প্রাণীর ছবি হারাম , বিছানা ইত্যাদিতে অপদস্ত করা ..

প্রাণীর ছবি হারাম , বিছানা ইত্যাদিতে অপদস্ত করা

প্রাণীর ছবি হারাম , বিছানা ইত্যাদিতে অপদস্ত করা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২৬. অধ্যায়ঃ প্রাণীর ছবি হারাম , বিছানা ইত্যাদিতে অপদস্ত করা ছাড়া প্রাণীর ছবিযুক্ত জিনিস ব্যবহার করা হারাম; যে বাড়িতে কুকুর ও ছবি থাকে সেখানে ফেরেশ্তারা প্রবেশ করেন না

৫৪০৪

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, জিব্রীল [আঃ] কোন এক নির্দিষ্ট সময়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কাছে আসার অঙ্গীকার করিলেন। তবে ঠিক সময়ে তিনি আসলেন না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর হাতে একটি লাঠি ছিল তিনি তা হাত থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলিলেন, আল্লাহ তো তাহাঁর অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না; তাহাঁর রসূলগণও না। তারপর তিনি ভালভাবে তাহাঁর খাটের তলায় একটি কুকুর শাবক লক্ষ্য করিলেন। সে সময় তিনি বলিলেন, হে আয়িশাহ্! কুকুর [ছানা] টি এখানে প্রবেশ করলো কখন? আয়িশা [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহ্‌র শপথ! আমি এ ব্যাপারে অজ্ঞাত। সে সময় তিনি নির্দেশ দিলেন সেটিকে বের করে দেয়া হলো এমন সময় জিব্রীল [আঃ] আসলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ আপনি আমাকে অঙ্গীকার করেছিলেন, তাই আমি আপনার অপেক্ষায় বসে ছিলাম কিন্তু আপনি আসলেন না। তিনি বলিলেন, আপনার গৃহে [অবস্থানরত] কুকুরটি আমার জন্য বাধা স্বরূপ ছিল। কেননা যে গৃহে কোন ছবি অথবা কুকুর থাকে, সে গৃহের ভিতরে আমরা [রহমতের ফেরেশতারা] যাই না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৩৩, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৫০]

৫৪০৫

আবু হাযিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উপরোল্লিখিত সূত্রে বর্ণনা করেন যে, জিব্রীল [আঃ] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট আসার অঙ্গীকার করেছিলেন। … অতঃপর তিনি হাদীস শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করিয়াছেন। কিন্তু তিনি রাবী আবদুল আযীয ইবনি আবু হাযিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত হাদীসের মতো তার বর্ণনা এত লম্বা করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৩৪, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৫১]

৫৪০৬

আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মাইমূনাহ্ [রাদি.] আমাকে বলেছেন যে, একদিন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বিমর্ষ অবস্থায় সকালে উঠলেন। তখন মাইমূনাহ্ [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আজকে আপনার চেহারা মুবারাক বিষন্ন দেখছি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ জিব্রীল [আঃ] আজ রাত্রে আমার সাথে সাক্ষাৎ করার অঙ্গীকার করেছিলেন, কিন্তু তিনি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। জেনে রাখ আল্লাহ্‌র কসম! তিনি [কক্ষনো] আমার সঙ্গে ওয়াদা খিলাফ করেননি। পরে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর সে দিনটি এভাবেই কাটালেন। এরপর আমাদের পর্দা [ঘেরা খাট] এর নিচে একটি কুকুর ছানার কথা তাহাঁর স্মরণ হলো। তিনি নির্দেশ করলে সেটি বের করে দেয়া হলো। অতঃপর তিনি তাহাঁর হাতে সামান্য পানি নিয়ে তা ঐ [কুকুর শাবক বসার] স্থানে ছিটিয়ে দিলেন। অতঃপর সূর্যাস্ত হলে জিব্রীল [আঃ] তাহাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিলেন। সে সময় তিনি তাঁকে বলিলেন, আপনি তো গত রাত্রে আমার সাথে সাক্ষাৎ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তবে আমরা [ফেরেশ্তারা] সে সকল গৃহে প্রবেশ করি না যে সকল গৃহে কোন কুকুর থাকে। অথবা কোন [প্রাণীর] ছবি থাকে। অতঃপর নবী [সাঃআঃ] সেদিন সকাল বেলায় কুকুর নিধনের নির্দেশ দিলেন। এমনকি তিনি ছোট বাগানের [পাহারাদার] কুকুরও মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং বড় বড় বাগানের কুকুরগুলোকে মুক্তি দিয়েছিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৩৫, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৫২]

৫৪০৭

আবু তালহা [রাদি.] এর সানাদে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, ফেরেশতাগণ সে গৃহে প্রবেশ করেন না, যে গৃহে কোন কুকুর অথবা কোন [প্রাণীর] ছবি থাকে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৩৬, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৫৩]

৫৪০৮

আবু তালহা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছি যে, ফেরেশ্তারা এমন গৃহে প্রবেশ করেন না, যে গৃহে কুকুর অথবা [প্রাণীর] ছবি থাকে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৩৭, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৫৪]

৫৪০৯

যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উপরোল্লিখিত সূত্রে ইউনুস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করিয়াছেন। তবে সানাদের মাঝে মামার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] — এর স্থানে — লিখেছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৩৮, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৫৫]

৫৪১০

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সহাবী আবু তালহা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ফেরেশ্তারা সে গৃহে প্রবেশ করেন না, যে গৃহে কোন ছবি থাকে।

বর্ণনাকারী বুস্র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এরপর যায়দ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] পীড়িত হয়ে পড়লে আমরা তাঁকে দেখিতে গেলাম। লক্ষ্য করলাম তাহাঁর দরজায় একটি পর্দা রয়েছে, যাতে ছবি রয়েছে। আমি সে সময় নবী [সাঃআঃ] এর স্ত্রী মাইমূনাহ্ [রাদি.] এর পালিত সন্তান উবাইদুল্লাহ খাওলানী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] কে বললাম- [পূর্বে এক দিন] ছবির বিষয়ে কি যায়দ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আমাদের নিকট হাদীস উল্লেখ করিয়াছেন [আর এখন তাহাঁর পর্দায় ছবি!]? উবাইদুল্লাহ বলিলেন, তুমি কি তাহাঁর এ কথাটি শোননি! তিনি এটাও বলেছেন যে, কোন কাপড়ে আঁকা ছবি এর আওতাভুক্ত নয়। {১৯} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৩৯, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৫৬]

{১৯} অধিকাংশ উলামার মতে এখানে প্রাণহীন বস্তু বা দৃশ্যাদির ছবি উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

৫৪১১

আবু তালহা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, ফেরেশ্তারা সে গৃহে প্রবেশ করেন না, যে গৃহে কোন ছবি রয়েছে।

রাবী বুসর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, যায়দ ইবনি খালিদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] পীড়িত হলে, আমরা তাঁকে দেখিতে গেলাম। সে সময় আমরা তাহাঁর ঘরে একটি পর্দায় অনেক ছবি আছে দেখিতে পেলাম। সে সময় আমি উবাইদুল্লাহ খাওলানী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] কে বললাম, তিনি কি ছবির ব্যাপারে আমাদের কাছে হাদীস উল্লেখ করেননি? উত্তরে বলিলেন, তিনি বলেছিলেন- তবে কাপড়ে আঁকা ছবি। তুমি কি তা শুনতে পাওনি? আমি বললাম, না। তিনি বলিলেন, অবশ্যই তিনি বলেছিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৪০, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৫৭]

৫৪১২

আবু তালহা আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছি যে, ফেরেশ্তারা সে গৃহে প্রবেশ করেন না, যে গৃহে কোন কুকুর অথবা কোন মুর্তি থাকে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৪১, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৫৮]

৫৪১৩

রাবী {যায়দ ইবনি খালিদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]} হইতে বর্ণীতঃ

অতঃপর আমি আয়িশা [রাদি.] এর কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলাম, ইনি [আবু তালহা] আমাকে বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, ফেরেশ্তারা সে গৃহে প্রবেশ করেন না, যে গৃহে কোন কুকুর অথবা মুর্তি থাকে। আপনি কি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে এ সম্পর্কে আলোচনা করিতে শুনেছেন? তিনি বলিলেন, না। কিন্তু আমি যা করিতে তাঁকে দেখেছি, তার বর্ণনা তোমাদের নিকটে দিচ্ছি। আমি তাঁকে লক্ষ্য করেছি, তিনি [কোন] জিহাদে বেরিয়ে গেলেন। সে সময় আমি একটি পাতলা নরম শাল জোগাড় করলাম এবং তা দ্বারা দরজার পর্দা তৈরি করলাম। তিনি প্রত্যাবর্তন করে যখন চাদরটি প্রত্যক্ষ করিলেন, তখন তাহাঁর চেহারায় আমি বিমর্ষভাব লক্ষ্য করলাম। তিনি তা টেনে নামিয়ে ফেললেন; এমনকি তা ছিঁড়ে ফেললেন কিংবা টুকরো করে ফেললেন। আর বলিলেন, মহান আল্লাহ আমাদেরকে পাথর অথবা মাটিকে বস্ত্র পরানোর নির্দেশ দেননি। আয়িশা [রাদি.] বলেন, আমরা চাদরটি কেটে দুটি বালিশ তৈরি করলাম এবং সে দুটির অভ্যন্তরে খেজুর বৃক্ষের আঁশ ঢুকিয়ে দিলাম। তাতে তিনি আমাকে আর দোষারোপ করিলেন না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৪১, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৫৮]

৫৪১৪

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমাদের একটি পর্দা ছিল। এতে পাখীর ছবি ছিল। আর [গৃহে] প্রবেশকারীর প্রবেশের সময় তা তার সম্মুখে পড়ত। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বলিলেন, এটি দূরে রেখ। কারণ যতবার আমি প্রবেশ করি এবং তা দেখি ততবার আমি ইহকাল স্মরণ করেছি। আয়িশা [রাদি.] বলেন, আর আমাদের একটি পশমী চাদর ছিল। আমরা দেখতাম যে, এটির কারুকার্য ছিল রেশমের। আমরা সেটি ব্যবহার করতাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৪২, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৫৯]

৫৪১৫

মুহাম্মাদ ইবনিল মুসান্না [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

ইবনি আবু আদী ও আবদুল আলা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে উক্ত সূত্রে রিওয়ায়াত করিয়াছেন। কিন্তু ইবনিল মুসান্না [রাদি.] বলেছেন, এ সূত্রে তিনি অর্থাৎ -আবদুল আলা বর্ধিত করে বলেছেন, “রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের তা কর্তন করার নির্দেশ দেননি।” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৪২, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৬০]

৫৪১৬

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোন এক সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করিলেন। আমি দরজায় একটি আঁচলযুক্ত মসৃণ পর্দা ঝুলিয়ে দিলাম, তাতে পাখাযুক্ত ঘোড়া [এর ছবি] ছিল। তিনি আমাকে নির্দেশ করিলেন। সে সময় আমি তা খুলে ফেললাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৪৩, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৬১]

৫৪১৭

ওয়াকী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উপরোক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্ত আবদার হাদীসে সফর হইতে ফিরে আসলেন কথাটি নেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৪৪, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৬২]

৫৪১৮

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার নিকট [হুজরায়] আসলেন। সে সময় আমি একটি মসৃণ বস্ত্রের পর্দা লাগিয়ে রেখেছিলাম, যাতে কোন ছবি ছিল। যার দরুন তার চেহারা বিমর্ষ হয়ে গেল। অতঃপর তিনি পর্দাটি হাতে নিয়ে তা ছিঁড়ে ফেললেন; তারপর বললেনঃ কিয়ামতের দিবসে ভয়ঙ্কর শাস্তি ভোগকারী ব্যক্তিদের মধ্যে ওরাও থাকিবে, যার আল্লাহ্‌র সৃষ্টির সাথে তুলনা কার্যে অগ্রসর হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৪৫, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৬৩]

৫৪১৯

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর {আয়িশাহ্ [রাদি.-এর} ঘরে ঢুকলেন। … পরবর্তী অংশ ইব্রাহীম ইবনি সাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর হাদীসের অবিকল। তবে ইউনুস বলেছেন, তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পর্দার দিকে ঝুঁকলেন এবং তাহাঁর হাত দ্বারা তা টুকরো টুকরো করে ফেললেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৪৬, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৬৪]

৫৪২০

যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উপরোল্লিখিত সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। তবে ইবনি উয়াইনাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এবং মামার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর হাদীসে বর্ণিত আছে {আরবী} তারা {আরবী} [অর্থ একই] বলেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৪৭, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৬৫]

৫৪২১

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার নিকট আসলেন, সে সময় আমি আমার একটি তাক পর্দা দিয়ে ঢেকে রেখেছিলাম, যার মধ্যে ছবি ছিল। তিনি সেটি দেখিতে পেয়ে ছিঁড়ে ফেললেন এবং তাহাঁর চেহারা বিমর্ষ হয়ে গেল। তিনি বলিলেন, হে আয়িশাহ্! কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার নিকট ঐ সমস্ত ব্যক্তি ভয়ঙ্কর শাস্তি আস্বাদন করিবে, যারা আল্লাহ্‌র সৃষ্টির অনুরূপ সৃষ্টি করে।

আয়িশা [রাদি.] বলেন, আমরা সে সময় সেটি কেটে ফেললাম এবং সেটা দ্বারা একটা বা দুটো বালিশ তৈরি করলাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৪৮, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৬৬]

৫৪২২

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তাহাঁর এক টুকরো কাপড় ছিল, যার মধ্যে নানা রকম ছবি ছিল এবং তা একটি তাকের উপর ঝুলানো ছিল। নবী [সাঃআঃ] সেদিকে নামাজ আদায় করিতেন। সে সময় তিনি বলিলেন, এটি আমার সম্মুখ হইতে সরিয়ে নাও। আয়িশা [রাদি.] বলেন, সে সময় আমি সেটি সরিয়ে ফেললাম এবং [পরে] সেটি দ্বারা কয়েকটি বালিশ তৈরি করে নিলাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৪৯, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৬৭]

৫৪২৩

ইসহাক্ ইবনি ইব্রাহীম ও উক্বাহ্ ইবনি মুকরাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সাঈদ ইবনি আমির [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে; অন্য সানাদে ইসহাক্ ইবনি ইব্রাহীম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আবু আমির আকাদী হইতে, দুজনে শুবাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উল্লেখিত হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫০, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৬৮]

৫৪২৪

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার গৃহে প্রবেশ করিলেন। আমি সে সময় একটা মসৃণ চাদর দ্বারা পর্দা তৈরি করেছিলাম, যাতে অনেক ছবি ছিল। তিনি সেটি সরিয়ে ফেললেন। পরে আমি তা দিয়ে দুটি বালিশ তৈরি করলাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫১, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৬৯]

৫৪২৫

নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এর স্ত্রী আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি একটি পর্দা লটকালেন, তাতে বহু ছবি ছিল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রবেশ করে তা ছিঁড়ে ফেলে দিলেন। তিনি {আয়িশাহ্ [রাদি.]} বলেন, আমি সেটি টুকরো টুকরো করে দুটি বালিশ তৈরি করলাম। সে সময় বানূ যুহরার মাওলা, রাবীআহ্ ইবনি আতা নামে পরিচিত সভায় উপবিস্ট জনৈক লোক বলিলেন, আপনি কি আবু মুহাম্মাদকে এ কথা বর্ণনা করিতে শুনেননি যে,আয়িশা [রাদি.] বলেছেন, তারপরে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সে [বালিশ] দুটিতে হেলান দিতেন। ইবনি কাসিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিলেন, না।

তবে আমি কাসিম ইবনি মুহাম্মাদ [রাহঃ] এর নিকটেই এ কথা শুনেছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫২, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৭০]

৫৪২৬

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি একটি বসার গদি ক্রয় করিলেন, তাতে বহু ছবি ছিল। তা দেখে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দরজায় [ঘরে না ঢুকে] দাঁড়িয়ে রইলেন। আমি তাহাঁর মুখমন্ডলে অপছন্দের বিষণ্ণতা দেখলাম- অথবা বর্ণনাকারী বলেছেন, তাহাঁর অবয়বে বিমর্ষতার সাদৃশ্য প্রত্যক্ষ হলো। তিনি বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি আল্লাহ ও তাহাঁর রসূলের নিকট তাওবাহ্ করছি। কিন্ত আমি কি অন্যায় করেছি? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, এ গদির বিষয় কি? তিনি বলিলেন, আপনার জন্য আমি এটি ক্রয় করেছি, আপনি তাতে বসবেন এবং তাতে হেলান দিবেন। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ এসব ছবি তৈরিকারীদের [শাস্তি] দেয়া হইবে এবং তাদের বলা হইবে- তোমরা যা তৈরি করেছো তা জ্যান্ত করো। অতঃপর বলিলেন, যে গৃহে ছবি থাকে, সেখানে ফেরেশ্তা প্রবেশ করে না [ঢুকেন না]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫৩, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৭১]

৫৪২৭

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

কিন্ত তাদের একজনের হাদীস অন্যজনের হাদীসের তুলনায় পরিপূর্ণ। আবদুল আযীয [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাঁর হাদীসে বর্ধিত বর্ণনা করেন যে,আয়িশা [রাদি.] বলেছেন, তা দিয়ে তাঁকে আমি দুটি হেলানো বালিশ তৈরি করে দিলাম। তিনি ঘরে সে দুটিতে হেলান দিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫৪, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৭২]

৫৪২৮

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যারা ছবি প্রস্তত করে, কিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দেয়া হইবে আর বলা হইবে, তোমরা যা তৈরি করেছো তাকে জীবিত করো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫৫, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৭৩]

৫৪২৯

ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

ইবনি উমর [রাদি.] এর সানাদে নবী [সাঃআঃ] হইতে উবাইদুল্লাহ সানাদে ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসের হুবুহু রিওয়ায়াত করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫৬, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৭৪]

৫৪৩০

আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ অবশ্যই কিয়ামাতের দিবসে মানুষের মধ্যে [কঠিন] শাস্তি ভোগকারী হইবে ছবি তৈরিকারীরা। তবে আশাজ্জ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] إِنَّ  [অবশ্যই] শব্দটি বর্ণনা করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫৭, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৭৫]

৫৪৩১

আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উপরোক্ত সূত্রে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন কিন্ত ইয়াহ্ইয়া ও আবু কুরায়ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আবু মুআবিয়াহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর সানাদে বর্ণিত রয়েছে, অবশ্যই কিয়ামতের দিবসে জাহান্নামবাসীদের কঠিনরূপে শাস্তি ভোগকারীদের মধ্যে থাকিবে ছবি অঙ্কনকারীরা।

আর সুফ্ইয়ান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর হাদীস বর্ণনাকারী ওয়াকি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর বর্ণিত হাদীসের অবিকল। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫৮, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৭৬]

৫৪৩২

মুসলিম ইবনি সুবায়হ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি মাসরূক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এর সঙ্গে একটি গৃহে ছিলাম। সেখানে মারইয়াম [আঃ] এর [সদৃশ] মূর্তি ছিল। মাসরূক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিলেন, এটি [পারস্য বাদশাহ] কিসরার প্রতিমা। আমি বললাম, না; এটি মারইয়াম [আঃ] এর প্রতিমা [সদৃশ]। সে সময় মাসরূক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিলেন, শুনো! আমি আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] কে বলিতে শুনেছি যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কিয়ামাতের দিবসে ভয়ঙ্কররূপে শাস্তি ভোগকারী হইবে ছবি প্রস্ততকারীরা। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫৯, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৭৭]

৫৪৩৩

সাঈদ ইবনি আবুল হাসান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, জৈনিক লোক ইবনি আব্বাস [রাদি.] এর নিকট এসে বলিল, আমি এসব ছবি অঙ্কন করে থাকি; তাই এ ব্যাপারে আপনি আমাকে ফাতাওয়া দিন। তিনি বলিলেন, তুমি আমার কাছে এসো। সে তাহাঁর নিকটে এলে তিনি বলিলেন, [আরও] নিকটে এসো। সে [আরও] নিকটে এলো। পরিশেষে তিনি তার মাথায় হাত রেখে বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট যা শুনেছি, তা তোমাকে বলছি। আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ প্রত্যেক ছবি প্রস্ততকারী জাহান্নামের অধিবাসী হইবে। তার তৈরিকৃত প্রতিটি ছবিতে জীবন দেয়া হইবে, সে সময় জাহান্নামে তাকে ঐগুলো আযাব দিতে থাকিবে। তিনি আরও বলিলেন, তোমাকে একান্তই যদি [তা] করিতে হয়, তাহলে গাছ [পালা] এবং যার জীবন নেই, সে সব বস্তর [ছবি] প্রস্তত করো।

{ঈমাম মুসলিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এ হাদীস পড়ে শুনালে} নাস্র ইবনি আলী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার অনুমতি দিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৫৯, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৭৭]

৫৪৩৪

নাযর ইবনি আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি আব্বাস [রাদি.] এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি [অনেক বিষয়] ফাতাওয়া দিতে লাগলেন, কিন্তু [কোন ফাতাওয়ায়] এ কথা বলেননি যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ পরিশেষে জনৈক লোক তাঁকে প্রশ্ন করলে সে বলিল, আমি এসব [প্রাণীর] ছবি তৈরি করে থাকি। তখন ইবনি আব্বাস [রাদি.] তাকে বলিলেন, কাছে এসো। ব্যক্তিটি নিকটে আসলো। তখন ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছি যে, দুনিয়াতে যে লোক [প্রাণীর] ছবি অঙ্কন করে, কিয়ামাতের দিন তাতে প্রাণ ফুঁকে দিতে তাকে বাধ্য করা হইবে। অথচ সে [তা] ফুঁকে দিতে পারবে না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬০, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৭৮]

৫৪৩৫

নাসর ইবনি আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

জনৈক লোক ইবনি আব্বাস [রাদি.] এর নিকটে আসলো। … অতঃপর তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে হুবুহু বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬১, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৭৯]

৫৪৩৬

আবু যুরআহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা্ [রাদি.] এর সঙ্গে [খলীফা] মাওয়ানের গৃহে ঢুকলাম। সেখানে তিনি বহু ছবি প্রত্যক্ষ করে বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছি যে, মহান আল্লাহ বলেছেনঃ “সে লোকের চেয়ে অধিকতর অত্যাচারী আর কে আছে, যে আমার সৃষ্টি সমতুল্য মাখলূক সৃষ্টি করিতে চায়; [যদি তাই হয়] তাহলে তারা একটি [অনুভূতিশীল] বিন্দু সৃষ্টি করুক? কিংবা তারা [খাদ্য প্রাণ ও স্বাদযুক্ত] একটি শস্যদানা সৃষ্টি করে দেখাক? কিংবা তারা একটি মাত্র যব [এর দানা] সৃষ্টি করুক? [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬২, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৮০]

৫৪৩৭

আবু যুরআহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি এবং আবু হুরায়রা্ [রাদি.] সাঈদ অথবা মারওয়ানের জন্য মদীনায় নির্মাণাধীন একটি ঘরে ঢুকলাম। বর্ণনাকারী বলেন, সে সময় তিনি {আবু হুরায়রা্ [রাদি.]} প্রত্যক্ষ করিলেন যে, একজন অঙ্কনকারী ঘরের দেয়ালগুলোতে [বিভিন্ন] চিত্র আঁকছে। তখন তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] উপরোক্ত হাদীসের হুবহু বলেছেন। কিন্তু তিনি “তারা একটি [মাত্র] যবদানা সৃষ্টি করুক” অংশটি বর্ণনা করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬২, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৮১]

৫৪৩৮

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ সে ঘরে ফেরেশ্তাগণ প্রবেশ করেন না, যে ঘরে ছবি রয়েছ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৩৬৩, ইসলামিক সেন্টার- ৫৩৮২]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply