পূর্ণিমার রাতের চাঁদের ন্যায় যে দলটি সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ

পূর্ণিমার রাতের চাঁদের ন্যায় যে দলটি সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ

পূর্ণিমার রাতের চাঁদের ন্যায় যে দলটি সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৬. অধ্যায়ঃ পূর্ণিমার রাতের চাঁদের ন্যায় যে দলটি সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করিবে তাদের মুখমণ্ডল দীপ্তিমান হইবে এবং তাঁদের গুণাবলী ও সহধর্মিণীগণের বর্ণনা

৭০৩৯. মুহাম্মাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, লোকেরা গর্ব প্রকাশ করে বলিল, অথবা আলোচনা করতঃ বলিল, জান্নাতে পুরুষ অধিক হইবে, না মহিলা? এ কথা শ্রবণে আবু হুরায়রা্ [রাদি.] বলিলেন, আবুল কাসিম [সাঃআঃ] কি বলেননি, যে দলটি জান্নাতে প্রথমে প্রবেশ করিবে তাদের মুখায়ব পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হইবে। তাদের পর যারা জান্নাতে যাবে তাদের চেহারা হইবে ঊর্দ্ধাকাশের আলোকিত নক্ষত্রের মতো। তাদের প্রত্যেকের জন্যই থাকিবে দু জন সহধর্মিণী। গোশ্তের এ পাশ হইতে তাদের পায়ের নলার মগজ দৃশ্য হইবে। জান্নাতের মাঝে কেউ [আর] অবিবাহিত থাকিবে না।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৮৪, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৪১]

৭০৪০. ইবনি সীরীন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে] কারা অধিক জান্নাতী হইবে, এ বিষয়ে পুরুষ ও মহিলাগন ঝগড়ায় লিপ্ত হলো। তারপর তারা এ ব্যাপারে আবু হুরায়রা্ [রাদি.]-কে প্রশ্ন করলে তিনি ইবনি উলাইয়্যার ন্যায় বলিলেন, আবুল কাসিম [সাঃআঃ] এ কথা বলেছেনঃ ।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৮৫, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৪২]

৭০৪১. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে লোক সর্বপ্রথমে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। কুতাইবাহ্ ও যুহায়র ইবনি হার্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ….. আবু হুরায়রা্ [রাদি.] হইতে বর্ণীত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ সর্বপ্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করিবে তাদের মুখমণ্ডল পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হইবে। তাদের পর যারা জান্নাতে প্রবেশ করিবে তাদের মুখমণ্ডল আকাশে উদিত আলোকজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো হইবে। তারা প্রস্রাব-পায়খানা করিবে না, থু-থু ফেলবে না এবং নাক ঝাড়বে না। তাদের চিরুনী হইবে স্বর্ণের। তাদের গায়ের ঘাম হইতে মিশকের ঘ্রাণ আসবে এবং তাদের ধূপদানী হইবে আলূওয়াহ্ নামে এক ধরণের সুগন্ধি কাষ্ঠের তৈরি। তাদের স্ত্রীগণ হইবে ডাগর চক্ষু বিশিষ্ট। তাদের চরিত্র হইবে একই লোকের চরিত্রের মতো। আদি পিতা আদাম [আঃ]-এর আকৃতির মতো হইবে তাদের আকৃতি। যা ষাট হাত দীর্ঘ আকৃতি বিশিষ্ট।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৪৩]

৭০৪২. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ প্রথমে আমার উম্মাতের যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করিবে তাদের চেহারা হইবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো আলোকিত। তারপর যারা জান্নাতে যাবে তাদের মুখমণ্ডল হইবে ঊর্ধ্বাকাশে উদিত তারকারাজির মতো। অতঃপর যারা জান্নাতে দাখিল হইবে তাদের কয়েকটি ধাপ হইবে। তারা প্রস্রাব-পায়খানা করিবে না, নাক ঝাড়বে না এবং থু-থু ফেলবে না। তাদের চিরুনি হইবে স্বর্ণের এবং তাদের ধূপদানী হইবে আলূওয়াহ্ নামক সুগন্ধিযুক্ত কাষ্ঠের। তাদের শরীরের ঘাম হইতে মিশকের ঘ্রাণ বিচ্ছুরিত হইবে। তাদের চরিত্র একই ব্যক্তির চরিত্রের ন্যায় হইবে। তারা তাদের আদি পিতা আদাম [আঃ]-এর মতো ষাট হাত দীর্ঘ হইবে।

ইবনি আবী শাইবাহ্-এর বর্ণনাতে عَلَى خُلُقِ رَجُلٍ অর্থাৎ একই ব্যক্তির চরিত্রের। আর আবু কুরায়ব-এর বর্ণনাতে عَلَى خُلُقِ رَجُلٍ অর্থাৎ একই ব্যক্তির গঠনের ন্যায় হইবে। কিন্তু ইবনি আবু শাইবাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেছেন, তাদের আকৃতি আদি পিতা আদাম [আঃ]-এর ন্যায় হইবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৮৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬৯৪৪]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply