ফরজ নামাজ জামাআতে আদায়ের ফাযীলত ..

ফরজ নামাজ জামাআতে আদায়ের ফাযীলত

ফরজ নামাজ জামাআতে আদায়ের ফাযীলত >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৪৯. অধ্যায়ঃ ফরজ নামাজ জামাআতে আদায়ের ফাযীলত এবং নামাজের জন্য অপেক্ষা করা

১৩৯২

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি মাসজিদে জামাআতের সাথে নামাজ আদায় করলে তা তার বাড়ীতে বা বাজারে নামাজ আদায় করার চেয়ে বিশগুণেরও অধিক মর্যাদা সম্পন্ন। কারণ কোন লোক যখন নামাজের জন্য ওযূ করে এবং ভালভাবে ওযূ করে মাসজিদে আসে তাকে নামাজ ছাড়া আর কিছুই মাসজিদে আনে না; আর সে নামাজ ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যও পোষণ করে না। সুতরাং এ উদ্দেশে সে যখনই পদক্ষেপ করে তখন থেকে মাসজিদে প্রবেশ না করা পর্যন্ত তার প্রতিটি নেকীর বদলে ঐ ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি করে পাপ মিটিয়ে দেয়া হয়। অতঃপর মাসজিদে প্রবেশ করার পর যতক্ষণ সে নামাজের জন্য অপেক্ষা করিতে থাকে ততক্ষণ যেন সে নামাজরত থাকে। আর তোমাদের কেউ যখন নামাজ আদায় করার পর নামাজের স্থানেই বসে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত মালায়িকাহ্‌ [ফেরেশ্‌তাগণ] তার জন্য এ বলে দুআ করিতে থাকে যে, হে আল্লাহ! তুমি তার তাওবাহ্‌ ক্ববূল করো। এরূপ দুআ ততক্ষণ পর্যন্ত করিতে থাকে যতক্ষণ না সে কাউকে কষ্ট দেয় এবং যতক্ষণ পর্যন্ত ওযূ নষ্ট না করে। {১} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৩৭৮, ইসলামিক সেন্টার- ১৩৯১]

{১}হে আল্লাহ! তার প্রতি অনুগ্রহ কর এবং তাকে ক্ষমা কর।

১৩৯৩

আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৩৭৯, ইসলামিক সেন্টার- ১৩৯২]

১৩৯৪

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত নামাজের পর উক্ত স্থানে বসে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত মালায়িকাহ্‌ এ বলে তার জন্য দুআ করিতে থাকে যে, হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! তুমি তাকে রহ্‌মাত দান করো। আর তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি ততক্ষণ নামাজরত বলেই গণ্য হইবে যতক্ষণ সে নামাজের জন্য অপেক্ষামান থাকে। {ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৩৮০, ইসলামিক সেন্টার- ১৩৯২ [ক] }

১৩৯৫

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত নামাজের জন্য বসে নামাজের জন্য অপেক্ষা করিতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে নামাজরত থাকে আর মালায়িকাহ্‌ও ততক্ষণ পর্যন্ত তার জন্য এ বলে দুআ করিতে থাকে যে,

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ

হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! তুমি তাকে রহম করো। [আর মালায়িকাহ্‌] ততক্ষণ পর্যন্ত এরূপ দুআ করিতে থাকে যতক্ষণ সে সেখান থেকে উঠে চলে না যায় কিংবা যতক্ষণ ওযূ নষ্ট না করে। হাদীস বর্ণনাকারী রাফি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম হাদাস বা ওযূ নষ্ট করা কাকে বলে? তিনি বললেনঃ নিঃশব্দে বা সশব্দে বায়ু নিঃসরণ করা। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৩৮১, ইসলামিক সেন্টার- ১৩৯৩]

১৩৯৬

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যতক্ষণ পর্যন্ত নামাজের জন্য কোন ব্যক্তি অপেক্ষা করে এবং শুধু নামাজের কারণেই সে ঘরে [পরিবার-পরিজনের কাছে] ফিরে যায় না ততক্ষণ পর্যন্ত সে যেন নামাজরত অবস্থায়ই থাকে [অর্থাৎ- যতক্ষণ পর্যন্ত সে নামাজের জন্য অপেক্ষা করিল ততক্ষণ সে নামাজ আদায় করিল বলেই ধরে নেয়া হইবে]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৩৮২, ইসলামিক সেন্টার- ১৩৯৪]

১৩৯৭

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন নামাজের জন্য অপেক্ষা করে তখন ওযূ ভঙ্গ না করা পর্যন্ত সে যেন নামাজরত থাকল। এ সময়ে মালাকগণ এ বলে তার জন্য দুআ করিতে থাকো যে,

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ 

হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা করো। হে আল্লাহ! তুমি তার প্রতি রহম করো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৩৮৩, ইসলামিক সেন্টার- ১৩৯৫]

১৩৯৮

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৩৮৪, ইসলামিক সেন্টার- ১৩৯৬]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply