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল মাকতু

৫.পরিচ্ছেদঃ শারিকাতুল ইনান [অসম অংশীদারি কারবার] —এর চুক্তিপত্র

শারিকাতুল ইনান এমন যৌথ কারবারকে বলে, যাতে সকল শরীকের মূলধন বা দায়িত্ব-কর্তব্য, কিংবা মুনাফার অংশ সমান হয় না এবং অংশীদারগণ একে অপরের প্রতিনিধি হয়, যামিনদার হয় না।

এটি ঐ চুক্তিনামা, যাতে অমুক, অমুক ও অমুকের শরীকী কারবারের বিবরণ রয়েছে। যা তারা স্বজ্ঞানে, স্বেচ্ছায় ত্রিশ হাজার খাঁটি দিরহামের শরীকী কারবারের ব্যাপারে লিখেছে। তাহাদের এ যৌথ কারবার ইনান জাতীয়, মুফাওয়াযা জাতীয় নয়। তাহাদের প্রত্যেকে দশ হাজার দিরহাম করে দিয়েছে। তাতে মোট ত্রিশ হাজার হইয়াছে। তার প্রতি দশ দিরহাম সাত মিসকাল ওজনের। এখন প্রত্যেকের হাতে ঐ মিশ্রিত দিরহামের তৃতীয়াংশ রয়েছে। এরা প্রত্যেকে আল্লাহকে ভয় করে, প্রত্যেকে অন্যের আমানত আদায় করার ব্যাপারে যত্নবান থেকে পরিশ্রম করিবে এবং মিলেমিশে মাল ক্রয় করিবে এবং যে মালের ব্যবসা করার ইচ্ছা করিবে, সেই মাল নগদ বা বাকীতে ক্রয় করিতে পারবে। আর যদি পৃথক পৃথকভাবে অথবা একত্রে ক্রয় করে, তবুও তা সকলের উপর প্রযোজ্য হইবে। এক্ষেত্রে তাহাদের কোন একজনের উপর কোন দায় বর্তালে তা অপর দুই শরীকের উপরেও বর্তাবে। পরে আল্লাহ যা লাভ দেবেন, তা এ দলীলে বর্ণিত মূলধন অনুযায়ী সমহারে অংশীদারদের মধ্যে বন্টন হইবে। আর যদি ক্ষতি হয়, তবে তা-ও মূলধনের ন্যায় সবার উপর বর্তাবে। এই চুক্তিপত্রের তিন কপি একই রকম একই শব্দের সাথে লিখে প্রত্যেক অংশীদারকে দলীল স্বরূপ দেয়া হইবে এবং এতে প্রত্যেকের স্বাক্ষর নিতে হইবে।

৬.পরিচ্ছেদঃ শারিকাতুল মুফাওয়াযা [সমঅংশীদারি কারবার ] -এর চুক্তিপত্র

শারিকাতুল-মুফাওয়াযা [সমঅংশীদারি কারবার] বলে এমন যৌথ ব্যবসাকে, যাতে সকল অংশীদারের মূলধন, লাভ-লোকসান ও দায়-দায়িত্ব সমান হয় এবং তাহাদের প্রত্যেকে একে অন্যের প্রতিনিধি ও যামিনদার হয়।

আল্লাহ তাআলার বাণীঃ {আরবি} অর্থঃ হে ঈমানদারগণ! তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ করিবে। ইহা ঐ চুক্তিনামা, যাহার মাধ্যমে অমুক, অমুক, অমুক এবং অমুক ব্যক্তি অংশীদার হইবে ঐ মূলধনে যা তারা একই শ্রেণীর মুদ্রায় জমা করার পর, মিলিয়ে ফেলেছে এবং তা তাহাদের নিকট মিশ্রিতাকারে আছে। ফলে তা পৃথকভাবে চেনা যায় না; এতে সকলের অংশ ও অধিকার সমান। অল্প বিস্তর যাই হোক, এতে তারা সকলে সমভাবে কাজ করিবে তা বেচাকেনা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যে কোন কারবারই হোক না কেন। এমনিও তা নগদ হোক বা বাকী, সকলে মিলে হোক বা একাকী ক্রয়-বিক্রয় করিবে। আর এই অংশীদারিত্বের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যেক শরীকের হক বা দেনা প্রত্যেকের উপর বর্তাবে, যাদের নাম ঐ চুক্তিপত্রে উল্লেখ রয়েছে। যদি আল্লাহ তাআলা সকলকে অথবা একজনকে লাভ দেন, তবে তা সকলের মধ্যে সমানভাব বন্টিত হইবে। আর ক্ষতিও সকলের উপর বর্তাবে। আর ঐ বর্ণিত ব্যক্তিগণ প্রত্যেকেই একে অন্যকে উকিল নিযুক্ত করলো। প্রত্যেকের পাওনা আদায় করা, ফরয আদায় করা বা মামলা ও আদায়ের উত্তর দেয়ার জন্য এবং প্রত্যেকে অন্যকে নিজের মৃত্যুর পর করয আদায়, ওসীয়ত পূর্ণ করা ইত্যাদির ব্যাপারে স্বীয় উকিল নিযুক্ত করলো। প্রত্যেকেই অন্যের কাজ স্বীকার করলো, অমুক, অমুক, অমুক এবং অমুক ব্যক্তি এ সকল কথার অঙ্গীকার করলো। অতঃপর তারা সকলে এতে দস্তখত করিবে।

৭.পরিচ্ছেদঃ শারীরিকভাবে শরীক হওয়া

৩৯৩৭. আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বদর যুদ্ধের দিন আমি, আম্মার এবং সাদ এ কথায় শরীক হলাম যে, আমরা যা পাব তা নিজেদের মধ্যে বন্টন করে নেব। সাদ [রাঃআঃ] দুজন কয়েদী পেলেন, আর আমি এবং আম্মার কিছুই পেলাম না।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ জইফ হাদীস

৩৯৩৮. যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

বলেনঃ যখন দুই গোলাম শিরকতে মুফাওযা১ করে, পরে একজন মুকাতাব হইয়া যায়। তিনি বলেনঃ ইহা বৈধ হইবে যখন একজন অন্যজনের পক্ষ হইতে আদায় করিবে।

শিরকাত মুফাওযা হলো — যাতে শরীকগণ সম্পদ -এর ব্যবহার এবং দেনার ব্যাপারে সমান।

বর্গাচাষ হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ মাকতু

৮.পরিচ্ছেদঃ অংশীদারদের একজনের অংশ ত্যাগ করা

এই চুক্তিনামা অমুক, অমুক, অমুক এবং অমুক ব্যক্তি লিখেছে, এরা সকলে অঙ্গীকার করলো, আপন অন্য সাথীদের জন্য যাদের নাম এই চুক্তিনামায় লেখা রয়েছে। স্বজ্ঞানে, স্বেচ্ছায় যে, আমরা সকলে যে ব্যবসা, ক্রয়-বিক্রয়, শরীকী লেনদেন, করয, আমানত, মুযারাবাত ধার, কৃষি এবং কেরায়া ইত্যাদি শরীকীভাবে আরম্ভ করেছি, এ সকল নিজের ইচ্ছায় ত্যাগ করলাম। আর যে শরীকী কারবারে এখন পর্যন্ত জড়িত আছি, তা পরিত্যাগ করলাম। মাল ও ব্যবসায়ের প্রত্যেক ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্নভাবে বর্ণনা করলাম। আর এর সীমা ও পরিমাণ পৃথক পৃথক ঠিক করলাম। আমরা প্রত্যেকে নিজেদের পূর্ণ অংশ নিজের আয়ত্বে নিলাম। এখন আমাদের কারো অন্যের উপর কোন দাবি-দাওয়া নেই। কেননা প্রত্যেকেই নিজের প্রাপ্য বুঝে পেয়েছে। এখম অমুক, অমুক, অমুক এবং অমুক ব্যক্তি এর তসদীক ও দস্তখত করিল।

৯.পরিচ্ছেদঃ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন হলে কিরূপে লিখবে

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ স্ত্রীদেরকে তোমরা যা দিয়েছ, তার থেকে কোন কিছু গ্রহণ করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়; অবশ্য যদি তাহাদের উভয়ের এই ভয় হয় যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা ঠিক রাখতে পারবে না। আর তোমারা যদি আশংকা কর যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না; তবে স্ত্রী যদি কোন কিছুর বিনিময়ে নিজেকে মুক্ত করে নিতে চায়, তাতে তাহাদের কারো কোন অপরাধ নেই। [২ঃ ২২৯] লিখিত চুক্তিনামা। যা অমুকের কন্যা অমুক অমুকের পুত্র অমুককে সজ্ঞানে, স্বেচ্ছায় লিখে দিয়েছে যে, আমি তোমার স্ত্রী ছিলাম, তুমি আমার সাথে সহবাস করেছ এবং মিলিত হইয়াছ। এখন তোমার সাথে থাকা আমি পছন্দ করি না, বরং আমি তোমার থেকে পৃথক হওয়া কামনা করি। তুমি আমার কোন ক্ষতি করনি এবং তোমার উপর আমার যে হক ছিল তা হইতে আমাকে বঞ্চিত করনি। যখন আমি আল্লাহর সীমালঙ্ঘনের ভয় করেছি, তখন তোমাকে অনুরোধ করেছি যে, তুমি আমার সাথে খোলা কর এবং আমাকে এক তালাক বায়েন দিয়ে দাও, আমার ঐ মাহরের বিনিময়ে যা তোমার নিকট রয়েছে। আর তা এত দীনার অথবা মিসকাল হইবে। আর তা ব্যতীত আমি তোমাকে যে এত দীনার দান করেছি, তারও বিনিময়ে। সুতরাং তুমি আমার যে অনুরোধ রক্ষা করেছ ঐ মাহরের বিনিময়ে যা উপরে লিখিত হইয়াছে, তা ব্যতীত সেই দীনারের বিনিময়ে, যা উপরে উল্লেখ করা হইয়াছে; আর তুমি আমাকে এক তালাক বায়েন দিয়েছ, আর তোমার সামনে আমি তা গ্রহণ করেছি, যখন তুমি আমার সাথে কথা বলেছো আর আমি তোমার কথার উত্তর দিয়েছি আমাদের কথা শেষ হওয়ার পূর্বে। যে টাকার বিনিময়ে তুমি আমাকে খোলা করলে, ঐ সকল টাকা আমি তোমাকে দিয়ে দিলাম। এখন আমি তোমার থেকে পৃথক হলাম। আমি এখন নিজের ইচ্ছায় কাজ করিতে পারবো, ঐ খোলার কারণে, যা উপরে বর্ণিত হলো। এখন আমার উপর তোমার কোন ক্ষমতা চলবে না, আর কোন দাবিও না এবং তোমার পুনরায় আমাকে গ্রহণ করার ক্ষমতাও নেই। আর আমার মত স্ত্রীর যা পাওনা থাকে, আমি সবই তোমার থেকে পেয়েছি। অর্থাৎ খরপোষ এবং ইদ্দত ইত্যাদি। এখন হইতে আমাদের মধ্যে কারো অন্যের উপর কোন হক নেই, দাবিও নেই। যদি কেউ কোন দাবি করে, তবে তা বাতিল বলে গণ্য হইবে এবং অপরপক্ষ তার সে দাবি-দাওয়া থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকিবে। আমরা প্রত্যেকে গ্রহণ করে নিলাম যা অপরপক্ষ স্বীকার করেছে এবং যাহার দায় থেকে অপরপক্ষ মুক্তিদান করেছে। যা চুক্তিপত্রে লেখা হইয়াছে সামনা-সামনি আলাপ-আলোচনার সময়, এই মজলিস হইতে উঠে যাওয়ার পূর্বেই, যে মজলিসে আমাদের উভয়ের অঙ্গীকার হলো। তারপর উভয় পক্ষ এতে দস্তখত করিবে।

১০.পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসীকে মুকাতাব বানানোর চুক্তিপত্র

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ আর তোমাদের মালিকাধীন দাস-দাসীদের মধ্যে কেউ তার মুক্তির জন্য লিখিত চুক্তি করিতে চাইলে, তাহাদের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হও, যদি তোমরা তাহাদের মধ্যে মঙ্গলের সন্ধান পাও। [২৪ঃ ৩৩] ইহা ঐ অঙ্গীকারনামা, যা অমুকের পুত্র অমুক স্বজ্ঞানে, স্বেচ্ছায় তার অমুক গোত্রীয় অমুক নামের গোলামের জন্য লিপিবদ্ধ করেছে, যে আজ পর্যন্ত মালিকানাধীন ছিল। আমি তোমাকে পূর্ণ তিন হাজার খাঁটি দিরহাম -এর বিনিময়ে মুকাতাব করলাম, যাহার প্রতি দশ দিরহামের ওজন সাত মিসকালের সমান; আর তা ছয় বছরে কিস্তিতে আদায় করা হইবে। প্রথম কিস্তি অমুক বছরের অমুক মাসের চাঁদ দেখার সাথে সাথে দেয়া হইবে। যদি উল্লেখিত টাকা বরাবর কিস্তিতে আদায় করা হয়, তবে তুমি মুক্ত। আর তখন তোমার জন্য ঐ সকল কথা বৈধ, যা একজন আযাদ ব্যক্তির জন্য বৈধ হইয়া থাকে। আর তোমার উপর তা বর্তাবে, যা তাহাদের উপর বর্তায়। যদি তুমি তা সময়মত আদায় করিতে না পার, তবে এই চুক্তিনামা বাতিল হইয়া যাবে এবং তুমি পুনরায় দাস হিসেবে গণ্য হইবে। আর আমি এই পত্রে ঐ সকল শর্তে তোমার কিতাবাত গ্রহণ করলাম, আমার কথা শেষ হওয়ার পূর্বে এবং মজলিস শেষ হওয়ার পূর্বে এই চুক্তিনামায় লেখা হইয়াছে। তারপর উভয়ে তাতে দস্তখত করিবে।

১১.পরিচ্ছেদঃ মুদাব্বার বানানোর চুক্তিপত্র

এই অঙ্গীকার পত্র অমুকের পুত্র অমুক নিজের অমুক নামের দাস সম্পর্কে লিখছে, যে রুটি বানাতো এবং রান্নার কাজ করতো এবং চুক্তিকালে সে তার স্বত্ত্বাধীনে ছিল। আমি সওয়াবের নিয়্যতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তোমাকে মুদাব্বার করলাম, এখন আমার মৃত্যুর পর তুমি মুক্ত হইবে। তোমার উপর কারো কোন কর্তৃত্ব থাকিবে না, কিন্তু মীরাস আমার এবং আমার ওয়ারিসদের জন্য থাকিবে। অমুকের পুত্র অমুক এই চুক্তিপত্রে যা লেখা থাকে তা চুক্তিপত্রে বর্ণিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার সামনে পঠিত হওয়ার পর স্বেচ্ছায়-সজ্ঞানে এবং তারপক্ষ হইতে এর অনুমোদন স্বরূপ তা স্বীকার করে নিয়েছে। সে তাহাদের সামনে স্বীকার করিল যে, আমি এই পত্র শুনলাম, বুঝলাম এবং আমি এর উপর আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি। আর আল্লাহ তাআলাই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট। আর তারপর ঐ সকল সাক্ষী যারা এখানে উপস্থিত রয়েছে। অমুক বাবুর্চি গোলাম সুস্থ শরীরে স্বজ্ঞানে এই অঙ্গীকার করছে যে, যা এই চুক্তিনামায় উল্লেখ করা হইয়াছে, তা সবই সঠিক।

By ইমাম নাসাঈ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply