নতুন লেখা

নেতৃত্ব , প্রার্থনা ও ক্ষমতার লোভ নিষিদ্ধ

নেতৃত্ব প্রার্থনা ও ক্ষমতার লোভ নিষিদ্ধ

নেতৃত্ব প্রার্থনা ও ক্ষমতার লোভ নিষিদ্ধ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩. অধ্যায়ঃ নেতৃত্ব প্রার্থনা ও ক্ষমতার লোভ নিষিদ্ধ

৪৬০৯

আবদুর রহমান ইবনি সামুরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আমাকে লক্ষ্য করে বলিলেন, হে আবদুর রহমান! তুমি শাসন ক্ষমতা চাইবে না। কারণ যদি চাওয়ার মাধ্যমে তা পাও, তবে তার দয়িত্ব তোমার উপর ন্যস্ত হইবে। আর যদি তুমি চাওয়া ছাড়া তা পেয়ে যাও, তবে এ ব্যাপারে তুমি [আল্লাহর তরফ থেকে] সাহায্যপ্রাপ্ত হইবে।

{দ্রষ্টব্য হাদীস ৪২৮১} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৫৬৪, ইসলামিক সেন্টার- ৪৫৬৭]

৪৬১০

আবদুর রহমান ইবনি সামুরাহ্ [রাদি.]-এর সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৫৬৫, ইসলামিক সেন্টার- ৪৫৬৮]

৪৬১১

আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [একদা] আমি এবং আমার দুচাচাত ভাই নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট উপস্থিত হলাম। দুজনের একজন বলিল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! মহান আল্লাহ আপনাকে যে সমস্ত রাজ্যের কর্তৃত্ব প্রদান করিয়াছেন তার কতক অংশে আমাদেরকে প্রশাসক নিযুক্ত করুন। অপরজনও অনুরূপ বলিল। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমরা এমন কাউকে নেতৃত্বে বসাই না, যে সেটির জন্য প্রার্থী হয় এবং যে তার জন্য লালায়িত হয়। {দ্রষ্টব্য হাদীস ৪৫২৬} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৫৬৬, ইসলামিক সেন্টার- ৪৫৬৯]

৪৬১২

আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন [একদা] আমি নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন আমার সাথে আশআরী বংশের দুজন লোক ছিল। তাদের একজন ছিল আমার ডানে অপরজন আমার বামে। তারা দুজনই [পদে] নিযুক্তি প্রার্থনা করলো। নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তখন মেসওয়াক করছিলেন। তখন তিনি [আমাকে লক্ষ্য করে] বলিলেন, হে আবু মূসা অথবা হে আবদুল্লাহ! তুমি কী বল? তিনি বলেন, আমি বললাম, যে পবিত্র সত্তা আপনাকে নবী করে পাঠিয়েছেন, তাহাঁর কসম! তাদের অন্তরে যে কী রয়েছে সে সম্পর্কে তারা আমাকে মোটেও জানায়নি, আর আমি মোটেও টের পাইনি যে, তারা আপনার কাছে [পদে] নিযুক্তি প্রার্থনা করিবে। রাবী বলেন, আমি যেন [স্পষ্টই] তাহাঁর ওষ্ঠ মুবারকের নীচে মিসওয়াক দেখিতে পাচ্ছি। তখন তিনি বলিলেন, আমরা আমাদের কোন কাজে কখনো এমন লোককে নিযুক্তি প্রদান করি না- যে তার জন্য লালায়িত। বরং তুমি যাও। হে আবু মূসা! অথবা তিনি বলিলেন, হে আবদুল্লাহ! অতঃপর তিনি তাঁকে ইয়ামানের গভর্নর করে পাঠালেন। এরপর তিনি মুআয ইবনি জাবালকে তাহাঁর সাহায্যার্থে পাঠালেন। তিনি [মুআয] যখন তাহাঁর [আবু মূসার] নিকট গিয়ে পৌঁছলেন, তখন তিনি বললেনঃ অবতরণ করুন এবং সাথে সাথে তিনি একটি আসন পেতে দিলেন। তখন তাহাঁর নিকট হাত পা বাঁধা অবস্থায় একটি লোক ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন : এ লোকটি কে? উত্তরে তিনি বলিলেন, লোকটি প্রথমে ইয়াহূদী ছিল, তারপর সে ইসলাম গ্রহণ করে। এরপর সে আবার তার বাতিল ধর্মে ফিরে যায় এবং ইয়াহূদী হয়ে যায়। মুআয [রাদি.] বলিলেন, যতক্ষণ আল্লাহ ও তাহাঁর রসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর বিধান অনুসারে তাকে হত্যা করা না হইবে, ততক্ষণ আমি বসবো না। এরূপ তারা তিনবার কথোপকথন করিলেন। এরপর তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে হত্যা করা হলো। তারপর তারা রাত্রি জাগরণ [তাহাজ্জুদ] সম্পর্কে পরস্পরের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করিলেন। তাঁদের মধ্যে মুআয [রাদি.] বলিলেন- আমার অবস্থা হচ্ছে এই যে, আমি [রাত্রির কিয়দংশে] নিদ্রাও যাই আবার [কিয়দংশে] ইবাদাতে জাগরণও করি এবং আমার নিদ্রায়ও সেরূপ সাওয়াবই প্রত্যাশা করি যেরূপ সাওয়াব প্রত্যাশা করি আমার জাগরণ ও ইবাদাতে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪৫৬৭, ইসলামিক সেন্টার- ৪৫৭০]

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: