ফার্‌যের পূর্বে ও পরে নিয়মিত সুন্নাতের ফাযীলাত

ফার্‌যের পূর্বে ও পরে নিয়মিত সুন্নাতের ফাযীলাত

ফার্‌যের পূর্বে ও পরে নিয়মিত সুন্নাতের ফাযীলাত >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৫. অধ্যায়ঃ ফার্‌যের পূর্বে ও পরে নিয়মিত সুন্নাতের ফাযীলাত এবং তার সংখ্যার বিবরণ

১৫৭৯
আম্‌র ইবনি আওস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ
তিনি বলেন, যে রোগে আমবাসাহ ইবনি আবু সুফ্‌ইয়ান মৃত্যুবরণ করিয়াছেন-সে রোগ শয্যায় থাকাকালে তিনি আমার কাছে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন যা খুবই খুশীর বা আনন্দের। তিনি বলেছেন: আমি উম্মু হাবীবাহ্‌কে বলিতে শুনেছি; তিনি বলেছেনঃ আমি রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-কে এ কথা বলিতে শুনেছি যে, দিন ও রাতে যে ব্যক্তি মোট ১২ রাকআত [সুন্নাত] নামাজ আদায় করে তার বিনিময়ে জান্নাতে ঐ ব্যক্তির জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হয়। উম্মু হাবীবাহ্‌ বলেছেন: আমি যে সময়ে রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]- এর কাছে এ নামাজ সম্পর্কে শুনেছি তখন থেকে আর কখনো তা আদায় করা পরিত্যাগ করিনি। আম্‌বাসাহ ইবনি আবু সুফ্‌ইয়ান বলেছেন: এ নামাজ সম্পর্কে যখন আমি উম্মু হাবীবার কাছে শুনেছি; তখন থেকে আর ঐ নামাজ গুলো কখনো পরিত্যাগ করিনি। আম্‌র ইবনি আওস বলেছেনঃ যে সময়ে এ নামাজ সম্পর্কে আমি আম্‌বাসাহ্‌ ইবনি আবু সুফ্‌ইয়ান- এর নিকট থেকে শুনেছি সে সময় থেকে আর কখনো তা পরিত্যাগ করিনি। নুমান ইবনি সালিম বলেছেন: যে সময় আমি এ হাদীসটি আম্‌র ইবনি আওস- এর নিকট থেকে শুনেছি তখন থেকে কখনো আর তা পরিত্যাগ করিনি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৬৪, ইসলামিক সেন্টার-১৫৭১]

১৫৮০
নুমান ইবনি সালিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ
একই সানাদে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে, [হাদীসটি হল] যে ব্যক্তি দিনে ১২ রাকআত নফল [সুন্নাত] নামাজ আদায় করে তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়।{২৯}[ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৬৫, ইসলামিক সেন্টার-১৫৭২]

{২৯} এ ১২ রাকআত হলঃ যুহরের পূর্বে ৪ রাকআত ও পরে ২ রাকআত, মাগরিবের পরে ২ রাকআত, ইশার পরে ২ রাকআত এবং ফাজ্রের পূর্বে ২ রাকআত মোট ১২ রাকআত। যুহরের পর ৪ রাকআত আদায় করা সম্বন্ধে উম্মু হাবীবাহ [রাদি.] থেকে হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি যুহরের পূর্বে ৪ রাকআত ও পরে ৪ রাকআত হিফাযাত করে আদায় করে যাবে আল্লাহ জাহান্নামকে তার জন্য হারাম করে দিয়েছেন। [আবু দাউদ, তিরমিযী, মুসলিম শারহে নাবাবী- ১ম খন্ড ২৫১ পৃষ্ঠা]

১৫৮১
নবী [সাঃআঃ] এর স্ত্রী উম্মু হাবীবাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছি। [তিনি বলেছেন] কোন মুসলিম বান্দা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে প্রতিদিন ফার্য ছাড়াও আরো ১২ রাকআত নাফ্‌ল নামাজ আদায় করে আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরী করেন অথবা [বর্ণনাকারীর সন্দেহ] জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হয়। উম্মু হাবীবাহ্‌ [রাদি.] বর্ণনা করিয়াছেন- এরপর আর কখনো এ নামাজ সমূহ আদায় করিতে বিরত থাকিনি। আর আমর ইবনি আওস বলেছেন-পরবর্তী সময়ে কখনো আমি এ নামাজ আদায় করিতে বিরত হই না। নুমান ইবনি সালিমও অনুরূপ কথাই বলেছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৬৬, ইসলামিক সেন্টার- ১৫৭৩]

১৫৮২
উম্মু হাবীবাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেন: কোন মুসলিম বান্দা যদি উত্তমরূপে ওযু করে আল্লাহর উদ্দেশে প্রতিদিন নামাজ আদায় করে- এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৬৭ , ইসলামিক সেন্টার-১৫৭৪]

১৫৮৩
আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে যুহরের পূর্বে দু রাকআত, পরে দু রাকআত, মাগরিবের সালাতের পর দু রাকআত, ইশার সালাতের পর দু রাকআত এবং জুমুআর সালাতের পর দু রাকআত নামাজ আদায় করেছি। তবে মাগরিব, ইশা ও জুমুআর সালাতের পরের দু রাকআত নামাজ নবী [সাঃআঃ] এর সাথে তাহাঁর বাড়ীতে আদায় করেছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৫৬৮, ইসলামিক সেন্টার- ১৫৭৫]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply