নামাজের রুকুর দোয়া তাকবীর তৎবীক কুনূত ও সকল নিয়ম

নামাজের রুকুর দোয়া তাকবীর তৎবীক কুনূত ও সকল নিয়ম

নামাজের রুকুর দোয়া তাকবীর তৎবীক কুনূত ও সকল নিয়ম >> সুনানে নাসাই শরিফের মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ১১, নামাজ আরম্ভ করা, হাদীস (১০২৩-১০৮০)

১.পরিচ্ছেদঃ রুকূর জন্য তাকবীর বলা
২.পরিচ্ছেদঃ রুকূর জন্য কানের লতি পর্যন্ত হাত উঠানো
৩.পরিচ্ছেদঃ রুকূর জন্য উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠানো
৪.পরিচ্ছেদঃ তা পরিত্যাগ করা
৫.পরিচ্ছেদঃ রুকূতে পিঠ সোজা রাখা
৬.পরিচ্ছেদঃ রুকূতে সর্বাঙ্গ যথাযথভাবে রাখা
৭.পরিচ্ছেদঃ তৎবীক -হাতের আঙ্গুল মিলিয়ে রাখা
৮.পরিচ্ছেদঃ তা রহিত হওয়া
৯.পরিচ্ছেদঃ রুকূতে হাঁটু জড়িয়ে ধরা
১০.পরিচ্ছেদঃ রুকূতে হাতের তালু রাখার স্থান
১১.পরিচ্ছেদঃ রুকূতে হাতের আঙ্গুল রাখার স্থান
১২.পরিচ্ছেদঃ রুকূতে বগল পৃথক করে রাখা
১৩.পরিচ্ছেদঃ রুকূতে সর্বাঙ্গ যথাযথভাবে রাখা
১৪.পরিচ্ছেদঃ রুকূতে কিরাআত পড়ার নিষেধাজ্ঞা
১৫.পরিচ্ছেদঃ রুকুতে প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা বর্ণনা করা
১৬.পরিচ্ছেদঃ রুকূর দোয়া
১৭.পরিচ্ছেদঃ রুকূর অন্য প্রকার দোয়া
১৮.পরিচ্ছেদঃ এর অন্য প্রকার দোয়া
১৯.পরিচ্ছেদঃ রুকূর অন্য প্রকার দোয়া
২০.পরিচ্ছেদঃ এর অন্য প্রকার দোয়া
২১.পরিচ্ছেদঃ অন্য প্রকার দোয়া
২২.পরিচ্ছেদঃ রুকূতে কিছু না পড়ার অনুমতি
২৩.পরিচ্ছেদঃ রুকূ পূর্ণ করার আদেশ
২৪.পরিচ্ছেদঃ রুকূ থেকে উঠার সময় হাত উঠানো
২৫.পরিচ্ছেদঃ রুকূ থেকে ওঠার সময় কানের লতি পর্যন্ত হাত উঠানো
২৬.পরিচ্ছেদঃ রুকূ থেকে ওঠার সময় কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠানো
২৭.পরিচ্ছেদঃ তা পরিত্যাগের অনুমতি
২৮.পরিচ্ছেদঃ রুকূ থেকে মাথা ওঠাবার সময় ঈমাম কি বলবেন ?
২৯.পরিচ্ছেদঃ মুকতাদী যা বলবে
৩০.পরিচ্ছেদঃ মুকতাদির রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ বলা
৩১.পরিচ্ছেদঃ রুকূ থেকে মাথা ওঠানো ও সিজদা করা এর মাঝে কি পরিমান সময় নেয়া হত তার বর্ণনা
৩২.পরিচ্ছেদঃ এ দাঁড়ানো অবস্থায় যা বলিতেন
৩৩.পরিচ্ছেদঃ রুকূর পর কুনুত
৩৪.পরিচ্ছেদঃ ফজরের নামাজে কুনূত
৩৫.পরিচ্ছেদঃ জোহরের নামাজে কুনূত
৩৬.পরিচ্ছেদঃ মাগরিবের নামাজে কুনূত
৩৭.পরিচ্ছেদঃ কুনূতে অভিসম্পাত করা
৩৮.পরিচ্ছেদঃ কুনূতে মুনাফিকদের উপর অভিসম্পাত
৩৯.পরিচ্ছেদঃ কুনূত পাঠ না করা

১.পরিচ্ছেদঃ রুকূর জন্য তাকবীর বলা

১০২৩. আবু সালামা ইবনি আবদুর রহমান হইতে বর্ণীত

যখন মারওয়ান আবু হুরাইরা [রা]-কে মদীনায় প্রতিনিধি করে পাঠালেন, তখন তিনি ফরয নামাজে দাঁড়াবার সময় তাকবীর বলিতেন। এরপর যখন রুকূ করিতেন তাকবীর বলিতেন, অতঃপর রুকূ থেকে যখন তাহাঁর মাথা তুলতেন তখন বলিতেন, [আরবি]। আবার যখন সিজদার জন্য নিচু হইতেন তখন তাকবীর বলিলেন। অতঃপর যখন তাশাহহুদ পড়ে দ্বিতীয় রাকআত শেষ করে উঠতেন তখন তাকবীর বলিতেন, এভাবে তিনি নামাজ শেষ করিতেন। যখন তিনি নামাজ শেষ করে সালাম ফিরাতেন তখন মসজিদের লোকদের প্রতি মুখ করিতেন এবং বলিতেন, আল্লাহর শপথ! তোমাদের চেয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নামাজের সঙ্গে আমার নামাজ অধিক সামঞ্জস্যশীল।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২.পরিচ্ছেদঃ রুকূর জন্য কানের লতি পর্যন্ত হাত উঠানো

১০২৪. মালিক ইবনি হুয়ায়রিছ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে দেখেছি, তিনি যখন তাকবীর বলিতেন, আর যখন রুকূ করিতেন এবং রুকূ থেকে মাথা তুলতেন তখন স্বীয় উভয় হাত উঠাতেন যা তাহাঁর কানের নিম্ন ভাগ [লতি] পর্যন্ত পৌছত।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩.পরিচ্ছেদঃ রুকূর জন্য উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠানো

১০২৫. আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- দেখেছি যখন নামাজ আরম্ভ করিতেন স্বীয় উভয় হাত তুলতেন কাঁধ পর্যন্ত। এ রকম হাত তুলতেন যখন তিনি রুকূ করিতেন এবং রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪.পরিচ্ছেদঃ তা পরিত্যাগ করা

১০২৬. আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি তোমাদের রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নামাজ সম্বন্ধে সংবাদ দেব না? রাবী বলেন, এরপর তিনি নামাজে দাঁড়িয়ে প্রথমবার তাহাঁর উভয় হাত উঠালেন। তারপর আর উঠালেন না।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫.পরিচ্ছেদঃ রুকূতে পিঠ সোজা রাখা

১০২৭. আবু মাসঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যাক্তি রুকূ এবং সিজদায় তার পিঠ সোজা রাখে না তার নামাজ পূর্ণ হয় না।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৬.পরিচ্ছেদঃ রুকূতে সর্বাঙ্গ যথাযথভাবে রাখা

১০২৮. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমরা রুকূ এবং সিজদা ঠিকঠাকভাবে করো। আর তোমাদের কেউ যেন কুকুরের ন্যায় উভয় হাত [জমিনে] না বিছিয়ে দেয়।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৭.পরিচ্ছেদঃ তৎবীক -হাতের আঙ্গুল মিলিয়ে রাখা

১০২৯. আলকামা এবং আসওয়াদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তাঁরা উভয়ে আবদুল্লাহ [রাঃআঃ]-এর সাথে তাহাঁর ঘরে ছিলেন। তিনি বলিলেন, তারা কি নামাজ আদায় করেছে? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তিনি তাঁদের ঈমামতি করিলেন। আর তাঁদের দুজনের মধ্যে দাঁড়ালেন, আযান ও ইকামত ব্যতীত। তিনি বলিলেন, তোমরা যখন তিনজন হইবে তখন এরূপ করিবে, আর যখন এর চেয়ে বেশি লোক হইবে তখন তোমাদের মধ্যে একজন ঈমাম হইবে এবং উভয় হাত রানের উপর বিছিয়ে রাখবে। আমি যেন এখনও দেখছি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর হাতের আঙ্গুলের মধ্যস্থিত ফাঁক।

তৎবীক-এর অর্থ হাতের আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে রুকূ এবং তাশাহহুদে দু হাঁটুর মধ্যে রাখা।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৩০. আসওয়াদ এবং আলকামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তাঁরা উভয়ে বলেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রা]- এর ঘরে তাহাঁর সঙ্গে নামাজ আদায় করলাম। তিনি আমাদের মধ্যে দাঁড়ালেন। আমরা আমাদের হাত রানের উপর রাখলাম। তিনি তা টেনে নিলেন এবং আমাদের অঙ্গুলীসমূহের মধ্যে ফাঁক করে দিলেন এবং বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে এরূপ করিতে দেখেছি।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৩১. আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নামাজ শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীর বলিলেন, যখন তিনি রুকু করিতে ইচ্ছা করিলেন, উভয় হাত হাঁটুদ্বয়ের মধ্যস্থলে রাখলেন, এবং রুকূ করিলেন। এ সংবাদ সাদ [রাঃআঃ]-এর নিকট পৌঁছলে তিনি বলিলেন, আমার ভাই সত্যই বলেছেন। আমরা এরূপ করতাম। তারপর আমরা এরূপ করিতে আদিষ্ট হয়েছি অর্থাৎ হাঁটু ধরে রাখতে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৮.পরিচ্ছেদঃ তা রহিত হওয়া

১০৩২. মুসআব ইবনি সাদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি আমার পিতার পাশে নামাজ আদায় করলাম, আর আমি আমার উভয় হাত হাঁটুদ্বয়ের মধ্যস্থলে রাখলাম। তখন তিনি আমাকে বলিলেন, তোমার উভয় হাতের তালু তোমার হাঁটুদ্বয়ের উপর রাখ। তিনি বলেন, তারপর আমি তা পুনরায় করলাম। এরপর তিনি আমার হাত ধরে বলিলেন, আমাদের এরূপ করিতে নিষেধ করা হয়েছে এবং আমরা আদিষ্ট হয়েছি হাঁটুর উপর হাত রাখতে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৩৩. মুসআব ইবনি সাদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি রুকূ করলাম এবং তাতে তৎবীক করলাম। আমার পিতা বলিলেন, আমরা পূর্বে এরূপ করতাম। তারপর আমরা আদিষ্ট হয়েছি হাঁটুতে হাত রাখতে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৩৩. মুসআব ইবনি সাদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি রুকূ করলাম এবং তাতে তৎবীক করলাম। আমার পিতা বলিলেন, আমরা পূর্বে এরূপ করতাম। তারপর আমরা আদিষ্ট হয়েছি হাঁটুতে হাত রাখতে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৯.পরিচ্ছেদঃ রুকূতে হাঁটু জড়িয়ে ধরা

১০৩৪. উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, হাঁটু জড়িয়ে ধরা তোমাদের জন্য সুন্নত করা হয়েছে। অতএব, তোমরা হাঁটু জড়িয়ে ধরবে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৩৫. আবু আবদুর রহমান সালামী [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, উমর [রাঃআঃ] বলেছেনঃ সুন্নত হলো হাঁটু জড়িয়ে ধরা।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০.পরিচ্ছেদঃ রুকূতে হাতের তালু রাখার স্থান

১০৩৬. সালিম [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমরা আবু মাসঊদের নিকট আসলাম। তাঁকে বললাম, আমাদেরকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নামাজ সম্বন্ধে বর্ণনা করুন। তখন তিনি আমাদের সামনে দাঁড়ালেন এবং তাকবীর বলিলেন, যখন তিনি রুকূ করিলেন তখন তাহাঁর উভয় হাতের তালু হাঁটুদ্বয়ের উপর স্থাপন করিলেন। আর তাহাঁর আঙ্গুলগুলো তার নিচে রাখলেন এবং তাহাঁর উভয় কনুই পার্শ্বদেশ থেকে দূরে রাখলেন। যাতে তাহাঁর সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল। তারপর বলিলেন,

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ

তখন দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাহাঁর সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

১১.পরিচ্ছেদঃ রুকূতে হাতের আঙ্গুল রাখার স্থান

১০৩. উকবা ইবনি আমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি কি তোমাদের জন্য ঐরূপ নামাজ আদায় করব না যেরূপ আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে দেখেছি নামাজ আদায় করিতে? আমরা বললাম, হ্যাঁ, তখন তিনি দাঁড়ালেন। যখন তিনি রুকূ করিলেন তখন তাহাঁর হাতদ্বয়ের তালু তাহাঁর উভয় হাঁটুর উপর রাখলেন। আর আঙ্গুলসমূহ রাখলেন তাহাঁর হাঁটুর নিচের দিকে। আর তাহাঁর বগল [পার্শ্বদেশ থেকে] পৃথক রাখলেন। তখন তাহাঁর সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল। তারপর তিনি তাহাঁর মাথা উঠালেন এবং দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাহাঁর সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল। তারপর সিজদা করিলেন এবং তাহাঁর বগল [পার্শ্বদেশ থেকে] পৃথক রাখলেন এবং তাহাঁর সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল। তারপর বসলেন এবং সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল, এরপর আবার সিজদা করিলেন এবং সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল। এরূপে চার রাকাআত আদায় করিলেন। তারপর বলিলেন, এরূপই আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে নামাজ আদায় করিতে দেখেছি। আর তিনি এরূপেই আমাদের নিয়ে নামাজ আদায় করিতেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

১২.পরিচ্ছেদঃ রুকূতে বগল পৃথক করে রাখা

১০৩৮. সালিম বাররাদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আবু মাসঊদ [রাঃআঃ] বলেছেন, আমি কি তোমাদের দেখাব না- রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কিভাবে নামাজ আদায় করিতেন? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীর বলিলেন, যখন তিনি রুকূ করিলেন, তাহাঁর উভয় বগল পৃথক করে রাখলেন। যখন তাহাঁর সকল অঙ্গ সোজা হয়ে গেল, তিনি তাহাঁর মাথা উঠালেন, এভাবে তিনি চার রাকআত আদায় করিলেন। তারপর বলিলেন, এভাবে আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে নামাজ আদায় করিতে দেখেছি।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ লিগাইরিহি

১৩.পরিচ্ছেদঃ রুকূতে সর্বাঙ্গ যথাযথভাবে রাখা

১০৩৯. আবু হুমায়দ সাঈদী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] যখন রুকূ করিতেন, তখন তিনি সোজা হয়ে যেতেন। তিনি তাহাঁর মাথা তুলতেন না। আর তাহাঁর উভয় হাত হাঁটুর উপর রাখতেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৪.পরিচ্ছেদঃ রুকূতে কিরাআত পড়ার নিষেধাজ্ঞা

১০৪০. আলী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] আমাকে নিষেধ করিয়াছেন, রেশম মিশ্রিত কাপড়, রেশমি কাপড় এবং সোনার আংটি থেকে, আর রুকূ অবস্থায় কিরাআত থেকে। অন্য সময় বলেছেন, রুকূ অবস্থায় কিরাআত থেকে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৪১. আলী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] আমাকে সোনার আংটি, রুকূ অবস্থায় কিরাআত, রেশম মিশ্রিত কাপড় এবং কুসুম রংয়ের কাপড় থেকে নিষেধ করিয়াছেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

১০৪২. আলী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] আমাকে নিষেধ করিয়াছেন, আর আমি বলি না যে, তোমাদের নিষেধ করিয়াছেন- সোনার আংটি, রেশম মিশ্রিত কাপড়, গাড় লাল রংয়ের কাপড় এবং কুসুম রং-এর কাপড় থেকে নিষেধ করিয়াছেন এবং রুকূ অবস্থায় কিরাআত থেকে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৪৩. আলী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে সোনার আংটি, রেশম মিশ্রিত কাপড়, কুসুম রং -এর কাপড়, রুকু অবস্থায় কিরাআত থেকে নিষেধ করিয়াছেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৪৪. আলী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে রেশম মিশ্রিত কাপড়, কুসুম রং- এর কাপড়, সোনার আংটি পরিধান করিতে এবং রুকূতে কিরাআত থেকে নিষেধ করিয়াছেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৫.পরিচ্ছেদঃ রুকুতে প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা বর্ণনা করা

১০৪৫. ইবন আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] পর্দা উন্মোচন করিলেন, তখন লোক আবু বকর [রাঃআঃ]- এর পেছনে কাতারে দাঁড়ানো ছিলেন। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেন, হে লোক সকল! নবুয়তের সুসংবাদ আর অবশিষ্ট থাকিবে না, নেক সপ্ন ব্যতিত যা মুসলমান দেখবে এবং তাঁকে দেখানো হইবে। এরপর তিনি বলিলেন, তোমরা শুনে রেখ ! আমাকে নিষেধ করা হয়েছে রুকু অবস্থায় কিরাআত থেকে এবং সিজদা অবস্থায়। রুকুতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা বর্ণনা কর। আর সিজদায় তোমরা দোয়া করিতে চেষ্টা কর। তোমাদের জন্য দোয়া কবুল হওয়ার উপযুক্ত সময় এটাই।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৬.পরিচ্ছেদঃ রুকূর দোয়া

১০৪৬. হুযায়ফা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে নামাজ আদায় করেছি। তিনি রুকু করিতে গিয়ে বলিলেন,

سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ

সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম

আর সিজদা করিতে গিয়ে বলিলেন,

سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ

সুবহানা রাব্বিয়াল আলা।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৭.পরিচ্ছেদঃ রুকূর অন্য প্রকার দোয়া

১০৪৭. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] অধিকাংশ সময় রুকূ এবং সিজদায় বলিতেনঃ

سُبْحَانَكَ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي

সুবহা-নাকা রব্বানা- ওয়াবিহামদিকা আল্ল-হুম্মাগ ফিরলী

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৮.পরিচ্ছেদঃ এর অন্য প্রকার দোয়া

১০৪৮. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর রুকূতে বলিতেনঃ

سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ

সুব্বূহুন কুদ্দূসুন রব্বুল মালা-য়িকাতি ওয়ার রূহ

(সমস্ত মালাক [ফেরেশতা] ও জিবরীল (আঃ)-এর প্রতিপালক অত্যন্ত পাক-পবিত্র)

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯.পরিচ্ছেদঃ রুকূর অন্য প্রকার দোয়া

১০৪৯. ইবন মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি এক রাতে রাসূলুল্লাহ এর সঙ্গে নামাজে দাঁড়ালাম, যখন তিনি রুকূ করিলেন, সূরা বাকারা পড়া পরিমাণ সময় তিনি রুকূতে থেকে বলেছিলেন

سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ

সুবহা-না যিল জাবারূতি ওয়াল মালাকূতি ওয়াল কিবরিয়াযি ওয়াল ‘আযামাতি

তাহাজ্জুদ অথবা কুসুফ অর্থাৎ সূর্যগ্রহণের নামাজে নাবী [সাঃআঃ] এরূপ করেছিলেন।

(পাক পবিত্র [সেই মহান আল্লাহ] যিনি বিপুল শক্তির অধিকারী, বিশাল সাম্রাজ্য, বিরাট গৌরব এবং অতুল্য মহত্বের অধিকারী)

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২০.পরিচ্ছেদঃ এর অন্য প্রকার দোয়া

১০৫০. আলী ইবন আবু তালিব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

যে, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন রুকূ করিতেন তখন বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، خَشَعَ لَكَ سَمْعِي وَبَصَرِي وَعِظَامِي وَمُخِّي وَعَصَبِي

আল্ল-হুম্মা লাকা রকা তু ওয়ালাকা আসলামতু ওয়াবিকা আ-মানতু খশা’আ লাকা সাম’ঈ ওয়া বাসারী ওয়া ‘ইযা-মী ওয়া মুখখী ওয়া আসাবী

(হে আল্লাহ! তোমার উদ্দেশে রুকু করেছি, তোমার নিকট আত্মসমর্পণ করেছি, তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং আমার শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, হাড়সমূহ, স্মৃতিশক্তি ও শিরা তোমার প্রতি বিনয়ী)

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২১.পরিচ্ছেদঃ অন্য প্রকার দোয়া

১০৫১. জাবির ইবনি আব্দুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণিত যে, তিনি যখন রুকূ করিতেন তখন বলিতেন –

اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، أَنْتَ رَبِّي، خَشَعَ سَمْعِي وَبَصَرِي، وَدَمِي وَلَحْمِي، وَعَظْمِي وَعَصَبِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالِمِينَ

আল্ল-হুম্মা লাকা রকা’তু ওয়াবিকা আ-মানতু ওয়ালাকা আসালামতু ওয়া আলায়কা তাওয়াক্কালতু আনতা রব্বী খশা’আ সাম্’ঈ ওয়া বাসারী ওয়াদামী ওয়া লাহমী ওয়া ‘আযমী ওয়া আসাবী লিল্লা-হি রব্বিল ‘আলামীন”

(হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য রুকূ করলাম, আমি তোমারই প্রতি ঈমান এনেছি, তোমারই প্রতি আমি আত্মসমর্পণ করেছি, আমি তোমারই ওপর ভরসা করেছি, তুমিই আমার প্রভু। আমার কর্ণ, চক্ষু, রক্ত, মাংস, অস্থি ও ধমনী বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য বিনয়াবনত হল।)

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৫২. মুহাম্মদ ইবনি মাসলামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন নফল নামাজ আদায় করিতে দাঁড়াতেন তখন রুকূ করে বলিতেন

اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ أَنْتَ رَبِّي، خَشَعَ سَمْعِي وَبَصَرِي، وَلَحْمِي وَدَمِي، وَمُخِّي وَعَصَبِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

আল্ল-হুম্মা লাকা রকা’তু ওয়াবিকা আ-মানতু ওয়ালাকা আসালামতু ওয়া আলায়কা তাওয়াক্কালতু আনতা রব্বী খশা’আ সাম্’ঈ ওয়া বাসারী ওয়াদামী ওয়া লাহমী ওয়া ‘আযমী ওয়া আসাবী লিল্লা-হি রব্বিল ‘আলামীন”

(হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য রুকূ করলাম, আমি তোমারই প্রতি ঈমান এনেছি, তোমারই প্রতি আমি আত্মসমর্পণ করেছি, আমি তোমারই ওপর ভরসা করেছি, তুমিই আমার প্রভু। আমার কর্ণ, চক্ষু, রক্ত, মাংস, অস্থি ও ধমনী বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য বিনয়াবনত হল।)

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২২.পরিচ্ছেদঃ রুকূতে কিছু না পড়ার অনুমতি

১০৫৩. রিফাআ ইবনি রাফি বদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর সঙ্গে ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করিল এবং নামাজ আদায় করিল। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাঁকে দেখছিলেন। কিন্তু সে তা টের পায়নি। সে নামাজ শেষ করে রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট এসে তাঁকে সালাম করলে তিনি তাহাঁর সালামের জওয়াব দিয়ে বলিলেন, যাও পুনরায় নামাজ আদায় কর। কেননা, তুমি নামাজ আদায় করনি। তিনি [রাবী] বলেন, আমার স্মরণ নেই, দ্বিতীয়বার কিংবা তৃতীয়বারে সে ব্যক্তি বলিল, ঐ সত্তার শপথ ! যিনি আপনার উপর কিতাব নাজিল করিয়াছেন। আমি তো খুব চেষ্টা করলাম। অতএব, আমাকে শিখিয়ে দিন এবং দেখিয়ে দিন। তিনি বলিলেন, যখন তুমি নামাজ আদায় করিতে ইচ্ছা করিবে তখন উত্তমরূপে ওযু করিবে। তারপর দাঁড়িয়ে কিবলার দিকে মুখ করিবে। তারপর তাকবীর বলবে, এরপর কুরআন পড়বে, তারপর রুকূ করিবে ধীরস্থিরভাবে। তারপর মাথা তুলে সোজা দাঁড়িয়ে যাবে। এরপর সিজদা করিবে স্থিরভাবে, তারপর মাথা তুলে স্থিরভাবে বসে পড়বে। আবার সিজদা করিবে স্থিরভাবে। যখন তুমি এরূপ করলে তখন তুমি তোমার নামাজ পূর্ণ করলে। তা থেকে যতটুকু কম করলে, ততটুকু তোমার নামাজ থেকে কম করলে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

২৩.পরিচ্ছেদঃ রুকূ পূর্ণ করার আদেশ

১০৫৪. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা যখন রুকূ করিবে এবং সিজদা করিবে তখন রুকূ ও সিজদা পূর্ণরূপে আদায় করিবে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৪.পরিচ্ছেদঃ রুকূ থেকে উঠার সময় হাত উঠানো

১০৫৫. ওয়ায়িল ইবনি হুজর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর পেছনে নামাজ আদায় করেছি। আমি তাঁকে দেখেছি তিনি হাত উঠাতেন যখন নামাজ আরম্ভ করিতেন আর যখন রুকূ করিতেন এবং যখন

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদা

বলিতেন, এরূপে। [এ বলে হাদিসের অন্যতম রাবী] কায়স ইঙ্গিত করিলেন উভয় কানের দিকে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৫.পরিচ্ছেদঃ রুকূ থেকে ওঠার সময় কানের লতি পর্যন্ত হাত উঠানো

১০৫৬. মালিক ইবনি হুয়ারিছ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

যে, তিনি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে উভয় হাত উঠাতে দেখেছেন। যখন তিনি রুকূ করিলেন আর রুকূ থেকে মাথা উঠালেন এসময় হাতদ্বয় কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছত।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৬.পরিচ্ছেদঃ রুকূ থেকে ওঠার সময় কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠানো

১০৫৭. আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

যে, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন নামাজ আরম্ভ করিতেন তখন কাঁধ পর্যন্ত তাহাঁর উভয় হাত উঠাতেন। আর যখন তিনি রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন তখনও এরূপ করিতেন। যখন তিনি

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ

বলিতেন, তখন

رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ

রাব্বানা লাকাল হামদ

বলিতেন। আর তিনি দুসিজদার মধ্যে হাত উঠাতেন না।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৭.পরিচ্ছেদঃ তা পরিত্যাগের অনুমতি

১০৫৮. আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি কি তোমাদের নিয়ে রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর নামাজের ন্যায় নামাজ আদায় করবো না? এরপর তিনি নামাজ আদায় করিলেন, তখন তিনি একবারের অধিক হাত উঠান নি।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৮.পরিচ্ছেদঃ রুকূ থেকে মাথা ওঠাবার সময় ঈমাম কি বলবেন ?

১০৫৯. ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

যে, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন নামাজ আদায় আরম্ভ করিতেন, তখন তাহাঁর হাতদ্বয় কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। আর যখন রুকূর জন্য তাকবীর বলিতেন এবং রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন, তখন হাতদ্বয় এরূপ উঠাতেন এবং বলিতেন

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ

সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদা রাব্বানা য়া লাকাল হামদ।

আর তিনি সিজদায় এরূপ করিতেন না।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৬০. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন, তখন বলিতেন

اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ

আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

২৯.পরিচ্ছেদঃ মুকতাদী যা বলবে

১০৬১. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

যে, নাবী [সাঃআঃ] ঘোড়া থেকে ডান কাতে পড়ে গেলেন। তখন লোক তাঁকে দেখার জন্য আসলেন। এমতাবস্থায় নামাজের সময় উপস্থিত হল। তিনি নামাজ শেষ করে বলিলেন, ঈমাম তো হন এজন্য তাহাঁর ইকতিদা করা হইবে। যখন সে রুকূ করিবে তখন তোমরাও রুকূ করিবে। আর যখন সে উঠবে তখন তোমরাও উঠবে। আর যখন ঈমাম

 سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ

বলবে তখন তোমরা

رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ

রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ

বলবে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৬২. রিফাআ ইবনি রাফি [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমরা একদিন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – এর পেছনে নামাজ আদায় করছিলাম। তিনি যখন রুকূ থেকে মাথা ওঠালেন, তখন বলিলেন,

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ।

তাহাঁর পেছনে এক ব্যাক্তি বলে উঠল।

 رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজ শেষ করে বলিলেন, এখন এ কথা কে বলিল? সে ব্যাক্তি বলিল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, আমি ত্রিশের ঊর্ধ্বে ফেরেশতাকে দেখেছি তা নিয়ে তাড়াহুরা করছে, কে তা সর্বাগ্রে লিখবে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩০.পরিচ্ছেদঃ মুকতাদির রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ বলা

১০৬৩. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

যে, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যখন ঈমাম 

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ

বলেন, তখন তোমরা

رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ

রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ

বলবে। কেননা, যার কথা ফেরেশতার কথার মত হইবে তাহাঁর পূর্বকৃত পাপ মার্জনা করা হইবে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৬৪. আবু মুসা আশআরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] আমাদের সামনে ওয়াজ করিলেন এবং আমাদেরকে আমাদের কর্মপদ্ধতি শিক্ষা দিলেন, নামাজ শিক্ষা দিলেন। তিনি বলিলেন, যখন তোমরা নামাজ আদায় করিবে, তোমরা তোমাদের কাতার সোজা করিবে। তারপর তোমাদের একজন ঈমামতি করিবে। যখন ঈমাম তাকবীর বলবে তখন তোমরাও তাকবীর বলবে। আর যখন [আরবী] “গাইরিল মাগদূবি আলাইহিম ওয়াদ্দোয়াল্লীন” বলবে তখন তোমরা আমীন বলবে। তাহলে আল্লাহ তাআলা তা কবুল করবেন। আর যখন ঈমাম তাকবীর বলে রুকূ করিবে তখন তোমরাও তাকবীর বলে রুকূ করিবে। আর ঈমাম রুকূ করিবে তোমাদের পূর্বে আর রুকূ থেকে উঠবে তোমাদের পূর্বে। নাবী [সাঃআঃ]বলিলেন, এটা তার পরিপূরক হইবে। আর যখন ঈমাম বলবে,

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ

তখন তোমরা বলবে

اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ

রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ্‌।

আল্লাহ তাআলা তোমাদের কথা শুনবেন। কেননা, আল্লাহ তাআলা তাহাঁর নাবীর ভাষায় বলেন, যে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করে আল্লাহ তা শ্রবণ করেন। অতঃপর ঈমাম যখন তাকবীর বলে সিজদায় যাবে তোমরা তখন তাকবীর বলে সিজদায় যাবে। কেননা, ঈমাম তোমাদের পূর্বে সিজদা করে আর তোমাদের পূর্বে মাথা উঠায়। নাবী [সাঃআঃ]বলেছেন, এটা তার পরিপূরক। আর যখন বৈঠকের নিকটবর্তী হইবে তখন তোমাদের প্রথম কথা হইবে

أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

আত্তাহিয়্যাতুত্ ত্বইয়িবা-তুস সালাওয়া-তু লিল্লা-হি সালা-মুন ‘আলায়কা আইয়ুহান নাবিয়ূ ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকাতুহু সালা-মুন ‘আলায়না- ওয়া ‘আলা- ‘ইবা-দিল্লা-হিস স-লিহীনা আশহাদু আল্লাইলা-হা ইল্লাল্লহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহ।”

(মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক যাবতীয় ‘ইবাদত আল্লাহর জন্যই। হে নবী! আপনার ওপর শান্তি (সালাম), আল্লাহর রহমত ও তার বরকত বর্ষণ হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাগণের ওপর শান্তি বর্ষণ হোক। আমি সাক্ষি দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর দাস ও প্রেরিত রসূল।)

এ সাতটি বাক্য হচ্ছে নামাজের পরিপূরক।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

৩১.পরিচ্ছেদঃ রুকূ থেকে মাথা ওঠানো ও সিজদা করা এর মাঝে কি পরিমান সময় নেয়া হত তার বর্ণনা

১০৬৫. বারা ইবনি আযিব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর রুকূ, রুকূ থেকে মাথা ওঠানো এবং সিজদা ও সিজদার মাঝে বসার সময় প্রায় এক সমান হত।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩২.পরিচ্ছেদঃ এ দাঁড়ানো অবস্থায় যা বলিতেন

১০৬৬. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] যখন

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ

বলিতেন, তখন তিনি বলিতেন,

اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ، وَمِلْءَ الْأَرْضِ، وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ

আল্ল-হুম্মা রব্বানা লাকাল হামদু। মিলআস সামাওয়াতি ওয়া মিলআল আরযি ওয়া মিলআ মাশি’তা মিন শাইয়িন বা’দু

(হে আমাদের রব আল্লাহ, তোমারই জন্য সকল প্রশংসা। আসমান ভর্তি, জমিন ভর্তি এবং তদুপরি তুমি আরো যা চাও তাও ভর্তি তোমার প্রশংসা।)।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৬৭. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] রুকূর পর যখন সিজদা করিতে ইচ্ছা করিতেন তখন বলেতেন

اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ

আল্ল-হুম্মা রব্বানা- ওয়ালাকাল হামদু মিলআস সামাওয়াতি ওয়া মিলআল আরযি ওয়া মিলআ মাশি’তা মিন শাইয়িন বা’দু”

(হে আমাদের রব আল্লাহ, আর তোমারই জন্য সকল প্রশংসা। আসমান ভর্তি, জমিন ভর্তি এবং তদুপরি তুমি আরো যা চাও তাও ভর্তি তোমার প্রশংসা।)

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৬৮. আবু সাঈদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ

বলিতেন, তখন বলেতেন-

رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الْأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ خَيْرُ، مَا قَالَ الْعَبْدُ وَكُلُّنَا لَكَ عَبْدٌ، لَا مَانِعَ لَمَا أَعْطَيْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৬৯. হুযায়ফা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি একরাতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে নামাজ আদায় করেন। তিনি যখন তাকবীর বলিলেন, তখন তাঁকে বলিতে শুনলেন [আরবী]। আর তিনি রুকূতে বলিতেন

سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ

আর যখন রুকূ থেকে মাথা উঠাতেন তখন বলিতেন,

لِرَبِّيَ الْحَمْدُ، لِرَبِّيَ الْحَمْدُ

আর তিনি সিজদায় গিয়ে বলিতেন,

سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى

আর দু সিজদার মধ্যে বলিতেন,

رَبِّي اغْفِرْ لِي، رَبِّي اغْفِرْ لِي

আর তাহাঁর কিয়াম আর রুকূ। রুকূ থেকে যখন মাথা উঠাতেন সে সময়, আর তাহাঁর সিজদা আর দু সিজদার মধ্যবর্তী সময় প্রায় সমান সমান হতো।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৩.পরিচ্ছেদঃ রুকূর পর কুনুত

১০৭০. আনাস ইবনি মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একমাস পর্যন্ত রুকূ করার পর কুনূত পাঠ করিয়াছেন, যাতে তিনি বদদোয়া করিয়াছেন রিল যাকওয়ান এবং উসাইয়্যা গোত্রের প্রতি যারা আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলের নাফরমানী করেছে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৪.পরিচ্ছেদঃ ফজরের নামাজে কুনূত

১০৭১. ইবনি সীরীন [রহঃ] হইতে বর্ণীত

আনাস ইবনি মালিককে প্রশ্ন করা হলো, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কি ফজরের নামাজে কুনূত পাঠ করিতেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তাঁকে বলা হলো, তা কি রুকূর পূর্বে না পরে? তিনি বলিলেন, রুকূর পর।

{১} ইসলাম ও মুসলমানদের বিপদের সময় এ দোয়া সকল নামাজে পড়ার বিধান রয়েছে। বিরে মাউনার মর্মান্তিক শোকাবহ দুর্ঘটনার পর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]এক মাস যাবত সকল নামাজে রুকূর পর এ দোয়া পড়েছিলেন

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৭২. ইবনি সীরীন [রহঃ] হইতে বর্ণীত

যাঁরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করিয়াছেন তাহাদের কেউ আমার কাছে রেওয়ায়েত করিয়াছেন যে, যখন তিনি দ্বিতীয় রাকাআতে

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামি আল্ল-হু লিমান হামিদাহ

বলিলেন, তখন কিছুক্ষন দাঁড়ালেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৭৩. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফজরের নামাজের দ্বিতীয় রাকাআতে মাথা উঠালেন। তখন বলিলেন,

اللَّهُمَّ أَنْجِ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ وَسَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ وَعَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ بِمَكَّةَ، اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ وَاجْعَلْهَا عَلَيْهِمْ سِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ

ইয়া আল্লাহ! ওলীদ ইবনি ওলীদ এবং সালামা ইবনি হিশাম, আইয়াশ ইবনি আবু রাবীআ এবং মক্কার দূর্বল মুসলমানদেরকে নাজাত দাও। আর তুমি মুদার গোত্রের উপর তোমার কঠিন আযাব অবতীর্ণ কর। তাহাদের বছরগুলোকে ইউসুফ [আঃ]-এর বছরগুলোর ন্যায় করে দাও।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৭৪. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজে যখন

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ

সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ

বলিতেন তখন দোয়া করিতেন। তারপর সিজদার পূর্বে তিনি দাঁড়িয়ে বলিতেন,

اللَّهُ أَكْبَرُ»، فَيَسْجُدُ، وَضَاحِيَةُ مُضَرَ يَوْمَئِذٍ مُخَالِفُونَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

ইয়া আল্লাহ! ওলীদ ইবনি ওলীদ, সালামা ইবনি হিশাম, আইয়াশ ইবনি আবু রবীআ এবং অসহায় মুমিনদের নাজাত দাও। ইয়া আল্লাহ! মুদার গোত্রের উপর তোমার শাস্তি কঠিন কর। আর তাহাদের বছরগুলোকে তাহাদের জন্য ইউসুফ [আঃ]-এর বছরগুলোর ন্যায় করে দাও।

তারপর তিনি আল্লাহু আকবর বলে সিজদা করিতেন। আর মুদার গোত্রের উপজাতীয়রা তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর বিরোধী ছিল।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৫.পরিচ্ছেদঃ জোহরের নামাজে কুনূত

১০৭৫

আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি তোমাদের জন্য রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নামাজকে নিকটবর্তী করে দেব।১ রাবী বলেন, আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] কুনূত পাঠ করিতেন জোহর, ইশা এবং ফজরের নামাজের শেষ রাকাআতে

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ

বলার পর। তিনি মুমিনদের জন্য দোয়া করিতেন এবং কাফিরদের অভিসম্পাত করিতেন।

{১} এর দ্বারা কার্যমুলক বর্ণনার সাহায্যে রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ]-এর নামাজকে সাহাবীগণের উপলব্ধির নিইকটবর্তী করে দেওয়া বুঝানো হয়েছে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৬.পরিচ্ছেদঃ মাগরিবের নামাজে কুনূত

১০৭৬. বারা ইবনি আযিব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] কুনূত পাঠ করিতেন ফজর এবং মাগরিবের নামাজে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৭.পরিচ্ছেদঃ কুনূতে অভিসম্পাত করা

১০৭৭. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একমাস পর্যন্ত কুনূত পাঠ করেন। এতে তিনি কয়েকজন লোক কিংবা আরবের কতিপয় গোত্রকে অভিসম্পাত করেন। আর তিনি এ কুনূত রুকূর পর পাঠ করেন। এরপর তা ত্যাগ করেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, নাবী [সাঃআঃ]এক মাস যাবত কুনূত পাঠ করেন যাতে তিনি রিল, যাকওয়ান ও লিহয়ান গোত্রের উপর অভিসম্পাত করেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৮.পরিচ্ছেদঃ কুনূতে মুনাফিকদের উপর অভিসম্পাত

১০৭৮. আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] যখন ফজরের নামাজে শেষ রাকাআতের রুকূ থেকে মাথা ওঠালেন তখন তিনি তাঁকে

اللَّهُمَّ الْعَنْ فُلَانًا وَفُلَانًا

ইয়া আল্লাহ! অমুক অমুক ব্যক্তির উপর অভিসম্পাত কর

বলে কতিপয় মুনাফিকের উপর বদদোয়া করিতে শুনেছেন। এসময় আল্লাহ, তাআলা নাযিল করেন

لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ} [آل عمران: 128]

“তিনি তাহাদের ওপর ক্ষমাশীল হইবেন অথবা তাহাদের শাস্তি দেবেন- এই বিষয়ে তোমার করণীয় কিছুই নেই; কারন তারা জালিম” [৩ঃ১২৮]।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩৯.পরিচ্ছেদঃ কুনূত পাঠ না করা

১০৭৯. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কুনূত পড়েছেন একমাস, যাতে তিনি আরবের গোত্রসমূহ থেকে কোন গোত্রের উপর বদদোয়া করছিলেন। এরপর তা পরিত্যাগ করেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১০৮০. মালিক ইবনি আশজায়ী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পেছনে নামাজ আদায় করেছি। তিনি কুনূত পড়েন নি। আর আবু বকর [রাঃআঃ]-এর পেছনে নামাজ আদায় করেছি, তিনিও কুনূত পড়েন নি। আর উমর [রা]-এর পেছনে নামাজ আদায় করেছি। তিনিও কুনূত পড়েন নি। উসমান [রা]-এর পেছনে নামাজ আদায় করেছি, তিনিও কুনূত পড়েন নি। আর আলী [রা]-এর পেছনে নামাজ আদায় করেছি, তিনিও কুনূত পড়েন নি।২ তারপর বলিলেন, হে বৎস! এটা বিদআত [নতুন আবিস্কৃত]।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

By ইমাম নাসাঈ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply