নামাজের রুকন গুলো সঠিকভাবে আদায় করা

নামাজের রুকন গুলো সঠিকভাবে আদায় করা

নামাজের রুকন গুলো সঠিকভাবে আদায় করা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩৮. অধ্যায়ঃ নামাজের রুকন গুলো সঠিকভাবে আদায় করা এবং সংক্ষেপে পূর্ণাঙ্গরূপে নামাজ আদায় করা

৯৪৪

বারা ইবনি আযিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি মুহাম্মদ [সাঃআঃ] -এর সাথে তাহাঁর নামাজ আদায় করার নিয়ম কানুন ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। তাহাঁর দাঁড়ানো [কিয়াম] , তাহাঁর রুকু এবং রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো, তাহাঁর সাজদাহ্ এবং দুসাজদার মাঝে তাহাঁর বসা, অতঃপর তাহাঁর দ্বিতীয় সাজদাহ্, তাহাঁর সালাম ফিরানো, এবং সালাম ও নামাজ শেষ করে চলে যাওয়ার মাঝখানে বসা-এর সবই প্রায় সমান [ব্যবধান] পেয়েছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৩৯, ইসলামিক সেন্টার- ৯৫১]

৯৪৫

হাকাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ইবনি আশআস-এর সময় এক ব্যক্তি কূফাবাসীদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে। হাকাম তার নাম উল্লেখ করিয়াছেন [মাতার ইবনি নাজিয়াহ্]। সে আবু উবাইদাহ ইবনি আব্দুল্লাহ [ইবনি মাসউদ] কে লোকদের সলাতে ঈমামতি করার হুকুম দিলেন। তিনি নামাজ আদায় করছিলেন। তিনি রুকু থেকে মাথা তুলে একটি দুআ পড়ার পরিমাণ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন। দুআটি হচ্ছে :

 اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ

আল্লা-হুম্মা রব্বানা- লাকাল্ হামদু মিলআস্ সামা-ওয়া-তি ওয়ামিল্ আল আরযি ওয়ামিলআ মা-শিতা মিন্ শাইয়িন বাদু আহলাস্ সানা-য়ি ওয়াল্ মাজদি লা-মা-নিআ লিমা-আতাইতা ওয়ালা-মুতিয়া লিমা-মানাতা ওয়ালা-ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দ।

অর্থাৎ “হে আল্লাহ্‌! আমাদের প্রতিপালক প্রশংসা আপনারই জন্য যা আসমান ও জমীন পরিপূর্ণ এবং পরিপূর্ণতা ছাড়াও যতটুকু আপনি ইচ্ছা পোষণ করেন। হে প্রশংসা ও মর্যাদার অধিকারী! আপনি যা দান করবেন তা রোধ করার কেউ নেই। আর আপনি যা রোধ করবেন তা দান করারও কেউ নেই এবং কোনও সম্পদশালীকেই তার সম্পদ আপনার শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারবে না।”

হাকাম বলেন, অতঃপর আমি এটা আবদুর রহমান ইবনি আবু লাইলার কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি বলিলেন, আমি বারা ইবনি আযিবকে বলিতে শুনেছি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর নামাজ ছিল : তিনি রুকুতে যেতেন, রুকু থেকে মাথা তুলে দাঁড়াতেন, সাজদাহ্ করিতেন এবং দুসাজদার মাঝে বিরতি দিতেন- এসবগুলোর সময়ের পরিমাণ প্রায় একই ছিল।

শুবাহ্ বলেন, আমি এটা আমর ইবনি মুররাকে বললাম। তিনি বলিলেন, আমি ইবনি আবু লাইলাকে দেখেছি। কিন্তু তার নামাজ তো এরূপ ছিল না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৪০, ইসলামিক সেন্টার- ৯৫২]

৯৪৬

হাকাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

মাতার ইবনি নাজিয়াহ্ যখন কূফার উপর নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করিল, আবু উবাইদাকে লোকদের সলাতে ঈমামতি করার নির্দেশ দিল। অবশিষ্ট হাদীস পূর্ববৎ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৪১, ইসলামিক সেন্টার- ৯৫২]

৯৪৭

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমাদেরকে নিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যেভাবে নামাজ আদায় করিয়াছেন-আমি তোমাদের নিয়ে অনুরুপভাবে নামাজ আদায় করিতে মোটেই ত্রুটি করবনা। অধস্তন রাবী বলেন, আনাস [রাদি.] একটি কাজ করিতেন যা আমি তোমাদেরকে করিতে দেখি না। তিনি রুকু থেকে মাথা তুলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যেতেন। এমনকি কেউ [মনে মনে] বলত, তিনি [সাজদায় যেতে] ভুলে গেছেন। তিনি সাজদাহ্ থেকে মাথা তুলে সোজা হয়ে বসে যেতেন। এমনকি কেউ [মনে মনে] বলত, তিনি [দ্বিতীয় সাজদাহ্ করিতে] ভুলে গেছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৪২, ইসলামিক সেন্টার- ৯৫৩]

৯৪৮

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর পিছনে যেরূপ সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ নামাজ আদায় করেছি অনুরূপ আর কারো পিছনে আদায় করিনি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নামাজের [রুকনগুলোর সময়ের] পরিমাণ প্রায় কাছকাছি ছিল। আবু বকর [রাদি.] -এর নামাজের [রুকনগুলোও] পরস্পর কাছকাছি ছিল। উমর ইবনিল খাত্তাব তাহাঁর সময়ে ফযরের নামাজ দীর্ঘ করে দেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন

 سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

“সামিআল্লা-হু লিমান হামিদাহ” বলে দাঁড়িয়ে যেতেন -এমনকি আমরা [মনে মনে] বলতাম, তিনি [সাজদায় যেতে] ভুলে গেছেন। অতঃপর তিনি সাজদায় যেতেন। দুসাজদার মাঝখানে তিনি এতক্ষণ বসতেন যে, আমরা [মনে মনে] বলতাম, তিনি [পরবর্তী সিজদায় যেতে] ভুলে গেছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৯৪৩, ইসলামিক সেন্টার- ৯৫৪]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply