নবী [সাঃআঃ]-এর কন্যা ফাতিমা [রাদি.]-এর ফযিলত

নবী [সাঃআঃ]-এর কন্যা ফাতিমা [রাদি.]-এর ফযিলত

নবী [সাঃআঃ]-এর কন্যা ফাতিমা [রাদি.]-এর ফযিলত >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৫. অধ্যায়ঃ নবী [সাঃআঃ]-এর কন্যা ফাতিমা [রাদি.]-এর ফযিলত

৬২০১. মিসওয়ার ইবনি মাখরামাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-কে মিম্বারের উপর থেকে বলিতে শুনেছেন, হিশাম ইবনি মুগীরার ছেলেরা আমার নিকট অনুমতি চেয়েছে যে, তাদের কন্যাকে আলী ইবনি আবু তালিবের নিকট তারা বিবাহ দিতে চায়। আমি তাদের অনুমতি দিব না, আমি তাদের দিব না, আমি তাদের দিব না। কিন্তু যদি আলী ইবনি আবু তালিব আমার কন্যাকে তালাক দিয়ে তাদের মেয়েকে বিবাহ করিতে চায়, সেটা আলাদা কথা। কারণ আমার কন্যা আমারই একটা অংশ। যা তাকে সম্মানহানি করে তা আমাকেও সম্মানহানি করে, তাকে যা কষ্ট দেয়, আমাকেও তা কষ্ট দেয়।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৮৬, ইসলামিক সেন্টার-৬১২৬]

৬২০২ . মিসওয়ার ইবনি মাখরামাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেন: ফাতিমা আমারই অংশবিশেষ, তাঁকে যা কষ্ট দেয় তা আমার প্রতিও কষ্টদায়ক।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৮৭, ইসলামিক সেন্টার-৬১২৭]

৬২০৩. আলী ইবনি হুসায়ন [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

হুসায়ন ইবনি আলী [রাদি.]-এর শাহাদতের পর ইয়াযীদ ইবনি মুআবিয়াহ্ [রাদি.]-এর নিকট হইতে রাযা যখন মাদীনায় এলেন, মিসওয়ার ইবনি মাখরামাহ্ তখন তাহাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিলেন এবং তাঁকে বলিলেন, আপনার কোন প্রয়োজন থাকলে আমাকে বলবেন। আমি বললাম, না। মিসওয়ার বলিলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর তলোয়ারটি কি আপনি আমাকে দান করবেন? কেননা আমার ভয় হয় যে, লোকেরা এটি আপনার নিকট হইতে আয়ত্ব করে নিবে। আল্লাহর শপথ আপনি যদি সে তলোয়ারটি আমাকে দিয়ে দেন তাহলে যতক্ষণ আমার জীবন থাকে এটি কেউ ছুঁইতে পারবে না। [মিসওয়ার আরো বলেন] ফাতিমার জীবিতাবস্থায় আলী [রাদি.] আবু জাহলের মেয়েকে বিবাহরে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন আমি রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-কে এ ব্যাপার নিয়ে মানুষদের সম্মুখে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিতে শুনেছি। আমি তখন সদ্য বালিগ বয়সের। তখন তিনি বলিলেন, ফাতিমা আমারেই অংশ। আমার আশঙ্কা হচ্ছে, সে তার দ্বীনের সম্পর্কে ফিতনায় না পতিত হয়।

তারপর তিনি আব্দ-ই-শাম্স গোষ্ঠীয় তাহাঁর জামাতার আলোচনা করিলেন, তার আত্মীয়তার প্রশংসা করিলেন এবং বলিলেন, সে আমায় যা বলেছে সত্য বলেছে, সে আমার সাথে ওয়াদা করেছে, আর তা পালন করেছে। আর আমি কোন হালালকে হারাম করি না, বা হারামকে হালাল করি না, তবে আল্লাহর শপথ! আল্লাহর রসূলের কন্যা এবং আল্লাহর শত্রুর কন্যা কক্ষনো এক স্থানে একত্র হইতে পারে না।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৮৭, ইসলামিক সেন্টার-৬১২৭]

৬২০৪.মিসওয়ার ইবনি মাখরামাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আলী ইবনি আবু তালিব [রাদি.] নবী-তনয় ফাতিমাকে ঘরে রেখেই আবু জাহলের কন্যাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ফাতিমা [রাদি.] যখন এ খব শুনলেন তখন রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে বলিলেন, লোকেরা কথোপকথন করে যে, আপনি আপনার কন্যাদের সম্বন্ধে রাগ প্রকাশ করেন না। আর এই যে, আলী [রাদি.] আবু জাহলের কন্যাকে বিবাহ করিতে যাচ্ছেন।

মিসওয়ার [রাদি.] বলিলেন, তখন নবী [সাঃআঃ] দাঁড়ালেন। এ সময় আমি শুনলাম, তিনি তাশাহুদ পড়লেন এবং বললেনঃ আমি আবুল আস ইবনি রাবীর নিকট বিয়ে দিয়েছি, সে আমাকে যা বলেছে তা বাস্তবে পরিণত করেছে। আর মুহাম্মাদ কন্যা ফাতিমা আমারই একটা টুকরা, আমি অপছন্দ করি যে, লোকে তাঁকে ফিতনায় ফেলুক। আল্লাহর শপথ! আল্লাহর রসূলের মেয়ে ও আল্লাহর শত্রুর মেয়ে কোন লোকের নিকট কক্ষনো একসাথে মিলিত হইতে পারে না। মিসওয়ার [রাদি.] বলেন, তারপর আলী [রাদি.] প্রস্তাব প্রত্যাহার করেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৮৯, ইসলামিক সেন্টার-৬১২৯]

৬২০৫. যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে এ সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

অবিকল হাদীস রিওয়ায়াত করেনে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৮৯, ইসলামিক সেন্টার-৬১৩০]

৬২০৬.আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] তাহাঁর কন্যা ফাতিমাকে ডেকে চুপিসারে কিছু বলিলেন। তখন তিনি ক্রন্দন করিলেন। পুনরায় চুপিসারে তিনি কিছু বলিলেন, তখন তিনি হেসে ফেললেন। আয়িশা [রাদি.] বলেন, আমি ফাতিমাকে বললাম, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] তোমাকে চুপিচুপি কি বলিলেন যে, তুমি কান্নাকাটি করে ফেললে এবং এরপর কি বলিলেন যে, তুমি হেসে ফেললে? ফাতিমা বলিলেন, চুপিসারে তিনি আমাকে তাহাঁর মৃত্যু সংবাদ দিলেন, তাই আমি কান্নাকাটি করলাম। অতঃপর চুপিচুপি তিনি বলিলেন, তাহাঁর পরিবার-পরিজনদের মাঝে সর্বপ্রথম তাহাঁর পেছনে যাবে আমি, তাই হাসলাম।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৯০, ইসলামিক সেন্টার-৬১৩১]

৬২০৭. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর স্ত্রীরা সবাই তাহাঁর নিকট ছিলেন, তাঁদের মধ্যে কেউ বাদ ছিলেন না। এমন সময় ফাতিমা [রাদি.] আসলেন। তাহাঁর চলার ভঙ্গি রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর চলার ধরণ থেকে একটুও আলাদা ছিল না। রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] যখন তাঁকে দেখলেন যখন তিনি এ বলে খোশ-আমদে জানালেন, মারহাবা, হে আমার আদরের মেয়ে! তারপর তাঁকে তাহাঁর ডানদিকে অথবা বামদিকে বসালেন এবং তাহাঁর সঙ্গে চুপিসারে কিছু বলিলেন। এতে তিনি খুব কান্নাকাটি করিলেন। যখন তিনি তাহাঁর অস্থিরতা দেখলেন, তিনি আবার তাহাঁর সাথে চুপেচুপে কিছু বলিলেন, তখন তিনি হেসে দিলেন। আমি তাঁকে বললাম, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] তাহাঁর সহধর্মিণীগণের উপস্থিতিতেই তোমার সাথে বিশেষভাবে কোন গোপন কথা বলেছেন। আবার তুমি কাঁদছ? তখন রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] উঠে গেলেন। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] তোমার নিকট কি বলেছেন? তিনি বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর গোপন কথা প্রচার করবো না। আয়িশা [রাদি.] বলেন, যখন রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর ইন্তিকাল হয়ে গেলে তখন আমি তার উপর আমার অধিকারের কসম দিয়ে বললাম, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] তোমাকে কী বলেছেন, আমাকে অবশ্যই বলিতে হইবে। তিনি বলিলেন, আচ্ছা, এখন তবে হ্যাঁ। প্রথমবার তিনি আমাকে গোপনে বলিলেন, জিব্রীল [আঃ] প্রতি বছর একবার কি দুবার আমাকে কুরআন তিলাওয়াত করান। এ বছর তিনি দুবার পুনরাবৃত্তি করালেন, আমার ধারণা হয় আমার সময় সন্নিকটে এসে গেছে। তুমি আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্যধারণ করো। কারণ, আমি তোমার জন্য কত উত্তম পূর্বসূরী। তখন আমি কাঁদলাম, যা আপনি দেখেছেন। তারপর আমার অস্থিরতা দেখে তিনি দ্বিতীয়বার চুপিসারে বলিলেন, হে ফাতিমা! মুমিন রমণীদের প্রধান ও এ উম্মাতের সকল মহিলাদের নেত্রী হওয়া কি তুমি অপছন্দ করো? ফাতিমা [রাদি.] বলিলেন, তখন আমি হাসলাম, আমার যে হাসি আপনি তা প্রত্যক্ষ করিয়াছেন। [

ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৯১, ইসলামিক সেন্টার-৬১৩২]

৬২০৮. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ]-এর সকল স্ত্রীগণ একত্রিত হলেন। তাঁদের মাঝে একজনও বাকী রইলেন না। তখন ফাতিমা [রাদি.] হেঁটে আসলেন। তার হাঁটার ধরণ যেন একেবারে রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর চলার ন্যায়। তিনি বলিলেন, হে কন্যা! তোমাকে স্বাগতম। অতঃপর তিনি তাকে তাহাঁর ডান পাশে অথবা বাম পাশে বসালেন এবং চুপিসারে কিছু কথা বলিলেন। এতে ফাতিমা [রাদি.] কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। এরপর তিনি তাঁকে চুপিসারে আবার কিছু বলিলেন, এতে তিনি হাসলেন। আমি তাঁকে বললাম, কিসে তোমাকে কাঁদাল? তিনি বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর গোপন কথা প্রকাশ করিতে পারি না। আমি বললাম, আমি আজকের ন্যায় কোন আনন্দকে বেদনার এতো কাছাকাছি দেখিনি। আমি বললাম, রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] আমাদের বাদ দিয়ে তোমাকে তাহাঁর কথা বলার জন্য বিশেষত্ব দান করিলেন। আর তুমি কাঁদছ? পুনরায় তাকে রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] কী বলেছেন, তা প্রশ্ন করলাম। তিনি বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর গোপন কথা ফাঁস করিতে পারি না। পরিশেষে যখন রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর ওফাত হলেন তখন আমি তাঁকে প্রশ্ন করলাম। তখন তিনি বলিলেন, তিনি [সাঃআঃ] আমাকে বলেছিলেন, “জিব্রীল [আঃ] প্রতি বছর একবার তাহাঁর সাথে কুরআন তিলওয়াত করিতেন। আর এ বছর তিনি তাহাঁর সাথে দুবার পুনরাবৃত্তি করিয়াছেন। এতে আমার ধারণা হয় নিশ্চয় মৃত্যু আমার সন্নিকটে। আর তুমিই আমার পরিবার পরিজনদের মধ্যে সর্বপ্রথম আমার সাথে মিলিত হইবে। তোমার জন্য কতই না ইত্তম অগ্রগামী। যখন আমি কেঁদেছি। তারপর তিমি আমাকে চুপিসারে বলিলেন, তুমি মুমিনা নারীদের প্রধান কিংবা এ উম্মাতের নারীদের নেত্রী হইবে তা কি পছন্দ করো না? এ কথা শুনে আমি হেসেছি।”

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০৯২, ইসলামিক সেন্টার-৬১৩৩]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply