নুয়াইম বিন হাম্মাদ – কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য ফিতনার বর্ণনা

নুয়াইম বিন হাম্মাদ

কিতাবুল ফিতান হাদিসের বই টি খুবই গুরুত্ত পূর্ণ

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ১. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিত

তিনি বলেন একদা রসূল সাঃআঃ আমাদের নিয়ে একটু বেলা থাকতেই আসরের নামায আদায় করেন। অতঃপর সূর্য অস্ত ভাষণ দিলেন। উক্ত ভাষণে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তার সমস্ত কিছুই বর্ণনা করেন। তাহাঁর সেই ভাষণটি যারা ভুলে যাওয়ার তারা ভুলে গিয়েছে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ২.হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর রাঃআঃ হইতে বর্ণিত

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা আমার সম্মুখে দুনিয়াকে উঁচু করে ধরলেন। অতঃপর দুনিয়াকে এবং তাতে কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য বিষয়গুলো দেখছিলাম যেমন আমার দুই হাতের তালুগুলো দেখছি এটা হলো আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বিষয়, যা তিনি প্রকাশ করেছিলেন তার পূর্ববর্তি নবীগনকে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩. হযরত হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রাঃআঃ হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য সমস্ত ফিতনা সম্পর্কে আমি সবচেয়ে বেশী অবগত। রসূল সাঃআঃ আমার নিকট সেই ফিতনা সম্পর্কে অনেক গোপন বিষয় আলোচনা করিয়াছেন যা আমাকে ছাড়া অন্য কারো কাছে বর্ণনা করেন্নি। কিন্তু একদিন রসূল সাঃআঃ এক মজলিসে আগমণ করিলেন। এরপর ছোট বড় বহু ফিতনা সম্পর্কে আলোচনা করিলেন। উল্লেখ্য ঐ মজলিসে যারা উপস্থিত ছিল আমি ছাড়া প্রত্যেকেই দুনিয়া থেকে চলে গেছেন।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৪. হযরত হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রাঃআঃ হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ঘোর অন্ধকার রাত্রির টুকরোর মত ফিতনা একের পর এক আসতেই থাকিবে। তা তোমাদের কাছে গরুর চেহারার ন্যায় একই রকম মনে হইবে। লোকেরা জানবেনা যে কোন টা কি কারণে হচ্ছে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৫. হযরত হুযাইফা বা হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন। এই ফিতনা গরুর ন্যায়। তাতে বহু মানুষ ধ্বংশ হইবে। তবে যারা পূর্বেই এ সম্পর্কে অবগতি লাভ করিবে তারা ধ্বংশ হইবে না।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬. বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা রাযিঃ হইতে বর্ণিত,

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এরশাদ করেন, কিয়ামতের পূর্বে যখন যুগ পরস্পর নিকটে এসে যাবে তোমাদের কাছে কালো, বুড়ো ধরনের একটি উট এসে বসবে ফিতনার রূপ ধারণ করে। যেন মনে হইবে সেটা অন্ধকারে ছেয়ে যাওয়া রাত্রের একটি টুকরা।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৭. র্কুয ইবনু আল্কামা খুযায়ী হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এর কাছে এক লোক জানতে চাইল ইসলামের কি কোনো শেষ রয়েছে? জবাবে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন হ্যাঁ, আরব বা অনারব যে কোনো এলাকার কারো ঘরের সদস্যদের প্রতি আল্লাহ তাআলা কল্যাণ কামনা করলে তাদেরকে তিনি ইসলামের অন্তর্ভুক্ত করেন।
জিজ্ঞাসা করা হল, এরপর কি হইবে? রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন, এরপর পাহাড় তুল্য ফিৎনা প্রকাশ পাবে। অতঃপর ঐ লোক বলল, আল্লাহর কসম! ইনশাআল্লাহ! ইয়া রাসূলুল্লাহ! এটা কখনো হতে পারেনা। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন, কসম সে সত্ত্বার যার হাতে আমার রূহ, অবশ্যই হইবে। এরপর উক্ত ফিৎনা চলাকালীন তোমরা আশ্রয় নিবে ফনাতুলা কালো বিষাক্ত সাপের। যেখানে তোমরা একে অপরের সাথে মারামারি, হানাহানিতে লিপ্ত হইবে। বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ইবনু শিহাব যুহরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, কালো বিষাক্ত যখন কাউকে দংশন করে তখন দংশিত স্থানে মুখের লালা জাতীয় কিছু বিষ লাগিয়ে দেয়ার পর মাথা উঠিয়ে লেজের উপর দাড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৮..০ভিন্ন সুত্রে উপরের হাদিস বর্নিত হয়েছে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৯. ফেৎনাকালীন আত্মরক্ষা করা মোস্তাহাব

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ১০. হযরত আবু মুসা আশআরী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, রসূল সাঃআঃ ইরশাদ করিয়াছেন, কিয়ামত আসার পূর্বে ‘হারজ’ সংঘটিত হইবে। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলো হারজ কী? তিনি বলিলেন হত্যা এবং মিথ্যা লোকেরা জিজ্ঞাসা করলো হে আল্লাহর রসূল! এখন কাফেররা যে ভাবে নিহত হচ্ছে তার চেয়ে বেশী হত্যা সংঘটিত হইবে? রসূল সাঃআঃ বলিলেন তোমাদের মাধ্যমে কাফেররা নিহত হইবেনা বরং মানুষ তার প্রতিবেশী, আপন ভাই ও চাচাতো ভাইকে হত্যা করিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ১১. হযরত উসাইদ ইবনু মুতাশাসি ইবনু মুয়াবিয়া (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, আমি আবু মুসা (রাঃআঃ) কে বলিতে শুনিয়াছি যে, কিয়ামত আসার পূর্বে মুসলমানদের মধ্য হতে ফিতনা ও হত্যা সংঘটিত হইবে। এমনকি মানুষ তার দাদা,চাচাতো ভাই, পিতা ও আপন ভাইকে হত্যা করিবে। আল্লাহর শপথ! আমি আশংকা করছি যে, না জানি আমি এবং তোমরা তাতে জড়িত হয়ে যাই।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ১২. হযরত আবু মুসা আশআরী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, নিশ্চয় তোমাদের সম্মুখে ঘোর অন্ধকার রাত্রির একাংশের ন্যায় ফিতনা সংঘটিত হতে থাকিবে,তাতে কোন ব্যক্তি সকালে মুমিন ও বিকালে কাফের এবং বিকালে মুমিন ও সকালে কাফেরে পরিণত হতে থাকিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ১৩. হযরত মুজাহিদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, নবী করীম (সাঃআঃ) বলেছেন, অন্ধকার রাত্রির টুকরোর মত ফিতনা দেখা দিবে। সে সময় সকালে একজন মুমিন হলে বিকালে কাফের হয়ে যাবে। বিকালে মুমিন হলে সকালে কাফের হয়ে যাবে। তাদের মধ্যে কেউ পার্থিব সামান্য সামগ্রির বিনিময়ে তার দ্বীন বিক্রি করে বসবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ১৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, এই ফিতনা ঘোর অন্ধকার রাত্রির একাংশের ন্যায় ছায়া ফেলবে। যখনই কোন এক প্রকার ফিতনা চলে যাবে, তখনই আরেক প্রকার ফিতনা প্রকাশ পাবে। তাতে কোন ব্যক্তি সকালে মুমিন হলে বিকালে কাফের হয়ে যাবে, এবং বিকালে মুমিন হলে সকালে কাফের হয়ে যাবে। আর তখন লোকেরা পার্থিব সামান্য সামগ্রির বিনিময়ে তাদের দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ১৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর রাযিঃ হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন, নিশ্চয় ফিৎনা আল্লাহর শহরগুলোতে এমনভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকিবে তার লাগামকে সাড়ানো হইবে। কারো জন্য তাকে জাগ্রত করা জায়েয হইবেনা। ধ্বংস ঐসব ব্যক্তির জন্য যারা তার লাগাম ধরে টানাটানি করিবে।
আবুয্ জাহিরিয়্যাহ বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর রাযিঃ বলেন, নিঃসন্দেহে তোমরা এ জগতে নানান ধরনের বালা-মসিবত এবং ফিৎনা-ফাসাদই দেখতে পাবে। ধীরে ধীরে মানুষের যাবতীয় অবস্থা কঠিনই হতে থাকিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ১৬. রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ এর রহস্য সম্বন্ধে অবগত সাহাবী হযরত হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাযিঃ এরশাদ করেন,

ফিৎনার সাথে সংশ্লিষ্ট লোক থেকে প্রায় তিনশতজন পর্যন্ত এমন রয়েছে, আমি ইচ্ছা করলে তাদের নাম, তাদের পিতা এবং গ্রামের নাম পর্যন্ত বলিতে পারবো। যারা কিয়ামত পর্যন্ত। তার সবকিছুই রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ আমাকে জানিয়ে গিয়েছেন।
উপস্থিত লোকজন জিজ্ঞাসা করলো, সরাসরি কি তাদেরকে দেখানো হয়েছে? উত্তরে তিনি বলিলেন, তাদের আকৃতি দেখানো হয়েছে। যাদেরকে ওলামায়ে কেরাম এবং ফুকাহায়ে এজাম চিনতে পারবেন। হযরত হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাযিঃ বলেন, তোমরা রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এর কাছে কল্যাণ সম্বন্ধে জানতে চাও, কিন্তু আমি জানতে চেষ্টা করি অকল্যাণ বা খারাপী সম্বন্ধে আর তোমরা তাহাঁর কাছে জানতে চাও ঘটে যাওয়া বিষয় সম্বন্ধে, আমি জানতে চাই ভবিষ্যতে যা হইবে সে সম্বন্ধে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ১৭. হযরত হুজাইফা রাযিঃ এরশাদ করেন,

আমি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ কে বলিতে শুনিয়াছি, আমার ওম্মতের মধ্যে এমন তিনশত লোক প্রকাশ পাবে যাদের সাথে তিনশত পতাকা থাকিবে, যদ্বারা তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যাবে। বংশীয়ভাবে এরা খুবই পরিচিত হইবে। তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কথা প্রকাশ করলেও যুদ্ধ করিবে সুন্নাতের বিপরীত পথভ্রষ্টার উপর।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ১৮. বিশিষ্ট সাহাবী হযরত হুজাইফা ইবনুল এমান রাযিঃ হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, যাবতীয় ফিৎনা ফাসাদ আমি যা জানি, সেগুলো যদি তোমাদেরকে বয়ান করি তাহলে তোমরা আমার সাথে বিনিদ্র অবস্থায় থাকতে পারবে না।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ১৯. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাযিঃ হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, তোমাদের ওপর ফিৎনা-ফাসাদ, অব্যাহত থাকিবে এবং মোয়ামালা ধীরে ধীরে আরো কঠিন আকার ধারন করিবে। যখন কোনো রাষ্ট্রপ্রধান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষে দেশ পরিচালনা করে না এবং রাষ্ট্রনায়কগণ আল্লাহ তাআলার এবাদত করেনা তখন তোমরা আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট হওয়াকে খুবই ভয় কর। কেননা, আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট হওয়া মানুষের অসন্তুষ্ট হওয়া থেকে মারাত্মক।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ২০. আবু ইদরীস হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, আমি, আবু সালেহ এবং আবু মুসলিম একসাথে ছিলাম। তারা দুইজনের একজন অপরকে বলল, তোমরা কি কোনো বিষয়ের ভয় করছ? তারা বলল, আমরা মানুষের লোভ সম্বন্ধে শংকিত। অতঃপর আমি বললাম, এমন লোভ একমাত্র আখেরী যামানার মানুষের মাঝে প্রকাশ পাবে।
উত্তরে তার বলল, তুমি ঠিকই বলেছ, কেউ লোভবিহীন কখনো ছিনতাই ডাকাতী করিতে পারেনা এবং মানুষ সবচেয়ে বেশি ছিনতাই ইত্যাদির সম্মুখিন হইবে একমাত্র ইসলামের ক্ষেত্রে। নিঃসন্দেহে যাবতীয় ফিৎনা ফাসাদ ইসলামের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে এবং উক্ত ফিৎনা আখেরী যামানাতেই ব্যাপক আকার ধারন করিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ২১. কায়েস ইবনু আবু হোসেন হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, রসূল (সাঃআঃ) বলেছেন, বৃষ্টির ন্যায় পৃথিবীতে ফিতনা বিস্তার লাভ করিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ২২. হযরত ওবাইদুল্লাহ ইবনু আবু জাফর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

যখন আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা আঃ এর কাছে উম্মাতে মুহাম্মাদিয়া মর্যাদা সম্বন্ধে আলোচনা করিলেন তখন হযরত মুসা আঃ উম্মাতে মুহাম্মাদিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করিলেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, হে মুসা! উক্ত ওম্মতের মাঝে আখেরী যুগে অনেক ধরনের বালা মসিবত প্রকাশ পাবে। একথা শুনে হযরত মুসা আঃ বলিলেন, হে আল্লাহ! এধরনের বালা মসিবতকালীন কে ধৈর্য্য ধারন করিতে পারবে? জবাবে আল্লাহ তাআলা বলিলেন, ঐ মুহূর্তে যারা ধৈর্য্য ধারন করে ঈমানের উপর অটল থাকিবে তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের বালা মসিবত সহজ হয়ে যাবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ২৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল’আস হইতে বর্ণিত;

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, অচিরেই আমার উম্মতের মধ্যে এমন ফিতনা আসবে যে, তাতে মানুষ তার পিতা ও ভাই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এমনকি মানুষ তার বিপদের ব্যাপারে অপমান বোধ করিবে, যেমন ব্যভিচারীনি মহিলা তার ব্যভিচারের অপমান বোধ করে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ২৪. আবু তামীম জায়শানী হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, অবিরাম বৃষ্টির ন্যায় তোমাদের নিকট ফিতনা প্রবলভাবে বর্ষন হতে থাকিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ২৫. হযরত উসামা ইবনু যায়েদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, একদা নবী করীম (সাঃআঃ) একটি দুর্গের উপর আরোহন করে (লোকদেরকে) বলিলেন, আমি যা দেখছি তোমরাও কি তা দেখছ? নিশ্চয় আমি দেখছি যে, তোমাদের গৃহের ফাঁকে ফাঁকে বৃষ্টির ন্যায় ফিতনা পতিত হচ্ছে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ২৬.

মিশর-শাম এলাকায় মতপার্থক্য সৃষ্টিকারী ঝান্ডার বর্ননা ও তাদের বিজয়

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ২৭. হযরত হুজাইফা রাযিঃ হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, আল্লাহর কসম শহরের রাস্তাগুলো থেকে এমন কোনো রাস্তা কিংবা গ্রামের গলিসমূহ থেকে এমন কোনো গলি নেই যার সম্বন্ধে আমি জানিনা যে, হযরত ওসমান রাযিঃ কে শহীদ করার পর যাবতীয় ফিৎনা ফাসাদ প্রকাশ পাবে। অর্থাৎ, সবকিছু আমার কাছে পূর্ব থেকে জানা আছে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ২৮. হযরত আবু সালেম জায়শানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

আমি হযরত আলী রাযিঃ কে কূফাতে বলিতে শুনিয়াছি, কিয়ামতের পূর্বে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এমন তিনশত লোক প্রকাশ পাবে আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে পরিচালনাকারী এবং উৎসাহদাতাদের নাম ঠিকানা সবকিছু বলে দিতে পারব।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ২৯. হুযাইফা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর নিকট কল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করত। আর আমি ক্ষতিকর বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এই ভয়ে যেন আমি তাতে লিপ্ত না হই। হযরত হুযায়ফা (রাঃআঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা এক সময় মুর্খতা ও মন্দের মধ্যে নিমজ্জিত ছিলাম অতঃপর আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে এই কল্যাণ (অর্থাৎ দ্বীন ইসলাম) দান করেন। তবে কি কল্যাণের পর পুনরায় অকল্যাণ (ফিতনা-ফাসাদ) আসবে? রসূল (সাঃআঃ) বলিলেন হ্যাঁ, আসবে। আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম সেই অকল্যাণের পরে কি আবার কল্যাণ আসবে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ আসবে। তবে তা হইবে ধোঁয়াযুক্ত। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, সেই ধোঁয়া কি প্রকৃতির? তিনি বলিলেন, লোকেরা আমার সুন্নত বর্জন করে অন্য তরিকা গ্রহণ করিবে এবং আমার পথ ছেড়ে লোকদেরকে অন্য পথে পরিচালিত করিবে। তখন তুমি তাদের মধ্যে ভাল কাজও দেখতে পাবে এবং দেখতে পাবে মন্দ কাজও। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম, সেই কল্যাণের পরও কি অকল্যাণ আসবে? তিনি বলিলেন হ্যাঁ, দোজখের দ্বারে দাঁড়িয়ে কতিপয় আহ্বানকারী লোকদেরকে সেই দিকে আহ্বান করিবে। যারা তাদের আহ্বানে সাড়া দেবে তাদেরকে তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করে ছাড়বে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাকে তাদের পরিচয় জানিয়ে দিন। তিনি বলিলেন, তারা আমাদের মতোই মানুষ হইবে এবং আমাদের ভাষায় কথা বলবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩০. হযরত হাসসান ইবনু আতিয়্যাহ হযরত হুযায়ফা (রাঃআঃ) থেকে

অনুরূপ বর্ণনা করেন, (অর্থাৎ ২৯ নং হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন)।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩১. হযরত হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, আমার সঙ্গির কল্যাণ সম্পর্কে শিক্ষা করিতে। আর আমি অকল্যাণ বিষয় সম্পর্কে শিক্ষা করতাম তার মধ্যে পতিত হওয়ার ভয়ে। (বর্ণনাকারী ঈসা বলেন) অর্থাৎ ফিতনার মধ্যে পতিত হওয়ার ভয়ে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩২. হযরত হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামানে (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা এক সময় মুর্খতা ও মন্দের মধ্যে নিমজ্জিত ছিলাম। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এই কল্যাণ (অর্থাৎ দ্বীন-ইসলাম) দান করেন। তবেকি এই কল্যাণের পর পুনরায় অকল্যান আসবে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, আসবে। তবে তা হইবে ধোঁয়াযুক্ত। ঐ সমস্ত লোকেরা আমাদের মতই মানুষ হইবে এবং আমাদের ভাষাই কথা বলবে। তুমি তাদের মধ্যে ভালো কাজও দেখতে পাবে এবং মন্দ কাজও দেখতে পাবে। জাহান্নামের দ্বারে দাঁড়িয়ে কতিপয় আহ্বানকারী লোকদেরকে সেই দিকে আহ্বান করিবে। যে ব্যক্তি তাদের অনুসরণ করিবে, তাকে তারা জাহান্নামে প্রবিষ্ট করে ছাড়বে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩৩. হযরত হুযায়ফা (রাঃআঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) থেকে

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন (অর্থাৎ ৩২ নং হাদীসের অনুরূপ)।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩৪. হযরত হুযায়ফা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর নিকট কল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করত। আর আমি ক্ষতিকর বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এই ভয়ে যেন আমি তাতে লিপ্ত না হই। একদিন আমি রসূল (সাঃআঃ) এর নিকট বসা ছিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে যেই কল্যাণ দান করিয়াছেন সেই কল্যাণে পর কি পুনরায় অকল্যাণ দান করিয়াছেন। সেই কল্যাণের পর কি পুনরায় অকল্যাণ আসবে? যা পূর্বেও ছিল। তিনি বলিলেন হ্যাঁ, আসবে। আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম তারপর কি হইবে? রসূল (সাঃআঃ) বলিলেন, ধোকার উপর সন্ধি চুক্তি হইবে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, সন্ধিচুক্তির পর কি হইবে? তিনি বলিলেন,কতিপয় আহ্বানকারী গোমরাহীর দিকে আহ্বান করিবে। যদি তুমি তখন আল্লাহর কোন খলীফা (শাসক) এর সাক্ষাৎ পাও তাহলে অবশ্যই তার আনুগত্য করিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩৫. হযরত হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযিঃ হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন। আমার ওম্মত ধ্বংস হইবেনা, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের মধ্যে তামায়ুয, তামায়ুল ও মাআমূ প্রকাশ না পাবে।
হুজাইয়া রাযিঃ বলেন, আমি বললাম, ইয়ারাসূলুল্লাহ আমার আব্বা, আম্মা আপনার জন্য কুরবান হউক তামায়ুম কি জিনিস? রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন, তামায়ুম হচ্ছে আমাবিয়্যাত বা স্বজনপ্রীতি যা আমার পরে মানুষের মাঝে ইসলামের ক্ষেত্রে প্রকাশ পাবে।
অতঃপর জিজ্ঞাস করলাম, তামায়ুল কি জিনিস? জবাবে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন, এক গোত্র অন্য গোত্রে প্রতি হামলা করিবে এবং অত্যাচারের মাধ্যমে একে অপরের উপর আক্রমণ করাকে বৈধ মনে করিবে।
এরপর জানতে চাইলাম ইয়া রাসূলুল্লাহ! মাআমূ কি জিনিস? রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ জবাব দিলেন, এক শহরবাসী অন্য শহরবাসীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হইবে, যার কারণে তারা একে অপরের বিরোধীতায় মেতে উঠবে। এটা বুঝাতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এক হাতের আঙ্গুল অন্য হাতে প্রবেশ করালেন। তিনি আরো বলিলেন, এ অবস্থা তখনই হইবে যখন ব্যাপকভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশৃংঙ্খলা দেখা দিবে এবং বিশেষ কিছু লোকের অবস্থা তুলনামূলক ভালো থাকিবে। সুসংবাদ ঐ ব্যক্তির জন্য যাকে আল্লাহ তাআলা খাছ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে এসলাহ দান করিয়াছেন।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩৬. হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, বনী ইসরাঈলদের মধ্যে এমন কোন বিষয় ছিলনা যা তোমাদের মধ্যে সংঘটিত হইবেনা।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩৭. হযরত আবুল আলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, যখন তাসতুর নামক এলাকা বিজয় হয়,তখন আমরা হরমুজের স্টোর রুমে একটা জিনিষ পেলাম, দেখলাম, খাটিয়ার উপর রাখা একটি লাশের মাথার পার্শ্বে একটা লিখিত কিছু রেখে দেয়া আছে। ধারনা করা হয় এটা হযরত দানিয়াল আঃ এর লাশ।
অতঃপর আমরা সেটাকে আমীরুল মু’মিনীন হযরত ওমর রাযিঃ এর কাছে পাঠিয়ে দিলাম। হযরত আবুল আলিয়া বলেন, আরবদের থেকে আমিই সেটাকে সর্বপ্রথম পাঠ করি। পরবর্তীতে লিখিত কাগজগুলোকে কা’ব এর নিকট পাঠানো হলো তিনি সেগুলো আরবী ভাষায় অনুবাদকালে, দেখা গেল; হযরত দানিয়াল আঃ এর সাথে থাকা কাগজের মধ্যে যাবতীয় সব ফিৎনার বর্ণনা স্পষ্টভাবে রয়েছে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩৮. বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাযিঃ হতে বর্ণিত,

তিনি নিম্নের আয়াত সম্বন্ধে বলেন, এখনো পর্যন্ত উক্ত আয়াতের মর্ম প্রকাশ পায়নি। আয়াতটি হচ্ছে, —————————————–
——————————————— অর্থাৎ, হে মুমিনগন! তোমরা নিজেদের চিন্তা কর। তোমরা যখন সৎপথে রয়েছে, তখন কেউ পথভ্রান্ত হলে তাতে তোমাদের কোনো ক্ষতি নেই। (সূরা মায়েদাহ-১০৫)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাযিঃ বলেন, আল্লাহ তাআলা সর্ব বিষয়কে সামনে রেখে কুরআন শরীফ নাযিল করিয়াছেন। তার মধ্যে এমন কতক বিষয় রয়েছে, যা কুরআন অবতির্ণ হওয়ার পূর্বেই প্রকাশ পেয়েছে, আবার কতক আয়াত এমন রয়েছে যার ব্যাখ্যা রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এর যুগে প্রকাশ পেয়েছে। কিছু আয়াত এমন আছে, যার সামান্য ব্যাখ্যা রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার পর সংঘটিত হয়েছে। কিছু আয়াত এমন আছে, যার ব্যাখ্যা পরবর্তী যুগে প্রকাশ পাবে। আবার কিছু আয়াতের ব্যাখ্যা ফুটে উঠবে হিসাব-নিকাশের দিন। সেগুলো হচ্ছে, ঐ সব আয়াত যার মধ্যে হিসাব-নিকাশ, জান্নাত-জাহান্নাম সম্বন্ধে লেখা রয়েছে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৩৯. ওমাইর ইবনু হানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন আমাদেরকে বর্ণনা করিয়াছেন এমন কতক শাইখ যারা সিফফীন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিয়াছেন। তারা বলেন, আমরা যূদী পাহাড়ে এসে হঠাৎ করে আবু হুরাইরা রাযিঃ এর সাক্ষাৎ হলো। আমরা তাকে একহাত অন্যহাতের উপর রেখে পিছনে ধরে রাখা অবস্থায় পেলাম। পাহাড়ের সাথে ঠেশ দিয়ে বসে আল্লাহ তাআলার যিকিররত থাকতে দেখলাম। আমরা তাকে সালাম দিলে তিনি সালামের উত্তর দিলেন। আমরা তাঁকে বললাম,এ ফিৎনা সম্বন্ধে আমাদেরকে কিছু অবগত করুন। অতঃপর তিনি বলিলেন, নিশ্চয় তোমরা উক্ত ফিৎনার ক্ষেত্রে তোমরা তোমাদের শত্র“র বিরুদ্ধে সাহায্যপ্রাপ্ত হইবে। এরপর তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের ফিৎনা প্রকাশ পাবে, যা মূলতঃ মধুর মধ্যে পানির ন্যায়। তেমনিভাবে তোমাদেরকে ধ্বংস করে দেয়াহইবে, অথচ তোমরা নগন্য এবং লজ্জিত হইবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৪০. হযরত সামুরা ইবনু জুনদুব রাযিঃ বলেন,

কিয়ামত সংঘঠিত হইবেনা, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা বড় বড় কিছু বিষয় স্বচক্ষ্যে দেখবেনা এবং তোমরা সেগুলো নিজেদের মধ্যেও আলোচনা করার সাহস পাবে না।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৪১. হযরত সালমা ইবনু নুকাইল রাযিঃ হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ কে বলিতে শুনিয়াছি, তোমরা আমার পর এমন কিছু সময় অবস্থান করিবে, যার মধ্যে তোমরা একে অপরের শত্র“তে পরিণত হইবে এবং অতিসত্ত্বর তোমরা কিছু সন্যের উপর হামলা করিবে, যারা এক দল অন্য দলের উপর হামশে পড়বে। কিয়ামতের পূর্বে ব্যাপক হত্যা প্রকাশ পাবে এবং এর পর কিছু বৎসর এমনভাবে অতিবাহিত হইবে যেন সেগুলো ভুমিকম্পের বৎসর।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৪২. হযরত মাকহুল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিত,

আল্লাহতায়ালর বাণী ———————————- অর্থাৎ “তোমরা এক সিঁড়ি থেকে আরেক সিঁড়িতে আরোহন করিবে।” (সূরা ইনশিক্বাক্বঃ ১৯) (বর্ণনাকারী এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেনঃ) প্রত্যেক বিশ বছরের মধ্যে তোমরা যে অবস্থাতে ছিলে, সেটা ছাড়া অন্য অবস্থাতে থাকিবে। (অর্থাৎ প্রতি বিশ বছর পর পর তোমাদের অবস্থা পরিবর্তন হতে থাকিবে।)

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৪৩. হযরত সা’য়াদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এই আয়াত তিলাওয়াত করিলেন, তথা ————————————————————————– অর্থাৎ “হে নবী আপনি বলে দিন ঃ তিনিই (আল্লাহ) শক্তিমান যে, তোমাদের উপর কোন শাস্তি উপর দিক থেকে অথবা তোমাদের পদতল থেকে প্রেরণ করবেন।” (সূরাঃআঃ আন’আমঃ ৬৫)। অতঃপর রসূল (সাঃআঃ) বলেছেন, জেনে রেখ! নিশ্চয় তা সংঘটিত হইবে। (বর্ণনাকারী বলেন) এর পর তার আর কোন ব্যাখ্যা করেননি।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৪৪. বিশিষ্ট সাহাবী হযরত মুআম ইবনু জাবাল রাযিঃ হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, নিঃ সন্দেহে তোমরা দুনিয়াতে ফিৎনা ফাসাদ এবং বালা-মসিবতই দেখতে পাবে। ধীরে ধীরে মোয়ামালা কঠিন থেকে কঠিনতর হতে থাকিবে। যেসব বালা মসিবতগুলো তোমাদের কাছে ভয়াবহ এবং মারাত্মক মনে হইবে কিন্তু তোমাদের পরবর্তীদের কাছে খুবই সহজলভ্য মনে হইবে, যেহেতু তারা এর থেকে আরো কঠিন বিপদ আপদের সম্মুখিন হইবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৪৫. মির ইবনু হুবাইশ রহমাতুল্লাহি আলাইহি হইতে বর্ণিত,

তিনি হযরত আলী রাযিঃ কে বলিতে শুনেছেন, তোমরা আমার কাছে জানতেচাও, আল্লাহর কসম! কিয়ামতের পূর্বে প্রকাশ পাওয়া শত শত দল যারা যুদ্ধে লিপ্ত হইবে তাদের সম্বন্ধে আমার কাছে জানতে চাওয়া হলে,আমি তাদের সেনাপ্রধান, পরিচালনাকারী এবং আহবানকারী সকলের নাম বলে দিতে পারব। তোমাদের এবং কিয়ামতের মাঝখানে যা কিছু সংঘটিত হইবে সবকিছু পরিস্কারভাবে বলিতে পারব।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৪৬. হযরত মুয়াবিয়া ইবনু আবু সুফিয়ান (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, জেনে রাখ! দুনিয়াতে বিপদ ও ফিতনা ছাড়া কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকিবে না।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৪৭. হযরত যুবায়ের ইবনু আদী আনাস ইবনু মালেক (রাঃআঃ)-কে বলিতে শুনেছেন যে,

আগামীতে তোমাদের উপর যে বছর আসবে তা অতীত অপেক্ষা আরো মন্দ হইবে।  একথাগুলো আমি তোমাদের নবী (সাঃআঃ) হতে শুনিয়াছি।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৪৮. হযরত আবুল জিল্দ জিলান হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, নিশ্চয় মুসলমানরা বিপদে আপতিত হইবে পর মানুষ তাদের চতুর্দিকে ঘোরাঘুরি করিতে থাকিবে। ফলে মুসলমান কষ্টের কারণে ইহুদী ও খৃষ্টান হয়ে প্রত্যাবর্তন করিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৪৯. হযরত হুযায়ফা (রাঃআঃ) ও হযরত আবু মুসা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তারা উভয়ে রসূল (সাঃআঃ) কে বলিতে শুনেছেন, যে, কিয়ামতের পূর্বে এমন দিন আসবে যে তাতে মুর্খতা অবতীর্ণ হতে থাকিবে এবং ‘হারজ’ বেড়ে যাবে। লোকেরা প্রশ্ন করলো ইয়া রাসূলাল্লাহ ‘হারজ’ কী? তিনি বলিলেন হত্যা।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৫০. বিশিষ্ট তাবেঈ হযরত আ’নাশ রহমাতুল্লাহি আলাইহি হইতে বর্ণিত,

তার কাছে যিনি বর্ণনা করেছে তার কাছ থেকে তিনি নকল করিয়াছেন, তিনি বলেন, তোমাদের কাছে যখনই এমন কোনো বালা মসিবত প্রকাশ পায়,যার কারণে তোমরা চিল্লাচিল্লি করিবে, কিন্তু পিছনে এমন আরো বালা-মসিবত অপেক্ষা করছে যা এর থেকেও মারাত্মক। যে বালা মসিবত তোমাদেরকে পূর্বের মসিবতকে ভুলিয়ে দিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৫১. হযরত আবু ওয়ায়েল হযরত আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন,

তিনি বলেন, যখন ফিতনা তোমাদেরকে জড়াবে তখন তোমাদের কি অবস্থা হইবে? তাতে বড়রা অতিবৃদ্ধ হয়ে যাবে এবং ছোটরা বড় হতে থাকিবে। মানুষ তাকে সুন্নত হিসাবে গ্রহণ করিবে। যখন তা থেকে কোন কিছু ছেড়ে দিবে,তখন বলা হইবে তুমি সুন্নতকে ছেড়ে দিয়েছ। কেউ প্রশ্ন করিল হে আবু আব্দুর রহমান, তা কখন হইবে? তিনি বলিলেন যখন তোমাদের মধ্যে অজ্ঞব্যক্তিরা ব্যাপকতা লাভ করিবে,আর আলেমগণ কমে যাবে। কারী ও নেতা বৃদ্ধি পেতে থাকিবে আমানতদার ব্যক্তি কমে যাবে। আখেরাতের আমলের মাধ্যমে দুনিয়া অন্বেষণ করিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৫২. হযরত হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন,তোমাদের মাঝে এবং তোমাদের উপর অকল্যান নিপতিত হওয়ার মাঝে একমাত্র দুরত্ব হলো ওমর (রাঃআঃ) এর মৃত্যু। (অর্থাৎ ওমর (রাঃআঃ) এর মৃত্যুর পর থেকেই অকল্যাণ তথা ফিতনা আসতে থাকিবে।)

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৫৩. হযরত হুযায়ফা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, তোমাদের মাঝে এবং অকল্যাণের মাঝে একমাত্র দূরত্ব হলো একজন ব্যক্তি। তিনি যখন মৃত্যুবরণ করবেন তখন তোমাদের উপর অকল্যাণকে ঢেলে দেওয়া হইবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৫৪. হযরত আব্দুর রহমান ইবনু আউফ রাযিঃ এর এক গোলাম বলেন,

আমি একদিন হযরত আবু হুরায়রা রাযিঃ কে দেখলাম, যে অবস্থায় তিনি কতক বাচ্চাকে একথা বলিতে শুনেছেন, “পরবর্তীতে অবস্থা খুবই ভয়াবহ হইবে”। একথা শুনার সাথে সাথে হযরত আবু হুরায়রা রাযিঃ বলে উঠলেন,কসম যে সত্ত্বার যার হাতে আমার প্রাণ, কিয়ামতের দিন পর্যন্ত আরো অনেক কঠিন ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখিন হতে হইবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৫৫. হযরত হুজায়ফা রাযিঃ হতে বর্ণিত,

তিনি একদিন আমেরকে বলিলেন, হে আমের! তুমি যা অবলোকন করছ যেগুলো যেন তোমাকে ধোকায় ফেলে না দেয়, হতে পারে এগুলো খুব দ্রুত তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বের করে আনবে। যেমন,এক মহিলা অন্য মহিলার সামনে তার লজ্জাস্থানকে প্রকাশ করে থাকে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৫৬. হযরত আবু হুরায়রা রাযিঃ হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন, সর্বপ্রথম পারস্যবাসীরা ধ্বংস হইবে। তাদের ধ্বংসের পরপর আরবের অধিবাসীগণ ধ্বংস হতে থাকিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৫৭. হযরত উবাই ইবনু কা’ব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, নবী করীম (সাঃআঃ) এর যুগে আমরা একদিকে মনোযোগি ছিলাম, অতঃপর যখন রসূল (সাঃআঃ) ইন্তেকাল করিলেন তখন আমরা এদিক সেদিক মনোযোগ দিতে লাগলাম।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৫৮. মুহাম্মদ ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু আবিযি’ব রহমাতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়ের রাযিঃ কে বলিতে শুনিয়াছি, আমার রাষ্ট্র পরিচালনা সম্বন্ধে হযরত কা’ব যেসব মসিবতের কথা বলেছেন আমি আমার জিম্মাদারী পালন করিতে গিয়ে সবকিছুর সম্মুখিন হয়েছি।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৫৯. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু রাযিঃ হতে বিশিষ্ট তাবেঈ হযরত মুজাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন।

একদিন হযরত ইবনু ওমর রাযিঃ আবু কুবাইদের উপর কিছু সূউচ্চ বাড়ি দেখতে পেয়ে বলিলেন, হে মুজাহিদ! যখন তুমি মক্কার ঘর বাড়িকে তার আশ্বপাশ্বের বাড়ি ঘর থেকে উঁচু দেখতে পাবে এবং তার অলি-গলিতে পানি প্রবাহিত হতে দেখবে তখন তুমি অবশ্যই এগুলো থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬০. হযরত আবু ওয়ায়েল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন,

আমি হুযায়ফা (রাঃআঃ) কে বলিতে শুনিয়াছি একদা আমরা হযরত ওমর (রাঃআঃ) এর বসা ছিলাম। তখন তিনি বলিলেন, তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তির রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর ফিতনা সম্পর্কীয় বাণী স্মরণ আছে? হযরত হুযায়ফা (রাঃআঃ) বলেন, আমি বললাম, আমার স্মরণ আছে তিনি যে ভাবে বলেছেন, হযরত ওমর (রাঃআঃ) বলিলেন, এ ব্যাপারে তুমি সৎসাহসী সুতরাং তা পেশ কর। আমি বললাম মানুষ ফিতনায় পড়বে তার পরিবার-পরিজনের ব্যাপারে, মালসম্পদের ব্যাপারে, তার নিজের সন্তানসন্ততি ও পাড়া প্রতিবেশীর ব্যাপারে। তবে নামাজ, সদকা এবং ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ তা মিটিয়ে দেবে। হযরত ওমর (রাঃআঃ) বলিলেন, আমি এ ফিতনা সম্পর্কে জানতে চাইনি, বরং যে ফিতনা সমুদ্রের তরঙ্গমালার মত উত্থিত হইবে এবং তোলপাড় করে ফেলবে, সে ফিতনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছি। হযরত হুযায়ফা (রাঃআঃ) বলেন, তখন আমি বললাম,হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি ভয় করবেন না, (তা তো আপনাকে পাবেনা।) কেননা সেই ফিতনা ও আপনার মধ্যে একটি আবদ্ধ দরজা রয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, আচ্ছা সেই দরজাটি কি ভেঙ্গে দেওয়া হইবে, না খোলা হইবে? হযরত হুযায়ফা (রাঃআঃ) বলেন, আমি বললাম, খোলা হইবে না; বরং ভেঙ্গে দেওয়া হইবে। তখন হযরত ওমর (রাঃআঃ) বলেন, তাহলে তা আর কখনো বন্ধ করা হইবেনা। আমি বললাম হ্যাঁ। রাবী বলেন, তখন আমরা হযরত হুযায়ফা (রাঃআঃ কে জিজ্ঞাসা করলাম আচ্ছা হযরত ওমর (রাঃআঃ) কি জানতেন দরজাটি কে? উত্তরে তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, তিনি এমন নিশ্চিতভাবে জানতেন যেমন আগামীকালের পূর্বে রাত্রির আগমন সুনিশ্চিত। আমি তাঁকে (ওমর (রাঃআঃ)কে) এমন একটি হাদীস বর্ণনা করেছে,যা কোন গোলক ধাঁধা নয়। রাবী শাক্বীক্ব বলেন, আমরাতো এ ব্যাপারে হযরত হুযায়ফা (রাঃআঃ)কে জিজ্ঞাসা করিতে ভয় পাচ্ছিলাম তাই হযরত মাসরূক্বকে বললে তিনি হযরত হুযায়ফাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, দরজাটি কে? উত্তরে তিনি বলিলেন, দরজাটি হলেন ‘ওমর’ নিজেই।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬১. হযরত কা’ব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, নিশ্চয় মানুষের উপর এমন যুগ আসবে যে, মুমিন ব্যক্তি তার ঈমানের ব্যাপারে অপমানবোধ করিবে। যেমন আজকাল পাপিষ্ট তার পাপের ব্যাপারে অপমান বোধ করে। এমনকি যে কোন ব্যক্তিকে বলা হইবে যে, তুমি মুমিন, ফকীহ। (ফিক্হশাস্ত্রবিদ)

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬২. হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, যখন মিথ্যা প্রকাশ পাবে তখন হত্যা বেশী হতে থাকিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৩. হযরত আয্রা ইবনু কাইছ থেকে বর্ণিতঃ

একদিন হযরত খাশেদ ইবনু ওলীদ রাযিঃ শামের মধ্যে খুতবা দেয়া অবস্থায় এক লোক দাড়িয়ে বলল, নিঃ সন্দেহে ফিৎনা প্রকাশ পেয়ে গেল। একথা শুনে হযরত খালেদ বিন ওলীদ রাযিঃ বলিলেন, হযরত ওযর রাযিঃ যত দিন জীবিত থাকিবেন ততদিন নয়। সেটা তখনই হইবে যখন মানুষ বিভিন্ন প্রকার বালা মসিবতে লিপ্ত হয়ে পড়বে। যে বালা-মসিবত থেকে বাঁচার জন্য মানুষে বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিতে চেষ্টা করিবে কিন্তু যে রকম কোনো আশ্রয়স্থল তারা পাবে না। মূলতঃ তখনই ফিৎনাসমূহ প্রকাশ পেতে থাকিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৪. হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, নিশ্চয় রাত্রি সমূহ, দিন সমূহ, মাস সমূহ এবং যুগ সমূহ এর অকল্যাণ কিয়ামতের বেশী নিকটবর্তি।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৫. হযরত হুজাইফা ইবনুল এমান রাযিঃ হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, একদিন হযরত ওমর রাযিঃ এর কাছে আসলে তিনি আমাদেরকে নিয়ে কথাবার্তা বলিতে গিয়ে বলিলেন, তোমাদেরকে নিয়ে কথাবার্তা বলিতে গিয়ে বলিলেন, তোমাদের মাঝে এমন কে আছ, যে লোক ফিৎনা সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এর বাণীর হেফাজতকারী। তারা সকলে বলিলেন, এ সম্বন্ধে তো আমরা সকলেই শুনিয়াছি, এক পর্যায়ে হযরত ওমর রাযিঃ বলিলেন, হয়তো বা তোমরা তোমাদের ব্যক্তিগত এবং পরিবার গত ফিৎনার কথা বলছো। তারা সকলে বললো, হ্যাঁ আমরা সকলে এরকম ধারনা করেছি। তাদের কথা শুনে হযরত ওমর রাযিঃ বলিলেন, আমার উদ্দেশ্য কিন্তু সেটা নয়, সেটা তো নামায-রোযা দ্বারা মাফ হয়ে যাবে। বরং এমন ফিৎনা সম্বন্ধে আমি জিজ্ঞাসা করিতে চাচ্ছি, যা,সমুদ্রের যত বিশাল বিশাল আকারের ঢেউ তুলবে। হযরত ওমর রাযিঃ এর কথা শুনে উপস্থিত সকলে চুপ হয়ে যায়। আমি ভাবলাম তিনি আমারই মনোযোগ আকৃষ্ট করিতে চাচ্ছেন। ফলে আমি বলে উঠলাম, হে আমীরুল মুমিনীন! আমি বলিতে পারব। আমার কথা শুনে তিনি বলিলেন অবশ্যই, তোমার পিতা আল্লাহর জন্য কুরবান হোক।
আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! উক্ত ফিৎনার বিপরীত একটা শক্তভাবে বন্ধ দরজা রয়েছে যে দরজা খোলা হইবে না হয় ভাঙ্গা হইবে। হযরত ওমর রাযিঃ বলিলেন তোমার ধ্বংস হোক যে দরজা ভাঙ্গ হইবে?
আমি বললাম, হ্যাঁ! ভাঙ্গ হইবে, আমার কথাশুনে তিনি বলিলেন, যদি যে দরজা ভাঙ্গা হয়, হয়তো সেটা আর বন্ধ করা সম্ভব হইবেনা। অতঃপর আমি বললাম, হ্যাঁ যেটা ভেঙ্গে ফেলা হইবে এবং যে দরজা হচ্ছেন, একজন মহান ব্যক্তি, হয়ত তাকে হত্যা করা হইবে, না হয় তিনি স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করবেন। এটা এমন হাদীস যার মধ্যে সন্দেহের লেশমাত্র নেই।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৬. বিশিষ্ট সাহাবী হযরত নু’মান ইবনু বশির রাযিঃ হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন, কিয়ামতের পূর্বে এমন কিছু ফিৎনা প্রকাশ পাবে, যেন যেগুলো অন্ধকার রাতের একটা টুকরা। সকাল বেলা যে লোক মুসলমান থাকিবে বিকালে যে কাফের হয়ে যাবে। একদিন সন্ধ্যার সময় যে মুসলমান থাকিবে, পরের সকালে সে কাকের হয়ে যাবে। মানুষ তাদের চরিত্রকে দুনিয়ার সামান্য ও নগন্য বস্তুর বিনিময়ে বিক্রি করে দিবে। উক্ত হাদীসের বর্ণনাকারীদের একজন হযরত হাসান বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আল্লাহর কসম, যিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, নিঃসন্দেহে আমি তাদেরকে এমন সূরতে দেখেছি, যেন তাদের মধ্যে কোনো বোধশক্তি নেই, তারা যেন জ্ঞান-বুদ্ধিবিহীন কিছু শরীর। তাদেরকে দেখলে মনে হয় আগুনের বিছানা এবং লোভি মাছি। সকার করে দুই দেরহাম দ্বারা, সন্ধ্যা করে দুই দেরহামের মাধ্যমে। তারা নিজেদের দ্বীনকে বিক্রি করে দিবে, সামান্য একটা ছাগলের টাকার বিনিময়ে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৭. হযরত আবু ওয়ায়েল শাকীক বলেন,

হুযায়ফা (রাঃআঃ) বলেছেন, একদা হযরত ওমর (রাঃআঃ) রসূল (সাঃআঃ) এর সাহাবীদেরকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর ফিতনা সম্পর্কীয় বাণী শুনেছ? হযরত হুযায়ফা (রাঃআঃ) বলেন,আমি বললাম, আমি রসূল (সাঃআঃ) কে বলিতে শুনিয়াছি যে, মানুষ ফিতনায় পড়বে তার পরিবার-পরিজনের ব্যাপারে, মাল সম্পদের ব্যাপারে এবং তার পাড়া-প্রতিবেশীর ব্যাপারে। তবে রোজা, নামাজ ও সদকা তা মিটিয়ে দেবে। হযরত ওমর (রাঃআঃ) বলেন, আমি এ ফিতনা সম্পর্কে জানতে চাইনি, বরং যে ফিতনা সমুদ্রে তরঙ্গমালার মতো উত্থিত হইবে এবং তোলপাড় করে ফেলবে, আর তা একের পর এক আসতে থাকিবে, সে ফিতনা সম্পর্কে রসূল (সাঃআঃ) এর বাণী জানতে চেয়েছি। হযরত হুযাইফা (রাঃআঃ) বলেন, তখন আমি বললাম হে আমীরুল মুমিনীন! উক্ত ফিতনা সম্পর্কে আপনি ভয় করবেন না! (তা আপনাকে পাবেনা) কেননা সেই ফিতনা ও আপনার মধ্যে একটি আবদ্ধ দরজা রয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, আচ্ছা সেই দরজাটি কেমন হইবে? তা কি ভেঙ্গে দেওয়া হইবে, না খোলা হইবে? হুযায়ফা (রাঃআঃ) বলেন, আমি বললাম, খোলা হইবে না; বরং ভেঙ্গে দেওয়া হইবে। অতঃপর কিয়ামত পর্যন্ত তা আর কখনো বন্ধ করা হইবে না।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৮. বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু মুসা আশআরী রাযিঃ হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন, নিশ্চয়, কিয়ামতের পূর্বে হারজ বা গণহত্যা হইবে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! হারজ কী? রাসূলুল্লাহ যাঃ বলিলেন, ব্যাপক হত্যা। আমরা সহসা জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূলুল্লাহ! বর্তমানে যেমন হত্য চলছে তার থেকেও বেশি হইবে! জবাবে তিনি বলিলেন, মুসলমানদের অবস্থা তখনকার যুগে বর্তমানের চেয়ে আরো উন্নত হইবে।
এক পর্যায়ে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন, তোমাদেরকে কাফেররা হত্যা করিবেনা, বরং তোমরা নিজেরাই একে অপরকে হত্যা করিবে। এমন কি মানুষ তার আপন ভাই, চাচাত ভাই এবং প্রতিবেশিকে হত্যা করিবে। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এর মুখ থেকে একথা শুনার সাথে সাথে উপস্থি সকলে এমনভাবে আশ্চর্য্যন্বিত হয়ে পড়ল, যার ফলে অনেক সময় স্পষ্ট বস্তুও আমাদের দৃষ্টিগোচর হতোনা।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৬৯. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, যখন ফিতনা তোমাদেরকে জড়াবে তখন তোমাদের কি অবস্থা হইবে? তাতে বড়রা আরো বৃদ্ধ হইবে এবং ছোটরা বড় হয়ে থাকিবে। মানুষ তাকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করিবে। যখন তাতে কোন কিছু পরিবর্তিত হইবে তখন লোকেরা বলবে এটা দ্বীন পরিপন্থি। কেউ জিজ্ঞাসা করলো তা কখন ঘটবে? তখন তিনি বলিলেন, যখন তোমাদের মধ্যে নেতারা আধিক্যতা লাভ করিবে আর আমানতদার ব্যক্তি কমে যাবে। বক্তাবৃন্দ আধিক্যতা লাভ করিবে আর দ্বীনের বিজ্ঞ আলেমগন (ফকীহ) কমে যাবে। তার দ্বীন ব্যতিত অন্য কিছু (বদদ্বীন) শিক্ষা করিবে এবং তারা আখেরাতের আমলের বিনিময়ে দুনিয়া অন্বেষণ করিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৭০. আবু কুবাইল রাযিঃ হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, আমি মাসলামা ইবনু মাখলাদ আল আনসারীকে বলিতে শুনিয়াছি, তিনি সামুদ্রিক সৈন্য প্রেরণের ক্ষেত্রে কিছুটা বৃদ্ধি করেছিলেন, যার কারণে তার অন্য সৈন্যরা অসন্তুষ্ট হয়েছিল। তিনি তাদের এ অবস্থা দেখে মিম্বরে দাড়িয়ে বলিলেন, হে মিশরবাসী! তোমরা আমাকে ভর্ৎসনা করোনা। আল্লাহর কসম নিঃসন্দেহে আমি বৃদ্ধি করেছি তোমাদের সৈন্য সংখ্যায় এবং তোমাদের রসদপত্রের মধ্যে অনেক বৃদ্ধি করেছি আর আমি তোমাদের শত্র“দের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে শক্তিশালী করেছি। একথা জেনে রেখ, নিশ্চয় আমি তোমাদের পরবর্তীদের থেকে অনেক-অনেক উত্তম। কেননা ধীরে ধীরে মানুষের মাঝে ফিৎনা বৃদ্ধি পাবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৭১.  বিশিষ্ট সাহাবী হযরত হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাযিঃ হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ কে বলিতে শুনিয়াছি, কিয়ামত সংঘটিত হইবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের ইমামকে হত্যা করিবেনা এবং তোমরা অযথা তোমাদের তলোয়ার পরিচালনা করিবেনা। এপৃথিবীর মালিক বনে যাবে নিকৃষ্টতম লোকজন।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৭২. হযরত আওফ ইবনু মালেক আশজারী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত।

তিনি বলেন, রসূল (সাঃআঃ) আমাকে বলিলেন, হে আওফা কিয়ামতের পূর্বের ছয়টি নির্দেশনকে তুমি গণনা করে রাখ। (১) আমার ওফাত। (হযরত আওফ বলেন) একথা আমাকে কাদিয়ে দিল। তখন রসূল (সাঃআঃ) আমাকে চুপ করিয়ে দিলেন। অতঃপর রসূল (সাঃআঃ) বলিলেন বলো এক, (২) বায়তুল মুকাদ্দস বিজয়, (রসূল (সাঃআঃ) বলিলেন বলো দুই। (৩) ব্যাপক মহামারী যা আমার উম্মতের মধ্যে বকরির মাড়কের ন্যায় দেখা দিবে। (রসূল (সাঃআঃ) বলিলেন) বলো তিন। (৪) আমার উম্মতের মধ্যে ফিতনা সংঘটিত হইবে এবং বিরাট আকার ধারন করিবে। (রসূল সাঃআঃ বলিলেন) বলো চার। (৫) তোমাদের মধ্যে ধন সম্পদের এত প্রাচুর্য হইবে যে, কোন ব্যক্তিকে একশত দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) প্রদান করলেও সে (এটাকে নগন্য মনে করে) অসন্তুষ্টি প্রকাশ করিবে। (রসূল সাঃআঃ বলিলেন) বলো পাঁচ। (৬) বনুল আসফার (রোমবা) দের সাথে তোমাদের একটি সন্ধিচুক্তি হইবে। অতঃপর তারা তোমাদের নিকট গিয়ে তোমাদেরকে হত্যা করিবে এবং মুসলমানরা তখন এমন ভূমিতে থাকিবে যাকে মদীনার নিম্নাঞ্চল বলা হয় এবং তাকে দামেস্ক (নগরী) ও বলা হয় (যা সিরিয়ার রাজধানী)।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৭৩. হযরত আউফ ইবনু মালেক রাযিঃ হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ আমাকে সম্মোধন করে বলেছেন হে আউফ! তুমি কিয়ামতের ছয়টা আলামত চিহ্নিত করে রেখো, তার মধ্যে সর্বপ্রথম তোমাদের নবীর মৃত্যুবরণ করা। এটা হচ্ছে একটা, আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, বায়তুল মোকাদ্দাসের জয়লাভ করা, তৃতীয় হচ্ছে, ছাগলের মাড়কের ন্যায় ব্যাপক মহামারী দেখা দিবে। চতূর্থ হচ্ছে, তোমাদের মাঝে এমন ব্যাপক ফিৎনা দেখা দিবে যার সাথে আরবের প্রতিটি ঘর জড়িয়ে যাবে। পঞ্চম হচ্ছে, তোমাদের আর বলিল —– তথা রোমবাসীদের মাঝে চুক্তি হওয়া। অতঃপর তারা তোমাদের বিরুদ্ধে নয় মাসের গর্ভবতী মহিলাদের ন্যায় ভারি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমায়েত হইবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৭৪. হযরত আওফ ইবনু মালেক (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত।

তিনি বলেন, নবী করীম সাঃআঃ আমাকে কিয়ামতে পূর্বের ছয়টি নিদর্শনের কথা বলেছেন। (১) তোমাদের নবীর ওফাত। (২) বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়। (৩) বকরির মাড়কের ন্যায় ব্যাপক মহামারী। (৪) তোমাদের মাঝে এবং বনুল আসফার (রোমকদের) মাঝে সন্ধি-চুক্তি হইবে। (৫) মদীনাতে কুফরীর সূচনা (৬) এবং মানুষ অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে (নগন্য মনে করে) একশত দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) ফিরিয়ে দিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৭৫. হযরত আওফ ইবনু মালেক (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত।

তিনি বলেন, রসূল সাঃআঃ আমাকে কিয়ামতের পূর্বের ছয়টি নিদর্শনের কথা বলেছেন। ১. আমার ওফাত। ২. অতঃপর বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়। ৩. আশ্রয় স্থল হইবে, যেখানে আমার উম্মত শাম থেকে অবতরণ করিবে। ৪. তোমাদের মধ্যে এমন ফিতনা সংঘটিত হইবে যে, আরবে এমন কোন ঘর অবশিষ্ট থাকিবেনা যে ঘরে ফিতনা প্রবেশ করিবেনা (অর্থাৎ প্রতিটি ঘরেই তা প্রবেশ করিবে। ৫. অতঃপর তোমাদের সাথে রোমকদের সন্ধি-চুক্তি হইবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৭৬. হযরত হুয়ান ইবনু আমর রাযিঃ হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, তুয়ানার যুদ্ধে আমরা রোম ভুখন্ডে প্রবেশ করে একটি উঁচু টিলাতে অবস্থান করি। এক পর্যায়ে আমি আমার সাথীদের বাহন থেকে একটি বাহনের মাথা উঁচু করে ধরি। আর আমার সাথীরা তাদের বাহনের জন্য দানা-পানির ব্যবস্থা করিতে যায়। এমন অবস্থায় হঠাৎ শুনলাম কেউ যেন বলছে “আস্সালামু আলাইকা ওয়ারাহমাতুল্লাহ” সালামের আওয়াজ শুনে দেখলাম সাদা কাপড় পরিহিত এক লোক। আমি সালামের জবাব দিলে তিনি বলিলেন, তুমি কি আহমদের উম্মতের অর্ন্তভুক্ত আমি হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলে তিনি বলিলেন, তোমাদে ধৈর্য্যধারন করিতে হইবে। কেননা এ উম্মত মুলতঃ উম্মতে মারহুমা হতে গণ্য। আল্লাহ তাআলা তাদের উপর পাঁচ ধরনের ফিৎনা রেখেছেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ করিয়াছেন।
অতঃপর আমি বললাম, সেগুলোর নাম উল্লেখ করুন। তিনি বলিলেন, পাঁচটির একটি হচ্ছে, তাদের নবীর মৃত্যুবরণ করা, যাকে কিতাবুল্লাহর ভাষায় বাগ্তাহ্ বা হঠাৎ বলা হয়েছে। অতঃপর হযরত ওসমান রাযিঃ এর শাহাদাত বরণ করা। যেটা কিতাবুল্লাহ ‘যক্ষ্মা’ — বা বধির ফিৎনা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এরপর হচ্ছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর রাযিঃ এর ফিৎনা যা কিতাবুল্লাহর ভাষায় আল আমইমা বা অন্ধফিৎনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তারপর হলো, ইবনুল আসআছ এর ফিৎনা। যাকে কিতাবুল্লাহতে আল বুতাইরা বা বেজোড় ফিৎনা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। অতঃপর এ বলে চলে যেতে লাগল, “ছালাম বাকি রইল, ছালাম বাকি রইল”। সে কীভাবে চলে গেল আমি কিন্তু জানতে পারলামনা।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৭৭. হযরত আলী ইবনু আবু তালেব রায়িঃ হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা এ উম্মতের জন্য পাঁচটি ফিৎনা নির্ধরন করিয়াছেন। প্রথমে ব্যাপক ফিৎনা হইবে এরপর হইবে খাস ফিৎনা। অতঃপর আবারো ব্যাপক ফিৎনা দেখা দিবে। তারপর আসবে খাছ ফিৎনা। তারপর এমন কালো অন্ধাকারাচ্ছন্ন ফিৎনা প্রকাশ যদ্বারা মানুষ চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় হয়ে যাবে। অতঃপর কিছু চুক্তি হইবে এবং লোকজনকে পথভ্রষ্টার দিকে আহ্বানকারী প্রকাশ পাবে। যদি তখন আল্লাহ তাআলার দ্বীনের উপর অটল থাকার মত কোনো খলীফা বাকি থাকে তাহলে তোমরা তার আনুগত্য কর।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৭৮. হযরত আলী রাযিঃ হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, এ উম্মতের জন্য পাঁচ প্রকার ফিৎনা নির্ধারন করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি হচ্ছে, সর্বদা অন্ধ,বধির হিসেবে থাকার ফিৎনা।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৭৯. হযরত হুযায়ফা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত।

তিনি বলেন, ফিতনা সংঘটিত হইবে, অতঃপর জামাত ও তাওবা হইবে। অতঃপর জামাত ও তাওবা হইবে। (এর পর চতুর্থবার উল্লেখ করিলেন) অতঃপর তাওবাও হইবেনা এবং জামাতও হইবেনা।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৮০. হযরত যেলা – রহমাতুল্লাহি আলাইহি হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, আমি হযরত হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযিঃ কে বলিতে শুনিয়াছি, ইসলামের মধ্যে চার প্রকারের ফিৎনা প্রকাশ পাবে। যাদের থেকে চতুর্থ প্রকারের ফিৎনা গিয়ে বহুরূপি দাজ্জালের নিকট আত্মসমর্পণ করিবে। তখন সবদিকে অন্ধকারে ছেঁয়ে যাবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৮১. হযরত হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত।

তিনি বলেন, নবী করীম সাঃআঃ বলেছেন, ফিতনা সংঘটিত হইবে। অতঃপর জামাত হইবে। অতঃপর ফিতনা হইবে, অতঃপর জামাত হইবে। অতঃপর এমন ফিতনা হইবে যেখানে পুরুষদের বুদ্ধি থেমে যাবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৮২. হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃআঃ) থেকেত বর্ণিত।

তিনি বলেন, রসূল সাঃআঃ বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে চারটি ফিতনা হইবে। আর চতুর্থবার হইবে ধ্বংশ (মৃত্যু)।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৮৩. কিছু প্রবীণ সৈন্য হইতে বর্ণিত,

তারা বলেন একদিন খালেদ ইবনু ইয়াযিদ ইবনু মোয়াবিয়া মারওয়ান ইবনু হাকামের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তিনি ওমর ইবনু মারওয়ানের মেহমান ছিলেন, ঐ সময় তার সাথে একটি চাকু ছিল এবং হাতে কিছু কাগজ ছিল। হঠাৎ তিনি বলে উঠলেন, পাঁচ এবং দশ অতিবাহিত হয়েছে কেবলমাত্র বিশ বাকি রয়েছে, যার ক্ষতি মাশরিক-মাগরিবের সকলকে গ্রাস করে নিবে। তার থেকে একমাত্র এন্তাবলিসের বাসিন্দা ব্যতীত কেউ মুক্তি পাবেনা। শফি ইবনু ওবাইর তাকে সেই ফিৎনা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, প্রথম ফিৎনা হচ্ছে পাঁচ, দ্বিতীয় ফিৎনা দশ বৎসরে। অর্থাৎ, ফিৎনায়ে আব্দুল্লাহ ইবনু জুবাইর। এরপরে প্রকাশ পাবে তেইশ বৎসরের ফিৎনা মাশরিক মাগরিবকে গ্রাস করে দিবে। এন্তাবলিসের বাসিন্দা ব্যতীত কেও উক্ত ফিৎনা থেকে মুক্তি পেতে পারেনা।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৮৪. আব্দুল আযীয ইবনু সালেহ হযরত হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান থেকে বর্ণনা করেন

(বর্ণনাকারী বলেন, রাবী ওয়ালিদ তার মাঝে ও হুযায়ফা (রাঃআঃ) মাঝে আরেকজন রাবীর কথা উল্লেখ করেন তবে তা আমার স্মরণ নেই) তিনি বলেন, রসূল সাঃআঃ এর পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত চারটি ফিতনা সংঘটিত হইবে। প্রথমটি হলো ‘পাঁচ’, দ্বিতীয়টি হলো ‘দশ’, তৃতীয়টি হলো ‘বিশ’, চতুর্থটি হলো দাজ্জাল।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৮৫. ইয়াযিদ ইবনু আবি হাবীব হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, আমার কাছে রাসূলুল্লা সাঃআঃ থেকে সংবাদ পৌছেছে, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেন, এমন কিছু ফিৎনা প্রকাশ পাবে যা সবাইকে গ্রাস করে নিবে। তার থেকে পশ্চিমা সৈন্য ব্যতীত কেও মুক্তি পাবেনা।

আল ফিতান: নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৮৬. হযরত ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃআঃ) হতে বর্ণিত।

রসূল সাঃআঃ বলেছেন, চার প্রকারের ফিতনা সংঘটিত হইবে। ১. খুন করাকে বৈধ মনে করা হইবে। ২. অন্যের সম্পদকে বৈধ মনে করা হইবে। ৩. নারীর লজ্জাস্থানকে বৈধ মনে করা হইবে। ৪. দাজ্জালের আগমন।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৮৭. বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাযিঃ হতে বর্ণিত।

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ যা, এরশাদ করিয়াছেন, আমি তোমাদেরকে আমার পরে প্রকাশিত সাত প্রকারের ফিতনা থেকে ভয় প্রদর্শন করছি। তার মধ্যে একটি পেশ আসবে মদীনা থেকে, আরেকটি প্রকাশ পাবে মক্কায়। অন্য পেশ আসবে ইয়ামান থেকে, আরেকটি শাম থেকে, আরেকটি মাশরিক থেকে, আরেকটি মাগরিব থেকে। অন্যটি প্রকাশ পাবে শামের মূলভুখন্ড থেকে এবং যেটিই হচ্ছে, ‘সুফইয়ানী ফিতনা’। এরপর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাযিঃ বলিলেন, তোমাদের মাঝে এমন অনেকে রয়েছে যারা প্রথম ফিতনাগুলো অবলোকন করিবে এবং এ ওম্মতের অন্যরা সর্বশেষ ফিতনাগুলো অবলোকন করিবে। ওয়ালিদ ইবনু আইয়াশ বলেন, মদীনার ফিতনা হচ্ছে, তালহা এবং যুবায়ের এর পক্ষ থেকে। মক্কার ফিতনা হলো, আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়ের এর ফিতনা। ইয়ামানের ফিতনা হচ্ছে, যেটা নাজদার পক্ষ থেকে সংঘটিত হয়েছিল। শামের ফিতনা সংঘটিত হইবে বনূ ওমাইয়ার পক্ষ থেকে আর মাশরিকের ফিতনা হচ্ছে, এদের পক্ষ থেকে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৮৮. হযরত আবু হুরাইরা রাযিঃ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন,

আমার পরে আমার ওম্মতের মাঝে চার প্রকারের ফিতনা সংঘটিত হইবে। প্রথমতঃ পরস্পর মারামারি, হানাহানি বৃদ্ধি পাবে। দ্বিতীয়তঃ মানুষকে হত্যা করা এবং মানুষের সম্পদ বৈধ মনে করা হইবে।
তৃতীয়তঃ মানুষ হত্যা, অন্যের সম্পদ এবং বিনা ব্যভিচার ইত্যাদি জায়েয মনে করা হইবে। চতুর্থতঃ অন্ধ বধিরের ফিতনা, যা মানুষের সাথে চামড়ার ন্যায় মিশে যাবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৮৯. বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা রাযিঃ হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন, আমার পরে তোমাদের মাঝে চার ধরনের ফিতনা প্রকাশ পাবে। এক. এমন ফিতনা যার মধ্যে লোকজন মানুষ হত্যা করাকে বৈধ মনে করিবে।
দুই. মানুষ হত্যা এবং অন্যের সম্পদকে হালাল মনে করা হইবে।
তিন. এমন ফিতনা যার মধ্যে মানুষ হত্যাকরা অন্যের সম্পদ দখল করা এবং বিনা-ব্যভিচারকে বৈধ মনে করা হইবে।
চার. অন্ধ-বধিরের ফিতনা, যা ব্যাপক আকার ধারন করিবে। সমুদ্রের ঢেউয়ের তীব্রভাবে আসতে থাকিবে। কেউ তার থেকে মুক্তির কোনো উপায় খুজে পাবে না। যে ফিতনা শাম দেশকে অবরুদ্ধ করে রাখবে এবং ইরাকেও গ্রাস করিবে। উক্ত ফিতনার হাত-পা দ্বারা জাযিরাতুন আরবকে শড়াতে থাকিবে। তখন বিভিন্ন ধরনের বালা-মসিবত মানুষের শরীরের সাথে এমনভাবে মিশ্রিত হয়ে যাবে, যেমন চামড়া শরীরের সাথে মিশে যায়। এহেন পরিস্থিতিতে উক্ত ফিতনা প্রতিরোধ করার মত শক্তি কারো থাকিবেনা। অতঃপর উক্ত ফিতনা সম্বন্ধে পরিপূর্ণ অবগত হওয়ার পূর্বেই ঝড়ের গতিতে চূর্ণবিচূর্ণ করে অন্যদিকে বের হয়ে যাবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৯০. হযরত আবু হুরাইর রাযিঃ বলেন

একদিন রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ নিম্নের আয়াতটি তিলাওয়াত করেন।
———————– অর্থাৎ, তোমাদেরকে তিনি দলে উপদলে বিভক্ত করে পরস্পর মুখোমুখী দাড় করাবেন । (সূরা আনআম ৬৫)
এরপর রাসূলুল্লহ সাঃআঃ বলিলেন, আমার উম্মতের মধ্যে চারটি ফিতনা প্রকাশ পাবে। প্রথম ফিতনা যখন দেখা দিবে, তখন মানুষকে হত্যা করা হালাল মনে করা হইবে। দ্বিতীয় ফিতনা এমন আকার ধারন করিবে, মানুষ অন্যকে হত্যা করা এবং অন্যের সম্পদ দখল করাকে বৈধ জানবে। তৃতীয় ফিত্নাকালীন হত্যা, ডাকাতি এবং ধর্ষণ ইত্যাদি জায়েয মনে করা হইবে। চতুর্থ ফিতনা হচ্ছে অন্ধকারাচ্ছন্ন অন্ধ ফিতনা, যা সমুদ্রের ঢেউয়ের বিস্তৃত হয়ে আছড়ে পড়বে। আরবের প্রত্যেক ঘরকে উক্ত ফিতনা গ্রাস করে নিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৯১. আরতাত ইবনুল মুনযির রহমাতুল্লাহি আলাইহি হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এর বক্তব্য আমাদের নিকট পৌঁেছছে, তিনি এরশাদ করিয়াছেন, আমার উম্মতের মধ্যে লাগাতার ভাবে চার প্রকারের ফিৎনা দেখা দিবে। প্রথমতঃ তাদের উপর এমনভাবে বালা-মসিবত আসতে থাকিবে, যার কারণে মুমিনগণ বলিতে থাকিবে, এইতো আমি মরে গেলাম! এরপর সেটা কিছুটা হালকা হয়ে যাবে। দ্বিতীয়তঃ এত বেশি তীব্রতার সাথে ফিতনা আসতে থাকিবে, যার ফলে প্রত্যেক মু’মিন মৃত্যুর প্রহর গুনবে, এরপর একটু হালকা হইবে। তৃতীয়তঃ একের পর এক ফিতনা আসতে থাকিবে। মনে হইবে যেন ফিতনা থেকে কিছুটা মুক্ত হতে পেরেছি, কিন্তু পরক্ষণে সেটা আবারো তীব্রভাবে আসবে। চতুর্থ ফিতনা এমনভাবে প্রকাশ পাবে, যার কারণে মানুষ ইসলাম ত্যাগ করিতে বাধ্য হইবে। এমন অবস্থার সম্মুখিন হলে মানুষ ইমাম এবং জামাআত ও একতাবদ্ধতাবিহীন দিগি¦দিক শুন্য হয়ে ছুটতে থাকিবে। অতঃপর মসীহে দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। এরপর সূর্য্য পশ্চিম দিকে উদিত হওয়া ও কিয়ামতের মাঝখানে বাহাত্তর জন দাজ্জাল প্রকাশ পাবে। তাদের মধ্যে অনেক এমন হইবে যার অনুসরণকারী হইবে মাত্র একজন।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৯২. আবুততোফাইল রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

আমি হযরত হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাযিঃ কে বলিতে শুনিয়াছি, মারাত্মক মারাত্মক তিন ধরনের ফিতনা প্রকাশ পাওয়ার পর চতুর্থ ফিতনা লোকজনকে দাজ্জালের দিকে নিক্ষেপ করিবে, যা মানুষকে ধ্বংসের মূখে পতিত করিবে। যে দাজ্জালের কারণে কখনো মানুষ ভালো অবস্থার সম্মুখিন হইবে আবার কখনো সম্মুখিন হইবে ভয়াবহ অবস্থার। আরেকটি ফিতনা হচ্ছে, অন্ধকারাচ্ছন্ন কালো ফিতনা, যা সমুদ্রের ঢেউয়ের ন্যায় লোকজনের উপর আছড়ে পড়বে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৯৩. হযরত উমাইর ইবনু হানী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত।

তিনি বলেন, রসূল সাঃআঃ বলেছেন, ‘ফিতনায়ে আহলাস’ হলো,তাতে পলায়ন হইবে। (অর্থাৎ পরস্পরের মধ্যে এমন শত্র“তা দেখা দিবে যে, একে অন্য হতে পলায়ন করিতে থাকিবে।) এবং ছিনতাই হইবে। ‘ফিতনাতুস সাবরা’ (অর্থাৎ ধরেন প্রাচুর্যের কারণে বিলাসিতায় লিপ্ত হয়ে পড়ার ফিতনা), উক্ত ফিতনার ধোঁয়া কোন এক ব্যক্তির পায়ের নিচ হতে নির্গত হইবে। (অর্থাৎ সেই ব্যক্তিই উক্ত ফিতনার নায়ক হইবে।) সে আমার খানদানের লোক বলে দাবি করিবে,অথচ সে আমার আপনজনদের মধ্যে হইবেনা। প্রকৃতপক্ষে পরহেজগার লোকই হলেন আমার বন্ধু। অতঃপর লোকেরা এক ব্যক্তির উপর ক্ষমতা অর্পনে একমত হইবে, তারপর আরম্ভ হইবে অন্ধকারাচ্ছন্ন ফিতনা। যখন বলা হইবে ফিতনা শেষ হয়ে গেছে, তখন তা এত প্রসারিত হইবে যে, আরবের এমন কোন ঘর অবশিষ্ট থাকিবে না। যেখানে তারা প্রবেশ করিবেনা, (অর্থাৎ প্রতিটি ঘরে তা প্রবেশ করিবেই। আর মানুষ তখন এমন ভাবে লড়াই করিতে থাকিবে যে, সে একথা জানবেনা যে, সেকি সত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করছে? নাকি বাতিলের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এভাবে সব সময় তা চলতে থাকিবে। অবশেষে সকল মানুষ দু’টি তাবুতে (দলে) বিভক্ত হয়ে যাবে। একটি দল হইবে ঈমানের,এখানে মুনাফেকী থাকিবে না। আর অপর দলটি হইবে মুনাফেকীর যার মধ্যে ঈমান থাকিবে না। যখন উভয়টি একত্রিত হইবে, তখন তুমি দাজ্জালের আগমন প্রত্যক্ষ কর, সে ঐ দিনই অথবা পরের দিন আবির্ভূত হইবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৯৪. হযরত আব্দুলাহ ইবনু যবীর গাফেকী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন,

আমি হযরত আলী (রাঃআঃ) বলিতে শুনিয়াছি যে,

চার ধরনের ফিতনা হইবে। ১. ‘ফিতনাতুস সাররা’; (অর্থাৎ প্রাচুর্যের কারণে বিলাসিতায় লিপ্ত হয়ে পড়ার ফিতনা, ২. ‘ফিতনাতু র্দরা’ (অর্থাৎ দরিদ্রতার কারণে কষ্টে নিমজ্জিত হয়ে পড়ার ফিতনা), ৩. ‘এই রূপ ফিতনা’ এ কথা বলে তিনি স্বর্ণের খনির কথা আলোচনা করিলেন। অতঃপর নবী করীম সাঃআঃ এর বংশধর থেকে এমন এক ব্যক্তি আবির্ভূত হইবেন, যার হাতে আল্লাহ তায়ালা তাদের ক্ষমত ন্যাস্ত করবেন।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৯৫. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিত।

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, আমার পরে বহু ফিতনা সংঘটিত হইবে। তন্মধ্যে একটি হলো, ‘ফিতনায়ে আহলাম’ তাতে পলায়ন হইবে, (অর্থাৎ পরস্পরের মধ্যে এমন শত্র“তা দেখা দেবে যে, একে অন্য হতে পলায়ন করিতে থাকিবে।) এবং তাতে ছিনতাই হইবে। অতঃপর এর পরে এমন ফিতনা সংঘটিত হইবে যা তার চেয়েও আরো ভয়াভহ হইবে, তারপর এমন ফিতনা হইবে যে, যখন বলা হইবে ফিতনা শেষ হয়ে গেছে, তখন তা এত প্রসারিত হইবে যে, প্রত্যেক ঘরে তা প্রবেশ করিবেই। এবং প্রত্যেক মুসলমানকে আঘাত করিবেই। এরপর আমার বংশধর থেকে কোন এক ব্যক্তি আবির্ভূত হইবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৯৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু হুবায়রা (রাঃআঃ) বলেন

চার প্রকারের ফিতনা হইবে। ১. দৃষ্টি সম্পন্ন ফিতনা, ২. প্রবৃত্তি ফিতনা, ৩. অন্ধ ফিতনা, ৪. দাজ্জালের ফিতনা।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৯৭. হযরত কা’ব হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন তিন ধরনের ফিতনা প্রকাশ পাবে, যেমন অনেক ক্ষেত্রে পথচারীকে আটকানো হয়। কিছু ফিতনা প্রকাশিত হইবে শাম দেশে, অতঃপর পূর্বদিকে এত মারাত্মক ফিৎনা দেখা দিবে যদ্বারা বড় বড় রাজা বাদশাহগন সর্শেফুল দেখতে থাকিবে। এরপর সাথে সাথে প্রকাশ পাবে পশ্চিমা ফিতনা। অতঃপর হলুদ রংয়ের পতাকা বিশিষ্ট কিছু লোকে আবির্ভাব ঘটবে। বর্ণনাকারীর বক্তব্য হচ্ছে, পশ্চিমা ফিতনা হচ্ছে, মূলতঃ অন্ধ ফিতনা।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৯৮. হযরত কা’ব রহমাতুল্লাহি আলাইহি হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এর এন্তেকালের পচিশ বৎসর পর পর্যন্ত আরবের উম্মানের মাঁথা ঘুরতে থাকিবে। এরপর বিভিন্ন ধরনের ফিতনা প্রকাশ পাবে, যার মধ্যে গণহত্যা থেকে শুরু করে সবকিছুই ঘটবে। এরপর মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ও নিরপত্তা অনুভব হইবে। এক পর্যায়ে তারা ঘুরতে ঘুরতে লাটিমের মত স্থীর হয়ে যাবে। এরপর এমন ফিতনা প্রকাশ পাবে যা মূলত ব্যাপক হত্যার রূপ নিবে। আমি কিতাবুল্লাহতে উক্ত ফিতনা সম্বন্ধে পেয়েছি, যেটা এমন অন্ধকারচ্ছন্ন ফিতনা যা প্রত্যেক মর্যাদা সম্পন্ন লোককে গ্রাস করে নিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ৯৯

ভিন্ন সুত্রে উপরের হাদিস বনর্িত হয়েছে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ১০০. আবু সালেহ হতে বর্ণিত,

তিনি বলেন, হযরত কা’ব মসজিদে নববীর সংস্কার কাজ চলতে দেখে বলিলেন, আল্লাহর কসম! আমার ইচ্ছা হচ্ছে, মসজিদে নববীর সংস্কার করা নাহোক। কেননা তার একটি গম্বুজ স্থাপন করা হলে আরেকটি গম্বুজ খসে পড়বে।
একথা শুনে কা’বকে বলা হলো, হে আবু ইসহাক উক্ত মসজিদে নামায আদায় করলে এক হাজার নামায থেকে বেশি সওয়াব দেয়া হইবে একথা কি বলা হয়নি। অর্থাৎ, মসজিদে হারামের পর সওয়াবের দিক দিয়ে কি মসজিদে নববীর অবস্থান নয়।
জবাবে হযরত কা’ব রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হ্যাঁ আমি একথা বলছি, কিন্তু আসমান থেকে জমিনের দিকে যে ফিতনা ধাবমান হচ্ছে, সেটা একেবারে নিকটে এসে পড়েছে, আর মাত্র এক বিঘত পরিমান বাকি রয়েছে, যা মসজিদে নববীর সংস্কার কাজ সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে আছড়ে পড়বে। তখনই এই শেখ, অর্থাৎ, হযরত ওসমান ইবনু আফ্ফানকে হত্যা করা হইবে। একথা শুনে জনৈক লোক বলে উঠল, তার হত্যাকারীর সাথে কি হযরত ওমর রাযিঃ এর হত্যাকারীর ন্যায় আচরন করা হইবে না।
জবাবে কা’ব রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলিলেন, লক্ষ বার অথবা তার থেকেও বেশি। এরপর বিশাল, বিস্তৃত এলাকা জুড়ে যুদ্ধ-বিগ্রহ হতে থাকিবে। অতঃপর পশ্চিমা এলাকা এবং পূর্ব দিক থেকে দুই দল সৈন্যের আগমন ঘটবে। উভয়দল ‘সিফ্ফীন’ নামক স্থানে একে অপরের মুখোমুখী হইবে এবং তাদের মাঝে তীব্র লড়াই সংঘটিত হইবে। অতঃপর তারা ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির অধীনস্থতা গ্রহণ পূর্বক যুদ্ধে বিরতী দিবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ১০১. হযরত কা’ব রহমাতুল্লাহি আলাইহি হইতে বর্ণিত,

তিনি একদিন ‘সিফ্ফীন’ নামক এলাকায় রাস্তার মধ্যে কিছু পাথর দেখতে পেয়ে হঠাৎ করে দাড়িয়ে পড়লেন এবং উক্ত পাথর খন্ডকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করিতে থাকলেন। তার অবস্থা দেখে সফরসঙ্গীদের একজন বলল, হে আবু ইসহাক! এভাবে কি দেখছেন?
জবাবে তিনি বলেন, উক্ত পাথরের যে বৈশিষ্ট রয়েছে সেটা আমি কিতাবে দেখতে পেরেছি যে, উক্ত পাথরের জন্য বণী ইসরাঈল নয় বার যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে নিজেদের ধ্বংস ডেকে এনেছে এবং নিঃসন্দেহে আরবরাও অতিসত্ত্বর দশমবারে যুদ্ধে লিপ্ত হইবে এবং ধ্বংস হয়ে যাবে, অথবা পাথরগুলো ছুড়ে মারতে হইবে, যেমন বনী ইসরাঈল গণ ছুড়ে মেরেছিল।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ১০২. হযরত আবুল জাল্দ রহমাতুল্লাহি আলাইহি হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন একেরপর এক ফিতনা প্রকাশ পাবে। প্রথম ফিতনা এবং দ্বিতীয় ফিতনা চাবুকের অগ্রভাগের গিঁটের মত হইবে যা আঘাত করিবে তরবারির ধারালো অংশের মত। এরপর এত ব্যাপক ফিতনা প্রকাশ পাবে, যার মধ্যে সব ধরনের হারাম বস্তুকে হালাল ও বৈধ মনে করা হইবে। উম্মতের সকলে কল্যাণ কামনার উপর ঐক্যমত পোষণ করলেও সেটা তাদের প্রতি খুব ধীরে ধীরে আস্তে থাকিবে, যেন ঘরের ভিতর বসেথেকে তার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ১০৩. আবুল ওক্কাছ রহমাতুল্লাহি আলাইহি হযরত আলী রাযিঃ থেকে বর্ণনা করেন,

তোমাদেরকে কি আমি ‘তারাস্সুন’ ফিতনা সম্বন্ধে বলবোনা, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘তারাস্সুল’ ফিতনা কি? জবাবে তিনি বলিলেন, যদি কাউকে বাতেলরা দশ প্রকারের বাঁধন দ্বারা কয়েদ করে রাখে তারপরও তার মাধ্যমে আহলে হক্বের অনেক ক্ষতি হইবে। তেমনিভাবে যদি কেউ হক্বের কারণে পরিপূর্ণভাবে গ্রেফতার অবস্থায় থাকে তারপরও তার মাধ্যমে বাতেলদের মারাত্মক ক্ষতি হইবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ১০৪. বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আউফ ইবনু মালেক আমজাঈ রাযিঃ হইতে বর্ণিত,

তিনি বলেন আমাকে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এরশাদ করিয়াছেন, হে আউফ! কিয়ামতের পূর্বে ছয়টি ফিতনা প্রকাশ পাবে। তার মধ্যে প্রথম ফিতনা হচ্ছে, তোমাদের নবীর ওফাত পাওয়া, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এর কথা শুনে আমি কেঁদে উঠলাম। অতঃপর তিনি বলিলেন, দ্বিতীয় ফিতনা হচ্ছে, বায়তুল মোকাদ্দাসের বিজয় হওয়া। তৃতীয় ফিতনাটি এত ব্যাপক হইবে যা শহর এবং গ্রামের প্রতিটি ঘরকেই গ্রাস করে নিবে। চতুর্থ ফিতনা হচ্ছে, মানুষের মধ্যে গণহারে মৃত্যু দেখা দিবে, যেন সকলে ছাগলের মাড়কের ন্যায় মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। পঞ্চম ফিতনা হচ্ছে, লোকজন প্রচুর সম্পদের মালিক হইবে। এমনকি কাউকে একশত দিনার দান করা হলেও যে কম মনে করে রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়বে। আর ষষ্ঠ ফিতনা হলো, তোমাদের এবং রোমবাসীদের মাঝে একটা চুক্তি হইবে। অতঃপর তারা আশি দলে বিভক্ত হয়ে বারো হাজার সৈন্যের বিশাল কাফেলা সহকারে তোমাদের দিকে ধেয়ে আসবে।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ১০৫. সিলা ইবনু যুরার রহমাতুল্লাহি আলাইহি বিশিষ্ট সাহাবী হযরত হোজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাযিঃ কে বলিতে শুনেছেন।

তাঁকে একজন লোক বলল, “দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটেছে”। একথা শুনে হযরত হোজাইফা রাযিঃ বলিলেন, না আল্লাহর কসম! সেটা কক্ষনো হতে পারে না। যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের মাঝে আল্লাহর রসূল সাঃআঃ এর সাহাবায়ে কেরাম উপস্থিত থাকিবেন, ততক্ষণ দাজ্জাল আসতে পারে না। বিশেষ এক গোত্র দাজ্জালের আগমনের আশা করলেও তার আগমন ঘটবেনা। এমনকি কারো কারো নিকট দাজ্জালের আবির্ভাব এতই প্রিয় হইবে, যেমন তীব্র গরমের দিন মানুষের কাছে ঠান্ডা পানি পান করা খুবই প্রিয় হয়। এক পর্যায়ে হযরত হোজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাযিঃ বলিলেন, হে উম্মতে মুহাম্মদিয়া! অতিসত্ত্বর তোমাদের মাঝে চার প্রকারের ফিতনা প্রকাশ পাবে। তার মধ্যে এককিট হচ্ছে, সাদা-কালো মিশ্রিত ফিতনা। আরেকটি হলো, অন্ধকারাচ্ছন্ন ফিতনা। তৃতীয়টি হচ্ছে, অমুক অমুক ফিতনা। আর চতুর্থ ফিতনা তোমাদেরকে দাজ্জালের প্রতি ঠেলে দিবে, অতঃপর উক্ত সমতল ভূমিতে দুই দল যুদ্ধে বিগ্রহে লিপ্ত হয়ে পড়বে। আমার জানা নেই উভয় দল থেকে কোন দল সত্য বা হক্বের উপর রয়েছে এবং আমার তূণীরের তীর দ্বারা আমি উভয় দলের কোন দলকে সাহায্য করব।

কিতাবুল ফিতানঃ  নুয়াইম বিন হাম্মাদ – ১০৬. বিশিষ্ট তাবেঈ হযরত তাউস রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

জনৈক লোক হযরত আবু মুসা আশআরী রাযিঃ এর কাছে জানতে চাইলো যে, এসব কি ঐ ফিতনা যা আপনি আমাদের সামনে বর্ণনা করিতেন। উক্ত ঘটনাটি মূলতঃ তখনই যখন আবু মুসা আশআরী রাযিঃ এবং হযরত আমর ইবনুল আম রাযিঃ এর মাঝে কোনো এক সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল জবাবে হযরত আবু মুসা আশআরী রাযিঃ বলিলেন, এগুলো হচ্ছে, ফিতনার মারাত্মক মারাত্মক অংশসমূহ হতে একটি। অতঃপর বাকি রইল, বড় বড় অন্ধকারচ্ছন্ন ফিতনা, যা গোটা জাতিকে গ্রাস করিবে। যারা উক্ত ফিতনার প্রতি মনোনিবেশ কবে তাদেরকে অত্যন্ত নির্মমভাবে আকৃষ্ট করে নিবে। উক্ত ফিতনাকালীন যারা বসে থাকিবে তারা দন্ডায়মান থাকা লোকজন থেকে উত্তম, আর একস্থানে দাড়িয়ে থাকা লোক চলাচলকারী থেকে ভালো। স্বাভাবিক গতি সম্পন্ন লোক দ্রুতগামী থেকে অনেক উত্তম। ফিতনা সম্বন্ধে মন্তব্যকারী থেকে নীরবতা অবলম্বনকারী উত্তম আর উক্ত ফিতনার সময় ঘুমন্ত ব্যক্তি অনেক ভালো জাগ্রত লোক থেকে।

Leave a Reply