বদনজর, শয়তান ও জীব হতে আশ্রয় এবং ঝাড়ফুঁক

বদনজর, শয়তান ও জীব হতে আশ্রয় এবং ঝাড়ফুঁক

পরিচ্ছেদঃ ১ বদনযর লাগা সত্য
পরিচ্ছেদঃ ২ বদনজর লাগলে ঝাড়ফুঁকের নির্দেশ
পরিচ্ছেদঃ ৩ বদনজর লাগলে ঝাড়ফুঁকের দোয়া
পরিচ্ছেদঃ ৪ উজুর পানি দিয়ে নযর লাগা ব্যক্তি বা বস্তু ধুয়ে দেয়া ও গোসল করা
পরিচ্ছেদঃ ৫ শয়তান, প্রাণনাশী বিষাক্ত জীব ও অনিষ্টকারী কুদৃষ্টি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা
পরিচ্ছেদঃ ৬ ঝাড়ফুঁক শিরকের পর্যায়ে পড়ে না

পরিচ্ছেদঃ ১ বদনযর লাগা সত্য

আবূ হুরাইরা (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ বদ নযর লাগা সত্য। আর তিনি উল্কি অংকন করিতে নিষেধ করিয়াছেন।

ইমাম বুখারি, আবূ হুরাইরা (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন [সহীহ বুখারি ৫৭৪০, আধুনিক প্রঃ ৫৩২০, ইঃ ফাঃ ৫২১৬]

আমির বিন রাবীআহ (রাদিআল্লাহু আঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ বদনজর সত্য।

ইবনে মাজাহ, আমির বিন রাবীআহ (রাদিআল্লাহু আঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন [ইবনে মাজাহ ৩৫০৬, সহীহ]

ইবনে মাজাহ, আবূ হুরায়রাহ (রাদিআল্লাহু আঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন [ইবনে মাজাহ ৩৫০৭, সহীহ]

ইবনে মাজাহ, আয়িশাহ (রা) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলেছেন [ইবনে মাজাহ ৩৫০৮, সহীহ]

পরিচ্ছেদঃ ২ বদনজর লাগলে ঝাড়ফুঁকের নির্দেশ

আয়িশাহ (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাঃআঃ) আমাকে আদেশ করিয়াছেন কিংবা তিনি বলেছেন, নবী (সাঃআঃ) আদেশ করিয়াছেন, নযর লাগার জন্য ঝাড়ফুঁক করিতে।

ইমাম বুখারি, আয়িশাহ (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন [সহীহ বুখারি ৫৭৩৮, আধুনিক প্রঃ ৫৩১৮, ইঃ ফাঃ ৫২১৪]

উম্মু সালামাহ (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃআঃ) তাহাঁর ঘরে একটি মেয়েকে দেখলেন যে, তার চেহারা মলিন। তখন তিনি বললেনঃ তাকে ঝাড়ফুঁক করাও, কেননা তার উপর নযর লেগেছে।

আবদুল্লাহ ইবনু সালিম (রহঃ) এ হাদিস অনুযায়ী যুবাইদী থেকে একই ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। উকায়ল (রহঃ) বলেছেন, এটি যুহরী (রহঃ) উরওয়াহ (রহঃ) সূত্রে নবী (সাঃআঃ) থেকে বর্ণনা করিয়াছেন।

ইমাম বুখারি, উম্মু সালামাহ (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন [সহীহ বুখারি – ৫৭৩৯, আধুনিক প্রঃ- ৫৩১৯, ইঃ ফাঃ- ৫২১৫]

উবায়দ বিন রিফায়াহ আয-যুরাকী (রাদিআল্লাহু আঃ) হতে বর্ণিতঃ

আসমা’ (রাদিআল্লাহু আঃ) বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! জাফরের সন্তানদের বদনজর লেগেছে, আপনি তাহাদের ঝাড়ফুঁক করুন। তিনি বলেনঃ আচ্ছা। যদি কোন কিছু তাকদীরকে পরাভূত করিতে পারতো, তবে বদনজরই তাকে পরাভূত করতো।

ইবনে মাজাহ, উবায়দ বিন রিফায়াহ আয-যুরাকী (রা) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন [ইবনে মাজাহ ৩৫১০, সহীহ]

পরিচ্ছেদঃ ৩ বদনজর লাগলে ঝাড়ফুঁকের দোয়া

আনাস এর কন্যা উম্মু বানী হাযম খালিদাহ আস-সাইদিয়্যাহ (রাদিআল্লাহু আঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি নবী (সাঃআঃ) এর নিকট আসেন এবং ঝাড়ফুঁক করার মন্ত্র পেশ করেন। তিনি তাকে তা দ্বারা ঝাড়ফুঁক করার অনুমতি দেন।

ইবনে মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন, আনাস এর কন্যা উম্মু বানী হাযম খালিদাহ আস-সাইদিয়্যাহ (রাদিআল্লাহু আঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন [ইবনে মাজাহ ৩৫১৪ , দুর্বল]

আয়িশাহ (রাদিআল্লাহু আঃ), হতে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু পড়ে ঝাড়ফুঁক করিতেন।

ইবনে মাজাহ, আয়িশাহ (রাদিআল্লাহু আঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন [ইবনে মাজাহ ৩৫২৮, সহীহ]

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] অসুস্থ হয়ে পড়লে জিব্‌রীল [আঃ] এ দুআ পড়ে তাঁকে ফুঁকে দিতেন, তিনি বলিতেন,

بِاسْمِ اللَّهِ يُبْرِيكَ وَمِنْ كُلِّ دَاءٍ يَشْفِيكَ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ وَشَرِّ كُلِّ ذِي عَيْنٍ

উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি ইয়ুবরিকা ওয়া মিন কুল্লি দায়িন ইয়াসফিকা ওয়া মিন সাররি হাসিদিন ইজা হাসাদা ওয়া সাররি কুল্লি জিয়াইন, অর্থ আল্লাহ্‌র নামে তিনি আপনাকে সুস্থতা দান করুন, সব ব্যাধি থেকে আপনাকে মুক্ত করুন, আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে এবং যখন সে হিংসা করে এবং সকল প্রকার কুদৃষ্টি ব্যক্তির ক্ষতি হইতে।

يُبْرِيكَ اللَّهِ بِاسْمِ
আপনাকে মুক্ত করুআল্লাহ্‌র নামে
دَاءٍ كُلِّ وَمِنْ
ব্যাধি সব থেকে
شَرِّ وَمِنْ يَشْفِيكَ
অনিষ্ট থেকে আপনাকে সুস্থতা দান করুন
حَسَدَ إِذَا حَاسِدٍ
হিংসা যখন হিংসা
ذِي كُلِّ وَشَرِّ
সকল ক্ষতি
عَيْنٍ
কুদৃষ্টি

ইমাম মুসলিম, আয়িশাহ (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন [সহীহ মুসলিম ৫৫৯২, ইঃফাঃ ৫৫১১, ইঃসেঃ ৫৫৩৬]

আবূ হুরাইরাহ (রাদিআল্লাহু আঃ), হতে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃআঃ) আমাকে দেখিতে এসে বলেনঃ জিবরাঈল (আঃ) ঝাড়ফুঁকের যে দুআ’ সহ আমার নিকট এসেছিলেন, সেই দুআ’ দিয়ে আমি কি তোমাকে ঝাড়ফুঁক করবো না? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক! হাঁ ঝাড়ফুঁক করুন। তিনি তিনবার বললেনঃ

 بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ وَاللَّهُ يَشْفِيكَ مِنْ كُلِّ دَاءٍ فِيكَ مِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ 

উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি আরকীকা ওয়াল্লাহু ইয়াশফীকা মিন কুল্লি দাইন ফীকা মিন শাররিন নাফ্‌ফাছাত ফিল উকাদ ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ, অর্থঃ (আল্লাহর নামে আমি তোমাকে ঝাড়ছি, আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করুন, তোমার ভেতরের সমস্ত রোগ থেকে, সমস্ত নারীর অনিষ্ট থেকে যারা গ্রন্থিতে ফুৎকার দেয় এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে)।

النَّفَّاثَاتِفِيكَ دَاءٍ
তোমার ভেতরেররোগ
وَمِنْ الْعُقَدِ فِي
إِذَاحَاسِدٍ شَرِّ
حَسَدَ 

ইবনে মাজাহ, আবূ হুরাইরাহ (রাদিআল্লাহু আঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন [ইবনে মাজাহ ৩৫২৪, দুর্বল হাদিস]

আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত,

জিবরীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, ‘হে মুহাম্মাদ! আপনি কি অসুস্থ?’ তিনি বললেন, ‘‘হ্যাঁ।’’ জিবরীল তখন এই দো‘আটি পড়লেন-

بِسْمِ الله أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللهُ يَشْفِيكَ، بِسمِ اللهِ أُرقِيكَ

উচ্চারণঃ বিসমিল্লা-হি আরক্বীকা, মিন কুল্লি শাইয়িন ইউ’যীকা, মিন শার্রি কুল্লি নাফসিন আউ ‘আইনি হা-সিদিন, আল্লা-হু য়্যাশফীকা, বিসমিল্লা-হি আরক্বীকা অর্থ -(“আমি তোমাকে আল্লাহর নাম নিয়ে প্রত্যেক কষ্টদায়ক বস্তু থেকে এবং প্রত্যেক আত্মা অথবা বদনজরের অনিষ্ট থেকে মুক্তি পেতে ঝাড়ছি। আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করুন। আল্লাহর নাম নিয়ে তোমাকে ঝাড়ছি।” )

أَرْقِيكَاللهبِسْمِ
তোমাকে ঝাড়ছিআল্লাহর নাম নিয়ে
شَيْءٍكُلِّ مِنْ
বস্তু প্রত্যেক থেকে
كُلِّ مِنْيُؤْذِيكَ
প্রত্যেক থেকে কষ্টদায়ক
عَيْنِ أَوْ نَفْسٍ
নজরের অথবা আত্মা
يَشْفِيكَاللهُ حَاسِدٍ
তোমাকে আরোগ্য দান করুনআল্লাহ বদ
أُرقِيكَاللهِ بِسمِ
তোমাকে ঝাড়ছিআল্লাহর নাম নিয়ে

ইমাম মুসলিম, আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন [সহীহ মুসলিম ৫৭৯৩, ইঃফাঃ ৫৫১২, ইঃসেঃ ৫৫৩৭]

ইবনু মাজাহ, আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন [ইবনু মাজাহ ৩৫২৩, সহীহ] তবে ইবনু মাজাহ আও আয়নিন এর পরে আও শব্দটি বেশি ব্যাবহার করেছেন তা এখানে দেয়া হল –

 بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنٍ أَوْ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ

ইমাম তিরমিজি , আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন [সুনান আত তিরমিজি ৯৭২, সহীহ] তবে ইমাম তিরমিজি শব্দগুলো একটু আগে পরে ব্যাবহার করেছেন তা এখানে দেয়া হল –

بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ وَعَيْنِ حَاسِدٍ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ وَاللَّهُ يَشْفِيكَ

পরিচ্ছেদঃ ৪ উজুর পানি দিয়ে নযর লাগা ব্যক্তি বা বস্তু ধুয়ে দেয়া ও গোসল করা

আয়িশাহ (রাদিআল্লাহু আঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, বদনযরকারীকে নির্দেশ দেয়া হতো যেন সে উযু করে এবং সেই পানি দিয়ে নযর লাগা ব্যক্তি বা বস্তু ধুয়ে নেয়।

ইমাম আবু দাউদ, আয়িশাহ (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন [সুনান আবু দাউদ ৩৮৮০, সহীহ]

আবূ উমামাহ বিন হুনায়ফ (রাদিআল্লাহু আঃ), হতে বর্ণিতঃ

আমির বিন রাবীআহ (রাদিআল্লাহু আঃ) সাহল বিন হুনায়ফ (রাদিআল্লাহু আঃ) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তখন গোসল করছিলেন। আমির (রাদিআল্লাহু আঃ) বলেন, আমি এমন খুবসুরত সুপুরুষ দেখিনি, এমনকি পর্দানশীন নারীকেও এরুপ সুন্দর দেখিনি, যেমন আজ দেখলাম। অতঃপর কিছুক্ষণের মধ্যেই সাহল (রাদিআল্লাহু আঃ) বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন। তাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট নিয়ে যাওয়া হল এবং তাঁকে বলা হলো, ধরাশায়ী সাহলকে রক্ষা করুন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কাকে অভিযুক্ত করছো? তারা বললো, আমির বিন রাবীআহ কে। তিনি বলেন, তোমাদের কেও বদনজর লাগিয়ে তার ভাইকে কেন হত্যা করিতে চায়? তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের মনোমুগ্ধকর কিছু দেখলে যেন তার জন্য বরকতের দুআ’ করে। অতঃপর তিনি পানি নিয়ে ডাকলেন, অতঃপর আমিরকে উযু করিতে নির্দেশ দিলেন। তিনি তার মুখমণ্ডল, দু’হাত কনুই পর্যন্ত, দু’পা গোছা পর্যন্ত ও লজ্জাস্থান ধৌত করিলেন। তিনি আমিরকে পাত্রের (অবশিষ্ট) পানি সকলের উপর ঢেলে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি সাহলের পেছন দিক থেকে পানি ঢেলে দেয়ার জন্য আমিরকে নির্দেশ দেন।

ইবনু মাজাহ, আবূ উমামাহ বিন হুনায়ফ (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন [ইবনু মাজাহ ৩৫০৯, সহীহ]

ইবনু আব্বাস (রাদিআল্লাহু আঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ভাগ্যকে কোন জিনিস অতিক্রম করিতে সমর্থ হলে কু-দৃষ্টিই তা অতিক্রম করিতে পারত। যদি এ প্রসঙ্গে কেউ তোমাদেরকে গোসল করাতে চায় তাহলে তোমরা তাতে সম্মত হও।

ইমাম তিরমিজি, ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন [সুনান আত তিরমিজি ২০৬২, সহীহ] আবূ ঈসা বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাদিআল্লাহু আঃ) হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদিস বর্ণিত আছে । এ হাদিসটি হাসান সহীহ্ গারীব । হাইয়্যাহ ইবনু হাবিস হইতে বর্ণিত হাদিসটি গারীব । শাইবান ইয়াহইয়া ইবনু কাদীর হইতে, তিনি হাইয়্যাহ ইবনু হাবিস হইতে, তিনি তাহাঁর পিতা হইতে, তিনি আবূ হুরাইরা হইতে, তিনি নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন । আলী ইবনুল মুবারক এবং হারব ইবনু শাদ্দাদ আবূ হুরাইরা (রাদিআল্লাহু আঃ)-এর উল্লেখ করেন নাই ।

পরিচ্ছেদঃ ৫ শয়তান, প্রাণনাশী বিষাক্ত জীব ও অনিষ্টকারী কুদৃষ্টি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা

ইবনু আব্বাস (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসান ও হুসাইন (রাঃ) কে ঝাড়ফুঁক করে বলতেনঃ

 أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ

আউযু বিকালিমা তিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শায়তানিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আয়নিন লাম্মাতিন” (আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কল্যাণময় বাক্যাবলির ওয়াসীলায় প্রতিটি শয়তান, প্রাণনাশী বিষাক্ত জীব ও অনিষ্টকারী বদনজর থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি)।

وَهَامَّةٍ شَيْطَانٍ كُلِّ
প্রাণনাশী বিষাক্ত জীবশয়তানপ্রতিটি
عَيْنٍ كُلِّ وَمِنْ
বদনজর প্রতিটি থেকে
لاَمَّةٍ
অনিষ্টকারী

তিনি বলতেনঃ আমাদের পিতা ইসমাইল (আঃ) ও ইয়া’কূব (আঃ)-কে এই দুআ’ পড়ে ঝাড়ফুঁক করতেন অথবা রাবী বলেছেন, ইসমাইল (আঃ) ও ইয়া’কূব (আঃ)-কে ঝাড়ফুঁক করতেন। শেষোক্ত বর্ণনা ওয়াকী’ (রহঃ)-এর।

ইবনে মাজাহ এই হাদিসটির অধ্যায়ের নাম করন করেছেন, ২৫/৩৬. অধ্যায়ঃ মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে দুআ’ পড়ে ঝাড়ফুঁক করেছেন এবং তাঁকে যে দুআ’ পড়ে ঝাড়ফুঁক করা হয়েছে। [ইবন মাজাহ ৩৫২৫, সহিহ]

ইবনু আব্বাস (রাদিআল্লাহু আঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, হাসান ও হুসাইন (রাদিআল্লাহু আঃ)-এর জন্য রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই দু’আ পাঠ করে আশ্রয় প্রার্থনা করিতেন :

أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ

য়ুইজুকুমা বিকালিমা তিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শায়তানিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আয়নিন লাম্মাতিন” “আমি তোমাদের উভয়ের উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা’আলার পরিপূর্ণ কল্যাণময় কালামের মাধ্যমে প্রতিটি শাইতান, জীবননাশক বিষ ও অনিষ্টকারী কু-দৃষ্টি হইতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি”।

أُعِيذُكُمَا
আমি তোমাদের উভয়ের উদ্দেশ্যে আশ্রয় প্রার্থনা করছি

তিনি বলিতেন : এভাবে ইবরাহীম (আ:) তাহাঁর দুই ছেলে ইসহাক ও ইসমাঈলের জন্য আশ্রয় চাইতেন।

উক্ত মর্মে একইরকম হাদিস হাসান ইবনু আলী আল-খাল্লাল-ইয়াযীদ ইবনু হারুন ও আবদুর রাযযাক হইতে, তিনি সুফিয়ান হইতে, তিনি মানসূর (রহঃ) হইতে এই সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন । আবূ ঈসা বলেন, এ হাদিসটি হাসান সহীহ্ । ইমাম তিরমিজি এই হাদিস টি সংকলন করেছেন ” ১৮. অনুচ্ছেদঃ (হাসান-হুসাইন (রাঃ)-কে ঝাড়ফুঁক)” হাদিস এর মানঃ হাদিসঃ [সুনান আত তিরমিজি ২০৬০, সহিহ]

আমর ইবনু শু’আইব (রহঃ) হইতে পর্যায়ক্রমে তাহাঁর পিতা ও দাদার সূত্র হতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাহাদের ভীতিকর পরিস্থিতিতে এ বাক্যগুলোর মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করার শিক্ষা দিতেনঃ

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ

আউজু বি কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাদাবিহি ওয়া সাররি ইবাদিহি ওয়া মিন হামাজাতিস সাইয়াতানি ওয়া আন ইয়াহদুরুন, (“আল্লাহর পূর্ণ কালেমাসমূহের দ্বারা তাহাঁর গযব ও তাহাঁর বান্দাদের খারাবী ও শয়তানের কুমন্ত্রণা ও আমার নিকট তার উপস্থিত হওয়া থেকে আশ্রয় চাইছি”।)

عِبَادِهِ وَشَرِّ غَضَبِهِ
ও খারাবী গযব
الشَّيَاطِينِ هَمَزَاتِ وَمِنْ
শয়তানের বান্দাদের থেকে
يَحْضُرُونِوَأَنْ
উপস্থিত হওয়াও আমার নিকট

আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাদিআল্লাহু আঃ) এ বাক্যগুলো তার বালেগ সন্তানদের শিখাতেন এবং নাবালেগদের জন্য লিখে তা তার গলায় ঝুলিয়ে দিতেন।

ইমাম আবু দাউদ, আমর ইবনু শু’আইব (রহঃ) হইতে পর্যায়ক্রমে তাহাঁর পিতা ও দাদার সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাসান, কিন্তু তার একথা বাদেঃ “আবদুল্লাহ ইবনু আমর …….।’ (৩৮৯৩) তিরমিযী, হাকিম। [সুনান আবু দাউদ ৩৮৯৩, হাসান]

পরিচ্ছেদঃ ৬ ঝাড়ফুঁক শিরকের পর্যায়ে পড়ে না

ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ বদ-নযর কিংবা বিষাক্ত দংশন ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে ঝাড়ফুঁক নেই। বর্ণনাকারী বলেনঃ এরপর এ হাদিস আমি সাঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ) -এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেনঃ আমাদের নিকট ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করিয়াছেন যে, রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আমার সামনে সকল উম্মাতকে পেশ করা হয়েছিল। (তখন আমি দেখেছি) দু’একজন নবী পথ চলতে লাগলেন এমতাবস্থায় যে, তাঁদের সঙ্গে একজনও নেই। অবশেষে আমার সামনে তুলে ধরা হল বিশাল দল। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ এটা কী? এ কি আমার উম্মত? উত্তর দেয়া হলঃ না, ইনি মূসা (আঃ) এবং তাহাঁর কওম। আমাকে বলা হলঃ আপনি ঊর্ধ্বাকাশের দিকে তাকান। তখন দেখলামঃ বিশাল একটি দল যা দিগন্তকে ঢেকে রেখেছে। তারপর আমাকে বলা হলঃ আকাশের দিগন্তসমূহ ঢেকে দিয়েছে এমন একটি বিশাল দলের প্রতি লক্ষ্য করুন। তখন বলা হলঃ এরা হল আপনার উম্মাত। আর তাহাদের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। তারপর নবী (সাঃআঃ) ঘরে চলে গেলেন। উপস্থিতদের কাছে কথাটির কোন ব্যাখ্যা প্রদান করিলেন না। (যে বিনা হিসাবের লোক কারা হইবে?) ফলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে তর্ক বিতর্ক শুরু হল। তারা বলিলঃ আমরা আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাহাঁর রসূল (সাঃআঃ) -এর অনুসরণ করে থাকি। সুতারাং আমরাই তাহাদের অন্তর্ভূক্ত। কিংবা তারা হল আমাদের সে সকল সন্তান-সন্ততি যারা ইসলামের যুগে জন্মগ্রহন করেছে। আর আমাদের জন্ম হয়েছে জাহিলী যুগে। নবী (সাঃআঃ) -এর কাছে এ সংবাদ পৌঁছালে তিনি বেরিয়ে আসলেন এবং বললেনঃ তারা হল সে সব লোক যারা মন্ত্র পাঠ করে না, পাখির মাধ্যমে কোন কাজের ভাল-মন্দ নির্ণয় করে না এবং আগুনের সাহায্যে দাগ লাগায় না। বরং তারা তো তাহাদের রবের উপরই ভরসা করে থাকে। তখন উক্‌কাশা ইবনু মিহসান (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! তাহাদের মধ্যে কি আমি আছি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন আরেকজন দাঁড়িয়ে বলিলঃ তাহাদের মধ্যে কি আমিও আছি? তিনি বললেনঃ উক্‌কাশাহ এ সুযোগ তোমার আগেই নিয়ে নিয়েছে।

ইমাম বুখারি, ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন [সহীহ বুখারি ৫৭০৫, আধুনিক প্রঃ ৫২৯১, ইঃ ফাঃ ৫১৮৭]

আওফ ইবনু মালিক (রাদিআল্লাহু আঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা জাহিলী যুগে ঝাড়ফুঁক করতাম। অতঃপর আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ বিষয়ে আপনার অভিমত কি? তিনি বলেনঃ তোমাদের ঝাড়ফুঁকের ব্যবস্থাগুলো আমার সামনে পেশ করো; তবে যেসব ঝাড়ফুঁক শিরকের পর্যায়ে পড়ে না, তাতে কোন দোষ নেই।

ইমাম আবু দাউদ, আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) এর সুত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন [সুনান আবু দাউদ ৩৮৮৬, সহীহ]

Leave a Reply