পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস । পাগড়ী আঁটসাট কাপর ইত্যাদি

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস । পাগড়ী আঁটসাট কাপর ইত্যাদি

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস । পাগড়ী আঁটসাট কাপর ইত্যাদি , এই অধ্যায়ে হাদীস ১৩৯ টি (৪০২০ – ৪১৫৮) >>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

অধ্যায় – ৩৪ঃ পোশাক-পরিচ্ছেদ, অনুচ্ছেদঃ ১-৪৭=৪৭টি, হাদীসঃ (৪০২০-৪১৫৮)=১৩৯টি

অনুচ্ছেদ–১ঃ নতুন কাপড় পরার সময় যা বলিতে হয়
অনুচ্ছেদ-২: কেউ নতুন কাপড় পরিধান করলে তার জন্যে দুআ করা
অনুচ্ছেদ-৩: জামা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৪ঃ লম্বা ঢিলা জামা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৫ঃ খ্যাতি লাভের পোশাক পরা
অনুচ্ছেদ-৬ঃ পশম ও লোমের তৈরী পোশাক পরা
অনুচ্ছেদ-৭ঃ মোটা পোশাক পরিধান করা
অনুচ্ছেদ-৮ঃ রেশম ও পশম মিশ্রিত কাপড় পরিধান করা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৯ঃ রেশমী কাপড় পরিধান সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১০ঃ রেশমী পোশাক পরা নিষেধ
অনুচ্ছেদ-১১ঃ রেশমী সুতার সেলাই ও কারুকার্য করার অনুমতি সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১২ঃ ওযরবশত রেশমী পোশাক পরা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৩ঃ নারীদের জন্য রেশমী পোশাক বৈধ
অনুচ্ছেদ-১৪ঃ কারুকার্য খচিত ইয়ামানী চাঁদর পরা
অনুচ্ছেদ-১৫ঃ সাদা কাপড় পরিধান
অনুচ্ছেদ-১৬ঃ ময়লা কাপড় ধুয়ে পরিষ্কার করা
অনুচ্ছেদ-১৭ঃ হলুদ রং দ্বারা রঞ্জিত করা
অনুচ্ছেদ-১৮ঃ সবুজ রং সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৯ঃ লাল রং ব্যবহার করা
অনুচ্ছেদ-২০ঃ লাল রং ব্যবহারের অনুমতি
অনুচ্ছেদ-২১ঃ কালো রং ব্যবহার করা
অনুচ্ছেদ-২২ঃ কাপড়ের ঝালর সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-২৩ঃ পাগড়ি সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-২৪ঃ আঁটসাট কাপর পরা নিষেধ
অনুচ্ছেদ-২৫ঃ বোতাম খোলা রাখা বৈধ
অনুচ্ছেদ-২৬ঃ চাঁদর মুড়ি দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-২৭ঃ লুঙ্গি-পাজামা পায়ের টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরার পরিনতি
অনুচ্ছেদ-২৮ঃ অহংকার সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-২৯ঃ লুঙ্গি-পাজামার নিচ দিকের সীমা
অনুচ্ছেদ-৩০ঃ নারীদের পোশাক
অনুচ্ছেদ-৩১ঃ আল্লাহর বাণীঃ “তারা যেন তাহাদের ওড়নার কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়” [সূরাহ আল-আহযাবঃ ৫৯]
অনুচ্ছেদ-৩২ঃ মহান আল্লাহর বাণীঃ “তারা যেন তাহাদের গলদেশ ও বক্ষদেশ মাথার ওড়না দিয়ে আবৃত করে” [সুরাহ আন-নূরঃ৩১]
অনুচ্ছেদ-৩৩ঃ নারীদের শরীরের কোন অংশ খোলা রাখা যাবে
অনুচ্ছেদ-৩৪ঃ কৃতদাস তার নারী মনিবের চুল দেখিতে পারে
অনুচ্ছেদ-৩৫ঃ মহান আল্লাহ্‌র বাণীঃ “যৌন কামনা রহিত পুরুষ”
অনুচ্ছেদ-৩৬ঃ মহান আল্লাহ্‌র বানীঃ “আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাহাদের দৃষ্টি সংযত রাখে”
অনুচ্ছেদ-৩৭ঃ ওড়না কিভাবে পরবে
অনুচ্ছেদ-৩৮ঃ নারীদের জন্য পাতলা কাপড় ব্যবহার
অনুচ্ছেদ-৩৯ঃ কাপড়ে আঁচলের পরিমাণ
অনুচ্ছেদ-৪০ঃ মৃত প্রাণীর চামড়া সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৪১ঃ যাদের মতে মৃত প্রাণীর চামড়া ব্যবহার করা যবে না
অনুচ্ছেদ-৪২ঃ চিতা বাঘ ও হিংস্র জন্তুর চামড়া সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৪৩ঃ পায়ে জুতা পরার নিয়ম
অনুচ্ছেদ-৪৪ঃ বিছানা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৪৫ঃ [দরজা-জানালায়] পর্দা ঝুলানো সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৪৬ঃ ক্রুশ চিহ্নযুক্ত কাপড় সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৪৭ঃ ছবি সম্পর্কে

অনুচ্ছেদ–১ঃ নতুন কাপড় পরার সময় যা বলিতে হয়

৪০২০. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন নতুন কাপড় পরিধান করিতেন, জামা অথবা পাগড়ি, এর নাম উচ্চারণ করে তিনি এ দুআ পাঠ করিতেনঃ

[আরবী]

আবু নাদরাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, নাবী [সাঃআঃ]-এর সাহাবীদের কেউ নতুন কাপড় পরলে তাহাকে বলা হতো, “এ কাপড় যেন তোমার দ্বারা পুরাতন হয় এবং মহান আল্লাহ যেন এর পরে তোমায় আরো কাপড় পরান”।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০২১. আল-জুরাইরী [রহ] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তার সানাদে উপরোক্ত হাদিসের অর্থবোধক হাদিস বর্ণিত।

এর পূর্বেরটি দেখুন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৪০২২. আল-জুরাইরী [রহ] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তার সানাদে উপরোক্ত হাদিসের অর্থবোধক হাদিস বর্ণিত। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আবদুল ওয়াহ্হাব আস-সাক্বাফী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এতে আবু সাঈদের [রাদি.] উল্লেখ করেননি। হাম্মাদ ইবনি সালামাহ …….. নাবী [সাঃআঃ] সূত্রে বর্ণিত। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, হাম্মাদ ইবনি সালামাহ ও আস-সাক্বাফীর এ হাদিস শ্রবণ একই রূপ। {৪০২২}

{৪০২২} এর পূর্বের বর্ণনাদ্বয় দেখুন। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৪০২৩, সাহল ইবনি মুআয ইবনি আনাস [রহ] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তি খাওয়ার পরে এ দুআ পাঠ করিবে তার আগে ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করা হইবে।

অর্থঃ “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে এ খাদ্য খাওয়ালেন এবং আমার পক্ষ হইতে কোন কৌশল ও ক্ষমতা প্রয়োগ ব্যতীতই রিযিক্ব দান করিলেন।”

তিনি আরো বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন কাপড় পরার সময় এ দুআ পাঠ করিবে তার আগে ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবেঃ

অর্থঃ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার কৌশল ও ক্ষমতা প্রয়োগ ব্যতীতই আমাকে এ কাপড়ের ব্যবস্থা করে পরালেন।”

হাসানঃ দুই জায়গাতে পরবর্তী গুনাহ এ অতিরিক্ত অংশ বাদে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ অন্যান্য

অনুচ্ছেদ-২: কেউ নতুন কাপড় পরিধান করলে তার জন্যে দুআ করা

৪০২৪. উম্মু খালিদ বিন্‌তে খালিদ ইবনি সাঈদ ইবনিল আস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট কতকগুলো পরিধেয় বস্ত্র আনা হলো। তাতে কালো রংঙের ডোরাদার ছোট একটি পশমী চাঁদর ছিল। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তোমাদের মতে কে এটা পাওয়ার যোগ্য? সবাই চুপ থাকলেন। তিনি বলিলেনঃ উম্মু খালিদকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তাহাকে আনা হলে তিনি চাদরটি তাহাকে পরিয়ে দিলেন এবং দুবার বলিলেনঃ এটা পরিধান করো এবং পুরাতন করো। আর তিনি চাঁদরের লাল অথবা হল্‌দে রঙের চিহ্নের দিকে তাকিয়ে বলিলেনঃ হে উম্মু খালিদ! খুব সুন্দর! খুব সুন্দর! [আরবী] শব্দের অর্থ -হাবশী ভাষায় সুন্দর।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩: জামা সম্পর্কে

৪০২৫. উম্মু সালামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট সবচেয়ে প্রিয় পোষাক ছিল জামা।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০২৬. উম্মু সালামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট জামার চেয়ে অধিক পছন্দনীয় কোন পোশাক ছিল না।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০২৭. আসমা বিনতু ইয়াযীদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জামার হাতা ছিল কব্জি পর্যন্ত লম্বা।

{৪০২৭} তিরমিজি, নাসায়ী। ঈমাম তিরমিজি বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান গরীব। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪ঃ লম্বা ঢিলা জামা সম্পর্কে

৪০২৮. মিস্‌ওয়ার ইবনি মাখরামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রাসূলূল্লাহ [সাঃআঃ] কিছু লম্বা ঢিলা জামা বন্টন করেন; কিন্তু মাখরামাহ [রাদি.]-কে কিছু দেননি। মাখরামাহ [রাদি.] বলিলেন, হে বৎস! রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] কাছে চলো। অতঃপর তার সঙ্গে আমি সেখানে গেলাম। তিনি বলিলেন, ভিতরে প্রবেশ করে তাহাঁর নিকট আমার আসার সংবাদ দাও। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে ডাকলে তিনি একটি লম্বা ঢিলা জামা পরিহিত অবস্থায় বেরিয়ে এসে বলিলেনঃ আমি তোমার জন্য এটা লুকিয়ে রেখেছিলাম। মাখরামাহ [রাদি.] তাহাঁর দিকে তাকালেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ এবার মাখরামাহ খুশী হয়েছে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৫ঃ খ্যাতি লাভের পোশাক পরা

৪০২৯. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি খ্যাতি লাভের জন্য পোশাক পরে, ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাহাকে সেরূপ পোশাক পরাবেন, অতঃপর তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হইবে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪০৩০. হইতে বর্ণীতঃ

আবু আওয়ানাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে গর্ব অহংকারের উদ্দেশ্য পোশাক পরবে, [ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাহাকে ঐরূপ পোশাক পরাবেন, অতঃপর তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হইবে]।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪০৩১. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাহাদের দলভুক্ত গণ্য হইবে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান সহিহ

অনুচ্ছেদ-৬ঃ পশম ও লোমের তৈরী পোশাক পরা

৪০৩২. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

৪০৩২/১. তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বাড়ি হইতে বের হলেন, তখন তাহাঁর গায়ে কারুকার্য খচিত কালো পশমী চাঁদর ছিল।

সহিহ ৪০৩২/২. উতবাহ ইবনি আব্‌দ আস-সুলামী [রাদি.] সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট আমাকে চাঁদর পরিয়ে দেয়ার আবেদন করলে তিনি আমাকে কাতান জাতীয় দুটি সুক্ষ্ম কাপড় পরিয়ে দিলেন। আমি আমার গায়ের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, আমি সকল বন্ধুদের চাইতে উত্তম পোশাক পরিধানকারী।

সহিহ। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৩৩. আবু বুরদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা বলেন, হে বৎস! তুমি যদি দেখিতে, একদা আমরা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সঙ্গে বৃষ্টিতে ভিজে এমন হলাম যে, আমাদের শরীর হইতে ভেড়ার গন্ধ বের হচ্ছিল। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, পশমী পোশাক [এর কারণে]।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৩৪. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যূ-ইয়াযান অঞ্চলের অধিপতি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট একটি দামী পোশাক উপঢৌকন পাঠালেন, যা তিনি তেত্রিশটি উট বা তেত্রিশটি উটনীর বিনিময়ে কিনেছিলেন। তিনি [সাঃআঃ] তা গ্রহণ করেন। {৪০৩৪}

{৪০৩৪} আহমাদ, দারিমী। সনদের উমরাহ ইবনি যাজান সম্পর্কে হাফিয ইবনি হাজার আত-তাক্বরীব গ্রন্থে বলেনঃ সত্যবাদী, তবে ভুল প্রচুর। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪০৩৫. ইস্‌হাক্ব ইবনি আবদুল্লাহ ইবনিল হারিস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বিশ এর অধিক তরুন উটনীর বিনিময়ে একটি মূল্যবান পোশাক কিনলেন এবং তা যু-ইয়াযান অধিপতির নিকট উপঢৌকন হিসেবে পাঠালেন। {৪০৩৫}

{৪০৩৫} আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছ। এর সানাদে আলী ইবনি যায়িদ দুর্বল। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৭ঃ মোটা পোশাক পরিধান করা

৪০৩৬. আবু বুরদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি আয়িশাহ [রাদি.]-এর নিকট প্রবেশ করলে তিনি ইয়ামানের তৈরী একটি মোটা লুঙ্গি ও মূলাব্বাদা নামক একটি মোটা চাঁদর বের করে এনে আল্লাহর কসম করে বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দুনিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় এ দুটি কাপড় তাহাঁর পরিধানে ছিল।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৩৭. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, খারিজীরা যখন আলী [রাদি.]-এর দল ছেড়ে হারূরা নামক অঞ্চলে চলে গেলো, তখন আমি আলী [রাদি.]-এর নিকট আসলাম। তিনি বলিলেন, তুমি এদের কাছে যাও। অতঃপর আমি ইয়ামান দেশের তৈরী আকর্ষণীয় পোশাক পরলাম। আবু যুমাইল বলেন, ইবনি আব্বাস ছিলেন লাবণ্যময় সুপুরুষ ও সুঠাম দেহের অধিকারী। ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলেন, অতঃপর আমি তাহাদের নিকট গেলাম। তারা আমাকে মারহাবা জানিয়ে প্রশ্ন করলো, হে ইবনি আব্বাস ! এটা কেমন পোশাক? তিনি বলিলেন, তোমরা যার জন্য আমাকে দোষারোপ করছো, অথচ আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে এর চেয়ে উত্তম পোশাক পরতে দেখেছি।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-৮ঃ রেশম ও পশম মিশ্রিত কাপড় পরিধান করা সম্পর্কে

৪০৩৮. সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি বোখারাতে রেশম ও পশমের তৈরী কালো পাগড়ি পরিহিত এক লোককে সাদা খচ্চরের উপর আরোহী দেখিতে পেলাম। লোকটি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এটা [পাগড়ি] আমাকে পরিয়ে দিয়েছেন। {৪০৩৮}

{৪০৩৮} ইবনি কাত্তান বলেনঃ সানাদে আবদুল্লাহ ইবনি সাদ, তার পিতা এবং যে ব্যাক্তিকে দেখার দাবী করা হয়েছে- এদের প্রত্যেককে চেনা যায়নি। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪০৩৯. আবদুর রহমান ইবনি গানম আল-আশআরী [রহ] হইতে বর্ণীতঃ

আবু আমির [রাদি.] বা আবু মালিক [রাদি.] আমাকে বলিয়াছেন, আল্লাহর কসম এবং কসম, কখনও তিনি আমাকে মিথ্যা বলেননি। তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেনঃ আমার উম্মতের এমন কিছু লোক হইবে, যারা পশম ও রেশমের তৈরী পোশাক এবং রেশমী পোশাক পরা হালাল গণ্য করিবে। তাহাদেরকে ক্বিয়ামাতের দিন শূকর ও বানরের আকৃতিতে পরিবর্তিত করা হইবে। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বিশ-এর অধিক সাহাবী রেশম ও পশম মিশ্রিত সূতার তৈরী পোশাক পরেছেন। আনাস ও আল-বারাআ ইবনি আযিব [রাদি.] তাহাদের অন্তর্ভুক্ত।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৯ঃ রেশমী কাপড় পরিধান সম্পর্কে

৪০৪০. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] মাসজিদের দরজায় একজোড়া রেশমী পোশাক বিক্রি হইতে দেখে বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি এ পোশাকটি ক্রয় করিতেন তাহলে জুমুআহ্‌র দিন ও প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাতকালে পরতে পারতেন! একথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ এ পোশাক সেই ব্যক্তিই পরে যার আখিরাতে কোন প্রাপ্য নেই। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট কিছু রেশমী কাপড় এলে তিনি তা হইতে উমার ইবনিল খাত্তাবকে একজোড়া কাপড় দিলেন। উমার [রাদি.] বলিলেন বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এটা আমাকে ব্যবহার করিতে দিলেন, অথচ উতারিদের [জনৈক কাপড় ব্যাবসায়ী] কাপড় সম্পর্কে আপনি এই মন্তব্য করেছেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, আমি তোমাকে এটা পরতে দেইনি। অতঃপর উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] এটা মক্কাহ্‌য় তার এক মুশরিক ভাইকে দিয়ে দিলেন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৪১. সইলম ইবনি আবদুল্লাহ [রহ] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

এ ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তা ছিল মোটা রেশমী পোশাক। উক্ত ঘটনা সম্পর্কে বলেন, অতঃপর তিনি তার নিকট একটি মোটা রেশমী জুব্বা পাঠালেন এবং বলিলেনঃ তুমি এটা বিক্রি করে তোমার প্রয়োজন মেটাও।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৪২. আবু উসমান আন-নাহ্‌দী [রহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, উমার [রাদি.] উতবাহ ইবনি ফারকাদের কাছে ফরমান লিখে পাঠান যে, নাবী [সাঃআঃ] রেশমী কাপড় ব্যবহার করিতে নিষেধ করেছেন, তবে এভাবে দুই আঙ্গুল, তিন আঙ্গুল ও চার আঙ্গুল পরিমাণ রেশম থাকলে তা পুরুষের জন্য বৈধ।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৪৩. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট একজোড়া রেশমী চাঁদর উপহার এলো। তিনি তা আমার কাছে পাঠালেন। আমি সেটা পরে তাহাঁর কাছে আসলে তাহাঁর চেহারায় অসন্তষ্টির ভাব দেখিতে পেলাম। তিনি বলিলেনঃ তোমার পরার জন্য এটা পাঠাইনি। অতঃপর তিনি আমাকে আদেশ দিলে আমি তা টুকরা করে আমার পরিবারের মহিলাদের মাঝে বন্টন করে দিলাম।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১০ঃ রেশমী পোশাক পরা নিষেধ

৪০৪৪. আলী ইবনি আবু ত্বালিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রেশমী পোশাক ও হলুদ রঙের কাপড় পরতে, স্বর্ণের আংটি পরতে এবং রুকূতে কুরআন পড়তে নিষেধ করেছেন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৪৫. আলী ইবনি আবু ত্বালিব [রাদি.] হইতে নাবী [সাঃআঃ]-এর সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

এ হাদিস বর্ণিত। এতে রুকূ ও সিজদায় কুরআন পড়তে নিষেধ করেছেন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৪৬. ইবরাহীম ইবনি আবদুল্লাহ [রহ] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

এতে আরো রয়েছেঃ “আমি এ কথা বলছি না যে, তিনি তোমাদেরকে তা নিষেধ করেছেন”।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৪০৪৭. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রোমের সম্রাট নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট একটি কিংখাব উপঢৌকন পাঠালেন। তিনি তা পরিধান করিলেন। আমি যেন তাহাঁর হাত দুটিকে নাড়াচাড়া করিতে দেখছি। অতঃপর তিনি জাফারের নিকট তা পাঠিয়ে দিলেন। তিনি তা পরিধান করে নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট আসলে তিনি বলেনঃ আমি এটা তোমাকে ব্যবহার করিতে দেইনি। তিনি প্রশ্ন করিলেন, তবে আমি এটা কি করবো? তিনি [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমার ভাই নাজ্জাশীর নিকট পাঠিয়ে দাও।

{৪০৪৭} আহমাদ। এর সানাদে আলী ইবনি যায়িদ দুর্বল। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪০৪৮. হাসান বাসরী [রহ] ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.]-এর সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

আল্লাহর নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ আমি লাল রঙের জিনপোষে সওয়ার হই না, হলদে [কুসুম] বর্ণের কাপড় পরিধান করি না এবং রেশম আটকানো জামা পরিধান করি না। বর্ণনাকারী বলেন, হাসান এ কথার দ্বারা জামার পকেটের দিকে ইশারা করেন। তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] আরো বলেনঃ জেনে রাখো! পুরুষ লোক এমন সুগন্ধি ব্যবহার করিবে, যার কোন রঙ থাকিবে না এবং নারীরা এমন সুগন্ধি ব্যবহার করিবে যার রঙ আছে কিন্তু ঘ্রাণ নেই। সাঈদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমার ধারণা, নারীদের সুগন্ধি ব্যবহার সম্পর্কিত কথার দ্বারা তাঁরা এরুপ বুঝেছেন যে, নারীরা যখন বাইরে যায় তখন যেন এরূপ সুগন্ধি ব্যবহার করে যার গন্ধ নেই, আর যখন স্বামীর নিকট থাকে, তখন যেমন ইচ্ছে সুগন্ধি ব্যবহার করিতে পারে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৪৯. আবুল হুসাইন হাইসাম ইবনি শাফী [রহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ও মাআফির গোত্রের আবু আমির নামক আমার এক সাথী বায়তুল মুকাদ্দাসে সলাত আদায়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। আয্‌দ গোত্রীয় আবু রায়হানাহ [রাদি.] নামক এক সাহাবী তখন বায়তুল মুকাদ্দাসবাসীদের ওয়ায নসীহত করিতেন। আবুল হুসাইন বলেন, আমার সাথী আমার আগেই মাসজিদে প্রবেশ করিলেন। অতঃপর আমি গিয়ে তার পাশে বসলাম। তিনি আমাকে প্রশ্ন করিলেন, আপনি কি আবু রায়হানার ওয়ায নসীহত শুনেছেন? আমি বলিলাম, না। তিনি বলেন, আমি তাহাকে বলিতে শুনিয়াছি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দশটি কাজ নিষেধ করেছেনঃ [১] দাঁতের অগ্রভাব শানিত করা, [২] উল্কি লাগানো, [৩] চুল উপড়িয়ে ফেলা, [৪] বিবস্ত্র অবস্থায় এক পুরুষের অন্য পুরুষের সাথে একই বিছানায় ঘুমানো, [৫] বিবস্ত্র অবস্থায় এক মহিলা অপর মহিলার সাথে এভাবে একই বিছানায় ঘুমানো, [৬] অনারবদের ন্যায় পুরুষের কাপড়ের নিম্নভাগে রেশম ব্যবহার করা অথবা [৭] আনারবদের ন্যায় কাঁধের উপর রেশম লাগানো, [৮] লুটতরাজ করা, [৯] চিতাবাঘের উপর আরোহী হওয়া [বাঘের চামড়ার গদিতে বসা] এবং [১০] বাদ্‌শাহ ব্যতীত অন্য লোকের আংটি ব্যবহার করা। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আংটি সম্পর্কিত বর্ণনাটি নিঃসঙ্গ। {৪০৪৯}

{৪০৪৯} নাসায়ী, আহমাদ, বায়হাক্বী। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪০৫০. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নরম রেশমী জিনপোষে বসতে নিষেধ করা হয়েছে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৫১. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে নিষেধ করেছেন স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করিতে, রেশমী কাপড় পরতে এবং নরম তুলতুলে লাল রঙের রেশমী জিনপোষে বসতে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৫২. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কারুকার্য খচিত একটি চাদর পরে সলাত আদায় করিলেন, [সলাতের অবস্থায়] এর কারুকার্যের দিকে তাহাঁর দৃষ্টি চলে যায়। ফলে সালাম ফিরানোর পর তিনি বলিলেনঃ এ চাঁদরটি নিয়ে আবু জাহমের [উপহারদাতার] নিকট যাও, এর কারুকার্য আমার সলাতে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে এবং তার সাদা চাদর নিয়ে এসো।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৫৩.আয়িশাহ [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে প্রথম বর্ণনাটি অধিক শুদ্ধ।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১১ঃ রেশমী সুতার সেলাই ও কারুকার্য করার অনুমতি সম্পর্কে

৪০৫৪. আস্‌মা বিনতু আবু বাক্‌র [রাদি.]-এর আযাদকৃত গোলাম আবদুল্লাহ আবু উমার [রহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি উমার [রাদি.]-কে বাজারে একটি সিরীয় পোশাক কিনতে দেখলাম। তিনি তাতে লাল রঙের সূতা দেখে ফেরত দিলেন। আমি আস্‌মা [রাদি.]-এর নিকট এসে তা জানালাম। তিনি এক কৃতদাসীকে ডেকে বলিলেন, হে দাসী! রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জুব্বাটা আমার কাছে নিয়ে এসো। অতঃপর সে কারূকার্য খচিত পকেটে, দুই আস্তিনে ও আগে-পিছের ফাড়া স্থানে রেশমী কাজ করা একটি জুব্বা বের করে আনলেন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৫৫. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কেবল রেশমের তৈরী পোশাক পরতে বারণ করেছেন। তবে রেশমের কারুকার্য খচিত ও কাপড়ের দুই পাড়ে রেশমী সূতা থাকলে কোন অসুবিধা নেই।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১২ঃ ওযরবশত রেশমী পোশাক পরা সম্পর্কে

৪০৫৬. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আবদুর রহমান ইবনি আওফ ও যুবাইর ইবনিল আওয়াম [রাদি.]-কে তাহাদের শরীরে চর্মরোগের কারণে সফরের সময় রেশমী পোশাক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৩ঃ নারীদের জন্য রেশমী পোশাক বৈধ

৪০৫৭.আবদুল্লাহ ইবনিয যুবাইর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আলী ইবনি আবু ত্বালিব [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছেন, একদা আল্লাহর নাবী [সাঃআঃ]-এর ডান হাতে রেশম ও বাম হাতে স্বর্ণ নিয়ে বলিলেনঃ এ দুটি জিনিস আমার উম্মাতের পুরুষদের জন্য হারাম।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৫৮. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কন্যা উম্মে কুলসূম [রাদি.]-এর পরিধানে একটি রেশমী চাদর দেখেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, [আরবী] হলো রেশমী সুতা দ্বারা কারুকার্য খচিত চাঁদর।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৫৯. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা ছেলেদের শরীর থেকে রেশমী জামা খুলে ফেলতাম এবং মেয়েদের গায়ে থাকতে দিতাম। মিসআর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এ বিষয়ে আমি আমর ইবনি দীনারকে প্রশ্ন করলে তিনি কিছু বলিতে পারেননি।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৪ঃ কারুকার্য খচিত ইয়ামানী চাঁদর পরা

৪০৬০. ক্বাতাদাহ [রহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনি মালিক [রাদি.]-কে প্রশ্ন করলাম, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট কোন জামা সবচেয়ে পছন্দনীয় ছিল বা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল? তিনি বলেন, কারুকার্য খচিত ইয়ামানী চাদর।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৫ঃ সাদা কাপড় পরিধান

৪০৬১. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমরা সাদা পোশাক পরো, কেননা তা তোমাদের সর্বোত্তম পোশাক। আর তোমাদের মৃতদেরকেও সাদা কাপড়ে কাফন দাও। আর তোমাদের উত্তম সুরমা হলো ইসমিদ নামক সুরমা। কেননা তা দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে এবং চোখের পাপড়িতে চুল গজায়।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৬ঃ ময়লা কাপড় ধুয়ে পরিষ্কার করা

৪০৬২. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আমাদের এখানে এসে এক বিক্ষিপ্ত চুলওয়ালাকে দেখে বলিলেনঃ লোকটি কি তার চুলগুলো আচঁড়ানোর জন্য কিছু পায় না? তিনি ময়লা কাপড় পরিহিত অপর ব্যক্তিকে দেখে বলেনঃ লোকটি কি তার কাপড় ধোয়ার জন্য কিছু পায়না?

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৬৩.আবুল আহ্ওয়াস [রহ] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি কম মূল্যের পোশাক পরে নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট আসলে তিনি বলিলেনঃ তোমার ধন-সম্পদ আছে কি? তিনি বলিলেন, হাঁ। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ কোন ধরনের সম্পদ? তিনি বলিলেন, আল্লাহ আমাকে উট, ছাগল, ঘোড়া ও দাস ইত্যাদি সম্পদ দিয়েছেন। তিনি [সাঃআঃ] বলেনঃ যেহেতু আল্লাহ তোমাকে সম্পদশালী করেছেন, কাজেই আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহের নিদর্শন তোমার মাঝে প্রকাশিত হওয়া উচিত।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭ঃ হলুদ রং দ্বারা রঞ্জিত করা

৪০৬৪. যায়িদ ইবনি আসলাম [রহ] হইতে বর্ণীতঃ

ইবনি উমার [রাদি.] তার দাঁড়িতে পীত রঙের খেযাব লাগাতেন। এতে তার কাপড়েও ঐ রঙ লেগে যেতো। তাহাকে প্রশ্ন করা হলো, আপনি পীত রঙ ব্যবহার করেন কেন? তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে এ রঙ ব্যবহার করিতে দেখেছি এবং তাহাঁর নিকট এর চাইতে প্রিয় অন্য কোন রঙ ছিলো না। তিনি দাড়িতে রঙ লাগানোর সময় তাহাঁর কাপড়ে, এমনকি তাহাঁর পাগ্‌ড়িতে এ রঙ লেগে যেতো।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮ঃ সবুজ রং সম্পর্কে

৪০৬৫. আবু রিমসাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি আমার পিতার সাথে নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট গেলাম। তখন আমি তাহাঁর পরিধানে দুটি সবুজ রঙের চাদর দেখেছি।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৯ঃ লাল রং ব্যবহার করা

৪০৬৬. আমর ইবনি শুআইব [রহ] হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা দাদার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সঙ্গে একটি টিলা হইতে নামছিলাম। তিনি আমার দিকে তাকাচ্ছিলেন, তখন আমার পরিধানে ঈষৎ লালের সাথে পীত বর্ণের একটি চাদর ছিল। তিনি বলিলেনঃ তোমার গায়ে এ চাদর কেন? আমি তাহাঁর অসন্তুষ্টি বুঝতে পারলাম এবং বাড়ীতে এসে দেখলাম, পরিবারের লোকজন চুলায় রান্না করছে। আমি চাদরটা আগুনে ফেলে দিলাম। অতঃপর আমি সকালে তাহাঁর নিকট আসতেই তিনি প্রশ্ন করলেনঃ হে আল্লাহর বান্দা! তোমার ঐ চাদরটি কি করেছো? আমি তাহাকে বিষয়টি অবহিত করলাম। তিনি বলিলেন, তুমি বরং সেটা তোমার পরিবারের কোন নারীকে ব্যবহার করিতে দিতে। কেননা নারীদের জন্য এতে কোন অসুবিধা নেই।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪০৬৭. হিশাম ইবনিল গায [রহ] হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বের হাদিসে [আরবি] বলিতে এমন রঙ বুঝানো হয়েছে যা গাঢ় লাল নয় এবং ফিকে লালও নয়।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ মাকতু

৪০৬৮. আবদুল্লাহ ইবনি আমর ইবনিস আস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার দিকে তাকালেন। [আবু আলী বলেন, আমার ধারণা তিনি বলিয়াছেন] এ সময় আমার গায়ে ছিল হলদে গোলাপী রঙ মিশানো একটি জামা। তিনি বলিলেনঃ এরূপ কাপড় পরেছ কেন? অতঃপর আমি চলে আসলাম এবং তা পুড়ে ফেললাম। পরে নাবী [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমার কাপড়টি কি করেছ? আমি বলিলাম, জ্বালিয়ে দিয়েছি। তিনি বলিলেনঃ তোমার পরিবারের কোন নারীকে তা ব্যবহার করিতে দিলেও তো পারতে। {৪০৬৮}

{৪০৬৮} এটি আবু দাউদ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এর সনদের শুরাহবীল ইবনি মুসলিম সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ মাক্ববূল। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪০৬৯. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দুটি লাল কাপড় পরে নাবী [সাঃআঃ]-এর পাশ দিয়ে অতিক্রমের সময় তাঁকে সালাম দিলো। কিন্তু নাবী [সাঃআঃ] তার সালামের জবাব দেননি। {৪০৬৯}

{৪০৬৯} তিরমিজি, ঈমাম তিরমিজি বলেনঃ এই সূত্রে হাদিসটি হাসান গরীব। সানাদে আবু ইয়াহইয়া সম্পর্কে হাফিয আত-তাক্ববীর গ্রন্থে বলেনঃ হাদিস বর্ণনায় শিথিল। ইবনি হিব্বান বলেনঃ তার সন্দেহ প্রচুর। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪০৭০. রাফী ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সাথে সফরে বের হলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের হাওদাগুলোতে ও উটের পিঠে তুলার লাল সূতার ডোরাযুক্ত চাঁদরগুলো দেখে বলিলেনঃ আমি দেখছি যে, লাল রঙ তোমাদের কাবু কুরে ফেলেছে। রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] একথায় আমারা লাল কাপড় সরানোর জন্য এতো দ্রুত ছুটলাম যে, কতগুলো উট ভয় পেয়ে পালাতে লাগলো। আমরা চাঁদরগুলো খুলে ফেললাম। {৪০৭০}

{৪০৭০} আহমাদ। এর সানাদে নাম উল্লেখহীন জনৈক ব্যক্তি রয়েছেন। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪০৭১. হুরাইস ইবনিল আবাজ্জ আস-সালীহী [রহ] হইতে বর্ণীতঃ

বনী আসাদের এক মহিলা বলেন, একদিন আমি রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] স্ত্রী যাইনাব [রাদি.] এর কাছে ছিলাম। আমরা তার কাপড়ে লাল গেরুয়া রঙ লাগাচ্ছিলাম, তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সেখানে আসলেন এবং গেরুয়া রঙ দেখে চলে গেলেন। যাইনাব [রাদি.] তখন বুঝতে পারলেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর কাজে অসন্তষ্ট হয়েছেন। সুতরাং তিনি কাপড় ধুয়ে সবটুকু লাল রঙ উঠিয়ে ফেলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফিরে এসে তা দেখিতে না পেয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। {৪০৭১}

{৪০৭১} আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সনদের হুরাইস ইবনি আবাহ সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ মাজহুল। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-২০ঃ লাল রং ব্যবহারের অনুমতি

৪০৭২. আল-বারাআ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] চুল কানের লতি পর্যন্ত লম্বা ছিল। আর আমি তাঁকে লাল রং-এর চাদর পরিহিত দেখেছি। ইতোপূর্বে তাহাঁর চেয়ে চমৎকার কিছু দেখিনি।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৭৩. হিলাল ইবনি আমির [রাদি.] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে মিনা উপত্যকায় লাল রঙ এর চাদর পরে একটি খচ্চরের পিঠে আরোহিত অবস্থায় ভাষণ দিতে দেখেছি। আলী [রাদি.] তাহাঁর সামনে থেকে তাহাঁর ভাষণ উচ্চস্বরে পুনরাবৃত্তি করছিলেন

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২১ঃ কালো রং ব্যবহার করা

৪০৭৪. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ]-এর জন্য একটা কালো চাদর রঙ করে দিলাম। তিনি তা পরিধান করিলেন। তিনি ঘামের কারণে পশমের দুর্গন্ধ পেয়ে তা খুলে ফেললেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা [উর্ধ্বতন বর্ণনাকারী] বলিয়াছেন, সুগন্ধি তাহাঁর খুব প্রিয় ছিল।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২২ঃ কাপড়ের ঝালর সম্পর্কে

৪০৭৫. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে দেখলাম, তিনি চাদর জড়িয়ে আছেন, চাঁদরের ঝালর তাহাঁর দু পায়ের উপর ঝুলছে। {৪০৭৫}

{৪০৭৫} আহমাদ, বায়হাক্বী। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৩ঃ পাগড়ি সম্পর্কে

৪০৭৬. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] মাক্কাহ বিজয়ের সময় কালো পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করেন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৭৭. আমর ইবনি হুরাইস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি নাবী [সাঃআঃ]-কে কালো পাগ্ড়ি পরিহিত অবস্থায় মিম্বারে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতে দেখেছি, তাহাঁর পাগড়ির দুপাশ তাহাঁর কাঁধের উপর ঝুলছিল।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৭৮. আবু জাফার ইবনি মুহাম্মাদ ইবনি আলী ইবনি রুকানাহ [রহ] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

এই রুকানাহ নাবী [সাঃআঃ]-এর সাথে মল্লযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে মল্লযুদ্ধে ভূপাতিত করেন। রুকানাহ [রাদি.] বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ আমাদের ও মুশরিকদের মাঝে পার্থক্য হল, টুপির উপর পাগড়ি পরিধান করা।{৪০৭৮}

{৪০৭৮} তিরমিজি, হাকিম। ঈমাম তিরমিজি বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান গরীব, এর সনদ প্রতিষ্ঠিত নয়, আমরা সনদের আবুল হাসান আসকালানী এবং তার ছেলে রুকানাহকে চিনি না। হাকিম ও যাহাবী নীরব থেকেছেন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪০৭৯. আবদুর রহমান ইবনি আওফ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে পাগড়ি পরিয়েছেন এবং তার প্রান্তভাগ আমার সামনে ও পিছনে ঝুলিয়ে দিয়েছেন। {৪০৭৯}

{৪০৭৯} তিরমিজি, আহমাদ। ঈমাম তিরমিজি বলেনঃ এ সূত্রে হাদিসটি হাসান সহিহ গরীব। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৪ঃ আঁটসাট কাপর পরা নিষেধ

৪০৮০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দুইভাবে কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন। [১] মানুষের এমনভাবে লেপ্টে পোশাক পরা যে, লজ্জাস্থান আকাশের দিকে উন্মুক্ত হয়ে থাকে, [২] কাপড় এভাবে পরা যে, শরীরের একদিক বের হয়ে থাকে, আর অবশিষ্ট কাপড় কাঁধে ফেলে রাখা হয়।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৮১. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দুই হাত ভিতরে রেখে আঁটসাঁট কাপড় পরতে এবং এক কাপড়ে জড়সড় হয়ে দুই হাতে হাঁটু জড়িয়ে বসতে নিষেধ করেছেন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৫ঃ বোতাম খোলা রাখা বৈধ

৪০৮২. মুআবিয়াহ ইবনি কুররাহ [রহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা বলেন, আমি মুযাইনাহ গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] কাছে বাইআত করিতে যাই। আমরা তাহাঁর নিকট বাইআত নিলাম। এসময় তাহাঁর জামার বোতাম খোলা ছিল। আমি আমার হাত তাহাঁর জামার বুকের ফাঁক দিয়ে ভিতরে ঢুকিয়ে মোহরে নবূওয়াত স্পর্শ করলাম। উরওয়াহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এরপর থেকে মুআবিয়াহ ও তার ছেলেকে সর্বদা তাহাদের জামার বোতাম খুলে রাখতে দেখেছি। চাই তা শীতকাল হোক বা গরমকাল, তারা কখনো বোতাম লাগাতেন না।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৬ঃ চাঁদর মুড়ি দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা সম্পর্কে

৪০৮৩. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলে, একদা ঠিক দুপুরের প্রথমভাগে আমরা সবাই আমাদের ঘরে বসা। তখন এক ব্যাক্তি আবু বকর [রাদি.]-কে বললো, ওই তো রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] চাদর মুড়িয়ে এদিকে আসছেন। তিনি তো সাধারণত এসময়ে আমাদের এখানে আসেন না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এসে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তাঁকে অনুমতি দেয়া হলে তিনি ভেতরে ঢুকলেন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৭ঃ লুঙ্গি-পাজামা পায়ের টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরার পরিনতি

৪০৮৪. আবু জুরায়্যি জাবির ইবনি সুলাইম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখেছি, যার কথা সবাই মেনে চলে এবং যা কিছু বলেন সবাই তা পালন করে। আমি বলিলাম, ইনি কে? তারা বললো, ইনি হলেন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]। আমি দুইবার বলিলাম, আলাইকাস সালাম ইয়া রসূলুল্লাহ! তিনি বলিলেনঃ আলাইকাস সালাম বলো না, কেননা আলাইকাস সালাম দ্বারা মৃত ব্যক্তিকে সালাম দেয়া হয়। বরং তুমি বলো, আস্‌সালামু আলাইকা। বর্ণনাকারী বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, আপনি কি আল্লাহর রাসূল? তিনি বলিলেনঃ আমি সেই আল্লাহর রাসূল, যাকে তুমি বিপদে পড়ে ডাকলে তিনি তোমার বিপদ দূর করেন; দুর্ভিক্ষের সময়ে তাঁকে ডাকলে তিনি তোমার জন্য খাদ্যশস্য উৎপাদন করেন; ঘাস-পানিহীন মরু প্রান্তরে তোমার সওয়ারী হারিয়ে গেলে তাঁকে ডাকলে তিনি তোমার নিকট তা ফিরিয়ে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে আমাকে উপদেশ প্রদানের অনুরোধ জানালাম। তিনি বলিলেনঃ তুমি কখনো কাউকে গালি দিবে না। বর্ণনাকারী বলেন, এর পরে আমি কখনো স্বাধীন, গোলাম, উট ও ছাগল কোন কিছুকেই গালি দেইনি। তিনি [সাঃআঃ] বলেনঃ ভালো কাজে অবজ্ঞা প্রদর্শন করো না। তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে কথা বলাটা নিঃসন্দেহে ভালো কাজের অন্তর্ভুক্ত। তোমার কাপড় পায়ের নলার মাঝামাঝি পর্যন্ত উঠিয়ে রাখো, যদি এতে সন্তষ্ট না হও তবে টাখনু পর্যন্ত রাখো। টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরা হইতে সাবধান; কারণ তা করা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ অহংকার পছন্দ করেন না। কেউ যদি তোমার মধ্যকার জানা কোন দোষ উল্লেখ করে তোমাকে মন্দ কথা বলে এবং লজ্জিত করে তবে তুমি কিন্তু তাহাঁর জ্ঞাত দোষ উল্লেখ করে তাহাকে লজ্জা দিবে না। কেননা এর কৃতকর্মের প্রতিফল তাহাকে ভোগ করিতেই হইবে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৮৫. সালিম ইবনি আবদুল্লাহ [রহ] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি অহংকার বশতঃ পরিধেয় বস্ত্র মাটিতে হেঁচড়িয়ে চলে, ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না। একথা শুনে আবু বকর [রাদি.] বলিলেন, আমার লুঙ্গির একদিক মাঝে মধ্যে ঝুলে পড়ে। আমি তো সেদিকে সর্বদা সতর্ক হইতে পারি না। তিনি বলিলেনঃ যারা অহংকারবশে এরূপ করে আপনি তো তাহাদের মত নন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি লুঙ্গি ঝুলিয়ে সলাত আদায় করছিল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাকে বলিলেনঃ যাও, উযু করে এসো। লোকটি গিয়ে উযু করে আসলে তিনি তাহাকে বলিলেনঃ যাও, উযু করে এসো। লোকটি গিয়ে উযু করে এলে তিনি তাহাকে আবার বলিলেনঃ যাও, উযু করে আসো। তখন এক লোক তাঁকে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তাহাকে কি জন্য উযুর আদেশ দিলেন, অতঃপর তিনি নীরব থাকলেন। তিনি বলেনঃ লোকটি লুঙ্গি ঝুলিয়ে সলাত আদায় করছিল। মহান আল্লাহ ঐ লোকের সলাত কবুল করেন না যে টাখনুর নীচে লুঙ্গি ঝুলিয়ে সলাত আদায় করে। {৪০৮৬} {৪০৮৬} এর সনদ দুর্বল। এটি গত হয়েছে হা/৬৩৮।। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪০৮৭. আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তিন প্রকার লোকের সাথে কথা বলবেন না, তাহাদের প্রতি [রহমাতের নজরে] দেখবেন না এবং তাহাদেরকে পবিত্র করবেন না, আর তারা কঠিন শাস্তি ভোগ করিবে। আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এরা কারা? নিঃসন্দেহে এরা ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তিনি [সাঃআঃ] একথাটা তিন বার বলিলেন, আর আমিও তাঁকে প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! এরা কেমন লোক? এরা তো ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তিনি বলিলেনঃ[১] যে ব্যক্তি টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে রাখে; [২] যে ব্যক্তি দান করে খোঁটা দেয় এবং [৩] যে ব্যক্তি মিথ্যা বা ধোঁকাপূর্ণ কসম করে পণ্য বিক্রি করে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৮৮. আবু যার [রাদি.] হইতে নাবী [সাঃআঃ] এর সুত্র হইতে বর্ণীতঃ

উপরের হাদিস বর্ণিত। তাহাঁর প্রথম হাদিসটি পুর্ণাঙ্গ। বর্ণনাকারী বলেন, “আল-মান্নান” হলো, যে কাউকে কোন কিছু দান করলেই খোঁটা দেয়।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৮৯. ক্বায়িস ইবনি বিশর আত-তাগ্লিবী [রহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেন, তিনি আবু দারদান [রাদি.]এর সঙ্গি ছিলেন। তিনি বলেন, সে সময় দামিশকে ইবনিল হান্‌যালিয়া [রাদি.] নামে নাবী [সাঃআঃ] এর এক সাহাবী বাস করিতেন, যিনি নিঃসঙ্গ থাকতেন, লোকজনের সাথে খুব কম মিশতেন। তিনি অধিকাংশ সময় সালাতে মশগুল থাকতেন, সালাত শেষ হলে তাসবীহ্-তাহলীলে মশগুল হইতেন, এরপর বাড়ী ফিরে যেতেন। তিনি বলেন, একদা আমরা আবু দারদার [রাদি.] নিকট বসা, তখন তিনি আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আবু দারদা [রাদি.] তাহাকে বলিলেন, আপনি এমন একটি কথা শুনান যা আমদের উপকারে আসবে, অথচ আপনার ক্ষতি হইবে না। তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোন অভিযানে একটি বাহিনী পাঠালেন। বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্র হইতে ফেরার পর তাহাদের এক ব্যক্তি এসে রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] স্থানে বসে পড়লো এবং তাহাঁর পাশের এক ব্যক্তিকে বললো, যদি তুমি দেখিতে, আমরা যখন শত্রুবাহিনীর মুখোমুখী হই, তখন অমুক কোন শত্রুর উপর বর্শা নিক্ষেপ করলো, আর শত্রু কে বললো, এবার সামাল দাও দেখি এই বর্শাটা, আমি তো গিফার বংশের ছেলে। সে বলিল, আমার মতে তার নেকি বিনষ্ট হয়েছে। আরেকজন তার এ মন্তব্য শুনে বলিল, আমর মতে তার কোন দোষ হইবে না। অতঃপর তারা এ নিয়ে কথা ঝগড়ায় লিপ্ত হলো। এমনকি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একথা শুনতে পেয়ে বলিলেনঃ আল্লাহ পবিত্র, সওয়াব পাওয়াতে এবং প্রশংসিত হওয়াতে কোন দোষ নেই। আমি আবু দারদা[রাদি.]-কে খুশি হইতে দেখলাম। তিনি তার দিকে তাকিয়ে বলিতে লাগলেন, আপনি এটা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট থেকে শুনেছেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি বারবার এ কথা বলিতে লাগলেন। অবশেষে আমি বলিলাম, তিনি হয়ত তার হাটুঁদ্বয়ে চেপে বসবেন। তিনি বলেন, আরেকদিন তিনি আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন আবু দারদা[রাদি.] তাহাকে অনুরোধ করিলেন, আপনি এমন কিছু বলুন যা আমাদের উপকারে আসবে; কিন্ত আপনার কোন ক্ষতি হইবে না। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের বলেনঃ ঘোড়ার জন্য খরচকারী খোলা হাতে সদাক্বাহকারীর মত যে দান করা হইতে বিরত হয় না। অতঃপর আরেকদিন তিনি আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আবু দারদা[রাদি.] তাহাকে বলিলেন, আপনি এমন একটি কথা বলুন, যা আমদের উপকারে আসে, কিন্তু আপনার ক্ষতি হইবে না। তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে বলিয়াছেনঃ খুরাইম আল-আসাদী অত্যন্ত ভালো মানুষ, তবে তার চুলের গোছা যদি লম্বা না হতো এবং টাখনুর নীচে লুঙ্গি ঝুলিয়ে না পরতো। তাহাঁর এ মন্তব্য শুনে খুরাইম [রাদি.] সাথে সাথে একটি বড় ছুরি নিয়ে বাব্‌রি চুল কেটে তা কানের লতি পর্যন্ত রাখেন, আর পায়ের টাখনুর অর্ধেক পর্যন্ত পরিধেয় বস্ত্র উঠিয়ে পরতে শুরু করেন। অতঃপর আরেকদিন তিনি আমাদের পাশ দিয়া যাওয়ার সময় আবু দারদা[রাদি.] তাহাকে অনুরোধ জানালেন, আপনি এমন একটি কথা বলুন যা আমাদের উপকারে আসবে; কিন্তু আপনার ক্ষতি হইবে না। তিনি বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ [যেহেতু] তোমরা তোমাদের ভাইদের নিকট যাচ্ছো, কাজেই তোমাদের বাহনগুলো ঠিকঠাক করে নাও এবং পোশাক পরিপাটি করো, তোমরা যেন সমাজের কেন্দ্রবিন্দু। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ কদর্য ও অশ্লীলতা পছন্দ করেন না। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আবু নুআইম হিশাম সুত্রে এরূপ বর্ণনাই করেছেনঃ “তোমরা এমনভাবে পরিপাটি হও, যেন তোমরা লোক সমাজে তিলক চিহ্ন। {৪০৮৯}

{৪০৮৯} আহামদ,হাকিম। হাকিম বলেনঃ সনদ সহিহ। যাহাবী তাহাঁর সাথে এক মত হয়েছেন। কিন্তু সনদের ক্বাইস ইবনি বিশর তার পিতার সুত্রে জাহালাতের কারনে আলবানী একে দুর্বল বলিয়াছেন। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৮ঃ অহংকার সম্পর্কে

৪০৯০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ মহান আল্লাহ বলেন, অহংকার হলো আমার চাদর এবং মহত্ব হলো আমার লুঙ্গি। যে কেউ এর কোন একটি নিয়ে আমার সাথে ঝগড়া করিবে, আমি তাহাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৯১. আব্দুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ অহংকার থাকিবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে না, যার অন্তরে সরিষা পরিমাণ ঈমান থাকিবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করিবে না।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৯২. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা এক ব্যক্তি নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট এলো। লোকটি ছিল খুবই সুন্দর। সে বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি সৌন্দর্যকে ভালবাসি। আপনি তো দেখিতে পাচ্ছেন আমাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করা হয়েছে। এদিক দিয়ে কেউ আমার উপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করুক তা আমি চাই না, এমনকি কেউ যদি বলে, আমার জুতার ফিতার চাইতে তার ফিতাটা ভালো, সেটাও পছন্দ করি না। এরূপ করা কি অহংকার? তিনি [সাঃআঃ] বলিলেনঃ না, বরং অহংকার হলো সত্যকে অবজ্ঞা করা এবং মানুষকে তুচ্ছ মনে করা।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২৯ঃ লুঙ্গি-পাজামার নিচ দিকের সীমা

৪০৯৩. আল-আলা ইবনি আব্দুর রহমান [রহ] হইতে তার পিতার সুত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] কে লুঙ্গি পরিধানের স্থান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তুমি এ বিষয়ে সম্যক অবগত লোকের কাছেই এসেছো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ মুসলিমের পরিধেয় লুঙ্গি-পাজামা নলার মধ্যভাগ পর্যন্ত থাকিবে, তবে টাখনুদ্বয় পর্যন্ত রাখলেও কোন গুনাহ হইবে না। কিন্তু টাখনুদ্বয়ের নীচে গেলে তা জাহান্নামের আগুনে যাবে। যে অহংকারবশে নিজের লুঙ্গি হেঁচড়িয়ে চলে, আল্লাহ তার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করবেন না।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৯৪. সালিম ইবনি আব্দুল্লাহ [রহ] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] লুঙ্গি, জামা ও পাগড়ী হেঁচড়ানো সম্পর্কে বলেন, যে ব্যক্তি অহংকারবশত এর কোনটি হেঁচড়িয়ে চলে, ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না। {নাসায়ী, ইবনি মাযাহ}

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৯৫ ইয়াযীদ ইবনি আবু সুমাইয়্যহ [রহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনি উমার [রাদি.] কে বলিতে শুনিয়াছি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] লুঙ্গি সম্পর্কে যা বলিয়াছেন জামা সম্পর্কেও তাই বলিয়াছেন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৯৬. মুহাম্মাদ ইবনি আবু ইয়াহ্‌য়া [রহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ইকরিমাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আমার নিকট বর্ণনা করেন, তিনি ইবনি আব্বাস [রাদি.] কে লুঙ্গি পরিধান করিতে দেখছেন। তিনি লুঙ্গির কিনারা সামনের দিকে পায়ের পিঠে ছেড়ে দিয়েছেন এবং পিছনের পাড় কিছুটা উপরে উঠিয়েছেন। আমি তাহাকে বলিলাম, আপনি এভাবে লুঙ্গি পরেছেন কেন? তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে এভাবে লুঙ্গি পরিধান করিতে দেখেছি।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩০ঃ নারীদের পোশাক

৪০৯৭. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] অভিশাপ দিয়েছেন যেসব নারী পুরুষের বেশ ধারণ করে এবং যেসব পুরুষ নারীদের বেশ ধারণ করে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৯৮. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] অভিসম্পাত করেছেন ঐসব পুরুষকে যারা নারীর অনুরুপ পোশাক পরে এবং ঐসব নারীকে যে পুরুষের অনুরুপ পোশাক পরিধান করে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪০৯৯. ইবনি আবু রুলাইকাহ [রহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আয়িশাহ [রাদি.] কে বলা হলো, এক মহিলা [পুরুষদের জুতার মত] জুতা ব্যবহার করে। তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পুরুষবেশী নারীদের প্রতি অভিশম্পাত করেছেন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩১ঃ আল্লাহর বাণীঃ “তারা যেন তাহাদের ওড়নার কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়” [সূরাহ আল-আহযাবঃ ৫৯]

৪১০০. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আনসার মহিলাদের আলোচনা প্রসঙ্গে তাহাদের প্রশংসা করেন এবং তাহাদের সম্পর্কে উত্তম মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সূরাহ আন-নূর যখন অবতীর্ণ হয়, তখন তারা লুঙ্গি বা এ জাতীয় জামা ছিঁড়ে ওড়না বানিয়ে নেন। {৪১০০}

{৪১০০} আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এর সানাদে ইব্রাহীম ইবনি মুহাজির রয়েছে। হাফিয বলেনঃ সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় শিথিল। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪১০১. উম্মু সালামাহ[রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ “হে নাবী! আপনার স্ত্রী ও কন্যাদেরকে এবং অন্যান্য মুমিনদের নারীদেরকে বলুন, তারা যেন নিজেদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়…”[সূরাহ আল-আহযাবঃ ৫৯]। তখন থেকে আনাসার মহিলারা তাহাদের মাথায় এমন চাদর জড়িয়ে বের হইতেন, [চাদর কালো বর্ণের হওয়ায়] মনে হতো তাতে যেন কাক বসে আছে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩২ঃ মহান আল্লাহর বাণীঃ “তারা যেন তাহাদের গলদেশ ও বক্ষদেশ মাথার ওড়না দিয়ে আবৃত করে” [সুরাহ আন-নূরঃ৩১]

৪১০২,.আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ প্রথম সারির মুহাজীর নারীদের প্রতি রহমাত বর্ষণ করুন। কেননা আল্লাহ যখন এ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “তারা যেন তাহাদের গলদেশ ও বক্ষদেশ মাথার ওড়না দ্বারা আবৃত করে নেয়”- তখন তারা তাহাদের সেলাইবিহীন কাপড় ছিঁড়ে তা দ্বারা ওড়না বানিয়ে নেন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১০৩,.ইবনিস সারহ [রহ] হইতে বর্ণীতঃ

আমি আমার মামার পান্ডূলিপিতে উক্বাইল হইতে ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্রে ভিন্ন অনুরূপ অর্থের হাদিস লিপিবদ্ধ দেখেছি।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

অনুচ্ছেদ-৩৩ঃ নারীদের শরীরের কোন অংশ খোলা রাখা যাবে

৪১০৪. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা আসমা বিনতু আবু বকর [রাদি.] পাতলা কাপড় পরিহিত অবস্থায় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট এলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার থেকে নিজের মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলিলেনঃ হে আসমা! মেয়েরা যখন সাবালিকা হয়, তখন এই দুটি অঙ্গ ছাড়া অন্য কোন অঙ্গ প্রকাশ করা তার জন্য সংগত নয়, এ বলে তিনি তাহাঁর চেহারা ও দুই হাতের কব্জির দিকে ইশারা করেন। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এটি মুরসাল হাদিস। খালিদ ইবনি দুরাইক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আয়িশাহ [রাদি.]-এর সাক্ষাত পাননি। আর সাঈদ ইবনি বাশীরও তেমন শক্তিশালী বর্ণনাকারী নন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৪ঃ কৃতদাস তার নারী মনিবের চুল দেখিতে পারে

৪১০৫. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উম্মু সালামাহ [রাদি.] নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট রক্তমোক্ষণের অনুমতি চাইলেন। তিনি [সাঃআঃ] আবু ত্বাইবাকে তার রক্তমোক্ষণ করার আদেশ দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা, তিনি [আবু ত্বাইবাহ] তার দুধভাই কিংবা নাবালেগ গোলাম ছিলেন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১০৬. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] এক কৃতদাসকে সঙ্গে নিয়ে ফাত্বিমাহ [রাদি.] এর নিকট এলেন, যে কৃ্তদাসটি তিনি তাহাকে দান করেছিলেন। ফাত্বিমাহ [রাদি.]-র পরিধানে এরূপ একটি কাপড় ছিল যা দিয়ে তিনি মাথা ঢাকলে পা দুটিতে পৌঁছে না; আর পা ঢাকলে মাথা পর্যন্ত পৌঁছে না। নাবী [সাঃআঃ] তার এ অবস্থা দেখে বলেনঃ তোমার কোন পাপ হইবে না, কারণ এখানে তো শুধু তোমার পিতা ও তোমার কৃ্তদাস রয়েছে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৫ঃ মহান আল্লাহ্‌র বাণীঃ “যৌন কামনা রহিত পুরুষ”

৪১০৭. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] এর স্ত্রীদের নিকট এক নপুংসক [হিজড়া] কৃতদাস আসা-যাওয়া করতো। সকলেই তাহাকে যৌন কামনা রহিত পুরুষ হিসেবে গন্য করতো। একদিন নাবী [সাঃআঃ] আমাদের নিকট আসলেন। এ সময় সে তাহাঁর কোন স্ত্রীর ঘরে ছিল এবং সে একটি নারীর প্রশংসা করে বললো, নারীটি যখন সামনের দিকে আসে মনে হয় চারভাঁজে আসছে আর যখন পিছনের দিকে যায় মনে হয় আটভাঁজে যাচ্ছে [অর্থাৎ খুব মোটা]। একথা শুনে নাবী [সাঃআঃ] বলেন, আমি তো দেখছি, সে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ। সে যেন তোমাদের নিকট কখনো প্রবেশ না করিতে পারে। অতঃপর সবাই তার থেকে পর্দা করিলেন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১০৮. আয়িশাহ [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

উপরের হাদিসের অর্থানুরূপ বর্ণিত আছে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১০৯. আয়িশাহ [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ হাদিস বর্ণিত। এতে আরও রয়েছেঃ “তিনি [সাঃআঃ] তাহাকে আল-বায়দা নামক স্থানে পাঠিয়ে দিলেন। এরপর সে [হিজড়া] প্রতি শুক্রবার খাদ্যের জন্য শহরে আসতো।”

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১১০. আল-আওযাঈ সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

আল-আওযাঈ সূত্রে এ ঘটনা বর্ণিত। বলা হলো, হে আল্লাহ্‌র রাসুল! তাহলে সে তো না খেয়ে মারা যাবে। কাজেই তিনি প্রতি সপ্তাহে দুবার শহরে আসার জন্য তাহাকে অনুমতি দিলেন, অতঃপর সে খাবার সংগ্রহ করে চলে যাবে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৬ঃ মহান আল্লাহ্‌র বানীঃ “আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাহাদের দৃষ্টি সংযত রাখে”

৪১১১. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, “ঈমানদার নারীদের বলুন, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি অবনত রাখে” –আলোচ্য আয়াতকে আয়াত দ্বারা ব্যতিক্রম করা হয়েছেঃ “এবং বৃদ্ধা মহিলা যাদের বিয়ের যোগ্যতা নেই”

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪১১২. উম্মু সালামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট ছিলাম এবং তাহাঁর নিকট মাইমূনাহ [রাদি.]-ও ছিলেন। এ সময় ইবনি উম্মু মাক্‌তূম [রাদি.] [অন্ধ সাহাবী] এলেন। ঘটনাটি আমাদের উপর পর্দার হুকুম নাযিলের পরের। তিনি [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তোমরা তার থেকে আড়ালে চলে যাও। আমরা বলিলাম, হে আল্লাহ্‌র রাসুল! সে কি অন্ধ নয়? সে তো আমাদের দেখিতে ও চিনতে পারছে না। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেন, যদিও সে অন্ধ কিন্তু তোমরা উভয়ে কি তাহাকে দেখছো না?

ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এ বিধান নাবী [সাঃআঃ] স্ত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট। তুমি কি ইবনি উম্মু মাক্‌তূমের [রাদি.] বাড়িতে ফাত্বিমাহ বিনতু কায়িসের [রাদি.] ইদ্দাত পালনের বিষয়টি লক্ষ্য করো না? নাবী [সাঃআঃ] ফাত্বিমাহ বিনতু কায়িস [রাদি.] কে বলিয়াছেনঃ “তুমি ইবনি উম্মু মাক্‌তূমের বাড়িতে ইদ্দাত পালন করো। কারণ সে অন্ধ লোক। তুমি সেখানে খোলামেলা পোশাকে থাকতে পারবে।” {৪১১২}

{৪১১২} তিরমিজি, নাসায়ী, আহমাদ। সনদের নাহবান সম্পর্কে ইবনি হাযম বলেনঃ মাজহুল। ইরওয়া হা/১৮০৬। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪১১৩. আমর ইবনি শুআইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমাদের কেউ নিজ কৃতদাসীকে নিজ কৃতদাসের সাথে বিয়ে দিলে সে যেন তার গুপ্ত অঙ্গের দিকে না তাকায়।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪১১৪. আমর ইবনি শুআইব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমাদের কেউ তার কৃতদাসীকে কৃতদাসের সাথে অথবা মজদুরের সাথে বিয়ে দিলে, সে তার [দাসীর] নাভির নীচ হইতে হাঁটুর উপর পর্যন্ত দেখবে না।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৭ঃ ওড়না কিভাবে পরবে

৪১১৫. উম্মু সালামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা নাবী [সাঃআঃ] তাহাঁর নিকট এলেন, এ সময় তিনি ঘোমটা দেয়া অবস্থায় ছিলেন। তিনি বলিলেন, এক ভাঁজে ঘোমটা দাও, দুই ভাঁজে নয়, দুই ভাঁজে নয়। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, তাহাঁর একথার অর্থ হলো, তোমরা পুরুষদের পাগড়ির মত একাধিক ভাঁজ করিবে না। {৪১১৫}

{৪১১৫} আহমাদ। সনদের আবু আহমাদের মুক্তদাস ওয়াব সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ মাজহুল। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৮ঃ নারীদের জন্য পাতলা কাপড় ব্যবহার

৪১১৬. দিহ্‌ইয়াহ ইবনি খলীফাহ আল-কাল্‌বী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট কিছু মিসরীয় কাতান কাপড় এলো। তিনি সেগুলো থেকে আমাকে একটি কাতান দিয়ে বলিলেনঃ এটাকে দুই টুকরা করো। এক টুকরা কেটে জামা বানাবে এবং অপরটি তোমার স্ত্রীকে ওড়না বানাতে দিবে। তিনি ফিরে যাওয়ার সময় নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তোমার স্ত্রীকে এর নীচে আরেকটি কাপড় লাগিয়ে নিতে বলবে, যেন তার দেহের আকৃতি দেখা না যায়। {৪১১৬}

{৪১১৬} আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সানাদে ইবনি লাহিয়্যাহ একজন মুদাল্লিস এবং তিনি এটি আন্‌ আন্‌ শব্দে বর্ণনা করেছেন। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৯ঃ কাপড়ে আঁচলের পরিমাণ

৪১১৭. সাফিয়্যাহ বিনতু আবু উবাইদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বর্ণনা করেন যে, একদা নাবী [সাঃআঃ] এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ [রাদি.] রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে প্রশ্ন করিলেন, যখন তিনি পরিধেয় বস্ত্র সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসুল! নারীদের ইযার ব্যবহারের বিধান কি? তিনি বলিলেনঃ তারা এক বিঘত নীচে পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখতে পারে। উম্মু সালামাহ [রাদি.] বলেন, এতেও তার কিছু অংশ খোলা থাকিবে। তিনি বলিলেনঃ তবে এক হাত ঝুলিয়ে পরবে; এর বেশি নয়।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১১৮. নাবী [সাঃআঃ] হইতে উম্মু সালামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উম্মু সালামাহ [রাদি.] হইতে নাবী [সাঃআঃ] সূত্রে পূর্বোক্ত হাদিস বর্ণিত। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, অপর সনদে নাফি হইতে সাফিয়্যাহ [রাদি.] সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। {নাসায়ী}

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৪১১৯. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] উম্মুল মুমিনীনদেরর জন্য এক বিঘত আঁচল [নীচে] ঝুলানোর অনুমতি দিয়েছেন। অতঃপর তারা আরও বাড়িয়ে দেয়ার আবেদন জানালে তিনি তাহাদের জন্য আরও এক বিঘত বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছেন। অতঃপর তারা আমাদের নিকট তাহাদের কাপড় পাঠিয়ে দিতেন, আর আমরা এক গজ করে মেপে দিতাম।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪০ঃ মৃত প্রাণীর চামড়া সম্পর্কে

৪১২০. মাইমূনাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমাদের এক মুক্তদাসীকে যাকাতের একটি বকরী দান করা হলো। পরে সেটা মারা গেলো। নাবী [সাঃআঃ] সেটির পাশ দিয়ে অতিক্রমের সময় বলিলেনঃ তোমরা এর চামড়া পাকা করলে না কেন? তোমরা তো এর দ্বারা উপকৃত হইতে পারতে। তারা বলিল, হে আল্লাহ্‌র রাসুল! এটা তো মৃত। তিনি বলিলেনঃ এটা খাওয়া হারাম।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১২১. যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্রে এ হাদিস বর্ণিত। এতে মাইমূনাহ [রাদি.] এর উল্লেখ নেই। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমরা এর চামড়া কাজে লাগাও না কেন? অতঃপর অনুরূপ অর্থের হাদিস বর্ণনা করেন, তবে বর্ণনাকারী চামড়া দাবাগত করার কথা উল্লেখ করেননি।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১২২. মামার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] চামড়া দাবাগাত করা শব্দটি অস্বীকার করিতেন। তিনি বলিতেন, চামড়া দ্বারা বিভিন্ন প্রকার কাজে উপকৃত হওয়া যায়। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আওযাঈ, ইউনুস ও উকাইল যুহরী বর্ণিত হাদিসে দাবাগাতের কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু যুবাইদী, সাইদ ইবনি আবদুল আযীয এবং হাফ্স ইবনি ওয়ালীদ দাবাগাতের কথা উল্লেখ করেছেন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ মাকতু

৪১২৩. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ চামড়া দাবাগাত করা হলে পবিত্র হয়।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১২৪. নাবী [সাঃআঃ] এর স্ত্রী আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] মৃত প্রাণীর চামড়া দাবাগাত করার পর কাজে লাগিয়ে উপকৃত হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। {৪১২৪}

{৪১২৪} নাসায়ী, ইবনি মাজাহ, আহমাদ। সনদের ইয়াযীদ ইবনি আব্দুল্লাহ বিন কুসাইতকে ইবনি হিব্বান ছাড়া কেউ সিকাহ বলেননি। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪১২৫. সালামাহ ইবনিল মুহাব্বিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তাবুক যুদ্ধের সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক বাড়িতে গিয়ে সেখানে একটি ঝুলন্ত মশক দেখে তা হইতে পানি চাইলেন। তারা বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! এটা তো মৃত প্রাণীর চামড়ার তৈরি মশক। তিনি বলিলেনঃ দাবাগত করলেই এটা পবিত্র হয়ে যায়।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১২৬. আল-আলিয়াহ বিনতু সুবাই [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, উহুদের ময়দানে আমার বকরী ছিল। সেখানে মহামারী দেখা দিলে আমি নাবী [সাঃআঃ] এর স্ত্রী মাইমূনাহ [রাদি.] এর নিকট গিয়ে বিষয়টি তাহাকে জানালাম। তিনি আমাকে বলিলেন, তুমি তো এর চামড়া নিয়ে এর দ্বারা উপকৃত হইতে পারো। আমি বলিলাম, এর দ্বারা উপকৃত হওয়া কি বৈধ? তিনি বলেন, হ্যাঁ, কতিপয় কুরাইশী পুরুষ প্রায় গাধার সমান তাহাদের একটি বকরী রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর পাশ দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাদের বলিলেনঃ তোমরা যদি এর চামড়া রেখে দিতে? তারা বলিল, এটা মৃত। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ পানি ও ছলম বৃক্ষের পাতার রস এটাকে পবিত্র করে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস অনুচ্ছেদ-৪১ঃ যাদের মতে মৃত প্রাণীর চামড়া ব্যবহার করা যবে না

৪১২৭. আবদুল্লাহ ইবনি উকাইম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি যখন যু্বক, তখন জুহাইনাহ গোত্রের এলাকায় অবস্থানকালে আমাদেরকে রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] একটি পত্র পাঠ করে শুনানো হয়। তাতে ছিলঃ “তোমরা মৃত প্রাণীর চামড়া ও পেশীতন্ত্র দ্বারা উপকৃত গ্রহণ করো না।”

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১২৮.আল-হাকাম ইবনি উতাইবাহ [রহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি কতিপয় লোকসহ জুহাইনাহ গোত্রের আবদুল্লাহ ইবনি উকাইম [রাদি.]-এর নিকট গেলেন। হাকাম বলেন, তারা ভেতরে ঢুকলেন আর আমি বাইরে দরজার পাশে বসে রইলাম। অতঃপর তারা বেরিয়ে এসে আমার কাছে বর্ণনা করিলেন যে, আবদুল্লাহ ইবনি উকাইম [রাদি.] বলিয়াছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর মৃত্যুর এক মাস পূর্বে জুহাইনাহ গোত্রে এ কথা লিখে একটি পত্র প্রেরণ করেছেনঃ “তোমরা মৃত জন্তর চামড়া ও তন্তু দ্বারা উপকৃত হয়ো না”। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আন-নাদর ইবনি শুমাইল [রহ] বলে দাবাগাত না করা পর্যন্ত চমড়াকে ইহাব বলে। দাবাগাত করার পর একে শান্ন ও ক্বিরবাহ [পাকা চামড়া] বলা হয়।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪২ঃ চিতা বাঘ ও হিংস্র জন্তুর চামড়া সম্পর্কে

৪১২৯. মুআবিয়াহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমরা রেশমের এবং চিতা বাঘের তৈরী গদিতে আরোহী হইবে না।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৩০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ মালায়িকাহ [ফেরেশতারা] চিতা বাঘের চামড়ার তৈরী আসনে আসীন ব্যক্তির সঙ্গী হয় না।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪১৩১. খালিদ [রহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আল-মিক্বদাম ইবনি মাদীকারিব [রাদি.], আমর ইবনিল আসওয়াদ ও কিন্নাসিরীনবাসী বনী আসাদের এক লোক মুআবিয়াহ ইবনি আবু সুফিয়ান [রাদি.]-এর নিকট গেলেন। মুআবিয়াহ [রাদি.] মিক্বদাম [রাদি.]-কে বলিলেন, জানতে পারলাম, হাসান ইবনি আলী [রাদি.] মারা গেছেন। একথা শুনে মিক্বদাম [রাদি.] “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” পড়লেন। অমুক ব্যক্তি মুআবিয়াহকে বলিলেন, এর মৃত্যুকে আপনি কি বিপদ মনে করেন? তিনি বলিলেন, আমি এটাকে কেন বিপদ মনে করবো না, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যাকে নিজের কোলে নিয়ে বলিতেনঃ হাসান আমার এবং হুসাইন আলীর। আমাদী বললো, তিনি ছিলেন এক জ্বলন্ত কয়লা যাকে আল্লাহ নিভিয়ে দিয়েছেন। বর্ণনাকারী, অতঃপর মিক্বদাম [রাদি.] বলেন, আজ আমি আপনাকে অসন্তুষ্ট না করে ছাড়বো না। তিনি বলিলেন, হে মুআবিয়াহ! আমি যদি সত্য বলি তবে আমাকে সমর্থন করবেন আর মিথ্যা বললে আমাকে মিথ্যাবাদী বলবেন। তিনি বলিলেন, ঠিক আছে। তিনি বলেন, আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি কি শুনেছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] স্বর্ণ [পুরুষদের] ব্যবহার করিতে নিষেধ করেছেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি আবার বলিলেন, আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি কি জানেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রেশমী পোশাক [পুরুষদের] ব্যবহার করিতে নিষেধ করেছেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি আবারও বলিলেন, আল্লাহর কসম দিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করছি, আপনি কি জানেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হিংস্র জন্তুর চামড়া ব্যবহার করিতে এবং এর চামড়ার তৈরী আসনে আরোহী হইতে নিষেধ করেছেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি আপনার প্রাসাদে এসবের কিছুই দেখছি না। মুআবিয়াহ [রাদি.] বলেন, হে মিক্বদাম! আমি জানতাম যে, তোমার কাছ থেকে রক্ষা পাবো না। খালিদ [রহ] বলেন, অতঃপর মুআবিয়াহ [রাদি.] তার জন্য এত পরিমাণ সম্পদ দেয়ার আদেশ দেন, যা অপর দুজন সাথীর জন্য দেননি। আর তার ছেলের জন্য দুইশো দীনার প্রদান করেন। মিক্বদাম [রাদি.] এগুলো তার সাথীদের মাঝে বন্টন করে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আসাদী এখানে যা পেয়েছে তা থেকে কাউকে কিছু দেয়নি। এ সংবাদ মুআবিয়াহ্‌র নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন, মিক্বদাম হলো লম্বা হাতের দানশীল লোক, আর আসাদী নিজের জন্য আটকিয়ে রাখার লোক।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৩২. আবুল মালীহ ইবনি উসামাহ [রহ] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হিংস্র প্রাণীর চামড়া ব্যবহার করিতে নিষেধ করেছেন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪৩ঃ পায়ে জুতা পরার নিয়ম

৪১৩৩. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা নাবী [সাঃআঃ] এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। তিনি বলেনঃ তোমার [সফরকালে] জুতা বেশী রাখবে। কারণ জুতা পরিধান করে সব সময় সফর করা যায়।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৩৪. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ]–এর জুতার দুটি তসমা [ফিতা] ছিল।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৩৫. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] লোকদেরকে দাঁড়িয়ে জুতা পরতে নিষেধ করেছেন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৩৬. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

বর্ণিত। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমাদের কেউ এক পায়ে জুতা পরে হাঁটবে না। হয় উভয় পায়ে জুতা পরবে অথবা উভয় পা থেকে জুতা খুলে রাখবে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৩৭. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমাদের কারো একটি জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলে তা ঠিক না করা পর্যন্ত সে অপর জুতাটি পায়ে দিয়ে হাঁটবে না, আর এক মোযা পরিধান করেও চলবে না এবং বাম হাতে খাবে না।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৩৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সুন্নাত হলো বসার সময় পায়ের জুতা খুলে পাশে রেখে দেয়া। {৪১৩৮}

{৪১৩৮} বুখারীর আদাবুল মুফরাদ। এর সানাদে আবদুল্লাহ ইবনি হারুন অজ্ঞাত। পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪১৩৯. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমাদের কেউ জুতা পরার সময় ডান পা হইতে আরম্ভ করিবে এবং খোলার সময় বাম পা হইতে আরম্ভ করিবে। জুতা পরার সময় ডান পা হইতে প্রথম এবং খোলার সময় শেষে হইবে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৪০. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর প্রতিটি কাজ যথাসাধ্য ডান থেকে আরম্ভ করা ভালোবাসতেন। পবিত্রতা অর্জন, চুলে চিরুনী করা এবং জুতা পরতে তিনি ডান থেকে আরম্ভ করিতেন। মুসলিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, মেস্ওয়াক করার সময়ও ডান পাশ থেকে আরম্ভ করিতেন। তবে তার বর্ণনায় প্রতিটি কাজ শব্দ নেই। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, মুআয [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] শুবাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে এ হাদিস বর্ণনা করেছেন; তবে তিনি মিসওয়াক শব্দ উল্লেখ করেননি।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৪১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমরা যখন পোশাক বা জুতা পরিধান করো এবং উযু করো, তখন ডান দিক থেকে শুরু করিবে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪৪ঃ বিছানা সম্পর্কে

৪১৪২. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বিছানা সম্পর্কে বলেনঃ পুরুষের জন্য একটি বিছানা, নারীর জন্য একটি বিছানা এবং একটি অতিথির জন্য। আর চতুর্থটি হলো শয়তানের জন্য।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৪৩. জাবির ইবনি সামুরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ] এর ঘরে গিয়ে তাঁকে বালিশে বাম কাতে ঠেস দিয়ে বসা দেখেছি।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৪৪. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি ইয়ামানের একদল সাথীকে দেখিতে পেলেন, যাদের সওয়ারীর গদিগুলো ছিল চামড়ার তৈরী। তিনি বলেন, কেউ যদি রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] সাহাবীদের সাদৃশ্য দেখিতে চায়, তবে যেন এদেরকে দেখে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৪৫. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বলেনঃ তোমরা কি নরম গদি বানিয়েছ? আমি বলিলাম, আমরা নরম গদি কোথায় পাবো? তিনি বলেনঃ অচিরেই তোমাদের জন্য নরম গদি হইবে।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৪৬. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর রাতের ঘুমানোর বালিশ ছিল চামড়ার তৈরী, সেটির ভেতরে ছিল খেজুরের ছাল-বাকল।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৪৭. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জন্য চামড়ার তৈরী একটি তোষক ছিল, যার ভেতরে খেজুরের ছাল-বাকল ভরা ছিল।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৪৮. উম্মু সালামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, তার বিছানা নাবী [সাঃআঃ]-এর সলাত আদায়ের স্থানের ঠিক সামনে ছিল।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪৫ঃ [দরজা-জানালায়] পর্দা ঝুলানো সম্পর্কে

৪১৪৯. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফাত্বিমাহ [রাদি.]-এর নিকট এসে দরজায় পর্দা ঝুলানো দেখিতে পেয়ে তিনি ভেতরে ঢুকলেন না। বর্ণনাকারী বলেন, অধিকাংশ সময় তিনি ভেতরে ঢুকেই সর্বপ্রথম ফাত্বিমাহ্‌র সঙ্গে সাক্ষাত করিতেন। এসময় আলী [রাদি.] এসে ফাত্বিমাহ্‌কে চিন্তিত দেখে বলিলেন, তোমার কি হয়েছে? তিনি বলিলেন, নাবী [সাঃআঃ] আমার নিকট আসতে চেয়েও আসেননি। অতঃপর আলী [রাদি.] তাহাঁর নিকট গিয়ে বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি ফাত্বিমাহ্‌র নিকট গিয়েও প্রবেশ না করায় এটা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তিনি বলেনঃ দুনিয়াদারী ও চাকচিক্যতার সাথে আমার কী সম্পর্ক। একথা শুনে আলী ফাত্বিমাহ্‌র নিকট গিয়ে রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] বক্তব্য বর্ণনা করিলেন। তিনি বলেন, আপনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলুন, তিনি আমাকে এটাকে কি করিতে আদেশ দেন? [আলীর বর্ণনা শুনে] তিনি [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তাঁকে [ফাত্বিমাহ্‌কে] বলো, তা [পর্দাটি] যেন অমুক গোত্রে পাঠিয়ে দেয়।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৫০. ইবনি ফুদাইল [রহ] তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

এ হাদিস বর্ণনা করে বলেন, পর্দাটি ছিল ডোরাযুক্ত ও নকশা খচিত।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪৬ঃ ক্রুশ চিহ্নযুক্ত কাপড় সম্পর্কে

৪১৫১. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর ঘরে ক্রুশ চিহ্নযুক্ত কোন জিনিসই রাখতে দিতেন না। তিনি সেগুলোকে ছিঁড়ে ফেলতেন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪৭ঃ ছবি সম্পর্কে

৪১৫২. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ সেই ঘরে [রহমাতের] ফেরেশতা প্রবেশ করেন না, যেখানে ছবি, কুকুর এবং অপবিত্র লোক থাকে। {৪১৫২}

{৪১৫২} এটি গত হয়েছে হা/২২৫ পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৪১৫৩. যায়িদ ইবনি খালিল আল-জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু ত্বালহা আল-আনসারী [রাদি.] বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ যে ঘরে কুকুর ও ছবি থাকে সেই ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করেন না। অতঃপর তিনি [যায়িদ] বলেন, চলো আমরা উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ [রাদি.]-এর নিকট গিয়ে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করি। আমরা তার নিকট পৌঁছে বলিলাম, হে উম্মুল মুমিনীন! আবু ত্বালহা [রাদি.] আমাদের কাছে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে এরূপ হাদিস বর্ণনা করেন। আপনি কি নাবী [সাঃআঃ]-কে এ বিষয়ে কিছু বলিতে শুনেছেন? তিনি বলেন, না, তবে আমি তাঁকে যা করিতে দেখেছি, সে সম্পর্কে একটি হাদিস আপনাদের বলছি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক যুদ্ধাভিযানে গেলেন। আমি তাহাঁর ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলাম। আমি আমাদের একটি পশমী কাপড় দরজার চৌকাঠে পর্দা হিসেবে ঝুলিয়ে রাখলাম। তিনি যখন ফিরে এলেন, আমি স্বাগতম জানিয়ে বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমাত ও বরকত বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য যিনি আপনাকে সন্মানিত ও মর্যাদাসম্পন্ন করেছেন। তিনি ঘরের দরজার দিকে তাকাতেই পশমী পর্দা দেখেন, কিন্তু আমার কথার কোন জবাব দিলেন না। আমি তাহাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টির ছাপ দেখিতে পেলাম। তিনি পশমী [ছবিযুক্ত] কাপড়টির নিকট গিয়ে তা ছিঁড়ে ফেলে বলেনঃ আল্লাহ্‌ আমাদেরকে যে জীবনোপকরণ দিয়েছেন, তা পাথর ও ইটকে পরানোর আদেশ দেননি। তিনি [আয়িশাহ] বলেন, আমি কাপড়টা কেটে দুইটি বালিশ তৈরি করলাম এবং ভেতরে খেজুরের ছাল-বাকল ভরে দিলাম; তিনি আমার এ কাজ অপছন্দ করেননি।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৫৪. সুহাইল [রহ] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

যায়িদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] অনুরূপ বর্ণনা করে বলেন, আমি বলিলাম, হে আম্মাজি! তিনি [আবু তালহা] আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, নাবী [সাঃআঃ] এসব কথা বলিয়াছেন। বনী নাজ্জারের মুক্তদাস সাঈদ ইবনি ইয়াসারও একথা বলেন।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৫৫. যায়িদ ইবনি খালিদ [রাদি.] বলেন, আবু ত্বালহা [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করেন না। বুস্র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, অতঃপর যায়িদ [রাদি.] অসুস্থ হলে আমরা তাহাকে দেখিতে তার বাড়িতে গেলাম। তার ঘরের দরজায় ছবিযুক্ত একটি পর্দা দেখলাম। আমি তখন নাবী [সাঃআঃ]-এর স্ত্রী মাইমূনাহ [রাদি.]–এর পালিত পুত্র উবাইদুল্লাহ আল-খাওলানীকে বলিলাম, যায়িদ [রাদি.] আমাদের ছবি না রাখার হাদিস শুনিয়েছেন। উবাইদুল্লাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আপনি কি শুনেননি, সে হাদিসে তিনি একথাও উল্লেখ করেছেন, কাপড়ের মধ্যে যদি গাছপালা, লতাপাতা ইত্যাদি ছবি থাকে, তা নিষেধ নয়।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৫৬. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মাক্কাহ বিজয়ের সময় নাবী [সাঃআঃ] আল-বাতহা নামক স্থানে দাঁড়িয়ে উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.]-কে আদেশ দিলেন যেন তিনি কাবার ভেতরে গিয়ে এর মধ্যে বিদ্যমান সব ছবি মিটিয়ে দেন। অতঃপর সব ছবি মিটিয়ে দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত নাবী [সাঃআঃ] ভেতরে প্রবেশ করেননি।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৪১৫৭. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ]-এর স্ত্রী মাইমূনাহ [রাদি.] আমার নিকট বর্ণনা করেন, নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ জিবরাঈল [আ] আমার সাথে রাতে সাক্ষাত করার ওয়াদা করেছিলান; কিন্তু সাক্ষাত করেননি। অতঃপর তাহাঁর মনে পড়লো যে, আমাদের বিছনার নীচে একটি কুকুর শাবক আছে। তিনি এটাকে বের করে দিতে আদেশ দিলে তা বের করা হলো। অতঃপর তিনি নিজেই পানি দিয়ে সে স্থানটা ধুয়ে ফেলেন। জিবরাঈল [আ] তাহাঁর সাথে সাক্ষাতের সময় বলিলেন, যে ঘরে কুকুর এবং ছবি থাকে সে ঘরে আমরা কখনো প্রবেশ করি না। সকালবেলা নাবী [সাঃআঃ] কুকুর মারতে আদেশ দিলেন, এমনকি ছোট বাগান পাহারার কুকুর হত্যা করারও আদেশ দেন, বড় বাগানের পাহারাদার কুকুর ছাড়া।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪১৫৮. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ জিবরীল আমার নিকট এসে বলেন, গত রাতে আমি আপনার কাছে এসেছিলাম, কিন্তু আমি প্রবেশ করিনি। কারণ ঘরের দরজায় ছবি ছিল, ঘরের মধ্যে ছিল ছবিযুক্ত পর্দা এবং ঘরে ভেতরে ছিল কুকুর। সুতরাং আপনি ঘরে ঝুলানো ছবির মাথা কেটে দেয়ার আদেশ করুন, তাহলে তা গাছের আকৃতিতে পরিণত হইবে। এর পর্দাটি কেটে দুইটি বালিশের ভেতরের কাপড় বানাতে আদেশ করুন এবং কুকুরটিকে বের করে দেয়ার হুকুম দিন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] উপদেশ মত কাজ করিলেন। কুকুরটি ছিল হাসান বা হুসাইনের এবং তা তাহাদের খাটের নীচে শুয়েছিল। তিনি সেটাকেও বের করে দেয়ার আদেশ দেন এবং তা বের করে দেয়া হলো। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আন-নাযাদ হচ্ছে কাপড় রাখার বস্তু, গদি সদৃশ।

পোশাক পরিচ্ছদ হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By ইমাম আবু দাউদ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply