ফাজায়েলে তাবলীগ

ফাজায়েলে তাবলীগ

এ বিষয়ে সরাসরি মুল হাদিস শরীফ থেকে পড়ুন >> মুয়াত্তা মালিক >> সহীহ বুখারী >> আদাবুল মুফরাদ >> সহীহ মুসলিম >> আবু দাউদ >> ইবনে মাজাহ >> তিরমিজি >> নাসাঈ >> মিশকাত >> রিয়াদুস সালেহীন >> বুলুগুল মারাম হাদীস শরীফ হতে

পরিচ্ছেদঃ ১. কুরআনের আলোকে তাবলীগ

সূরা মায়েদা : আয়াত ৫ : ৬৭

يَٰٓأَيُّهَا ٱلرَّسُولُ بَلِّغۡ مَآ أُنزِلَ إِلَيۡكَ مِن رَّبِّكَۖ وَإِن لَّمۡ تَفۡعَلۡ فَمَا بَلَّغۡتَ رِسَالَتَهُۥۚ وَٱللَّهُ يَعۡصِمُكَ مِنَ ٱلنَّاسِۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلۡكَٰفِرِينَ

হে রাসূল, তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার নিকট যা নাযিল করা হয়েছে, তা পৌঁছে দাও আর যদি তুমি না কর তবে তুমি তাঁর রিসালাত পৌঁছালে না। আর আল্লাহ তোমাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।

সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৩ঃ১০৪

وَلۡتَكُن مِّنكُمۡ أُمَّةٞ يَدۡعُونَ إِلَى ٱلۡخَيۡرِ وَيَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِۚ وَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ

আর যেন তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল হয়, যারা কল্যাণের প্রতি আহবান করবে, ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই সফলকাম।

সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৩ঃ১১০

كُنتُمۡ خَيۡرَ أُمَّةٍ أُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ تَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِوَتَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَتُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِۗ وَلَوۡ ءَامَنَ أَهۡلُ ٱلۡكِتَٰبِ لَكَانَ خَيۡرٗا لَّهُمۚ مِّنۡهُمُ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ وَأَكۡثَرُهُمُ ٱلۡفَٰسِقُونَ

তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে, আর আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করবে। আর যদি আহলে কিতাব ঈমান আনত, তবে অবশ্যই তা তাদের জন্য কল্যাণকর হত। তাদের কতক ঈমানদার। আর তাদের অধিকাংশই ফাসিক।

সূরা হা-মীম সিজদাহ ৪১ঃ৩৩

وَمَنۡ أَحۡسَنُ قَوۡلٗا مِّمَّن دَعَآ إِلَى ٱللَّهِ وَعَمِلَ صَٰلِحٗا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ ٱلۡمُسۡلِمِينَ

আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত’? [সূরা হা-মীম সিজদাহ ৪১ঃ৩৩]

পরিচ্ছেদঃ ৮. সালাত ও খুতবা সংক্ষিপ্তকরণ

Muslim ১৮৮১। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যিমাদ (রাঃ) মক্কায় আগমন করলেন। তিনি ছিলেন আযদ শানুয়া গোত্রের লোক। তিনি বাতাস লাগার ঝাঁড় ফুঁক করতেন। তিনি মক্কার কতিপয় নির্বোধ লোককে বলাবলি করতে শুনলেন যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মাদ। যিমাদ বললেন, আমি যদি এ লোকটিকে দেখতাম, হয়ত আমার হাতে আল্লাহ তাঁকে শিফা দিতেন। রাবী বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি ঐ সব ব্যাধির ঝাঁড় ফুঁক করে থাকি আর আল্লাহ আমার হাতে যাকে ইচ্ছা শিফা দান করেন। আপনি কি ঝাঁড় ফুঁক করতে ইচ্ছুক?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সকল হামদ ও প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, আমি তাঁরই হামদ বর্ণনা করছি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন কেউ তাকে গোমরাহ করতে পারে না। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কেউ হিদায়াত করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই। তিনি এক তার কোন শরীক নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও তাঁরই রাসুল।

অতঃপর বক্তব্য এই যে, রাবী বলেন, তিনি (যিমাদ) বললেন, আপনার বাক্যগুলো পূনরাবৃত্তি করুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার পূনরাবৃত্তি করলেন। রাবী বলেন, যিমাদ (রাঃ) বলেন, অনেক গণক, যাদুকর ও কবিদের কথাবার্তা শুনেছি কিন্তু আপনার এ বাক্যগুলোর মত আর শুনিনি। আপনার এ বাক্যগুলো সাগরের গভীরতায় পৌছে গিয়েছে।

রাবী বলেন যিমাদ (রাঃ) বললেন, হাত বাড়িয়ে দিন আমি আপনার কাছে ইসলামের বায়আত গ্রহণ করব। রাবী বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বায়আত করে নিলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ বায়আত কি তোমার কাওমের পক্ষ হতেও? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমার কাওমের পক্ষ হতেও।

রাবী বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ছোট সেনাদল প্রেরণ করলেন। তারা যিমাদের (রাঃ) গোত্রের নিকট দিয়ে অতিক্রম করল। সেনাপ্রধাণ তার সৈন্যদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি যিমাদের কাওমের নিকট থেকে কোন জিনিস গ্রহন করেছ? তখন তাদের মধ্যে থেকে এক ব্যাক্তি বলল, আমি একটি পানির (উযূ (ওজু/অজু/অযু)র) পাত্র নিয়েছি। সেনানায়ক বললেন, তা ফিরিয়ে দাও। এ মানুষগুলো হল যিমাদ (রাঃ) এর গোত্রের লোক।

‏ إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلاَ هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أَمَّا بَعْدُ

(১)

রাসূলুল্লাহ (সা.) এসব শব্দ দিয়ে তাঁর খুৎবা শুরু করতেন, অতঃপর বক্তব্য শুরু করতেন।

اِنَّ الْحَمدَ للهِ نَحْمَدُهُ وَ نَسْتَعِيْنُهُ مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَ مَنْ يُّضْلِلْ فَلَا هَادِىَ لَهُ وَ أَشْهَدُ أَنْ لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَ رَسُوْلُهُ


উচ্চারণ : ইন্নাল হামদা লিল্লাহি নাহমাদুহু ওয়া নাসতায়িনুহু মাই ইয়াহদিহিল্লাহু ফালা মুদিল্লা লাহু ওয়া মাই ইয়ুদলিল ফালা হাদিয়া লাহু ওয়া আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু। ফাইন্না খাইরাল হাদিসি কিতাবুল্লাহ, ওয়াখাইরাল হাদিয়ি হাদিয়ি মুহাম্মদ (সঃ) , ওয়াশাররাল উমুরি মুহদাসাতুহা, ওয়া কুল্লা মুহদাসাতিম বিদ’আ, ওয়া কুল্লা বিদ’আ তিন দ্বলালা, ওয়া কুল্লা দ্বালালাতিন ফিন নার!, অর্থ-নিশ্চয় প্রশংসা আল্লাহর।আমরা আল্লাহর প্রশংসা করছি।আমরা আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাচ্ছি।আল্লাহ যাকে হেদায়ত দেন,তাকে কেউ গোমরাহ করতে পারবে না।এবং আল্লাহ যাকে গোমরাহ করেন, তাকে কেউ হেদায়ত দিতে পারবে না।আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ এক, তার কোনো শরীক নাই।এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মদ সাঃ শেষ নবী।

মুসলিম, মিশকাত, তিরমিজি, আবু দাউদ

নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসুলিহিল কারিম। আম্মা বা’দ।  

অর্থ- আমরা আল্লাহর প্রশংসা করছি।এবং রাসূলুল্লাহ সাঃ এর দুরুদ পাঠ করছি।অতঃপর–

আলহামদুল্লিাহি ওয়াহদাহু ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা মান লা নাবিয়্যা বাদাহু।  

অর্থ- সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর।তিনি এক ও অদ্বিতীয়। এবং সালাত ও সালাম ঐ নবীর উপর, যার পর আর কোনো নবী নেই।

Leave a Reply