নামাজের তাসাহুদ – বসে, লাঠিতে ভর দিয়ে, কোমরে হাত রেখে নামাজ পড়া

নামাজের তাসাহুদ – বসে, লাঠিতে ভর দিয়ে, কোমরে হাত রেখে নামাজ পড়া

নামাজের তাসাহুদ – বসে, লাঠিতে ভর দিয়ে, কোমরে হাত রেখে নামাজ পড়া >>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

অধ্যায়ঃ ২, অনুচ্ছেদঃ ১৭৬-১৮৮ =১৩টি

অনুচ্ছেদ-১৭৬ কোমরে হাত রেখে নামায আদায়কারী সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৭৭ লাঠিতে ভর দিয়ে নামায আদায়কারী সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৭৮ নামাযরত অবস্থায় কথা বলা নিষেধ
অনুচ্ছেদ-১৭৯ বসে নামায আদায় করা
অনুচ্ছেদ-১৮০ তাশাহহুদের বৈঠকে বসার নিয়ম
অনুচ্ছেদ-১৮১ চতুর্থ রাকআতে পাছার উপর বসা
অনুচ্ছেদ-১৮২ তাশাহুদ পাঠ
অনুচ্ছেদ-১৮৩ তাশাহ্হুদ পড়ার পর নাবী (সাঃআঃ)-এর উপর দরুদ পাঠ
অনুচ্ছেদ-১৮৪ তাশাহ্হুদের পরে কি পাঠ করিবে?
অনুচ্ছেদ-১৮৫ নীরবে তাশাহ্হুদ পাঠ
অনুচ্ছেদ-১৮৬ তাশাহ্হুদের মধ্যে ইশারা করা
অনুচ্ছেদ-১৮৭ নামাজেরত অবস্থায় হাতের উপর ঠেস দেয়া মাকরূহ
অনুচ্ছেদ-১৮৮ (প্রথম) বৈঠক সংক্ষেপ করা

অনুচ্ছেদ১৭৬ কোমরে হাত রেখে নামায আদায়কারী সম্পর্কে

৯৪৭

আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) নামায আদায়কালে কোমরে হাত রাখতে নিষেধ করিয়াছেন। ঈমাম আবু দাউদ (রাঃআঃ) বলেন, এর অর্থ হলো, পেটের পার্শ্বদেশে হাত রাখা।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ১৭৭ লাঠিতে ভর দিয়ে নামায আদায়কারী সম্পর্কে

৯৪৮

হিলাল ইবনি ইয়াসাফ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি যখন (শাম দেশের) রাক্কাহ নামক শহরে যাই তখন আমার বন্ধুদের একজন আমাকে বলিলেন, আপনি কি নাবী (সাঃআঃ) এর কোন সহাবীর সাক্ষাত পেতে আগ্রহী? আমি বললাম, এটা তো আমার জন্য গনীমাতস্বরূপ। অতঃপর আমাদেরকে ওয়াবিসাহ (রাঃআঃ)-এর নিকট নিয়ে যাওয়া হলো। আমি আমার সাথীকে বললাম, প্রথমে আমরা তাহাঁর বেশভূষা দেখবো। আমরা দেখলাম, তিনি মাথার সাথে লেপটে থাকা দুই কানাবিশিষ্ট একটি টুপি এবং রেশম ও পশমের তৈরি ধূসর রংয়ের কাপড় পরিধান করিয়াছেন। তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে নামায আদায় করছিলেন। আমরা সালাম দেওয়ার পর তাকে (লাঠিতে ভর দিয়ে নামায আদায় সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বলিলেন, উম্মু-ক্বাইস বিনতে মিহ্সান (রাঃআঃ) আমার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, যখন রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর বয়স বেশী হলো এবং তাহাঁর শরীরের গোশত ঢিলা হয়ে গেল তখন তিনি তাহাঁর নামাজের স্থানে একটি লাঠি রাখতেন এবং তার উপর ভর করে নামায আদায় করতেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ১৭৮ নামাযরত অবস্থায় কথা বলা নিষেধ

৯৪৯

যায়িদ ইবনি আরক্বাম (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমাদের কেউ নামায আদায় অবস্থায়ই তার পাশের ব্যক্তির সাথে কথা বলতো। অতঃপর এ আয়াত নাযিল হয়ঃ “তোমরা আল্লাহর একান্ত অনুগত হয়ে (নামায) দাঁড়াও” (সূরাহ আল-বাক্বারাহঃ ২৩৮)। এ আয়াতে আমাদেরকে নামায চুপ থাকতে আদেশ দেয়া হয় এবং কথাবার্তা বলিতে নিষেধ করা হয়।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭৯ বসে নামায আদায় করা

৯৫০

আবদুল্লা ইবনি আমর (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করা হয় যে, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, কোন ব্যক্তি বসে (নফল) নামায আদায় করলে তা অর্ধেক নামায আদায় হিসেবে ধর্তব্য। অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নিকট গিয়ে দেখলাম তিনি বসে নামায আদায় করছেন। এ দৃশ্য দেখে আমি আমার মাথায় হাত রাখলাম। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করিলেন, হেআবদুল্লা ইবনি আমর ! তোমার কি হয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল ! আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করা হয়েছিল যে, আপনি বলেছেন, কোন ব্যক্তি বসে (নামায) আদায় করলে তা (দঁড়িয়ে) অর্ধেক নামায আদায়ের সমতূল্য। অথচ আপনি বসে নামায আদায় করছেন। রসুলূল্লাহ (সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলিলেন, হ্যাঁ, আমি তাই বলেছি। কিন্তু আমি তোমাদের কারো মত নই।

সহীহঃ মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৫১

ইমরান ইবনিল হুসাইন (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি নাবী (সাঃআঃ)-কে কারো বসে নামায আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিলেন। তিনি বলিলেন, তার বসে নামায আদায়ের চাইতে দাঁড়িয়ে নামায আদায় উত্তম। তার বসে নামায আদায় দাঁড়িয়ে নামায আদায়ের অর্ধেক এবং তার শুয়ে নামায আদায় বসে নামায আদায়ের অর্ধেক।

সহীহঃ বোখারি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৫২

ইমরান ইবনিল হুসাইন (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার পাজঁরে ব্যথাজনিত রোগ ছিল। আমি নাবী (সাঃআঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলিলেন, তুমি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করিবে, তাতে সক্ষম না হলে বসে আদায় করিবে এবং তাতেও সক্ষম না হলে শুয়ে নামায আদায় করিবে।

সহীহঃ বোখারি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৫৩

আয়েশা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে রাতের নামায কখনও বসে কেরাত করতে দেখিনি। অবশেষে বৃদ্ধ বয়সে পৌছলে তিনি রাতের নামায বসে কেরাত করতেন এবং চল্লিশ কিংবা ত্রিশ আয়াত বাকী থাকতে উঠে দাঁড়িয়ে তা পাঠ সম্পন্ন করে সিজদায় যেতেন।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৫৪

নাবী (সাঃআঃ)-এর স্ত্রীআয়েশা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বসে নামায আদায়কালে কেরাতও বসে পড়তেন। যখন ক্বিরাআতের ত্রিশ বা চল্লিশ আয়াত বাকী থাকতো তখন উঠে দাঁড়িয়ে তা পাঠ করতেন, এরপর রুকূ ও সাজদাহ্ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকআতেও অনুরূপ করতেন।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

ঈমাম আবু দাউদ (রাঃআঃ) বলেন, এ হাদিসটিআলক্বামাহ ইবনি ওয়াক্কাস (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)আয়েশা (রাঃআঃ) হইতে নাবী (সাঃআঃ) এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৫৫

আয়েশা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে কখনো দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে এবং কখনো দীর্ঘ সময় বসে নামায আদায় করতেন। তিনি দাঁড়িয়ে নামায আদায়কালে দাঁড়িয়ে রুকূ করতেন এবং বসে নামায আদায়কালে বসে রুকূ করতেন।

সহীহঃ মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৫৬

আবদুল্লা ইবনি শাক্বীক্ব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমিআয়েশা (রাঃআঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কি এক রাকআতে কয়েকটি সূরাহ পড়তেন? তিনি বলিলেন, তিনিমুফাস্সাল (দীর্ঘ) সূরাহ পড়তেন। তিনি বলেন, আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি কি বসে নামায আদায় করতেন?আয়েশা (রাঃআঃ) বলিলেন, যখন তাহাঁর বয়স অধিক হয়ে যায় (তখন তিনি বসে নামায আদায় করতেন)।

সহীহঃ এর দ্বিতীয় অংশ।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮০ তাশাহহুদের বৈঠকে বসার নিয়ম

৯৫৭

ওয়াইল ইবনি হুজর (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি (মনে মনে) বললাম, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কিভাবে নামায আদায় করেন আমি তা অবশ্যই দেখবো। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) নামায দাঁড়িয়ে ক্বিবলামূখী হয়ে তাকবীর বলে দুই হাত কান বরাবর উত্তোলন করিলেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাত আকঁড়ে ধরলেন। তারপর যখন রুকূতে যাওয়ার ইচ্ছা করিলেন তখনও অনুরূপভাবে দুহাত উত্তোলন করিলেন। বর্ণনাকারী (ওয়াইল ইবনি হুজর) বলেন, অতঃপর তিনি বাম পা বিছিয়ে বসলেন, বাম হাত বাম পায়ের ঊরুর উপর রাখলেন এবং ডান কনুই ডান ঊরু হইতে পৃথক রাখলেন। তারপর দু আঙ্গুল গুটিয়ে বৃত্তাকার করিলেন এবং তাঁকে আমি এভাবে বলিতে দেখলাম। বর্ণনাকারী বিশর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বৃদ্ধাংগুলিকে মধ্যমার সাথে মিলিয়ে বৃত্ত করিলেন এবং শাহাদাত অংগুলি দ্বারা ইশারা করে দেখালেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৫৮

আবদুল্লা ইবনি উমার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নামাজের সুন্নাত হচ্ছে, (বসার সময়) তোমার ডান পা খাড়া রাখা এবং বাম পা বিছিয়ে দেয়া।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৫৯

আবদুল্লা ইবনি উমার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নামাজের সুন্নাত হলো, (বসার সময়) তোমার বাম পা বিছিয়ে রাখা এবং ডান পা খাড়া করে রাখা।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৬০

ইয়াহিয়া (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

এই সানাদে পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।

হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৯৬১

ইয়াহইয়া ইবনি সাঈদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

আল-ক্বাসিম ইবনি মুহাম্মদ তাহাঁদেরকে তাশাহহুদে বসার নিয়ম দেখান। অতঃপর হাদিসটি বর্ণনা করেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৬২

ইবরাহীম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) নামায (তাশাহুদে বসার সময়) তাহাঁর বাম পা বিছিয়ে দিতেন। ফলে তাহাঁর পায়ের পাতার উপরিভাগ কালো হয়ে গিয়েছিল।{৯৬২}

{৯৬২}- এর সানাদ দুর্বল।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮১ চতুর্থ রাকআতে পাছার উপর বসা

৯৬৩

মুহাম্মাদ ইবনি আমর ইবনিআত্বা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

আমি আবু হুমাইদ আস-সাইদী (রাঃআঃ) কে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর দশজন সহাবীর উপস্থিতিতে বলিতে শুনিয়াছি, যাদের মধ্যে আবু ক্বাতাদাহ (রাঃআঃ)-ও ছিলেন। আবু হুমাইদ (রাঃআঃ) বলিলেন, আমি তোমাদের মধ্যে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নামায সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। তারা বলিলেন, তাহলে আপনি বর্ণনা করুন। তখন তিনি হাদিস বর্ণনা করেন। তাতে তিনি এও বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সাজদাহ্র সময় দুই পায়ের আঙ্গুলগুলো খোলা রাখতেন। অতঃপর “আল্লাহু আকবার” বলে মাথা উঠাতেন এবং বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসতেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাকআতেও তিনি অনুরূপভাবে আদায় করতেন। এরপর তিনি হাদিসের অবশিষ্ট অংশ বর্ণনা করেন যে, সবশেষে তিনি সালাম ফিরানোর পূর্বের সাজদাহ্ শেষ করে বাম পা বাইরের দিকে বের করে বাম পাশের নিতম্বের উপর বসতেন। ঈমাম আহমাদ ইবনি হাম্বলের বর্ণনায় আরো রহিয়াছে, এভাবে হাদিস বর্ণনার পর উপস্থিত সাহাবীগণ বলিলেন, হাঁ, আপনি সত্যই বলেছেন। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এভাবেই নামায আদায় করতেন। কিন্তু ঈমাম আহমাদ ইবনি হাম্বল ও মুসাদ্দাদ তাহাঁদের বর্ণিত হাদীসে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) দ্বিতীয় রাকআতে কিরূপে বসতেন তা বর্ণনা করেননি।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৬৪

মুহাম্মাদ ইবনি আমর ইবনি আত্বা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

একদা তিনি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর একদল সহাবীর সাথে বসা ছিলেন। তখন পূর্বোক্ত হাদিসটি আলোচিত হয়। অবশ্য তাতে সহাবী আবু ক্বাতাদাহর নাম উল্লেখ নেই। তিনি বর্ণনা করিলেন, তিনি যখন দুই রাকআত সম্পন্ন করে বসতেন তখন বাম পা বাইরের দিকে ছড়িয়ে নিতম্বের উপর বসলেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৬৫

মুহাম্মাদ ইবনি আমর আল-আমিরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যে মাজলিসে এ হাদিসটি আলোচিত হচ্ছিল সেখানে আমিও উপস্থিত ছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, নাবী (সাঃআঃ) যখন দুই রাকআত শেষে বসতেন তখন বাম পায়ের তালুর ওপর ভর করে বসতেন, এ সময় তাহাঁর নিতম্ব মাটিতে লাগিয়ে রাখতেন এবং উভয় পা একদিকে বের করে দিতেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৬৬

আব্বাস অথবাআইয়াশ ইবনি সাহ্‌ল আস-সাঈদী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি এমন একটি মাজলিসে ছিলেন যেখানে তাহাঁর পিতাও উপস্থিত ছিলেন। অতঃপর তিনি হাদিস বর্ণনা করেন যে, নাবী (সাঃআঃ) সাজদাহ্রত অবস্থায় দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের পাতার উপর ভর করিলেন। তিনি বসার সময় নিতম্বের উপর বসলেন এবং অপর পা খাড়া করে রাখলেন, অতঃপর তাকবীর বলে সাজদাহ্ করিলেন, এরপর আবার তাকবীর বলে না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন। এরপর পূর্বের নিয়মেই তাকবীর বলে পরবর্তী রাকআতের রুকূ করিলেন। অতঃপর দু রাকআত শেষে বসলেন। এরপর তিনি ক্বিয়ামের মনস্থ করেআল্লাহু আকবার বলে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং পরবর্তী দু রাকআত আদায় করিলেন। অতঃপর শেষ বৈঠকে প্রথমে ডান দিক এবং পরে বাম দিকে সালাম ফিরালেন।

দুর্বল।

ঈমাম আবু দাউদ (রাঃআঃ) বলেন, আবদুল হামীদ কর্তৃক বর্ণিত নিতম্বের উপর বসা এবং দুই রাকআতের পর দাঁড়ানোর সময় হাত উঠানোর কথাটি তার হাদীসে উল্লেখ নেই। {৯৬৬}

{৯৬৬}- এর সানাদ দুর্বল।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৯৬৭

আব্বাস ইবনি সাহল (রাঃ) হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুমাইদ, আবু ইসাইদ, সাহ্‌ল ইবনি সাদ ও মুহাম্মাদ ইবনি মাসলামাহ (রাঃআঃ) এক জায়গায় সমবেত হলেন। তখন তিনি এ হাদিসটি বর্ণনা করিলেন। কিন্তু তাতে দ্বিতীয় রাকাআতের পর দাঁড়ানোর সময় হাত উঠানো এবং (ক্ষনিক) বসার কথা উল্লেখ নাই। বরং তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) নামায শেষান্তে বসার সময় বাম পা বিছিয়ে দিয়ে দান পায়ের আঙ্গুলগুলো ক্বিবলাহমুখী করে বসলেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮২ তাশাহুদ পাঠ

৯৬৮

আবদুল্লা ইবনি মাসঊদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা যখন নামায রসূলুল্লাহর (সাঃআঃ) সাথে তাশাহহুদের বৈঠক বসতাম তখন বলতাম, “বান্দাদের পূর্বে আল্লাহর প্রতি সালাম, তারপর অমুক ও অমুকের প্রতি সালাম। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিলেন, তোমরা “আল্লাহর প্রতি সালাম বর্ষিত হোক” এরূপ বলো না। কেননা আল্লাহ নিজেই সালাম বা শান্তিদাতা। বরং তোমরা নামাজের তাশাহহুদের বৈঠকে বসে বলবে, “আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্সলাওয়াতু ওয়াত্-ত্বায়্যিবাতু। আস্সালামুআলাইকা আইউহান্ নাবীয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আস্সালামুআলাইনা ওয়াআলাইবাদিল্লাহিস সালিহীন”-(অর্থঃ আমাদের সব সালাম ও অভিবাদন, নামায ও দুআ এবং পবিত্রতা মহান আল্লাহর জন্য। হে নাবী! আপনার উপর সালাম, আল্লাহর রহমত ও কল্যান বর্ষিত হোক। আমাদের ও আল্লাহর সকল নেক বান্দার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)। কেননা তোমরা যখন এটা পাঠ করিবে তখন তা আসমান ও যমীন অথবা আসমান ও যমীনের মাঝে আল্লাহর যত নেক বান্দা আছে সবার নিকটেই পৌছে যাবে। “আশ্হাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদানআবদুহু ওয়া রসূলুহু”-(অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নাই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রসূল। এরপর তোমরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী দুআ পাঠ করিবে।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৬৯

আবদুল্লা (রাঃআঃ) সূত্র হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নামায তাশাহহুদের বৈঠকে আমরা কি পাঠ করবো প্রথমে তা জানতাম না। এ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) জানতেন। এরপর তিনি পূর্বানুরূপে হাদিস বর্ণনা করেন।

সহিহ।

শারীক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) জামি ইবনি শাদ্দাদের মাধ্যমে এবং আবু ওয়াইল ওআবদুল্লা ইবনি মাসউদ হইতেও অনুরূপ হাদিস বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেন, নাবী (সাঃআঃ) আমাদেরকে কিছু কথা শিখিয়ে দিলেন, তবে তাশাহুদ শিক্ষার মত করে নয়। তা হলোঃ “আল্লাহুম্মা বাইনা কুলূবিনা ওয়া আসলিহ্ যাতা বাইনিনা ওয়াহদিনা সুবুলাস্-সালামী ওয়া নাজ্জিনা মিনায্ যুলুমাতি ইলান্নূর। ওয়া জাননিব্নাল ফাওয়াহিশা মা যাহারা মিন্হা মা বাতানা ওয়া বারিক লানা ফী আসমাইনা ওয়া আবসারিনা ও ক্বালুবিনা ওয়া আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা ওয়া তুবআলাইনা ইন্নাকা আন্তাত তাওওয়াবুর রহীম। ওয়াজ্আলনা শাকিরীনা লিনিমাতিকা মুসনীনা বিহা ক্বাবিলীহা ওয়া আতিম্মাহাআলাইনা”।

দূর্বল।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

৯৭০

আল-ক্বাসিম ইবনি মুখায়মিরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আলক্বামাহ (রাঃআঃ) আমার হাত ধরে বলেন, একবারআবদুল্লা ইবনি মাসঊদ (রাঃআঃ) তার হাত ধরে বলিলেন যে, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)আবদুল্লার হাত ধরে নামাজের তাশাহুদের পাঠ শিখিয়েছেন। অতঃপর তিনি আমাশ (রাঃআঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসে উল্লেখিত দুআর আনুরূপ দুআ শিক্ষা দেন। অতঃপর বলিলেন, যখন তুমি এ দুআ পড়বে অথবা পড়া শেষ করিবে তখন তোমার নামায শেষ হইবে। এরপর তুমি উঠে যেতে চাইলে উঠে যাবে নতুবা বসে থাকতে চাইলে বসে থাকিবে।

শায, এটুকু অতিরিক্ত যোগেঃ “যখন তুমি হে দুআ পড়বে….”। সঠিক হচ্ছে এটি ইবনি মাসউদের নিজস্ব বক্তব্য।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ শায

৯৭১

ইবনি উমার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি তাশাহুদ সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) হইতে হাদিস বর্ণনা করেনঃ “আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্-সলাওয়াতু ওয়াত ত্বায়্যিবাতু। আস্সালামূআলাইকা আয়্যুহান্ নাবীয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু”। বর্ণনাকারী বলেন,আবদুল্লা ইবনি উমার বলেন, “বারাকাতুহু” শব্দটি আমি নিজে সংযোজিত করেছি। “আস্সালামুআলাইনা ওয়াআলাইবাদিল্লাহিস সালিহীন, আশ্হাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”। আবদুল্লা ইবনি উমার বলেন, এখানে ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু” কথাটি আমি যোগ করেছি। “ওয়া আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদানআবদুহু ওয়া রসূলুহু ”।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৭২

হিত্তান ইবনিআবদুল্লা আর-রাক্বাশী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আবু মূসা আল-আশআরী (রাঃআঃ) আমাদের নামায পড়ালেন। নামাজের শেষ দিকে তিনি যখন বসলেন, তখন দলের একজন বললো, নেকী ও পবিত্রতা অর্জনের জন্যই নামায। নামায শেষে আবু মূসা (রাঃআঃ) লোকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে উপস্থিত লোকজন নীরব রইলো। তিনি পুনরায় বলিলেন, তোমাদের মধ্যকার কে এরূপ কথা বলেছে। বর্ণনাকারী বলেন, তখনও লোকেরা চুপ রইলো। হিত্তান বলিলেন, তিনি আমাকে বলিলেন, হে হিত্তান! সম্ভবত তুমিই একথাগুলো বলেছো। হিত্তান বলিলেন, না, আমি বলি নাই। অবশ্য আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে, এজন্য আমাকে শাস্তি দিবেন। হিত্তান বলিলেন, এক ব্যক্তি বললো, কথাগুলো আমিই বলেছি এবং শুধু ভাল উদ্দেশেই বলেছি। আবু মূসা (রাঃআঃ) বলিলেন, নামাজের মধ্যে কি বলিতে হয় তাকি তোমরা অবহিত নও? একদা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাদের সামনে খুত্ববাহ দিলেন। তাতে তিনি আমাদেরকে নামাজের পদ্ধতি ও নামায শিক্ষা দিলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা নামায আদায়ের ইচ্ছা করলে প্রথমে কাতারসমূহ ঠিক করে নিবে। অতঃপর তোমাদের একজন ঈমামতি করিবে। ঈমাম তাকবীর বললে, তোমরাও তাকবীর বলবে, ঈমাম যখন “গাইরিল্ মাগ্দুবিআলাইহিম ওয়ালাদ্দোয়ালীন” পড়বে তোমরা “আমীন” বলবে। তবেই আল্লাহ তা কবুল করবেন। ঈমাম তাকবীর বলে রুকূ করলে তোমরাও তাকবীর বলে রুকূ করিবে। কারণ ঈমাম তোমাদের পূর্বে রুকূতে যাবে এবং তোমাদের পূর্বেই রুকূ হইতে মাথা উঠাবে। এরপর রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ এটা তার বিকল্প। ঈমাম “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্” বললে তোমরা তখন বলবে “আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল্ হাম্দ”। আল্লাহ তোমাদের একথা শুনবেন। কেননা মহান আল্লাহ তাহাঁর নাবীর যবানীতে বলেছেনঃ “সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ্”। অতঃপর ঈমাম যখন তাকবীর বলে সাজদাহ্ইয় যাবে তখন তোমরাও তাকবীর বলে সাজদাহ্ করিবে। ঈমাম তোমাদের আগে তাকবীর বলবে এবং আগে সাজদাহ্ করিবে। একথা বলার পর রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ এটা সেটার বিকল্প। তাশাহহুদের বৈঠকে তোমাদের সর্বপ্রথম পড়তে হবেঃ “আত্তাহিয়্যাতু তায়্যিবাতুস সাল্লাওয়াতু লিল্লাহি; আস্সালামুআলাইকা আয়্যুহান্ নাবীয়্যু ওয়া রহমাতুলাহি ও বারাকাতুহু। আস্সালামুআলাইনা ওয়াআলাইবাদিল্লাহিস সালিহীন। আশ্হাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদানআবদুহু ওয়া রসূলুহু”। ঈমাম আহমাদ (রাঃআঃ) স্বীয় বর্ণনাতে “বারাকাতুহু” ও “আশহাদু” শব্দদ্বয় উল্লেখ করেননি। তিনি “আন্না মুহাম্মাদান” কথাটি উল্লেখ করিয়াছেন।

সহীহঃ মুসলিম।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৭৩

হিত্তান ইবনিআবদুল্লা আর-রাক্বাশী হইতে বর্ণিতঃ

উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তার বর্ণনায় আরো রহিয়াছে, ঈমাম যখন কেরাত পড়বে তখন তোমরা চুপ করে থাকিবে। বর্ণনাকারী তাশাহুদের “আশ্হাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” এর পরে “ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু” কথাটি বৃদ্ধি করিয়াছেন।

সহীহঃ মুসলিম।

ঈমাম আবু দাউদ (রাঃআঃ) বলেন, “আনসিতু” (চুপ করে থাকিবে) কথাটি সংরক্ষিত নয়। এ হাদীসে বর্ণনাকারী সুলায়মান আত্-তাইমী ছাড়া অন্য কেউ তা উল্লেখ করেননি।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৭৪

আবদুল্লা ইবনি আব্বাস  (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাদেরকে কুরআন শিক্ষার মত করেই তাশাহুদ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলিতেনঃ আত্তাহিয়্যাতুল মুবারাকাতুস সলাওয়াতুত ত্বায়্যিবাতু লিল্লাহি। আল্সালামুআলাইকা আয়্যুহান নাবীয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আস্সালামুআলাইনা ওয়াআলাইবাদিল্লাহিস সলিহীন। ওয়া আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ।

সহীহঃ মুসলিম।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৭৫

সামুরাহ ইবনি জুনদুব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাদেরকে আদেশ করিয়াছেন যে, নামাজের মধ্যভাগে (দ্বিতীয় রাকআতের তাশাহহুদ বৈঠকে) অথবা নামাজের শেষ দিকে সালাম ফিরানোর পূর্বে তোমরা পাঠ করবেঃ “আত্তাহিয়্যাতুত্ ত্বায়্যিবাতু ওয়াস্-সলাওয়াতু ওয়াল মুল্কু লিল্লাহি”। এরপর ডান দিকে সালাম ফিরাবে। অতঃপর ঈমাম ও নিজেদের সালাম দিবে।

দুর্বল।

ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, সুলায়মান ইবনি মূসা কূফার অধিবাসী ছিলেন। তিনি দামেশ্ক শহরে বসবাস করতেন। ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আরো বলেন, সুলায়মান ইবনি মূসার এ সহীফাহ প্রমাণ করে, আল-হাসান সামুরাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ইবনি জুনদুব (রাঃআঃ) এর কাছে হাদিস শুনেছেন। {৯৭৫}

{৯৭৫}- এ সানাদটি দুর্বল, কেননা এতে মাজহুল ব্যক্তিবর্গ বিদ্যমান।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮৩ তাশাহ্হুদ পড়ার পর নাবী (সাঃআঃ)-এর উপর দরুদ পাঠ

৯৭৬

কাব ইবনিউজরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমরা বললাম অথবা লোকজন বললো, হে আল্লাহর রসূল ! আপনি আমাদেরকে আপনার উপর দরুদ ও সালাম পড়ার আদেশ করিয়াছেন। সালাম পাঠের নিয়ম আমরা জানতে পেরেছি। কিন্তু আপনার উপর দরূদ কিভাবে পাঠ করবো? রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ তোমরা বলো- “আল্লাহুম্মা সল্লিআলা মুহাম্মাদিন ওয়াআলি মুহাম্মাদিন কামা সল্লাইতাআলা ইবরাহীমা ওয়া বারিকআলা মুহাম্মাদিন ওয়াআলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতাআলা ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ”- (অর্থঃ হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মাদ, তাহাঁর বংশধরদের উপর রহমত বর্ষন করুন যেরূপ রহমত বর্ষন করিয়াছেন ইবরাহীমের উপর। আপনি ইবরাহীমকে যেমন বরকত দান করিয়াছেন তেমনি মুহাম্মাদ ও তাহাঁর বংশধরদের বরকত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহান।)

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৭৭

শুবাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

শুবাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বর্ণিত হাদীসে আছেঃ “সল্লিআলা মুহাম্মাদিন ওয়াআলাআলি মুহাম্মাদিন কামা সল্লাইতাআলা ইবরাহীমা”।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৭৮

ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনিলআলা তার সানাদে ইবনি বিশ্র ও মিস্আরের মাধ্যমে হাকাম হইতে হাদিসটি বর্ণনার পর দরূদ পাঠ সম্পর্কে বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহুম্মা সল্লিআলা মুহাম্মাদিন ওয়াআলাআলি মুহাম্মাদিন কামা সল্লাইতাআলা ইবরাহীমা ইন্নাকা হামিদুম্ মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিকআলা মুহাম্মাদিন ওয়াআলাআলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতাআলা ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।”

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, হাদিসটি যুবাইর ইবনিআদী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ইবনি আবু লায়লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে মিস্আরের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। তবে সেখানে শুধু “কামা সল্লাইতাআলা ইবরাহীমা” এর স্থলে “কামা সল্লাইতাআলাআলি ইবরাহীমা” কথাটি উল্লেখ করিয়াছেন। হাদিসের অবশিষ্ট অংশ মিস্আর বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৭৯

আবু হুমাইদ আস-সাইদী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

লোকেরা জিজ্ঞাসা করলো, হে আল্লাহর রসূল ! আমরা আপনার উপর কিভাবে দরূদ পড়বো? রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ তোমরা বলোঃ “আল্লাহুম্মা সল্লিআলা মুহাম্মাদিন ওয়া আয্ওয়াজিহি ওয়া যুররিয়াতিহি কামা সল্লাইতাআলাআলি ইবরাহীমা ওয়া বারিকআলা মুহাম্মাদিন ওয়া আযওয়াজিহি ওয়া যুররিয়াতিহি কামা বারাকতাআলাআলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ”। (অর্থঃ হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মাদ, তাহাঁর স্ত্রীগণ ও সন্তান-সন্তদির উপর রহমত বর্ষণ করুন যেমনি ইবরাহীমের অনুসারী ও বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করিয়াছেন। এবং আপনি মুহাম্মাদ, তাহাঁর স্ত্রীগণ ও সন্তান-সন্তদির উপর বরকত নাযিল করুন যেমনি ইবরাহীমের অনুসারী ও বংশধরদের উপর বরকত নাযিল করিয়াছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহান।)

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৮০

আবু মাসউদ আল-আনসারী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সাদ ইবনিউবাদাহ (রাঃআঃ) এর মাজলিসে আমাদের নিকট আসলেন। তখন বাশীর ইবনি সাদ (রাঃআঃ) তাঁকে বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল ! আল্লাহ আমাদেরকে আপনার উপর দরূদ পাঠের আদেশ করিয়াছেন। আমরা কিভাবে আপনার উপর দরূদ পড়বো? রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। এমনকি আমরা আক্ষেপ করতে ছিলাম যে, তাঁকে প্রশ্নটি না করাই ভাল ছিল। পরে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ তোমরা বলো…… অতঃপর বর্ণনাকারী কাব ইবনিউজরাহ (রাঃআঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ উল্লেখ করেন। তবে হাদিসের শেষাংশে শুধু “ফিল আলামীনা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ” কথাটি বৃদ্ধি করিয়াছেন।

সহীহঃ মুসলিম।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৮১

ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আহমাদ ইবনি ইউসুফ, যুহাইর, মুহাম্মাদ ইবনি ইসহাক্ব, মুহাম্মাদ ইবনি ইবরাহীম ইবনিল হারিস এবং মুহাম্মাদ ইবনিআবদুল্লা ইবনি যায়িদের মাধ্যমেউক্ববাহ ইবনি আমর (রাঃআঃ) হইতে এই হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি (সাঃআঃ) বলেছেন, তোমরা বলোঃ “আল্লাহুম্মা সল্লিআলা মুহাম্মাদিন নাবীইল উম্মীয়ি ওয়াআলাআলি মুহাম্মাদিন।”

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৯৮২

আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেনঃ কেউ যদি আমাদের আহলি বাইতের উপর দরূদ পড়ার পুরো সওয়াব পেতে চায় সে যেন এভাবে বলেঃ “আল্লাহুম্মা সল্লিআলা মুহাম্মাদিনিন নাবীয়্যি ওয়া আয্ওয়াজিহি উম্মাহাতিল মুমিনীনা ওয়া যুর্রিয়াতিহি ওয়া আহলি বাইতিহি কামা সল্লাইতাআলা ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ”। (অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি নাবী মুহাম্মাদ, তাহাঁর স্ত্রী উম্মাতাহিল মুমিনীন, তাহাঁর সন্তানাদি ও আহলি বাইতের উপর রহমাত বর্ষণ করুন যেমনি রহমাত বর্ষণ করিয়াছেন ইবরাহীমের উপর। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহান।” {৯৮২}

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮৪ তাশাহ্হুদের পরে কি পাঠ করিবে?

৯৮৩

আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পাঠ শেষ করিবে তখন সে যেন আল্লাহর নিকট চারটি বস্তু হইতে আশ্রয় প্রার্থনা করে। (তা হলো)ঃ জাহান্নামের আযাব হইতে, কবরের আযাব হইতে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনাহ হইতে এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্ট হইতে।

সহীহঃ মুসলিম।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৮৪

ইবনি আব্বাস  (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) নামায তাশাহুদের পর বলিতেনঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনআযাবি জাহান্নাম, ওয়া আউযুবিকা মিনআযাবিল ক্বাবরি, ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিদ দাজ্জাল, ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাতি”। (অর্থঃ হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি জাহান্নামের আযাব হইতে, আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব হইতে, আশ্রয় প্রার্থনা করছি দাজ্জালের ফিতনাহ হইতে এবং আশ্রয় প্রার্থনা করছি জীবন ও মৃত্যুর ফিতনাহ হইতে)।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৯৮৫

মিহজান ইবনিল আদরা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) মাসজিদে প্রবেশ করে দেখলেন, এক ব্যক্তি নামায শেষে তাশাহুদ পড়ছে এবং সে এটাও পড়ছে যে, “হে আল্লাহ, হে একক ও অমুখাপেক্ষী আল্লাহ, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি, তাহাঁর সমকক্ষও কেউ নেই, আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি, আপনি আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। আপনি ক্ষমাশীল ও মেহেরবান।” মিহজান (রাঃআঃ) বলেন, লোকটির এ দুআ শুনে নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। তিনি একথা তিনবার বলিলেন।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮৫ নীরবে তাশাহ্হুদ পাঠ

৯৮৬

আবদুল্লা ইবনি মাসউদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তাশাহুদ আস্তে পড়া সুন্নাত।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮৬ তাশাহ্হুদের মধ্যে ইশারা করা

৯৮৭

আলী ইবনিআবদুর রহমান আল-মুআবী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদাআবদুল্লা ইবনি উমার (রাঃআঃ) আমাকে নামাজের মধ্যে নুড়ি পাথর দিয়ে অনর্থক নাড়াচাড়া করতে দেখলেন। অতঃপর যখন তার নামায শেষ হলো তিনি আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করিলেন এবং বলিলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) নামাজে যা করতেন তুমিও তাই করিবে। আমি বললাম, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) নামায কি করতেন? তিনি বলিলেন, নামাজেরত অবস্থায় তিনি যখন বসতেন তখন তাহাঁর ডান হাতের তালু ডান উরুর উপর রাখতেন এবং সব আঙ্গুল বন্ধ করে রাখতেন আর বৃদ্ধাঙ্গুলির পাশের (শাহাদাত) অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করতেন, আর বাম হাতের তালু বাম পায়ের উরুর উপর রাখতেন।

সহীহঃ মুসলিম।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৮৮

আবদুল্লা ইবনিয যুবাইর (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) নামাজে (তাশাহুদ) বৈঠকে তাহাঁর বাম পা ডান উরু ও নলার নীচে রাখতেন এবং ডান পা বিছিয়ে দিতেন, বাম হাত বাম হাটুর উপর এবং ডান হাত ডান উরুর উপর রাখতেন ও (শাহাদাত) আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। বর্ণনাকারীআফ্ফান বলেন,আবদুল ওয়াহিদ ইবনি যিয়াদ আমাদেরকে শাহাদাত আঙুল দ্বারা ইশারা করে দেখিয়েছেন।

সহীহঃ মুসলিম।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৮৯

আবদুল্লা ইব্‌নুয যুবাইর (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) নামায দুআ পাঠকালে আঙুল দ্বারা ইশারা করতেন, অবশ্য আঙুল নাড়তেন না।

দুর্বল।

ইবনি জুরাইজ বলেন,আমর ইবনি দীনারের বর্ণনায় একথাও আছে যে,আমির তাকে জানান যে, তার পিতাআবদুল্লা (রাঃআঃ) নাবী (সাঃআঃ)-কে দুআর সময় আঙুল দ্বারা ইশারা করতে দেখেছেন এবং তখন তিনি তাহাঁর বাম হাত বাম উরুর উপর রাখতেন।

সহিহ।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

৯৯০

আমির ইবনিআবদুল্লা ইবনিয যুবাইর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণিতঃ

এ হাদিসটি বর্ণনা করে বলেন, নাবী (সাঃআঃ)-এর দৃষ্টি (শাহাদাত আঙুলের) ইশারাকে অতিক্রম করতো না। আর হাজ্জাজ বর্ণিত হাদিসটি অধিক পরিপূর্ণ।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৯৯১

মালিক ইবনি নুমাইর আল-খুযাঈ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তার পিতা হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, আমি নাবী (সাঃআঃ)-কে নামায তাহাঁর ডান হাত ডান উরুর উপর রেখে শাহাদাত আঙুল অর্ধনমিত অবস্থায় উচিয়ে রাখতে দেখেছি।{৯৯১}

{৯৯১}- নাসায়ী (অধ্যায়ঃ সাহু, অনুঃ ইশারার সময় তর্জনী অঙ্গুলী অর্ধনমিত করা, হাঃ ১৯৭৩)। এর সানাদে মালিক ইবনি নুমাইর আল-খুযাঈ রহিয়াছে। তার সম্পর্কে হাফিযআত-তাক্ববীর গ্রন্থে বলেনঃ মাক্ববুল।

নামাজের তাসাহুদ -হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮৭ নামাজেরত অবস্থায় হাতের উপর ঠেস দেয়া মাকরূহ

৯৯২

ইবনি উমার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ঈমাম আহ্মাদ ইবনি হাম্বাল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এর বর্ণনা অনুযায়ী রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কোন ব্যক্তি নামায হাতের উপর ঠেস দিয়ে বসতে নিষেধ করিয়াছেন। ইবনি শাব্বুয়াহ এর বর্ণনায় রহিয়াছে, তিনি নামায কাউকে হাতের উপর ঠেস দিতে নিষেধ করিয়াছেন। ইবনি রাফি এর বর্ণনায় রহিয়াছে, তিনি কাউকে হাতের উপর ঠেস দিয়ে নামায আদায় করতে নিষেধ করিয়াছেন। তিনি হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন, “আর-রাফ্উ মিনাস্-সুজুদ” অনুচ্ছেদে। ইবনিআবদুল মালিক বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাকে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাকে নামায উঠার সময় হাতের উপর ভর করতে নিষেধ করিয়াছেন।

সহীহঃ তবে শেষ অংশটুকু বাদে। কেননা তা মুনকার।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৯৩

ইসমাঈল ইবনি উমাইয়াহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাফি (র)-কে এক হাতের আঙ্গুল অপর হাতে প্রবেশ করিয়ে নামায আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃআবদুল্লা ইবনি উমার (রাঃআঃ) বলেছেন, এটা হলো অভিশপ্ত লোকদের নামায।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৯৪

ইবনি উমার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি এক ব্যক্তিকে নামায বসা অবস্থায় তার বাম হাতের উপর ভর করে থাকতে দেখলেন। হারুন ইবনি যায়িদ বর্ণনা করেন, সে বাম পাশে পড়ে আছে। হাদিসের বাকী অংশ উভয়ে একইরূপে বর্ণনা করিয়াছেন। (তা হলো)ঃআবদুল্লা ইবনি উমার (রাঃআঃ) লোকটিকে বলিলেন, এভাবে বসবে না। কারণ যাদেরকে শাস্তি দেয়া হইবে তারাই এভাবে বসে।

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮৮ (প্রথম) বৈঠক সংক্ষেপ করা

৯৯৫

আবুউবায়দাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তার পিতা (ইবনি মাসউদ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি নামাজের প্রথম দুই রাকাআতে এরূপে বসতেন যেন গরম পাথরের উপর বসেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, তিনি দাঁড়ানো পর্যন্ত? তিনি বলিলেন, হাঁ, দাঁড়ানো পর্যন্ত।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছদে-১৮৯

সালাম ফিরানো

৯৯৬

আবদুল্লা ইবনি মাসউদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ)আস্সালামুআলাইকুম ওয়া রহ্মাতুল্লাহ” বলে ডান দিকে এবং “আস্সালামুআলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ” বলে বাম দিকে সালাম ফিরাতেন। এ সময় তাহাঁর গালের শুভ্রতা দেখা যেতো।

সহীহঃ মুসলিম সংক্ষেপে।

ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, শুবাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আবু ইসহাক্বের বর্ণনাকে নাবী (সাঃআঃ)-এর হাদিস হওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৯৭

আলক্বামাহ ইবনি ওয়াইল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তার পিতা হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, আমি নাবী (সাঃআঃ)-এর সাথে নামায আদায় করেছি। তিনি ডান দিকে সালাম ফিরানোর সময় বলিতেন “আস্ সালামুআলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু” এবং বাঁ দিকে সালাম ফিরানোর সময় বলিতেন “আস্ সালামুআলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ”।

সহীহঃ মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৯৮

জাবির ইরনু সামুরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর পিছনে নামায আদায়কালে আমাদের কেউ সালাম ফিরাতো এবং হাত দ্বারা তার ডানে ও বামে ইশারা করতো। নামায শেষে তিনি বললেনঃ তোমাদের কোন এক ব্যক্তির কি হলো যে, সে সালাম ফিরাতে এরূপে হাতের ইশারা করে, যেন তা দুষ্ট ঘোড়ার লেজ। এটাই তোমাদের প্রত্যেকের জন্য যথেষ্ট অথবা এটাই কি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য যথেষ্ট নয় যে, সে তার ডান ও বাম দিকের ভাইকে এভাবে সালাম বলবে। তিনি আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে দেখালেন।

সহীহঃ মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯৯৯

মিসআর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

একই সানাদে অনুরূপ অর্থবোধক হাদিস মিসআর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতেও বর্ণিত হয়েছে। নাবী (সাঃ) বললেনঃ তোমাদের কারো জন্য কি যথেষ্ট নয় অথবা তাঁদের কারো জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, সে উরুর উপর হাত রেখে তার ডান ও বাম দিকের ভাইদের সালাম করিবে?

সহীহঃ মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০০০

জাবির ইবনি সামুরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাদের নিকট আসলেন। এ সময় লোকেরা হাত উত্তেলিত অবস্থায় ছিল। আমাশের বর্ণনায় রয়েছেঃ “নামাযরত অবস্থায়”। নাবী বললেনঃ কি ব্যাপার ! আমি তোমাদের দুষ্ট ঘোড়ার লেজের ন্যায় হাত উঠানো অবস্থায় দেখছি। তোমরা নামায ধীরস্থির থাকো।

সহীহঃ মুসলিম।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদি

By ইমাম আবু দাউদ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply