প্রস্রাব পায়খানা করার দোয়া , ইসতিনজা, শৌচ করা, পানপাত্র ইত্যাদি

প্রস্রাব পায়খানা করার দোয়া, ইসতিনজা, শৌচ করা, পানপাত্র ইত্যাদি

প্রস্রাব পায়খানা করার দোয়া, ইসতিনজা, শৌচ করা, পানপাত্র ইত্যাদি >> সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

 পর্বঃ ১, অধ্যায় (৯-৩১)=২৩ টি, হাদীস (২৯৬-৩৬৬)=৭১ টি

৯. অধ্যায়ঃ পায়খানায় প্রবেশকালে যা লোকের বলা কর্তব্য
১০. অধ্যায়ঃ পায়খানা থেকে বের হওয়ার সময় যা বলবে
১১. অধ্যায়ঃ পায়খানায় অবস্থানকালে মহান আল্লাহ্‌র যিক্‌র করা এবং আংটি খোলা
১২. অধ্যায়ঃ গোসলখানায় পেশাব করা মাকরূহ
১৩. অধ্যায়ঃ ইবনে মাজাহ – দাঁড়িয়ে পেশাব করা প্রসঙ্গ
১৪. অধ্যায়ঃবসে পেশাব করা
১৫. অধ্যায়ঃ ডান হাতে লজ্জাস্থান স্পর্শ করা ও শৌচ করা মাকরূহ্‌
১৬. অধ্যায়ঃ পাথর বা ঢিলা দিয়ে শৌচ করা এবং শুকনা ও কাঁচা গোবর দিয়ে শৌচ না করা
১৭. অধ্যায়ঃ পেশাব-পায়খানায় কিবলামুখী হয়ে বসা নিষেধ
১৮. অধ্যায়ঃ ঘরের মধ্যে কিবলামুখী হয়ে পায়খানা-পেশাব করার অনুমতি আছে এবং তা মুবাহ, কিন্তু খোলা স্থানে নয়
১৯. অধ্যায়ঃ পেশাব করার পর পবিত্রতা অর্জন করা
২০. অধ্যায়ঃ ইবনে মাজাহ যে ব্যক্তি পেশাব করার পর উযু করেনি
২১. অধ্যায়ঃ যাতায়াতের রাস্তায় পেশাব-পায়খানা করা নিষেধ২২. অধ্যায়ঃ পায়খানা-পেশাব করিতে দূরে যাওয়া
২২. অধ্যায়ঃ পায়খানা-পেশাব করিতে দূরে যাওয়া
২৩. অধ্যায়ঃ পেশাব-পায়খানার সময় পর্দা করা
২৪. অধ্যায়ঃ একত্রে বসে পায়খানা করা এবং পরস্পর কথা বলা নিষেধ
২৫. অধ্যায়ঃ বদ্ধ পানিতে পেশাব করা নিষেধ
২৬. অধ্যায়ঃ পেশাবের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা
২৭. অধ্যায়ঃ পেশাবরত ব্যক্তিকে সালাম দেওয়া প্রসঙ্গে
২৮. অধ্যায়ঃ পানি দিয়ে শৌচ করা
২৯. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি ইসতিনজা করার পর মাটিতে হাত ঘষলো
৩০. অধ্যায়ঃ পানপাত্র ঢেকে রাখা
৩১. অধ্যায়ঃ কুকুরের মুখ দেয়া পাত্র ধোয়া সম্পর্কে

৯. অধ্যায়ঃ পায়খানায় প্রবেশকালে যা লোকের বলা কর্তব্য

২৯৬. যায়দ বিন আরক্বাম [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, [পায়খানায়] এসব শয়তান উপস্থিত হয়। অতএব তোমাদের কেউ [পায়খানায়] প্রবেশকালে যেন বলেঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ

“হে আল্লাহ্ ! আমি আপনার নিকট অপবিত্রতা ও শয়তানের চক্রান্ত থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।” {২৯৪}

{২৯৪} আবু দাউদ ৬, আহমাদ ১৮৮০০, ১৮৮৪৪। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহা ১০৭০, মিশকাত ৩৫৭। প্রস্রাব পায়খানা করার দোয়া  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৯৭. আলী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, জিন ও মানুষের গোপন অঙ্গের মাঝখানের পর্দা হলো পায়খানায় প্রবেশকালে তার বিসমিল্লাহ বলা। {২৯৫}

{২৯৫} তিরমিজি ৬০৬ তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ মিশকাত ৩৫৮, ইরওয়াহ ৫০। উক্ত হাদিসের রাবি মুহাম্মাদ বিন হুমায়দ সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন সিকাহ বললেও ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেন, তার হাদিসে অধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। ইমাম বোখারি বলেন, তার হাদিসের ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আবু যুরআহ আর-রাযী ও ইবনি খিরাশ তাকে মিথ্যুক বলেছেন। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ। প্রস্রাব পায়খানা করার দোয়া  -হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৯৮. আনাস বিন মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন পায়খানায় প্রবেশ করিতেন, তখন বলিতেনঃ

 أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ

“আমি আল্লাহ্‌র নিকট অপবিত্রতা ও শয়তানের অশুভ চক্রান্ত থেকে পানাহ চাই।” {২৯৬}

{২৯৬} বোখারি ১৪২, ৬৩২২; মুসলিম ৩৭৫, তিরমিজি ৫, ৬; নাসায়ি ১৯, আহমাদ ৪, আহমাদ ১১৫৩৬, ১১৫৭২, ১৩৫৮৭; দারিমি ৬৬৯। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ৫১। প্রস্রাব পায়খানা করার দোয়া  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৯৯. আবু উমামাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, তোমাদের কেউ পায়খানায় প্রবেশকালে যেন এ কথা বলিতে অপারগ না হয়ঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الرِّجْسِ النَّجَسِ الْخَبِيثِ الْمُخْبِثِ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

“হে আল্লাহ্‌! আমি কদর্যতা, অপবিত্রতা, কদাকার ও ক্ষতিকর বিতারিত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয় চাই”।

৪/২৯৯[১]. আবু উমামাহ [রাঃআঃ], তবে এ বর্ণনায় [আরবি] [কদর্যতা অপবিত্রতা থেকে] কথাটির উল্লেখ নাই, বরং এ বর্ণনায় [আরবি] [কদর্য কুৎসিত বিতাড়িত শয়তানের কবল থেকে] কথাটি উল্লেখ আছে। {২৯৭}তাহকিক আলবানিঃ দঈফ।{২৯৭} জইফ। তাখরিজ আলবানিঃ যঈফাহ ২১৮৯। উক্ত হাদিসের রাবি আলী বিন ইয়াযীদ সম্পর্কে ইমাম বোখারি বলেন, মুনকারুল হাদিস ও দুর্বল। আহমাদ বিন হাম্বল তাকে দুর্বল বলেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ বলেন তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইমাম নাসাঈ বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। প্রস্রাব পায়খানা করার দোয়া  হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১০. অধ্যায়ঃ পায়খানা থেকে বের হওয়ার সময় যা বলবে

৩০০. আবু বুরদাহ হইতে বর্ণিতঃ

আমি আয়িশা [রাঃআঃ] এর নিকট প্রবেশ করে তাকে বলিতে শুনলাম রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পায়খানা থেকে বের হওয়ার সময় বলিতেন,

غُفْرَانَكَ

[গুফরানাকা] অর্থাৎ “আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি”। {২৯৮}

{২৯৮} তিরমিজি ৭, আবু দাউদ ৩০, দারিমি ৬৮০। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ৫২, মিশকাত ৩৫৯। প্রস্রাব পায়খানা করার দোয়া  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩০১. আনাস বিন মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] পায়খানা থেকে বের হওয়ার সময় বলিতেনঃ

 الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الأَذَى وَعَافَانِي

“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য যিনি আমার থেকে কষ্ট দূর করিয়াছেন এবং স্বস্তি দান করিয়াছেন”। {২৯৯}

{২৯৯} জইফ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়ায়িল গালীল ৫৩, জামি সগীর ৪৭১, ৪৩৭৮, ৪৩৮৮; মিশকাত ৩৭৪, ইরওয়াহ ৫৩ যঈফাহ্ ৫৬৫৮। উক্ত হাদিসের রাবি ইসমাইল বিন মুসলিম সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইবনি মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনিল মাদীনী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহনযোগ্য নয়। আমর ইবনিল ফাল্লাস বলেন, হাদিস বর্ণনায় তিনি দুর্বল তাছাড়া তিনি হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। প্রস্রাব পায়খানা করার দোয়া  হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১১. অধ্যায়ঃ পায়খানায় অবস্থানকালে মহান আল্লাহ্‌র যিক্‌র করা এবং আংটি খোলা

৩০২. আয়িশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সর্বাবস্থায় আল্লাহ্‌র যিক্‌র করিতেন। {৩০০}

{৩০০} মুসলিম ৩৭৩, তিরমিজি ৩৩৮৪, আবু দাউদ ১৮, আহমাদ ২৩৮৮৯, ২৪৬৭৪, ২৫৮৪৪। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহা ৪০৬। প্রস্রাব পায়খানা করার দোয়া  হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩০৩. আনাস বিন মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] পায়খানায় প্রবেশের আগে তার আংটি খুলে রাখতেন। {৩০১}

{৩০১} তিরমিজি ১৭৪৬, নাসায়ি ৫২১৩, আবু দাউদ ১৯। তাহকিক আলবানিঃ জইফ। তাখরিজ আলবানিঃ আবু দাউদ ১৯ মুনকার, জামি সগীর ৪৩৯০ জইফ, নাসায়ি ৫২১৩ জইফ, তিরমিজি ১৭৪৬ জইফ, মিশকাত ৩৪৩ জইফ, মিশকাত ৩৪৩, জইফ আবু দাউদ ৪, মুতখাসার শামায়িল মুহাম্মাদিয়া ৭৫। প্রস্রাব পায়খানা করার দোয়া  হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১২. অধ্যায়ঃ গোসলখানায় পেশাব করা মাকরূহ

৩০৪. আবদুল্লাহ বিন মুগাফ্‌ফাল [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন তার গোসলখানায় পেশাব না করে। কেননা তা থেকেই যাবতীয় সন্দেহের উদ্রেক হয়।

১/৩০৪[১]. আবদুল্লাহ ইবনি মাজাহ [রহঃ] বলেন, আমি মুহাম্মাদ বিন ইয়াযীদ [রহঃ] কে বলিতে শুনেছি, তিনি আলী বিন মুহাম্মাদ আত-তানাফিসী [রহঃ] কে বলিতে শুনেছেন, এ নির্দেশ সেই সময়ের যখন গোসলখানা কাঁচা ছিল। যেহেতু বর্তমানকালে গোসলখানা ইট ও চুনা দ্বারা নির্মিত হয়। তাই যদি কেউ পেশাব করার পর সে সেখানে পানি ঢেলে দেয়, তবে তাতে কোন দোষ নেই। এটা পূর্ণটিই দঈফ এর প্রথম অংশ সহিহ। {৩০২}তাহকিক আলবানিঃ দঈফ কিন্তু পূর্বশর্ত হিসেবে সহিহ।{৩০২} বোখারি ৪৮৪২, তিরমিজি ২১, নাসায়ি ৩৬, আবু দাউদ ২৭। তাহকিক আলবানিঃ জইফ কিন্তু পূর্বশর্ত হিসেবে সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ আবু দাউদ ২৭ জইফ, জামি সগীর ৭৫৯৭ সহিহ, নাসায়ি ৩৬ সহিহ, মিশকাত ৩৫৩ জইফ।হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

১৩. অধ্যায়ঃ ইবনে মাজাহ – দাঁড়িয়ে পেশাব করা প্রসঙ্গ

৩০৫. হুযাইফাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোন এক গোত্রের ময়লা-আবর্জনার নিকট পৌঁছে সেখানে দাঁড়িয়ে পেশাব করেন। {৩০৩}

{৩০৩} বোখারি ২২৪, ২২৫, ২২৬, ২৪৭১; মুসলিম ২৭৩/১-২, তিরমিজি ১৩, নাসায়ি ১৮, ২৬, ২৭, ২৮; আবু দাউদ ২৩, আহমাদ ২২৭৩০, ২২৮৩৪, ২২৯০৫; দারিমি ৬৬৮। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ৫৭, সহিহা ২০১।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩০৬. মুগীরাহ বিন শুবাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক গোত্রের ময়লা-আবর্জনার ইকত পৌঁছে তথায় দাঁড়িয়ে পেশাব করেন।

২/৩০৬ [১]. সে সময় এ হাদীস মুগীরাহ [রাঃআঃ]>- এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন, কিন্তু আসিম তা ভুলে যান। এরপর আমি <মানসূর [রঃ]>-কে জিজ্ঞেস করলে তিনিও সেটি <আবু ওয়ায়িল [রাঃআঃ]><এর সূত্রে হুজাইফাহ [রাঃআঃ]> থেকে বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] লোকেদের ময়লা-আবর্জনার স্তূপের নিকট পৌঁছে দাঁড়িয়ে পেশাব করেন। {৩০৪}{৩০৪} আহমাদ ১৭৬৮৪ তাহকিক আলবানিঃ সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪. অধ্যায়ঃবসে পেশাব করা

৩০৭. আয়িশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তোমাকে বলে যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দাঁড়িয়ে পেশাব করিয়াছেন, তার কথা তুমি বিশ্বাস করিবে না। আমি তাঁকে বসে পেশাব করিতে দেখেছি। {৩০৫}

{৩০৫} তিরমিজি ১২, নাসায়ি ২৯। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহা ২০১।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩০৮. উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে দাঁড়িয়ে পেশাব করিতে দেখে বলেন, হে উমার! তুমি দাঁড়িয়ে পেশাব করো না। এরপর থেকে আমি দাঁড়িয়ে পেশাব করিনি। {৩০৬}

{৩০৬} তিরমিজি ১২ তাহকিক আলবানিঃ জইফ। তাখরিজ আলবানিঃ তিরমিজি ১২ সহিহ, মিশকাত ৩৬৩ জইফ, যঈফাহ ৯৩৪। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুল করীম বিন আবু উমায়্যাহ সম্পর্কে আয়্যুব আস-সাখতিয়ানী বলেন, তিনি সিকাহ নন। আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম নাসাঈ তাকে প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন। ইবনি হিব্বান বলেন হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। ইবনি আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ‏.হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩০৯. জাবির বিন আবদুল্লাহ্‌ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দাঁড়িয়ে পেশাব করিতে নিষেধ করিয়াছেন।

৩/৩০৯[১]. আয়িশা [রাঃআঃ] – এর এ হাদীস “আমি তাঁকে [সাঃআঃ] বসে পেশাব করিতে দেখেছি” বর্ণনা করলে এক ব্যক্তি বললো, একজন পুরুষ এ ব্যাপারে তার তুলনায় অধিক জ্ঞাত। আহমাদ বিন আবদুর রহমান [রহঃ] বলেন, দাঁড়িয়ে পেশাব করা ছিল আরবদের অভ্যাস। তুমি কি আবদুর রহমান বিন হাসান [রহঃ] – এর বর্ণিত হাদীসে দেখোনি, যাতে তিনি বলেছেন, “তিনি মহিলাদের মত বসেই পেশাব করেন”? এটা সহিহ হাদীসের অন্তর্ভূক্ত। {৩০৭}

খুবই দুর্বল। তাখরিজ আলবানিঃ যঈফাহ ৬৩৮। উক্ত হাদিসের রাবি আলী ইবনিল ফাদল সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন। আলী ইবনিল মাদীনী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী তার হাদিস প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করেন নি। ইমাম নাসাঈ বলেন তিনি সিকাহ নন।হাদিসের তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

১৫. অধ্যায়ঃ ডান হাতে লজ্জাস্থান স্পর্শ করা ও শৌচ করা মাকরূহ্‌

৩১০. আবু কাতাদাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]কে বলিতে শুনেছেন ঃ তোমাদের কেউ যেন পেশাব করাকালে তার ডান হাত দিয়ে তার লিঙ্গ স্পর্শ না করে এবং তার ডান হাত দিয়ে শৌচ না করে। {৩০৮}

{৩০৮} বোখারি ১৫৩, ১৫৪, ২৬৩০; মুসলিম ২৬৭/১-২, তিরমিজি ১৫, নাসায়ি ২৪, ২৫, ৪৭; আবু দাউদ ৩১, আহমাদ ২২০১৬, ২২০২৮, ২২০৫৯, ২২১২৮, ২২১৪১, ২২১৪৯; দারিমি ৬৭৩। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুল হামীদ বিন হামীব বিন আবুল ঈশরীন সম্পর্কে ইমাম দারাকুতনী ও আবু হাতিম আর-রাযী সিকাহ বললেও ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩১১. উসমান বিন আফ্‌ফান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি কখনো গান গাইনি, মিথ্যা কথাও বলিনি এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট বায়আত হওয়ার পর থেকে ডান হাতে আমার লিঙ্গও স্পর্শ করিনি। {৩০৯}

নাই তাহকিক আলবানিঃ অত্যন্ত দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবি সালত বিন দীনার সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য ও মানুষেরাও তার হাদিস প্রত্যাখ্যান করেছে। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। ইমাম বোখারি বলেন তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহনযোগ্য নয়। ইয়াকুব বিন সুফইয়ান তাকে দুর্বল বলেছেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী তাকে দুর্বল আখ্যায়িত করিয়াছেন।হাদিসের তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

৩১২ আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন তার ডান হাতে শৌচ না করে, বরং সে যেন তার বাম হাতে শৌচ করে। {৩১০}

{৩১০} বোখারি ১৫৫, ৩৮৬০; নাসায়ি ৪০, আবু দাউদ ৮, আহমাদ ৭৩২১, ৭৩৬১; দারিমি ৬৭৩, মুওয়াত্ত্বা মালিক ৩১৩। তাহকিক আলবানিঃ হাসান সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

১৬. অধ্যায়ঃ পাথর বা ঢিলা দিয়ে শৌচ করা এবং শুকনা ও কাঁচা গোবর দিয়ে শৌচ না করা

৩১৩ আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, আমি তোমাদের জন্য সন্তানের পিতার সমতুল্য। আমি তোমাদের শিক্ষা দিচ্ছি যে, তোমরা পায়খানায় এসে কিবলাহ্‌কে সামনে রেখেও বসবে না এবং পেছনেও রাখবে না। তিনি তিনটি পাথর বা ঢিলা [শৌচকার্যে] ব্যবহারের নির্দেশ দেন এবং তিনি শুকনা ও কাঁচা গোবর [শৌচকার্যে] ব্যবহার করিতে নিষেধ করেন। উপরন্তু তিনি মানুষকে তার ডান হাত দিয়ে শৌচ করিতে নিষেধ করেন। {৩১১}

{৩১১} বোখারি ১৫৫, ৩৮৬০; নাসায়ি ৪০, আবু দাউদ ৮, আহমাদ ৭৩২১, ৭৩৬১; দারিমি ৬৭৩, মুওয়াত্ত্বা মালিক ৩১২। তাহকিক আলবানিঃ হাসান সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ মিশকাত ২৪১।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৩১৪. আবদুল্লাহ বিন মাসউদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পায়খানায় যেতে [আমাকে] বলেন, আমার জন্য তিনটি পাথর [ঢিলা] নিয়ে এসো। আমি তাহাঁর জন্য দুটি পাথর ও একটি শুকনা গোবরের টুকরা নিয়ে এলাম। তিনি পাথর দুটি গ্রহণ করেন এবং গোবরের টুকরাটি ফেলে দিয়ে বলেন, এটি অপবিত্র। {৩১২}

{৩১২} বোখারি ১৫৬, তিরমিজি ১৭, নাসায়ি ৪২। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩১৫. খুযায়মাহ বিন সাবিত [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] শৌচ করা সম্পর্কে বলেছেন, তিনটি টুকরা হইতে হইবে, যার সাথে কোন নাপাক জিনিস নেই। {৩১৩}

{৩১৩} আবু দাউদ ৪১, আহমাদ ২১৩৪৯। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩১৬. সালমান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, কতিপয় মুশরিক তাকে উপহাস করে বললো, আমি তোমাদের এই সাথীকে [মুহাম্মাদ] দেখিতে পাচ্ছি যে, তিনি তোমাদের সব বিষয়ে শিক্ষা দেন, এমনকি পায়খানা-পেশাব সম্পর্কেও। তিনি বলেন, হাঁ। তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমরা যেন কিবলাহ্‌মুখী হয়ে পায়খানা-পেশাব না করি, ডান হাতে যেন শৌচ না করি এবং [শৌচে] তিনটি পাথরের কম যেন ব্যবহার না করি, যার সাথে পশুর গোবর ও হাড় যেন না থাকে। {৩১৪}

{৩১৪} মুসলিম ২৬২/১-২, তিরমিজি ১৬, নাসায়ি ৪১, আবু দাউদ ৭, আহমাদ ২৩১৯১, ২৩২০১, ২৩২০৭। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৭. অধ্যায়ঃ পেশাব-পায়খানায় কিবলামুখী হয়ে বসা নিষেধ

৩১৭. আবদুল্লাহ্‌ ইবনিল হারিস বিন জায্‌য়িয-যুবায়দী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমিই প্রথম ব্যক্তি, যে নবী [সাঃআঃ]- কে বলিতে শুনেছে ঃ “তোমাদের কেউ যেন কিবলাহ্‌মুখী হয়ে পেশাব না করে এবং আমিই প্রথম ব্যক্তি যে লোকেদের নিকট এ হাদীস বর্ণনা করেছে। {৩১৫}

{৩১৫} আহমাদ ১৭২৪৭, ১৭২৫৫। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩১৮. আবু আয়্যূব আল-আনসারী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি পায়খানায় যায় তাকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কিবলামুখী হয়ে বসতে নিষেধ করিয়াছেন এবং বলেছেন, তোমরা পূর্ব অথবা পশ্চিমমুখী হয়ে বসো। {৩১৬}

{৩১৬} বোখারি ১৪৪, ৩৯৪; মুসলিম ২৬৪, তিরমিজি ৮, নাসায়ি ২০, ২১, ২২; আবু দাউদ ৯; আহমাদ ২৩০০৩, ২৩০০৮, ২৩০১৩, ২৩০২৫, ২৩০৪৭, ২৩০৬৫; মুওয়াত্ত্বা মালিক ৪৫৩, দারিমি ৬৬৫। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ, সহিহ আবু দাউদ ৭, ইরওয়াহ ২৯৩।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩১৯. মাকিল বিন আবু মাকিল আল-আসাদী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি নবী [সাঃআঃ]এর সাহচর্য লাভ করেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে দুকিবলাহ্‌র দিকে মুখ করে পায়খানা অথবা পেশাব করিতে নিষেধ করিয়াছেন। {৩১৭}

{৩১৭} আবু দাউদ ১০, আহমাদ ১৭৩৮৩, ২৬৭৮৪। তাহকিক আলবানিঃ জইফ। তাখরিজ আলবানিঃ জইফ আবু দাউদ ২। উক্ত হাদিসের রাবি আবু যায়দ সম্পর্কে আলী ইবনিল মাদীনী বলেন, তিনি পরিচিত নন।হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩২০. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহু [সাঃআঃ] সম্পর্কে সাক্ষ্য দেন যে, তিনি আমাদেরকে কিবলাহ্‌র দিকে মুখ করে পায়খানা ও পেশাব করিতে নিষেধ করিয়াছেন। {৩১৮}

{৩১৮} সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ১০।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২১. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আবু সাঈদ খুদরী [রাঃআঃ]–কে বলিতে শুনেছেন ঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে দাঁড়িয়ে পানীয় পান করিতে এবং কিবলামুখী হয়ে পেশাব করিতে নিষেধ করিয়াছেন। {৩১৯}

{৩১৯} সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ১০।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮. অধ্যায়ঃ ঘরের মধ্যে কিবলামুখী হয়ে পায়খানা-পেশাব করার অনুমতি আছে এবং তা মুবাহ, কিন্তু খোলা স্থানে নয়

৩২২. আবদুল্লাহ্‌ বিন উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, লোকেরা বলে, তুমি পায়খানায় কিবলাহমুখী হয়ে বসো না। কিন্তু একদিন আমি আমাদের ঘরের ছাদের উপর উঠে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – কে দুটি ইটের উপর উপবিষ্ট দেখিতে পাই। তাহাঁর মুখমন্ডল বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে ছিল। এটা হচ্ছে ইয়াযীদ বিন হারূনের বর্ণিত হাদীস। {৩২০}

{৩২০} বোখারি ১৪৫, ১৪৮, ১৪৯, ৩১০২; মুসলিম ২৬৬/১-২, তিরমিজি ১১, নাসায়ি ২৩, আবু দাউদ ১২, আহমাদ ৪৫৯২, ৪৬০৩, ৪৯৭১, ৪৭০৭; মুওয়াত্ত্বা মালিক ৪৫৫, দারিমি ৬৬৭। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৯।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩২৩. ইবনি উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]কে তাহাঁর পায়খানায় কিবলাহমুখী হয়ে বসতে দেখেছি। রাবি ঈসা বলেন, আমি বিষয়টি শাবী [রহঃ]– কে বললে তিনি বলেন, ইবনি উমার [রাঃআঃ] ও আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] সত্য বলেছেন। আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ]–এর উক্তি উন্মুক্ত ময়দানের বেলায় প্রযোজ্য ঃ “[পায়খানা-পেশাবে] কেউ কিবলাহ্‌র দিকে মুখ করিবে না এবং কিবলাহ্‌কে পিছনেও রাখবে না।” আর ইবনি উমার [রাঃআঃ] – এর উক্তি প্রাচীর ঘেরা পায়খানা গৃহের বেলায় প্রযোজ্য ঃ “সেখানে কোন কিবলাহ নাই। সেখানে তুমি যে দিকে ইচ্ছা মুখ ফিরিয়ে [পায়খানা পেশাব] করিতে পারো”।২/৩২৩[১]. ইবনি উমার [রাঃআঃ]। {৩২১}

{৩২১} আহমাদ ৫৬৮২, ৫৭০৭, ৫৯০৫। তাহকিক আলবানিঃ অত্যন্ত দুর্বল। উক্ত হাদিসের রাবি ঈসা আল হান্নাত সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই তবে তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যাবে না। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য ও তিনি খুবই দুর্বল। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য।হাদিসের তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

৩২৪. আয়িশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – এর নিকট একদল লোক সম্পর্কে আলোচনা করা হলো যারা তাহাদের লজ্জাস্থানকে কিবলাহ্‌মুখী করিতে অপছন্দ করে। তিনি বলেন, আমার মনে হয় তারা এরূপ করিতে শুরু করে দিয়েছে। তোমরা আমার পায়খানা কিবলাহ্‌র দিকে ঘুরিয়ে দাও। {৩২২}

{৩২২} আহমাদ ২৫৩৭১ তাহকিক আলবানিঃ জইফ। তাখরিজ আলবানিঃ যঈফা ২/৯৪৭ মুনকার। উক্ত হাদিসের রাবি খালিদ বিন আবুস সালত সম্পর্কে ইমাম যাহাবী সিকাহ বললেও ইবনি হাজার তাকে অপরিচিত বলেছেন। ইমাম বোখারি বলেন, ভাল না।হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩২৫. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের কিবলাহ্‌মুখী হয়ে পেশাব করিতে নিষেধ করিয়াছেন। কিন্তু আমি তাঁকে তাহাঁর ইনতিকালের এক বছর আগে কিবলাহমুখী [পায়খানা-পেশাবে] হইতে দেখেছি। {৩২৩}

{৩২৩} তিরমিজি ৯, আবু দাউদ ১৩, আহমাদ ১৪৪৫৮। তাহকিক আলবানিঃ হাসান। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ১০।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৯. অধ্যায়ঃ পেশাব করার পর পবিত্রতা অর্জন করা

৩২৬. ইয়াযদাদ আল-ইয়ামানী [মাজহূল বা অপরিচিত] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের কেউ পেশাব করার পর যেন তার লজ্জাস্থান তিনবার ঝাড়ে। {৩২৪}

{৩২৪} আহমাদ ১৮৫৭৪, ১৮৫৭৫। তাহকিক আলবানিঃ জইফ। উক্ত হাদসের রাবি যামআহ বিন সালিহ সম্পর্কে ইবনি আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি খুবই দুর্বল। ইমাম বোখারি বলেন, তিনি সহিহ হাদিসের বিপরীত বর্ণনা করেন। ২. ঈসা বিন ইয়াযদাদ সম্পর্কে ইমাম বোখারি ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস বিশুদ্ধ নয়। ৩. ইয়াযদাদ আল ইয়ামানী সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও ইবনি আবদুল বার বলেন, তিনি পরিচিত নন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি অপরিচিত।হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২০. অধ্যায়ঃ ইবনে মাজাহ যে ব্যক্তি পেশাব করার পর উযু করেনি

৩২৭. আয়িশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] পেশাব করিতে গেলেন এবং উমার [রাঃআঃ] পানি নিয়ে তাহাঁর পিছে পিছে গেলেন। তিনি বলেন, হে উমার! এটা কী? উমার বলেন, পানি। তিনি বলেন, যখনই আমি পেশাব করব তখনই আমাকে উযু করার নির্দেশ দেওয়া হয় নি। আমি তাই করলে তা সুন্নাত [বাধ্যতামূলক] হয়ে যেত। {৩২৫}

{৩২৫} আবু দাউদ ৪২, আহমাদ ২৪১২২। তাহকিক আলবানিঃ জইফ। তাখরিজ আলবানিঃ মিশকাত ৩৬৮, জইফ আবু দাউদ ৯। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া আত-তাওওয়াম সম্পর্কে ইবনি হিব্বান সিকাহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন, ইমাম নাসাঈ ও আল উকায়লী তাকে দুর্বল বলেছেন।হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২১. অধ্যায়ঃ যাতায়াতের রাস্তায় পেশাব-পায়খানা করা নিষেধ

৩২৮. মুআয বিন জাবাল [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি এমন হাদীস বর্ণনা করিতেন, যা রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] এর অপর সাহাবীগণ শুনেননি এবং তারা যে হাদীস শুনেছেন তা তিনি বর্ণনা করিতেন না। আবদুল্লাহ বিন আম্‌র [রাঃআঃ] তার বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে অবহিত হয়ে বলেন, আল্লাহ্‌র শপথ! আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে এ হাদীস বলিতে শুনিনি। মুআয [রাঃআঃ] যেন পায়খানা-পেশাবের ব্যাপারে তোমাদের দ্বিধা-দ্বন্দ্বে না ফেলে। মুআয [রাঃআঃ] উক্ত মন্তব্য সম্পর্কে অবহিত হয়ে আবদুল্লাহ বিন আম্‌র [রাঃআঃ] এর সাথে দেখা করেন এবং বলেন, হে আবদুল্লাহ বিন আম্‌র! রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর প্রতি মিথ্যা হাদীস আরোপ করা মুনাফিকী এবং তার গুনাহ্ মিথ্যা আরোপকারীর উপর বর্তায়। আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছি ঃ তোমরা তিনটি অভিশপ্ত জিনিস থেকে দূরে থাকো ঃ ব্যবহার্য পানি বা পানির উৎসে, ছায়াদার বৃক্ষতলে ও লোক চলাচলের পথে পেশাব-পায়খানা করা। {৩২৬}

{৩২৬} আবু দাউদ ২৬ তাহকিক আলবানিঃ হাসান। তাখরিজ আলবানিঃ মিশকাত ৩৫৫, ইরওয়াহ ৬২। উক্ত হাদিসের রাবি আবু সাঈদ আল হিমায়রী সম্পর্কে ইবনিল কাত্তান বলেন, তার অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি কে? তা কিছু জানা যায়নি।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩২৯. জাবির বিন আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমরা রাস্তার উপর রাত যাপন করা ও সলাত আদায় করা থেকে বিরত থাকো। কেননা, তা [রাতে] সাপ ও হিংস্র জন্তুর যাতায়াত পথ। তোমরা রাস্তায় পেশাব-পায়খানা করা থেকেও বিরত থাকো। কারণ তা অভিশপ্ত আচরণের অন্তর্ভুক্ত। {৩২৭}

তাহকীক আলবানি ঃ সলাত আদায়ের কথাটি ছাড়া হাসান।{৩২৭} আহমাদ ১৩৮৬৫ তাহকিক আলবানিঃ সালাত আদায়ের কথাটি ছাড়া হাসান। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ১/১০১, সহিহা ২৪৩৩। উক্ত হাদিসের রাবি সালিম সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, আমি তার মাঝে কোন সমস্যা দেখি না। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩৩০. আবদুল্লাহ বিন উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] চলাচলের পথের উপর সলাত আদায় করিতে এবং পায়খানা-পেশাব করিতে নিষেধ করিয়াছেন। {৩২৮}

{৩২৮} জইফ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ১/১০১, ১০২ ও ৩১৯। উক্ত হাদিসের রাবি কুররাহ সম্পর্কে ইবনি আদী বলেন, তার চেয়ে অন্য কাউকে মুনকার হাদিস বর্ণনা করিতে দেখি নি। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি অধিক মুনকার হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় খুবই দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নন।হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২২. অধ্যায়ঃ পায়খানা-পেশাব করিতে দূরে যাওয়া

৩৩১. মুগীরাহ বিন শুবাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে দূরে যেতেন। {৩২৯}

{৩২৯} তিরমিজি ২০, নাসায়ি ১৭, আবু দাউদ ১, দারিমি ৬৬০। তাহকিক আলবানিঃ হাসান সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহা ১১৫৯। সহিহ, আবু দাউদ ১২।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৩৩২. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে দূরে যান। অতঃপর ফিরে এসে তিনি উযুর পানি নিয়ে ডাকেন এবং উযু করেন। {৩৩০}

{৩৩০} সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৩৩।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৩. ইয়ালা বিন মুর্‌রাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে দূরবর্তী স্থানে যেতেন। {৩৩১}

{৩৩১} সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহা ১১৫৯।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৪. আবদুর রহমান বিন আবু কুরাদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী[সাঃআঃ] এর সঙ্গে হাজ্জ করেছি। তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে দূরবর্তী স্থানে চলে যেতেন। {৩৩২}

{৩৩২} নাসায়ি ১৬ তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ২।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৫. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে সফরে বের হলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে এতটা দূরে যেতেন যে, তাঁকে দেখা যেত না। {৩৩৩}

{৩৩৩} আবু দাউদ ২, দারিমি ১৭। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ২।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৩৬. বিলাল ইবনিল হারিস আল মুযানী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে দূরে চলে যেতেন। {৩৩৪}

হাদিসটি ইমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ লিগাইরিহী। উক্ত হাদিসের রাবি কাসীর বিন আবদুল্লাহ আল মুযানী সম্পর্কে ইমাম সাফেঈ বলেন, তিনি মিথ্যুকদের একজন অথবা মিথ্যার একটি রুকন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার হাদিস দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার হাদিস নির্ভরযোগ্য নয়। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি মিথ্যুকদের একজন। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ লিগাইরিহি

২৩. অধ্যায়ঃ পেশাব-পায়খানার সময় পর্দা করা

৩৩৭. আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেন, যে ব্যক্তি ঢিলা দ্বারা শৌচ করিতে চায়, সে যেন বেজোড় সংখ্যক ঢিলা ব্যবহার করে। যে ব্যক্তি তাই করলো, সে উত্তম কাজ করলো এবং যে তা [বেজোড়] করলো না তার কোন দোষ নেই। কেউ খিলাল করলে সে যেন দাঁতের ফাঁক থেকে নির্গত জিনিস বাইরে ফেলে দেয়। যার মুখ থেকে লালা বের হয়, সে যেন তা ফেলে দেয়। যে ব্যক্তি এরূপ করলো, সে উত্তম কাজ করলো এবং যে তা করলো না, তার কোন দোষ নেই। যে ব্যক্তি পায়খানায় যায় সে যেন আড়াল করে। এজন্য কিছু না পেলে সে যেন বালু স্তুপ করে তার দ্বারা আড়াল করে। কেননা শয়তান আদম সন্তানের পশ্চাদদ্বার নিয়ে খেলা করে। যে ব্যক্তি এরূপ করলো, সে উত্তম কাজ করলো এবং যে তা করলো না, তার কোন দোষ নেই। {৩৩৫}

{৩৩৫} জইফ, কিন্তু বিজোড় সংখ্যক ঢিলা নেয়ার কথা সহীহ্। তাখরিজ আলবানিঃ আবু দাউদ ৩৫ জইফ, জামি সগীর ৪৫৬৮ জইফ, মিশকাত ৩৫২ জইফ, যঈফা ৩/১০২৮। উক্ত হাদিসের রাবি ১. হুসায়ন আল হিমায়রী সম্পর্কে ইবনি হিব্বান সিকাহ বললেও ইমাম যাহাবী বলেন, তার পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। ২. আবু সাঈদ আল খায়র সম্পর্কে ইবনি হিব্বান সিকাহ বললেও আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, আমি তার পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানি না।হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৩৮. আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] থেকে এই সানাদ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এই বর্ণনায় আরো আছে ঃ যে ব্যক্তি সুরমা লাগায়, সে যেন বেজোড় সংখ্যকবার লাগায়। যে ব্যক্তি এরূপ করলো, সে উত্তম কাজ করলো এবং যে তা করেনি, তার কোন দোষ নেই। কারো মুখ থেকে কিছু বের হলে সে যেন তা উদগীরণ করে ফেলে দেয়। {৩৩৬}

তাহকীক আলবানি ঃ যে ব্যক্তি সুরমা লাগায় সে যেন বিজোড় লাগায় এ কথা ব্যতীত দঈফ।{৩৩৬} বোখারি ১৬১, ১৬২ মুসলিম ২৩৭/১-২,৩; নাসায়ি ৮৬, ৮৮; আবু দাউদ ৩৫, ১৪০ আ, ৭১৮০,৭৪০৩, ৭৬৭৩, ৭৬৮৮, ৮০১৬, ২৭৩৮২, ৮৩৯৯, ৮৪৬২, ৮৫০৮, ৮৬২১, ৮৭৯৬, ৮৯৫৭, ৯৬৫৩, ২৭২৮২; মুওয়াত্ত্বা মালিক ৩৩, ৩৪; দারিমি ৬৬২,৭০৩। তাহকিক আলবানিঃ যে ব্যাক্তি সুরমা লাগায় সে যেন বিজোড় লাগায়- এ কথা ব্যতীত জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. হুসায়ন আল হিমায়রী সম্পর্কে ইবনি হিব্বান সিকাহ বললেও ইমাম যাহাবী বলেন, তার পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। আবু সাঈদ আল খায়র সম্পর্কে ইবনি হিব্বান সিকাহ বললেও আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, আমি তার পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানি না।হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৩৯. মুর্‌রাহ বিন ওয়াহব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি নবী [সাঃআঃ]-এর সাথে সফরে ছিলাম। তিনি পায়খানা করার ইচ্ছা করলে আমাকে বলেন, এই গাছ দুটিকে ডেকে আনো। ওয়াকী [রাঃআঃ]-এর বর্ণনায় আছে, তা ছিল দুটি ছোট খেজুর গাছ। তুমি গাছ দুটিকে বলো, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তোমাদের উভয়কে একত্র হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। অতএব, গাছ দুটি একত্র হলে তিনি তাহাদের দ্বারা আড়াল করিলেন এবং তাহাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারলেন। অতঃপর তিনি আমাকে বলেন, তুমি ওদের কাছে গিয়ে বলো, তারা যেন স্বস্থানে ফিরে যায়। অতএব আমি [গাছ দুটির নিকট] গিয়ে তাই বললাম এবং তারা স্বস্থানে ফিরে গেল। {৩৩৭}

{৩৩৭} আহমাদ ১৭০৯৭, ১৭১০৯। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৪০. আবদুল্লাহ বিন জাফার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] পায়খানা করার সময় উঁচু টিলা অথবা ঘন খেজুর বিথীর আড়ালে বসতে পছন্দ করিতেন। {৩৩৮}

{৩৩৮} মুসলিম ৩৪২ আবু দাউদ ২৫৪৯, আহমাদ ১৭৪৭। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ তারগিব ১৫৫।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৪১. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পেশাব করিতে গিরিপথে চলে যেতেন। তিনি যখন পেশাব করিতেন, তখন আমি তাহাঁর পিছন দিকে আড় হয়ে থাকতাম। {৩৩৯}

জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি মুহাম্মাদ বিন যাকওয়ান সম্পর্কে ইমাম বোখারি ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু হাতিম আর-রাযী অন্যত্রে বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল ও অধিক ভুল করেন। ইমাম নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ নন তার হাদিস গ্রহন করা যাবে না। আস-সাজী বলেন তার নিকট একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। ইবনি হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও যুআফাহ গ্রন্থে বলেন, তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়।হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৪. অধ্যায়ঃ একত্রে বসে পায়খানা করা এবং পরস্পর কথা বলা নিষেধ

৩৪২. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

দুব্যক্তি যেন এমনভাবে পায়খানায় না বসে যে, একে অপরের আবরণীয় অঙ্গ দেখিতে পায় এবং এ অবস্থায় পরস্পর বাক্যালাপ না করে। কারণ তাতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। {৩৪০}

{৩৪০} আবু দাউদ ১৫, আহমাদ ১০৯১৭। তাহকিক আলবানিঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি সালম বিন ইবরাহীম সম্পর্কে ইবনি হিব্বান সিকাহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে মিথ্যুক বলেছেন।হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

২৫. অধ্যায়ঃ বদ্ধ পানিতে পেশাব করা নিষেধ

৩৪৩. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] বদ্ধ পানিতে পেশাব করিতে নিষেধ করিয়াছেন। {৩৪১}

{৩৪১} মুসলিম ২৮১, নাসায়ি ৩৫, আহমাদ ১৪২৫, ১৪৩৬৩। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ যঈফাহ ৫২২৭।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৪৪. আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে পেশাব না করে। {৩৪২}

{৩৪২} বোখারি ২৩৯, মুসলিম ২৮২/১,২; তিরমিজি ৬৮, নাসায়ি ৫৭, ৫৮, ২২১, ৩৯৭, ৩৯৮, ৩৯৯, ৪০০; আবু দাউদ ৬৯, ৭০; আ, ৭৪৭৩, ৭৫৪৮,৭৮০৮, ২৭৪০৩, ৮৩৫৩, ৮৫২৩, ৮৮৭১, ৯৩১৩, ২৭০৮৩২, ১০১২, ১০৪৬০, ১০৫১১; দারিমি ৭৩০। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ, সহিহ আবু দাউদ ৬২-৬৩।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৪৫. ইবনি উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন পরিষ্কার পানিতে পেশাব না করে। {৩৪৩}

তাহকিক আলবানিঃ [আরবি] শব্দ দ্বারা সহিহ।{৩৪৩} فِي الْمَاءِ الداءم শব্দ দ্বারা সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ যঈফাহ ৪৮১৪। উক্ত হাদিসের রাবি ইবনি আবু ফারওয়াহ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, আমার মতে তার থেকে হাদিস বর্ণনা করা বৈধ নয়। ইয়াহইয়া বিন মাঈন তিনি সিকাহ নন বরং তিনি মিথ্যুক। আলী ইবনিল মাদীনী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আমর বিন ফাল্লাস বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইমাম বোখারি বলেন, তাকে সকলে প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য।হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

২৬. অধ্যায়ঃ পেশাবের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা

৩৪৬. আবদুর রহমান বিন হাসানাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নিকট বেরিয়ে এলেন। তাহাঁর হাতে ছিল একটি ঢাল। তিনি সেটিকে [সামনে] রেখে বসেন এবং সে দিকে ফিরে পেশাব করেন। তাহাদের কোন এক ব্যক্তি বললো, তাঁকে দেখ ! তিনি মহিলাদের মত পেশাব করছেন। নবী [সাঃআঃ] তার কথা শুনে ফেলেন এবং বলেন, তোমার জন্য দুঃখ হয়। তোমার কি জানা নেই যে, বানী ইসরাঈলের সেই ব্যক্তির কী দশা হয়েছিল? তাহাদের শরীরের কোন অংশে পেশাব লাগলে তারা তা কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলতো। সে তাহাদেরকে এরূপ করিতে নিষেধ করে। ফলে তাকে তার কবরে শাস্তি দেয়া হয়। {৩৪৪}

{৩৪৪} নাসায়ি ৩০, আহমাদ ১৭৩০৪। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ মিশকাত ৩৭১।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৪৭. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দুটি নতুন কবর অতিক্রম করাকালীন বলেন, তাহাদেরকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এদেরকে কোন কঠিন অপরাধের জন্য শাস্তি দেয়া হচ্ছেনা। এদের একজন পেশাব থেকে সাবধানতা অবলম্বন করতো না এবং অপরজন চোগলখোরী করে বেড়াতো। {৩৪৫}

{৩৪৫} বোখারি ৩১৬, ৩১৮, ১৩৬১, ১৩৭৮, ৬০৫২, ৬০৫৫; মুসলিম ২৯২, তিরমিজি ৭০, নাসায়ি ৩১, ২০৬৮; আবু দাউদ ২০, আহমাদ ১৯৮১, দারিমি ৭৩৯। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়া ১৭৮, ২৮৩, সহিহ আবু দাউদ ১৫।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৪৮. আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ বেশির ভাগ কবরে আযাব পেশাব থেকে অসতর্কতার কারণেই হয়ে থাকে। {৩৪৬}

{৩৪৬} আহমাদ ৮১৩১, ৮৮০০। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ২৮০।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৪৯. আবু বাক্‌রাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] দুটি ক্ববর অতিক্রম অতিক্রম করার সময় বলেন, নিশ্চয়ই এই দুক্ববরবাসীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং তাহাদেরকে কোন কঠিন অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া হচ্ছেনা। এদের একজনকে পেশাবের [অসতর্কতার] কারণে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং অপরজনকে গীবত করার কারণে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। {৩৪৭}

{৩৪৭} আহমাদ ১৯৮৬০ তাহকিক আলবানিঃ হাসান সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

২৭. অধ্যায়ঃ পেশাবরত ব্যক্তিকে সালাম দেওয়া প্রসঙ্গে

৩৫০. আম্‌র বিন জুদআন [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী [সাঃআঃ] এর নিকট আসলাম। তিনি উযু করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন না। তিনি তাহাঁর উযু সমাপনান্তে বলেন, আমি এজন্য তোমার সালামের উত্তর দেইনি যে, আমি তখন উযুবিহীন ছিলাম। {৩৪৮}

{৩৪৮} নাসায়ি ৩৮, আবু দাউদ ১৭, আহমাদ ১৮৫৫৫, ২০২৩৬; দারিমি ২৬৩১। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ।প্রস্রাব পায়খানা করার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৫১. আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ] এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। তখন তিনি পেশাবরত ছিলেন। সে তাঁকে সালাম করলে তিনি তার সালামের উত্তর দিলেন না। তিনি পেশাব শেষ করে তাহাঁর দুহাতের তালু মাটিতে মারেন এবং তায়াম্মুম করেন, অতঃপর তার সালামের উত্তর দেন। {৩৪৯}

তাহকিক আলবানিঃ الأرض এর স্থানে الجدار শব্দ দ্বারা সহিহ।

{৩৪৯} নাই তাহকিক আলবানিঃالأَرْضَ এর স্থলে الجدار শব্দ দ্বারা সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহীহ্ আবু, দাউদ ২৫৬। উক্ত হাদিসের রাবি মাসলামাহ বিন আলী সম্পর্কে ইমাম বোখারি ও আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। ইয়াকুব বিন সুফইয়ান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সিকাহ নন আবার দোষত্রুটি থেকে মুক্তও নন। প্রস্রাব পায়খানা করার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

৩৫২. জাবির বিন আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ] এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি তখন পেশাবরত ছিলেন। সে তাঁকে সালাম করলো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে বলেন, তুমি আমাকে এ অবস্থায় দেখিতে পেলে আমাকে সালাম করিবে না। কারণ তুমি তা করলে আমি তোমার সালামের উত্তর দিতে পারবো না। {৩৫০}

{৩৫০} সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহা ১৯৭। প্রস্রাব পায়খানা করার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৫৩. ইবনি উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ] এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলো। তখন তিনি পেশাবরত ছিলেন। সে তাঁকে সালাম করলে তিনি তার সালামের উত্তর দেননি। {৩৫১}

{৩৫১} তিরমিজি ৯০, ২৭২০। তাহকিক আলবানিঃ হাসান সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ১২, ১৩, ইরওয়াহ ৫৪। উক্ত হাদিসের রাবি হুসায়ন বিন আবু সারিয়্যী আল আসকালানী সম্পর্কে ইবনি হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও অন্যত্র বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। প্রস্রাব পায়খানা করার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

২৮. অধ্যায়ঃ পানি দিয়ে শৌচ করা

৩৫৪. আয়িশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি দেখেছি যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কখনো পানি ব্যবহার না করে পায়খানা থেকে বের হননি। {৩৫২}

{৩৫২} তিরমিজি ১৯, নাসায়ি ৪৬, আহমাদ ২৪১১৮, ২৪৩১৫, ২৪৩৬৯, ২৪৪৬৩। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৫৫. আনাস বিন মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নিম্নোক্ত আয়াত নাজিল হলে

فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ

“সেখানে এমন লোকও আছে যারা পবিত্রতা অর্জন করিতে ভালোবাসে এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের আল্লাহ পছন্দ করেন”- [সূরাহ আত্‌-তাওবাহঃ ১০৮]। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, হে আনসার সম্প্রদায়! আল্লাহ তোমাদের পবিত্রতা অর্জনের ব্যাপারে প্রশংসা করিয়াছেন। তোমরা কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করো? তারা বলেন, আমরা সলাতের জন্য উযু করি, জানাবাতের [শারীরিক অপবিত্রতা দূরীকরণের] জন্য গোসল করি এবং পানি দিয়ে শৌচ করি। তিনি বলেন, এটাই [প্রশংসার] কারণ। অতএব তোমরা এটাকে অপরিহার্যরূপে ধারণ করো। {৩৫৩}

{৩৫৩} নাই তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৩৪, মিশকাত ৩৬৯।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৫৬. আয়িশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] পায়খানা করে তাহাঁর পশ্চাদদ্বার তিনবার ধৌত করিতেন। ইবনি উমার [রাঃআঃ] বলেন, আমরাও তাই করেছি এবং এটাকে নিরাময় ও পবিত্রতার উপায় হিসেবে পেয়েছি। {৩৫৪}

জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি জাবির বিন ইয়াযিদ সম্পর্কে ওয়াকী ইবনিল জাররাহ তাকে সিকাহ বললেও আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে মিথ্যুক বলেছেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। আল জাওযুজানী বলেন, তিনি মিথ্যুক। ২. যায়দ আল আম্মী সম্পর্কে ইমাম দারাকুতনী সালিহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আলী ইবনিল মাদীনী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল।হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৫৭. আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, নিম্নোক্ত আয়াত কুবাবাসী সম্পর্কে নাজিল হয়েছে

فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ

“সেখানে এমন লোকও আছে যারা পবিত্রতা অর্জন করিতে ভালোবাসে এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের আল্লাহ পছন্দ করেন”- [সূরাহ আত্‌-তাওবাহঃ ১০৮]। রাবি বলেন, তারা পানি দিয়ে শৌচ করতো। তাই তাহাদের প্রশংসায় এ আয়াত নাযিল হয়। {৩৫৫}

{৩৫৫} তিরমিজি ৩১০০ তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৩৪। উক্ত হাদিসের রাবি ১. মুআবিয়াহ বিন হিশসাম সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সাদ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সত্যবাদী। ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন। আস-সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ২. ইউনুস ইবনিল হারিস সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই। অন্যত্র তিনি বলেন, আমরা তাকে দুর্বল পেয়েছি। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার মাঝে কোন সমস্যা নেই। তার হাদিস গ্রহন করা যায়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুদতারাবুল হাদিস। ৩. ইবরাহীম বিন আবু মায়মুনাহ সম্পর্কে ইবনি হিব্বান তাকে সিকাহ বললেও ইবনিল কাত্তান বলেন, তার অবস্থা অপরিচিত। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ। প্রস্রাব পায়খানা করার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৯. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি ইসতিনজা করার পর মাটিতে হাত ঘষলো

৩৫৮, আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] পায়খানা করার পর বদনার পানি দিয়ে শৌচ করিতেন। অতঃপর তাহাঁর হাত মাটিতে ঘষতেন। {৩৫৬}

{৩৫৬} নাসায়ি ৫০, আবু দাউদ ৪৫। তাহকিক আলবানিঃ হাসান। তাখরিজ আলবানিঃ মিশকাত ৩৬০, সহিহ আবু দাউদ ৩৫।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩৫৯. জারীর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] ঝোপের মাঝে প্রবেশ করেন এবং তাহাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করেন। জারীর [রাঃআঃ] তাহাঁর নিকট এক পাত্র পানি নিয়ে আসেন। তা দিয়ে তিনি শৌচ করেন এবং তাহাঁর হাত মাটিতে ঘষেন। {৩৫৭}

{৩৫৭} নাসায়ি ৫১ তাহকিক আলবানিঃ হাসান লিগাইরিহী।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান লিগাইরিহি

৩০. অধ্যায়ঃ পানপাত্র ঢেকে রাখা

৩৬০. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] আমাদেরকে পানির মশকের মুখ বন্ধ করিতে এবং পানপাত্রসমূহ ঢেকে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। {৩৫৮}

{৩৫৮} মুসলিম ২০১২ তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহা ৩৭। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬১. আয়িশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাতের বেলা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর জন্য তিনটি পানির পাত্র মুখ বন্ধ করে রেখে দিতাম, একটি তাহাঁর উযুর জন্য, একটি তাহাঁর মিসওয়াকের জন্য এবং একটি তাহাঁর পান করার জন্য। {৩৫৯}

{৩৫৯} আবু দাউদ ৫৬, ১৩৪৬। তাহকিক আলবানিঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি হারামী বিন উমারাহ বিন আবু হাফস সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু হাদিস বর্ণনায় অমনোযোগী। ইমাম যাহাবী তাকে সিকাহ বলেছে। আল উকায়লী তার দুর্বলতার ব্যাপারে আলোচনা করিয়াছেন। ইমাম দারাকুতনী তাকে সিকাহ বলেছেন। ২. হারীশ ইবনিল খিররীত সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তার হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। ইমাম বোখারি বলেন, আমি আশা করি তিনি ভাল তিনি অন্যত্র বলেন, তার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়।হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৬২. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর উযুর পানি ও তাহাঁর দান-খয়রাত করার মাল কারো নিকট গচ্ছিত রাখতেন না এবং সেই মালও সোপর্দ করিতেন না, যা তিনি সদাক্বাহ করিতেন। তিনি নিজের তত্ত্বাবধানেই তা সংরক্ষণ করিতেন। {৩৬০}

{৩৬০} অত্যন্ত দুর্বল। তাখরিজ আলবানিঃ জামি সগীর ৪৫০৪ জইফ জিদ্দান, যঈফাহ ৪২৫০। উক্ত হাদিসের রাবি মুতাহহার বিন হায়সাম সম্পর্কে ইবনি ইয়ুনুস বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আল উকায়লী বলেন, তার হাদিস বিশুদ্ধ নয়। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি দুর্বল। ২. আলকামাহ বিন জামারাহ আদ-দুবাঈ সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি অপরিচিত।হাদিসের তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

৩১. অধ্যায়ঃ কুকুরের মুখ দেয়া পাত্র ধোয়া সম্পর্কে

৩৬৩. আবু রাযীন [রহঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] কে দেখেছি যে, তিনি তার কপালে হাত মেরে বলেছেন, হে ইরাকবাসী! তোমরা মনে করো যে, আমি [সাঃআঃ]-এর প্রতি মিথ্যারোপ করছি, যাতে তোমরা সাওয়াবের অধিকারী হও এবং আমি গুনাহ্‌র ভাগী হই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, অবশ্যই আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনিয়াছিঃ  তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ দিলে সে যেন তা সাতবার ধৌত করে। {৩৬১}

{৩৬১} বোখারি ১৭২, মুসলিম ২৭৯/১-৪, তিরমিজি ৯১, নাসায়ি ৬৩, ৬৪, ৬৬, ৩৩৫, ৩৩৮, ৩৩৯; আবু দাউদ ৭৩, আহমাদ ৭৩০০, ৭৩৯৮, ৭৫৪৯, ৭৬১৬, ২৭৩৬৫, ৮৫০৮, ২৭৫৬৯, ২৭৯২৮, ৯২২৭, ৯৬১৩, ২৭৯৩৩, ২৭২৮২; মুওয়াত্ত্বা মালিক ৬৭, ইবনি মাজাহ ৩৬৪। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ১/৬১, ১৭৭ সহিহ আবু, দাউদ ৬৪।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৪. আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ দিলে তা সাতবার ধৌত কর। {৩৬২}

{৩৬২} বোখারি ১৭২, মুসলিম ২৭৯/১-৪, তিরমিজি ৯১, নাসায়ি ৬৩, ৬৪, ৬৬, ৩৩৫, ৩৩৮, ৩৩৯; আবু দাউদ ৭৩, আহমাদ ৭৩০০, ৭৩৯৮, ৭৫৪৯, ৭৬১৬, ২৭৩৬৫, ৮৫০৮, ২৭৫৬৯, ২৭৯২৮, ৯২২৭, ৯৬১৩, ২৭৯৩৩, ২৭২৮২; মুওয়াত্ত্বা মালিক ৬৭, ইবনি মাজাহ ৩৬৩। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ২৪, ১৬৭ সহিহ আবু দাউদ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৫. আবদুল্লাহ বিন মুগাফফাল [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, পাত্রে কুকুর মুখ দিলে তোমরা তা সাতবার ধৌত করো এবং অষ্টমবারে তা মাটি দিয়ে মাজো। {৩৬৩}

{৩৬৩} মুসলিম ২৮০, নাসায়ি ৬৭, ৩৩৬, ৩৩৭; আবু দাউদ ৭৪, আহমাদ ১৬৩৫০, ২০০৩৯; দারিমি ৭৩৭। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ১/৬২, ৬৭, সহিহ আবু দাউদ-৬৬।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৬. ইবনি উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ দিলে সে যেন তা সাতবার ধৌত করে। {৩৬৪}

সহিহ। প্রস্রাব পায়খানা করার দোয়া হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By ইমাম ইবনে মাজাহ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply