দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে

দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে

দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৩. অধ্যায়ঃ দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে

৭০৬৪. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জাহান্নাম ও জান্নাত পরস্পর বাক-বিতন্ডা করিল। অতঃপর জাহান্নাম বলিল, প্রতিপত্তি সম্পন্ন অহংকারী লোকেরা আমার মাঝে প্রবেশ করিবে। জান্নাত বলিল, দুর্বল ও নিঃস্ব লোকেরা আমার মাঝে প্রবেশ করিবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা জাহান্নামকে বলিলেন, তুমি আমার আযাব, যাকে ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা আযাব দিব। কোন কোন সময় তিনি বলেছেন, যাকে ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা বিপদে ফেলব। তারপর তিনি জান্নাতকে বলিলেন, তুমি আমার রহমত, আমি যাকে ইচ্ছা তোমার দ্বারা রহমত করব। তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই পেট ভর্তির ব্যবস্থা থাকিবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৬৬]

৭০৬৫. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.]-এর সূত্রে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, একদা জাহান্নাম ও জান্নাত বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়লো। জাহান্নাম বলিল, অহংকারী এবং প্রভাব প্রতিপত্তি সম্পন্ন লোকেরা আমার মাঝে প্রবেশ করিবে। জান্নাত বলিল, আমার কি হলো, মানুষের মাঝে যারা দুর্বল, নীচু স্তরের এবং অক্ষম, তারাই আমার মধ্যে প্রবেশ করিবে। এ কথা শুনে আল্লাহ তাআলা জান্নাতকে বলিলেন, তুমি আমার রহমাত, আমার বান্দাদের যার প্রতি ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা রহমাত বর্ষণ করব। তারপর তিনি জাহান্নামকে বলিলেন, তুমি আমার আযাব, আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা আমি তোমার দ্বারা আযাব দিব। তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই পেট ভর্তির ব্যবস্থা থাকিবে। এতদ্সত্ত্বেও জাহান্নাম পূর্ণ হইবে না। তাই আল্লাহ্ তাআলা এর উপরে স্বীয় পা মুবারাক রাখবেন। তখন জাহান্নাম বলবে, যথেষ্ট হয়ে গেছে। এ সময়ই জাহান্নাম পরিপূর্ণ হইবে এবং একাংশ অপরাংশের সাথে মিলে যাবে অর্থাৎ সঙ্কুচিত হয়ে যাবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৬৭]

৭০৬৬. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ একদা জান্নাত ও জাহান্নাম বিতর্ক যুদ্ধে লিপ্ত হলো। অতঃপর ইবনি সীরীন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আবু যিনাদ-এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৬৮]

৭০৬৭. হাম্মাম ইবনি মুনাব্বিহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু হুরায়রা্ [রাদি.] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে কতিপয় হাদীস উল্লেখ করিয়াছেন। তন্মধ্যে একটি হাদীস হলো এইযে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জান্নাত ও জাহান্নাম পরস্পর তর্কে লিপ্ত হয়েছে। জাহান্নাম বলিল, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও অহংকারীদের জন্য আমাকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। জান্নাত বলিল, আমার কি হলো, আমার মাঝে কেবল দুর্বল ও নগণ্য লোকেরাই প্রবেশ করিবে। এ কথা শুনে আল্লাহ তাআলা জান্নাতকে বলিলেন, তুমি আমার রহ্মাত। তোমার দ্বারা আমার বান্দাদের যাকে চাই তার প্রতি আমি রহ্মাত নাযিল করব এবং তিনি জাহান্নামকে বলিলেন, তুমি আমার আযাব। তোমার দ্বারা আমি আমার বান্দাদের যাকে ইচ্ছা আযাব দিব। বস্তুতঃ তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই পেট ভরপুর করার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু জাহান্নাম কিছুতেই পরিপূর্ণ হইবে না। পরিশেষে তিনি স্বীয় পা মুবারাক তার উপরে রাখলে তখন জাহান্নাম বলবে, হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। তখনই জাহান্নাম পরিপূর্ণ হইবে এবং এর একাংশ অন্য অংশের সাথে মিলে গিয়ে সংকুচিত হয়ে আসবে। আল্লাহ তাআলা তার সৃষ্টির কারো উপর অবিচার করবেন না। আর জান্নাত পরিপূর্ণ করার জন্য আল্লাহ তাআলা অন্য মাখলূক সৃষ্টি করবেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১২, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৬৯]

৭০৬৮. আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ একদা জান্নাত ও জাহান্নাম তর্কে লিপ্ত হলো। অতঃপর তিনি আবু হুরায়রা্ [রাদি.]-এর হুবহু হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তবে এতে [আর-বি] -এর পরিবর্তে [আরবি] [অর্থাৎ- তোমাদের প্রত্যেককে পরিপূর্ণ অংশ প্রদান করা আমার দায়িত্ব] কথাটি বর্ণিত আছে। তবে এর পরবর্তী অংশটুকু এখানে বর্ধিত বিবৃত হয়নি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৭০]

৭০৬৯. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ জাহান্নাম সবসময় বলিতে থাকিবে, আরো বেশি আছে কি? শেষ অবধি আল্লাহ রব্বুল আলামীন আপন পা মুবারাক তাতে স্থাপন করবেন। তখন সে বলবে, আপনার ইয্যতের কসম! হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। তখন এর এক অংশ অন্য অংশের সাথে মিলে গিয়ে পরিপূর্ণ হয়ে থাকিবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১৪, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৭১]

৭০৭০. আনাস [রাদি.]-এর সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] থেকে শাইবান-এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১৫, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৭২]

৭০৭১. মুহাম্মাদ ইবনি আবদুল্লাহ আর্ রুয্‌যী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

মহান আল্লাহর বানী:

 يَوْمَ نَقُولُ لِجَهَنَّمَ هَلِ امْتَلأْتِ وَتَقُولُ هَلْ مِنْ مَزِيدٍ‏

–এর ব্যাখ্যায় আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] থেকে উল্লেখ করেন যে, নবী [সাঃআঃ] বলেন: অনবরত [জাহান্নামীদেরকে] জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হইবে। তবুও জাহান্নাম বলবে, আরো বেশি আছে কি? অবশেষে আল্লাহ রব্বুল আলামীন এতে আপন পা মুবারাক স্থাপন করবেন। তখন এর একাংশ অপরাংশের সাথে মিলে গিয়ে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে এবং বলবে, তোমার ইয্যত ও অনুগ্রহের কসম! হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। পক্ষান্তরে জান্নাতের মধ্যস্থলে কিছু জায়গা অব্যাহতভাবে খালি পরে থাকিবে। পরিশেষে আল্লাহ তাআলা এর জন্য অন্য মাখলূক সৃষ্টি করবেন এবং শূন্যস্থানে তাদেরকে আবাসের ব্যবস্থা করবেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১৬, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৭৩]

৭০৭২. আনাস [রাদি.]-এর সূত্রে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর যে পরিমাণ ইচ্ছা সে পরিমাণ স্থান জান্নাতে শূন্য থাকিবে। পরিশেষে আল্লাহ তাআলা নিজ ইচ্ছানুযায়ী এর জন্য অন্য মাখলূক সৃষ্টি করবেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৭৪]

৭০৭৩. আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কিয়ামাতের দিন মৃত্যুকে একটি সাদা মেষের আকৃতিতে উপস্থিত করা হইবে। আবু কুরায়ব বর্ধিত বর্ণনা করে বলেন, তারপর তাকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যস্থলে দাঁড় করানো হইবে। এরপর উভয়ই অবশিষ্ট হাদীস একই রকম বর্ণনা করিয়াছেন। তখন বলা হইবে, হে জান্নাতীগণ! তোমরা কি একে চিনো? এ কথা শুনে তারা মাথা উঠিয়ে দেখবে এবং বলবে, হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর বলা হইবে, হে জাহান্নামীগণ! তোমরা কি একে চিনো? তখন তারা মাথা তুলে দেখবে এবং বলবে, হ্যাঁ! এতো মৃত্যু। তারপর নির্দেশ দেয়া হইবে এবং সেটাকে যবাহ্ করা হইবে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর বলা হইবে, হে জান্নাতীগণ! মৃত্যু নেই, তোমরা অনন্তকাল এখানে থাকিবে। হে জাহান্নামীরা! মৃত্যু নেই, তোমরা অনন্তকাল এখানেই থাকিবে। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পাঠ করিলেন, arbi “তুমি তাদেরকে সাবধান করে দাও-অনুশোচনার দিন সম্পর্কে, যখন সকল বিষয়ে ফায়সালা করা হইবে। অথচ তারা গাফিলতির মাঝে নিপতিত হয়ে আছে এবং ঈমান গ্রহণ করছে না।” এ সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] স্বীয় হাত দ্বারা দুনিয়ার প্রতি ইশারা করিলেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৭৫]

৭০৭৪. আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ যখন জান্নাতী লোকেদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হইবে এবং জাহান্নামী লোকেদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হইবে, তখন বলা হইবে, হে জান্নাতবাসীগণ! তারপর জারীর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আবু মুআবিয়াহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর অবিকল হাদীস উল্লেখ করেন। কিন্তু তাতে [আর-বি] –এর স্থলে [আরবি] –কথাটি বর্ণনা করিয়াছেন। আর এতে অতঃপর তিনি স্বীয় হাত দ্বারা পৃথিবীর দিকে ইশারা করিয়াছেন-এ কথাটিও তিনি বর্ণনা করেননি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৭৬]

৭০৭৫. আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা জান্নাতবাসীদেরকে জান্নাতে আর জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে দাখিল করানোর পর জনৈক ঘোষণাকারী তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করিবে, হে জান্নাতবাসীগণ! এখন মৃত্যু নেই, হে জাহান্নামীরা! এখর আর মৃত্যু নেই। প্রত্যেকে চিরকাল নির্ধারিত স্থানে থাকিবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯২০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৭৭]

৭০৭৬. আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ যখন জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করিবে, আর জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করিবে, তখন মৃত্যুকে আনা হইবে এবং তাকে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে দাঁড় করিয়ে যবেহ্ করে দেয়া হইবে। অতঃপর একজন ঘোষক ঘোষণা করিবে, হে জান্নাতবাসীগণ! এখানে আর তোমাদের মৃত্যু নেই। অনুরূপভাবে জাহান্নামীদেরকেও বলা হইবে, হে জাহান্নামীরা! আর তোমাদের মৃত্যু নেই। এতে জান্নাতীদের আনন্দের সাথে আরো আনন্দ বেড়ে যাবে এবং জাহান্নামীদের শোকের সাথে আরো শোক বহুগুণ বেড়ে যাবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯২১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৭৮]

৭০৭৭. আবু হুরাইয়াহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কাফিরদের দাঁত উহুদ পাহাড়েন ন্যায় বড় হইবে এবং তাদের চামড়া তিন দিনের দূরত্ব পরিমাণ মোটা হইবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯২২, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৭৯]

৭০৭৮. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] থেকে মারফূ সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ জাহান্নামে কাফিরদের দু কাঁধের মাঝখানে দ্রুতগামী আরোহী ব্যক্তির তিন দিনের দূরত্বের পথ হইবে।

তবে ওয়াকীঈ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] [আরবি] [জাহান্নামে] কথাটি বর্ণনা করেননি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯২৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৮০]

৭০৭৯. হারিসাহ্ ইবনি ওয়াহ্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নবী [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেন যে, তিনি বলেন, আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতবাসীর পরিচয় বলব না? সহাবাগণ বলিলেন, হ্যাঁ! অবশ্যই। তিনি বলেলেন, তারা হইবে দুর্বল লোক তাদের [দুনিয়া] দুর্বলই মনে করা হতো। যারা আল্লাহর নামে শপথ করলে আল্লাহ তা পূরণ করেন। অতঃপর তিনি বলিলেন, আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামবাসীর পরিচয় জানাব না? সহাবাগণ বলিলেন, হ্যাঁ, জানাবেন। তিনি বলিলেন, তারা হইবে নিষ্ঠুর, দাম্ভিক ও অহংকারী লোক।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯২৪, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৮১]

৭০৮০. শুবাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এ সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তবে পার্থক্য এই যে, তিনি [আরবি] স্থলে [আরবি] শব্দ উল্লেখ করিয়াছেন, অর্থ একই [আমি কি তোমাদেরকে জানিয়ে দিব না]।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯২৪, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৮২]

৭০৮১. হারিসাহ্ ইবনি ওয়াহ্ব আল খুযাঈ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জান্নাতবাসীগণের পরিচয় আমি কি তোমাদেরকে জানাব না? তারা হইবে দুর্বল কোমল হৃদয় বিনয়ী লোক। যারা আল্লাহর উপর ভরসা করে কসম করলে আল্লাহ তা পূর্ণ করান। তিনি আবার বলিলেন, আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামীদের পরিচয় বলব না? তারা হইবে দাম্ভিক, হীন বা নীচ এবং অহংকারী লোক।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯২৫, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৮৩]

৭০৮২. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ কিছু সংখ্যক এমন জীর্ণশীর্ণ লোক আছে, যাদেরকে মানুষের দ্বার হইতে বিতাড়িত করা হয়। [অথচ তারা আল্লাহর নিকট এত প্রিয় যে,] তারা যদি আল্লাহর নামে কোন কসম করে তবে আল্লাহ তাআলা তা পূর্ণ করে দেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯২৬, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৮৪]

৭০৮৩. আবদুল্লাহ ইবনি যামআহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খুতবাহ্ প্রদানকালে {সালিহ [আঃ]-এর} উষ্ট্রী সম্পর্কে এবং যে লোক সেটার পা কেটেছিল তার সম্পর্কে আলোচনা করিলেন। তিনি বলিলেন, যখন ঐ উষ্ট্রীকে হত্যা করার জন্য তাদের কাওমের সবচেয়ে হতভাগ্য লোকটি উদ্যত হল, তখন এ কাজের জন্য ঐ কাওমের মধ্যে আবু যামআর ন্যায় সবচেয়ে শক্তিশালী, নিষ্ঠুর, অসভ্য ও হতভাগ্য লোক ছিল। এ খুতবায় তিনি মহিলাদের বিষয়ে আলোচনা করিলেন এবং তাদের নাসীহাত করিলেন। অতঃপর তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে তার স্ত্রীকে অযথা প্রহার করে। আবু বকর-এর বর্ণনায় আছে, ক্রীতদাসীর ন্যায় প্রহার করে। আবু কুরায়ব-এর বর্ণনায় আছে, ক্রীতদাসের ন্যায় প্রহার করে। কিন্তু আবার দিন শেষে রাতের বেলা তার সঙ্গে মিলিত হয়। এরপর তিনি বায়ু নিঃসরণ করে হাসি দেয়া সম্বন্ধে উপদেশ করিলেন এবং বলিলেন, যে কাজ তোমরা স্বয়ং করিবে সে ব্যাপারে তোমরা কি করে হাসতে পার?

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯২৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৮৫]

৭০৮৪. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ আমি বানী কাব-এর বাবা আম্‌র ইবনি লুহাই ইবনি কামাআহ্ ইবনি খিন্দিফকে জাহান্নামের মাঝে দেখেছি সে তার পেট হইতে সব নাড়ী-ভুড়ি টেনে বের করছে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯২৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৮৬]

৭০৮৫. সাঈদ ইবনিল মুসাইয়্যাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বাহীরাহ্ বলা হয় এমন উষ্ট্রীকে, যা কোন দেবতার নামে মানৎ করে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেয়া হয়। তাকে আর কেউ দোহন করে না। আর সায়িবাহ্ বলা হয় এমন উটকে, মুশরিকগণ তাদের দেবতার নামে ছেড়ে দিত। এভাবে ছেড়ে দেয়ার পর এর পিঠে কোন বোঝা বহন করা হত না।

ইবনি মুসাইয়্যাব [রাদি.] আরো বলেন, আবু হুরায়রা্ [রাদি.] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমি জাহান্নামের মাঝে আমির আল খুযাঈকে দেখেছি, সে তার নাড়ী-ভুড়ি টেনে বের করছে। কেননা সে-ই সর্বপ্রথম দেব-দেবীর নামে সায়িবাহ্ [উটের] জন্তুর প্রথা চালু করেছিল।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯২৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৮৭]

৭০৮৬. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ দু প্রকার লোক জাহান্নামী হইবে। আমি তাদেরকে দেখিনি। এক প্রকার ঐ সব লোক যাদের কাছে গরুর লেজের ন্যায় ছড়ি থাকিবে। তারা এর দ্বারা লোকেদের পিটাবে। দ্বিতীয় প্রকার ঐ শ্রেণীর মহিলা, যারা কাপড় পরিহিতা কিন্তু উলঙ্গ প্রায়, মানুষকে আকৃষ্টকারিণী ও স্বয়ং বিচ্যুত। যাদের মাথার খোপা বুখতী উটের পিঠের উঁচু কুজোর ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করিবে না এবং জান্নাতের গন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধি অনেক দূর থেকে পাওয়া যায়।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৩০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৮৮]

৭০৮৭. উম্মু সালামার মুক্তদাস আবদুল্লাহ ইবনি রাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা্ [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছি, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ সেদিন আর খুব বেশি দূরে নয়, অচিরেই তোমরা এক সম্প্রদায় দেখিতে পাবে, যাদের হাতে থাকিবে গরুর লেজের মতো চাবুক। সকাল অতিবাহিত হইবে তাদের আল্লাহর গযবের মধ্যে এবং সন্ধ্যা যাপন হইবে আল্লাহর অভিশাপের মধ্যে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৩১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৮৯]

৭০৮৮. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে আমি বলিতে শুনেছি, তুমি যদি দীর্ঘজীবি হও তাহলে অচিরেই তোমরা এমন এক সম্প্রদায় দেখিতে পাবে, যাদের সকাল হইবে আল্লাহর অসন্তুষ্টির ভিতর এবং সন্ধ্যা হইবে আল্লাহর অভিসম্পাতের মাঝে। তাদের হাতে গরুর লেজের মতো চাবুক থাকিবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৩২, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৯০]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply