নতুন লেখা

নামাজের সুরা কেরাত – সকল ফরয ও সুন্নাত সালতে

নামাজের সুরা কেরাত – সকল ফরয ও সুন্নাত সালতে

নামাজের সুরা কেরাত – সকল ফরয ও সুন্নাত সালতে >> সুনানে নাসাই শরিফের মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ১১, নামাজ আরম্ভ করা, হাদীস (৯৩৩-১০২২)

পরিচ্ছেদঃ কুরআন সম্বন্ধীয় বিবিধ রেওয়ায়ত

৯৩৩. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, হারিস ইবন হিশাম [রাঃআঃ] রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনার নিকট কি রূপে ওহী আসে? তিনি বলিলেন, ঘণ্টার শব্দের মত। তারপর তা শেষ হলে দেখা যায় আমি তা মুখস্থ করে ফেলেছি। এটাই আমার নিকট অত্যন্ত কঠিন বোধ হয়। আর কোন কোন সময় আমার নিকট [ওহীর ফেরেশতা] মানুষের বেশে আগমন করে তা আমাকে বলে যান।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৩৪. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, হারিস ইব্ন হিশাম [রাঃআঃ] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনার নিকট ওহী কী রূপে আসে? তিনি বলিলেন, কোন কোন সময় আমার নিকট ওহী আসে ঘন্টা ধ্বনির ন্যায়, আর এটিই আমার উপর কষ্টদায়ক হয়। আর আমার থেকে তা সমাপ্ত হলে দেখা যায় আমি তা মুখস্ত করে ফেলেছি, যা বলা হয়েছে। আর কোন কোন সময় ফেরেশতা মানুষের বেশ ধরে আমার কাছে এসে কথাবার্তা বলেন। তখন তিনি যা বলেন, তা আমি মুখস্থ করে নেই। আয়িশাহ [রাঃআঃ] বলেন, আমি প্রচন্ড শীতের দিনে তাহাঁর উপর ওহী অবতীর্ণ হইতে এবং যখন তা শেষ হতো তখন তাহাঁর ললাট থেকে ঘাম দরদর করে পড়তে দেখেছি।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৩৫. ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] ওহী নাযিল হওয়ার সময় কষ্ট অনুভব করিতেন। আর তিনি তাহাঁর ওষ্ঠদ্বয় নাড়তেন। আল্লাহ তাআলা বলিলেন, তা তাড়াতাড়ি মুখস্থ করার জন্য আপনি আপনার জিহবা তার সাথে সঞ্চালন করবেন না। কেননা, তা আপনার অন্তরে সংরক্ষণ এবং পাঠ করাবার দায়িত্ব আমারই। পরে তিনি বলেন, [আরবি] সুতরাং আমি তা পাঠ করি। তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। তারপর মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করুন ও চুপ থাকুন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট যখন জিবরাঈল [আঃ] আগমন করিতেন তখন তিনি শুনতে থাকতেন। যখন চলে যেতেন তখন তিনি ঐরূপই পাঠ করিতেন যেরূপ তাঁকে পাঠ করানো হতো।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৩৬. ইব্ন মাখরামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

উমর ইব্ন খাত্তাব [রাঃআঃ] বলেন, আমি হিশাম ইব্ন হাকীম ইব্ন হিযাম [রাঃআঃ]-কে সূরা ফুরকান পড়তে শুনিয়াছি। তিনি তাতে এমন কতগুলো অক্ষর পাঠ করিলেন যা নাবী [সাঃআঃ] আমাকে পাঠ করান নি। আমি বললাম, আপনাকে এ সূরা কে পড়িয়েছেন? তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]। আমি বললাম, আপনি মিথ্যা বলছেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এরূপে পড়ান নি। আমি তাঁকে তাহাঁর হাত ধরে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে নিয়ে এসে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাকে সূরা ফুরকান পড়িয়েছেন। আমি এ ব্যক্তিকে তা পড়তে শুনলাম এমন কতগুলো অক্ষর তাতে তিনি পড়ছেন যা আপনি আমাকে পড়ান নি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, হে হিশাম! তুমি পড়ে শুনাও তো; তিনি ঐরূপ পড়লেন যেরূপ পূর্বে পড়েছিলেন। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, এরূপই নাযিল হয়েছে। এরপর বলিলেন, হে উমর! তুমি পড়। তখন আমি পড়লাম, আবারও তিনি বলিলেন, এরূপই নাযিল হয়েছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, কুরআন সাত লুগাতে১ অবতীর্ণ হয়েছে।

১. সাত উপ-ভাষাঃ কুরায়শ, বানূ তামীম, হুযায়ল, ইয়ামান, তায়, ছাকী ও হাওয়াযিন-এর উপ-ভাষা।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৩৭. আবদুর রহমান ইব্ন আবদুল কারী [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি উমর ইব্ন খাত্তাব [রাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি যে, আমি হিশাম ইব্ন হাকীমকে সূরা ফুরকান পড়তে শুনলাম, আমি যেভাবে পড়ি সেভাবে না পড়ে অন্যভাবে। আর আমাকে তা পড়িয়েছেন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]। আমি তো তাকে আক্রমণ করিতে উদ্যত হয়েছিলাম। অতঃপর আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। তিনি পড়া বন্ধ করিলেন না। আমি তার চাদর দ্বারা পেঁছিয়ে তাকে নিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি একে সূরা ফুরকান পড়তে শুনলাম যেভাবে আপনি আমাকে সূরা ফুরকান পড়িয়েছেন তাছাড়া অন্যভাবে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাঁকে বলিলেন, পড়। আমি তাকে যেভাবে পড়তে শুনিয়াছি তিনি সেভাবেই পড়লেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, এরূপই নাযিল হয়েছে। এরপর আমাকে বলিলেন, পড়। আমি পাঠ করার পর বলিলেন, এরূপই নাযিল হয়েছে। এ কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে সাত লুগাতে [উপ-ভাষায়] অতএব, তোমরা তা পাঠ কর যেরূপ তোমাদের পক্ষে সহজ হয়।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৩৮. উমর ইব্ন খাত্তাব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জীবদ্দশায় হিশাম ইব্ন হাকীমকে সূরা ফুরকান পড়তে শুনিয়াছি। আমি তাহাঁর কিরাআত লক্ষ্য করে শুনলাম। শুনলাম, তিনি তা পড়ছেন এমন কতকগুলো অক্ষরসহ যা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে পড়ান নি। নামাজের মধ্যেই আমি তাঁকে আক্রমণ করিতে মনস্থ করলাম। কিন্তু আমি আমি তাহাঁর সালাম ফিরান পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। যখন তিনি সালাম ফিরালেন আমি তাঁকে তাহাঁর চাদর দ্বারা বেঁধে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাকে এ সূরাটি কে শিক্ষা দিয়েছে? যা আপনাকে পড়তে শুনলাম। তিনি বলিলেন, আমাকে তা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] শিক্ষা দিয়েছেন। আমি বললাম, আপনি মিথ্যা বলছেন। আল্লাহর শপথ! রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-ই আমাকে তা পড়িয়েছেন, যা আমি আপনাকে পড়তে শুনিয়াছি। আমি তাঁকে টেনে নিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট গিয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি তাঁকে সূরা ফুরকান পড়তে শুনছি এমন কতকগুলো অক্ষরসহ যা আপনি আমাকে পড়ান নি। অথচ আপনিই আমাকে তা শিক্ষা দিয়েছেন। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, হে উমর! তাকে ছেড়ে দাও। হে হিশাম! পড়। তখন তিনি ঐ কিরাআত পড়লেন যা আমি তাকে পড়তে শুনিয়াছি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, এরূপই নাযিল হয়েছে। তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, হে উমর! পড়। তখন আমি ঐরূপই পড়লাম, তিনি আমাকে যেরূপ পড়তে শিখিয়েছেন। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, এরূপই অবতীর্ণ হয়েছে, অতএব রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, এ কুরআন নাযিল হয়েছে সাত ভাষায়। অতএব, তোমাদের যেরূপ সহজ হয় সেরূপ পড়।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৩৯. উবাই ইব্ন কাব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

একবার রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বনূ গিফারের কূয়ার নিকট ছিলেন। এমন সময় তাহাঁর নিকট জিবরাঈল [আঃ] আগমন করিলেন এবং বলিলেন, আল্লাহ্ তাআলা আপনাকে আদেশ করিয়াছেন, আপনি যেন আপনার উম্মতকে এক উপভাষায় কুরআন পড়ান। তিনি বলিলেন, আমি আল্লাহ্ তাআলার নিকট তাহাঁর ক্ষমা কামনা করি, আমার উম্মত এর ক্ষমতা রাখবে না। তারপর তাহাঁর নিকট দ্বিতীয়বার আগমন করে বলিলেন, আল্লাহ্ তাআলা আপনাকে আদেশ করিয়াছেন, আপনি যেন আপনার উম্মতকে দুহরফ বা উপভাষায় কুরআন পড়ান। তিনি বলিলেন, আমি আল্লাহ্ তাআলার নিকট তাহাঁর ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমার উম্মত এরও ক্ষমতা রাখবে না। তারপর জিবরাঈল তাহাঁর নিকট তৃতীয়বার এসে বলিলেন, আল্লাহ তাআলা আপনাকে আদেশ করছেন, আপনি যেন আপনার উম্মতকে তিন হরফ বা উপভাষায় কুরআন পড়ান। তিনি বলিলেন, আমি আল্লাহ তাআলার নিকট তাহাঁর ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমার উম্মত এরও ক্ষমতা রাখবে না। এরপর জিবরাঈল তাহাঁর নিকট চতুর্থবার আগমন করে বলিলেন, আল্লাহ তাআলা আপনাকে আদেশ করছেন, আপনি যেন আপনার উম্মতকে সাত হরফ বা উপভাষায় কুরআন পড়ান। যে লুগাতেই পড়ুক না কেন তা-ই সঠিক হইবে।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৪০. উবাই ইব্ন কাব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে একটি সূরা পড়ালেন। আমি মসজিদে বসা থাকতেই শুনতে পেলাম, এক ব্যক্তি তা আমার কিরাআতের বিপরীত পাঠ করছে। আমি তাকে বললাম, তোমাকে এ সূরা কে শিক্ষা দিয়েছে? সে ব্যক্তি বলিল, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]। আমি বললাম, আমার কাছ থেকে পৃথক হইবে না, যতক্ষণ না আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে যাই। আমি তাহাঁর কাছে এসে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আমাকে এই সূরাটি যেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন। ঐ ব্যক্তি তা উল্টোভাবে পাঠ করেছে। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, হে উবাই! তুমি পড়; আমি পড়লাম। তখন আমাকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তুমি ঠিক পাঠ করেছ। অতঃপর ঐ ব্যক্তিকে বলিলেন, তুমি পড়। সে আমার পড়ার অনুরূপ পড়ল। তাকেও রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তুমি ঠিকই পড়েছ। এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, হে উবাই! ব্যাপার এই যে, কুরআন সাত প্রকার লুগাতে নাযিল হয়েছে। তার প্রত্যেক প্রকারই রোগ মুক্তি এবং উদ্দেশ্য অনুধাবনে যথেষ্ট। আবু আবদুর রহমান [রাঃআঃ] বলেন, মাকাল ইব্ন উবায়দুল্লাহ তত সবল নন।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

৯৪১. উবাই [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমার ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আমার অন্তরে কোন প্রকার সন্দেহ উপস্থিত হয়নি। কিন্তু আমি একটি আয়াত পাঠ করলাম, আর তা অন্য একজন আমার কিরআতের বিপরীত পাঠ করিল। আমি বললাম, আমাকে এটা রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] শিক্ষা দিয়েছেন। ঐ ব্যক্তিও বলিল, আমাকেও এটা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] শিক্ষা দিয়েছেন। তারপর আমি নাবী [সাঃআঃ]-এর খেদমেত উপস্থিত হয়ে বললাম, হে আল্লাহর নাবী! আপনি আমাকে অমুক অমুক আয়াত পাঠ করিয়েছেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। আর সে ব্যক্তি বলিল, আপনি কি আমাকে অমুক অমুক আয়াত পাঠ করাননি? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। জিবরাঈল [আঃ] আমার ডান পাশে এবং মীকাঈল [আঃ] আমার বামপাশে উপবেশন করিলেন। তখন জিবরাঈল [আঃ] বলিলেন, আপনি কুরআন এক উপভাষায় পাঠ করুন আর মীকাঈল [আঃ] বলিলেন, তা আরও বাড়িয়ে দিন, তা আরও বাড়িয়ে দিন। এমনিভাবে তা সাত উপভাষায় পৌঁছলো। আর প্রত্যেক উপভাষায়ই রোগ মুক্তি এবং উদ্দেশ্য অনুধাবনে যথেষ্ট।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৪২. ইব্ন উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, কুরআন ওয়ালার দৃষ্টান্ত এক বাঁধা উটের মালিকের ন্যায়। যখন সে তার যত্ন করে তখন তাকে ধরে রাখে। আর যখন তাকে ছেড়ে দেয় তখন তা চলে যায়।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৪৩. আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, কত মন্দ পরিণতি ঐ ব্যক্তির জন্য, যে বলে আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি। বরং তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। কুরআন স্মরণ রেখ। কেননা তা মানুষের অন্তর থেকে চতুষ্পদ জন্তুর তার রশি থেকে পালাবার চেয়েও তাড়াতাড়ি অন্তর্হিত হয়ে পড়ে।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ফজরের সুন্নত দু রাকাআতে কিরাআত

৯৪৪. ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফজরের সুন্নত দুরাকাআতের প্রথম রাকাআতে সূরা বাকারার

قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا [البقرة: 136]

এই আয়াতখানা শেষ পর্যন্ত পাঠ করিতেন। আর দ্বিতীয় রাকআতে

آمَنَّا بِاللَّهِ وَاشْهَدْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 52]

আয়াতখানা পাঠ করিতেন। [সূরা আল-ইমরান]

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ফজরের সুন্নত দু রাকাআতে সূরা কাফিরুন ইখলাস পড়া

৯৪৫. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফজরের সুন্নত দু রাকাআতে

قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ وَقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ

[আর-বি] এবং [আর-বি] পাঠ করিয়াছেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ফজরের সুন্নত দু রাকআত তাড়াতাড়ি আদায় করা

৯৪৬. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে দেখলাম, তিনি ফজরের [সুন্নত] দু রাকআত আদায় করিতেন এবং উক্ত দু রাকআত এত তাড়াতাড়ি আদায় করিতেন যে, আমি বলতাম-তিনি কি ঐ রাকআতদ্বয়ে সূরা ফাতিহা পড়েছেন?

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ফজরের নামাজে সূরা রূম পাঠ করা

৯৪৭. মুহাম্মদ ইব্ন বাশ্শার [রহঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণিত যে, তিনি ফজরের নামাজ আদায় করিলেন এবং তাতে সূরা রূম পড়লেন। এতে তাহাঁর কিরাআত এলোমেলো হয়ে গেলো। যখন তিনি নামাজ শেষ করিলেন তখন বলিলেন, ঐ সকল লোকের কি হলো, তারা আমাদের সাথে নামাজ আদায় করে অথচ উত্তম রূপে পবিত্রতা অর্জন করে না। তারাই আমাদের কিরাআত এলোমেলো করে ফেলে।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ফজরের নামাজে ষাট থেকে একশত আয়াত পড়া

৯৪৮. আবু বরযা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফজরের নামাজে ষাট থেকে একশত আয়াত পাঠ করিতেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ফজরের নামাজে সূরা কাফ পাঠ করা

৯৪৯. উম্মে হিশাম বিনতে হারিসা ইব্ন নুমান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পেছনে নামাজে শরীক হয়ে সূরা কাফ মুখস্থ করেছি। তিনি ঐ নামাজে তা পাঠ করিতেন।

হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

৯৫০. যিয়াদ ইব্ন ইলাকা [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি আমার চাচাকে বলিতে শুনিয়াছি, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করেছি। তিনি এর এক রাকআতে [আরবি] পাঠ করিলেন। [হাদিসের অন্যতম রাবী শুবা বলেন] তারপর বাজারের ভিড়ের মধ্যে তাহাঁর সাথে দেখা হলে তিনি বলিলেন,সূরা কাফ পড়েছিলেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ফজরের নামাজে সূরা ইযাশ্ শামসু কুব্বিরাত পাঠ করা

৯৫১. আমর ইব্ন হুরায়ছ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ]-কে ফজরের নামাজে

إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ

পাঠ করিতে শুনিয়াছি।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ফজরের নামাজে মুআওয়াযাতায়ন পড়া

৯৫২. উকবা ইব্ন আমির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি নাবী [সাঃআঃ]-কে মুআওয়াযাতায়ন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করিলেন। উকবা বলেন, তারপর রাসূলূল্লাহ্ [[সাঃআঃ] উক্ত সূরাদ্বয় দ্বারা আমাদের ফজরের নামাজের ঈমামতি করিলেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মুআওয়াযাতায়ন পাঠের ফযীলত

৯৫৩. উকবা ইব্ন আমির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পেছনে পেছনে চললাম। তখন তিনি ছিলেন আরোহী। আমি তাহাঁর পায়ে হাত রেখে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে সূরা হুদ এবং সূরা ইউসুফ পড়িয়ে দিন। তিনি বলিলেন, তুমি সূরা নাস সূরা ফালাক অপেক্ষা আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাশীল কোন কিছুই পাঠ করিবে না।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৫৪. উকবা ইব্ন আমির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আজ রাতে আমার উপর কয়েকটি আয়াত নাযিল হয়েছে। তার ন্যায় আর কোন আয়াতই দেখা যায়নি। তা হলো সূরা ফালাক এবং সূরা নাস।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ জুমুআর দিন ফজরের নামাজে কিরাআত

৯৫৫. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জুমুআর দিন ফজরের নামাজে

الم تَنْزِيلُ، وَهَلْ أَتَى

[আর-বি] এবং [আর-বি] সূরা পাঠ করিতেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৫৬. ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] জুমুআর দিন ফজরের নামাজে

تَنْزِيلُ السَّجْدَةَ، وَهَلْ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ

[আর-বি] এবং [আর-বি] সূরা পাঠ করিতেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ কুরআনের সিজদাহ সমূহ, সূরা সোয়াদ সিজদা

৯৫৭. ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] সূরা সোয়াদে সিজদা করিয়াছেন এবং বলেছেন, দাউদ [আঃ] তওবা করার জন্য এ সিজদা করিয়াছেন, আর আমরা শোকর আদায়ের জন্য সিজদা করি, [যে আল্লাহ তাআলার হযরত দাউদ [আঃ]-এর দোয়া কবূল করিয়াছেন।]

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ওয়ান নাজমি সূরায় সিজদার বর্ণনা

৯৫৮. মুত্তালিব ইব্ন আবু ওদাআ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মক্কায় সূরা নাজম পাঠ করে সিজদা করিলেন। তখন তাহাঁর নিকট যাঁরা ছিলেন তাঁরাও সিজদা করিলেন, আমি তখন আমার মাথা উঠিয়ে রাখলাম এবং সিজদা করিতে অস্বীকার করলাম। আর তখন [আবু ওদাআর পুত্র] মুত্তালিব ইসলাম গ্রহণ করেনি।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৯৫৯. আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সূরা নাজম পাঠ করে সিজদা করিলেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ সূরা নাজম সিজদা না করা

৯৬০. আতা ইব্ন ইয়াসার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

যে, তিনি যায়দ ইব্ন ছাবিত [রাঃআঃ]-কে ইমামের সাথে কিরাআত পড়া সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বলিলেন, ইমামের সাথে কোন নামাজে কিরাআত নেই। আর বলেন, তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সামনে ওয়ান নাজমি পড়েছেন কিন্তু তিনি সিজদা করেন নি।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ [আরবী] সিজদা করা

৯৬১. আবু সালমা ইব্ন আবদুর রহমান হইতে বর্ণীত

যে, আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] তাঁদের নিয়ে [আরবি] পাঠ করিলেন। আর তাতে সিজদা করিলেন। সিজদা শেষ করে তাঁদের সংবাদ দিলেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এতে সিজদা করিয়াছেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৬২. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [আরবি] সূরায় সিজদা করিয়াছেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৬৩. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমরা নাবী [সাঃআঃ]-এর সাথে

السَّمَاءُ انْشَقَّتْ، وَاقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ

[আর-বি] এবং [আর-বি].সূরায় সিজদা করেছি।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৬৪. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

অনুরূপ বর্ণিত আছে।

হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৯৬৫. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আবু বকর [রাঃআঃ] এবং উমর [রাঃআঃ] [আরবী] সূরায় সিজদা করিয়াছেন এবং তাঁদের থেকে যিনি উত্তম তিনিও।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ইকরা বিস্‌মি রাব্বিকাতে সিজদা করা

৯৬৬. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, উমর এবাং তাহাদের চেয়ে উত্তম ব্যক্তি নাবী [সাঃআঃ]

 إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ، وَاقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ

[আর-বী] এবং [আর-বী] সূরাদ্বয়ে সিজদা করিয়াছেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৬৭. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সাথে

 إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ، وَاقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ

[আর-বী] এবং [আর-বী] সূরাদ্বয়ে সিজদা করেছি।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাজে সিজদা করা

৯৬৮. আবু রাফি [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি আবু হুরাইরা [রা]-এর পেছনে ইশার নামাজ আদায় করেছি। তিনি [আরবী] পাঠ করে তাতে সিজদা করিলেন। যখন নামাজ শেষ করিলেন, আমি বললাম, হে আবু হুরাইরা! আমরা তো এ সিজদা করতাম না। তিনি বলিলেন, এ সিজদা করিয়াছেন আবুল কাসেম [সাঃআঃ]। তখন আমি তাহাঁর পেছনে ছিলাম। অতএব, আমি সর্বদা এ সিজদা করিতে থাকব, যতদিন না আমি আবুল কাসেম-এর সঙ্গে মিলিত হব।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ দিনের কিরাআত

৯৬৯. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন প্রত্যেক নামাজেই কিরাআত রয়েছে। অতএব যা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের শুনিয়ে পড়তেন আমরা তা তোমাদের শুনিয়ে পড়বো, আর তিনি যা আমাদের থেকে চুপে-চুপে পড়েছেন তা আমরা তোমাদের থেকে চুপে-চুপে পড়ব।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৭০. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, প্রত্যেক নামাজে কিরাআত রয়েছে। অতএব, যা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]আমাদের শুনিয়ে পড়তেন তা আমরা তোমাদের শুনিয়ে পড়বো। আর যা তিনি নীরবে পড়েছেন আমরাও তা তোমাদের থেকে নীরবে পাঠ করব।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ জোহরের কিরাআত

৯৭১. বারা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমরা নাবী [সাঃআঃ] -এর পেছনে জোহরের সারাত আদায় করতাম। তখন আমরা সূরা লোকমান এবং যারিয়াতের কয়েক আয়াতের পর তা থেকে একটি আয়াত শুনতাম।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৯৭২. আবু বক্‌র ইবনি নযর হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমরা তফ নামক স্থানে আনাস [রাঃআঃ]-এর নিকট ছিলাম। তিনি তাহাদের নিয়ে জোহরের নামাজ আদায় করিলেন। নামাজ শেষে তিনি বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে জোহরের নামাজ আদায় করেছি। তিনি দুরাকাআতে আমাদের জন্য সাব্বিহিসমারাব্বিকাল আলা এবং হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়াহ পাঠ করিলেন।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

পরিচ্ছেদঃ জোহরের নামাজে প্রথম রাকাআতে কিয়াম লম্বা করা

৯৭৩. আবু সাঈদ খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, জোহরের নামাজ আরম্ভ হল। এরপর কোন ব্যক্তি বাকী-এর দিকে গমন করে তার প্রয়োজন শেষ করত। তারপর উযূ করে এসে দেখিতে পেত রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রথম রাকাআতে রয়েছেন। তিনি তা এত দীর্ঘ করিতেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৭৪. আবু কাতাদা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] আমাদের নিয়ে জোহরের নামাজ আদায় করিতেন। তিনি এর প্রথম দুরাকাআতে সূরা পাঠ করিতেন এবং আমাদের এক/আধ আয়াত শুনাতেন, তিনি জোহর নামাজের [প্রথম] রাকাআত এবং প্রথম রাকআত অর্থাৎ ফজর নামাজের প্রথম রাকাআত লম্বা করিতেন [দ্বিতীয় রাকাআতের তুলনায়]।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ জোহরের নামাজে ইমামের আয়াত শুনা যায় এমনভাবে পাঠ করা

৯৭৫. আবু কাতাদা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জোহর এবং আসরের প্রথম দুরাকাআতে সূরা ফাতিহা এবং দূটি সূরা পাঠ করিতেন। আর কোন কোন সময় আমাদের আয়াত শুনাতেন। আর তিনি প্রথম রাকাআত লম্বা করিতেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ জোহরের দ্বিতীয় রাকআতে কিয়াম সংক্ষিপ্ত করা

৯৭৬. আবু কাতাদা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নিয়ে জোহরের নামাজ আদায় করিতেন। প্রথম দুরাকাআতে আমাদের কখনো কখনো কিরাআত শুনাতেন। তিনি প্রথম রাকআত লম্বা করিতে আর দ্বিতীয় রাকআত সংক্ষিপ্ত করিতেন। তিনি ফজরের নামাজেও এরূপ করিতেন। প্রথম রাকআত লম্বা করিতে আর দ্বিতীয় রাকআত সংক্ষিপ্ত করিতেন। আর তিনি আসরের নামাজের প্রথম দুরাকআত আমাদের সাথে নিয়ে এমনভাবে আদায় করিতেন যে, প্রথম রাকআত লম্বা করিতেন এবং দ্বিতীয় রাকআত সংক্ষিপ্ত করিতেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ জোহরের নামাজে প্রথম দুরাকাআতে কিরাআত

৯৭৭. আবু কাতাদা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জোহর এবং আসরের নামাজের প্রথম দুরাকাআতে সূরা ফাতিহা এবং অন্য দুটি সূরা আর শেষের দুরাকাআতে শুধু সূরা ফাতিহা পাঠ করিতেন। আর কোন সময় আমাদের কিরাআত শুনাতেন। আর তিনি জোহরের প্রথম রাকাআত লম্বা করিতেন। {১}

{১} ইসলামের প্রাথমিক যুগে সাহাবীদেরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য নাবী [সাঃআঃ]জোহরের নামাজেও সামান্য শব্দ করে কুরআন পাঠ করিতেন।}

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৭৮. আবু কাতাদা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জোহর এবং আসরের প্রথম দুরাকআতে সূরা ফাতিহা এবং অন্য দুটি সূরা পাঠ করিতেন। আর কোন কোন সময় আমাদের আয়াত শুনাতেন। তিনি জোহরেরর প্রথম রাকআত লম্বা করিতেন আর দ্বিতীয় রাকআত সংক্ষিপ্ত করিতেন। তিনি এরূপ করিতেন ফজরের নামাজেও।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৭৯. জাবির ইবনি সামুরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] জোহর এবং আসরের নামাজে ওয়াস্‌সামায়ি যাতিল বুরুজ এবং ওয়াস্‌সামায়ি ওয়াত্‌ তারিক এবং এতদুউভয়ের মত সূরা পাঠ করিতেন।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

৯৮০. জাবির ইবনি সামুরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] জোহর নামাজে ওয়াল লাইলি ইযা ইয়াগ্‌শা এবং আসর নামাজে এর মত সূরা এবং ফজর নামাজে এরচেয়েও লম্বা সূরা পাঠ করিতেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ কিয়াম এবং কিরাআত সংক্ষিপ্ত করা

৯৮১. যায়িদ ইবনি আসলাম [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমরা আনাস ইবনি মালিক [রাঃআঃ]-এর নিকট পৌঁছালাম। তিনি বলিলেন, তোমরা নামাজ আদায় করেছ কি? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, হে বালিকা! আমার জন্য উযূর পানি আন। আমি অন্য কোন ইমামের পেছনে নামাজ আদায় করিনি, যার নামাজ তোমাদের এই ঈমাম [উমর ইবনি আবদুল আযীয]-এর চেয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নামাজের সাথে অধিক সাদৃশপূর্ণ। যায়দ বলেন, উমর ইবনি আবদুল আযীয [রহঃ] রুকূ এবং সিজদা পূর্ণ আদায় করিতেন। আর দাঁড়ানো এবং বসায় অপেক্ষাকৃত কম দেরী করিতেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ লিগাইরিহি

৯৮২. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নামাজের সাথে অমুকের চেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ নামাজ আর কারও পেছনে আদায় করিনি। সুলাইমান [রাঃআঃ] বলেন -তিনি জোহরের প্রথম দুরাকআত লম্বা করিতেন, শেষের দুরাকআত সংক্ষিপ্ত করিতেন। আর আসরের নামাজ সংক্ষিপ্ত করিতেন। আর মাগরিবের নামাজ কিসারে মুফাস্‌সাল দ্বারা আদায় করিতেন। আর ইশার নামাজ আওসাতে মুফাস্‌সাল দ্বারা আদায় করিতেন। আর ভোরের নামাজ অর্থাৎ ফজর তিওয়ালে মুফাস্‌সাল দ্বারা আদায় করিতেন।১

{১. সূরা হুজুরাত থেকে সূরা বুরুজ পর্যন্ত তিওয়ালে মুফাস্‌সাল, সূরা বরূজ থেকে সূরা বায়্যিনা পর্যন্ত আওসাতে মুফাস্‌সাল এবং সূরা বায়্যিনা থেকে কুরআনের শেষ সূরা পর্যন্ত কিসারে মুফাস্‌সাল হিসাবে গণ্য হয়।}

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মাগরিবের নামাজে কিসারে মুফাস্‌সাল পড়া

৯৮৩. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি এমন কোন ব্যক্তির পেছনে নামাজ আদায় করিনি যার নামাজ অমুক ব্যক্তির চেয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নামাজের সাথে সঠিক সামাঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব, আমরা ঐ ব্যক্তির পেছনে নামাজ আদায় করলাম। তিনি জোহরের প্রথম দুরাকআত লম্বা করিতেন, পরের দুরাকআত সংক্ষিপ্ত করে আদায় করিতেন। আসরের নামাজও সংক্ষিপ্ত করে আদায় করিতেন। আর মাগরিবে কিসারে মুফাস্‌সাল পড়তেন। আর ইশার নামাজ আদায় করিতেন ওয়াশ্‌ শামসি ওয়াদ্‌দুহাহা এবং এর মত সূরা দ্বারা। আর ফজরের নামাজ আদায় করিতেন দুটি লম্বা সূরা দ্বারা।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মাগরিবে […আরবী] পড়া

৯৮৪. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, এক আনসারী ব্যক্তি দুটি উট নিয়ে মুআয [রাঃআঃ]-এর নিকট গেলেন।তখন তিনি মাগরিব নামাজ আদায় করছিলেন। তিনি সূরা বাকারা আরম্ভ করিলেন। ঐ ব্যক্তি পৃথকভাবে নামাজ আদায় করে চলে গেল। একথা নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট পৌঁছলে তিনি বলিলেন, হে মুআয! তুমি কি [লোকদের] ফিতনা ও কষ্টে ফেলতে চাও? হে মুআয! তুমি কি [লোকদের] ফিতনা ও কষ্টে ফেলতে চাও? তুমি কেন সাব্বিহিস্‌মা রাব্বিকা অথবা ওয়াশ্‌শামসি ওয়াদুহাহা অথবা এ জাতীয় সূরা পাঠ করলে না?

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মাগরিবে সূরা মুরনামাজ পাঠ করা

৯৮৫. উম্মুল ফযল বিন্‌ত হারিস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নিয়ে তাহাঁর গৃহে মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন। তিনি তাতে সূরা ওয়াল মুরনামাজ পড়লেন। এরপর তিনি লোকদের নিয়ে তাহাঁর ইন্তিকালের পূর্বে আর কোন নামাজ আদায় করেন নি।১

{১. রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সাধারণত মাগরিবের নামাজ ছোট সূরা পাঠ করিতেন। কিন্তু এ নামাজে বড় বড় সূরা পাঠ করা করাও যে বৈধ তা ব্যক্ত করার জন্য তিনি ভাল কোন সময় বড় সূরাও পাঠ করিতেন।}

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৮৬. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি নাবী [সাঃআঃ]-কে মাগরিব নামাজে সূরা ওয়াল মুরনামাজ পাঠ করিতে শুনেছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদঃ মাগরিবে সূরা তূর পাঠ করা

৯৮৭. জুবায়র ইবনি মুতয়িম [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, মাগরিবের নামাজে নাবী [সাঃআঃ]-কে সূরা তূর পড়তে শুনিয়াছি।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মাগরিবের সারাতে সূরা হামীম দুখান পাঠ করা

৯৮৮. আবদুল্লাহ ইবনি উতবা ইবনি মাসঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাগরিব নামাজে সূরা হামীম দুখান পাঠ করিয়াছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মাগরিবে আলিফলামমীমসোয়াদ পাঠ করা

৯৮৯. যায়দ ইবনি সাবিত [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

মারওয়ানকে বলিলেন, হে আবু আবদুল মালিক! আপনি কি মাগরিবের নামাজে [… আরবী] এবং ইন্না আতাইনা পড়ে থাকেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, আল্লাহর শপথ! আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে দেখেছি তিনি দীর্ঘ সূরার মধ্যে বড় সূরা আলিফ লাম মীম সোয়াদ পড়েছেন।১

{১. দীর্ঘ সূরাদ্বয় দ্বারা সূরা আনআম ও আরাফ বুঝানো হয়েছে। আর আলিফ-লাম-মীম সোয়াদ দ্বারা সূরা আরাফকে নির্দেশ করা হয়েছে।}

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৯০. মারওয়ান ইবনি হাকাম হইতে বর্ণীত

যায়িদ ইবনি সাবিত [রাঃআঃ] বলিলেন, আমার কি হলো আমি দেখছি আপনি মাগরিবের নামাজে ছোট ছোট সূরা পড়লেন। অথচ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে দেখেছি তিনি তাতে দুটি দীর্ঘ সূরার মধ্য থেকে যে সূরা অধিক দীর্ঘ তা পাঠ করিতেন। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, ঐ দীর্ঘ সূরা কি? তিনি বলিলেন, তা হলো সূরা আরাফ।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৯১. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাগরিবের নামাজে সূরা আরাফ পাঠ করিতেন। আর তিনি তা দুরাকাআতে ভাগ করিয়াছেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মাগরিবের পর দুরাকআতে কিরাআত

৯৯২. ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর প্রতি বিশ বার লক্ষ্য করেছি যে, তিনি মাগরিবের পর দুরাকআতে এবং ফজরের পূর্বের [সুন্নত] দুরাকআতে,কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন এবং কুল হুয়াল্লাহু আহাদ পাঠ করিয়াছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদঃ কুল হুয়াল্লাহু আহাদ পড়ার ফযীলত

৯৯৩. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এক ব্যক্তিকে যুদ্ধের নেতা করে পাঠালেন। তিনি তাহাঁর সাথীদের নিয়ে নামাজে কুরআন পাঠ করিতেন আর তিনি কুল হুয়াল্লাহু আহাদ দ্বারা শেষ করিতেন। সঙ্গী লোকের ফিরে এসে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এ ঘটনা উল্লেখ করিলেন। তিনি বলিলেন, তোমরা তাঁকে জিজ্ঞাসা কর, সে কেন এরূপ করেছে? তারা তাঁকে প্রশ্ন করলে, তিনি বলিলেন, কেননা তা মহামহিমান্বিত দয়াময়ের গুণ। তাই আমি তা পড়া পছন্দ করি। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমরা তাঁকে সংবাদ দাও যে, আল্লাহ তাআলা তাঁকে ভালবাসেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৯৪. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে আসলাম। তিনি শুনলেন যে, এক ব্যক্তি পড়ছে [বল, তিনিই আল্লাহ্‌, একক ও অদ্বিতীয় তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাহাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি এবং তাহাঁর সমতুল্য কেউই নেই।] তখন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, অবধারিত হয়ে গিয়েছে। আমি তাঁকে প্রশ্ন করলাম, ইয়া রসূলুল্লাহ্‌! কী অবধারিত হয়ে গিয়েছে? তিনি বলিলেন, জান্নাত।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৯৫. আবু সাঈদ খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে কুল হুয়াল্লাহু আহাদ পড়তে শুনল, সে তা বারবার পড়ছিল। সকাল বেলা সে ব্যক্তি নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট উপস্থিত হয়ে ঘটনা বর্ণনা করলে তিনি বলিলেন, আল্লাহ্‌র শপথ! তা কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য [সওয়াবের দিক থেকে]।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৯৬. আবু আইয়ূব [রহঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, কুল হুয়াল্লাহু আহাদ কুরআনের এক তৃতীয়াংশ।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ইশার নামাজে সাব্বিহিস্‌মা রাব্বিকাল আলা পাঠ করা

৯৯৭. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, মুআয [রাঃআঃ] দাঁড়িয়ে ইশার নামাজ আদায় করিলেন এবং তা দীর্ঘায়িত করিলেন। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেন, হে মুআয; তুমি কি [লোকদের] ফিৎনা ও বিপদে ফেলবে? তুমি কি [লোকদের] ফিৎনা ও কষ্টে ফেলবে তুমি সাব্বিহিসমা রাব্বিকা, ওয়াদ্‌দুহা এবং ইযাস্‌সামা উনফাতারাত পাঠ কর না কেন?

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ইশার নামাজে ওয়াশ্‌শামসি ওয়াদ্‌দুহা পাঠ করা

৯৯৮. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, মুআয ইবনি জাবাল [রাঃআঃ] তাহাঁর সাথীদের নিয়ে ইশার নামাজ আদায় করছিলেন। তিনি নামাজে দীর্ঘ করলে আমাদের মধ্যে এক ব্যক্তি চলে গেল। মুআয [রাঃআঃ]-কে এ সংবাদ দেয়া হলে তিনি বলিলেন, সে ব্যক্তি মুনাফিক। ঐ ব্যক্তির নিকট এ সংবাদ পৌছলে সে নাবী করীম [সাঃআঃ]-এর নিকট গেল এবং মুআয [রাঃআঃ] যা বলেছিলেন তা তাঁকে অবহিত করিলেন। নাবী [সাঃআঃ] তাঁকে বলিলেন, হে মুআয! তুমি কি [লোকদের মধ্যে] ফিৎনা সৃষ্ঠি করিতে চাও? যখন তুমি লোকের ঈমামতি করিবে তখন ওয়াশ্‌শামসি ওয়াদুহাহা; সাব্বিহিস্‌মা রাব্বিকাল আলা, ওয়াল লাইলি ইযা ইয়াগ্‌শা এবং ইকরা বিসমি রাব্বিকা পাঠ করিবে।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯৯৯. বুরায়দা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইশার নামাজে ওয়াশ্‌শামসি ওয়াদুহাহা বা এ জাতীয় অন্যান্য সূরা পাঠ করিতেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ইশার নামাজে সূরা তীন পাঠ করা

১০০০. বারা ইবনি আযিব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে ইশার নামাজ আদায় করেছি। তিনি তাতে ওয়াত্তীনি ওয়ায্‌ যায়তুন পড়েছেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ইশার প্রথম রাকআতে সূরা তীন পাঠ করা

১০০১. বারা ইবনি আযিব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক সফরে ছিলেন। তিনি ইশার প্রথম রাকআতে ওয়াত্তীনি ওয়ায্‌ যায়তুন পড়লেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ প্রথম দুরাকআত লম্বা করা

১০০২. জাবির ইবনি সামুরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

উমর [রাঃআঃ] সাদ [রা]-কে বলিলেন, লোক প্রত্যেক কাজে তোমার বিপক্ষে অভিযোগ করে। এমনকি নামাজ সম্পর্কেও। তখন সাদ বলিলেন, আমি প্রথম দুরাকআত লম্বা করি আর শেষের দুরাকআত সংক্ষিপ্ত করি। আর আমি যে সকল নামাজ রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে ইকতিদা করে আদায় করেছি সে সকল নামাজে তাহাঁর অনুকরণ করিতে ত্রুটি করি না। তিনি বলিলেন, তোমার প্রতি আমার ধারণাও তাই।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০০৩. জাবির ইবনি সামুরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, কূফার কিছু লোক উমর [রাঃআঃ]-এর নিকট সাদ [রাঃআঃ]-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনল, তারা বলিল, আল্লাহ্‌র শপথ ! তিনি নামাজ উত্তমরূপে আদায় করেন না, তিনি [সাদ] বলিলেন, আমি তো তাহাদের নিয়ে রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নামাজের ন্যায় নামাজ আদায় করে থাকি। তা থেকে কোন রকম কম করি না। আমি প্রথম দুরাকআত লম্বা করি আর শেষের দুরাকআত সংক্ষিপ্ত করি। তিনি [উমর] বলিলেন, তোমার প্রতি আমার ধারণা তাই। আর আমি যে সকল নামাজ রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে ইকতিদা করে আদায় করেছি সে সকল নামাজে তাহাঁর অনুকরণ করিতে ত্রুটি করি না। তিনি বলিলেন, তোমার প্রতি আমার ধারণাও তাই।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ এক রাকআতে দুই সূরা পাঠ করা

১০০৪. আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ যেসব সূরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পাঠ করিতেন আমি সেসব সূরার সাথে পরিচিত। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দশ রাকআতে অনুরূপ বিশটি সূরা পাঠ করিতেন। তারপর তিনি আলকামার হাত ধরে ভিতরে প্রবেশ করিলেন। পরে আলকামা আমাদের নিকট বেরিয়ে এলেন। আমরা তাঁকে প্রশ্ন করলাম, তিনি আমাদের সে সকল সূরার সংবাদ দিলেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০০৫. আমর ইবনি মুররা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি আবু ওয়ায়িলকে বলিতে শুনিয়াছি, আবদুল্লাহর নিকট এক ব্যক্তি বলিল, আমি এক রাকআতে মুফাস্‌সাল পড়েছি। তিনি বলিলেন, কবিতার ন্যায় তাড়াতাড়ি পড়া? রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ যে সুরাগুলো মিলিয়ে পাঠ করিতেন তা আমি জানি। তারপর তিনি মুফাস্‌সালের বিশটি সূরার উল্লেখ করিলেন এক রাকআতে দু দু সূরা করে।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০০৬. আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

যে, তাহাঁর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলিল, আমি এ রাত্রে এক রাকআতে মুফাস্‌সাল পাঠ করেছি। তিনি বলিলেন, তাড়াতাড়ি কবিতা আবৃত্তির মত? কিন্তু রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ মুফাস্‌সালের বিশটি সূরা পাঠ করিতেন, যেগুলোর আরম্ভ হয়েছে [আরবী] দিয়ে।

মুফাস্‌সাল সূরা নিরূপণে মতভেদ রয়েছে। প্রসিদ্ধ মতটি এর আগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ এক সূরার কিয়দংশ পাঠ করা

১০০৭. আবদুল্লাহ ইবনি সায়িব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি কাবার সম্মুখে নামাজ আদায় করিলেন। তিনি তাহাঁর পাদুকাদ্বয় খুলে তাহাঁর বাম পাশে রাখলেন, তারপর তিনি সূরা মুমিনূন আরম্ভ করিলেন। যখন তিনি মূসা বা ঈসা [আঃ]-এর ঘটনায় পৌছলেন, তাহাঁর কান্নার কারণে কাশির উদ্রেক হলে তিনি রুকূ করিলেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ আযাবের আয়াতে পৌছলে পাঠকের আল্লাহ্‌র নিকট পানাহ চাওয়া

১০০৮. হুযায়ফা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি এক রাত্রিতে নাবী [সাঃআঃ]-এর পাশে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করিয়াছেন। তিনি কিরাআত পড়তে পড়তে যখন আযাবের আয়াতে পৌঁছতেন, তখন থেমে যেতেন এবং দোয়া করিতেন। আর তিনি রুকূতে বলিতেন,

سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ

সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম,

আর সিজদায় বলিতেন,

سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى

সুবহানা রাব্বিয়াল আলা।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ রহমতের আয়াতে পৌছে পাঠকের দোয়া করা

১০০৯. হুযায়ফা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] এক রাকআতে সূরা বাকারা, আল-ইমরান এবং নিসা পাঠ করিতেন। তিনি যখনই রহমতের আয়াতে পৌঁছতেন প্রার্থনা করিতেন। আর আযাবের আয়াতে পৌছলে আশ্রয় ভিক্ষা করিতেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ বারবার এক আয়াত পাঠ করা

১০১০. আবু যর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] ভোর পর্যন্ত একটি আয়াত দিয়েই নামাজ আদায় করিলেন। আর সে আয়াতখানা হলোঃ

إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ، وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [المائدة: 118]

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মহান আল্লাহ্‌র বাণী– […আরবী] –এর ব্যাখ্যা

১০১১. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

[…আরবী] আয়াত সম্বন্ধে তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হয় তখন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মক্কায় চুপে চুপে কুরআন পড়তেন। কিন্ত যখন তাহাঁর সাথীদের নিয়ে নামাজ আদায় করিতেন, তখন তাহাঁর আওয়াজ বুলন্দ করিতেন। ইবনি মানী বলেন, তখন তিনি উচ্চৈঃ স্বরে কুরআন পড়তেন। আর মুশরিকরা যখন তাহাঁর শব্দ শুনত তখন তারা কুরআনকে, কুরআন অবতরণকারীকে এবং যিনি এ কুরআন নিয়ে এসেছেন তাঁকে গালি দিত। তখন আল্লাহ তাআলা তাহাঁর নাবী [সাঃআঃ]-কে বলিলেন, আপনার নামাজকে অর্থাৎ নামাজের কিরআতকে উচ্চ করবেন না। কেননা, মুশরিকরা তা শুনে কুরআনকে গালি দিবে। আর আপনার সাথীদের থেকে তা চুপে চুপেও পড়বেন না। তাহলে তারা শুনতে পাবে না, এতদুভয়ের মধ্য পন্থা অবলম্বন করুন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০১২. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করিতেন। আর মুশরিকরা যখন তাহাঁর আওয়াজ শ্রবণ করত তখন কুরআনকে এবং যিনি তা আনয়ন করিয়াছেন তাঁকে গালি দিত। তখন নাবী [সাঃআঃ] নিম্নস্বরে কুরআন পড়তে আরম্ভ করিলেন যা সাহাবায়ে কিরাম শুনতে পেতেন না। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করিলেন, আপনি আপনার নামাজ উচ্চৈঃস্বরে পড়বেন না, আবার একেবারে নীরবেও পড়বেন না, বরং এতদুভয়ের মধ্যপন্থা অবলম্বন করুন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করা

১০১৩. উম্মি হানী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ]-এর কুরআন পাঠ শ্রবণ করতাম আমার ঘরের উপর থেকে।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদঃ কিরাআতে স্বর লম্বা করা

১০১৪. কাতাদা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি আনাস [রাঃআঃ]-কে প্রশ্ন করলাম, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কুরআন পাঠ কিরূপ ছিল? তিনি বলিলেন, তিনি তাহাঁর স্বর লম্বা করে পড়তেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ সুললিত কন্ঠে কুরআন পাঠ করা

১০১৫. বারা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমরা সুন্দর স্বরে কুরআন পাঠ করিবে।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০১৬. বারা ইবনি আযিব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমরা সুন্দর স্বরে কুরআন পাঠ করিবে। ইবনি আওসাজাহ বলেন, আমি “কুরআন পাঠ সুন্দর কর” এ কথাটি ভুলে গিয়েছিলাম। দাহহাক ইবনি মযাহিম আমাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০১৭. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেনঃ আল্লাহ তায়ালা কোন জিনিসকে [এমন মহব্বত ও গুরুত্বের সাথে] শোনেন না যেমন তিনি কুরআন শোনেন ঐ নাবীর মুখে যিনি সুললিত কন্ঠের অধিকারী ও সুললিত কন্ঠে উচ্চঃস্বরে আল্লাহর কালাম পাঠ করেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০১৮. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি নাবী [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেনঃ আল্লাহ তায়ালা কোন জিনিসকে ঐরূপ শোনেন না যেরূপ তিনি কুরআন শোনেন, সুললিত কন্ঠের অধিকারী নাবীর [সাঃআঃ] মুখে যিনি সুললিত কন্ঠে কুরআন পাঠ করেন।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০১৯. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আবু মূসার কুরআন পাঠ শ্রবণ করে বলিলেন, তাঁকে দাঊদ [আঃ]-এর সুললিত কন্ঠস্বর দান করা হয়েছে।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০২০. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] আবু মূসা [রাঃআঃ]-এর কুরআন পাঠ শ্রবণ করে বলিলেন, তাঁকে দাঊদ [আঃ]-এর সুন্দর স্বর দান করা হয়েছে।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০২১. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আবু মূসা [রাঃআঃ]-এর কুরআন পাঠ শ্রবণ করে বলিলেন, একে দাঊদ [আঃ]-এর সুন্দর স্বর দান করা হয়েছে।

নামাজের সুরা কেরাত এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০২২. ইয়ালা ইবনি মামলাক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি উম্মে সালামা [রাঃআঃ]-কে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কুরআন পাঠ এবং তাহাঁর নামাজ সম্বন্ধে জিজ্ঞসা করিলেন। তিনি বলিলেন, তোমাদের তাহাঁর নামাজের সাথে কি সম্বন্ধ ? তারপর তিনি তাহাঁর কুরআন পাঠের বর্ণনা দিলেনঃ তা ছিল এমন কুরআন পাঠ যার শব্দ শব্দ স্পষ্ট ও পরিস্কারভাবে বোঝা যেত।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

কসম ও মানত

পর্বঃ ৩৫, কসম ও মান্নাত, হাদীস (৩৭৬১ – ৩৮৫৬) কসম করা ও যে সব নামের …

Leave a Reply

%d bloggers like this: