পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাজের সময়

পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাজের সময়

পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাজের সময় >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩১. অধ্যায়ঃ পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাজের সময়

১২৬৬

ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, উমর ইবনি আবদুল আযীয [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] একদিন আস্‌রের নামাজ আদায় করিতে দেরী করলে উরওয়াহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাকে বললেনঃ একদিন জিব্‌রীল [আঃ] এসে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – এর ঈমাম হয়ে নামাজ আদায় করিলেন। এ কথা শুনে উমর ইবনি আবদুল আযীয উরওয়াহ্‌কে বললেনঃ উরওয়াহ্‌! তুমি যা বলছ তা ভালমতো চিন্তা ভাবনা করে বলো। উরওয়াহ্‌ বললেনঃ আমি বাশীর ইবনি আবু মাসউদকে বলিতে শুনেছি। তিনি বলছেনঃ আমি আবু মাসউদকে বলিতে শুনেছি। তিনি বলেছেন যে, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – কে বলিতে শুনেছি। একদিন জিব্‌রীল [আঃ] এসে আমার ঈমামতি করিলেন। আমি তার সাথে নামাজ আদায় করলাম। তারপর আমি তাহাঁর সাথে নামাজ আদায় করলাম। তারপর পুনরায় আমি তাহাঁর সাথে নামাজ আদায় করলাম। এরপর আমি আবার তাহাঁর সাথে নামাজ আদায় করলাম। তারপর আমি আরো একবার তাহাঁর সাথে নামাজ আদায় করলাম। এভাবে তিনি আঙ্গুল গুণে পাঁচ [ওয়াক্ত] নামাজের কথা বলিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২৫৪, ইসলামিক সেন্টার- ১২৬৭]

১২৬৭

ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেনঃ উমর ইবনি আবদুল আযীয [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] একদিন নামাজ আদায় করিতে [বেশ দেরী করে ফেললেন] তাই উরওয়াহ্‌ ইবনি মাসঊদ তার কাছে গিয়ে বলিলেন, কুফায় [গভর্নর] থাকাকালীন একদিন মুগীরাহ্‌ ইবনি শুবাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] [আস্‌রের] নামাজ আদায় করিতে করিতে দেরী করে ফেললেন। আবু মাসঊদ আল আনসারী [রাদি.] গিয়ে তাঁকে বলিলেন, মুগীরাহ্‌! একি করছ তুমি? তুমি কি জানো না যে, এক সময় জিব্‌রীল [আঃ] এসে নামাজ আদায় করিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর সাথে নামাজ আদায় করিলেন। তিনি {জিব্‌রীল [আঃ] } আবার [আরেক ওয়াক্তের] নামাজ আদায় করিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর সাথে আবার নামাজ আদায় করিলেন। তিনি জিব্‌রীল [আঃ] পুনরায় [আরেক ওয়াক্তের] নামাজ আদায় করিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পুনরায় এ নামাজ তাহাঁর সাথে আদায় করিলেন। তিনি {জিব্‌রীল [আঃ] } আবারও [আরেক ওয়াক্তের] নামাজ আদায় করিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ নামাজ তাহাঁর সাথে আদায় করিলেন। এরপর জিব্‌রীল [আঃ] বলিলেন, আপনি এভাবে নামাজ আদায় করিতে আদিষ্ট হয়েছেন। একথা শুনে উমর ইবনি আযীয উরওয়াহ্‌ ইবনি যুবায়রকে বললেনঃ উরওয়াহ্‌! তুমি কি বলছ তা কি চিন্তা করে দেখেছো? জিব্‌রীল [আঃ] নিজে কি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – এর জন্য নামাজের সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন? জবাবে উরওয়াহ্‌ বলেন, বাশীর ইবনি আবু মাসঊদ তাহাঁর পিতা আবু মাসঊদের নিকট থেকে তা এরূপই [সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া] বর্ণনা করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২৫৫, ইসলামিক সেন্টার-১২৬৮]

১২৬৮

উরওয়াহ্‌ হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] -এর স্ত্রী আয়েশাহ [রাদি.] আমার কাছে বর্ণনা করিয়াছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এমন সময় আসরের নামাজ আদায় করিতেন যখন সূর্য কিরণ তাহাঁর কামরার মধ্যে আদায় করত। তখনো তা দেয়ালের উপর উঠে যেত না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২৫৫, ইসলামিক সেন্টার-১২৬৮]

১২৬৯

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] এমন সময় আসরের নামাজ আদায় করিতেন যে, তখনো সূর্য কিরণ আমাদের কামরার মধ্যে ঝলমল করত। বেশ কিছুক্ষণ পরও কামরার মধ্যে ছায়া পড়ত না। আবু বকর বলছেনঃ এরপরও বেশ কিছুক্ষণ উপরে উঠত না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২৫৬, ইসলামিক সেন্টার-১২৬৯]

১২৭০

নবী [সাঃআঃ] – এর স্ত্রী আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যে সময় আসরের নামাজ আদায় করিতেন তখন সূর্যের কিরণ তাহাঁর কামরার মধ্যে থাকত এবং তা কামরার মধ্যে থেকে উপরের দিকে [দেয়ালে] উঠে যেত না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২৫৭, ইসলামিক সেন্টার-১২৭০]

১২৭১

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যে সময় আসরের নামাজ আদায় করিতেন সূর্যের কিরণ তখন আমার কামরার মধ্যেই থাকত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২৫৮, ইসলামিক সেন্টার-১২৭১]

১২৭২

আবদুল্লাহ ইবনি আম্‌র [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা যখন ফজরের নামাজ আদায় করিবে তখন জেনে রেখো ফজরের নামাজের সময় হলো সূর্যের প্রান্তভাগ বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত। তোমরা যখন যুহরের নামাজ আদায় করিবে তখন জেনে রেখো যে, এর সময় হলো- আসরের ওয়াক্ত শুরু না হওয়া পর্যন্ত। তোমরা যখন আসরের নামাজ আদায় করিবে তখন জেনে রেখো আসরের নামাজের সময় হলো সূর্য বিবর্ণ হয়ে হলুদ [সোনালি বা তাম্রবর্ণও বলা যেতে পারে] বর্ণ ধারণ না করা পর্যন্ত। {১৭} তোমরা যখন মাগরিবেরে নামাজ আদায় করিবে তখন জেনে রেখো যে, মাগরিবের নামাজের সময় থেকে পশ্চিম দিগন্তের রক্তিম আভা বা লালিমা অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত। আর তোমরা যখন ঈশার নামাজ আদায় করিবে তখন জেনে রেখ ইশার নামাজের সময় থাকে অর্ধেক রাত পর্যন্ত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২৫৯ ইসলামিক সেন্টার-১২৭২]

{১৭} এটা হল আসল ও উত্তম ওয়াক্ত, তারপর হইবে মাকরূহ ও উযরের ওয়াক্ত। [শারহে মুসলিম-১ম খন্ড ২২২ পৃষ্ঠা]

১২৭৩

আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আসরের নামাজের ওয়াক্ত না হওয়া পর্যন্ত যুহরের নামাজের ওয়াক্ত থাকে। আর সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালি বা তাম্রবর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত আসরের নামাজের ওয়াক্ত থাকে। সন্ধ্যাকালীন গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তের রক্তিম আভা অন্তর্হিত না হওয়া পর্যন্ত মাগরিবের নামাজের ওয়াক্ত থাকে। ইশার নামাজের সময় থাকে অর্ধ-রাত্রি পর্যন্ত। আর ফজরের নামাজের সময় থাকে সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২৬০, ইসলামিক সেন্টার-১২৭৩]

১২৭৪

আবু বাকর ইবনি আবু শায়বাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ও ইয়াহ্ইয়া ইবনি বুকায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] উভয়ই শুবাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে হাদীসটি শুবাহ মারফূ হাদীস হিসেবে বর্ণনা করিয়াছেন। তবে একের অধিকবার মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেন নি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২৬১, ইসলামিক সেন্টার-১২৭৪]

১২৭৫

আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যুহরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয় যখন সূর্য [মাথার উপর থেকে পশ্চিম দিকে] হেলে পড়ে এবং মানুষের ছায়া তাহাঁর দৈর্ঘ্যের সমান হয়। আর আসরের নামাজের সময় না হওয়া পর্যন্ত তা থাকে। আসরের নামাজের সময় থাকে সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালি বা তাম্রবর্ণ ধারণ না করা পর্যন্ত। মাগরিবের নামাজের সময় থাকে সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যা গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তে উদ্ভাসিত লালিমা অন্তর্হিত না হওয়া পর্যন্ত। ইশার নামাজের সময় থাকে অর্ধরাত্রি অর্থাৎ- মধ্যরাত পর্যন্ত। আর ফজরের নামাজের সময় শুরু হয় ফজর বা ঊষার উদয় থেকে শুরু করে সূর্যোদয় পর্যন্ত। অতএব সূর্যোদয়ের সময় নামাজ আদায় করা বন্ধ রাখবে। কারণ সূর্য শায়ত্বনের দু শিঙয়ের মধ্যখানে উদিত হয়। {১৮} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২৬২, ইসলামিক সেন্টার-১২৭৫]

{১৮} এর উৎকৃষ্ট ব্যাখ্যা হলঃ সূর্যের উদয়কালে শাইত্বন তার মাথা সূর্যের নিকটবর্তী করে দেয় যাতে সূর্য পূজারী কাফিরদের পূজা সেও পেতে পারে | এটাই শাইত্বনের দুশিংয়ের মাঝখানের মাথা থেকে সূর্য উঠা | [শারহে মুসলিম- ১ম খন্ড ২২৩ পৃষ্ঠা]

১২৭৬

আবদুল্লাহ ইবনি আমর ইবনি আস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – কে নামাজের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বললেনঃ সূর্যের উপর দিকের প্রান্তভাগ দেখা না যাওয়া পর্যন্ত ফজর নামাজের সময় থাকে। যুহরের নামাজের সময় থাকে আকাশের মধ্যভাগ থেকে সূর্য গড়িয়ে আসরের সময় না হওয়া পর্যন্ত। আসরের নামাজের সময় থাকে সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালি বা তাম্রবর্ণ ধারণ করার পর উপরের প্রান্তভাগ অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত। মাগরিবের নামাজের সময় থাকে সূর্যাস্ত থেকে সান্ধ্যকালীন গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তের লালিমা অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত। আর ইশার নামাজের সময় থাকে অর্ধ-রাত্রি পর্যন্ত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২৬৩, ইসলামিক সেন্টার-১২৭৬]

১২৭৭

আবদুল্লাহ ইবনি ইয়াহ্ইয়া [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলিতে শুনেছি যে, দৈহিক আরাম উপভোগের সাথে জ্ঞানার্জন কখনও সম্ভব নয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১২৬৪, ইসলামিক সেন্টার- ১২৭৭]

১২৭৮

বুরায়দাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ] – কে নামাজের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিল। নবী [সাঃআঃ] তাকে বলিলেন, তুমি আমাদের সাথে দুদিন নামাজ আদায় কর [লোকটি তাই করিল]। সূর্য যখন মাথার উপর থেকে হেলে পড়ল তখন নবী [সাঃআঃ] বিলালকে আযান দিতে আদেশ করিলেন। বিলাল আযান দিলেন। অতঃপর তিনি তাকে ইক্বামত দিতে বললে তিনি যুহরের নামাজের ইক্বামত দিলাম [অর্থাৎ- তখন নবী [সাঃআঃ] যুহরের নামাজ আদায় করিলেন]। এরপর [আসরের সময় হলে] তিনি তাকে আসরের নামাজের ইক্বামত দিতে বলিলেন। বিলাল ইক্বামত দিলেন। নবী [সাঃআঃ] তখন আসরের নামাজ আদায় করিলেন। সূর্য তখনও বেশ উপরে ছিল এবং পরিষ্কার ও আলো ঝলমল দেখাচ্ছিল। তারপর আদেশ দিলে বিলাল মাগরিবের আযান দিলেন এবং নবী [সাঃআঃ] মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন তখন সূর্য ডু্বে গেছে। এরপর তিনি বিলালকে ইশার নামাজের ইক্বামত দিতে বলিলেন বিলাল ইক্বামত দিলেন এবং সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে যে সান্ধ্যকালীন লালিমা বা রক্তিম আভা দেখা যায় তা অন্তর্হিত হওয়ার পরপরই ইশার নামাজ আদায় করিলেন। পরে বিলালকে তিনি ফজরের নামাজের ইক্বামত দিতে বলিলেন এবং উষার অভ্যূদয়ের সাথে সাথেই ফজরের নামাজ আদায় করিলেন। দ্বিতীয় দিনে তিনি বিলালকে আদেশ করিলেন এবং বেশ দেরী করে যুহরের নামাজ আদায় করিলেন। [দ্বিতীয় দিনে] তিনি এমন সময় আসরের নামাজ আদায় করিলেন সূর্য তখনও বেশ উপরে ছিল। তবে আগের দিনের তুলনায় বেশ দেরী করে পড়লেন। তিনি সান্ধ্যকালীন গোধূলি বা লালিমা অন্তর্হিত হওয়ার পূর্বক্ষণে মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন। আর রাতের এক তৃতীয়াংশ অতি বাহিত হওয়ার পর ইশার নামাজ আদায় করিলেন এবং সর্বশেষ বেশ ফর্সা হয়ে গেলে ফজরের নামাজ আদায় করিলেন। এরপর জিজ্ঞেস করলেনঃ নামাজের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেসকারী ব্যক্তি কোথায়? লোকটি তখন বলিল, হে আল্লাহর রসূল! আমি উপস্থিত আছি। তখন নবী [সাঃআঃ] লোকটিকে বললেনঃ দুদিন যে দুটি সময়ে আমি নামাজ আদায় করলাম এরই মধ্যবর্তী সময়টুকু হলো নামাজের ওয়াক্তসমূহ। [ই.ফা.১২৬৫, ইসলামিক সেন্টার-১২৭৮]

১২৭৯

বুরায়দাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ] – এর কাছে এসে নামাজের সময় সম্পর্কে এসে জিজ্ঞেস করলে নবী [সাঃআঃ] তাকে বললেনঃ তুমি আমাদের সাথে নামাজ আদায় করো [জানতে পারবে]। অতঃপর ফাজরের নামাজের জন্য বিলালকে আযান দিতে আদেশ করলে তিনি [বিলাল] বেশ কিছু অন্ধকার থাকতে আযান দিলেন। তখন নবী [সাঃআঃ] উষার আলো প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে ফাজরের নামাজ আদায় করিলেন। পরে সূর্য আকাশের মধ্যভাগ থেকে হেলে পড়লে তিনি বিলালকে যুহরের নামাজের আযান দিতে বলিলেন [এবং যুহরের নামাজ আদায় করিলেন]। অতঃপর সূর্য কিছু উপরে থাকতেই তিনি বিলালকে আসরের নামাজের আযান দিতে বলিলেন [এবং আসরের নামাজ আদায় করিলেন]। তারপর সান্ধ্যকালীন গোধূলি [বা সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে দৃশ্যমান রক্তিম আভা] অন্তর্হিত হওয়ার সাথে সাথে বিলালকে ইশার আযান দিতে বলিলেন [এবং ইশার নামাজ আদায় করিলেন]। পরদিন প্রত্যুষে বেশ ফর্সা হয়ে গেলে তিনি বিলালকে ফাজ্বরের নামাজের আযান দিতে বলিলেন [এবং ফাজরের নামাজ আদায় করিলেন]। তারপর যুহরের নামাজের আযান দিতে বলিলেন এবং বেশ দেরী করে [সূর্যের উত্তাপ কমলে] যুহরের নামাজ আদায় করিলেন। এরপর সূর্য তাম্র বর্ণ ধারণ করার পূর্বেই এর আলো পরিষ্কার এবং ঝলমলে থাকতেই নবী [সাঃআঃ] তাকে আসরের নামাজের আযান দিতে বলিলেন [এবং আসরের নামাজ আদায় করিলেন] এরপর সন্ধ্যা-গোধূলি অদৃশ্য হওয়ার পূর্বক্ষণে মাগরিবের নামাজের আযান দিতে বলিলেন [এবং মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন]। অতঃপর রাতের এক তৃতীয়াংশ অথবা কিছু অংশ [বর্ণনাকারী হারামী ইবনি উমারাহ্ সন্দেহ করিয়াছেন] অতিবাহিত হওয়ার পর ইশার নামাজের আযান দিতে বলিলেন [এবং ইশার নামাজ আদায় করিলেন]। পরদিন সকালে তিনি জিজ্ঞেস করিলেন [নামাজের সময় সম্পর্কে] প্রশ্নকারী কোথায়? [দুদিন নামাজ আদায়ের] সময়ের মধ্যে তুমি যে ব্যবধান দেখলে তার মাঝখানেই হলো নামাজের সময়। [ই.ফা.১২৬৬, ইসলামিক সেন্টার-১২৭৯]

১২৮০

আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – এর কাছে এসে নামাজের সময় সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি [সাঃআঃ] তাকে জবাব দিলেন না {তিনি [সাঃআঃ] কাজের মাধ্যমে তাকে দেখিয়ে দিতে চাচ্ছিলেন}। বর্ণনাকারী সাহাবী আবু মূসা বলেন, উষার আগমনের সাথে সাথেই রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফাজরের নামাজ আদায় করিলেন। তখনও অন্ধকার এতটা ছিল যে, লোকজন একে অপরকে দেখে চিনতে পারছিল না। এরপর তিনি [সাঃআঃ] আযান দিতে আদেশ করিলেন এবং লোকজন বলাবলি করছিল যে, দুপুর হয়েছে। অথচ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – এ বিষয়ে তাদের চেয়ে বেশী অবহিত। তারপর তিনি [সাঃআঃ] আসরের আযান দিতে আদেশ করিলেন এবং এমন সময় আসরের নামাজ আদায় করিলেন যখন সূর্য আকাশের বেশ উপরের দিকে ছিল। অতঃপর তিনি মাগরিবের নামাজের আযান দিতে আদেশ করিলেন এবং এমন সময় নামাজ আদায় করিলেন যখন সবেমাত্র সূর্যাস্ত হয়েছে। এরপর তিনি [সাঃআঃ] ইশার নামাজের আযান দিতে আদেশ করিলেন এবং এমন সময় ইশার নামাজ আদায় করিলেন যখন সান্ধ্যকালীন দিগন্ত লালিমা সবেমাত্র অস্তমিত হয়েছে। এরপর দিন সকালে তিনি [সাঃআঃ] ফাজরের নামাজ দেরী করে আদায় করিলেন। এতটা দেরী করে আদায় করিলেন যে, যখন নামাজ শেষ করিলেন তখন লোকজন বলাবলি করছিল- সূর্যোদয় ঘটেছে বা সূর্যোদয়ের উপক্রম হয়েছে। এরপর যুহরের নামাজ এতটা দেরী করে আদায় করিলেন যে, গত দিনের আসরের নামাজ যে সময় আদায় করে ছিলেন প্রায় সে সময় এসে গেল। অতঃপর আসরের নামাজটাও এতটা দেরী করে আদায় করিলেন যে, নামাজ শেষ করলে লোকজন বলাবলি করিতে লাগল – সূর্য রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। তারপর মাগরিবের নামাজও দেরী করে আদায় করিলেন। এতটা দেরী করিলেন যে সান্ধ্যকালীন দিগন্ত লালিমা তখন অন্তর্হিত হয়ে যাচ্ছিল। এরপর ইশার নামাজও দেরী করে আদায় করিলেন। এতটা দেরী করে আদায় করিলেন যে রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হয়ে গেল এবং অতিক্রান্ত হওয়ার উপক্রম হলো। অতঃপর সকাল বেলা প্রশ্নকারীকে ডেকে বললেনঃ এ দুটি সময়ের মধ্যবর্তী সময়টুকুই নামাজসমূহের সময় [অর্থাৎ- দুদিনে আমি একই সময়ে নামাজ আদায় না করে একই নামাজের সময়ের মধ্যে কিছু তারতম্য করে আদায় করলাম। এ উভয় সময়ের মধ্যকার সময়টুকু প্রত্যেক ওয়াক্তের প্রকৃত সময়]। [ই.ফা.১২৬৭, ইসলামিক সেন্টার-১২৮০]

১২৮১

আবু মূসা আল আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ] – এর কাছে এসে তাকে নামাজের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিল – পরবর্তী অংশ উপরোক্ত হাদীসের মতো। তবে এ হাদীসের বর্ণনাকারী বলেছেন যে, দ্বিতীয় দিন নবী [সাঃআঃ] সান্ধ্যকালীন দিগন্ত লালিমা অন্তর্হিত হওয়ার পূর্বে মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন। [ই.ফা.১২৬৮, ইসলামিক সেন্টার-১২৮১]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply