ফাজরের নামাজের কিরাআত

ফাজরের নামাজের কিরাআত

ফাজরের নামাজের কিরাআত >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩৫. অধ্যায়ঃ ফাজরের নামাজের কিরাআত

৯০৯

আবদুল্লাহ ইবনি সায়িব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] আমাদেরকে নিয়ে মাক্কায় ভোরের [ফাজরের] নামাজ আদায় করিলেন। তিনি সুরা আল মুমিনূন পড়া শুরু করিলেন। তিনি তা পড়তে পড়তে মূসা ও হারূন [আঃ] অথবা ঈসা [আঃ] -এর আলোচনা সম্পর্কিত আয়াতে পৌছে গেলেন। [এ ব্যাপারে মুহাম্মাদ ইবনি আব্বাদ সন্দেহে পড়ে গেছেন অথবা রাবীদের মধ্যে মতভেদের সৃষ্টি হয়েছে]। এ সময় নবী [সাঃআঃ] -এর কাশি আসলে তিনি রুকূতে চলে গেলেন। আবদুল্লাহ ইবনি সায়িবও সলাতে উপস্থিত ছিলেন।

আবদুর রায্‌যাকের বর্ণনায় রয়েছে, তিনি কিরাআত পাঠ থামিয়ে দিয়ে রুকূতে চলে গেলেন।

তিনি তার বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনি আম্‌রের নাম উল্লেখ করিয়াছেন, কিন্তু ইবনিল আস-এর নাম উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯০৪, ইসলামিক সেন্টার-৯১৬]

৯১০

আমর ইবনি হুরায়স [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি ফাজরের সলাতে নবী [সাঃআঃ] -কে

 وَاللَّيْلِ إِذَا عَسْعَسَ

“ওয়াল্‌ লাইলি ইযা- আস্‌আসা” অর্থাৎ- “শপথ রাতের যখন সে চলে যেতে থাকে”- [সুরা আত্‌ তাকবীর ৮১ : ১৭] পাঠ করিতে শুনেছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯০৫, ইসলামিক সেন্টার-৯১৭]

৯১১

কুত্‌বাহ্‌ ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নামাজ আদায় করেছি এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নামাজ আদায় করিয়েছেন। তিনি

 ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ‏

“কাফ, ওয়াল কুরআ-নিল মাজীদ” অর্থাৎ- “কাফ, সম্মানিত কুরআনের শপথ”- [সুরা কাফ ৫০ : ১] পাঠ করিলেন। তিনি

‏ وَالنَّخْلَ بَاسِقَاتٍ

“ওয়ান্‌ নাখ্‌লা বা-সিকা-তিন” অর্থাৎ- “লম্বা খর্জুর বৃক্ষ…”- [সূরাহ কাফ ৫০ : ১০] পর্যন্ত পাঠ করিলেন। রাবী বলেন, আমিও তা পাঠ করলাম কিন্তু এর তাৎপর্য বুঝতে পারতাম না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯০৬, ইসলামিক সেন্টার-৯১৮]

৯১২

কুত্‌বাহ্‌ ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি ফাজরের নামাজের নবী [সাঃআঃ] -কে

 وَالنَّخْلَ بَاسِقَاتٍ لَهَا طَلْعٌ نَضِيدٌ

“ওয়ান্‌ নাখ্‌লা বা-সিকা-তিন লাহা- তালউন নাযীদ” অর্থাৎ- “লম্বমান খর্জুর বৃক্ষ যাতে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ খর্জুর”- [সুরা কাফ ৫০ : ১০] পাঠ করিতে শুনেছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯০৭, ইসলামিক সেন্টার-৯১৯]

৯১৩

যিয়াদ ইবনি ইলাকাহ্‌ হইতে তার চাচার সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [চাচা] নবী [সাঃআঃ] -এর সাথে ফাজরের নামাজ আদায় করিলেন। তিনি প্রথম রাকআতে

وَالنَّخْلَ بَاسِقَاتٍ لَهَا طَلْعٌ نَضِيدٌ‏

“ওয়ান্‌ নাখ্‌লা বা-সিকা-তিন লাহা- তালউন্‌ নাযীদ”- [সুরা কাফ ৫০ : ১০] পাঠ করিলেন। কখনো তিনি বলেছেন, নবী [সাঃআঃ] সুরা ক্বাফ পাঠ করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯০৮, ইসলামিক সেন্টার-৯২০]

৯১৪

জাবির ইবনি সামুরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] ফাজরের সলাতে

ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ

“কাফ, ওয়াল কুরআ-নিল মাজীদ”- [সুরা কাফ ৫০:১] পাঠ করিতেন। এরপরে তাহাঁর নামাজগুলো সংক্ষিপ্তাকারের ছিল। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯০৯, ইসলামিক সেন্টার-৯২১]

৯১৫

সিমাক ইবনি হারব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] -এর সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

আমি জাবির ইবনি সামুরাহ্‌-এর কাছে নবী [সাঃআঃ] -এর নামাজ সম্পর্কে জানতে চাইলাম। তিনি বলিলেন, তিনি হালকাভাবে নামাজ আদায় করিতেন। ঐসব লোকের মত [বড় বড় সুরা দিয়ে] নামাজ আদায় করিতেন না।

তিনি আরো বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফাজরের সলাতে সুরা কাফ বা এ আকারের সুরা পাঠ করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯১০, ইসলামিক সেন্টার-৯২২]

৯১৬

জাবির ইবনি সামুরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] যুহরের সলাতে

اللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى‏

“ওয়াল্‌ লাইলি ইযা- ইয়াগ্‌শা-” [সুরা আল লায়ল ৯২ : ১] পাঠ করিতেন এবং আস্‌রের সলাতেও অনুরূপ কোন সুরা পাঠ করিতেন। ফাজরের সলাতে তিনি এর চেয়ে দীর্ঘ সুরা পাঠ করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯১১, ইসলামিক সেন্টার-৯২৩]

৯১৭

জাবির ইবনি সামুরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] যুহরের সলাতে

سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى

“সাব্বিহিস্‌মা রব্বিকাল আলা” অর্থাৎ- “তুমি তোমার সর্বোচ্চ প্রতিপালকের নামের ঘোষনা কর”- [সুরা আলা ৮৭:১] পাঠ করিতেন এবং ভোরের [ফাজরের ] সলাতে এর চেয়ে লম্বা সুরা পাঠ করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯১২, ইসলামিক সেন্টার- ৯২৪]

৯১৮

আবু বার্‌যাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ভোরের [ফাজরের] সলাতে ষাট থেকে একশ আয়াত পর্যন্ত পাঠ করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯১৩, ইসলামিক সেন্টার- ৯২৫]

৯১৯

আবু বারযাহ্‌ আল আস্‌লামী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফাজরের সলাতে ষাট থেকে একশ আয়াত পর্যন্ত পাঠ করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯১৪, ইসলামিক সেন্টার- ৯২৬]

৯২০

উম্মুল ফায্‌ল বিনতু হারিস [রাদি.] -এর সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] -কে

 وَالْمُرْسَلاَتِ عُرْفًا‏

“ওয়াল মুরসালা-তি উরফান” [সূরাহ মুরনামাজ ] পাঠ করিতে শুনলেন। তিনি [উম্মু ফায্‌ল] বলিলেন, হে বৎস! তুমি এ সুরা পাঠ করে আমাকে স্মরণ করিয়ে দিলে যে, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর কাছে সর্বশেষ যে সূরাটি শুনেছি তা ছিল এ সুরা [সুরা মুরনামাজ ]। তিনি এটা মাগরিবের সলাতে পড়েছিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯১৫. ইসলামিক সেন্টার- ৯২৭]

৯২১

যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে এ সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। সালিহ এর বর্ণনায় আরো অতিরিক্ত আছেঃ “এরপর ওফাত পর্যন্ত তিনি সহাবাদের নিয়ে আর নামাজ আদায়ের সুযোগ পাননি।” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯১৬, ইসলামিক সেন্টার- ৯২৮]

৯২২

মুহাম্মাদ ইবনি জুবায়র ইবনি মুতইম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, তিনি [জুবায়র] বলেন, আমি রসূলুল্লাহ-কে মাগরিবের সলাতে সুরা আত্‌ তুর পাঠ করিতে শুনেছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯১৭, ইসলামিক সেন্টার- ৯২৯]

৯২৩

যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে এ সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

উপরের হাসীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯১৮, ইসলামিক সেন্টার- ৯৩০]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply