নামাজ শুরু করার দোয়া, আশ্রয় প্রার্থনা ও বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা

নামাজ শুরু করার দোয়া, আশ্রয় প্রার্থনা ও বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা

নামাজ শুরু করার দোয়া, আশ্রয় প্রার্থনা ও বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা >> সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ৫, অধ্যায়ঃ (১-৩)=৩টি, হাদীসঃ (৮০৩-৮১১)=৮টি

৫/১. অধ্যায়ঃ নামাজ শুরু করা।
৫/২. অধ্যায়ঃ নামাজের নিয়ম মধ্যে আশ্রয় প্রার্থনা।
৫/৩. অধ্যায়ঃ সালাতের মধ্যে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা।

৫/১. অধ্যায়ঃ নামাজ শুরু করা।

৮০৩. আবু হুমায়দ আস-সাইদী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন সলাতে কিবলামুখী হইতেন তখন তাহাঁর দুহাত উত্তোলন করে আল্লাহু আকবার [তাকবির তাহরীমা] বলিতেন। {৮০১}

{৮০১} বোখারি ৮২৮, তিরমিজি ৩০৪, আবু দাউদ ৭৩০, আহমাদ ২৩০৮৮, দারিমি ১৩৫৬। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ মিশকাত ৮১০। নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮০৪. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজ শুরু করে [তাকবীরে তাহরীমার পর] বলিতেনঃ

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ

“সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা” [হে আল্লাহ! আমি আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আপনার নাম বরকতপূর্ণ, আপনার মাহাত্ন সুউচ্চ এবং আপনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই]। {৮০২}

{৮০২} তিরমিজি ২৪২, নাসায়ি ৮৯৯, ৯০০; আবু দাউদ ৭৭৫, আহমাদ ১১০৮১, দারিমি ১২৩৯। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ৫১, মিশকাত ৮১৬, সহিহ আবু দাউদ ৭৪৮। নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮০৫. আবু হুরায়রা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাকবীরে তাহরীমা বলার পর, তাকবীর ও কিরাআতের মাঝখানে কিছুক্ষণ নীরব থাকতেন। রাবি বলেন, আমি বললাম, আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আপনি তাকবীর ও কিরাআতের মাঝখানে চুপ থাকেন কেন? তখন আপনি কী বলেন আমাকে বলুন! তিনি বলেনঃ আমি বলিঃ

اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَاىَ كَالثَّوْبِ الأَبْيَضِ مِنَ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي مِنْ خَطَايَاىَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ

[আল্লাহুম্মা বাইদ বাইনি ওয়া বাইনা খাতাইয়াইয়া কামা বায়াদতা বাইনাল মাশরিক্বি ওয়াল মাগরিব। আল্লাহুম্মা নাক্কিনী মিন খাতাইয়াইয়া কাস-সাওবিল আবইয়াদু মিনাদ দানাস। আল্লাহুম্মাগসিলনী মিন খাতাইয়াইয়া বিল মায়ি ওয়াস-সালজি ওয়াল বারাদ।] “হে আল্লাহ্! আপনি আমার ও আমার গুনাহের মাঝে এরূপ দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন, যেরূপ আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করিয়াছেন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার পাপরাশি থেকে পবিত্র করুন, যেমন ময়লা থেকে ধবধবে সাদা কাপড় পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহসমূহ হিমশীতল পানি দিয়ে ধৌত করুন।” {৮০৩}

{৮০৩} বোখারি ৭৪৪, মুসলিম ৫৯৮, নাসায়ি ৮৯৪-৯৫, আবু দাউদ ৭৮১, আহমাদ ৭১২৪, ১০৩৬; দারিমি ১২৪৪। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ৩৪১, মিশকাত ৮১৫, সহিহ আবু দাউদ ৭৪৯। নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮০৬. আয়িশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] নামাজ শুরু করে বলিতেন-

 سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ تَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ

[সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বি হামদিকা তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়ালা ইলাহা গাইরুক] “হে আল্লাহ্! আমি আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করছি, আপনার নাম বরকতময় এবং আপনার মাহাত্ন্য সুউচ্চ। আপনি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই।” {৮০৪}

{৮০৪} তিরমিজি ২৪৩, আবু দাউদ ৭৭৬। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ৮ সহিহ আবু দাউদ ৭৫০। উক্ত হাদিসের রাবি হারিসাহ বিন আবু রিজাল সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইমাম বোখারি বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। আবু যুরআহ আর-রাযী ও আবু হাতিম আর-রাযী তাকে দুর্বল বলেছেন। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ। নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫/২. অধ্যায়ঃ নামাজের নিয়ম  মধ্যে আশ্রয় প্রার্থনা।

৮০৭. জুবায়র বিন মুতঈম [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃকে] দেখেছি যে, তিনি সালাতে প্রবেশ করে বলিতেনঃ

اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا

আল্লাহু আকবার কাবীরা” তিনবার,

الْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا

আলহামদু লিল্লাহি কাসীরা” তিনবার এবং

سُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلاً

সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসীলা” তিনবার। অতঃপর তিনি বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ

[আল্লাহুম্মা ইন্নী আউজুবিকা মিনাশ শাইতনির রজীম, মিন হামযিহি ওয়া নাফখিহি ওয়া নাফসিহি।] “ [হে আল্লাহ্! আমি বিতাড়িত শয়তানের শয়তানী, তার অশ্লীল কবিতা এবং তার অহংকার হইতে আপনার নিকট আশ্রয় চাই] আমর [রহঃ] বলেন, অর্থ তার শয়তানী অর্থ তার অশ্লীল কবিতা এবং অর্থ তার অহমিকা। {৮০৫}

{৮০৫} আবু দাউদ ৭৬৪ তাহকিক আলবানিঃ জইফ। তাখরিজ আলবানিঃ তিরমিজি ২৪২ সহিহ, সহিহ ইবনি খুযাইমাহ ৪৬৮ জইফ, ইরওয়াহ ৫৬৪ মিশকাত ৮১৭, জইফ আবু দাউদ ১৩০। নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৮০৮. ইবনি মাসঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলিতেনঃ

 اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ وَهَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ

[আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাশ শাইতনির রজীম ওয়া হামযিহি, ওয়া নাফখিহি ওয়া নাফসিহি]। রাবি বলেন, এর অর্থ, তার শয়তানী, অর্থ, তার অশ্লীল কবিতা এবং -এর অর্থ, তার অহমিকা। {৮০৬}

{৮০৬} আহমাদ ৩৮১৮, ৩৮২০। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫/৩. অধ্যায়ঃ সালাতের মধ্যে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা।

৮০৯. হুলব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] আমাদের ইমামতি করিতেন। তিনি তাহাঁর ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন।{৮০৭}

{৮০৭} তিরমিজি ২৫২ তাহকিক আলবানিঃ হাসান সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ মিশকাত ৮০৩। নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৮১০. ওয়ায়িল বিন হুজর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী [সাঃআঃ] কে নামাজ আদায় করিতে দেখেছি। তিনি তাহাঁর ডান হাত দিয়ে তাহাঁর বাম হাত ধরেন। {৮০৮}

{৮০৮} মুসলিম ৪০১, নাসায়ি ৮৮৭, ৮৮৯; আবু দাউদ ৭২৩, ৭২৬, ৯৫৭; আহমাদ ১৮৩৬৫, ১৮৩৭৮, ১৮৩৮৮, ১৩৩৯৮; দারিমি ১২৪১, ১৩৫৭। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৭১৬। নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮১১. আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, আমি আমার বাম হাত ডান হাতের উপর রেখেছিলাম। তিনি আমার ডান হাত ধরে বাম হাতের উপর রাখেন। {৮০৯}

{৮০৯} নাসায়ি ৮৮৮, আবু দাউদ ৭৫৫। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৭১৬। নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply