নতুন লেখা

ফজরের নামাজ প্রত্যুষে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব

ফজরের নামাজ প্রত্যুষে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব

ফজরের নামাজ প্রত্যুষে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৪০. অধ্যায়ঃ ফজরের নামাজ প্রত্যুষে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব যে সময়কে তাগলীস্ বলা হয় এবং তাতে কিরাআতের পরিমাণ

১৩৪৩

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মুমিন মহিলারা নবী [সাঃআঃ] -এর সাথে ফজরের নামাজ আদায় করিতেন এবং তা সর্বাঙ্গে কাপড় জড়িয়ে ঘরে ফিরতেন। [তখনও এরূপ অন্ধকার থাকত যে,] তাদেরকে কেউ চিনতে পারত না। [ই.ফা.১৩৩০, ইসলামিক সেন্টার-১৩৪২]

১৩৪৪

নবী [সাঃআঃ] – এর স্ত্রী আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ঈমানদার স্ত্রী লোকেরা সর্বাঙ্গে চাদর জড়িয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – এর সাথে ফজরের নামাজ আদায় করত। কিন্তু যেহেতু রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] অন্ধকার থাকতেই ফজরের নামাজ আদায় করিতেন তাই নামাজ শেষে যখন তারা ঘরে ফিরত তখনও তাদেরকে চেনা যেত না। [ই.ফা.১৩৩১, ইসলামিক সেন্টার-১৩৪৩]

১৩৪৫

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এমন সময় ফজরের নামাজ আাদয় করিতেন যে, নামাজ শেষে মেয়েরা শরীরে চাদর জড়িয়ে ঘরে ফিরত। কিন্তু তখনও এরূপ অন্ধকার থাকত যে, তাদের কাউকে চেনা যেত না।

আনসারী তার বর্ণিত হাদীসে [আরবী] শব্দের স্থানে [আরবী] উল্লেখ করিয়াছেন। [ই.ফা.১৩৩২,ইসলামিক সেন্টার-১৩৪৪]

১৩৪৬

মুহাম্মদ ইবনি আমর ইবনি হাসান ইবনি আলী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হাজ্জাজ মাদীনাতে আসলে আমরা জাবির ইবনি আবদুল্লাহকে নামাজের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যুহরের নামাজ বেলা গড়িয়ে যাওয়ার পর প্রচন্ড গরম থাকতে, আসরের নামাজ সূর্যের আলো উজ্জ্বল থাকতে, মাগরিবের নামাজ সূর্য অস্তমিত হইতে এবং ইশার নামাজ কখনো দেরী করে এবং কখনো আগে ভাগেই আদায় করিতেন। কিন্তু লোকজনের আসতে দেরী দেখলে তিনিও দেরী করে আদায় করিতেন। আর ফাজরের নামাজ বেশ অন্ধকার থাকতেই আদায় করিতেন। [ই.ফা.১৩৩৩, ইসলামিক সেন্টার-১৩৪৫]

১৩৪৭

মুহাম্মদ ইবনি আমর ইবনিল হাসান ইবনি আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হাজ্জাজ [ইবনি ইউসুফ] নামাজ দেরী করে আদায় করিতেন। তাই আমরা জাবির ইবনি আবদুল্লাহকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। [ই.ফা.১৩৩৪, ইসলামিক সেন্টার-১৩৪৬]

১৩৪৮

সাইয়্যার ইবনি সালামাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি শুনেছি আমার পিতা সালামাহ্ আবু বারযাহ্-কে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি নিজে কি জিজ্ঞেস করিতে শুনেছ? এ কথা শুনে সাইয়্যার বললেনঃ হ্যাঁ। আমার মনে হচ্ছে যেন আমি এখনই জিজ্ঞেস করিতে শুনছি। সাইয়্যার ইবনি সালামাহ্ বললেনঃ আমি শুনলাম আমার পিতা তাকে [আবু বারযাহ্] রসূল [সাঃআঃ] -এর নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিলেন। জবাবে আবু বারযাহ্ বলিলেন- ইশার নামাজ আদায় করিতে রাত দ্বি-প্রহর পর্যন্ত দেরী করিতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মোটেই দ্বিধা করিতেন না। তবে ইশার নামাজ আদায় না করে ঘুমানো এবং ইশার নামাজের পরে কথাবার্তা বলা তিনি পছন্দ করিতেন না। শুবাহ্ বলেন, পরে এক সময়ে আবার আমি সাইয়্যার ইবনি সালামাহ্ এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলিলেন, সূর্য মাথার উপর থেকে পশ্চিমে ঢলে পড়লেই যুহরের নামাজ আদায় করিতেন। আর আসরের নামাজ এমন সময় আদায় করিতেন যে, নামাজ শেষ করে মাদীনার শহরতলীর দূরবর্তীস্থানে গিয়ে পৌছার পরও সূর্যের তেজ থাকত। এরপর সাইয়্যার ইবনি সালামাহ্ বললেনঃ মাগরিবের নামাজ কোন সময় তিনি আদায় করার কথা তিনি বলে ছিলেন তা আমি মনে করিতে পারছি না। সালামাহ্ বলেছেনঃ পরে আবার এক সময় আবু বারযার সাথে সাক্ষাৎ করে আমি তাকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নামাজের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলিলেন, তিনি ফাজরের নামাজ এমন সময় আদায় করিতেন যে, নামাজ শেষে লোকজন তার পাশের পরিচিত লোকের দিকে তাকিয়ে তাকে চিনতে পারত না। আবু বারযাহ্ আরো বলেছেন, ফাজরের নামাজে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ষাট থেকে একশ পর্যন্ত আয়াত তিলাওয়াত করিতেন। [ই.ফা.১৩৩৫, ইসলামিক সেন্টার-১৩৪৭]

১৩৪৯

আবু বারযাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইশার নামাজ দেরী করে মধ্যরাতে আদায় করিতে কোন দ্বিধা বা ভ্রূক্ষেপ করিতেন না। হাদীসের বর্ণনাকারী শুবাহ্ বলেছেন, পরবর্তী সময়ে আমি আবার আবু বারযার সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আগের কথার সাথে এ কথাটুকু যোগ করে বলেলনঃ অথবা রাতের এক তৃ্তীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করে ইশার নামাজ আদায় করিতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ভ্রূক্ষেপ করিতেন না। [ই.ফা.১৩৩৬, ইসলামিক সেন্টার-১৩৪৮]

১৩৫০

আবু বারযাহ্ আল আসলামী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইশার নামাজ রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করে আদায় করিতেন। তিনি ইশার নামাজের পূর্বে ঘুমানো এবং কথাবার্তা বলা অপছন্দ করিতেন। আর ফাজরের নামাজে ষাট থেকে একশ আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করিতেন এবং এমন সময় নামাজ শেষ করিতেন যখন আমরা পরস্পরকে মুখ দেখে চিনতে পারতাম না। [ই.ফা.১৩৩৭, ইসলামিক সেন্টার-১৩৪৯]

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: