শেষ রাতে যিক্‌র ও প্রার্থনা করা এবং দুআ কবূল হওয়ার আলোচনা

শেষ রাতে যিক্‌র ও প্রার্থনা করা এবং দুআ কবূল হওয়ার আলোচনা

শেষ রাতে যিক্‌র ও প্রার্থনা করা এবং দুআ কবূল হওয়ার আলোচনা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২৪.অধ্যায়ঃ শেষ রাতে যিক্‌র ও প্রার্থনা করা এবং দুআ কবূল হওয়ার আলোচনা

১৬৫৭

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ প্রত্যেক রাতে যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ থাকে তখন আমাদের প্রতিপালক মহান ও কল্যাণময় আল্লাহ দুন্‌ইয়ার আসমানে অবতরণ করে বলিতে থাকেন : কে এমন আছ, যে এখন আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দিব। এখন কে এমন আছ যে, আমার কাছে প্রার্থনা করিবে, আমি তাকে দান করব। আর কে এমন আছ, যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬৪২, ইসলামিক সেন্টার- ১৬৪৯]

১৬৫৮

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেছেনঃ প্রত্যেক রাতে যখন রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয় তখন আল্লাহ তাআলা দুন্‌ইয়ার আসমানে অবতরণ করে বলিতে থাকেন-আমিই একমাত্র বাদশাহ্! কে এমন আছ আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে এমন আছ আমার কাছে প্রার্থনা করিবে, আমি তাকে দান করব। কে এমন আছ যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব, ফাজ্‌রের আলো ছড়িয়ে না পড়া পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা এরূপ বলিতে থাকেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬৪৩, ইসলামিক সেন্টার- ১৬৫০]

১৬৫৯

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ রাতের অর্ধেক অথবা দু তৃতীয়াংশ অতিক্রম হলে মহান ও বারাকাতময় আল্লাহ দুন্‌ইয়ার আসমানে অবতরণ করে বলিতে থাকেন : কোন প্রার্থনাকারী আছে কি যাকে দেয়া হইবে? কোন আহ্বানকারী আছে কি যার আহ্বানে সাড়া দেয়া হইবে? কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি, যাকে ক্ষমা করা হইবে? আল্লাহ তাআলা ভোর প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এরূপ বলিতে থাকেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬৪৪, ইসলামিক সেন্টার- ১৬৫১]

১৬৬০

ইবনি মারজানাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ রাতের অর্ধেকের সময় অথবা শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে মহান আল্লাহ দুন্‌ইয়ার আসমানে অবতরণ করে বলিতে থাকেন : কে আছে আহ্বানকারী? [আহ্বান কর] আমি তার আহবানে সাড়া দান করব। কে আছে প্রার্থনাকারী? [প্রার্থনা কর] আমি দান করব। এরপর আল্লাহ তাআলা বলিতে থাকেন : এমন সত্তাকে কে কর্জ দিবে যিনি কখনো ফকির বা দরিদ্র হইবেন না বা যুল্‌ম করিতে পারেন না? {৩২} ঈমাম মুসলিম বলেছেনঃ ইবনি মারজানাহ্ হলেন সাঈদ ইবনি আবদুল্লাহ। মারজানাহ্ তার মায়ের নাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬৪৫, ইসলামিক সেন্টার- ১৬৫২]

{৩২} কর্জ বলিতে সদাক্বাহ, নামাজ , সওম, যিকর এবং আল্লাহ তাআলার অন্যান্য আনুগত্যমূলক কাজসমূহ বুঝানো হয়েছে। এ সবের নাম মহান আল্লাহ কর্জ বলে অভিহিত করিয়াছেন, আপন বান্দাদের প্রতি স্নেহ প্রকাশার্থে এবং উৎসাহ দানের জন্য যেন তারা আনুগত্যমূলক কাজসমূহ চালিয়ে যায়; কেননা প্রীতি ও প্রেমের সম্পর্ক থাকলেই কর্জ দান করা হয়। এক্ষেত্রে বান্দা নিশ্চিতরূপেই নিজ প্রদেয় কর্জ ফিরে পাবে বিধায় যেন সন্তষ্টিচিত্তে আমাল চালিয়ে যায়। [মুসলিম শারহে নাবাবী-১ম খন্ড ২৫৮ পৃষ্ঠা]

১৬৬১

সাদ ইবনি সাঈদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

সাদ ইবনি সাঈদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে এই একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। এতে তিনি অতিরিক্ত এতটুকু বর্ণনা করিয়াছেন যে, অতঃপর মহান ও বারাকাতময় আল্লাহ নিজের দুহাত প্রসারিত করে বলেনঃ যিনি কখনো দরিদ্র হইবেন না, কিংবা যুলম করেন না এমন সত্তাকে ঋন দেয়ার জন্য কে আছ? [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬৪৬, ইসলামিক সেন্টার- ১৬৫৩]

১৬৬২

আবু সাঈদ আল খুদরী ও আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তাঁরা বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা অবকাশ দেন বা দেরী করেন না। এভাবে যখন রাতের প্রথম এক তৃতীয়াংশ অতিক্রম হয়ে যায় তখন তিনি দুন্ইয়ার আকাশে নেমে এসে বলিতে থাকেন : কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি [যে ক্ষমা প্রার্থনা করিবে, আর আমি তাকে ক্ষমা করব]? কোন তাওবাহ্‌কারী আছে কি [যে তাওবাহ্‌ করিবে আর আমি তার তাওবাহ্‌ ক্ববুল করব]? কোন প্রার্থনাকারী আছে কি [যে প্রার্থনা করিবে আর আমি তার প্রার্থনা ক্ববূল করব]? কোন আহ্বানকারী আছে কি[আমি যার আহ্বানে দিব]? এভাবে ফাজ্‌রের ওয়াক্ত পর্যন্ত তিনি বলিতে থাকেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬৪৭,ইসলামিক সেন্টার- ১৬৫৪]

১৬৬৩

শুবাহ্-এর মাধ্যমে আবু ইসহাক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। তবে মানসূর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত হাদীসটি পূর্ণাঙ্গ ও বেশী স্পষ্ট। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৬৪৮, ইসলামিক সেন্টার- ১৬৫৫]

By najmulislam

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply