বনী ইসরাঈল আসহাবে কাহাফ ও রাকীম সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

বনী ইসরাঈল আসহাবে কাহাফ ও রাকীম সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

বনী ইসরাঈল আসহাবে কাহাফ ও রাকীম সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে >> বুখারী শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ৬০, আম্বিয়া কিরাম, অধ্যায়ঃ (৫০-৫৪)=৫টি

৬০/৫০. অধ্যায়ঃ বনী ইসরাঈল সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
৬০/৫১. অধ্যায়ঃ বনী ইসরাঈলের শ্বেতওয়ালা, টাকওয়ালা ও অন্ধের হাদীস।
৬০/৫২. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণীঃ আসহাবে কাহাফ ও রাকীম সম্পর্কে আপনার কী ধারণা? (আত তওবা ১৮)
৬০/৫৩. অধ্যায়ঃ গুহার ঘটনা।
৬০/৫৪. অধ্যায়ঃ

৬০/৫০. অধ্যায়ঃ বনী ইসরাঈল সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

৩৪৫০

উকবা ইবনু আমর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

উকবা ইবনু আমর (রাদি.) হুযাইফাহ (রাদি.)-কে বলিলেন, আপনি আল্লাহর, রাসুল (সাঃআঃ) হইতে যা শুনেছেন, তা কি আমাদের বর্ণনা করবেন না? তিনি জবাব দিলেন, আমি তাঁকে বলিতে শুনিয়াছি, যখন দাজ্জাল বের হইবে তখন তার সঙ্গে পানি ও আগুন থাকবে। অতঃপর মানুষ যাকে আগুনের মত দেখবে তা হইবে মূলতঃ ঠান্ডা পানি। আর যাকে ঠান্ডা পানির মত দেখবে, তা হইবে আসলে দহনকারী অগ্নি। তখন তোমাদের মধ্যে যে তার দেখা পাবে, সে যেন অবশ্যই তাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে যাকে সে আগুনের মত দেখিতে পাবে। কেননা, আসলে তা সুস্বাদু শীতল পানি।

৩৪৫১

See previous Hadith

হুযায়ফা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

হুযায়ফা (রাদি.) বলেন, আমি বলিতে শুনিয়াছি, তোমাদের পূর্ববর্তীদের মাঝে জনৈক ব্যক্তি ছিল। তার নিকট ফেরেশতা তার জান কবয করার জন্য এসেছিলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো। তুমি কি কোন ভাল কাজ করেছ? সে জবাব দিল, আমার জানা নেই। তাকে বলা হলো, একটু চিন্তা করে দেখ। সে বলিল, এ জিনিসটি ব্যতীত আমার আর কিছু জানা নেই যে, দুনিয়াতে আমি মানুষের সঙ্গে ব্যবসা করতাম। অর্থাৎ ঋণ দিতাম। আর তা আদায়ের জন্য তাদেরকে তাগাদা করতাম। আদায় না করিতে পারলে আমি সচ্ছল লোককে সময় দিতাম আর অভাবী লোককে ক্ষমা করে দিতাম। তখন আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন।

৩৪৫২

See previous Hadith

হুযায়ফা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

হুযায়ফা (রাদি.) বলিলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-কে এটাও বলিতে শুনিয়াছি যে, কোন এক ব্যক্তির মৃত্যুর সময় হাযির হল। যখন সে জীবন হইতে নিরাশ হয়ে গেল। তখন সে তার পরিজনকে ওসীয়াত করিল, আমি যখন মরে যাব তখন আমার জন্য অনেকগুলো কাষ্ঠ একত্র করে তাতে আগুন জ্বালিয়ে দিও। আগুন যখন আমার গোশত খেয়ে ফেলবে এবং আমার হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে আর আমার হাড়গুলো বেরিয়ে আসবে, তখন তোমরা তা পিষে ফেলবে। অতঃপর যেদিন দেখবে খুব হাওয়া বইছে, তখন সেই ছাইগুলোকে উড়িয়ে দেব। তার স্বজনেরা তাই করিল। অতঃপর আল্লাহ সে সব একত্র করিলেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করিলেন, এ কাজ তুমি কেন করলে? সে জবাব দিল, আপনার ভয়ে। তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। উক্‌বাহ ইবনু আমর (রাদি.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি যে ঐ ব্যক্তি ছিল কাফন চোর।

৩৪৫৩

আয়েশা ও ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তারা উভয়ে বলেন, যখন আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হল তখন তিনি স্বীয় মুখমণ্ডলের উপর তাহাঁর একখানা চাদর দিয়ে রাখলেন। অতঃপর যখন খারাপ লাগল, তখন তাহাঁর চেহারা হইতে তা সরিয়ে দিলেন এবং তিনি এ অবস্থায়ই বলিলেন, ইয়াহূদী ও নাসারাদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ। তারা তাদের নাবী‎গণের কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছে। তারা যা করেছে তা হইতে নাবী‎ (সাঃআঃ) মুসলিমদেরকে সতর্ক করছেন।

৩৪৫৪

আয়েশা ও ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তারা উভয়ে বলেন, যখন আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হল তখন তিনি স্বীয় মুখমণ্ডলের উপর তাহাঁর একখানা চাদর দিয়ে রাখলেন। অতঃপর যখন খারাপ লাগল, তখন তাহাঁর চেহারা হইতে তা সরিয়ে দিলেন এবং তিনি এ অবস্থায়ই বলিলেন, ইয়াহূদী ও নাসারাদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ। তারা তাদের নাবী‎গণের কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছে। তারা যা করেছে তা হইতে নাবী‎ (সাঃআঃ) মুসলিমদেরকে সতর্ক করছেন।

৩৪৫৫

আবু হাযিম (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি পাঁচ বছর যাবৎ আবু হুরাইরা (রাদি.)-এর সাহচর্যে ছিলাম। তখন আমি তাঁকে নাবী‎ (সাঃআঃ) হইতে হাদীস বর্ণনা করিতে শুনিয়াছি যে, নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেছেন, বনী ইসরাঈলের নাবী‎গণ তাঁদের উম্মতদের শাসন করিতেন। যখন কোন একজন নাবী‎ মারা যেতেন, তখন অন্য একজন নাবী‎ তাহাঁর স্থলাভিসিক্ত হইতেন। আর আমার পরে কোন নাবী‎ নেই। তবে অনেক খলীফাহ হইবে। সাহাবগণ আরয করিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমাদেরকে কী নির্দেশ করছেন? তিনি বলিলেন, তোমরা একের পর এক করে তাদের বায়আতের হক আদায় করিবে। তোমাদের উপর তাদের যে হক রয়েছে তা আদায় করিবে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করবেন ঐ সকল বিষয়ে যে সবের দায়িত্ব তাদের উপর অর্পণ করা হয়েছিল।

৩৪৫৬

আবু সাঈদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেছেন, তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের পন্থা পুরোপুরি অনুসরণ করিবে, প্রতি বিঘতে বিঘতে এবং প্রতি গজে গজে। এমনকি তারা যদি গো সাপের গর্তেও ঢুকে তবে তোমরাও তাতে ঢুকবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি ইয়াহূদী ও নাসারার কথা বলছেন? নাবী‎ (সাঃআঃ) বলিলেন, তবে আর কার কথা?

৩৪৫৭

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তাঁরা আগুন জ্বালানো এবং ঘন্টা বাজানোর কথা উল্লেখ করিলেন। তখনই তাঁরা ইয়াহূদী ও নাসারার কথা উল্লেখ করিলেন। অতঃপর বিলাল (রাদি.)-কে আযানের শব্দগুলো দুদু বার করে এবং ইকামাতের শব্দগুলো বেজোড় করে বলিতে নির্দেশ দেয়া হল।

৩৪৫৮

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি কোমরে হাত রাখাকে অপছন্দ করিতেন। আর বলিতেন, ইয়াহূদীরা এমন করে। শুবা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমাশ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে হাদীস বর্ণনায় সুফিয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর অনুসরণ করিয়াছেন।

৩৪৫৯

ইবনু উমর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেন, তোমাদেরও পূর্বের যেসব উম্মত অতীত হয়ে গেছে তাদের অনুপাতে তোমাদের অবস্থান হলো আসরের সালাত এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার মধ্যবর্তী সময়টুকুর সমান। আর তোমাদের ও ইয়াহূদী নাসারাদের দৃষ্টান্ত হলো ঐ ব্যক্তির মতো, যে কয়েকজন লোককে তার কাজে লাগালো এবং জিজ্ঞেস করিল, তোমাদের মধ্যে কে আছে যে, আমার জন্য দুপুর পর্যন্ত এক কিরাতের [১] বিনিময়ে কাজ করিবে? তখন ইয়াহূদীরা এক এক কিরাতের বিনিময়ে দুপুর পর্যন্ত কাজ করিল। অতঃপর সে ব্যক্তি আবার বলিল, তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে, সে দুপুর হইতে আসরের সালাত পর্যন্ত এক এক কিরাতের বিনিময়ে আমার কাজটুকু করে দিবে? তখন নাসারারা এক কিরাতের বিনিময়ে দুপুর হইতে আসর সালাত পর্যন্ত কাজ করিল। সে ব্যক্তি আবার বলিল, কে এমন আছ, যে দু দু কিরাতের বদলায় আসর সালাত হইতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমার কাজ করে দিবে? আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলিলেন, দেখ, তোমরাই হলে সে সব লোক যারা আসর সালাত হইতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দু দু কিরাতের বিনিময়ে কাজ করলে। দেখ, তোমাদের পারিশ্রমিক দ্বিগুণ। এতে ইয়াহূদী ও নাসারারা অসন্তুষ্ট হয়ে গেল এবং বলিল, আমরা কাজ করলাম অধিক আর মজুরি পেলাম কম। আল্লাহ বলেন, আমি কি তোমার পাওনা হইতে কিছু যুল্‌ম বা কম করেছি? তারা উত্তরে বলিল, না। তখন আল্লাহ বলিলেন, এটা হলো আমার অনুগ্রহ, আমি যাকে ইচ্ছা, তা দান করে থাকি।

[১] কিরাত হল তৎকালীন মুদ্রা বিশেষের নাম।

৩৪৬০

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, উমর (রাদি.) বলেন, আল্লাহ অমুক লোককে ধংস করুক! সে কি জানে না যে, নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেছেন, আল্লাহ ইয়াহূদীদের ওপর লানত করুন। তাদের জন্য চর্বি হারাম করা হয়েছিল। তখন তারা তা গলিয়ে বিক্রি করিতে লাগল। জাবির ও আবু হুরাইরা (রাদি.) নাবী‎ (সাঃআঃ) হাদীস বর্ণনায় ইবনু আব্বাস (রাদি.)-এর অনুসরণ করিয়াছেন।

৩৪৬১

আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেছেন, আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, যদি তা এক আয়াতও হয়। আর বনী ইসরাঈলের ঘটনাবলী বর্ণনা কর। এতে কোন দোষ নেই। কিন্তু যে কেউ ইচ্ছা করে আমার উপর মিথ্যারোপ করিল, সে যেন জাহান্নামকেই তার ঠিকানা নির্দিষ্ট করে নিল।

৩৪৬২

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেন, ইয়াহূদী ও নাসারারা (দাড়ি-চুলে) রং লাগায় না। অতএব তোমরা তাদের বিপরীত কাজ কর।

৩৪৬৩

হাসান (বসরী) (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

জুনদুব ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.) বসরার এক মসজিদে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেন। সে দিন হইতে আমরা না হাদীস ভুলেছি না আশংকা করেছি যে, জুনদুব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) নাবী‎ (সাঃআঃ)-এর প্রতি মিথ্যারোপ করিয়াছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেন, তোমাদের পূর্ব যুগে জনৈক ব্যক্তি আঘাত পেয়েছিল, তাতে কাতর হয়ে পড়েছিল। অতঃপর সে একটি ছুরি হাতে নিল এবং তা দিয়ে সে তার হাতটি কেটে ফেলল। ফলে রক্ত আর বন্ধ হল না। শেষ পর্যন্ত সে মারা গেল। মহান আল্লাহ বলেন, আমার বান্দাটি নিজেই প্রাণ দেয়ার ব্যাপারে আমার হইতে অগ্রগামী হল। কাজেই, আমি তার উপর জান্নাত হারাম করে দিলাম।

৬০/৫১. অধ্যায়ঃ বনী ইসরাঈলের শ্বেতওয়ালা, টাকওয়ালা ও অন্ধের হাদীস।

৩৪৬৪

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনেছেন, বনী ইসরাঈলের মধ্যে তিনজন লোক ছিল। একজন শ্বেতরোগী, একজন মাথায় টাকওয়ালা আর একজন অন্ধ। মহান আল্লাহ তাদেরকে পরীক্ষা করিতে চাইলেন। কাজেই, তিনি তাদের নিকট একজন ফেরেশতা পাঠালেন। ফেরেশতা প্রথমে শ্বেত রোগীটির নিকট আসলেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করিলেন, তোমার নিকট কোন জিনিস অধিক প্রিয়? সে জবাব দিল, সুন্দর রং ও সুন্দর চামড়া। কেননা, মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। ফেরেশতা তার শরীরের উপর হাত বুলিয়ে দিলেন। ফলে তার রোগ সেরে গেল। তাকে সুন্দর রং ও চামড়া দান করা হল। অতঃপর ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞেস করিলেন, কোন ধরণের সম্পদ তোমার নিকট অধিক প্রিয়? সে জবাব দিল, উট অথবা সে বলিল, গরু। এ ব্যাপারে বর্ণনাকারীর সন্দেহ রয়েছে যে শ্বেতরোগী না টাকওয়ালা দুজনের একজন বলছিল উট আর অপরজন বলেছিল গরু। অতএব তাকে একটি দশমাসের গর্ভবতী উটনী দেয়া হল। তখন ফেরেশতা বলিলেন, “এতে তোমার জন্য বরকত হোক।” বর্ণনাকারী বলেন, ফেরেশতা টাকওয়ালার নিকট গেলেন এবং বলিলেন, তোমার নিকট কী জিনিস পছন্দনীয়? সে বলিল, সুন্দর চুল এবং আমার হইতে যেন এ রোগ চলে যায়। মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। বর্ণনাকারী বলেন, ফেরেশতা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তৎক্ষণাৎ মাথার টাক চলে গেল। তাকে সুন্দর চুল দেয়া হল। ফেরেশতা জিজ্ঞেস করিলেন, কোন সম্পদ তোমার নিকট অধিকপ্রিয়? সে জবাব দিল, গরু। অতঃপর তাকে একটি গর্ভবতী গাভী দান করিলেন। এবং ফেরেশতা দুআ করিলেন, এতে তোমাকে বরকত দান করা হোক। অতঃপর ফেরেশতা অন্ধের নিকট আসলেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করিলেন, কোন জিনিস তোমার নিকট অধিক প্রিয়? সে বলিল, আল্লাহ যেন আমার চোখের জ্যোতি ফিরিয়ে দেন, যাতে আমি মানুষকে দেখিতে পারি। নাবী‎ (সাঃআঃ) বলিলেন, তখন ফেরেশতা তার চোখের উপর হাত ফিরিয়ে দিলেন, তৎক্ষণাৎ আল্লাহ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। ফেরেশতা জিজ্ঞেস করিলেন, কোন সম্পদ তোমার নিকট অধিক প্রিয়? সে জবাব দিল ছাগল। তখন তিনি তাকে একটি গর্ভবতী ছাগী দিলেন। উপরে উল্লেখিত লোকদের পশুগুলো বাচ্চা দিল। ফলে একজনের উটে ময়দান ভরে গেল, অপরজনের গরুতে মাঠ পূর্ণ হয়ে গেল এবং আর একজনের ছাগলে উপত্যকা ভরে গেল। অতঃপর ওই ফেরেশতা তাহাঁর পূর্ববর্তী আকৃতি ধারণ করে শ্বেতরোগীর নিকটে এসে বলিলন, আমি একজন নিঃস্ব ব্যক্তি। আমার সফরের সম্বল শেষ হয়ে গেছে। আজ আমার গন্তব্য স্থানে পৌঁছার আল্লাহ ব্যতীত কোন উপায় নেই। আমি তোমার নিকট ঐ সত্তার নামে একটি উট চাচ্ছি, যিনি তোমাকে সুন্দর রং, কোমল চামড়া এবং সম্পদ দান করিয়াছেন। আমি এর উপর সওয়ার হয়ে আমার গন্তব্যে পৌঁছাব। তখন লোকটি তাকে বলিল, আমার উপর বহু দায়িত্ব রয়েছে। তখন ফেরেশতা তাকে বলিলেন, সম্ভবত আমি তোমাকে চিনি। তুমি কি একসময় শ্বেতরোগী ছিলেনা? মানুষ তোমাকে ঘৃণা করত। তুমি কি ফকীর ছিলে না? অতঃপর আল্লাহ তাআলা তোমাকে দান করিয়াছেন। তখন সে বলিল, আমি তো এ সম্পদ আমার পূর্ব পুরুষ হইতে ওয়ারিশ সূত্রে পেয়েছি। ফেরেশতা বলিলেন, তুমি যদি মিথ্যাচারী হও, তবে আল্লাহ তোমাকে সেরূপ করে দিন, যেমন তুমি ছিলে। অতঃপর ফেরেশতা মাথায় টাকওয়ালার নিকট তাহাঁর সেই বেশভূষা ও আকৃতিতে গেলেন এবং তাকে ঠিক তেমনই বলিলেন, যেরূপ তিনি শ্বেতরোগীকে বলেছিলেন। এও তাকে ঠিক অনুরূপ জবাব দিল যেমন জবাব দিয়েছিল শ্বেতরোগী। তখন ফেরেশতা বলিলেন, যদি তুমি মিথ্যাচারী হও, তবে আল্লাহ তোমাকে তেমন অবস্থায় করে দিন, যেমন তুমি ছিলে। শেষে ফেরেশতা অন্ধ লোকটির নিকট তাহাঁর আকৃতিতে আসলেন এবং বলিলেন, আমি একজন নিঃস্ব লোক, মুসাফির মানুষ; আমার সফরের সকল সম্বল শেষ হয়ে গেছে। আজ বাড়ি পৌঁছার ব্যাপারে আল্লাহ ব্যতীত কোন গতি নেই। তাই আমি তোমার নিকট সেই সত্তার নামে একটি ছাগী প্রার্থনা করছি যিনি তোমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন আর আমি এ ছাগীটি নিয়ে আমার এ সফরে বাড়ি পৌঁছাতে পারব। সে বলিল, প্রকৃতপক্ষেই আমি অন্ধ ছিলাম। আল্লাহ আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমি ফকীর ছিলাম। আল্লাহ আমাকে সম্পদশালী করিয়াছেন। এখন তুমি যা চাও নিয়ে যাও। আল্লাহর কসম। আল্লাহর জন্য তুমি যা কিছু নিবে, তার জন্য আজ আমি তোমার নিকট কোন প্রশংসাই দাবী করব না। তখন ফেরেশতা বলিলেন, তোমার সম্পদ তুমি রেখে দাও। তোমাদের তিনজনের পরীক্ষা নেয়া হল মাত্র। আল্লাহ তোমার উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তোমার সাথী দ্বয়ের উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন।

৬০/৫২. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণীঃ আসহাবে কাহাফ ও রাকীম সম্পর্কে আপনার কী ধারণা? (আত তওবা ১৮)

কিতাব —– শব্দটি —– হইতে উদ্ভূত, অর্থ লিপিবদ্ধ। ——— এর অর্থ, তাদের অন্তরে আমি (ধৈর্য্যের) প্রেরণা দিয়েছি। যদি আমি তার অন্তরে সহনশীলতার প্রেরণা প্রদান না করতাম। ——– অতিশয় অতিরিক্ত। ——– গুহার পাড়। এটা একবচন। এর বহুবচন ——– এবং ——— কেউ কেউ বলেন, ——- অর্থ দরজা। —– বন্ধ। এ অর্থেই ব্যবহার করা হয়। ————- আমি তাদের জীবিত করলাম। —- পবিত্র ও সুস্বাদু খাদ্য। অতঃপর আল্লাহ তাদের কানে ছাপ মেরে দিলেন। তারা ঘুমিয়ে পড়লো। ———– যা স্পষ্ট হলো না। আর মুজাহিদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন। —— তাদেরকে পাশ কেটে যায়।

৬০/৫৩. অধ্যায়ঃ গুহার ঘটনা।

৩৪৬৫

ইবনু উমর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেন, তোমাদের আগের যুগের লোকদের মধ্যে তিনজন লোক ছিল। তাঁরা পথ চলছিল। হঠাৎ তাদের বৃষ্টি পেয়ে গেল। তখন তারা এক গুহায় আশ্রয় নিল। অমনি তাদের গুহার মুখ বন্ধ হয়ে গেল। তাদের একজন অন্যদেরকে বলিলেন, বন্ধুগণ আল্লাহর কসম! এখন সত্য ব্যতীত কিছুই তোমাদেরকে রেহাই করিতে পারবে না। কাজেই, এখন তোমাদের প্রত্যেকের সেই জিনিসের উসিলায় দুআ করা দরকার, যে সম্পর্কে জানা রয়েছে যে, এ কাজটিতে সে সত্যতা আছে। তখন তাদের একজন দুআ করিলেন- হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে, আমার একজন মজদুর ছিল। সে এক ফারাক [১] চাউলের বিনিময়ে আমার কাজ করে দিয়েছিল। পরে সে মজুরী না নিয়েই চলে গিয়েছিল। আমি তার এ মজুরী দিয়ে কিছু একটা করার ইচ্ছা করলাম এবং কৃষি কাজে লাগালাম। এতে যা উৎপাদন হল, তার বিনিময়ে আমি একটি গাভী কিনলাম। সেই মজদুর আমার নিকট এসে তার মজুরী দাবী করিল। আমি তাকে বললাম, এ গাভীটির দিকে তাকাও এবং তা হাঁকিয়ে নিয়ে যাও। সে জবাব দিল, আমার আপনার নিকট মাত্র এক ফারাক চালই পাওনা। আমি তাকে বললাম গাভিটি নিয়ে যাও। কেননা সেই এক ফারাক দ্বারা যা উৎপাদিত হয়েছে, তারই বিনিময়ে এটি কেনা হয়েছে। তখন সে গাভীটি হাঁকিয়ে নিয়ে গেল। আপনি জানেন যে, তা আমি একমাত্র আপনার ভয়েই করেছি। তাহলে আমাদের হইতে সরিয়ে দিন। তখন তাদের নিকট হইতে পাথরটি কিছুটা সরে গেল। তাদের আরেকজন দুআ করিল, হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে, আমার মা-বাপ খুব বৃদ্ধ ছিলেন। আমি প্রতি রাতে তাঁদের জন্য আমার বকরীর দুধ নিয়ে তাঁদের নিকট যেতাম। এক রাতে তাদের নিকট যেতে আমি দেরী করে ফেললাম। অতঃপর এমন সময় গেলাম, যখন তাঁরা দুজনে ঘুমিয়ে পড়েছেন। এদিকে আমার পরিবার পরিজন ক্ষুধার কারণে চিৎকার করছিল। আমার মাতা-পিতাকে দুধ পান না করান পর্যন্ত ক্ষুধায় কাতর আমার সন্তানদেরকে দুধ পান করাইনি। কেননা, তাদেরকে ঘুম হইতে জাগানটি আমি পছন্দ করিনি। অপরদিকে তাদেরকে বাদ দিতেও ভাল লাগেনি। কারণ, এ দুধটুকু পান না করলে তাঁরা উভয়েই দুর্বল হয়ে যাবেন। তাই আমি ভোর হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলাম। আপনি জানেন যে, এ কাজ আমি করেছি, একমাত্র আপনার ভয়ে, তাই আমাদের হইতে সরিয়ে দিন। অতঃপর পাথরটি তাদের হইতে আরেকটু সরে গেল। এমন কি তারা আসমান দেখিতে পেল। অপর ব্যক্তি দুআ করিল, হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে আমার একটি চাচাত বোন ছিল। সবেচেয়ে সে আমার নিকট অধিক প্রিয় ছিল। আমি তার সঙ্গে বাসনা করছিলাম। কিন্তু সে একশ দীনার প্রদান ছাড়া ঐ কাজে রাজী হইতে চাইল না। আমি স্বর্ণ মুদ্রা অর্জনের চেষ্টা আরম্ভ করলাম এবং তা অর্জনে সমর্থও হলাম। অতঃপর কথিত মুদ্রাসহ তার নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে তা অর্পণ করলাম। সেও তার দেহ আমার জন্য অর্পণ করলো। আমি যখন তার দুই পায়ের মাঝে বসে পড়লাম তখন সে বলিল, আল্লাহকে ভয় কর, অন্যায় ও অবৈধভাবে পবিত্র ও রক্ষিত আবরুকে বিনষ্ট করোনা। আমি তৎক্ষণাৎ সরে পড়লাম ও স্বর্ণমুদ্রা ছেড়ে আসলাম। হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে, আমি প্রকৃতই আপনার ভয়ে তা করেছিলাম। তাই আমাদের রাস্তা প্রশস্ত করে দিন। আল্লাহ সংকট দূরীভূত করিলেন। তারা বের হয়ে আসল।

[১] ফারাক হল পরিমাপের পাত্র বিশেষ।

৬০/৫৪. অধ্যায়ঃ

৩৪৬৬

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি যে, একদা একজন মহিলা তার কোলের শিশুকে স্তন্য পান করাচ্ছিল। এমন সময় একজন ঘোড়সওয়ার তাদের নিকট দিয়ে গমন করে। মহিলাটি বলিল, হে আল্লাহ! আমার পুত্রকে এই ঘোড়সওয়ারের মত না বানিয়ে মৃত্যু দান করো না। তখন কোলের শিশুটি বলে উঠলো- হে আল্লাহ! আমাকে ঐ ঘোড়সওয়ারের মত করো না, এই বলে সে পুনরায় স্তন্য পানে লেগে গেল। অতঃপর একজন মহিলাকে কতিপয় লোক অপমানজনকভাবে বিদ্রুপ করিতে করিতে টেনে নিয়ে চলছিল। ঐ মহিলাকে দেখে বাচ্চার মা বলে উঠল- হে আল্লাহ! আমার পুত্রকে ঐ মহিলার মত করো না। বাচ্চাটি বলে উঠল, হে আল্লাহ! আমাকে ঐ মহিলার মত কর। নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেন, ঐ ঘোড়সওয়ার কাফির ছিল। আর ওই মহিলাকে লক্ষ্য করে লোকজন বলছিল, তুই ব্যাভিচারিণী, সে বলছিল হাস্‌বি আল্লাহ- আল্লাহ-ই আমার জন্য যথেষ্ট। তারা বলছিল তুই চোর আর সে বলছিল আল্লাহ-ই আমার জন্য যথেষ্ট।

৩৪৬৭

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেন যে, একবার একটি কুকুর এক কূপের চতুর্দিকে ঘুরছিল এবং অত্যন্ত পিপাসার কারণে সে মৃত্যুর কাছে পৌঁছেছিল। তখন বনী ইসরাঈলের ব্যভিচারিণীদের একজন কুকুরটির অবস্থা লক্ষ্য করিল, এবং তার পায়ের মোজা দিয়ে পানি সংগ্রহ করে কুকুরটিকে পান করাল। এ কাজের বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দিলেন।

৩৪৬৮

হুমায়েদ ইবনু আবদুর রাহমান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি মুআবিয়া ইবনু আবু সুফিয়ান (রাদি.)-কে বলিতে শুনেছেন যে, তার হজ্জ পালনের বছর মিম্বরে নববীতে উপবিষ্ট অবস্থায় তাহাঁর দেহরক্ষীদের কাছ থেকে মহিলাদের একগুচ্ছ চুল নিজ হাতে নিয়ে তিনি বলেন যে, হে মীনাবাসী! কোথায় তোমাদের আলিম সমাজ? আমি নাবী‎ (সাঃআঃ)-কে এ রকম পরচুলা ব্যবহার করিতে নিষেধ করিতে শুনিয়াছি। তিনি বলেছেন, বনী ইসরাঈল তখনই ধ্বংস হয়, যখন তাদের মহিলাগণ এ ধরণের পরচুলা ব্যবহার করিতে শুরু করে।

৩৪৬৯

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেছেন, তোমাদের পূর্বের উম্মতগণের মধ্যে ইল্‌হাম প্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ ছিলেন। আমার উম্মতের মধ্যে যদি এমন কেউ থাকে, তবে সে নিশ্চয় উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদি.) হইবেন।

৩৪৭০

আবু সাঈদ খুদরী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেছেন, বনী ইসরাঈলের মাঝে এমন এক ব্যক্তি ছিল যে, নিরানব্বইটি মানুষ হত্যা করেছিল। অতঃপর বের হয়ে একজন পাদরীকে জিজ্ঞেস করিল, আমার তওবা কবুল হবার আশা আছে কি? পাদরী বলিল, না। তখন সে পাদরীকেও হত্যা করিল। অতঃপর পুনরায় সে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে লাগল। তখন এক ব্যক্তি তাকে বলিল, তুমি অমুক স্থানে চলে যাও। সে রওয়ানা হল এবং পথিমধ্যে তার মৃত্যু এসে গেল। সে তার বক্ষদেশ দ্বারা সে স্থানটির দিকে ঘুরে গেল। মৃত্যুর পর রহমত ও আযাবের ফেরেশতামন্ডলী তার রূহকে নিয়ে বাদানুবাদে লিপ্ত হলেন। আল্লাহ সামনের ভূমিকে আদেশ করিলেন, তুমি মৃত ব্যক্তির নিকটবর্তী হয়ে যাও। এবং পশ্চাতে ফেলে স্থানকে (যেখানে হত্যাকান্ড ঘটেছিল) আদেশ দিলেন, তুমি দূরে সরে যাও। অতঃপর ফেরেশতাদের উভয় দলকে নির্দেশ দিলেন- তোমারা এখান থেকে উভয় দিকের দূরত্ব পরিমাপ কর। পরিমাপ করা হল, দেখা গেল যে, মৃত লোকটি সামনের দিকে এক বিঘত বেশি এগিয়ে আছে। কাজেই তাকে ক্ষমা করা হল।

৩৪৭১

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা নাবী‎ (সাঃআঃ) ফজরের সালাত শেষে লোকজনের দিকে ঘুরে বসলেন এবং বলিলেন, একদা এক লোক এক গরু হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ সে এটির পিঠে চড়ে বসল এবং ওকে প্রহার করিতে লাগল। তখন গরুটি বলিল, আমাদেরকে এজন্য সৃষ্টি করা হয়নি, আমাদেরকে চাষাবাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। এতদশ্রবণে লোকজন বলে উঠল, সুবহানাল্লাহ! গরুও কথা বলে? নাবী‎ (সাঃআঃ) বলিলেন, আমি এবং আবু বক্‌র ও উমর তা বিশ্বাস করি। অথচ তখন তাঁরা উভয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। আর এক রাখাল একদিন তার ছাগল পালের মাঝে অবস্থান করছিল, এমন সময় একটা চিতা বাঘ পালে ঢুকে একটা ছাগল নিয়ে গেল। রাখাল বাঘের পিছনে ধাওয়া করে ছাগলটি উদ্ধার করে নিল। তখন বাঘটি বলিল, তুমি ছাগলটি আমার কাছ থেকে কেড়ে নিলে বটে তবে ঐদিন কে ছাগলকে রক্ষা করিবে যেদিন হিংস্র জন্তু ওদের আক্রমণ করিবে এবং আমি ব্যতীত তাদের অন্য কোন রাখাল থাকবে না। লোকেরা বলিল, সুবহানাল্লাহ! চিতা বাঘ কথা বলে! নাবী‎ (সাঃআঃ) বলিলেন, আমি এবং আবু বক্‌র ও উমর তা বিশ্বাস করি অথচ তখন তাঁরা উভয়েই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিত। ……. আবু হুরাইরা (রাদি.) নাবী‎ (সাঃআঃ) হইতে এ রকমই বর্ণনা করিয়াছেন।

৩৪৭২

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেন, এক লোক অপর লোক হইতে একখন্ড জমি ক্রয় করেছিল। ক্রেতা খরিদকৃত জমিতে একটা স্বর্ণ ভর্তি ঘড়া পেল। ক্রেতা বিক্রেতাকে তা ফেরত নিতে অনুরোধ করে বলিল, কারণ আমি জমি ক্রয় করেছি, স্বর্ণ ক্রয় করিনি। বিক্রেতা বলিল, আমি জমি এবং এতে যা কিছু আছে সবই বেচে দিয়েছি। অতঃপর তারা উভয়েই অপর এক লোকের কাছে এর মীমাংসা চাইল। তিনি বলিলেন, তোমাদের কি ছেলে-মেয়ে আছে? একজন বলিল, আমার একটি ছেলে আছে। অন্য লোকটি বলিল, আমার একটি মেয়ে আছে। মীমাংসাকারী বলিলেন, তোমার মেয়েকে তার ছেলের সঙ্গে বিবাহ দাও আর প্রাপ্ত স্বর্ণের মধ্যে কিছু তাদের বিবাহে ব্যয় কর এবং বাকী অংশ তাদেরকে দিয়ে দাও।

৩৪৭৩

সায়াদ ইবনু আবু ওয়াক্‌কাস (রাদি.) উসামাহ ইবনু যায়দ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আপনি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) হইতে প্লেগ সম্বন্ধে কী শুনেছেন? উসামাহ (রাদি.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেন, প্লেগ একটি আযাব। যা বনী ইসরাঈলের এক সম্প্রদায়ের উপর পতিত হয়েছিল অথবা তোমাদের পূর্বে যারা ছিল। তোমরা যখন কোন স্থানে প্লেগের ছড়াছড়ি শুনতে পাও, তখন তোমরা সেখানে যেয়ো না। আর যখন প্লেগ এমন জায়গায় দেখা দেয়, যেখানে তুমি অবস্থান করছো, তখন সে স্থান হইতে পালানোর লক্ষ্যে বের হয়োনা।

আবু নযর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, পলায়নের লক্ষ্যে এলাকা ত্যাগ করো না। তবে অন্য কারণে যেতে পার, তাতে বাধা নেই।

৩৪৭৪

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-কে প্লেগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে তিনি বলেন, তা একটি আযাব। আল্লাহ তাআলা তাহাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের প্রতি ইচ্ছা করেন তাদের উপর তা প্রেরণ করেন। আর আল্লাহ তাআলা তাহাঁর মুমিন বান্দাদের উপর তা রহমত করে দিয়েছেন। কোন ব্যক্তি যখন প্লেগে আক্রান্ত জায়গায় সাওয়াবের আশায় ধৈর্য ধরে অবস্থান করে এবং তার অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে, আল্লাহ তাকদীরে যা লিখে রেখেছেন তাই হইবে তাহলে সে একজন শহীদের সমান সওয়াব পাবে।

৩৪৭৫

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

মাখযূম গোত্রের এক চোর নারীর ঘটনা কুরাইশের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন করে তুলল। এ অবস্থায় তারা বলাবলি করিতে লাগল এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-এর সঙ্গে কে আলাপ করিতে পারে? তার বলিল, একমাত্র রাসুল(সাঃআঃ)–এর প্রিয়তম উসামা বিন যায়িদ (রাদি.) এ ব্যাপারে আলোচনা করার সাহস করিতে পারেন। উসামা নাবী (সাঃআঃ)-এর সঙ্গে কথা বলিলেন। নাবী‎ (সাঃআঃ) বলিলেন, তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত সীমাঙ্ঘনকারিণীর সাজা মাওকুফের সুপারিশ করছ? অতঃপর নাবী‎ (সাঃআঃ) দাঁড়িয়ে খুতবায় বলিলেন, তোমাদের পূর্বের জাতিসমূহকে এ কাজই ধ্বংস করেছে যে, যখন তাদের মধ্যে কোন বিশিষ্ট লোক চুরি করত, তখন তারা বিনা সাজায় তাকে ছেড়ে দিত। অন্যদিকে যখন কোন অসহায় গরীব সাধারণ লোক চুরি করত, তখন তার উপর হদ জারি করত। আল্লাহর কসম, যদি মুহাম্মাদ (সাঃআঃ)-এর কন্যা ফাতিমা চুরি করত তাহলে আমি তার অবশ্যই তার হাত কেটে দিতাম।

৩৪৭৬

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি এক লোককে কুরআনের একটি আয়াত পড়তে শুনলাম যা নাবী‎ (সাঃআঃ) হইতে আমার শোনা তিলাওয়াতের বিপরীত। আমি তাকে নিয়ে নাবী‎ (সাঃআঃ)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে ঘটনাটি বললাম, তখন তাহাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টি লক্ষ্য করলাম। তিনি বলিলেন, তোমরা দুজনেই ভাল ও সুন্দর পড়েছ। তবে তোমরা মতবিরোধ করো না। তোমাদের আগের লোকেরা মতবিরোধের কারণেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।

৩৪৭৭

আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি যেন এখনো নাবী‎ (সাঃআঃ)-কে দেখছি যখন তিনি একজন নাবী‎ (আঃ)-এর অবস্থা বর্ণনা করছিলেন যে, তার স্বজাতিরা তাঁকে প্রহার করে রক্তাক্ত করে দিয়েছে আর তিনি তাহাঁর চেহারা হইতে রক্ত মুছে ফেলছেন এবং বলছেন, হে আল্লাহ! আমার জাতিকে ক্ষমা করে দাও, যেহেতু তারা জানে না।

৩৪৭৮

আবু সাঈদ (রাদি.) সূত্রে নাবী‎ (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তোমাদের আগের এক লোক, আল্লাহ তাআলা তাকে প্রচুর ধন-সম্পদ দান করেছিলেন। যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল তখন সে তার ছেলেদেরকে জড় করে জিজ্ঞেস করিল আমি তোমাদের কেমন পিতা ছিলাম? তারা বলিল আপনি আমাদের উত্তম পিতা ছিলেন। সে বলিল, আমি জীবনে কখনও কোন নেক আমল করিতে পারিনি। আমি যখন মারা যাব তখন তোমরা আমার লাশকে জ্বালিয়ে ছাই করে দিও এবং প্রচন্ড ঝড়ের দিন ঐ ছাই বাতাসে উড়িয়ে দিও। সে মারা গেল। ছেলেরা অসিয়ত অনুযায়ী কাজ করিল। আল্লাহ তাআলা তার ছাই জড় করে জিজ্ঞেস করিলেন, এমন অসিয়ত করিতে কে তোমাকে উদ্বুদ্ধ করিল? সে বলিল, হে আল্লাহ! তোমার শাস্তির ভয়। ফলে আল্লাহর রহমত তাকে ঢেকে নিল। মুআয (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)… আবু সাঈদ (রাদি.) নাবী‎ (সাঃআঃ) হইতে বর্ণনা করেন।

৩৪৭৯

হুযাইফাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী‎ (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, এক লোকের যখন মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল এবং সে জীবন হইতে নিরাশ হয়ে গেল। তখন সে তার পরিবার পরিজনকে ওসিয়াত করিল, যখন আমি মরে যাব তখন তোমরা আমার জন্য অনেক লাকড়ি জমা করে আগুন জ্বালিয়ে দিও। আগুন যখন আমার গোস্ত জ্বালিয়ে পুড়িয়ে হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে তখন হাড়গুলি পিষে ছাই করে নিও। অতঃপর সে ছাই গরমের দিন কিংবা প্রচন্ড বাতাসের দিনে সাগরে ভাসিয়ে দিও। আল্লাহ তায়ালা তার ছাই জড় করে জিজ্ঞেস করিলেন, এমন কেন করলে? সে বলিল, আপনার ভয়ে। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। উকবাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আর আমিও তাকে [হুযাইফাহ (রাদি.)]-কে বলিতে শুনিয়াছি।

আবদুল মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ———- অর্থাৎ প্রচণ্ড বাতাসের দিনে।

৩৪৮০

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেছেন, পূর্বযুগে কোন এক লোক ছিল, যে মানুষকে ঋণ প্রদান করত। সে তার কর্মচারীকে বলে দিত, তুমি যখন কোন গরীবের নিকট টাকা আদায় করিতে যাও, তখন তাকে মাফ করে দিও। হয়ত আল্লাহ তায়ালা এ কারণে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেন, যখন সে আল্লাহ তাআলার সাক্ষাৎ লাভ করিল, তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন।

৩৪৮১

আবু হুরাইরা (রাদি.) সূত্রে নাবী‎ (সাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, পূর্বযুগে এক লোক তার নিজের উপর অনেক যুল্‌ম করেছিল। যখন তার মৃত্যুকাল ঘনিয়ে এলো, সে তার পুত্রদেরকে বলিল, মৃত্যুর পর আমার দেহ হাড় মাংসসহ পুড়িয়ে ছাই করে নিও এবং প্রবল বাতাসে উড়িয়ে দিও। আল্লাহর কসম! যদি আল্লাহ আমাকে ধরে ফেলেন, তবে তিনি আমাকে এমন কঠিনতম শাস্তি দিবেন যা অন্য কাউকেও দেননি। যখন তার মওত হল, তার সঙ্গে সে ভাবেই করা হল। অতঃপর আল্লাহ যমীনকে আদেশ করিলেন, তোমার মাঝে ঐ ব্যক্তির যা আছে জমা করে দাও। যমীন তা করে দিল। এ ব্যাক্তি তখনই দাঁড়িয়ে গেল। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করিলেন, কিসে তোমাকে এই কাজ করিতে উদ্বুদ্ধ করলো? সে বলিল, হে, প্রতিপালক তোমার ভয়। অতঃপর তাকে ক্ষমা করা হল। অন্য রাবী ——– স্থলে ——— বলেছেন।

৩৪৮২

আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেন, এক নারীকে একটি বিড়ালের কারণে আযাব দেয়া হয়েছিল। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল। সে অবস্থায় বিড়ালটি মরে যায়। মহিলাটি ঐ কারণে জাহান্নামে গেল। কেননা সে বিড়ালটিকে খানা-পিনা কিছুই করায়নি এবং ছেড়েও দেয়নি যাতে সে যমীনের পোকা-মাকড় খেয়ে বেঁচে থাকত।

৩৪৮৩

আবু মাসঊদ উকবা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেছেন, আম্বিয়া-এ-কিরামের উক্তিসমূহ যা মানব জাতি লাভ করেছে, তার মধ্যে একটি হল, “যদি তোমার লজ্জা না থাকে তাহলে তুমি যা ইচ্ছা তাই কর।”

৩৪৮৪

আবু মাসউদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেছেন, প্রথম যুগের আম্বিয়া-এ-কিরামের উক্তিসমূহ যা মানব জাতি লাভ করেছে, তন্মধ্যে একটি হল, “যদি তোমার লজ্জা না থাকে, তাহলে তুমি যা ইচ্ছা তাই কর।”

৩৪৮৫

ইবনু উমর (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেছেন, এক ব্যক্তি গর্ব ও অহংকারের সাথে লুঙ্গি টাখ্‌নুর নীচে ঝুলিয়ে পথ চলছিল। এই অবস্থায় তাকে যমীনে ধসিয়ে দেয়া হল এবং কিয়ামত পর্যন্ত সে এমনি অবস্থায় নীচের দিকেই যেতে থাকবে। আবদুর রহমান ইবনু খালিদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ইমাম যুহরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে হাদীস বর্ণনায় ইউনুস (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর অনুসরণ করিয়াছেন।

৩৪৮৬

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেন, পৃথিবীতে আমাদের আগমন সবশেষে হলেও কিয়ামত দিবসে আমরা অগ্রগামী। কিন্তু, অন্যান্য উম্মতগণকে কিতাব দেয়া হয়েছে আমাদের পূর্বে, আর আমাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের পরে। অতঃপর এ সম্পর্কে তারা মতবিরোধ করেছে। তা ইয়াহুদীদের মনোনীত শনিবার, খ্রিস্টানদের মনোনীত রবিবার।

৩৪৮৭

See previous Hadith

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

প্রত্যেক মুসলিমের জন্য সপ্তাহে অন্ততঃ একদিন গোসল করা কর্তব্য।

৩৪৮৮

সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন যে, যখন মুআবিয়া ইবনু আবু সুফিয়ান (রাদি.) মদীনায় সর্বশেষ আগমন করেন, তখন তিনি আমাদেরকে লক্ষ্য করে খুতবা প্রদান কালে একগুচ্ছ পরচুলা বের করে বলেন, ইয়াহূদীরা ছাড়া অন্য কেউ এর ব্যবহার করে বলে আমার ধারণা ছিলনা। নাবী‎ (সাঃআঃ) এ কাজকে মিথ্যা প্রতারণা বলে আখ্যায়িত করিয়াছেন। অর্থাৎ পরচুলা। গুনদর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) শুবা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে হাদীস বর্ণনায় আদম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর অনুসরণ করিয়াছেন।

By ইমাম বুখারী

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply