নামাযের ফযীলত -রিয়াদুস সালেহিন হাদিস থেকে সংকলিত

নামাযের ফযীলত -রিয়াদুস সালেহিন হাদিস থেকে সংকলিত

নামাযের ফযীলত -রিয়াদুস সালেহিন হাদিস থেকে সংকলিত >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ১৮৭: নামাযের ফযীলত

মহান আল্লাহ বলেছেন,

﴿إِنَّ ٱلصَّلَوٰةَ تَنۡهَىٰ عَنِ ٱلۡفَحۡشَآءِ وَٱلۡمُنكَرِۗ ٤٥ ﴾ [العنكبوت: ٤٥] 

অর্থাৎ “নিশ্চয় নামায অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ হইতে বিরত রাখে।” [আনকাবূত ৪৫ আয়াত]

1/1049 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ: «أَرَأيْتُمْ لَوْ أَنَّ نَهْرَاً بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ، هَلْ يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَيْءٌ ؟»  قَالُوا: لاَ يَبْقَى مِنْ دَرنهِ شَيْءٌ، قَالَ: «فَذَلِكَ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الخَمْسِ يَمْحُو اللهُ بِهِنَّ الخَطَايَا». متفقٌ عَلَيْهِ .

১/১০৪৯। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-কে এ কথা বলিতে শুনেছেন, “আচ্ছা তোমরা বল তো, যদি কারোর বাড়ির দরজার সামনে একটি নদী থাকে, যাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার করে গোসল করে, তাহলে তার শরীরে কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকিবে কি?” সাহাবীগণ বলিলেন, ‘[না,] কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকিবে না।’ তিনি বলিলেন, “পাঁচ অক্তের নামাযের উদাহরণও সেইরূপ। এর দ্বারা আল্লাহ পাপরাশি নিশ্চিহ্ন করে দেন।” [বুখারী] [1]

2/1050 وَعَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الخَمْسِ كَمَثَلِ نَهْرٍ جَارٍ غَمْرٍ عَلَى بَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلَّ يَومٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ». رواه مسلم

২/১০৫০। জাবের রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “পাঁচ অক্তের নামাযের উদাহরণ ঠিক প্রবাহিত নদীর ন্যায়, যা তোমাদের কোনো ব্যক্তির দরজার পাশে থাকে; যাতে সে প্রত্যহ পাঁচবার করে গোসল করে থাকে।” [মুসলিম] [2]

3/1051 وَعَنِ ابنِ مَسعُودٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَجُلاً أَصَابَ مِنِ امْرَأَةٍ قُبْلَةً، فَأتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى: ﴿ وَأَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ طَرَفَيِ ٱلنَّهَارِ وَزُلَفٗا مِّنَ ٱلَّيۡلِۚ إِنَّ ٱلۡحَسَنَٰتِ يُذۡهِبۡنَ ٱلسَّيِّ‍َٔاتِۚ﴾ [هود: ١١٤]  فَقَالَ الرَّجُلُ أَلِيَ هَذَا ؟ قَالَ: «لِجَمِيعِ أُمَّتِي كُلِّهِمْ». متفقٌ عَلَيْهِ

৩/১০৫১। আব্দুল্লাহ ইবনি মাসঊদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি এক মহিলাকে চুমা দিয়ে ফেলে। অতঃপর সে [অনুতপ্ত হয়ে] নবী সাঃআঃ-এর কাছে এসে ঘটনাটি বলে। তখন আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করেন, যার অর্থ: “তুমি নামায প্রতিষ্ঠা কর দিবসের দুই প্রান্তে এবং রাত্রির প্রথম ভাগে, নিশ্চয় পুণ্য কর্মাদি পাপ-রাশিকে বিদূরিত করে থাকে।” [সূরা হুদ ১১৪ আয়াত] লোকটি বলিল, ‘এ বিধান কি কেবল আমার জন্য?’ তিনি বলিলেন, “আমার উম্মতের সকলের জন্য।” [বুখারী মুসলিম] [3]

4/1052 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الصَّلَوَاتُ الخَمْسُ، وَالجُمُعَةُ إِلَى الجُمُعَةِ، كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ، مَا لَمْ تُغشَ الكَبَائِرُ». رواه مسلم

৪/১০৫২। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “পাঁচ অক্তের নামায, এক জুম‘আ থেকে পরবর্তী জুম‘আ পর্যন্ত এর মধ্যবর্তী সময়ে যেসব পাপ সংঘটিত হয়, সে সবের মোচন-কারী হয় [এই শর্তে যে,] যদি মহাপাপে লিপ্ত না হয়।” [মুসলিম] [4]

5/1053 وَعَنْ عُثمَانَ بنِ عَفَّانَ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُوْلُ: «مَا مِنِ امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلاَةٌ مَكْتُوبَةٌ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهَا ؛ وَخُشُوعَهَا، وَرُكُوعَهَا، إِلاَّ كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوب مَا لَمْ تُؤتَ كَبِيرةٌ، وَذَلِكَ الدَّهْرَ كُلَّهُ». رواه مسلم ৫/১০৫৩। ‘উসমান ইবনি ‘আফফান রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-কে বলিতে শুনিয়াছি যে, “যে ব্যক্তি ফরয নামাযের জন্য ওযু করিবে এবং উত্তমরূপে ওযু সম্পাদন করিবে। [অতঃপর] তাতে উত্তমরূপে ভক্তি-বিনয়-নম্রতা প্রদর্শন করিবে এবং উত্তমরূপে ‘রুকু’ সমাধা করিবে। তাহলে তার নামায পূর্বে সংঘটিত পাপ-রাশির জন্য কাফফারা [প্রায়শ্চিত্ত] হয়ে যাবে; যতক্ষণ মহাপাপে লিপ্ত না হইবে। আর এ [রহমতে ইলাহির ধারা] সর্বযুগের জন্য প্রযোজ্য।” [মুসলিম][5]


[1] সহীহুল বুখারী ৫২৬, ৪৬৮৭, মুসলিম ২৭৬৩, তিরমিযী ৩১১২, ৩১১৪, আবূ দাউদ ৪৪৬৮, ইবনু মাজাহ ১৩৯৮, ৪২৫৪, আহমাদ ৩৬৪৫, ২৩৮৪৪, ৪০৮৩, ৪২৩৮, ৪২৭৮, ৪৩১৩

[2] মুসলিম ২৩৩, তিরমিযী ২১৪, ইবনু মাজাহ ১০৮৬, আহমাদ ৭০৮৯, ৮৪৯৮, ৮৯৪৪, ৯০৯২, ১০১৯৮, ২৭২৯০

[3] মুসলিম ২২৮, নাসায়ী ১৪৬, ১৪৭, ৮৫৬, আহমাদ ৪৮৫, ৫০৫, ৫১৮

[4] মুসলিম ২৩৩, তিরমিযী ২১৪, ইবনু মাজাহ ১০৮৬, আহমাদ ৭০৮৯, ৮৪৯৮, ৯৮৪৪, ৯০৯২, ২৭২৯০, ১০১৯৮

[5] মুসলিম ২২৮, নাসায়ী ১৪৬, ১৪৭, ৮৫৬, আহমাদ ৪৮৫, ৫০৫, ৫১৮

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply