ফিতনার যুগে মুসলিমদের জমাআত আঁকড়ে থাকা অত্যাবশ্যক

ফিতনার যুগে মুসলিমদের জমাআত আঁকড়ে থাকা অত্যাবশ্যক

ফিতনার যুগে মুসলিমদের জমাআত আঁকড়ে থাকা অত্যাবশ্যক >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৩. অধ্যায়ঃ ফিতনার যুগে [দাঙ্গা ও দুর্যোগ অবস্থায়] মুসলিমদের জমাআত আঁকড়ে থাকা অত্যাবশ্যক এবং কুফরের দিকে আহবানকারীদের সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশ

৪৬৭৮

আবু ইদ্রীস খাওলানী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি হুযাইফাহ্ ইবনি ইয়ামান [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছি যে, লোকজন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট কল্যাণের বিষয়ে প্রশ্ন করতো আর আমি তাহাঁর নিকট প্রশ্ন করতাম অকল্যাণ সম্পর্কে এ ভয়ে যে, পরে না তা আমাকে পেয়ে বসে। তাই আমি [কোন এক সময়] প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা ছিলাম অজ্ঞতা ও অমঙ্গলের মধ্যে। তারপর আল্লাহ আমাদের জন্য এ কল্যাণ প্রদান করিলেন। এ কল্যাণের পরও কি কোন অকল্যাণ আছে? তিনি বলিলেন, হাঁ। তারপর আমি বললাম, ঐ অকল্যাণের পর কি আবার কল্যাণ আছে? তিনি বলিলেন, হাঁ, তবে তাতে ধুম্রতা আছে। আমি বললাম, কী সে ধুম্রতা? তিনি বলিলেন, তখন এমন একদল লোকের উদ্ভব হইবে যারা আমার প্রবর্তিত পদ্ধতি ছাড়া অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করিবে, আমার প্রদর্শিত হিদায়াতের পথ ছেড়ে অন্যত্র হিদায়াত তুমি খুঁজবে। দেখবে তাদের মধ্যে ভাল মন্দ উভয়টাই। তখন আমি আরয করলাম, এ কল্যাণের পর কি কোন অকল্যাণ আছে? তিনি বলিলেন, হাঁ, জাহান্নামের দরজার দিকে আহ্বানকারীদের উদ্ভব হইবে। যারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে তারা তাদেরকে তাতে নিক্ষেপ করিবে। আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রসূল! তাদের পরিচয় ব্যক্ত করুন। তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, তাদের বর্ণ হইবে আমাদেরই মতো এবং তারা আমাদেরই ভাষায় কথা বলবে। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! যদি সে পরিস্থিতির সম্মুখীন হই তবে আমাদেরকে আপনি কী করিতে বলেন? তিনি বলিলেন, তোমরা মুসলিমদের জামাআত ও ইমামের সাথে আকঁড়ে থাকিবে। আমি বললাম, যদি তাদের কোন জামাআত বা ঈমাম না থাকে? তিনি বলিলেন, তা হল সে সব বিচ্ছিন্নতাবাদ থেকে তুমি আলাদা থাকিবে-যদিও তুমি একটি বৃক্ষমূল দাঁত দিয়ে আকঁড়ে থাক এবং এ অবস্থায়ই মৃত্যু তোমার নাগাল পায়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৩১, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৩৩]

৪৬৭৯

হুযাইফাহ্ ইবনি ইয়ামান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন- আমি আরয করলাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমরা ছিলাম অকল্যাণের মধ্যে; তারপর আল্লাহ আমাদের জন্য কল্যাণ নিয়ে আসলেন। আমরা তাতে অবস্থান করছি। এ কল্যাণের পিছনে কি আবার কোন কল্যাণ আছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, এ কল্যাণের পিছনে কি আবার কোন অকল্যাণ আছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ! আমি বললাম, তা কিভাবে? তিনি বলিলেন, আমার পরে এমন সব নেতার উদ্ভব হইবে, যারা আমার হিদায়াতে হিদায়াতপ্রাপ্ত হইবে না এবং আমার সুন্নাতও তারা অবলম্বন করিবে না। অচিরেই তাদের মধ্যে এমন সব ব্যক্তির উদ্ভব হইবে, যাদের আত্মা হইবে মানব দেহে শাইতানের আত্মা। রাবী বলেন, তখন আমি বললাম, তখন আমরা কী করবো হে আল্লাহর রসূল! যদি আমরা সে পরিস্থিতির সম্মুখীন হই? বলিলেন, তুমি আমীরের কথা শুনবে এবং মানবে যদি তোমার পিঠে বেত্রাঘাত করা হয় বা তোমার ধন-সম্পদ কেড়েও নেয়া হয়, তবুও তুমি শুনবে এবং মানবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৩২, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৩৪]

৪৬৮০

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.]-এর সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণিত, যে ব্যক্তি [আমীরের] আনুগত্য থেকে বেরিয়ে গেল এবং জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল সে জাহিলিয়্যাতের মৃত্যুবরণ করিল। আর যে ব্যক্তি লক্ষ্যহীন নেতৃত্বের পতাকাতলে যুদ্ধ করে, গোত্রপ্রীতির জন্য ক্রুদ্ধ হয় অথবা গোত্র প্রীতির দিকে আহ্বান করে অথবা গোত্রের সাহায্যার্থে যুদ্ধ করে [আল্লাহর সন্তুষ্টির কোন ব্যাপার থাকে না] আর তাতে নিহত হয়, সে জাহিলিয়্যাতের মৃত্যুবরণ করে। আর যে ব্যক্তি আমার উম্মাতের উপর আক্রমণ করে, আমার উম্মাতের ভালমন্দ সকলকেই নির্বিচারে হত্যা করে। মুমিনকেও রেহাই দেয় না এবং যার সাথে সে ওয়াদাবদ্ধ হয় তার ওয়াদাও রক্ষা করে না, সে আমার কেউ নয়, আমিও তার কেউ নই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৩৩, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৩৫]

৪৬৮১

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.]-এর সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৩৪, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৩৬]

৪৬৮২

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে বেরিয়ে গেল এবং জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং মৃত্যুবরণ করলো, সে জাহিলিয়্যাতের মৃত্যুবরণ করলো এবং যে ব্যক্তি লক্ষ্যহীন নেতৃত্বের পতাকাতলে যুদ্ধ করে, গোত্রের টানে ক্রুদ্ধ হয় এবং গোত্র প্রীতির জন্যেই যুদ্ধ করে। সে আমার উম্মাত নয়। আর যে ব্যক্তি আমার উম্মাত থেকে বেরিয়ে আমার উম্মাতেরই পূণ্যবান ও পাপাচারী সকলের গর্দান কাটে, মুমিনদেরকেও রেহাই দেয় না এবং যার সাথে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয় তার অঙ্গীকারও পালন করে না, সে আমার উম্মাত নয়। [ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৩৫, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৩৭]

৪৬৮৩

মুহাম্মাদ ইবনি মুসান্না এবং ইবনি বাশ্শার হইতে বর্ণীতঃ

এ হাদীস রিওয়ায়াত করিয়াছেন। কিন্তু ইবনি মুসান্না তাহাঁর বর্ণনায় নবী [সাঃআঃ]-এর উল্লেখ করেননি।

পক্ষান্তরে ইবনি বাশ্শার তাহাঁর বর্ণনায় “রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন” বলে উল্লেখ করিয়াছেন যা উপর্যুক্ত হাদীসের অনুরূপ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৩৬, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৩৮]

৪৬৮৪

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার আমীরের মধ্যে এমন কোন ব্যাপার দেখে যা সে অপছন্দ করে, তবে সে যেন ধৈর্যের পথ অবলম্বন করে। কেননা যে ব্যক্তি জামাআত থেকে সামান্য পরিমাণ সরে গেল এবং এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করিল সে জাহিলিয়্যাতের মৃত্যুই বরণ করলো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৩৭, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৩৯]

৪৬৮৫

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার আমীরের কোন কার্যকলাপ অপছন্দ করে, তার উচিত ধৈর্যধারণ করা। কেননা যে কোন ব্যক্তিই শাসকের থেকে [তার আনুগত্য থেকে] বেরিয়ে গিয়ে বিঘৎ পরিমাণ সরে যাবে এবং তারপর এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করিবে, তার মৃত্যু জাহিলিয়্যাতের মৃত্যু হইবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৩৮, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৪০]

৪৬৮৬

জুনদাব ইবনি আবদুল্লাহ বাজালী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি লক্ষ্যহীন নেতৃত্বের পতাকাতলে যুদ্ধ করে, গোত্র প্রীতির দিকে আহ্বান জানায় এবং গোত্রপ্রীতির কারণেই সাহায্য করে, তার মৃত্যু জাহিলিয়্যাতের মৃত্যু। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৩৯, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৪১]

৪৬৮৭

নাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] আবদুল্লাহ ইবনি মুতী [রাদি.]-এর নিকট এলেন তখন হার্রা [হৃদয় বিদারক]- এর ঘটনা ঘটেছে এবং যুগটা ছিল ইয়াযীদ ইবনি মুআবিয়ার যুগ। তখন তিনি [ইবনি মুতী] বলিলেন, আবু আবদুর রহমানের জন্য বিছানা পেতে দাও। তখন তিনি বলিলেন, আমি তোমার কাছে বসতে আসিনি, এসেছি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট যে হাদীস শুনেছি তা তোমাকে শুনাতে। আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছি, যে ব্যক্তি [আমীরের] আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নিয়ে মৃত্যুবরণ করে সে কিয়ামাতের দিন আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হইবে যে তার কোন দলীল থাকিবে না। আর যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলো আর তার ঘাড়ে আনুগত্যের কোন চুক্তি নেই তার মৃত্যু জাহিলিয়্যাতের মৃত্যু হইবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৪০, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৪২]

৪৬৮৮

ইবনি নুমায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৪১, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৪৩]

৪৬৮৯

আমর ইবনি আলী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

নাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত উক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৬৪২, ইসলামিক সেন্টার- ৪৬৪৪]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply