দু’মুখো পনার নিন্দাবাদ – রিয়াদুশ ছালেহিন হাদিস থেকে সংকলিত

দু’মুখো পনার নিন্দাবাদ – রিয়াদুশ ছালেহিন হাদিস থেকে সংকলিত

দু’মুখো পনার নিন্দাবাদ – রিয়াদুশ ছালেহিন হাদিস থেকে সংকলিত >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ২৫৯ : দু’মুখো পনার নিন্দাবাদ

মহান আল্লাহ বলেছেন,

﴿ يَسۡتَخۡفُونَ مِنَ ٱلنَّاسِ وَلَا يَسۡتَخۡفُونَ مِنَ ٱللَّهِ وَهُوَ مَعَهُمۡ إِذۡ يُبَيِّتُونَ مَا لَا يَرۡضَىٰ مِنَ ٱلۡقَوۡلِۚ وَكَانَ ٱللَّهُ بِمَا يَعۡمَلُونَ مُحِيطًا ١٠٨ ﴾ [النساء : ١٠٨] 

অর্থাৎ এরা মানুষকে লজ্জা করে [মানুষের দৃষ্টি থেকে গোপনীয়তা অবলম্বন করে], কিন্তু আল্লাহকে লজ্জা করে না [তাহাঁর দৃষ্টি থেকে গোপনীয়তা অবলম্বন করিতে পারে না] অথচ তিনি তাহাদের সঙ্গে থাকেন, যখন রাত্রে তারা তাহাঁর [আল্লাহর] অ-পছন্দনীয় কথা নিয়ে পরামর্শ করে। আর তারা যা করে তা সর্বতোভাবে আল্লাহর জ্ঞানায়ত্তে। [সূরা নিসা ১০৮ আয়াত] 

1/1548 وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «تَجِدُونَ النَّاسَ مَعَادِنَ : خِيَارُهُم فِي الجَاهِلِيَّةِ خِيَارُهُمْ فِي الإسْلاَمِ إِذَا فَقُهُوا، وَتَجِدُونَ خِيَارَ النَّاسِ فِي هَذَا الشَّأنِ أَشَدَّهُمْ كَرَاهِيَةً لَهُ، وَتَجِدُونَ شَرَّ النَّاسِ ذَا الوَجْهَينِ، الَّذِي يَأتِي هَؤُلاَءِ بِوَجْهٍ، وَهَؤُلاَءِ بِوَجْهٍ» . متفق عَلَيْهِ

১/১৫৪৮। আবু হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘তোমরা মানবমন্ডলীকে বিভিন্ন [পদার্থের] খণির ন্যায় পাবে। জাহেলী [অন্ধযুগে] যারা উত্তম ছিল, তারা ইসলামে [দীক্ষিত হবার পরও] উত্তম থাকিবে; যখন তারা দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করিবে। তোমরা শাসন-ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব-ভার গ্রহণের ব্যাপারে সে সমস্ত লোককে সর্বাধিক উত্তম পাবে, যারা ঐ সব পদগুলিকে সবচেয়ে বেশী ঘৃণা বোধ করিবে। আর সর্বাধিক নিকৃষ্ট পাবে দু’মুখো লোককে, যে এদের নিকট এক মুখ নিয়ে আসে আর ওদের কাছে আর এক মুখ নিয়ে আসে।’’ [বুখারী ও মুসলিম][1]

2/1549 وَعَنْ مُحَمَّدِ بنِ زَيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ : أَنَّ نَاساً قَالُوا لِجَدِّهِ عَبدِ اللهِ بنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : إنَّا نَدْخُلُ عَلَى سَلاَطِيننَا فَنَقُولُ لَهُمْ بِخِلاَفِ مَا نَتَكَلَّمُ إِذَا خَرَجْنَا مِنْ عِنْدِهِمْ . قَالَ: كُنَّا نَعُدُّ هَذَا نِفَاقاً عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم . رواه البخاري

২/১৫৪৯। মুহাম্মাদ ইবনি যায়েদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, কতিপয় লোক তাহাঁর দাদা আব্দুল্লাহ ইবনি উমার রাঃআঃ-এর নিকট নিবেদন করিল যে, ‘আমরা আমাদের শাসকদের নিকট যাই এবং তাহাদেরকে ঐ সব কথা বলি, যার বিপরীত বলি তাহাদের নিকট থেকে বাইরে আসার পর। [সে সম্বন্ধে আপনার অভিমত কি?]’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘‘রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-এর যামানায় এরূপ আচরণকে আমরা ‘মুনাফিক্বী’ আচরণ বলে গণ্য করতাম।’’ [বুখারী] [2]


[1] সহীহুল বুখারী ২৯২৮, ২৯২৯, ৩৪৯৩, ৩৪৯৪, ৩৪৯৬, ৩৫৮৯, ৩৫৯০, ৩৫৯১, ৬০৫৮, ৭১৭৯, মুসলিম ১৮১৮, ২৫২৬, ২৯১২, তিরমিযী ২০২৫, ২২১৫, আদ ৪৩০৩, ৪৩০৪, ৪৮৭২, ইবনু মাজাহ ৪০৯৬, ৪০৯৭, আহমাদ ৭২২২, ৭২৯৬, ৭৪৪৪, ৭৪৯০, ৭৬৯০, ৭৬১৯, ৭৮৩০, ৮০০৮, ৮২৩৩, ৮৯২০, ৯২৮৪, ৯৯২২, ১০০৫৫, মুওয়াত্তা মালিক ১৮৬৪

[2] সহীহুল বুখারী ৭১৭৮, ইবনু মাজাহ ৩৯৭৫, আহমাদ ৫৭৯৫

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply