প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁক এর দুয়া । সাপ বিছা পোকা ইত্যাদি।

প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁক

প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁক

হাদিসঃ সহিহুল বুখারি – ৫৬৬৫ (আধুনিক প্রঃ- ৫২৫৪, ইঃ ফাঃ- ৫১৫০) কা’ব ইবনু উজরাহ (রাদিআল্লাহু আঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পথ অতিক্রম করছিলেন, এ সময় আমি হাঁড়ির নীচে লাকড়ি জ্বালাচ্ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমার মাথার উকুন কি তোমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে। আমি বললামঃ জ্বি, হ্যাঁ। তখন তিনি নাপিত ডাকলেন। সে মাথা মুড়িয়ে দিল। তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে ফিদ্‌ইয়া’ আদায় করার নির্দেশ দিলেন।

সহিহুল বুখারি – ৫৭৪১ঃ আবদুর রহমান ইবনুল আসওয়াদের পিতা আসওয়াদ (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ) -কে বিষাক্ত প্রাণীর দংশনের কারণে ঝাড়-ফুঁক করার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ নবী (সাঃআঃ) সকল প্রকার বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁক করার অনুমতি দিয়েছেন।

(৩৯/২১, ২১৯৩, আহমাদ ২৫৭৯৭) আধুনিক প্রঃ- ৫৩২১, ইঃ ফাঃ- ৫২১৭)

হাদিসঃ সুনান আবু দাউদ – ৩৮৮৪: ইমরান ইবনু হুসাইন (রাদিআল্লাহু আঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ কেবল বদনযর লাগা কিংবা বিষাক্ত প্রাণীর দংশনের চিকিৎসায় ঝাঁড়ফুঁক দেয়া যায়।

প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁক হাদিস এর মানঃ সহিহ হাদিস

হাদিসঃ সুনান আবু দাউদ – ৩৮৮৭ তাহকিক আলবানি , আশ-শিফা বিনতু আবদুল্লাহ (রাদিআল্লাহু আঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি হাফসাহ (রাদিআল্লাহু আঃ)-এর নিকট ছিলাম, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এসে বললেনঃ তুমি ওকে (হাফসাহকে) যেভাবে লেখা শিখিয়েছো, সেভাবে পিপড়া (পোকা) কামড়ের ঝাড়ফুঁক শিক্ষা দাও না কেন।

হাদিসঃ সুনান আবু দাউদ – ৩৮৮৯: আনাস (রাদিআল্লাহু আঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কেবল বদনযর লাগা বা বিষাক্ত প্রাণীর দংশন বা রক্ত বইতে থাকলে ঝাড়ফুঁক দেয়া চলে। বর্ণনাকারী আল-আব্বাস (রহঃ) বদনযর-এর উল্লেখ করেননি। তবে সুলায়মান ইবনু দাঊদ তা উল্লেখ করিয়াছেন।

দুর্বলঃ মিশকাত (৪৫৫৭)। (৩৮৮৯) হাকিম, তিনি বলেনঃ এই হাদিসটি মুসলিমের শর্তে। কিন্ত সানাদের শারীক সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ স্মরণশক্তি খারাপ। হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

হাদিসঃ সহিহুল বুখারি – ৫৭০৩ঃ কা’ব ইবনু উজরা (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ হুদাইবিয়ার সফরকালে নবী (সাঃআঃ) আমার কাছে আসলেন। আমি তখন পাতিলের নীচে আগুন দিচ্ছিলাম, আর আমার মাথা থেকে তখন উকুন ঝরছিল। তিনি বললেনঃ তোমার উকুনগুলো তোমাকে কি খুব কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি মাথা মুড়িয়ে নাও এবং তিন দিন সাওম পালন কর অথবা ছয়জন (মিসকীন) কে খাদ্য দাও কিংবা একটি কুরবাণীর পশু যবেহ্‌ করে নাও।

আইউব (রহঃ) বলেনঃ আমি বলিতে পারি না, এগুলোর কোনটি তিনি প্রথমে বলেছেন।

(আধুনিক প্রঃ- ৫২৮৯, ইঃ ফাঃ- ৫১৮৫)

সহিহুল বুখারি – ৫৭২০ঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃআঃ) আনসারদের এক পরিবারের লোকদের বিষাক্ত দংশন ও কান ব্যথার কারণে ঝাড়ফুঁক গ্রহণ করার জন্য অনুমতি দেন।(আধুনিক প্রঃ- ৫৩০১, ইঃ ফাঃ- ৫১৯৭)

হাদিসঃ সুনান আবু দাউদ – ৩৮৮৮ তাহকিক আলবানি, রাবাব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি সাহ্‌ল ইবনু হুনাইফ (রাদিআল্লাহু আঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, আমি বন্যার প্রবহমান পানির পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে তাতে নেমে গোসল করায় জ্বরে আক্রান্ত হই। এ সংবাদ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পৌছলে তিনি বলেনঃ তোমরা আবূ সাবিতকে আশ্রয় প্রার্থনা করিতে আদেশ দাও। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আমার নেতা! ঝাড়ফুঁক কি ফলদায়ক? তিনি বলেন, শুধুমাত্র বদনযর লাগা বা সাপ বিছার দংশনে ঝাড়ফুঁক দেয়া চলে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, হামাহ’ হলো সাপ ও বিষধর কীটের কামড়।

(৩৮৮৮) নাসায়ীর আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ, আহমাদ। সানাদ রাবাব অজ্ঞাত। প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁক হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

ইবন মাজা

হাদিসঃ ইবনে মাজাহ -৩৫১২ঃ আয়িশাহ (রাদিআল্লাহু আঃ), হতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বদনজর ও বিষাক্ত প্রাণীর দংশন ছাড়া অন্য কিছুতে ঝাড়ফুঁক বৈধ নয়।

তাহকীক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। হাদিস এর মানঃ সহিহ হাদিস

হাদিসঃ সুনান ইবনে মাজাহ – ৩৫১৩ঃ বুরায়দাহ (রাদিআল্লাহু আঃ) হতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, বদনজর ও বিষাক্ত প্রাণীর দংশন ছাড়া অন্য কিছুতে ঝাড়ফুঁক বৈধ নয়।

তাহকীক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁক হাদিস এর মানঃ সহিহ হাদিস

হাদিসঃ সুনান ইবনে মাজাহ – ৩৫১৫ ঃ জাবির (রাদিআল্লাহু আঃ), হতে বর্ণিতঃ

আনসার সম্প্রদায়ভুক্ত আমর বিন হাযম নামক পরিবার বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁক করতো। অথচ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঝাড়ফুঁক করিতে নিষেধ করিয়াছেন। তারা তাহাঁর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো ঝাড়ফুঁক করিতে নিষেধ করিয়াছেন, অথচ আমরা বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁক করি। তিনি তাহাদের বলেনঃ সেগুলো আমার সামনে পেশ করো। তারা তা তাহাঁর নিকট পেশ করেন। তিনি বলেনঃ এগুলো দোষের কিছু নেই। এগুলো নির্ভরযোগ্য।

তাহকীক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁক হাদিস এর মানঃ সহিহ হাদিস

হাদিসঃ সুনান আবু দাউদ – ৩৮৯৮ তাহকিক আলবানিঃ আবূ সালিহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি আস্লাম গোত্রের এক লোককে বলিতে শুনিয়াছি, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বসা ছিলাম। তখন তাহাঁর এক সঙ্গী এসে বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি রাতে দংশিত হওয়ার কারণে সারারাত ঘুমাতে পারিনি। তিনি বলিলেন, কিসে দংশন করেছে? আমি বললাম, বিচ্ছু। তিনি বললেনঃ রাতের বেলায় তুমি যদি একথা বলতেঃ (অর্থ) “আমি পরিপূর্ণ কালামের দ্বারা যাবতীয় দুষ্টের খারাবী হইতে আশ্রয় চাইছি”, তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় কোন কিছুই তোমার ক্ষতি করিতে পারতো না।

প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁক হাদিস এর মানঃ সহিহ হাদিস

হাদিসঃ সুনান আবু দাউদ – ৩৮৯৯ঃ আবূ হুরাইরাহ (রাদিআল্লাহু আঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা বিছায় দংশিত এক ব্যক্তিকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আনা হলে তিনি বললেনঃ সে যদি বলতোঃ (অর্থ) “আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামের সাহায্যে তাহাঁর সৃষ্ট বস্তুর অনিষ্ট হইতে আশ্রয় চাই”, তাহলে তা তাকে দংশন করিতে পারতো না অথবা তার ক্ষতি করিতে পারতো না।

(৩৮৯৯) নাসায়ীর আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ। হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

হাদিসঃ সুনান ইবনে মাজাহ – ৩৫১৭ তাহকিক আলবানিঃ আয়িশাহ (রাদিআল্লাহু আঃ), হতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাপ ও বিছার দংশনে ঝাড়ফুঁক করার অনুমতি দিয়েছেন।

তাহকীক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সনদ সহীহ . প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁক হাদিস এর মানঃ সহিহ হাদিস

হাদিসঃ সুনান ইবনে মাজাহ – ৩৫১৮ তাহকিক আলবানি, আবূ হুরায়রাহ (রাদিআল্লাহু আঃ), হতে বর্ণিতঃ

একটি বিছা এক ব্যক্তিকে দংশন করলে ঐ রাতে সে আর ঘুমাতে পারেনি। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলা হলো, অমুক ব্যক্তিকে বিছায় দংশন করায় সে গত রাতে ঘুমাতে পারেনি। তিনি বলেনঃ আহা, সে যদি সন্ধ্যায় উপনিত হয়ে বলতো,

 أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

আউযূ বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক” (আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামের ওয়াসিলায় তাহাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই)

তাহলে বিছার দংশন সকাল পর্যন্ত তার কোন ক্ষতি করিতে পারতো না।

ইবনে মাজাহ এই হাদিসটির অধ্যায়ের নাম দিয়াছেন, সাপ, বিছা ইত্যাদির দংশনে ঝাড়ফুঁক। তাহকীক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। হাদিস এর মানঃ সহিহ হাদিস

হাদিসঃ সুনান ইবনে মাজাহ – ৩৫১৯ তাহকিক আলবানিঃ আমর বিন হাযম (রাদিআল্লাহু আঃ) হতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে আমি সর্পদংশনের ঝাড়ফুঁকের দুআ’ পেশ করলে তিনি আমাকে এর অনুমতি দেন। (৩৫১৯)

তাহকীক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সানাদটি দুর্বল। (৩৫১৯) হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। হাদিস এর মানঃ দুর্বল হাদিস

ইবন মাজাহ – ৩৫২০: আয়িশাহ (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন রোগীর নিকট এলে তিনি এই দুআ’ করতেনঃ

أَذْهِبِ الْبَاسْ رَبَّ النَّاسْ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمً

আযহিবিল বাসা রব্বানা নাস ওয়াশফে আনতাশ শাফী লা শিফাউকা শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামান (হে মানুষের প্রভু! ব্যাধি ও কষ্ট দূর করে দাও, রোগমুক্তি দান করো তুমিই আরোগ্য দানকারী, তোমার আরোগ্য দানই আসল, যা কোন রোগকেই ছাড়ে না)

ইবনে মাজাহ এই হাদিসটির অধ্যায়ের নাম করন করেছেন, ২৫/৩৬. অধ্যায়ঃ
মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে দুআ’ পড়ে ঝাড়ফুঁক করেছেন এবং তাঁকে যে দুআ’ পড়ে ঝাড়ফুঁক করা হয়েছে। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ । হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

ইবন মাজাহ – ৩৫২১ : আয়িশাহ (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর আংগুলে লালা লাগিয়ে রোগীর জন্য এই বলে দুআ’ করতেনঃ

بِسْمِ اللَّهِ بِتُرْبَةِ أَرْضِنَا بِرِيقَةِ بَعْضِنَا لِيُشْفَى سَقِيمُنَا بِإِذْنِ رَبِّنَا

বিসমিল্লাহ তুরবাতু আরদিনা বিরীকাতি বা’দিনা লিয়ুশফা সাকীমুনা বিইযনি রব্বিনা (আল্লাহর নামে আমাদের এ যমীনের মাটি আমাদের কারো লালার সাথে মিশিয়ে দিলাম, যেন তাতে আমাদের প্রভুর নির্দেশে আমাদের রোগী আরোগ্য লাভ করে)

ইবনে মাজাহ এই হাদিসটির অধ্যায়ের নাম করন করেছেন, ২৫/৩৬. অধ্যায়ঃ
মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে দুআ’ পড়ে ঝাড়ফুঁক করেছেন এবং তাঁকে যে দুআ’ পড়ে ঝাড়ফুঁক করা হয়েছে। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

ইবন মাজাহ – ৩৫২২: উসমান বিন আবুল আস আস-সাকাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট মারাত্মক ব্যথা নিয়ে উপস্থিত হলাম, যা আমাকে অকেজো প্রায় করেছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেনঃ তুমি তোমার বাম হাত ব্যথার স্থানে রেখে সাতবার বলোঃ

أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ

আউযু বি-ইজ্জাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহী মিন শাররি মা আজিদু ওয়া উহাযিরু (আল্লাহর নামে আমি আল্লাহর অসীম সম্মান ও তাঁর বিশাল ক্ষমতার ওয়াসিলায় আমার অনুভূত এই ব্যথার ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি)।

[৩৫২২] মুসলিম ২২০২, তিরমিযী ২০৮০, আবূ দাউদ ৩৮৯১, আহমাদ ১৫৮৩৪, ১৭৪৪৯, আহমাদ ১৭৫৪, আত তহাবিয়াহ ৭০, সহীহাহ ৩/৪০৪। উক্ত হাদীসের রাবী যুহায়র বিন মুহাম্মাদ সম্পর্কে আবূ হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় ভুল ও সিকাহ রাবীর বিপরীত হাদীস বর্ণনা করেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন নাসায়ী বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনুল আবদুল বার্র আল-আন্দালাসী বলেন, তিনি সকলের নিকট দুর্বল। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ২০১৭, ৯/৪১৪ নং পৃষ্ঠা) . ইবনে মাজাহ এই হাদিসটির অধ্যায়ের নাম করন করেছেন, ২৫/৩৬. অধ্যায়ঃ মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে দুআ’ পড়ে ঝাড়ফুঁক করেছেন এবং তাঁকে যে দুআ’ পড়ে ঝাড়ফুঁক করা হয়েছে। হাদিসের মানঃ নির্ণীত নয়

ইবন মাজাহ – ৩৫২৩: আবূ সাঈদ (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃ

জিবরাঈল (আঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলেনঃ হে মুহাম্মাদ! আপনি কি রোগাক্রান্ত হয়েছেন? তিনি বলেনঃ হাঁ। জিবরাঈল (আঃ) বলেন,

بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنٍ أَوْ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ

বিসমিল্লাহি আরকীকা মিন কুল্লি শায়ইন ইউযিকা মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আয়নিন আও হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফীকা বিসমিল্লাহি আরকীকা (আমি আল্লাহর নামে এমন প্রতিটি জিনিস থেকে আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি যা আপনাকে কষ্ট দেয়, প্রতিটি সৃষ্টিজীবের এবং প্রতিটি চোখের এবং প্রতিটি হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দান করুন। আমি আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি)।

ইবনে মাজাহ এই হাদিসটির অধ্যায়ের নাম করন করেছেন, ২৫/৩৬. অধ্যায়ঃ
মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে দুআ’ পড়ে ঝাড়ফুঁক করেছেন এবং তাঁকে যে দুআ’ পড়ে ঝাড়ফুঁক করা হয়েছে। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ । হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

ইবন মাজাহ – ৩৫২৪: আবূ হুরায়রাহ (রাঃ), থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দেখতে এসে বলেনঃ জিবরাঈল (আঃ) ঝাড়ফুঁকের যে দুআ’ সহ আমার নিকট এসেছিলেন, সেই দুআ’ দিয়ে আমি কি তোমাকে ঝাড়ফুঁক করবো না? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক! হাঁ ঝাড়ফুঁক করুন। তিনি তিনবার বললেনঃ

بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ وَاللَّهُ يَشْفِيكَ مِنْ كُلِّ دَاءٍ فِيكَ مِنْ شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ

বিসমিল্লাহি আরকীকা ওয়াল্লাহু ইয়াশফীকা মিন কুল্লি দাইন ফীকা মিন শাররিন নাফ্‌ফাছাত ফিল উকাদ ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ (আল্লাহর নামে আমি তোমাকে ঝাড়ছি, আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করুন, তোমার ভেতরের সমস্ত রোগ থেকে, সমস্ত নারীর অনিষ্ট থেকে যারা গ্রন্থিতে ফুৎকার দেয় এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে)।

ইবনে মাজাহ এই হাদিসটির অধ্যায়ের নাম করন করেছেন, ২৫/৩৬. অধ্যায়ঃ
মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে দুআ’ পড়ে ঝাড়ফুঁক করেছেন এবং তাঁকে যে দুআ’ পড়ে ঝাড়ফুঁক করা হয়েছে। তাহকীক আলবানীঃ দুর্বল। [৩৫২৪] আহমাদ ৯৪৬৫ । দইফাহ ৩৩৫৭ । প্রাণীর দংশনে ঝাড়ফুঁক হাদিসের মানঃ দুর্বল হাদিস