নেশাদার দ্রব্য – উপদেশ বিষয়ক হাদিস সমূহ

নেশাদার দ্রব্য – উপদেশ বিষয়ক হাদিস সমূহ

নেশাদার দ্রব্য – উপদেশ বিষয়ক হাদিস সমূহ , এই অধ্যায়ে মোট (৭০-৯৪) =২৫টি হাদীস >> উপদেশ হাদিস এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-৬ঃ নেশাদার দ্রব্য

পরিচ্ছেদঃ নেশাদার দ্রব্য

৭০. ওছমান [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমরা নেশাদার দ্রব্য থেকে বেঁচে থাক। কেননা নেশাদার দ্রব্য হচ্ছে অশ্লীল কর্মের মূল। যে ব্যক্তি নেশাদার দ্রব্য থেকে বেঁচে থাকে না তারা আল্লাহ এবং তাহাঁর রাসূলের নাফরমানী করে এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের নাফরমানী করার কারণে সে শাস্তির হক্বদার হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা আল্লাহ এবং তাহাঁর রাসূলের নাফরমানী করে এবং তার সীমালঙ্ঘন করে, আল্লাহ তাকে এমন আগুনে প্রবেশ করাবেন যেখানে সে চিরকাল থাকিবে। তার জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি

[নিসা ১৪; নাসাঈ, হাদিস ছহীহ]। নেশাদার দ্রব্য -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৭১. ইবনি ওমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, সব নেশাদার দ্রব্য মদ আর সব ধরনের মদ হারাম। যে ব্যক্তি সর্বদা নেশাদার দ্রব্য পান করে তওবা বিহীন অবস্থায় মারা যাবে সে পরকালে সুস্বাদু পানীয় পান করিতে পাবে না

[মুসলিম ২/১৬৭ পৃঃ, মদ্যপান অধ্যায়, সকল নেশাদার দ্রব্য হারাম অনুচ্ছেদে, মেশকাত হাদিস/৩৬৩৮; বাংলা মেশকাত ৭ম খণ্ড, হাদিস/৩৪৭২ হুদূদ অধ্যায়]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৭২. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা রয়েছে- নেশাদার দ্রব্য পানকারীদের আল্লাহ “ত্বিনাতে খাবাল” পান করাবেন। জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! ত্বিনাতে খাবাল কি জিনিস? রাসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, জাহান্নামীদের শরীর হইতে গলে পড়া রক্তপুজ মিশ্রিত অত্যন্ত গরম তরল পদার্থ

[মুসলিম ২/১৬৭ পৃঃ]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৭৩. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, সর্বদা নেশাদার দ্রব্য পান কারী মূর্তিপূজকের ন্যায় অপরাধী

[ইবনি মাজাহ হাদিস/৩৩৭৫, হাদিস ছহীহ]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৭৪. আবু দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, সর্বদা নেশাদার দ্রব্য পানকারী জান্নাতে যাবে না

[ইবনি মাজাহ হাদিস/৩৩৭৬, হাদিস ছহীহ]। নেশাদার দ্রব্য -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৭৫. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, জুয়া ও লটারীতে অংশগ্রহণকারী, খোঁটাদানকারী এবং সর্বদা মদপানকারী জান্নাতে যাবে না

[দারেমী, মেশকাত হাদিস/৩৬৫৩; বাংলা মেশকাত ৭ম খণ্ড, হাদিস/৩৪৮৬ শাস্তি অধ্যায়]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৭৬. আম্মার ইবনি ইয়াসার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, তিন শ্রেণীর মানুষ কখনো জান্নাতে যাবে না। [১] যে ব্যক্তি তার পরিবারে বেহায়াপনার সুযোগ দেয়। [২] পুরুষের বেশধারী নারী। [৩] নিয়মিত নেশাদার দ্রব্য পানকারী

[তাবরাণী, তারগীব হাদিস/৩৩৮১]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৭৭. ইবনি ওমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, তিন শ্রেণীর লোকের প্রতি আল্লাহ তাআলা জান্নাত হারাম করিয়াছেন। [১] সর্বদা মদপানকারী, [২] পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান ও [৩] পরিবারে বেপর্দার সুযোগ দানকারী

[দায়ূছ] [নাসাঈ, মেশকাত হাদিস/৩৬৫৫]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৭৮. আবু মূসা আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, তিন শ্রেণীর লোক জান্নাতে যাবে না। [১] সর্বদা নেশাদার দ্রব্য পানকারী। [২] আত্মীয়তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্নকারী। [৩] যাদুকে বিশ্বাসকা

রী [আহমাদ, মেশকাত, হাদিস ছহীহ হাদিস/৩৬৫৬]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৭৯. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি নেশাদার দ্রব্য পান করিবে আল্লাহ তার ৪০ দিন ছালাত কবুল করবেন না। যদি এ অবস্থায় মারা যায় তাহলে জাহান্নামে যাবে। যদি তওবাহ করে তাহলে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন। আবার নেশাদার দ্রব্য পান করলে আল্লাহ তার ৪০ দিন ছালাত কবুল করবেন না। যদি এ অবস্থায় মারা যায় তাহলে জাহান্নামে যাবে। আর যদি তওবা করে তবে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন। আবার যদি নেশাদার দ্রব্য পান করে আল্লাহ তার ৪০ দিন ছালাত কবুল করবেন না। এ অবস্থায় মারা গেলে জাহান্নামে যাবে। তওবা করলে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন। লোকটি যদি চতুর্থবার মদ পান করে আল্লাহ তাকে ক্বিয়ামাতের দিন রাদাগাতুল খাবাল পান করাবেন। ছাহাবাগণ জিজ্ঞেস করিলেন, হে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]! রাদাগাতু খাবাল কী? রাসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, আগুনের তাপে জাহান্নামীদের শরীর হইতে গলে পড়া রক্তপূজ মিশ্রিত গরম তরল পদার্থ [ছহীহ ইবনি মাজাহ হাদিস/ ২৭৩৮, হাদিস ছহীহ]।

মদের সাথে সম্পর্ক রাখে এমন দশ শ্রেণীর লোকের প্রতি রাসূল [সাঃআঃ] অভিশাপ করিয়াছেন। [১] যে লোক মদের নির্যাস বের করে [২] প্রস্তুতকারক [৩] মদপানকারী [৪] যে পান করায় [৫] আমদানীকারক [৬] যার জন্য আমদানী করা হয় [৭] বিক্রেতা [৮] ক্রেতা [৯] সরবরাহকারী এবং [১০] এর লভ্যাংশ ভোগকারী [তিরমিজি, সনদ ছহীহ, মেশকাত হাদিস/২৭৭৬; বঙ্গানুবাদ ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদিস/ ২৬৫৬]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৮০. আবু মালিক আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নবী করীম [সাঃআঃ] বলেছেন, আমার কিছু উম্মত মদ পান করিবে এবং তার নাম রাখবে ভিন্ন। তাদের নেতাদেরকে গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্র দিয়ে সম্মান করা হইবে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ভুমিকম্পের মাধ্যমে মাটিতেই ধসিয়ে দিবেন। আর তাদেরকে বানর ও শূকরে পরিণত করবেন

[বুখারী, ইবনি মাজাহ হাদিস/৪০২০]। এ হাদিস দ্বারা বুঝা গেল মানুষ মদ্যপান করিবে, তবে মদের নাম অন্য হইবে। আর নেতা ও দায়িত্বশীলদের সর্বক্ষণের সঙ্গী হইবে বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকা। এদের চরিত্র হইবে নোংরা, এদের প্রিয় কাজ হইবে অশ্লীলতা। তাদের স্বভাব ও কৃষ্টি-কালচার হইবে শূকর ও বানরের ন্যায়। এরা স্বপরিবারে পাশ্চাত্যদের স্বভাব চরিত্র গ্রহণ করিবে। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৮১. মুআয ইবনি জাবাল [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, ইসলামের সূচনা বা রাজত্ব শুরু হয়েছে নবী ও দয়া দ্বারা। তারপর রাজত্ব আসবে খেলাফত ও রহমত দ্বারা, তারপর আসবে অত্যাচারী শাসকদের যুগ। তারপর আসবে কঠোরতা, উচ্ছৃংখলতা, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীর যুগ। এসব অত্যাচারী শাসকেরা রেশমী কাপড় পরিধান করা, অবৈধভাবে নারীদের লজ্জাস্থান উপভোগ করা এবং মদ পান করাকে হালাল মনে করিবে। এরপরও তাদের প্রচুর রুযী দেয়া হইবে। দুনিয়াবী যে কোন কাজে তাদের সাহায্য করা হইবে। অবশেষে এ পাপের মধ্যে লিপ্ত থেকে আল্লাহর সম্মুখে উপস্থিত হইবে

[বায়হাক্বী, বাংলা মেশকাত হাদিস/৫১৪৩, হাদিস ছহীহ]। -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৮২. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূল [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, ক্বিয়ামতের আলামত সমূহের মধ্যে রয়েছে [১] বিদ্যা উঠে যাবে [২] মূর্খতা বেড়ে যাবে [৩] ব্যাভিচার বেশি হইবে [৪] মদপান বৃদ্ধি পাবে [৫] পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে [৬] নারীর সংখ্যা বেশি হয়ে যাবে। এমনকি একজন পুরুষ ৫০ জন মহিলার পরিচালক হইবে। অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, বিদ্যা কমে যাবে এবং মূর্খতা প্রকাশ পাবে

[বুখারী, মুসলিম মেশকাত হাদিস/৫২০৩]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৮৩. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নবী করীম [সাঃআঃ] বলেছেন, যখন আমার উম্মত নেশাদার দ্রব্য পান করিবে, গায়িকাদের নিয়ে নাচ-গানে মত্ত হইবে এবং বাদ্যযন্ত্র নিয়ে ব্যস্ত হইবে তখন অবশ্যই তিনটি ভয়াবহ বিপদ নেমে আসবে- [১] বিভিন্ন এলাকায় ভূমি ধসে যাবে [২] উপর থেকে অথবা কোন জাতির পক্ষ থেকে যুলুম অত্যাচার চাপিয়ে দেওয়া হইবে [৩] অনেকের পাপের দরুণ আকার-আকৃতি বিকৃত করা হইবে। আর এ গযবের মূল কারণ তিনটি। [ক] মদ পান করা [খ] নায়িকাদের নিয়ে নাচ-গানে মত্ত হওয়া [গ] বাদ্যযন্ত্রের প্রতি আগ্রহী হওয়া।

এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৮৪. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, অবশ্য অবশ্যই আমার উম্মতের কিছু সম্প্রদায় রাত্রী অতিবাহিত করিবে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য-পানীয়তে ভোগ বিলাসী হয়ে এবং বিভিন্ন ধরনের বিনোদন ও আমোদ-প্রমোদে। এমতাবস্থায় তাদের সকাল হইবে শূকর ও বানরের আকৃতিতে রূপান্তরিত হয়ে

[সিলসিলা ছাহীহাহ হাদিস/১৬০৪, ২৬৯৯]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৮৫. মুআয ইবনি জাবাল [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] আমাকে দশটি বিষয়ে উপদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, [১] আল্লাহর সাথে কাউকেও শরীক করিবে না, যদিও তোমাকে নিহত করা হয় বা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। [২] তুমি তোমার পিতা-মাতার অবাধ্য হইবে না, যদি তারা তোমাকে তোমার পরিবার-পরিজন ও তোমার মাল-মাত্তা ছেড়ে যেতে বলেন। [৩] ইচ্ছা করে কখনও ফরয ছালাত ত্যাগ করিবে না। কেননা যে ইচ্ছা করে ফরয ছালাত ছেড়ে দিবে, তার [হেফাযতের] পক্ষে আল্লাহর প্রদত্ত দায়িত্ব উঠে যাবে। [এখন তাকে কাফেরের ন্যায় হত্যা করা যেতে পারে]। [৪] কখনও শরাব পান করিবে না। কেননা তা সমস্ত অশ্লীলতার মূল। [৫] সাবধান! [সর্বদা] গোনাহ হইতে বেঁচে থাকিবে। কেননা গোনাহগার দ্বারা আল্লাহর ক্রোধ পৌঁছে থাকে! [৬] খবরদার! জিহাদ হইতে পলায়ন করিবে না। যদিও সকল লোক ধ্বংস হয়ে যায়। [৭] যখন লোকের মধ্যে মহামারী দেখা দিবে আর তুমি সেখানে থাকিবে, তখন তথায় অবস্থান করিবে [পলায়ন করিবে না]। [৮] তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় করিবে [কার্পণ্য করে তাদের খাওয়ার কষ্ট দিবে না]। [৯] তাদের [পরিবারের লোকদের] আদব-কায়দা শিক্ষা দানের ব্যাপারে শাসন হইতে কখনও বিরত থাকিবে না। [১০] এবং আল্লাহর সম্পর্কে তাদের ভয় প্রদর্শন করিতে থাকিবে

[আহমাদ, মেশকাত হাদিস/৬১]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৮৬. আবু দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আমার দোস্ত আমাকে অছিয়ত করিয়াছেন, নেশাদার দ্রব্য পান কর না। নিশ্চয়ই তা সব ধরনের অন্যায়ের চাবী

[ইবনি মাজাহ হাদিস/৩৩৭১]। নেশাদার দ্রব্য -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৮৭.ইবনি মাসুদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, সব ধরনের নেশাদার দ্রব্য হারাম

[ইবনি মাজাহ হাদিস/৩৩৮৮]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৮৮. ইবনি ওমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, প্রত্যেক ঐ বস্তু যা বিবেকের ক্ষতি করে সেসবই মদ। আর সব ধরনের মদই হারাম

[ইবনি মাজাহ হাদিস/৩৩৯০]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৮৯. জাবের ইবনি আব্দুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, যে বস্তু বেশী পরিমাণ খেলে বিবেকের ক্ষতি হয়, তার কমও হারাম

[ইবনি মাজাহ হাদিস/৩৩৯৩]। নেশাদার দ্রব্য -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৯০. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ নেশাদার দ্রব্য এবং তার মূল্য হারাম করিয়াছেন। মৃতপ্রাণী ও তার মূল্য হারাম করিয়াছেন। শূকর ও তার মূল্য হারাম করিয়াছেন

[আবুদাউদ হাদিস/৩৪৮৫]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৯১. জাবের ইবনি আব্দুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি মক্কা বিজয়ের বছর নবী করীম [সাঃআঃ]-কে মক্কায় বলিতে শুনেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ মদ, মৃতপ্রাণী, শূকর ও মূর্তির ক্রয়-বিক্রয় হারাম করেছন

[আবুদাউদ হাদিস/৩৪৮৬]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৯২. আনাস ইবনি মালেক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, নেশাদার দ্রব্য পানকারী জান্নাতে যাবে না। পিতামাতার অবাধ্য ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না। খোটা দানকারী জান্নাতে যাবে না

[তারগীব হাদিস/২৩৬৩]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৯৩. আব্দুল্লাহ ইবনি আমর হইতে বর্ণিতঃ

যে ব্যক্তি মদ পান করিবে আল্লাহ তার উপর ৪০ দিন সন্তুষ্ট হইবেন না

[আহমাদ হাদিস/২৭৬৪৪; তারগীব হাদিস/৩৪১০]। এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৯৪. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূল [সাঃআঃ] নেশাদার দ্রব্যপানকারীকে জুতা ও বেতের মাধ্যমে ৪০ বার মারতেন [বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হাদিস/৩৬১৫; বাংলা মেশকাত ৭ম খণ্ড, হাদিস/৩৪৫১ শাস্তি অধ্যায়]।

ওমর [রাদি.]-এর যুগে নেশাদার দ্রব্য পানকারীদের সংখ্যা বেশী হলে তিনি ৮০ বেত্রাঘাত করিতেন

[বুখারী, মেশকাত হাদিস/৩৬১৬]। নেশাদার দ্রব্য -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

Leave a Reply