নেকীর কাজ চালু করার প্রতি উদ্ধৃদ্ধ করণ এবং তার অনুসরণ

<< সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব হাদীস বই এর মুল সুচিপত্র

পরিচ্ছেদঃ নেকীর কাজ চালু করার প্রতি উদ্ধৃদ্ধ করণ, যেন তার অনুসরণ করা হয়। আর অনুসৃত হওয়ার আশংকায় পাপের কাজ চালু করার প্রতি ভীতি প্ৰদৰ্শন

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৬১ -জারীর [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ একদা দিনের প্রথম ভাগে আমরা রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]এর নিকট ছিলাম। এমন সময় একদল লোক তার নিকট আগমন করিল, যারা ছিল চাদর এবং আলখিল্লার টুকরা পরিহিত অবস্থায় উলঙ্গ প্রায়। তাহাদের গলদেশে তরবারী ঝুলছিল। তাহাদের বেশীরভাগ-বলা যায়- সবাই মুযার গোত্রের লোক। তাহাদের অভাব ও দারিদ্রতার দৃশ্য দেখে রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]এর চেহারা মোবারকের রং পরিবর্তন হয়ে গেল। তিনি [গৃহে] প্রবেশ করিলেন। অতঃপর বের হলেন। বেলালকে আদেশ করিলেন, তিনি আযান দিলেন ও ইকামত দিলেন। তিনি সবাইকে নিয়ে [যোহর] সালাত আদায় করিলেন, অতঃপর বক্তব্য দিতে শুরু করিলেন। বললেনঃ


“হে লোক সকল! ভয় কর তোমাদের পালনকর্তকে যিনি তোমাদেরকে একটি প্রাণ থেকে সৃষ্টি করিয়াছেন এবং সৃষ্টি করিয়াছেন তার সঙ্গীনীকে এবং তাহাদের দুজন থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন অসংখ্য পুরুষ ও নারী। তোমরা ভয় কর আল্লাহ তা`য়ালাকে, যারঅসীলায় তোমরা পরস্পরে প্রার্থনা কর ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর দৃষ্টি নিবন্ধকারী।” [সূরা নিসা-১] আর পাঠ করিলেন সূরা হাশরের আয়াতটিঃ اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ “তোমরা ভয় কর আল্লাহকে, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যেন লক্ষ্য করে কি সে প্রেরণ করেছে আগামী কালের জন্য।”
[হাশরঃ ১৮] [বললেনঃ] এক ব্যক্তি দান করে তার দ্বীনার থেকে, তার দিরহাম থেকে, তার বস্ত্র থেকে, তার গমের সা থেকে, তার খেজুরের সা থেকে, এমনকি একটি খেজুরের অংশ হলেও দান করে।
জারীর [রাঃআঃ] বলেনঃ বক্তব্য শুনে জনৈক আনসারী ব্যক্তি [খাদ্য ভর্তি] একটি থলে নিয়ে এল। তা বহন করিতে তার দুহাত যেন অপারগ হচ্ছিল, বরং অপারগ হয়েই গেছে। তিনি বলেনঃ অতঃপর মানুষ তার অনুসরণ করে একের পর এক দান করিতে লাগল। এমনকি দেখলাম খাদ্য ও বস্ত্রের যেন ছোট দুটি স্তুপ জমা হয়ে গেল।
দেখলাম রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]এর মুখমন্ডল প্রফুল্ল হয়ে গেল। যেন খুশিতে তা উজ্জল ও আলোকিত হয়ে উঠল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেনঃ “যে ব্যক্তি ইসলামে উত্তম রীতি চালু করিবে, সে তার প্রতিদান পাবে এবং যারা সে অনুযায়ী আমল করিবে তার প্রতিদানও লাভ করিবে। অথচ তাহাদের [অনুসরণকারীদের] প্রতিদান কোন কিছু কম করা হইবে না। এবং যে ব্যক্তি ইসলামে কোন খারাপ প্রথা চালু করিবে, তার পাপের বোঝা তার উপরই বর্তবে এবং সে অনুযায়ী যে আমল করিবে তার পাপও। অথচ তাহাদের
[অনুসরণকারীদের] পাপের অংশ থেকে কোন কিছু কম করা হইবে না।”

[হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন মুসলিম, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ ও তিরমিযী। তবে তিরমিযী ঘটনাটি সংক্ষেপে উল্লেখ করিয়াছেন. হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৬২ – হুযায়ফা [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]এর যুগে জনৈক ব্যক্তি ভিক্ষা চাইলে তার জাতির লোকেরা তাকে দান করা বিরত থাকল। অতঃপর এক ব্যক্তি তাকে কিছু দান করিল। তখন কওমের লোকেরাও দান করিল। [তা দেখে] রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেনঃ
“যে ব্যক্তি একটি ভাল কাজ চালু করিবে, অতঃপর তার অনুসরণ করা হইবে, সে তার প্রতিদান পাবে এবং যে তার
অনুসরণ করিবে। তার অনুরূপও প্রতিদান লাভ করিবে। অথচ তাহাদের প্রতিদান কোন কিছু কম করা হইবে না। আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ চালু করিবে, অতঃপর তার অনুসরণ করা হইবে, সে তার পাপ ভোগ করিবে এবং যারা তার
অনুসরণ করিবে তাহাদেরও অনুরূপ পাপের ভাগী হইবে, অথচ তাহাদের পাপ কোন অংশে হ্রাস করা হইবে না।”

[আহমদ ও হাকেম হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন। হাকেম বলেন, হাদীছটির সনদ সহীহ] হাদিসের তাহকিকঃহাসান সহীহ

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৬৩ – ইবনু মাজাহ হতে বর্ণিতঃ

ইবনু মাজাহ উক্ত হাদীছটি আবু হুরায়রা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করেন। [১]

[১] শায়খ আলবানী বলেন, কিন্তু হাদীছটি ইমাম মুসলিমও বর্ণনা করিয়াছেন। যেমন অচিরেই তার বর্ণনা `জ্ঞানের প্রচার` অনুচ্ছেদে আসবে। ইনশাআল্লাহ হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৬৪ – ইবনু মাসউদ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেনঃ “নাহকভাবে কোন ব্যক্তি নিহত হলেই তার খুনের [পাপের] একটি অংশ আদমের প্রথম সন্তানের [কাবীল] উপর বর্তাবে। কেননা সেই প্রথম হত্যা চালু করেছে।”

[হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী] হাদিসের তাহকিকঃসহীহ হাদীস

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৬৫ – ওয়াছেলা বিন আসক্বা [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেনঃ “যে ব্যক্তি উত্তম রীতি চালু করে, যে পর্যন্ত সে অনুযায়ী আমল হইবে তার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পরেও সে অনুযায়ী সে তার প্রতিদান পাবে, যে পর্যন্ত সে কাজ পরিত্যাক্ত না হয়। আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ চালু করিবে সে উহা পরিত্যাক্ত না হওয়া পর্যন্ত তার পাপের ভাগি হতে থাকিবে। আর যে ব্যক্তি মুসলিম দেশের সীমানা পাহারারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করিবে, সে পাহারারত [জীবিত] মুজাহিদের বরাবর প্রতিদান পেতে থাকিবে এবং তা [কিয়ামতের দিন] পূণরুত্থান পর্যন্ত।”

[ত্বাবরানী স্বীয় কাবীর গ্রন্থে মোটামোটি গ্রহণযোগ্য সনদে হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন] হাদিসের তাহকিকঃহাসান সহীহ

তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৬৬ – সাহল বিন সাদ [রাঃআঃ] হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেনঃ “এই কল্যাণ বা নেককর্ম সমূহ হচ্ছে ভান্ডার স্বরূপ। প্রতিটি ভান্ডারের রহিয়াছে চাবি। সুসংবাদ সে ব্যক্তির জন্য, যাকে আল্লাহ তা`আলা কল্যাণের চাবি ও অকল্যাণের তালা স্বরূপ করিয়াছেন। আর দুর্ভাগ্য সে বান্দার জন্য আল্লাহ যাকে করিয়াছেন অকল্যাণের চাবি ও কল্যাণের তালা স্বরূপ।”

[ইবনু মাজাহ, ইবনু আবী আসেম, হাদীছটি বর্ণনা করিয়াছেন। একটি ঘটনার বর্ণনাসহ হাদীছটি তিরমিযীতেও আছে।] হাদিসের তাহকিকঃহাসান লিগাইরিহি

Leave a Reply