ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস ও তার নিদর্শনাবলীর বর্ণনা

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস ও তার নিদর্শনাবলীর বর্ণনা

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস ও তার নিদর্শনাবলীর বর্ণনা , এই অধ্যায়ে হাদীস ৩৯ টি (৪২৪০ – ৪২৭৮) >>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

অধ্যায় – ৩৭ঃ ফিতনাহ ও বিপর্যয়, অনুচ্ছেদঃ ১-৭=৭টি, হাদীসঃ (৪২৪০-৪২৭৮)=৩৯টি

অনুচ্ছেদ-১ঃ ফিত্বনাহ ও তার নিদর্শনাবলীর বর্ণনা
অনুচ্ছেদ-২ঃ ফিত্বনাহ্‌র সময় দ্বন্দ্ব-কলহের চেষ্টা করা নিষিদ্ধ
অনুচ্ছেদ-৩ঃ জিহবা সংযত রাখা
অনুচ্ছেদ-৪ঃ ফিত্বনাহ্‌র সময় যাযাবর হওয়ার অনুমতি
অনুচ্ছেদ-৫ঃ ফিত্বনাহ্‌র সময় যুদ্ধে জড়ানো নিষেধ
অনুচ্ছেদ-৬ঃ ঈমানদার ব্যক্তিকে হত্যা করা গুরুতর অপরাধ
অনুচ্ছেদ-৭ঃ শহীদ হওয়ার আশা পোষণ

অনুচ্ছেদ-১ঃ ফিত্বনাহ ও তার নিদর্শনাবলীর বর্ণনা

৪২৪০

হুযাইফা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে ক্বিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে সেসবের বর্ণনা দিলেন। কেউ তা স্মরণ রাখলো এবং কেউ তা ভুলে গেলো। আমার এসব সাথী তা অবহিত আছেন যে, ঐ সবের কিছু ঘটলেই আমি তা এরূপ স্মরণ করিতে পারি যেরূপ কেউ তার পরিচিত লোকের অনুপস্থিতিতে তার চেহারা স্মরণ রাখে। অতঃপর তাহাকে দেখা মাত্র চিনে ফেলে।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪২৪১

হুযাইফা ইবনিল ইয়ামান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি জানি না আমার সাথীরা ভুলে গেছেন নাকি জেনে শুনে ভুলে আছেন। আল্লাহর কসম! ক্বিয়ামত পর্যন্ত ফিতনা‌র সংখ্যা হইবে তিন শতাধিক। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাদের প্রত্যেকের নাম, পিতার নাম ও গোত্রের নাম আমাদেরকে অবহিত করেছেন। {৪২৪১}

দুর্বলঃ মিশকাত হা/৫৩৯৩।

{৪২৪১} সুয়ূতীর দুররে মানসূর। সনদের আবদুল্লাহ সম্পর্কে জাহালাত রয়েছে।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪২৪২

আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেন, এই উম্মাতের মাঝে চারটি ফিতনা সংঘটিত হইবে অতঃপর ক্বিয়ামত হইবে। {৪২৪২}

দুর্বলঃ যইফাহ হা/৪৮৩১।

{৪২৪২} আহমাদ, হাকিম, আবু-নুআইম হিলয়্যা।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪২৪৩

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট বসা ছিলাম। তিনি ফিতনা সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করিলেন, এমন কি তিনি আহলাস ফিতনা সম্পর্কে বলিলেন। তখন একজন বললো, আহলাস ফিতনা কি? তিনি বলিলেন, পলায়ন ও লুটতরাজ। অতঃপর আসবে একটি ফিতনা, যা হইবে আনন্দদায়ক, এর অন্ধকারাচ্ছন্ন ধোঁয়া বের হইবে আমার পরিবারের জনৈক ব্যক্তির দুপায়ের নিচ হইতে। সে ধারণা করিবে যে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত, অথচ সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ আমার বন্ধু হচ্ছে আল্লাহুভীরু ব্যক্তিগণ। তারপর জনগণ এমন এক ব্যক্তির অধীনে একতাবদ্ধ হইবে। সে যেন পাঁজরের উপর কোমরের হার সদৃশ। অতঃপর তিনি দুহায়মা বা ঘন অন্ধকারময় ফিতনা প্রসঙ্গে বলেন, সেই ফিতনা এই উম্মতের কোন লোককেই একটি চপেটাঘাত না করে ছারবে না। অতঃপর যখন বলা হইবে যে, তা শেষ হয়ে গেছে, তখনই তা আরো প্রসারিত হইবে। এ সময় যে লোকটি সকালে মুমিন ছিল, সন্ধ্যায় সে কাফির হয়ে যাবে। অবশেষে সব মানুষ দুটি শিবিরে বিভক্ত হইবে। একটি হইবে ঈমানের শিবির, যেখানে মুনাফিকী থাকিবে না। আর একটি মুনাফিকীর শিবির, যেখানে ঈমান থাকিবে না। যখন তোমাদের এ অবস্থা হইবে, তখন দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের অপেক্ষা করিবে ঐদিন বা তার পরের দিন থেকে।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪২৪৪

সুবাই ইবনি খালিদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, তুসতার বিজয় হওয়ার পর কিছু খচ্চর ক্রয় করার জন্য আমি কূফায় আসি। আমি একটি মাসজিদে প্রবেশ করে কয়েক জন লোক দেখিতে পেলাম এবং মাঝখানে জনৈক ব্যক্তি বসে আছেন। তুমি তাহাকে দেখেই চিনতে পারবে যে, তিনি হিজাযের অধিবাসী। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বলিলাম, তিনি কে? উপস্থিত জনতা আমার প্রতি অসন্তোষের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো, তুমি কি তাঁকে চেনো না? তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাহাবী হুযাইফাহ ইবনিল ইয়ামান [রাদি.]। অতঃপর হুযাইফাহ [রাদি.] বলেন, লোকেরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে কল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতো। আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতাম। একথা শুনে জনতা তা অপছন্দ করতো। নিশ্চয়ই আমি প্রশ্ন করেছি, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ধারনা করেন যে, মহান আল্লাহ যে কল্যাণ আমাদের দিয়েছেন, এর পরে কি কোন অকল্যাণ আসবে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। আমি বলিলাম, তাহলে তা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি? তিনি বলিলেন, তলোয়ার। আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! তারপর কি হইবে? তিনি বলিলেনঃ পৃথিবীতে যদি কোন আল্লাহর খলীফাহ থাকে, আর সে যদি তোমার পিঠে আঘাত করে এবং তোমার সম্পদ ছিনিয়ে নেয়, তবুও তার আনুগত্য করো, অন্যথায় তুমি বৃক্ষের কাণ্ড সুদৃরভাবে আকড়ে ধরে মৃত্যুবরণ করো। আমি বলিলাম, তারপর কি হইবে? তিনি বলিলেন, অতঃপর আগুন ও পানির নহর নিয়ে দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করিবে। যে ব্যক্তি তার আগুনে পতিত হইবে, সে তার প্রতিদান অবশ্যই পাবে এবং তার গুনাহ মাফ করা হইবে। আর যে তার নহর এ পতিত হইবে, তার অপরাধের শাস্তি অবধারিত হইবে এবং সওয়াব বরবাদ হইবে। তিনি বলেন, আমি বলিলাম, তারপর কি হইবে? তিনি বলিলেনঃ অতঃপর ক্বিয়ামত সংঘটিত হইবে।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪২৪৫

খালিদ ইবনি খালিদ আল-ইয়াশকুরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্রে উপরের বর্ণিত হাদিসে হুযাইফাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি জিজ্ঞেস করলাম, তরবারির পর কি হইবে? তিনি বলেন, মানুষ আবর্জনা বা ফিতনা‌য় মগ্ন থাকিবে এবং ষড়যন্ত্রমূলক সন্ধি করিবে। অতঃপর অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, ক্বাতাদাহ একথার দ্বারা আবু বাক্‌রের যুগের মুরতাদদের ফিতনাকেই বুঝাতেন। আর তিনি [আরবী] অর্থ বলিতেন [আরবী] অর্থ কলঙ্ক [আরবী] সাময়িক যুদ্ধবিরতি। [আরবী] বিদ্বেষ, অপকারেচ্ছা।

{৪২৪৫} পূর্বের হাদিস দেখুন।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪২৪৬

নাস্‌র ইবনি আসিম আল-লাইসী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা লাইস গোত্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আল-ইয়াশকুরীর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বলিলেন, আপনারা কোন গোত্রের লোক? আমরা বলিলাম, আমরা লাইস গোত্রের, আপনার নিকট হুযাইফাহ [রাদি.]-এর বর্ণিত হাদিস জানার জন্য এসেছি। অতএব তিনি সে হাদিস বর্ণনা করেন। হুযাইফাহ বলেন, আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ কল্যাণময় পরিবেশের পর কি অকল্যাণ আসবে? তিনি বলিলেন, ফিতনা আসবে। তিনি বলেন, আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এই মন্দ অবস্থার পর কি আবার কল্যাণ আসবে? তিনি বলিলেন, হে হুযাইফাহ! তুমি আল্লাহর কিতাব পড়ো এবং তাতে যা আছে তার অনুসরণ করো। একথা তিনি তিনবার বলেন। হুযাইফাহ বলেন, আমি বলিলাম হে আল্লাহর রাসূল! এই অকল্যাণের পর আবার কল্যাণ আসবে কি? তিনি বলিলেন, খিয়ানাত ও মুনাফিকীর সঙ্গে সন্ধি করা হইবে, আর কপট একটি দল হইবে। আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! খিয়ানাতের সঙ্গে সন্ধি বলিতে কি বুঝায়? তিনি বলিলেন, মানুষের অন্তর যেরূপ ছিল, সে অবস্থায় আর ফিরে যাবে না। তিনি বলেন, আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! কল্যাণকর অবস্থার পর কি অকল্যাণ ফিরে আসবে? তিনি বলিলেন, অন্ধকারাচ্ছন্ন ফিতনা সৃষ্টি হইবে, আর সেই সময় ভ্রান্ত আক্বিদাহ-বিশ্বাসের উপর [জাহান্নামের] আগুনের দিকে একদল লোক আহবান করিবে। হে হুযাইফাহ! তখন তুমি যদি বৃক্ষমূল আকড়ে ধরে মরে যেতে পারো তবে তা তোমার জন্য তাহাদের কাউকে অনুসরণ করার চাইতে উত্তম হইবে।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪২৪৭

হুযাইফা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেন, তুমি যদি তখন কোন খলীফাহ [শাসক] না পাও, তবে তুমি মরে যাওয়া পর্যন্ত পলায়ন করিতে থাকো। অতঃপর তুমি যদি কোন বৃক্ষমূল শক্তভাবে আকড়ে ধরে মরে যেতে পারো …। তিনি হাদিসের শেষাংশে বলেন, আমি বলিলাম, এরপর কি হইবে? তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, কেউ যদি তখন ঘোড়ার বাচ্চা প্রসব করাতে যায় তবে তা প্রসব করার পূর্বেই ক্বিয়ামাত সংঘটিত হয়ে যাবে।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪২৪৮

আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেন, যে ব্যক্তি একজন ইমামের হাতে হাত রেখে অন্তর থেকে তার আনুগত্যের শপথ করে, তাতে যথাসাধ্য তার আনুগত্য করা কর্তব্য। যদি অপর কোন ব্যক্তি এসে ঐ ইমামের সাথে বিবাদ করে তবে তোমরা তার ঘাড়ে আঘাত করো। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বলিলাম, একথা কি আপনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে থেকে  শুনেছেন? তিনি বলিলেন, আমার দুটি কান তা শুনেছে এবং আমার অন্তর তা স্মরণ রেখেছে। আমি বলিলাম, এই যে তিনি আপনার চাচাতো ভাই মুআবিয়াহ, তিনি আমাদেরকে এই এই কাজ করার আদেশ করেন। তিনি বলিলেন, আল্লাহ্‌র আনুগত্যে তোমরা তার আনুগত্য করো আর আল্লাহ্‌র নাফরমানীতে তার অবাধ্যচারন করো।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪২৪৯

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেন, আরববাসীদের জন্য আফসোস! কেননা তাহাদের উপর অকল্যাণ ঘনিয়ে এসেছে। যে ব্যক্তি তা হইতে হাত গুটিয়ে রাখবে, সে সফল হইবে।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪২৫০

ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, অচিরেই মুসলিমদেরকে মাদীনাহ্‌তে অবরোধ করা হইবে, এমনকি তাহাদের দূরতম যুদ্ধক্ষেত্র হইবে সালাহ।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪২৫১

ঈমাম যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সালাহ হলো খায়বারের নিকটবর্তী একটি স্থান।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ মাকতু

৪২৫২

সাওবান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ [অথবা] আমার রব পৃথিবীকে আমার জন্য সংকুচিত করে দিয়েছেন এবং আমাকে এর পূর্ব ও পশ্চিম সীমানা দেখানো হয়েছে। আর যতটুকু আমার জন্য সংকুচিত করা হয়েছে, ততটুকুতে অচিরেই আমার উম্মাতের রাজত্ব বিস্তার লাভ করিবে। আমাকে লাল ও সাদা [স্বর্ণ ও রূপার] দুটি ধনভান্ডার দেয়া হয়েছে। আর আমি আমার মহান প্রতিপালকের নিকট আমার উম্মাতের জন্য এই কথার আবেদন করেছি যে, তিনি তাহাদের সবাইকে যেন দুর্ভিক্ষে ধ্বংস না করেন এবং তাহাদের নিজেদের ব্যতীত কোন শত্রু যেন তাহাদের উপর কর্তৃত্ব করিতে না পারে যারা তাহাদের ধ্বংস করে দিবে। নিশ্চয়ই আমার রব আমাকে বলিয়াছেন, হে মুহাম্মাদ! আমি যা ফায়সালা করি, তা বাতিল হয় না। তবে আমি তাহাদের সবাইকে একসঙ্গে দূর্ভিক্ষে ধ্বংস করবো না এবং তাহাদের নিজেদের ছাড়া দিগ্বিদিক হইতে আগত তাহাদের সমূলে বিনাশকারী বিধর্মী শত্রুকে তাহাদের উপর কর্তৃত্ব করিতে দিবো না, তবে তাহাদের কতক অপরদের ধ্বংস করিবে এবং কতক অপরাধে বন্দী করিবে। আর আমি আমার উম্মাতের পথভ্রষ্ট নেতাহাদের ব্যাপারে শঙ্কিত। আমার উম্মাত যখন পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হইবে, তখন ক্বিয়ামাত সংঘটিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তারা বিরত হইবে না। আর আমার উম্মাতের কিছু সংখ্যক মুশরিকদের সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত এবং আমার উম্মাতের কতিপয় গোত্র মূর্তি পূজায় লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত ক্বিয়ামাত সংঘটিত হইবে না। অবিলম্বে আমার উম্মাতের মধ্যে ত্রিশজন মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব ঘটবে, তাহাদের প্রত্যেকেই নিজেকে নাবী বলে দাবী করিবে। অথচ আমিই সর্বশেষ নাবী এবং আমার পরে আর কোন নাবী আসবে না। তবে আমার উম্মাতের একটি দল সর্বদা সত্যের উপর অটল থাকিবে। যারা তাহাদের বিরোধিতা করিবে, তারা তাহাদের কোন ক্ষতি করিতে পারবে না, এমনকি এ অবস্থায় আল্লাহ্‌র নির্দেশ [ক্বিয়ামাত] এসে যাবে।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪২৫৩

আবু মালিক আল-আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে তিনটি বিপদ হইতে মুক্তি দিয়েছেন। তা হলো [১] তোমাদের নাবী তোমাদের অভিশাপ দিবেন না, অন্যথায় তোমরা সকলেই ধ্বংস হয়ে যেতে। [২] বাতিলপন্থী কখনো সত্যপন্থীদের উপর বিজয়ী হইবে না এবং [৩] তোমরা সকলে এক সাথে পথভ্রষ্ট হইবে না। {৪২৫৩}

দূর্বল, কিন্তু তৃতীয় বাক্যটি সহিহ। যঈফাহ হা/১৫১০, সহিহাহ হা/১৩৩১।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

৪২৫৪

আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেন, ইসলামের চাকা [হুকুমাত] পঁয়ত্রিশ, ছত্রিশ বা সাঁইত্রিশ বছর চালু থাকিবে। এ সময়ে তারা ধ্বংস হলে তাহাদের পথ হইবে তাহাদের পূর্ববর্তীদের মত। আর এ সময় যদি তাহাদের দ্বীন প্রতিষ্ঠিত থাকে তবে সত্তর বছর পর্যন্ত তা প্রতিষ্ঠিত থাকিবে। তিনি বলেন, আমি বলিলাম, এর গণনা কি অতীত হইতে না এখন হইতে শুরু হইবে? তিনি বলিলেন, অতীত হইতে শুরু হইবে।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪২৫৫

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, সময় ছোট হয়ে আসবে, দ্বীনি জ্ঞান হ্রাস পাবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে, কৃপণতা মানুষের অন্তর দখল করিবে, হারাজ বেড়ে যাবে। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! হারাজ কি? তিনি বলেন, গণহত্যা।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২ঃ ফিত্বনাহ্‌র সময় দ্বন্দ্ব-কলহের চেষ্টা করা নিষিদ্ধ

৪২৫৬

মুসলিম ইবনি আবু বাকরাহ [রা] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, নিশ্চয়ই ফিতনা আসবে। তখন বসে থাকা ব্যক্তির চেয়ে শয়নকারী এবং দাড়ানো ব্যক্তির চেয়ে হেঁটে চলা ব্যক্তি উত্তম হইবে। তিনি বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল। এ ব্যাপারে আপনি আমাকে কি নির্দেশ দেন। তিনি বলিলেন, যার উট আছে, সে যেন তার উটের সঙ্গে, যার বকরী আছে, সে তার বকরীর সঙ্গে এবং যার জমি আছে সে তার জমি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তিনি প্রশ্ন করিলেন, যার এসবের কিছুই নেই? তিনি বলিলেন, সে যেন তার তলোয়ারের দিকে মনোনিবেশ করে এবং পাথরের আঘাতে তরবারির ধার চূর্ণ করে দেয়, অতঃপর যথাসাধ্য চেষ্টা করে সেই ফিতনা হইতে মুক্তি পাওয়ার।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪২৫৭

সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে উপরে বর্ণিত হাদিস প্রসঙ্গে বলেন, আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কি মত যদি কেউ আমার ঘরে ঢুকে পড়ে এবং আমাকে হত্যা করার জন্য আর হাত প্রসারিত করে? তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তুমি তখন আদম [আঃ]-এর পুত্রের মতো [হাবীলের] হয়ে যাও। অতঃপর বর্ণনাকারী ইয়াযীদ এ আয়াত তিলাওয়াত করেন। “তুমি যদি আমাকে হত্যা করিতে হাত প্রসারিত করো ………”[সুরা আল-মায়িদাহঃ ২৮]।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪২৫৮

ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি ….. অতঃপর তিনি আবু বাকরাহ বর্ণিত হাদিসের অংশ বিশেষ বর্ণনা করে বলেন, ঐ ফিতনায় নিহত সকল লোকই জাহান্নামী হইবে। তিনি তাতে বলেন, আমি বলিলাম, হে ইবনূ মাসউদ! ঐ পরিস্থিতি কখন হইবে? তিনি বলিলেন, সেই মারামারির যুগে কোন ব্যক্তি তার বন্ধুর নিকটেও নিরাপদ থাকিবেনা। আমি বলিলাম, সেই যুগ যদি আমাকে পেয়ে বসে, তাহলে আমাকে কি করিতে আদেশ করেন? তিনি বলেন, তোমার জিহবা নিয়ন্ত্রণে রাখবে, হাত গুটিয়ে রাখবে আর তুমি তোমার ঘরের বাইরে বের হইবে না। অতঃপর যখন উসমান [রাদি.] শহীদ হলেন, তখন আমার ফিতনার কথা স্মরণ হল। সুতরাং আমি যাত্রা করে দামিশকে চলে এলাম এবং খুরাইম ইবনি ফাতিক [রাদি.]-এর সাক্ষাতে এ হাদিস বর্ণনা করলাম। তিনি যেই সত্ত্বা ছাড়া কোন ইলাহ নেই সেই আল্লাহ্‌র কসম করে বলিলেন, আমি তাহাঁর নিকট ইবনি মাসউদের যে হাদিস বর্ণনা করেছি, অনুরূপ হাদিস তিনিও রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট হইতে শুনেছেন। {৪২৫৮}

{৪২৫৮} আহমাদ। এর সনদ দুর্বল। সানাদে ক্বাসিম ইবনি গাযওয়ান সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ মাক্ববূল। আল্লামা মুনযিরী বলেনঃ তাহাকে মাজহুল ধারণা করা হয়। এছাড়া সানাদে শিহাব ইবনি খিরাশ রয়েছে। তিনি সত্যবাদী কিন্তু ভুল করে থাকেন। ইবনি হিব্বান বলেনঃ তিনি সালিহ ব্যক্তি, তিনি ঐ লোকদের অন্তর্ভুক্ত যার ভুল প্রচুর।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪২৫৯

আবু মুসা আল-আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, নিশ্চয়ই কিয়ামাতের কাছাকাছি সময়ে অন্ধকার রাতের টুকরার ন্যায় বিপদ আসতে থাকিবে। তখন সকালবেলা যে ঈমানদার ছিল, সন্ধ্যাবেলা সে কাফির হয়ে যাবে। আর সন্ধ্যাবেলা যে ঈমানদার ছিল, সে সকালবেলা কাফির হয়ে যাবে। তখন দাঁড়ানো ব্যক্তির চাইতে বসা ব্যক্তি এবং হেটে চলা লোক দৌড়ে চলা লোকের চাইতে উত্তম হইবে। তখন তোমরা তোমাদের ধনুকগুলো ভেঙে চুরমার করে ফেলো, ধনুকের ছিলাগুলো কেটে ফেলো এবং তরবারিগুলো পাথরে আঘাত করে চূর্ণ-বিচূর্ণ করো। তবুও যদি তোমাদের কারো কারো নিকট কেউ এসে পড়ে, তবে যেন সে আদম [আঃ]-এর দুপুত্রের মধ্যে উত্তমটির [হাবীলের] মতো হয়।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪২৬০

আব্দুর রহমান ইবনি সামুরাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি উমার [রাদি.]-এর হাত ধরে মদিনাহর কোন এক রাস্তায় ছিলাম। হঠাৎ তিনি একটি ঝুলন্ত মাথার নিকট এসে বলিলেন, এর হত্যা বড়ই দুর্ভাগা! তিনি যেতে যেতে বলিলেন, আমার মতে সে অত্যন্ত দুর্ভাগা। কেননা আমি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, যদি আমার উম্মতের কাউকে হত্যা করার জন্য কোন লোক অগ্রসর হয়, তাহলে তাহাকে এভাবে বলো, হত্যাকারী জাহান্নামে যাবে, আর নিহত ব্যাক্তি জান্নাতে যাবে। {৪২৬০}

দুর্বলঃ যঈফাহ হা/৪৬৬৪।

{৪২৬০} আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ননা করেছেন। এর সনদ দুর্বল।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪২৬১

আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, হে আবু যার! আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সৌভাগ্যময় সাহচর্যে উপস্থিত। অতঃপর বর্ণনাকারী হাদিস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যখন এক সঙ্গে বহু লোক মারা যাবে এবং একটি ঘর অর্থাৎ একটি কবর একটি গোলামের মূল্যের সমান হইবে, তখন তুমি কি করিবে? আমি বলিলাম, আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত অথবা তিনি বলেন, আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূল এ ব্যাপারে আমার জন্য যা কল্যাণকর মনে করেন। তিনি বলিলেন, তখন তোমার ধৈর্য ধারণ করা উচিৎ অথবা তিনি বলিলেন অথবা তিনি বলিলেন, তুমি ধৈর্য ধারণ করিবে। পুনরায় তিনি আমাকে ডেকে বলিলেন, হে আবু যার! আমি বলিলাম, আমি আপনার কল্যাণময় সাহচর্যে উপস্থিত। তিনি বলিলেনঃ তুমি কি করিবে যখন দেখবে যে, আহজারুয-যায়িত নামক জায়গাটি রক্তে ডুবে যাচ্ছে। আমি বলিলাম, আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূল আমার জন্য এ বিষয়ে যা উত্তম মনে করেন। তিনি বলিলেন, তুমি তোমার সমমনা লোকদের নিকট চলে যাবে। তিনি বলেন, আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তখন আমার কাঁধে তরবারি ধারণ করবো না? তিনি বলিলেন, তাহলে তো তুমি তাহাদের সঙ্গী হয়ে যাবে! তিনি বলেন, তুমি তোমার ঘরে আশ্রয় নিবে। তিনি বলেন, আমি বলিলাম, যদি সেই বিপদ আমার ঘরে প্রবেশ করে? তিনি বলিলেন, তুমি যদি আশঙ্কা করো যে, তরবারির ঝলক তোমাকে ঝলসিয়ে দিবে, তবে তোমার মুখমন্ডল কাপড়ে ঢেকে ফেলো। তাতে সে হত্যাকারী তোমার গুনাহ ও তার গুনাহ নিয়ে ফিরে যাবে। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, হাম্মাদ ইবনি যায়িদ ছাড়া কেউ এ হাদিসে বর্ণনাকারী মুশাআস-এর নাম উল্লেখ করেননি।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪২৬২

আবু কাবশাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু মূসা [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, নিশ্চয় তোমাদের সামনে অন্ধকার রাতের টুকরার ন্যায় একের পর এক বিপদ আসতে থাকিবে। সেই বিপদের সময় সকালবেলা যে লোকটি ঈমানদার ছিলো, বিকেলবেলা সে কাফির হয়ে যাবে। আর সন্ধ্যাবেলা যে লোকটি ঈমানদার ছিলো, সকালে সে কাফির হয়ে যাবে। সে সময়ের বসে থাকা ব্যক্তি দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির চাইতে উত্তম হইবে এবং দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি হেঁটে চলা ব্যক্তির চাইতে উত্তম এবং হেঁটে চলা ব্যক্তি দৌড়ে চলা ব্যক্তির চাইতে উত্তম হইবে। লোকজন বললো, আপনি আমাদের কি করিতে আদেশ দিচ্ছেন? তিনি বলিলেন, তোমরা তোমাদের ঘরের পর্দার ন্যায় হয়ে যাও [বের হয়ো না]।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪২৬৩

আল-মিক্বদাদ ইবনিল আসওয়াদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি ফিতনা হইতে দূরে থাকিবে, সেই সৌভাগ্যবান; যে লোক ফিতনা হইতে দূরে থাকিবে, সেই সৌভাগ্যবান; যে ফিতনা হইতে দূরে থাকিবে, সেই সৌভাগ্যবান। আর যে ব্যক্তি ফিতনায় পড়ে ধৈর্য ধারণ করিবে, তাহাঁর জন্য কতই না মঙ্গল!

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩ঃ জিহবা সংযত রাখা

৪২৬৪

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, অচিরেই বধির, মুক ও অন্ধকারাচ্ছন্ন ফিতনার সৃষ্টি হইবে, যে কেউ এর নিকটবর্তী হইবে। আর সেই সময় মুখে কিছু বলা তরবারি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার ন্যায় মারাত্মক হইবে। {৪২৬৪}

দুর্বলঃ মিশকাত হা/৫৪০২।

{৪২৬৪} আবু দাউদ এটি একক ভাবে বর্ণনা করেছেন। এর সনদ দুর্বল। সনদের আব্দুর রহমান ইবনি বায়লামানী সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ যয়ীফ।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪২৬৫

আব্দুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, নিশ্চয়ই অচিরে এরূপ ফিতনা সৃষ্টি হইবে, যা সমস্ত আরবকে ধংসের মুখে ঠেলে দিবে। সেই ফিতনায় নিহতরা জাহান্নামী হইবে। জিহবার ব্যবহার তখন তরবারীর আঘাতের চাইতে মারাত্মক হইবে।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪২৬৬

আব্দুল্লাহ ইবনি আব্দুল কুদ্দুস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি “যিয়াদ নামক এক ব্যক্তি হইতে” না বলে “সাদা কান বিশিষ্ট এক ব্যক্তি হইতে” বলিয়াছেন। {৪২৬৫}

আমি এটি সহিহ এবং যঈফেও পাইনি।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

অনুচ্ছেদ-৪ঃ ফিত্বনাহ্‌র সময় যাযাবর হওয়ার অনুমতি

৪২৬৭

আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ অচিরেই বকরীই হইবে মুসলিমদের উত্তম সম্পদ। তা নিয়ে তারা পাহাড়ের চূড়ায় ও বৃষ্টির পানি এলাকায় চলে যাবে, তাহাদের দ্বীনকে ফিতনা হইতে রক্ষার জন্য পালাবে।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৫ঃ ফিত্বনাহ্‌র সময় যুদ্ধে জড়ানো নিষেধ

৪২৬৮

আল-আহনাফ ইবনি ক্বাইস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি যুদ্ধে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলাম। আবু বাক্‌রাহ [রাদি.] আমার সঙ্গে সাক্ষাত করে বলিলেন, তুমি ফিরে যাও। কেননা আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি; দুই মুসলিম তরবারি নিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হলে হত্যাকারী ও নিহত উভয়েই জাহান্নামে যাবে। তিনি বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! হত্যাকারী তো জাহান্নামে যাবেই, তবে নিহত ব্যক্তি কেন যাবে? তিনি বলেনঃ নিশ্চয়ই সেও তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে হত্যা করিতে সংকল্পবদ্ধ।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪২৬৯

মুহাম্মাদ ইবনিল মুতাওয়াককিল আল-আসকালানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তার সূত্রে সংক্ষেপে পূর্বোক্ত হাদিসের অর্থানুরূপ বর্ণনা করেছেন। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] মুহাম্মাদ ইবনিল মুতাওয়াককিল সম্পর্কে বলেন, দূর্বল ভাই, তাহাকে হুসাইন বলা হয়। {৪২৬৮}

আমি এটি সহিহ ও যঈফেও পাইনি।

{৪২৬৮} এর পূর্বেরটি দেখুন।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

অনুচ্ছেদ-৬ঃ ঈমানদার ব্যক্তিকে হত্যা করা গুরুতর অপরাধ

৪২৭০

খালিদ ইবনি দিহক্বান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা যালকিয়া নামক স্থানে কনস্টান্টিনোপল যুদ্ধে লিপ্ত ছিলাম। তখন ফিলিস্তিনবাসী হানী ইবনি কুলসুম ইবনি শারীক আল-কিনানী নামক জনৈক সম্মানিত ও উত্তম ব্যক্তি এসে আব্দুল্লাহ ইবনি আবু যাকারিয়াকে সালাম দিলেন, যার মর্যাদা সম্পর্কে তিনি অবহিত ছিলেন। খালিদ আমাদের বলিলেন, আব্দুল্লাহ ইবনি আবু যাকারিয়া বর্ণনা করেছেন, আমি উম্মুদারদাকে বলিতে শুনিয়াছি, আমি আবু দারদা [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, আল্লাহ সব গুনাহই ক্ষমা করবেন; কিন্তু মুশরিক অবস্থায় কেউ মারা গেলে অথবা কোন ঈমানদার ব্যক্তি অপর কোন ঈমানদারকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করলে [তা ক্ষমা করবেন না]। অতঃপর হানী ইবনি কুলসূম বলেন, আমি মাহমূদ ইবনির রবীকে উবাদাহ ইবনিস সামিত [রাদি.] হইতে হাদিস বর্ণনা করিতে শুনিয়াছি যে, তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে এই হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি কোন ঈমানদারকে হত্যা করলো এবং এতে আনন্দিত হলো, আল্লাহ তার কোন ফরয বা নফল ইবাদাত কবুল করবেন না। খালিদ আমাদের বলেন যে, ইবনি আবু যাকারিয়া পর্যায়ক্রমে উম্মু দারদা ও আবু দারদার সূত্রে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করে বলেন, তিনি বলিয়াছেনঃ ঈমানদার ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত কোন হারাম রক্তপাত না ঘটাবে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সৎ ও হালকা পিঠবিশিষ্ট গণ্য হইবে। যখন সে কোন হারাম রক্তপাত ঘটাবে তখন দুর্বল হয়ে পড়বে। আর হানী ইবনি কুলসূম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] মাহমূদ ইবনির রবী এবং উবাদাহ ইবনিস সামিতের সূত্রে রাসূলুলাহ [সাঃআঃ] হইতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪২৭১

সাদাক্বাহ ইবনি খালিদ বা অন্য কারো সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, খালিদ ইবনি দিহক্বান বলিয়াছেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনি ইয়াহইয়া আল-গাস্‌সানীকে বলিলাম, তাহাঁর [নাবী [সাঃআঃ]]-এর বাণী “ইগ্‌তাবাতা বিকাত্‌লিহি” এর অর্থ কি? তিনি বলেন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যারা ফিতনা‌য় পতিত হয়ে পরস্পর যুদ্ধ করিবে। অতঃপর কাউকে হত্যার পর দেখিতে পাবে, নিহত ব্যক্তি হিদায়াতের উপর ছিলো। আর সে এজন্য আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করে না। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, তিনি বলিয়াছেন, “ফাতাবাতা এর অর্থ সে অধিক রক্তপাত ঘটিয়েছে। {৪২৭০}

{৪২৭০} আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ মাকতু

৪২৭২

মুজালিদ ইবনি আওফ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

খারিজাহ ইবনি যায়িদ [রাদি.] বলেন, আমি যায়িদ ইবনি সাবিত [রাদি.]-কে কুরআনের এই স্থান সম্পর্কে বলিতে শুনেছিঃ “যে ব্যক্তি কোন মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তার পরিণাম হইবে চিরস্থায়ী জাহান্নাম” [৪ঃ৯৩] এই আয়াত সূরাহ ফুরকানের এ আয়াত “যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন কিছুকে ডাকে না এবং অন্যায়ভাবে এরূপ কোন ব্যক্তিকে হত্যা করে না, যা আল্লাহ হারাম করেছেন”- এই আয়াতের ছয় মাস পর অবতীর্ণ হয়েছে। {৪২৭১}

{৪২৭১} নাসারী। সানাদে আবদুর রহমান ইবনি ইসহাক্ব রয়েছে। হাকিম যাহাবী বলেনঃ সে বিনাদ সূত্রে মুনকার হাদিসসমূহ বর্ণনা করে। ঈমাম দারাকুতনী তাহাকে দুর্বল বলিয়াছেন।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ মুনকার

৪২৭৩

সাঈদ ইবনি জুবাইর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি আব্বাস [রাদি.]-কে উপরোক্ত আয়াত সম্পর্কে বলিলাম। তিনি বলেন, সূরাহ ফুরকানের এই আয়াত যখন নাযিল হলো, “যারা আল্লাহ সঙ্গে অন্য কোন কিছুকে ইলাহ্ বলে ডাকে না এবং যে আত্মাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাহাকে হত্যা করে না; কিন্তু সত্য বা শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তা করে।” তখন মাক্কাহ্র মুশরিকরা বললো, আমরাই তো আল্লাহর নিষিদ্ধ করা আত্মা হত্যা করেছি এবং আল্লাহর সঙ্গে অন্য ইলাহকে ডেকেছি ও ব্যভিচার করেছি। মহান আল্লাহ তখন অবতীর্ণ করলেনঃ “কিন্তু যারা তাওবাহ করিবে ও ঈমান এনে সৎকাজ করিবে, আল্লাহ তাহাদের অন্যায়গুলো পরিবর্তন করে নেকী দিবেন”। আর এ আয়াত তাহাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, সূরাহ আন-নিসার এই আয়াত সম্পর্কে “যে ইচ্ছাকৃতভাবে কোন ঈমানদারকে হত্যা করিবে, তার পরিণাম হইবে জাহান্নাম” [৪ঃ৬৮]। তিনি বলিয়াছেন, লোকটি যখন ইসলামী শরীআতের পরিচয় পাওয়ার পর কোন ঈমানদারকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করিবে, তার পরিণাম জাহান্নাম। তার কোন তাওবাহ কবুল হইবে না। একথা মুজাহিদের নিকট বর্ণনা করায় তিনি বলিলেন, কিন্তু যে অনুতপ্ত ও লজ্জিত হয়ে তাওবাহ করিবে তার তাওবাহ গ্রহণ হইবে।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪২৭৪

উক্ত ঘটনা প্রসঙ্গে ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এ আয়াত “যারা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহকে ডাকে না”- মুশরিকদের পরে নও-মুসলিমদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে, আরো নাযিল হয়েছে “হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের উপর সীমালঙ্ঘন করেছো; তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না”। {৪২৭৩}

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪২৭৫

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি কোন ঈমানদারকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করিবে” এ আয়াতকে কোন আয়াতই মানসূখ করেনি।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪২৭৬

আবু মিজলায [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি মহান আল্লাহর এ বানী প্রসঙ্গে বলেনঃ “যে ব্যক্তি কোন ঈমানদারকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করিবে, তার শাস্তি হইবে চিরস্থায়ী জাহান্নাম”, এটা হলো তার পরিণাম। তবে আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাহাকে ক্ষমা করিতে পারেন। {৪২৭৫}

{৪২৭৫} বায়হাক্বী।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ হাসান মাকতু

অনুচ্ছেদ-৭ঃ শহীদ হওয়ার আশা পোষণ

৪২৭৭

সাঈদ ইবনি যায়িদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এ সময় তিনি ফিতনা ও এর ভয়াবহতা সম্পর্কে অলোচনা করেন। তখন আমরা বলিলাম অথবা লোকেরা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! এই ফিতনা যদি আমাদের পেয়ে বসে, তবে তো ধ্বংস। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ কখনো নয়, বরং তখন নিহত হলে তা তোমাদের জন্য যথেষ্ট হইবে। সাঈদ [রাদি.] বলেন, পরে আমি দেখিতে পেলাম, আমার ভাইয়েরা ফিতনাইয় নিহত হয়েছেন।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪২৭৮

আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ আমার এ উম্মাত দয়াপ্রাপ্ত, পরকালে এদের কোন শাস্তি হইবে না, আর ইহকালে তাহাদের শাস্তি হলো ফিত্বনাসমূহ, ভূমিকম্প ও যুদ্ধবিগ্রহ।

ফিতনা সম্পর্কিত হাদিস –  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By ইমাম আবু দাউদ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply