নতুন লেখা

নামাজের সামগ্রিক বৈশিষ্ট্য – যা দিয়ে নামাজ শুরু

নামাজের সামগ্রিক বৈশিষ্ট্য – যা দিয়ে নামাজ শুরু

নামাজের সামগ্রিক বৈশিষ্ট্য – যা দিয়ে নামাজ শুরু >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৪৬. অধ্যায়ঃ নামাজের সামগ্রিক বৈশিষ্ট্য – যা দিয়ে নামাজ শুরু এবং শেষ করিতে হইবে; রুকুর বৈশিষ্ট এবং এর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা; সাজদার বৈশিষ্ট্য ও এর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা; চার রাকআত বিশিষ্ট সলাতে প্রতি দুরাকআত অন্তর তাশাহ্‌হুদ পাঠ; দুসাজদার মাঝখানে বসা এবং প্রথম বৈঠকের বর্ণনা।

৯৯২

আবদুল্লাহ ইব্‌নে মালিক ইবনি বুহাইনাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন , রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজ আদায় করার সময় দুহাত [পাঁজর থেকে] এমনভাবে ফাঁকা রাখতেন যে, তাহাঁর বগলের শুভ্রতা প্রকাশ হয়ে পড়ত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ৯৯৭]

৯৯৩

জাফার ইব্‌নে রাবীআহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

সূত্রে উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে আম্‌র ইব্‌নে হারিস-এর বর্ণনায় নিম্নরূপঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন সাজদাহ্ করিতেন, তখন উভয় বাহু প্রসারিত করে রাখতেন। এর ফলে তার বগলের শুভ্রতা প্রকাশ হয়ে পড়ত।

লায়স-এর বর্ণনায় নিম্নরূপঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন সাজদাহ্ করিতেন, উভয় বাহু পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক রাখতেন। এমনকি আমি [আবদুল্লাহ ইবনি মালিক ইব্‌নে বুহাইনাহ্‌] তাহাঁর বগলের শুভ্রতা দেখিতে পেতাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৮৭. ইসলামিক সেন্টার- ৯৯৮]

৯৯৪

মাইমুনাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] যখন সাজদাহ্ করিতেন, কোন মেষ সাবক ইচ্ছা করলে তাহাঁর বাহুর ফাঁক দিয়ে চলে যেতে পারত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৮৮, ইসলামিক সেন্টার- ৯৯৯]

৯৯৫

নবী [সাঃআঃ] –এর স্ত্রী মাইমুনাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন সাজদাহ্ করিতেন , দুবাহু এমনভাবে [পাঁজর থেকে] ফাঁকা রাখতেন যে, তাহাঁর পিছন থেকে বগলের শুভ্রতা দেখা যেত। তিনি যখন বসতেন, বাম উরুর উপর শান্তভরে বসতেন। [ই.ফা.৯৮৯, ই সে. ১০০০]

৯৯৬

[উম্মুল মুমিনিন] মাইমুনাহ্ বিনতু হারিস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন সাজদাহ্ করিতেন, বাহুদ্বয় [পাঁজর থেকে] ফাঁকা রাখতেন। এমনকি তার পিছনের ব্যক্তিটি তাহাঁর বগলের শুভ্রতা দেখিতে পেত।

ওয়াকি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, মাইমুনাহ্ [রাদি.] ঔজ্জ্বল্য দ্বারা শুভ্রতা বুঝিয়েছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৯০, ইসলামিক সেন্টার- ১০০১]

৯৯৭

আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকবীর [আল্ল-হু আকবার] বলে নামাজ শুরু করিতেন এবং সুরা আল ফা-তিহাহ্‌ দিয়ে কিরাআত পাঠ শুরু করিতেন। তিনি যখন রুকূ করিতেন, ঘাড় থেকে মাথা নীচুও করিতেন না, উপরেও উঁচু করে রাখতেন না বরং একই সমতলে রাখতেন। তিনি যখন রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন, সোজা হয়ে না দাঁড়িয়ে সাজদাহ্ করিতেন না। তিনি [প্রথম] সাজদাহ্ থেকে মাথা তুলে সোজা হয়ে না বসা পর্যন্ত [দ্বিতীয়] সেজদাহ যেতেন না। তিনি প্রতি দুরাকআত অন্তর “আত্তাহিয়্যাতু” পাঠ করিতেন। তিনি বসার সময় বাম পা বিছিয়ে দিতেন এবং ডান পা দাঁড় করিয়ে রাখতেন। তিনি শয়তানের বসা থেকে নিষেধ করিতেন। তিনি পুরুষ লোকেদেরকে হিংস্র জন্তুর ন্যায় দুহাত মাটিতে ছড়িয়ে দিতে নিষেধ করিতেন। তিনি সালামের মাধ্যমে নামাজের সমাপ্তি ঘোষণা করিতেন।

ইবনি নুমায়র থেকে আবু খালিদ-এর সূত্রে বর্ণিত আছে : তিনি শয়তানের মতো {১০৬} বসতে নিষেধ করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৯১, ইসলামিক সেন্টার- ১০০২]

১০৬ – দুহাঁটু দাঁড় করিয়ে দুউরু বুকের সঙ্গে লাগলে পাছার উপর ভর দিয়ে উপবেশন করাকে শয়তানের বৈঠক বলা হয়। নামাজ রত অবস্থায় তাশাহ্‌হুদ পাঠকালে এরূপ বসতে নিষেধ করা হয়।

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: