নামাজের মাকরুহ সমুহ এবং যে সব কাজের অনুমতি আছে

নামাজের মাকরুহ সমুহ এবং যে সব কাজের অনুমতি আছে

নামাজের মাকরুহ সমুহ এবং যে সব কাজের অনুমতি আছে >> সুনানে নাসাই শরিফের মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ১১, নামাজ আরম্ভ করা, হাদীস (১১৮৪-১২২১)

পরিচ্ছেদঃ নামাজের শেষে হাত উত্তোলন করে সালাম ফিরানো।

১১৮৪. জাবির ইবন সামুরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একদা আমাদের কাছে আসলেন। তখন আমরা অর্থাৎ নামাজ শেষে সালাম ফিরাবার সময় স্বীয় হস্ত উঠিয়ে রেখেছিলাম। তখন তিনি বলিলেন, এদের কি হল যে এরা নামাজের শেষে স্বীয় হস্ত উঠিয়ে রেখেছে? যেন নামাজের অবাধ্য ঘোড়ার লেজ। তোমরা নামাজে ধীর স্থির থাকিবে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১৮৫. জাবির ইবন সামুরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমরা নাবী [সাঃআঃ] এর পেছনে নামাজ আদায় করছিলাম। তারপর আমরা [নামাজ শেষে] হস্ত দ্বারা [ইশারা করে] সালাম ফেরাচ্ছিলাম। তখন তিনি বলিলেন, এদের কি হল যে, এরা স্বীয় হস্ত দ্বারা সালাম ফিরাচ্ছে? যেন নামাজ অবাধ্য অস্থির ঘোড়ার লেজ। এদের প্রত্যেকের জন্য কি এটাই যথেষ্ট নয় যে, সে উরুর উপর হাত রেখে বলে,

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، السَّلَامُ عَلَيْكُمْ

আসসালামু আলাইকুম, আসসালামু আলাইকুম।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ নামাজ আদায়কালীন ইশারায় সালামের উত্তর দেওয়া

১১৮৬. রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পাশ দিয়ে [একদা] যাচ্ছিলাম, তখন তিনি নামাজ আদায় করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম করলে তিনি ইশারায় আমার সালামের উত্তর দিলেন। আমি এর বেশি কিছুই জানি না যে, তিনি {সুহায়ব [রা]} বলেছেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আঙ্গুলী দ্বারা ইশারা করেছিলেন।

{নামাজরত অবস্থায় ইশারা দ্বারা সালামের জবাব প্রদান করা মাকরূহ। ইসলামের প্রথম দিকে এরূপ করা হত। পরে এটা রহিত হয়ে যায়।}

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১৮৭. যায়দ ইবন আসলাম [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, [আবদুল্লাহ] ইবন উমর [রাঃআঃ] বলেছেন, নাবী [সাঃআঃ] নামাজ আদায় করার জন্য একদা মসজিদে কুবায় প্রবেশ করিলেন। এরপর কয়েকজন সাহাবী তাঁকে সালাম করার জন্য তাহাঁর কাছে আসলেন। সুহায়ব [রা]-ও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, যখন নাবী [সাঃআঃ]-কে সালাম করা হল, তখন তিনি কি করিলেন? তিনি বলিলেন, তিনি হাত দ্বারা ইশারা করিলেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১৮৮. আম্মার ইবন ইয়াসির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি নামাজ আদায়কালে রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে সালাম করিলেন, তিনি তাহাঁর সালামের জবাব দিলেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১৮৯. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে [কোথাও] কোন প্রয়োজনে পাঠালেন, এরপর আমি [এসে] তাঁকে নামাজ আদায়রত পেলাম। তখন আমি তাঁকে সালাম করলে তিনি আমার দিকে ইশারা করিলেন। যখন নামাজ শেষ করিলেন, আমাকে ডেকে বলিলেন যে, তুমি কি আমাকে নামাজ আদায় রত অবস্থায় সালাম করেছিলে? {জাবির [রাঃআঃ]বলেন} তখন তিনি পূর্ব দিকে মুখ করে ছিলেন। [কারণ তখন তিনি বাহনের উপর ছিলেন।]

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১৯০. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] আমাকে [কোন প্রয়োজনে কোথাও] পাঠালেন। তারপর আমি তাহাঁর কাছে ফিরে আসলাম। তিনি তখন পূর্ব দিকে বা পশ্চিম দিকে সফর করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম করলে তিনি হাত দ্বারা ইশারা করিলেন। আমি পুনরায় তাঁকে সালাম করলে তিনি হাত দ্বারা ইশারা করিলেন। আমি চলে যেতে থাকলে তিনি আমাকে ডাকলেন, হে জাবির! এরপর সাহাবীগণও ডাকলেন, হে জাবির! আমি তাহাঁর কাছে এসে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি আপনাকে সালাম করলে আপনি তাহাঁর উত্তর দেন নি [শব্দের মাধ্যমে]। তখন তিনি বলিলেন, আমি তখন নামাজ আদায় করছিলাম।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ লিগাইরিহি

পরিচ্ছেদঃ নামাজে কংকর স্পর্শ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা

১১৯১. আবু যর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ নামাজে দাঁড়ায় তখন সে যেন কংকর স্পর্শ না করে। কেননা, তখন তাহাঁর প্রতি [আল্লাহর] রহমত মুতাওজ্জাহ থাকে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

পরিচ্ছেদঃ নামাজে একবার কংকর স্পর্শ করার অনুমতি

১১৯২. মুআয়কীব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যদি তোমার তা [কংকর স্পর্শ] করা একান্তই প্রয়োজন হয়ে পড়ে তবে একবার [করিতে পার]।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ নামাজে আকাশের দিকে দেখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা

১১৯৩. আনাস ইবন মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, মানুষের কি হল যে, তারা নামাজে আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করে? এ ব্যাপারে তাহাঁর কথা এত কঠোর হলো যে, তিনি বলিলেন, হয় তারা এ থেকে বিরত থাকিবে, না হয় অতি দ্রুত তাঁদের দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেয়া হইবে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১৯৪. উবায়দুল্লাহ ইবনি আব্দুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ]-এর একজন সাহাবী তাঁকে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেন যে, যখন তোমাদের কেউ নামাজে থাকিবে তখন সে যেন আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত না করে। যাতে [অতি দ্রুত] তার দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে না নেওয়া হয়।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ নামাজে [কোন দিকে] দেখার ব্যাপারে কঠোরতা

১১৯৫. আবু যর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন যে, আল্লাহ্‌ তা’আলা বান্দার প্রতি তার নামাজে দণ্ডায়মান থাকাকালীন পর্যন্ত রহমতের দৃষ্টিপাত করিতে থাকেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সে অন্য দিকে দৃষ্টিপাত না করে। যখন সে অন্য দিকে দৃষ্টিপাত করে তখন আল্লাহ তা’আলাও তার থেকে রহমতের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১১৯৬. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে নামাজে এদিক-ওদিক তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলিলেন, তা হল ছোঁ মারা। যা দ্বারা শয়তান নামাজের একাগ্রতা ছোঁ মেরে নিয়ে যায়।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১১৯৭. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] থেকে অনুরূপ রেওয়ায়ত করিয়াছেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১৯৮. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

সুত্রে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে অনুরূপ বর্ণিত রয়েছে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১৯৯. আবু আতিয়্যা [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আয়িশাহ [রাঃআঃ] বলেছেন, নামাজে এদিক ওদিক দেখা ছোঁ মারা যা দ্বারা শয়তান নামাজের একাগ্রতা ছোঁ মেরে নিয়ে যায়।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ মাওকুফ

পরিচ্ছেদঃ নামাজে ডানে-বামে তাকানোর অনুমতি

১২০০. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [একবার] অসুস্থ হলেন। আমরা তখন তাহাঁর পেছনে নামাজ আদায় করছিলাম। তিনি তখন বসা অবস্থায় ছিলেন আর আবু বক্‌র [রাঃআঃ] তাকবীর বলে মুসল্লীদেরকে তাহাঁর তাকবীর শুনাচ্ছিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের প্রতি লক্ষ্য করে আমাদের দাঁড়ানো অবস্থায় দেখলেন। তিনি আমাদের প্রতি ইশারা করলে আমরা বসে গেলাম এবং তাহাঁর সাথে বসে বসে নামাজ আদায় করলাম। যখন তিনি সালাম ফিরালেন তখন বলিলেন, এখন তোমরা ইরান এবং রোমানদের ন্যায় কাজ করলে। তাঁরা তাঁদের বাদশাহদের সামনে দণ্ডায়মান থাকতো আর বাদশাহরা থাকতো বসা। অতএব, তোমরা সে রকম করিবে না, তোমরা স্বীয় ইমামের অনুসরণ করিবে। ঈমাম যদি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন, তবে তোমরাও দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করিবে, আর যদি ঈমাম বসে নামাজ আদায় করেন তবে তোমরাও বসে নামাজ আদায় করিবে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১২০১. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর নামাজে ডানে এবং বামে তাকাতেন। কিন্তু তিনি তাহাঁর ঘাড় তাহাঁর পিঠের পেছনে ফিরাতেন না।{১}

১. নামাজে এদিক-সেদিক তাকানো অপছন্দনীয় কাজ। এতে নামাজের একাগ্রতা নষ্ট হয়। তবে বিশেষ কারণে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ডানে ও বামে তাকিয়েছিলেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ নামাজে সাপ এবং বিচ্ছু মারা

১২০২. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দুই কালো প্রাণী [সাপ এবং বিচ্ছু]-কে নামাজে হত্যা করার আদেশ করিয়াছেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১২০৩. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দুই কালো প্রাণীকে নামাজে হত্যা করার আদেশ করিয়াছেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ নামাজে শিশু সন্তানকে কোলে তুলে নেওয়া এবং [নিচে] রাখা

১২০৪. আবু কাতাদা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজ আদায়কালীন সময়ে [তাহাঁর দৌহিত্রী] উমামা [রাঃআঃ]-কে কাঁধে তুলে নিতেন এবং যখন সিজদায় যেতেন তাকে [নিচে] রেখে দিতেন। আবার যখন দাঁড়াতেন কোলে তুলে নিতেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১২০৫. আবু কাতাদা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ]-কে দেখলাম যে, তিনি সাহাবীদেরকে নিয়ে ঈমামতি করছেন এবং উমামা বিনত আবুল আস [রাঃআঃ]-কে তাহাঁর কাঁধে তুলে রেখেছেন, যখন তিনি রুকূতে যেতেন তাঁকে [নিচে] রেখে দিতেন এবং যখন সিজদা সমাপন করিতেন তাঁকে পুনরায় কাঁধে তুলে নিতেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ নামাজ আদায়কালীন কিবলার দিকে কয়েক কদম হাটা

১২০৬. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, [একবার] আমি দরজা খুলতে চাইলাম। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নফল নামাজ আদায় করছিলেন আর দরজা ছিল কিবলার দিকে। তখন তিনি বাম দিকে অথবা কয়েক কদম হেঁটে গিয়ে দরজা খুলে দিলেন এবং পুনরায় নামাজের স্থানে ফিরে আসলেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদঃ নামাজে হাতে তালি দেওয়া

১২০৭. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, [নামাজে] তাসবীহ [সুবহানাল্লাহ] পড়া পুরুষদের জন্য আর হাতে তালি দেওয়া নারীদের জন্য, [মুহাম্মদ] ইবনি মুছান্না [রহঃ] ‘নামাজে’ এ শব্দটি বেশি বলেছেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১২০৮. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তাসবীহ [সুবহানাল্লাহ] পড়া পুরুষদের জন্য আর হাতে তালি দেওয়া নারীদের জন্য।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ নামাজে তাসবীহ পড়া

১২০৯. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তাসবীহ পুরুষদের জন্য আর হাতে তালি দেওয়া নারীদের জন্য।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১২১০. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, তাসবীহ পুরুষদের জন্য আর হাতে তালি দেওয়া নারীদের জন্য।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ নামাজে গলা খাঁকার দেয়া

১২১১. আলী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমার জন্য রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে আসার একটা নির্দিষ্ট সময় ছিল, তখন আমি তাহাঁর কাছে আসতাম, আমি যখন তাহাঁর কাছে আসতাম অনুমতি চাইতাম। যদি তাঁকে নামাজরত পেতাম তবে তিনি গলা খাঁকার দিলে আমি প্রবেশ করতাম, আর অবসর থাকলে আমাকে অনুমতি দিতেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১২১২. আলী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পক্ষ থেকে আমার জন্য প্রবেশের দুটি নির্দিষ্ট সময় ছিল। একটি রাতে অপরটি দিনে। যখন রাতে প্রবেশ করতাম তখন তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে গলা খাঁকার দিতেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১২১৩. নুজাই [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আলী [রাঃআঃ] আমাকে বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে আমার একটা বিশেষ মর্যাদা ছিল যা সৃষ্টি জগতের মধ্যে অন্য কারো জন্য ছিল না, আমি তাহাঁর কাছে প্রতি রাতের শেষাংশে আসতাম এবং আসসালামু আলাইকুম ইয়া নাবীয়াল্লাহ [সাঃআঃ]! বলতাম। তখন যদি তিনি গলা খাঁকার দিতেন তা হলে আমি ঘরে ফিরে যেতাম আর তা না হলে তাহাঁর কাছে যেতাম।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

পরিচ্ছেদঃ নামাজে কাঁদা

১২১৪. আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, একদা আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে আসলাম, তখন তিনি নামাজ আদায় করছিলেন, আর তাহাঁর ভিতরে ডেকচির শব্দের ন্যায় শব্দ হচ্ছিল। অর্থাৎ তিনি কাঁদছিলেন।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ

নামাজে ইবলীসকে লানত দেয়া এবং তার থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়া

১২১৫. আবুদ্‌দারদা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [একবার] নামাজে দাঁড়ালে আমরা তাঁকে বলিতে শুনলাম, আমি তোর [ইবলীস] থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। তারপর বলিলেন, আমি আল্লাহর লানত দ্বারা তোকে লানত দিচ্ছি। [এ বাক্যটি তিনি] তিনবার [বলিলেন] এবং হাত প্রসারিত করিলেন যেন কোন কিছু ধরতে চাচ্ছেন। যখন তিনি নামাজ শেষ করিলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ [সাঃআঃ]! [আজ] আমরা নামাজে আপনাকে এমন কিছু বলিতে শুনিয়াছি যা ইতিপূর্বে আর কখনো বলিতে শুনিনি, আর [আজ] আপনাকে হাত প্রসারিত করিতে দেখেছি। তিনি বলিলেন, আল্লাহর দুশমন ইবলীস অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নিয়ে এসেছিল আমার চেহারায় নিক্ষেপ করার জন্য, তখন আমি তিনবার বললাম, আমি তোর থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। এরপর আমি তিনবার বললাম – আল্লাহর লানত দ্বারা আমি তোকে লানত দিচ্ছি। এতেও সে যখন পেছনে সরে গেল না, তখন আমি তাকে ধরতে ইচ্ছা করেছিলাম। আল্লাহর শপথ ! যদি আমার ভাই সুলায়মান [আ.]-এর দোয়া না থাকতো তা হলে সে ভোর পর্যন্ত খুঁটির সাথে বাঁধা থাকতো; তার সাথে মদীনার শিশু-কিশোররা খেলা করত।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ নামাজে কথা বলা

১২১৬. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [একদা] নামাজে দাঁড়ালেন আমরাও তাহাঁর সঙ্গে দাঁড়ালাম, তখন এক বেদুঈন নামাজরত অবস্থায় বলে উঠলো, “ইয়া আল্লাহ! তুমি আমার এবং মুহাম্মদ [সাঃআঃ]-এর উপর রহম কর, আর আমাদের সাথে আর কারোর উপর রহম করো না।” রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সালাম ফিরালে ঐ বেদুঈনকে বলিলেন, তুমি একটি প্রশস্ত বস্তুকে সংকুচিত করে দিলে। এর দ্বারা তিনি আল্লাহর রহমতকে বুঝিয়েছেন। {১}

{১. এ হাদিস দ্বারা বোঝা যায় যে, নামাজের মধ্যে কথা বলা বৈধ নয়। তা না হলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজের মধ্যেই বেদুঈনকে উপরোক্ত কথা বলিতেন।}

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১২১৭. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

এক বেদুঈন [একদা] মসজিদে প্রবেশ করিল এবং দু’রাকআত নামাজ আদায় করে বললো, “ইয়া আল্লাহ! তুমি আমার ও মুহাম্মদ [সাঃআঃ]-এর উপর রহম কর এবং আমাদের সাথে আর কারো উপর রহম করো না।” রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তুমি একটি প্রশস্ত বস্তুকে সংকুচিত করে দিলে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১২১৮. মু’আবিয়া ইবনি হাকাম সুলামী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা নিকট অতীতে জাহেলিয়াতে নিমজ্জিত ছিলাম, তারপর আল্লাহ তা’আলা ইসলাম পাঠালেন। আমাদের মধ্যে কিছু লোক শুভ অশুভ লক্ষণ মানে। তিনি বলিলেন, তা এক প্রকার কুসংস্কার, যা তাহাদের মনে উদ্রেক হয়ে থাকে এটা যেন তাহাদের কোন কাজ থেকে বিরত না রাখে। আমি আরো বললাম, আমাদের মধ্যে কিছু লোক গণকদের কাছে যাতায়াত করে। তিনি বলিলেন, তোমরা গণকদের কাছে যেয়ো না। তিনি বলিলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমদের মধ্যে কিছু লোক রেখা টেনে থাকে”, তিনি বলিলেন, নাবীদের মধ্যে একজন নাবী রেখা টানতেন। {ইদ্রীস [আ.] অথবা দানিয়াল {আ.}} অতএব, যার রেখা তাহাঁর রেখার সাথে মিলে যায় তা সঠিক বলে প্রতিপন্ন হইবে। রাবী বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে নামাজে ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি হাঁচি দিলে আমি

‘يَرحَمُكَ اللهُ’

বললাম, তখন উপস্থিত লোকজন আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাতে থাকলে আমি বললাম, তোমাদের মাতারা তোমাদের হারিয়ে ফেলুক! তোমাদের কি হল তোমরা আমার দিকে এরূপ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছ কেন? তখন লোকজন [আশ্চর্যান্বিত হয়ে] তাহাদের উরুদেশে তাহাদের হাত মারতে আরম্ভ করলো, আমি যখন দেখলাম যে, তারা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে আমি [রাগান্বিত না হয়ে] চুপ হয়ে গেলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন নামাজ শেষ করিলেন আমাকে ডাকলেন, তাহাঁর উপর আমার মাতা-পিতা কোরবান হোক। তিনি [নামাজে আমার অবাঞ্ছিত কথাবার্তার জন্য] আমাকে তিরস্কারও করিলেন না এবং কটু কথাও বলিলেন না। আমি তার পূর্বে বা পরে তাহাঁর থেকে উত্তম কোন শিক্ষক দেখিনি। তিনি বলিলেন, আমাদের এ নামাজে কারো কথা বলা সমীচীন ময়। এতো হল তাসবীহ, তাকবীর এবং তিলাওয়াতে কুরআনের সমষ্টি। রাবী বলেন, এরপর আমার একটি বকরীর পাল আমার দিকে এগিয়ে আসল যা আমার দাসী উহুদ এবং জাওয়ানীয়ায় চরাচ্ছিল। আমি দেখলাম যে, বাঘে পাল থেকে একটি বকরী নিয়ে গেছে। আমিও তো এক আদম সন্তান তাই আমি [দাসীর উপর] রাগান্বিত হয়ে গেলাম, যেমন অন্যরাও রাগান্বিত হয়ে থাকে। অতএব, আমি দাসীকে একটা চড় মারলাম। এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে এসে তাহাঁর সংবাদ দিলাম। তিনি চড় মারাকে খুবই অন্যায় কাজ মনে করিলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি তাঁকে [এর প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ] আযাদ করে দেব? তিনি বলিলেন, আযাদ করে দাও, সে দাসীকে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] জিজ্ঞাসা করিলেন, আল্লাহ্‌ কোথায়? সে বললো, আসমানে। তিনি তাঁকে আবার জিজ্ঞাসা করিলেন, আমি কে? সে বললো, আপনি আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ]। এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, “সে মু’মিন, অতএব তাকে আযাদ করে দাও।”

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১২১৯. যায়দ ইবনি আরকাম [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর যামানায় তাহাঁর সঙ্গীর সাথে কোন প্রয়োজনে কথা বলছিল, তখন এ আয়াত নাযিল হলঃ

حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} [البقرة: 238]

অর্থঃ তোমরা নামাজের প্রতি যত্নবান হইবে, বিশেষত মধ্যবর্তী নামাজের এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে তোমরা বিনীতভাবে দাঁড়াবে [২ঃ ২৩৮]। তখন আমাদের [নামাজে] চুপ থাকতে আদেশ করা হল।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১২২০. আব্দুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ]-এর কাছে তাহাঁর নামাজরত অবস্থায় আসতাম, আমি তাঁকে সালাম করতাম, তিনি উত্তর দিতেন। একদিন আমি তাহাঁর কাছে এসে তাঁকে সালাম করলাম, তখন তিনি নামাজ আদায় করছিলেন কিন্তু তিনি উত্তর দিলেন না। যখন তিনি সালাম ফিরালেন মুসল্লীদের দিকে লক্ষ্য করে বলিলেন, আল্লাহ তা’আলা নামাজের ব্যাপারে একটি নতুন হুকুম নাযিল করিয়াছেন যে, তোমরা [এতে] আল্লাহর যিকির ছাড়া অন্য কোন কথা বলবে না। আর তা তোমাদের জন্য সমীচীনও নয় আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দাঁড়াবে।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১২২১. [আবদুল্লাহ] ইবনি মাসঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমরা নাবী [সাঃআঃ]-কে সালাম করলে তিনি উত্তর দিতেন [কিন্তু] আমরা হাবশা [ইথিওপিয়া] থেকে ফিরে এসে তাঁকে সালাম করলে তিনি উত্তর দিলেন না। তখন আমি নিকট-অতীত এবং দূর-অতীতের স্বীয় ঘটিত কোন অপরাধের কথা চিন্তা করিতে লাগলাম ও বসে গেলাম। এরপর তিনি নামাজ শেষ করে বলিলেন, আল্লাহ তা’আলা যখনই ইচ্ছা করেন নতুন নতুন হুকুম নাযিল করেন। তিনি একটি [নতুন] হুকুম নাযিল করিয়াছেন যে, নামাজে কথা বলা যাবে না।

নামাজ শিক্ষা হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

By ইমাম নাসাঈ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply