নামাজের সময় সুচি – ফজর জোহর আছর মাগরিব ও এশা

নামাজের সময় সুচি – ফজর জোহর আছর মাগরিব ও এশা

নামাজের সময় সুচি – ফজর জোহর আছর মাগরিব ও এশা , এই অধ্যায়ে মোট =৩৯ টি হাদীস (৬৬৭ – ৭০৫) >> সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ২, অধ্যায় – ২ঃ সালাত (নামায),

১. অধ্যায়ঃ সলাতের ওয়াক্তসমূহ
২. অধ্যায়ঃ ফজরের নামাজের সময় সুচি
৩. অধ্যায়ঃ যোহরের নামাজের সময় সুচি
৪. অধ্যায়ঃ প্রচণ্ড গরমের মৌসুমে যোহরের নামাজ ঠাণ্ডা করে পড়া
৫. অধ্যায়ঃ আসরের নামাজের সময় সুচি
৬. অধ্যায়ঃ আসরের নামাজের হেফাজত করা।
৭. অধ্যায়ঃ মাগরিবের নামাজের সময় সুচি
৮. অধ্যায়ঃ ইশার নামাজের সময় সুচি
৯. অধ্যায়ঃ মেঘাচ্ছন্ন দিনে নামাজের সময় সুচি
১০. অধ্যায়ঃ যে ব্যাক্তি নামাজ না পড়ে ঘুমিয়ে গেল বা নামাজের কথা ভুলে গেল
১১. অধ্যায়ঃ ওজর ও জরুরী অবস্থায় সালাতের ওয়াক্ত
১২. অধ্যায়ঃ ইশার সালাতের পূর্বে ঘুমানো এবং ঐ সালাতের পর কথাবার্তা বলা
১৩. অধ্যায়ঃ ইশার নামাজকে আতামার নামাজ বলা নিষেধ

১. অধ্যায়ঃ সলাতের ওয়াক্তসমূহ

৬৬৭ বুরায়দাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে তাঁকে নামাজের সময় সুচি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। তিনি বলেন, তুমি আমাদের সাথে এই দু দিন নামাজ পড়ো। সূর্য ঢলে পড়লে তিনি বিলাল [রাঃআঃ]-কে আযান দেয়ার নির্দেশ দিলে তিনি আযান দেন। এরঃপর তিনি তাকে একামত দেয়ার নির্দেশ দেন এবং যোহরের নামাজ পড়েন। এরপর তিনি তাকে আসরের নামাজের [আযান দেয়ার] নির্দেশ দেন এবং আসরের নামাজ পড়েন এবং সূর্য তখন অনেক উপরে সাদা, পরিচ্ছন্ন ও উজ্জ্বল ছিল। এরপর সূর্য অস্ত গেলে তিনি তাঁকে মাগরিবের আযান দেয়ার নির্দেশ দেন এবং মাগরিবের নামাজ পড়েন। অতঃপর পশ্চিম আকাশের লাল আভা [শাফাক] অদৃশ্য হওয়ার পর তাকে ইশার নামাজের আযান দেয়ার নির্দেশ দেন এবং ইশার নামাজ পড়েন। অতঃপর ফজরের ওয়াক্ত হলে তিনি তাকে আযান দেয়ার নির্দেশ দেন এবং ফজরের নামাজ পড়েন। দ্বিতীয় দিন তিনি বিলাল [রাঃআঃ]-কে আযানের নির্দেশ দিলে তিনি যোহরের আযান দেন এবং নবী [সাঃআঃ] বিলম্বে যোহরের নামাজ পড়েন। অতঃপর তিনি আসরের নামাজ পড়েন, যখন সূর্য উপরে ছিল ঠিকই, কিন্তু প্রথম দিনের তুলনায় একটু বেশি ঢলে পড়েছিল। অতপর তিনি পশ্চিম আকাশের শুভ্র আভা অদৃশ্য হওয়ার আগে মাগরিবের নামাজ পড়েন। রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিক্রম হওয়ার পর তিনি ইশার নামাজ পড়েন। পূর্বাকাশ পরিষ্কার হওয়ার পর তিনি ফজরের নামাজ পড়েন, অতঃপর বলেন, নামাজের সময় সুচি সম্পর্কে জিজ্ঞেসকারী কোথায়? লোকটি বলল, এই যে আমি, হে আল্লাহ্‌র রসূল! তিনি বলেন, তোমরা যেভাবে দেখিতে পেলে তোমাদের নামাজের সময় সুচিসমূহ তার মাঝখানে অবস্থিত। {৬৬৫}

{৬৬৫} মুসলিম ৬১৩/১-২, তিরমিজি ১৫২, নাসায়ি ৫১৯, আহমাদ ২২৪৪৪। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৪২৩।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৬৮ আবু মাসঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

[ইবনি শিহাব] উমার বিন আবদুল আযীয [রহঃ] এর গদীতে বসা ছিলেন, যখন তিনি মাদীনাহ্‌র গভর্নর ছিলেন। উরওয়া ইবনিয-যুবায়র [রহঃ]-ও তার সাথে ছিলেন। উমার বিন আবদুল আযীয [রহঃ] আসরের নামাজ আদায় করিতে কিছুটা বিলম্ব করিলেন। উরওয়াহ [রহঃ] তাকে বলেন, জিবরাঈল [আঃ] অবতরণ করে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর ইমাম হিসাবে নামাজ আদায় করেন। উমার [রাঃআঃ] তাকে বলেন, হে উরওয়া! আপনি কি বলছেন, তা ভেবে দেখুন। তিনি বলেন, আমি বাশীর বিন আবু মাসঊদ [রাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি আবু মাসঊদ [রাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছি, তিনি বলেন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছি তিনি বলেন, জিবরাঈল [আঃ] নাযিল হয়ে আমার ইমামতি করিলেন। এরপর আমি তাহাঁর সাথে নামাজ পড়লাম, অতঃপর আমি তাহাঁর সাথে নামাজ পড়লাম, অতঃপর আমি তাহাঁর সাথে নামাজ পড়লাম, অতঃপর আমি তাহাঁর সাথে নামাজ পড়লাম। এভাবে তিনি তাহাঁর আঙ্গুল দিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ গণনা করেন। {৬৬৬}

{৬৬৬} বোখারি ৫২২, মুসলিম ৬১০-১১, নাসায়ি ৪৯৪, আবু দাউদ ৩৯৪, আহমাদ ১৬৬৪০, ২১৮৪৮; মুওয়াত্ত্বা মালিক ২, দারিমি ১১৮৫। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৪১৭। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২. অধ্যায়ঃ ফজরের নামাজের সময় সুচি

৬৬৯ আয়িশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমরা মুমিন মহিলারা নবী [সাঃআঃ]-এর সাথে ফজরের নামাজ পড়তাম। অতঃপর তারা তাহাদের ঘরে ফিরে যেতেন এবং আবছা অন্ধকার থাকার দরুন তাহাদেরকে কেউ চিনতে পারতো না। {৬৬৭}

{৬৬৭} বোখারি ৩৭২, ৫৭৮, ৮৬৭, ৮৭২; মুসলিম ৬৪১-৩, তিরমিজি ১৫৩, নাসায়ি ৫৪৫-৪৬, ১৩৬২; আবু দাউদ ৪২৩, আহমাদ ২৩৫৩১, ২৩৫৭৬, ২৪৯২৬, ২৫৫৭৯, ২৫৬৯০; মুওয়াত্ত্বা মালিক ৪, দারিমি ১২১৬। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ২৫৭, সহিহ আবু দাউদ ৪৪৯। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৭০ আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তিলাওয়াত করেন [অনুবাদ]ঃ “এবং ফজরের নামাজ আদায় করিবে।

وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا

কেননা ফজরের নামাজ বিশেষভাবে উপস্থিতির সময়” [১৭ ঃ ৭৮]। নবী [সাঃআঃ] আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেনঃ দিন ও রাতের ফেরেশতারা উপস্থিতির হন। {৬৬৮}

{৬৬৮} তিরমিজি ৩১৩৫ তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ মিশকাত ৬৩৫। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৭১ ইবনি উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমি আবদুল্লাহ ইবনিয-যুবায়র [রাঃআঃ]-এর সাথে আবছা অন্ধকারে ফজরের নামাজ পড়লাম। তিনি সালাম ফিরানোর পর আমি ইবনি উমার [রাঃআঃ]-এর সামনে উপস্থিত হয়ে বললাম, এটা কোন্‌ ধরনের নামাজ? তিনি বলেন, এটা সেই নামাজ যা আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বাক্‌র ও উমার [রাঃআঃ]-এর সাথে পড়তাম। উমার [রাঃআঃ]-কে আহত করার পর থেকে উসমান [রাঃআঃ] অন্ধকার দূরীভূত হলে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন। {৬৬৯}

{৬৬৯} সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ১/২৭৯। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৭২ রাফি বিন খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেন, তোমরা পূর্বাকাশ পরিস্কার হলে ফজরের নামাজ পড়বে। কেননা তাতে রয়েছে অধিক পুরস্কার অথবা বলেছেন তাতে তোমাদের জন্য রয়েছে অনেক বেশি নেকী। {৬৭০}

{৬৭০} তিরমিজি ১৫৪, নাসায়ি ৫৪৮-৪৯, আবু দাউদ ৪২৪, আহমাদ ১৫৩৯২, ১৬৮০৬, ১৬৮২৮; দারিমি ১২১৭। তাহকিক আলবানিঃ হাসান সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ২৫৮।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৩. অধ্যায়ঃ যোহরের নামাজের সময় সুচি

৬৭৩ জাবির বিন সামুরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] [পশ্চিমাকাশে] সূর্য ঢলে পড়ার পর যোহরের নামাজ আদায় করিতেন। {৬৭১}

{৬৭১} মুসলিম ৬১৮, আবু দাউদ ৪০৩, ৮০৬। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৪২৬।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৭৪ আবু বারযাহ আল-আসলামী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, সূর্য [পশ্চিমাকাশে] ঢলে পড়ার পর নবী [সাঃআঃ] যোহরের নামাজ আদায় করিতেন। {৬৭২}

{৬৭২} বোখারি ৫৪১, ৫৪৭, ৫৯৯, ৭১১; মুসলিম ৬৪৭, নাসায়ি ৪৯৫, ৫২৫, ৫৩০; আবু দাউদ ৩৯৮, আহমাদ ১৯২৬৮, ১৯২৯৪, ১৯৩১০; দারিমি ১৩০০। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৪২৬। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৭৫ খাব্বাব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট প্রচণ্ড গরমের অভিযোগ করলাম। কিন্তু তিনি আমদের অভিযোগ গ্রহণ করেননি। {৬৭৩}

{৬৭৩} মুসলিম ৬১৯, নাসায়ি ৪৯৭, ৫২৩; আহমাদ ২০৫৪৭, ২০৫৫৮। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৭৬ আবদুল্লাহ বিন মাসূঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট প্রচণ্ড গরমের অভিযোগ করলাম, কিন্তু তিনি আমদের অভিযোগ গ্রহণ করেননি। {৬৭৪}

{৬৭৪} সহিহ লিগাইরিহী। উক্ত হাদিসের রাবি মালিক সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তার সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না। এ হাদিসের ৭৯ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে সহিহ মুসলিম ২ টি, মুজামুল কাবীর ১০ টি ও বাকীগুলো অন্যান্য কিতাবে রয়েছে।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ লিগাইরিহি

৪. অধ্যায়ঃ প্রচণ্ড গরমের মৌসুমে যোহরের নামাজ ঠাণ্ডা করে পড়া

৬৭৭ আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যখন প্রচণ্ড গরম অনুভূত হইবে, তখন তোমরা যোহরের নামাজ ঠাণ্ডা করে পড়বে। কেননা গরমের তীব্রতা জাহান্নামের তাপ [উত্তাপ] বিশেষ। {৬৭৫}

{৬৭৫} বোখারি ৫৩৪, ৫৩৭; মুসলিম ৬১১-৪, ৬১১-৩; তিরমিজি ১৫৭, ২৫৯২; নাসায়ি ৫০০, আবু দাউদ ৪০২, আহমাদ ৭০৯০, ৭২০৫, ৭০২৪, ৭৫৫৮, ৭৬৬৫, ৭৭৭০, ২৭৪৪৩, ৮৩৭৮, ৮৬৮৩, ৮৮৬১, ৮৮৮১, ৮৯৩৯, ২৭৪৯৪, ৯৬৩৯, ১০১২৮, ১০১৬০, ১০২১৪, ১১১০৪; মুওয়াত্ত্বা মালিক ২৮, ২৯; দারিমি ১২০৭, ২৮৪৫; ইবনি মাজাহ ৬৭৮। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৪৩০। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৭৮ আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, গরমের তীব্রতা বেড়ে গেলে তোমরা যোহরের নামাজ ঠাণ্ডা করে [গরম কমলে] পড়ো। কেননা গরমের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপ বিশেষ। সহিহ। {৬৭৬}

{৬৭৬} বোখারি ৫৩৪, ৫৩৭; মুসলিম ৬১১-৪, ৬১১-৩; তিরমিজি ১৫৭, ২৫৯২; নাসায়ি ৫০০, আবু দাউদ ৪০২, আহমাদ ৭০৯০, ৭২০৫, ৭০২৪, ৭৫৫৮, ৭৬৬৫, ৭৭৭০, ২৭৪৪৩, ৮৩৭৮, ৮৬৮৩, ৮৮৬১, ৮৮৮১, ৮৯৩৯, ২৭৪৯৪, ৯৬৩৯, ১০১২৮, ১০১৬০, ১০২১৪, ১১১০৪; মুওয়াত্ত্বা মালিক ২৮, ২৯; দারিমি ১২০৭, ২৮৪৫; ইবনি মাজাহ ৬৭৭। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৭৯ আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমরা যোহরের নামাজ ঠাণ্ডা করে পড়ো। কেননা গরমের তীব্রতা জাহান্নামের নিঃশ্বাস থেকে। {৬৭৭}

{৬৭৭} বোখারি ৫৩৮, আহমাদ ১১০৯৮। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৮০ মুগীরাহ বিন শুবাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে যোহরের নামাজ দুপুরের [প্রথমভাগে] পড়তাম। তিনি আমাদের বলেন, তোমরা ঠাণ্ডা করে নামাজ পড়ো। কেননা গরমের তীব্রতা জাহান্নামের নিঃশ্বাস থেকে। {৬৭৮}

{৬৭৮} সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৮১ ইবনি উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমরা যোহরের নামাজ ঠাণ্ডা করে [বিলম্বে] পড়ো। {৬৭৯}

{৬৭৯} সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৫. অধ্যায়ঃ আসরের নামাজের সময় সুচি

৬৮২ আনাস বিন মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, সূর্য উপরে পূর্ণ উজ্জ্বল থাকা অবস্থায় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আসরের নামাজ আদায় করতো। নামাজ শেষে কোন ব্যাক্তি মদীনাহ্‌র উপকণ্ঠে পৌঁছে যেত এবং তখনও সূর্য উপরে থাকতো। {৬৮০}

{৬৮০} বোখারি ৫৪৮, ৫৫০-৫১, ৭৩২৯; মুসলিম ৬২১, নাসায়ি ৫০৬-৮, আবু দাউদ ৪০৪, মুওয়াত্ত্বা মালিক ১০-১১, দারিমি ১২০৮। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৪৩২।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৮৩ আয়িশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার ঘরে সূর্যের আলো বিচ্ছুরিত থাকা অবস্থায় নবী [সাঃআঃ] আসরের নামাজ পড়েন, তারপরও ছায়া বিস্তৃত হতো না। {৬৮১}

{৬৮১} বোখারি ৫২২, ৫৪৪-৪৬, ৩১০৩; মুসলিম ৬১১-২, ৬১৯; তিরমিজি ১৫৯, নাসায়ি ৫০৫, আবু দাউদ ৪০৭, মুওয়াত্ত্বা মালিক ২। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৪৩৫। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬. অধ্যায়ঃ আসরের নামাজের হেফাজত করা।

৬৮৪ আলী বিন আবু তালিব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খন্দক যুদ্ধের দিন বলেন, আল্লাহ তাহাদের ঘরসমূহ ও কবরসমূহ আগুন দিয়ে ভরে দিন। যেমন তারা আমাদের মধ্যবর্তী নামাজ থেকে বিরত রেখেছে। {৬৮২}

{৬৮২} বোখারি ২৯৩১, ৪১১১, ৪৫৩৩, ৬৩৯৬; মুসলিম ৬২১-৪, তিরমিজি ২৯৮৪, নাসায়ি ৪৭৩, আবু দাউদ ৪০৯, আহমাদ ৫৯২, ৬১৮, ৯১৩, ৯৯৩, ১০৩৯, ১১৩৫, ১১৫৪, ১২২৫, ১২৫০, ১২৯০, ১৩০১, ১৩০৮, ১৩১৬, ১৩২৯; দারিমি ১২৩২। তাহকিক আলবানিঃ হাসান সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৪৩৬। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৬৮৫ ইবনি উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, যার আসরের নামাজ ছুটে গেল তার পরিবার-পরিজন ও ধন সম্পদ যেন ধ্বংস হয়ে গেল। {৬৮৩}

{৬৮৩} বোখারি ৫৫২, মুসলিম ৬২১-২, তিরমিজি ১৭৫, নাসায়ি ৪৭৮, ৫১২; আবু দাউদ ৪১৪, আহমাদ ৪৫৩১, ৪৬০৭, ৪৭৯০, ৫০৬৫, ৫১৩৯, ৫২৯১, ৫৪৩২, ৫৪৪৪, ৫৭৪৬, ৬১৪২, ৬২৮৪, ৬৩২২; মুওয়াত্ত্বা মালিক ২১, দারিমি ১২৩০-৩১। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৪৪১।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৮৬ আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মুশরিকরা নবী [সাঃআঃ] কে আসরের নামাজ থেকে বিরত রাখলো, এমনকি সূর্য ডুবে গেল। তখন তিনি বলেন, যারা আমাদেরকে মধ্যবর্তী নামাজ থেকে বিরত রাখলো, আল্লাহ তাহাদের ঘর-বাড়িগুলো ও কবরসমূহ আগুন দিয়ে ভরে দিন। {৬৮৪}

{৬৮৪} মুসলিম ৬২৮, তিরমিজি ১৮১, ২৯৮৫; আহমাদ ৩৭০৮, ৩৮১৯, ৪৩৫৩। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ মিশকাত ৬৩৪। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৭. অধ্যায়ঃ মাগরিবের নামাজের সময় সুচি

৬৮৭ রাফি বিন খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর যামানায় মাগরিবের নামাজ পড়তাম, অতঃপর আমাদের কেউ ফিরে গিয়ে তার নিক্ষিপ্ত তীরের পতিত স্থান দেখিতে পেত। {৬৮৫}

{৬৮৫} বোখারি ৫৫৯, মুসলিম ৬৩৭, আহমাদ ১৬৮২৪। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৪৪২। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৮৮ সালামাহ ইবনিল আকওয়া [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি নবী [সাঃআঃ] এর সাথে সূর্যাস্তের পরপর মাগরিবের নামাজ পড়েন। {৬৮৬}

{৬৮৬} বোখারি ৫৬১, মুসলিম ৬৩৭, তিরমিজি ১৬৪, আবু দাউদ ৪১৭, আহমাদ ১৬০৯৭, ১৬১১৫; দারিমি ১২০৯। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৪৪৩।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৮৯ আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, আমার উম্মাত যাবত বিলম্ব না করে এবং তারকারাজি চমকানোর পূর্বে মাগরিবের নামাজ পড়বে, তাবত তারা ফিতরাতের উপর স্থির থাকিবে।

ইমাম আবু আবদুল্লাহ ইবনি মাজাহ [রহঃ] বলেন, আমি মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়াকে বলিতে শুনেছি, লোকেরা বাগদাদে এ হাদীস সম্পর্কে মতানৈক্যে লিপ্ত হয়। তখন আমি ও আবু বাকর আল-আয়অন [রহঃ] আল-আওওয়াম ইবনি আব্বাস ইবনিল আওওয়াম [রহঃ]-এর নিকট গেলাম। তিনি আমাদের সামনে তার পিতার লেখা মূল পাণ্ডুলিপি পেশ করিলেন,যাতে উক্ত হাদীস বিদ্যমান ছিল। {৬৮৭}

{৬৮৭} দারিমি ১২১০ তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ৩৩, মিশকাত ৬০৯, সহিহ আবু দাউদ ৪৪৪।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮. অধ্যায়ঃ ইশার নামাজের সময় সুচি

৬৯০ আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলূল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, যদি আমি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তাহলে তাহাদেরকে বিলম্বে ঈশার নামাজ পড়ার নির্দেশ দিতাম। {৬৮৮}

{৬৮৮} নাসায়ি ৫৩৪, আবু দাউদ ৪৬, আহমাদ ৭২৯৪, ৯৩০৮, ১০২৪০; দারিমি ১৪৮৪। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৩৬।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৯১ আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যদি আমি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তাহলে অবশ্যই ইশার নামাজ রাতের এক-তৃতীয়াংশ কিংবা অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্বিত করতাম। {৬৮৯}

{৬৮৯} তিরমিজি ১৬৭, আহমাদ ৭৩৬৪, ৯৩০৮ তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ মিশকাত ৬১১। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৯২ আনাস বিন মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আনাস বিন মালিক [রাঃআঃ] কে জিজ্ঞেস করা হলো, নবী [সাঃআঃ] কি আংটি ব্যবহার করিতেন? তিনি বলেন, হাঁ। একদা তিনি ঈশার নামাজ প্রায় অর্ধ-রাত পর্যন্ত বিলম্বিত করেন। নামাজ শেষে তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলেন, অন্য লোক ইশার নামাজ পরে ঘুমিয়ে পড়েছে। আর তোমরা যখন থেকে নামাজের জন্যে অপেক্ষা করছো, তখন থেকে নামাজের মধ্যে আছো। আনাস [রাঃআঃ] বলেন, আমি যেন তাহাঁর আংটির উজ্জলতা দেখিতে পাচ্ছি। {৬৯০}

{৬৯০} বোখারি ৫৭২, ৬৬১, ৮৪৮, ৫৮৬৯; মুসলিম ৬৪০/১-২, ২০৯৫; নাসায়ি ৫৩৯, আহমাদ ১২৪৬৯, ১২৫৫০, ১২৬৫৬, ১৩৪০৭। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৯৩ আবু সাইদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নিয়ে মাগরিবের নামাজ পড়েন, অতঃপর অর্ধ-রাত অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি বাইরে আসেননি। অতঃপর তিনি বের হন এবং লোকদের নিয়ে নামাজ পড়েন, অতঃপর বলেন, লোকেরা নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে গেছে। আর তোমরা নামাজের জন্যে যখন থেকে অপেক্ষা করছো, তখন থেকে নামাজরত আছো। যদি দুর্বল ও রোগাক্রান্ত লোকেরা না থকতো, তাহলে আমি এ নামাজ অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্বিত করতাম।{৬৯১}

{৬৯১} নাসায়ি ৫৩৮, আবু দাউদ ৪২২। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহ আবু দাউদ ৪৪৮। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯. অধ্যায়ঃ মেঘাচ্ছন্ন দিনে নামাজের সময় সুচি

৬৯৪ বুরায়দাহ আল-আসলামী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে এক যুদ্ধে যোগদান করেছিলাম। তিনি [সাঃআঃ] বলেন, তোমরা মেঘাচ্ছন্ন দিনে তাড়াতাড়ি [প্রথম ওয়াক্তে] নামাজ আদায় করিবে। কারণ যার আসরের নামাজ ছুটে যায় তার আমাল বিনষ্ট হয়ে যায়। {৬৯২}

তাহকীক আলবানি ঃ [আরবি] কথাটি ছাড়া দইফ।{৬৯২} বোখারি ৫৫৩, ৫৯৪; নাসায়ি ৪৭৪, আহমাদ ২২৪৪৮, ২২৪৫০, ২২৫১৭, ২২৫৩৬। তাহকিক আলবানিঃ “যার আসরের নামাজ ছুটে যায় তার আমাল বিনষ্ট হয়ে যায়।” কথাটি ছাড়া জইফ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ২৫৫।হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

১০. অধ্যায়ঃ যে ব্যাক্তি নামাজ না পড়ে ঘুমিয়ে গেল বা নামাজের কথা ভুলে গেল

৬৯৫ আনাস বিন মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] কে জিজ্ঞেস করা হলো, এক ব্যাক্তি নামাজের কথা ভুলে গেছে অথবা নামাজ না পড়েই ঘুমিয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, যখনই তার স্মরণে আসবে, তখনই সে ঐ নামাজ আদায় করিবে। {৬৯৩}

{৬৯৩} বোখারি ৫৯৭, মুসলিম ৬৮১-৩, তিরমিজি ১৭৮, নাসাঈ ৬১৩-১৪, আবু দাউদ ৪৪২, আহমাদ ১১৫৬১, ১২৮৫০, ১৩১৩৮, ১৩৪১০, ১৩৪৩৬, ১৩৫৯৫; দারিমি ১২২৯ ইবনি মাজাহ ৬৯৬। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ২৬৩।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৯৬ আনাস বিন মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যাক্তি নামাজের কথা ভুলে গেলো, সে যেন তা স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে পড়ে নেয়। {৬৯৪}

{৬৯৪} সহিহ, সহিহ আবু দাউদ ৪৬৮, বোখারি মুসলিম। তাখরিজ কুতুবুত সিত্তাহঃ বোখারি ৫৯৭, মুসলিম ৬৮১-৩, তিরমিজি ১৭৮, নাসায়ি ৬১৩-১৪, আবু দাউদ ৪৪২, আহমাদ ১১৫৬১, ১২৮৫০, ১৩১৩৮, ১৩৪১০, ১৩৪৩৬, ১৩৫৯৫; দারিমি ১২২৯; ইবনি মাজাহ ৬৯৫। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। উক্ত হাদিসের রাবি জুবারাহ ইবনিল মুগাল্লিস সম্পর্কে মুসলিম বিন কায়স বলেন, ইনশাআল্লাহ্‌ [আল্লাহ্‌ চায়ত] তিনি সিকাহ। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি মিথ্যুক ও হাদিস বানিয়ে বর্ণনা করেন। ইমাম বোখারি বলেন, তিনি মুদতারাব ভাবে সহিহ বর্ণনা করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার একাধিক মুনকার হাদিস রয়েছে। উক্ত হাদিসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৯৭ আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খায়বারের যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তনকালে সারারাত ধরে পথ চলতে থাকেন। অবশেষে তিনি ঘুমে কাতর হয়ে বিশ্রামের জন্য এক স্থানে অবতরণ করেন এবং বিলাল [রাঃআঃ] কে বলেন, তুমি আমাদের জন্য রাতের হেফাজত করিবে। অতএব বিলাল [রাঃআঃ] তার সাধ্যমত নামাজ আদায় করিতে থাকেন এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ও তাহাঁর সাহাবীগন ঘুমিয়ে পড়েন।

ফজরের সময় নিকটবর্তী হলে বিলাল [রাঃআঃ] তাহাঁর সওয়ারীর শিবিকার সাথে হেলান দিয়ে পূর্ব আকাশের দিকে মুখ করে বসলেন। শিবিকার সাথে হেলান দেয়া অবস্থায় তিনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। বিলাল [রাঃআঃ] ও নবী [সাঃআঃ] এর সাহাবীদের কেউই ঘুম থেকে জাগতে পারেননি, যাবত না তাহাদের উপর সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়লো। তাহাদের মধ্যে সর্বপ্রথম রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ঘুম থেকে জেগে উঠেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বলেন, হে বিলাল! বিলাল [রাঃআঃ] বলেন, হে আল্লহর রসুল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক। যেই সত্তা আপনার জান নিয়েছেন, তিনি আমার জানও নিয়েছেন। তিনি বলেন, তোমরা সামনে অগ্রসর হও। অতএব তারা তাহাদের সওয়ারী নিয়ে আগ্রসর হন। এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] উদূ করেন এবং বিলাল [রাঃআঃ] কে ইকামত দেয়ার নির্দেশ দেন। তিনি তাহাদের নিয়ে ফজরের নামাজ পড়েন। নামাজ সমাপনান্তে নবী [সাঃআঃ] বলেন, যে ব্যাক্তি নামাজের কথা ভুলে যায়, সে যেন তা স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে পড়ে নেয়। কেননা মহান আল্লাহ বলেন, “আমার স্মরণে তুমি নামাজ আদায় করো” [সূরাহ তহাঃ ১৪]। রাবি বলেন, ইবনি শিহাব [রাঃআঃ] তিলাওয়াত করিতেনঃ [রা অক্ষরের উপর মাদ্দ সহকারে]। {৬৯৫}

{৬৯৫} মুসলিম ৬৮০/১-২, তিরমিজি ৩১৬৩, নাসায়ি ৬১৮-২০, ৬২৩; আবু দাউদ ৪৩৫, মুওয়াত্ত্বা মালিক ২৫। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ২৯২, সহিহ আবু দাউদ ৪৬১।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬৯৮ আবু কাতাদাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, সহাবীগন তাহাদের ঘুমে বাড়াবাড়ির কথা আলোচনা করিলেন। কেউ বলেন, লোকেরা ঘুমিয়ে থাকে, এমনকি সূর্য উঠে যায়। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, ঘুমে কোন বাড়াবাড়ি নেই, বাড়াবাড়ি হয় জাগ্রত অবস্থায়। সুতরাং তোমাদের কেউ নামাজের কথা ভুলে গেলে বা তা না পড়ে ঘুমিয়ে গেলে সে যেন তা স্মরণে আসার সাথে সাথে পড়ে নেয় অথবা পরদিন স্ব স্ব ওয়াক্তে পড়ে নেয়। {৬৯৬}

{৬৯৬}বোখারি ৫৯৫, ৭৪৭১; মুসলিম ৬৮১, তিরমিজি ১৭৭, নাসায়ি ৬১৫-১৭, ৪৪৬; আবু দাউদ ৪৩৭, ৪৪১। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ২৯৪, সহিহ আবু দাউদ ৪৬৪।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১১. অধ্যায়ঃ ওজর ও জরুরী অবস্থায় সালাতের ওয়াক্ত

৬৯৯ আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের সালাতের এক রাকাআত পেলো সে আসরের নামাজ পেয়ে গেলো। আর যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের সালাতের এক রাকাআত পেল সে ফজরের নামাজ পেয়ে গেলো। {৬৯৭}

{৬৯৭} বোখারি ৫৫৬, ৫৭৯-৮০; মুসলিম ৬০১-২, ৬০৮; তিরমিজি ১৮৬, ৫২৪; নাসায়ি ৫১৪-১৭, ৫৫৩-৫৬; আবু দাউদ ৪১২, ৮৯৩, ১১২১; আহমাদ ৭১৭৫, ৭২৪২, ৭৪০৮, ৭৪৮৫, ৭৫৪০, ৭৬০৯, ৭৭০৭, ৭৭৩৯, ৭৭৯৫, ৮৩৭৯, ৮৬৬৩, ৮৯৩২, ৯৬০২, ৯৬৩৮, ৯৭৭৯, ৯৯৬৬, ৯৯৮৬, ১০৩৭২; মুওয়াত্ত্বা মালিক ৫, ১৫; দারিমি ১২০, ১২২; ইবনি মাজাহ ১১২২। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ২৫৩, সহিহ আবু দাউদ ৪৩৯।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৭০০ আয়িশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের এক রাকাআত পেলো, সে ফজরের নামাজ পেয়ে গেলো। আর যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকাআত পেল, সে আসরের নামাজ পেয়ে গেলো। {৬৯৮}

২/৭০০[১]. আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, …………………… উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। {৬৯৮}

তাহকিক আলবানিঃ সহিহ।{৬৯৮} মুসলিম ৬০৯, নাসায়ি ৫৫১, আহমাদ ২৩৯৬৮। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ ইরওয়াহ ২৫২।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১২. অধ্যায়ঃ ইশার সালাতের পূর্বে ঘুমানো এবং ঐ সালাতের পর কথাবার্তা বলা

৭০১ আবু বারযাহ আল-আসলামী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইশার নামাজ বিলম্বে পড়তে পছন্দ করিতেন। তিনি ইশার সালাতের পূর্বে ঘুমানো এবং ঐ সালাতের পর কথাবার্তা বলা অপছন্দ করিতেন। {৬৯৯}

{৬৯৯} বোখারি ৫৪১, ৫৪৭, ৫৬৮, ৫৯৯, ৭৭১; মুসলিম ৬৭৪, তিরমিজি ১৬৮, নাসায়ি ৪৯৫, ৫২৫, ৫৩০; আবু ৩৯৮, ৪৮৪৯; আহমাদ ১৯২৬৮, ১৯২৮২, ১৯২৯৪, ১৯৩০১, ১৯৩১০; দারিমি ১৩, ১৪২৯। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৭০২ আয়িশা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইশার সালাতের পূর্বে ঘুমাননি এবং তার পর নৈশ আলাপ করেননি। {৭০০}

{৭০০} সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৭০৩ আবদুল্লাহ বিন মাসুঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইশার সালাতের পর আমাদের নৈশ আলাপ নিষেধ করিতেন অর্থাৎ কঠোরভাবে নিষেধ করিতেন। {৭০১}

{৭০১} আহমাদ ৩৬৭৮, ৩৮৮৪। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ। তাখরিজ আলবানিঃ সহিহা ২৪৩৫। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৩. অধ্যায়ঃ ইশার নামাজকে আতামার নামাজ বলা নিষেধ

৭০৪ ইবনি উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনিয়াছিঃ  তোমাদের সালাতের নামকরণের ব্যাপারে বেদুঈনরা যেন তোমাদের উপর প্রভাব বিস্তার না করে। কেননা এটা হলো ইশা। এ সময় তারা উটের দুধ দোহন করে। {৭০২}

{৭০২} মুসলিম ৬৪১-২, নাসায়ি ৫৪১, ৫৪২; আবু দাউদ ৪৯৮৪, আহমাদ ৪৫৫৮, ৪৬৭৪, ৫০৮১, ৬২৭৮। তাহকিক আলবানিঃ সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৭০৫ আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেন, বেদুঈনরা যেন তোমাদের সালাতের নামকরণের ব্যাপারে তোমাদের উপর প্রভাব বিস্তার করিতে না পারে। বিন হারমালার রিওয়ায়াতে আরো আছেঃ এটা হলো ইশা। লোকেরা অন্ধকারে উটের দুধ দোহন করায় একে আতামা বলে। হাসান সহিহ। {৭০৩}

{৭০৩} হাসান সহিহ।হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

By ইমাম ইবনে মাজাহ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply