নতুন লেখা

নামাজের ওয়াক্ত সমূহ। ফজর জোহর আসর মাগরিব ও এশা

নামাজের ওয়াক্ত সমূহ

নামাজের ওয়াক্ত সমূহ। ফজর জোহর আসর মাগরিব ও এশা >> সুনানে নাসাই শরিফের মুল সুচিপত্র দেখুন

নামাজের ওয়াক্ত সমূহ হাদীস ৪৯৪ – ৬২৫

পরিচ্ছেদঃ নামাজের ওয়াক্ত সমূহ

৪৯৪. ইবনি শিহাব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

উ¬মর ইবনি আবদুল আযীয [রহঃ] [একদিন] আসরের নামাজ একটু বিলম্বে আদায় করলে উরওয়া তাঁকে বলিলেন যে, আপনি কি অবহিত নন যে, জিব্রাঈল [আঃ] অবতীর্ণ হন এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সামনে নামাজ আদায় করেন। উমর [রহঃ] বলিলেন, হে উরওয়া! তুমি কি বলছো তা ভালভাবে চিন্তা করে বল। উরওয়া বলিলেন, আমি বাশীর ইবনি আবু মাসঊদ [রহঃ] -কে বলিতে শুনিয়াছি। তিনি বলেন ঃআমি আবু মাসঊদকে বলিতে শুনিয়াছি ঃতিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনিয়াছি যে, জিব্রাঈল [আঃ] অবতীর্ণ হয়ে আমার নামাজের ঈমামতি করেন। আমি তাহাঁর সঙ্গে নামাজ আদায় করি, পুনরায় তাহাঁর সঙ্গে নামাজ আদায় করি। পুনরায় তাহাঁর সঙ্গে নামাজ আদায় করি। পুনরায় তাহাঁর সঙ্গে নামাজ আদায় করি। পুনরায় তাহাঁর সঙ্গে নামাজ আদায় করি। তিনি তার হাতের আঙ্গুলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ গণনা করেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ যোহরের প্রথম সময়

৪৯৫. সাইয়ার ইবনি সালামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃআমি আমার পিতাকে আবু বার্‌যা [রাঃআঃ] -এর নিকট রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিতে শুনিয়াছি। [সনদের একজন রাবী] শুবা [রাঃআঃ] সাইয়ার ইবনি সালামাকে বলিলেন, আপনি নিজে তা শুনেছেন কি? [সাইয়ার] বলেন ঃহ্যাঁ, যেমন আপনাকে শোনাচ্ছি। তিনি-[সাইয়ার] বলেন ঃআমার পিতাকে আমি আবু বারযা [রাঃআঃ] -এর নিকট রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিতে শুনিয়াছি। আবু বারযা [রাঃআঃ] বলেন ঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইশার নামাজ কখনো অর্ধরাতে আদায় করিতেন এবং তিনি নামাজের পূর্বে নিদ্রা যাওয়া ও নামাজের পর কথা বলা পছন্দ করিতেন না। শুবা [রহঃ] বলেন ঃআমি আবার সাইয়ার ইবনি সালামার সঙ্গে সাক্ষাত করি এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন ঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যোহরের নামাজ আদায় করিতেন যখন সূর্য ঢলে পড়তো, আসরের নামাজ এমন সময় আদায় করিতেন যে, কোন লোক মদীনার দূর প্রান্ত পর্যন্ত যেতে পারত এবং সূর্যের আলো তখনও উজ্জ্বল থাকত। মাগরিবের নামাজ কোন্‌ সময় আদায় করিতেন বলে তিনি উল্লেখ করেছিলেন তা আমার জানা নেই। আবার আমি তাহাঁর সাথে সাক্ষাত করি এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন ঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফজরের নামাজ এমন সময় আদায় করিতেন যে, লোক ফিরে যেত এবং তার পাশের উপবিষ্ট কোন পরিচিত লোকের দিকে তাকালে তাকে চিনতে পারত। রাবী বলেন ঃতিনি উক্ত নামাজে ষাট থেকে একশ আয়াত পর্যন্ত পাঠ করিতেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৯৬. যুহরী [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আনাস [রাঃআঃ] আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একদা সূর্য ঢলে পড়লে বের হন এবং তাঁদের নিয়ে যোহরের নামাজ আদায় করেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৪৯৭. খাব্বাব [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নিকট উত্তপ্ত বালুর অভিযোগ করলাম। তিনি আমাদের অভিযোগ গ্রহণ করিলেন না। আবু ইসহাক [রাঃআঃ] -কে বলা হল, সাথীরা কি নামাজ তাড়াতাড়ি আদায় করার অভিযোগ করেছিলেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ সফরের সময় যোহরের নামাজ তাড়াতাড়ি আদায় করা

৪৯৮. হামযাতুল আয়িযী [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি আনাস ইবনি মালিক [রাঃআঃ] -কে বলিতে শুনিয়াছি যে, নাবী [সাঃআঃ] যখন কোন মনযিলে যোহরের পূর্বে অবতরণ করিতেন তখন যোহরের নামাজ আদায় না করে সেই স্থান ত্যাগ করিতেন না। এক ব্যক্তি বলিল, অর্ধদিন ঠিক দুপুর হলেও? তিনি বলিলেন, ঠিক দুপুর বেলায় হলেও।{১}

{১} দুপুর অর্থ হচ্ছে দুপুরের কাছাকাছি সময়, অর্থাৎ তিনি দুপুরের সময় আদায় করলেও সূর্য ঢলে পরা পর্যন্ত অপেক্ষা করে নামাজ আদায় করে স্থল ত্যাগ করিতেন।নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ঠাণ্ডার সময়ে যোহরের নামাজ তাড়াতাড়ি আদায় করা

৪৯৯. খালিদ ইবনি দীনার আবু খালদাহ্‌ [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি আনাস ইবনি মালিক [রাঃআঃ] -কে বলিতে শুনিয়াছি যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] গরমের সময় [যোহরের নামাজ] বিলম্বে এবং ঠাণ্ডার সময় তাড়াতাড়ি আদায় করিতেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ গরম প্রচণ্ড হলে যোহরের নামাজ গরম কমলে আদায় করা

৫০০. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ গরম প্রচণ্ড হলে নামাজ বিলম্ব করে আদায় কর। কেননা গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের ভাপ।{১}

{১} গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের ভাপ অর্থাৎ মৌসুমি তাপের আধিক্য জাহান্নামের গরমেরই নমুনা।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫০১. আবু মুসা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা যোহরের নামাজ বিলম্ব করে আদায় কর। কারণ তোমরা যে গরম অনুভব কর তা জাহান্নামের ভাপ।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ লিগাইরিহি

পরিচ্ছেদঃ যোহরের নামাজের শেষ সময়

৫০২. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ইনি জিব্রাইল [আঃ], যিনি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য এসেছেন। তিনি ঊষা উদিত হলে ফজরের নামাজ আদায় করেন। যোহরের নামাজ আদায় করেন সূর্য ঢলে পড়লে, তারপর আসরের নামাজ আদায় করেন যখন ছায়া তাহাঁর সামনে দেখেন। তারপর মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন যখন সূর্য অস্তমিত হল, আর সাওম পালনকারীর জন্য ইফতার করা হালাল হল। তারপর ইশার নামাজ আদায় করেন সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর যে শফক {১} দেখা যায়, তা অদৃশ্য হওয়ার পর। জিব্রাইল [আঃ] আবার পরদিন আসেন এবং নাবী [সাঃআঃ] -কে নিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করেন যখন কিছুটা ফর্সা হল। পরে তাঁকে নিয়ে যোহরের নামাজ আদায় করেন যখন ছায়া তাহাঁর সমান হল। তারপর আসরের নামাজ আদায় করেন যখন ছায়া তাহাঁর দ্বিগুণ হল। পরে মাগরিবের নামাজ একই সময়ে পূর্ব দিনের ন্যায় আদায় করেন। যখন সূর্য অস্তমিত হল এবং সাওম পালনকারীর জন্য ইফতার করা হালাল হল। এরপর রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হলে ইশার নামাজ আদায় করেন। পরে তিনি বলেনঃ আপনার আজকের নামাজ এবং গত কালকের নামাজের মধ্যবর্তী সময়ই হল নামাজের সময়।

{১} ঈমাম মালিক, শাফিঈ, আহমদ, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ [রহঃ] -এর মতে- অস্তাচলে যে লালিমা দৃষ্ট হয় তাই শফক। ঈমাম আবু হানিফা [রহঃ] -এর মতে- লালিমা অস্ত যাওয়ার পর যে সাদা বর্ণ দেখা যায়, তাই শফক। এটা অদৃশ্য হলে ইশার নামাজের সময় আরম্ভ হয়।নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৫০৩. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] গ্রীষ্মকালে যোহরের নামাজ আদায় করিতেন যখন কোন ব্যক্তির ছায়া তিন হইতে পাঁচ কদমের মধ্যে হতো এবং শীতকালে ছায়া যখন পাঁচ হইতে সাত কদমের মধ্যে হতো।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ আসরের প্রথম ওয়াক্ত

৫০৪. জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে নামাজের নির্ধারিত সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিল। তিনি বললেনঃ আমার সঙ্গে নামাজ আদায় কর। তারপর তিনি যোহরের নামাজ আদায় করেন যখন সূর্য অনেকখানি ঢলে যায়। আসরের নামাজ আদায় করেন যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার সমান হয়ে গেল, মাগরিবের নামাজ আদায় করেন যখন সূর্য অদৃশ্য হয়ে গেল এবং ইশার নামাজ আদায় করেন যখন সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর শফক অদৃশ্য হয়ে গেল। রাবী বলেনঃ [পরদিন] যোহরের নামাজ আদায় করেন যখন মানুষের ছায়া তার সমান হল, আসরের নামাজ আদায় করেন যখন মানুষের ছায়া দ্বিগুণ হল। মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন শফক অদৃশ্য হওয়ার পূর্বে। আবদুল্লাহ ইবনি হারিস বলেনঃ তারপর বর্ণনাকারী ইশার নামাজের কথা উল্লেখ করিয়াছেন এবং বলেছেন, তা রাতের এক-তৃতীয়াংশের দিকে আদায় করিয়াছেন বলে আমার মনে হয়।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ আসরের নামাজ তাড়াতাড়ি আদায় করা

৫০৫. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [এমন সময়] আসরের নামাজ আদায় করিলেন যে, সূর্য রশ্মি তখনও তাহাঁর ঘরে ছিল এবং সূর্য রশ্মি তখনও গৃহের আঙিনা থেকে উপরে উঠেনি।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫০৬. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আসরের নামাজ এমন সময় আদায় করিতেন যে, কোন গমনকারী কুবা {১} পর্যন্ত যেত। [বর্ণনাকারী] যুহরী অথবা ইসহাকের মধ্যে একজন বলেনঃ গমনকারী এসে কুবা বাসীদেরকে [আসরের] নামাজ আদায় করিতে দেখিতে পেত। অন্যজন বলেনঃ সূর্য তখনও উপরে [উজ্জ্বল] থাকত।

{১} মদিনা থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে অবস্থিত।নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫০৭. আনাস ইবনি মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রাসুলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] আসরের নামাজ এমন সময় আদায় করিতেন যে, সূর্য তখন ও অনেক উপরে উজ্জ্বল থাকত। কোন গমনকারী আওয়ালী{২}তে পৌঁছালেও সূর্য তখনও উপরে থাকত।

{২} আওয়ালী অর্থ মদিনার পার্শ্ববর্তী উঁচু মহল্লা। কোন কোন আওয়ালী চার মাইল দূরে অবস্থিত।নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫০৮. আনাস ইবনি মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের কে নিয়ে আসরের নামাজ আদায় করিতেন যখন সূর্য ঊর্ধ্বাকাশে করোজ্জ্বল থাকত।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫০৯. আবু বকর ইবনি উসমান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি আবু উমামা ইবনি সাহল [রহঃ] -কে বলিতে শুনিয়াছি যে, আমরা উমর ইবনি আবদুল আযীয [রহঃ] -এর সঙ্গে যোহরের নামাজ আদায় করে বের হলাম। তারপর আমরা আনাস [রাঃআঃ] এর নিকট গেলাম এবং আসর এর নামাজ আদায় করিতে দেখিতে পেলাম। আমি বললাম, হে পিতৃব্য! এ কোন নামাজ, যা আপনি আদায় করিলেন? তিনি বলিলেন, আসরের নামাজ এবং এটাই রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] –এর নামাজ যা আমরা [তাহাঁর সাথে] আদায় করতাম।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫১০. আবু সালামা[রহঃ] হইতে বর্ণীত

আমরা উমর ইবনি আযীয [রহঃ] -এর যমানায় একদা [যোহরের] নামাজ আদায় করে আনাস [রাঃআঃ] এর নিকট গেলাম এবং তাঁকে নামাজ আদায় করা অবস্থায় পেলাম। নামাজ সমাপ্ত পর তিনি আমাদের বলিলেন যে, তোমরা কি নামাজ আদায় করেছ? আমরা বললাম, যোহরের নামাজ আদায় করেছি। তিনি বলিলেন, আমি তো আসর এর নামাজ আদায় করেছি। লোকেরা বলিল, আপনি তাড়াতাড়ি আদায় করে ফেলেছেন। তিনি বলিলেন ঐভাবেই নামাজ আদায় করি যেভাবে আমার সাথীদেরকে আদায় করিতে দেখেছি।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদঃ আসরের নামাজ বিলম্বে আদায় করার ব্যাপারে সতর্কবাণী

৫১১. আলা [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি যোহরের নামাজ আদায় করার পর আনাস ইবনি মালিক [রাঃআঃ] -এর বসরায় অবস্থিত বাসস্থানে গেলেন। তাহাঁর বাড়ি মসজিদের পার্শ্বেই ছিল। আলা [রহঃ] বলেন, যখন আমরা তাহাঁর নিকট উপস্থিত হলাম, তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমরা কি আসর এর নামাজ আদায় করেছ? আমরা বললাম, না। আমরা তো এই মাত্র যোহরের নামাজ আদায় করলাম। তিনি বলিলেন, এখন আসরের নামাজ আদায় কর। আলা বলেনঃ আমরা তৎক্ষনাৎ নামাজে দাড়িয়ে গেলাম এবং নামাজ আদায় করলাম। নামাজ শেষে তিনি বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনিয়াছি, এটা মুনাফিকের নামাজ যে বসে নামাজের অপেক্ষারত থাকে, তারপর সূর্য যখন শয়তানের দুই শিং –এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করে{১} [সূর্যাস্তের সময় নিকটবর্তী হয়ে যায়] তখন [তাড়াহুড়া করে মোরগের মত] চারটি ঠোকর মারে এবং আল্লাহ্‌ পাকের স্মরণ সামান্যই করে।

{১} “শয়তানের দুই শিং -এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করে”- সূর্য পূজারীরা সূর্যের উদয় ও অস্তের সময় এর পূজা করে। আর শয়তান তাহাদের পূজা গ্রহনের জন্য সূর্যের সামনে এসে দাঁড়ায়। এটাই উক্ত বাক্যের ভাবার্থ।নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫১২. ইসহাক ইবনি ইব্রাহীম [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ যার আসরের নামাজ ফওত হল, তার যেন পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ লুণ্ঠিত হয়ে গেল।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ আসরের শেষ সময়

৫১৩. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

জিব্রাঈল [আঃ] নাবী [সাঃআঃ] -কে নামাজের ওয়াক্ত শিক্ষা দেয়ার জন্য আসলেন। তারপর জিব্রাঈল [আঃ] সামনে দাঁড়ালেন এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর পিছনে এবং অন্যান্য লোকেরা দাঁড়ালেন এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর পিছনে। এরপর যোহরের নামাজ আদায় করিলেন যখন সূর্য ঢলে পড়লো, আবার যখন প্রত্যেক বস্তুর ছায়া তার বরাবর হল, তখন জিব্রাইল [আঃ] আগমন করিলেন এবং পূর্বের মত তিনি আগে দাঁড়ালেন, আর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর পিছনে এবং অন্যান্য লোকগণ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর পিছনে [সারিবদ্ধ হয়ে] দাঁড়িয়ে গেলেন। [এভাবে] আসরের নামাজ আদায় করিলেন। পুনরায় সূর্যাস্তের পর জিব্রাইল [আঃ] আসলেন এবং সামনে দাঁড়ালেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর পিছনে এবং অন্যান্য লোকগণ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর পিছনে দাঁড়িয়ে মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন। আবার সূর্যাস্তের পর যখন শফক অদৃশ্য হয়ে গেল, তখন জিব্রাইল [আঃ] আসলেন এবং সামনে দাঁড়ালেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর পিছনে এবং অন্যান্য লোকগণ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর পিছনে দাড়িয়ে গেলেন। এভাবে ইশার নামাজ আদায় করিলেন। পুনরায় প্রভাত হাওয়ার পর জিব্রাইল [আঃ] আসলেন এবং সামনে দাঁড়ালেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর পিছনে এবং অন্যান্য লোকগণ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর পিছনে দাড়িয়ে ফজরের নামাজ আদায় করিলেন। তারপর দ্বিতীয় দিন আসলেন যখন লোকের ছায়া তাহাঁর সমান হল। তখন গতদিন যেরূপ করা হয়েছিল সেরূপ করা হল —যোহরের নামাজ আদায় করিলেন। তারপর তিনি আবার আসলেন যখন লোকের ছায়া তাহাঁর দ্বিগুণ হল, তখন গত দিন এর ন্যায় আসর এর নামাজ আদায় করিলেন। আবার যখন সূর্য অস্তমিত হয়ে গেল, তখন গত দিন এর ন্যায় মাগরিব এর নামাজ আদায় করিলেন। পরে আমরা ঘুমিয়ে পরলাম। ঘুম থেকে জাগলাম, পুনরায় ঘুমিয়ে ঘুম থেকে জাগলাম। এরপর তিনি এসে পূর্বের ন্যায় ইশার নামাজ আদায় করিলেন। পুনরায় আসলেন যখন প্রভাত হল এবং [আকাশে] তারকাগুলি দৃশ্যমান ছিল। তখন ও পূর্বের ন্যায় ফযরের নামাজ আদায় করিলেন। তারপর বললেনঃ উভয় দিনের নামাজের মধ্যবর্তী সময় নামাজ এর জন্য নির্ধারিত।{১}

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি আসরের দুই রাকআত পেল

৫১৪. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী করীম [সাঃআঃ] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের নামাজের দুই রাকআত পেল, অথবা সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের নামাজের এক রাকআত পেল, সে নামাজ পেল। {২}

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫১৫. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের নামাজের এক রাকআত পেল, অথবা সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের নামাজের এক রাকআত পেল, সে নামাজ পেল।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫১৬. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন তোমাদের কেউ সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের নামাজের প্রথম সিজদা পায়, সে যেন তার বাকী নামাজ সম্পূর্ণ করে। এবং যখন কেউ সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের নামাজের প্রথম সিজদা পায়, সে যেন তার বাকী নামাজ সম্পূর্ণ করে।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫১৭. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের নামাজের এক রাক’আত পেল, সে ফজরের নামাজ পেল এবং যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের নামাজের এক রাক’আত পেল, সে আসরের নামাজ পেল।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫১৮. মু’আয [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি [একদা] মু’আয ইব্ন আফরা [রাঃআঃ] -এর সঙ্গে তওয়াফ করিলেন; [তওয়াফের পর] তিনি নামাজ আদায় করিলেন না। আমি বললাম, আপনি নামাজ আদায় করিলেন না? উত্তরে তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন নামাজ নেই এবং ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত কোন নামাজ নেই।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মাগরিবের প্রথম ওয়াক্ত

৫১৯. বুরায়দা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ [একদা] এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নিকট এসে নামাজের ওয়াক্ত সম্মন্ধে জিজ্ঞাসা করিল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তুমি আমাদের সঙ্গে দুই দিন অবস্থান কর। তারপর তিনি বিলাল [রাঃআঃ] -কে আদেশ করিলেন, তিনি ফজরের ইকামত বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফজরের নামাজ আদায় করিলেন। পুনরায় যখন সূর্য ঢলে পড়ল, তাঁকে [ইকামতের জন্য] আদেশ করিলেন, তারপর যোহরের নামাজ আদায় করিলেন। এরপরে যখন সূর্য শুভ্র করোজ্জ্বল দেখাচ্ছিল, তখন পুনরায় তাঁকে ইকামতের আদেশ করিলেন এবং আসরের নামাজ আদায় করিলেন। তারপর যখন সূর্য অস্তমিত হয়ে গেল, তখন তাঁকে ইকামতের আদেশ করিলেন এবং মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন। তারপর যখন শফক অদৃশ্য হয়ে গেল, তখন তাঁকে ইকামতের আদেশ করিলেন এবং ইশার নামাজ আদায় করিলেন [অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ প্রথম ওয়াক্তে আদায় করিলেন]। পরদিন পুনরায় বিলাল [রাঃআঃ] -কে আদেশ করিলেন, এরপর ফজরের নামাজ আলোকজ্জ্বল প্রভাতে আদায় করিলেন। পুনরায় যোহরের নামাজ বেশ বিলম্ব করে আদায় করিলেন। তারপর আসরের নামাজ আলোকজ্জ্বল সময় থেকে বিলম্ব করে আদায় করিলেন। তারপর শফক অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পূর্বেই মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন। তারপর এক-তৃতীয়াংশ রাত্র অতিক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে ইশার ইকামত বলার আদেশ করিলেন এবং ইশার নামাজ আদায় করিলেন। এরপর বললেনঃ নামাজের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাকারী কোথায়? তোমরা যা দেখলে, তার মধ্যখানেই তোমাদের নামাজের সময়।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মাগরিবের নামাজ তাড়াতাড়ি আদায় করা

৫২০. আবু বিশর [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি হাস্সান ইব্ন বিলাল [রাঃআঃ] -কে নাবী [সাঃআঃ] এর সহচরদের মধ্য থেকে আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করিতে শুনিয়াছি যে, নাবী [সাঃআঃ] -এর সাহাবীগণ তাহাঁর সঙ্গে মাগরীবের নামাজ আদায় করিতেন। তারপর মদীনার প্রান্তরে নিজ নিজ পরিবার-পরিজনের নিকট ফিরে যেতেন। এমতাবস্থায় তাঁরা তীর নিক্ষেপ করিতেন এবং তার পতনের স্থান দেখিতে পেতেন। [অর্থাৎ রাত্র অন্ধকার হওয়ার পূর্বেই মাগরিবের নামাজ আদায় করিতেন ]

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মাগরিবের নামাজ বিলম্বে আদায় করা

৫২১. আবু বাসরা গিফারী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ [একদা] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ‘মুখাম্মাস’ নামক স্থানে আমাদের নিয়ে আসরের নামাজ আদায় করিলেন। [এবং] বললেনঃ এই নামাজ তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের নিকট পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা এর মর্যাদা রক্ষা করেনি। যে ব্যক্তি উক্ত নামাজ যথাযথ আদায় করিবে, সে দ্বিগুণ ছওয়াব পাবে। তার [আসর] পর শাহিদ উদয়ের পূর্ব পর্যন্ত আর কোন নামাজ নেই। শাহিদ [অর্থ] তারকারাজি।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মাগরিবের শেষ ওয়াক্ত

৫২২. আবদুল্লাহ ইব্ন আমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

শু’বা [রহঃ] বলেনঃ কাতাদা [রাঃআঃ] এই হাদিস কখনও রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে মারফূ’ রূপে বর্ণনা করেন, কখনও এরূপ বর্ণনা করেন না। তিনি {আবদুল্লাহ ইব্ন আমর [রাঃআঃ]} বলেনঃ যোহরের শেষ সময় যতক্ষন পর্যন্ত আসর উপস্থিত না হয়, আর আসরের সময় যতক্ষন পর্যন্ত সূর্য হলুদ বর্ণ না হয় এবং মাগরিবের শেষ সময় যতক্ষন পর্যন্ত শফক অদৃশ্য না হয়। ইশার শেষ সময় অর্ধ রাত্রের পূর্ব পর্যন্ত এবং ফজরের শেষ সময় সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫২৩. আবু মূসা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নিকট এসে নামাজের ওয়াক্ত সম্মন্ধে জিজ্ঞাসা করিল। তিনি কোন উত্তর না দিয়ে বিলাল [রাঃআঃ] -কে নামাজের প্রস্তুতির জন্য আদেশ করিলেন। প্রভাতের সময় বিলাল [রাঃআঃ] ফজরের ইকামত বলিলেন। যখন সূর্য ঢলে পড়লো তখন তিনি বিলালকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি যোহরের ইকামত বলিলেন।{১} কেউ বলতো [এই মাত্র] দ্বিপ্রহর হল না কি? অথচ তিনি অবগত ছিলেন। পুনরায় আদেশ করিলেন, অতঃপর সূর্য ঊর্ধ্বাকাশে থাকতেই আসরের ইকামত বলিলেন। পুনরায় আদেশ করিলেন এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার পরই মাগরিবের ইকামত বলিলেন। শফক অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পর ইশার নামাজের ইকামত বলিলেন। পরদিন ফজরের নামাজ এত বিলম্বে আদায় করিলেন যে, নামাজ শেষে প্রত্যাবর্তনের সময় কেউ [সন্দেহ করে] বললো, সূর্যোদয় হয়ে গেছে।{২} পরে যোহরের নামাজ এত বিলম্বে আদায় করিলেন যে, গতকালের আসরের সময়ের নিকটবর্তী হয়ে গিয়েছিল। আসরের নামাজকে এত বিলম্বে আদায় করিলেন যে, প্রত্যাবর্তনের সময় [সন্দিহান হয়ে] কেউ বলিল, সূর্য রক্তিম বর্ণ হয়ে গেছে। পুনরায় মাগরিবের এত বিলম্বে আদায় করিলেন যে, শফক অদৃশ্য হওয়ার উপক্রম হয়ে গিয়েছিল। তিনি ইশার নামাজকে রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্ব করে আদায় করিলেন। পুনরায় বলিলেন, এই দুই দিনের দুই ধরনের ওয়াক্তের মধ্যখানেই নামাজের ওয়াক্ত।

{১} যোহরের নামাজ সূর্য ঢলে পড়ামাত্র এত শীঘ্র আদায় করিতেন যে, কেউ সূর্য দেখে মনে করতো যে, এখন ঠিক দ্বিপ্রহর। অথচ নাবী [সাঃআঃ] অবগত ছিলেন যে, সূর্য ঢলে গিয়েছে এবং নামাজের প্রথম ওয়াক্ত হয়েছে।{২} অর্থাৎ দ্বিতীয় দিন ফজরের নামাজ এত বিলম্বে আদায় করিলেন যে, সূর্যোদয় হয়েছে বলে কারো কারো সন্দেহ হয়েছিল।নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫২৪. বশীর ইব্ন সাল্লাম [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ হাজ্জাজ ইব্ন ইউসুফের আমলে আমি এবং মুহাম্মদ ইব্ন আলী [রাঃআঃ] জাবীর ইব্ন আবদুল্লাহ আনসারী [রাঃআঃ] এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমাদেরকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নামাজ সম্পর্কে অবগত করুন। তিনি {জাবীর [রাঃআঃ]} বলিলেন, যখন সূর্য ঢলে পড়লো এবং ছায়া জুতার ফিতার সমান হলো, তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিজ গৃহ থেকে বের হয়ে যোহরের নামাজ আদায় করিলেন। পুনরায় যখন ছায়া জুতার ফিতা পরিমাণ ও মানুষের ছায়ার সমপরিমাণ হল, তখন আসরের নামাজ আদায় করিলেন। সূর্য অস্তমিত হলে মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন। শফক অদৃশ্য হলে ইশার নামাজ আদায় করিলেন। প্রভাত হলে [প্রথম ওয়াক্তে] ফজরের নামাজ আদায় করিলেন। পরদিন লোকের ছায়া তার সমান হলে যোহরের নামাজ আদায় করিলেন। মানুষের ছায়া যখন তার দ্বিগুণ হলো এবং সূর্যাস্তের পূর্বে এতটুকু সময় বাকী রইল যে, একজন দ্রুতগামী আরোহী [মদীনা থেকে] যুল-হুলায়ফা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে, তখন তিনি আসরের নামাজ আদায় করিলেন। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন। রাত এক-তৃতীয়াংশ অথবা অর্ধাংশ শেষ হওয়ার পূর্বে [বর্ণনাকারী যায়দ সন্দেহ করিলেন] ইশার নামাজ আদায় করিলেন। তারপর ফজরের নামাজ আদায় করিলেন যখন ফর্সা হয়ে গেল।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মাগরিবের নামাজের পর ঘুমানো মাকরূহ

৫২৫. সাইয়ার ইব্ন সালামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি আমার পিতার সঙ্গে আবু বারযাহ [রাঃআঃ] -এর খেদমতে উপস্থিত হলাম। আমার পিতা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কিভাবে ফরয নামাজ আদায় করিতেন, এ সম্মন্ধে তাঁকে জিজ্ঞাসা করিলেন। তিনি বলিলেন, সূর্য ঢলে পড়লে যোহরের নামাজ আদায় করিতেন যাকে তোমরা প্রথম নামাজ {১} বল। তিনি এমন সময় আসরের নামাজ আদায় করিতেন যে, নামাজ আদায় করে কেউ মদীনার এক প্রান্তে নিজ অবস্থানে আসতে পারত এবং তখনও সূর্য করোজ্জ্বল থাকত। বর্ণনাকারী সাইয়ার [রাঃআঃ] বলেনঃ মাগরিব সম্মন্ধে কি বলেছিলেন তা আমি ভুলে গিয়েছি। ইশার নামাজ যাকে তোমরা ‘আতামা’ বল, বিলম্বে আদায় করাকে তিনি পছন্দ করিতেন। ‘ইশার পূর্বে ঘুমানো ও ইশার পর কথা বলাকে মাকরূহ জানতেন। {২} আর ফজরের নামাজ আদায় করে এমন সময় ফিরতেন যে, তখন যে কেউ তার পার্শ্ববর্তী লোককে চিনতে পারত। আর এ নামাজে ষাট আয়াত থেকে একশত আয়াত পর্যন্ত পাঠ করিতেন।

{১} নাবী [সাঃআঃ] -কে নিয়ে জিব্রাঈল [আঃ] সর্বপ্রথম যোহরের নামাজ আদায় করেছিলেন। এ কারণে সাহাবীগণ এই নামাজকে প্রথম নামাজ বলে অভিহিত করিতেন।{২} এই হাদিস অনুযায়ী প্রায় সকল ফিকহবিদ ইশার পূর্বে নিদ্রা যাওয়া ও পরে কথা বলাকে মাকরূহ বলেন। তবে ক্লান্তি দূর করার জন্য এ নামাজের পূর্বে সামান্য বিশ্রাম করা বা পরে কোন সৎ অথবা জরুরী কথা বলা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ইশার প্রথম ওয়াক্ত

৫২৬. জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ সূর্য ঢলে পড়ার পর জিব্রাঈল [আঃ] নাবী [সাঃআঃ] -এর নিকট এসে বললেনঃ হে মুহাম্মদ [সাঃআঃ]! আপনি দাঁড়ান, সূর্য মাথার উপর থেকে ঢলে পড়লে যোহরের নামাজ আদায় করুন। তারপর অপেক্ষা করিলেন। যখন মানুষের ছায়া তার সমান হলো, তখন আসরের জন্য তাহাঁর নিকট এসে বলিলেন, হে মুহাম্মদ [সাঃআঃ]! উঠুন এবং আসরের নামাজ আদায় করুন। আবার অপেক্ষা করিলেন। যখন সূর্য অস্তমিত হল তখন এসে বলিলেন, হে মুহাম্মদ [সাঃআঃ]! উঠুন এবং মাগরিবের নামাজ আদায় করুন। নাবী [সাঃআঃ] দাঁড়ালেন এবং সূর্য ডোবার সাথে সাথেই মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন। পুনরায় অপেক্ষা করিলেন এবং আকাশের শফক অদৃশ্য হয়ে গেলে তিনি এসে বললেনঃ উঠুন এবং ইশার নামাজ আদায় করুন। তিনি দাঁড়িয়ে ইশার নামাজ আদায় করিলেন। যখন স্পষ্টরূপে প্রভাত হল, আবার এসে বললেনঃ হে মুহাম্মদ [সাঃআঃ]! উঠুন এবং ফজরের নামাজ আদায় করুন। তিনি ফজরের নামাজ আদায় করিলেন। পরদিন ছায়া মানুষের বরাবর হলে আবার এসে বললেনঃ হে মুহাম্মদ [সাঃআঃ]! আপনি উঠুন এবং নামাজ আদায় করুন। তিনি যোহরের নামাজ আদায় করিলেন। কোন মানুষের ছায়া যখন দ্বিগুণ হলো জিব্রাঈল [আঃ] আবার আসলেন এবং বললেনঃ হে মুহাম্মদ [সাঃআঃ]! উঠুন এবং নামাজ আদায় করুন। তিনি আসরের নামাজ আদায় করিলেন। সূর্যাস্তের পর পূর্বদিনের ন্যায় মাগরিবের জন্য আবার আসলেন এবং বলিলেন, উঠে নামাজ আদায় করুন। মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন। রাতের এক-তৃতীয়াংশ চলে গেলে ইশার জন্য আবার এসে বললেনঃ উঠুন এবং নামাজ আদায় করুন। তিনি ইশা আদায় করিলেন। প্রভাত স্পষ্ট হওয়ার পর ফজরের নামাজের জন্য আবার আসলেন এবং বলিলেন, উঠুন, নামাজ আদায় করুন এবং তিনি ফজরের নামাজ আদায় করিলেন। অতঃপর বলিলেন, এই দুই দিনের সময়ের মধ্যবর্তী সময়ই নামাজের সময়।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ইশার নামাজ তাড়াতাড়ি আদায় করা

৫২৭. জাবির ইব্ন আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যোহরের নামাজ সময়ের শুরুতে আদায় করিতেন। আসরের নামাজ সূর্য উজ্জ্বল থাকতেই আদায় করে নিতেন। সূর্যাস্তের পরেই মাগরিবের নামাজ আদায় করিতেন। ইশার নামাজ কখনও লোক একত্র হলে তাড়াতাড়ি আদায় করিতেন আবার কখনও লোক জমায়েত দেরীতে হলে বিলম্বে আদায় করিতেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

 ব্যাখ্যা

৫২৮. নু’মান ইব্ন বশীর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ইশার নামাজের ওয়াক্ত সম্পর্কে অধিক অবগত। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তৃতীয়ার চাঁদ অস্ত যাওয়ার সময় ইশার নামাজ আদায় করিতেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫২৯. নু’মান ইব্ন বশীর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আল্লাহ্‌র কসম, আমি লোকদের মধ্যে ইশার নামাজের ওয়াক্ত সম্মন্ধে অধিক অবগত। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তৃতীয়ার চাঁদ অস্ত যাওয়ার সময় ইশার নামাজ আদায় করিতেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ইশার নামাজ বিলম্বে আদায় করা মুস্তাহাব

৫৩০. সাইয়ার ইব্ন সালামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি এবং আমার পিতা আবু বারযাহ আসলামী [রাঃআঃ] -এর নিকট উপস্থিত হলাম। আমার পিতা জিজ্ঞাসা করলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফরয নামাজ কিভাবে আদায় করিতেন? তিনি বললেনঃ সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়লে যোহরের নামাজ আদায় করিতেন, যাকে তোমরা [নামাজে] উলা বল এবং আসরের নামাজ এমন সময় আদায় করিতেন যে, আমাদের কেউ মদীনার দূর প্রান্তে নিজ অবস্থানে চলে যেতে পারত , তখনও সূর্য দীপ্তিমান থাকত। বর্ণনাকারী সাইয়ার [রাঃআঃ]} বলেনঃ মাগরিব সম্মন্ধে কি বলেছিলেন আমার স্মরণ নেই। ইশার নামাজ যাকে তোমরা ‘আতামা’ বল, বিলম্বে আদায় করা তিনি পছন্দ করিতেন। ইশার পূর্বে ঘুমানো ও পরে কথা বলাকে তিনি অপছন্দ করিতেন। আর ফজরের নামাজ আদায় করে এমন সময় ফিরতেন যখন কোন ব্যক্তি তার পার্শ্ববর্তী লোককে চিনতে পারতো। তিনি ফজরের নামাজে ষাট থেকে একশত আয়াত পর্যন্ত পাঠ করিতেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৩১. ইব্ন জুরায়জ [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি আতা [রহঃ] -কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার কাছে আমার ইশার নামাজের জন্য কোন সময়টি বেশি পছন্দ — তা ঈমামরূপে আদায় করি বা একাকী? তিনি বললেনঃ আমি ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ] -কে বলিতে শুনিয়াছি, এক রাত্রে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইশার নামাজ এত বিলম্বে আদায় করিলেন যে, লোকজন ঘুমিয়ে পড়লো, আবার জাগ্রত হলো, আবার ঘুমিয়ে পড়লো, আবার জাগ্রত হলো। এমতাবস্থায় উমর [রাঃআঃ] দাঁড়িয়ে বললেনঃ নামাজ, নামাজ। আতা [রহঃ] বলেনঃ ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ] বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বের হলেন এমতাবস্থায় যে, আমি যেন এখনও দেখিতে পাচ্ছি তাহাঁর মাথা থেকে গোসলের পানি ফোঁটা ফোঁটা করে পড়ছিল এবং তাহাঁর মাথার একপাশে হাত রাখা ছিল। আতা বলেনঃ ইব্ন আব্বাস ইঙ্গিতে দেখালেন। আমি আতা [রহঃ] -কে পুনরায় জিজ্ঞাসা করলামঃ নাবী [সাঃআঃ] কিভাবে মাথায় হাত রাখলেন? তিনি আমাকে ইঙ্গিতে দেখালেন যেভাবে ইব্ন আব্বাস [রাঃআঃ] ইঙ্গিতে দেখিয়েছিলেন। আতা [রহঃ] হাতের আঙ্গুলগুলো কিছু ফাঁক ফাঁক করে মাথার উপর এমনভাবে রাখলেন যে, আঙ্গুলগুলোর পার্শ্বদেশ মাথার অগ্রভাগে পৌঁছল। তারপর আঙ্গুলগুলো একত্র করে মাথার উপর এমনভাবে ঘর্ষণ করিলেন যে, উভয় বৃদ্ধাঙ্গুলি চেহারা সংলগ্ন কানের অংশ স্পর্শ করলো। তারপর কানের পার্শ্ব ও ললাট এমনভাবে [মসেহ] করিলেন যেন কোন কাজ দ্রুত ও ধীরগতিতে করেননি, বরং তা স্বাভাবিকভাবে করিয়াছেন। তারপর বললেনঃ আমার উম্মতের উপর যদি কঠিন না হতো, তবে আমি তাহাদের আদেশ করতাম, ইশার নামাজ যেন এভাবে বিলম্ব করে আদায় করে।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৩২. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ এক রাত্রে নাবী [সাঃআঃ] ইশার নামাজে বিলম্ব করিলেন। রাতের এক অংশ চলে গেলে উমর [রাঃআঃ] দাঁড়িয়ে বলিলেন— ইয়া রসূলুল্লাহ! নামাজ। মহিলা ও ছেলেমেয়েরা সকলে ঘুমিয়ে পড়েছে। তিনি এমতাবস্থায় বের হলেন যে, পবিত্র মাথা থেকে পানির ফোঁটা পড়ছিল এবং তিনি বলছিলেন, যদি আমি আমার উম্মতের পক্ষে কষ্টকর হইবে বলে মনে না করতাম তাহলে এটাই [ইশার মুস্তাহাব] ওয়াক্ত ছিল।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৩৩. জাবির ইব্ন সামুরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইশার নামাজ বিলম্বে আদায় করিতেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৩৪. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যদি আমার উম্মতের পক্ষে কষ্টকর হইবে বলে মনে না করতাম, তাহলে আমি ইশার নামাজ বিলম্বে আদায় করার এবং প্রত্যেক নামাজের [উযূর] সময় মিসওয়াক করার জন্য আদেশ করতাম।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ইশার শেষ সময়

৫৩৫. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ এক রাতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইশার নামাজে অনেক বিলম্ব করে ফেললেন। তখন উমর [রাঃআঃ] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে সম্বোধন করে বললেনঃ স্ত্রীলোক ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [নামাজের জন্য] বের হলেন এবং বললেনঃ তোমাদের ব্যতীত আর কেউই এ নামাজের জন্য অপেক্ষা করে না। তখন মদীনা ব্যতীত কোথাও এভাবে জামায়াতে নামাজ আদায় করা হতো না। তারপর বলিলেন, তোমরা ইশার নামাজ আকাশের শফক অদৃশ্য হওয়ার পর রাত্রের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আদায় করিবে।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৩৬. উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃনাবী [সাঃআঃ] এক রাতে ইশার নামাজ এত দেরী করে আদায় করিলেন যে, রাতের অনেক অংশ চলে গেছে, আর মসজিদে মুসল্লীগন ঘুমিয়ে পড়েছে। এরপর তিনি বের হয়ে নামাজ আদায় করিলেন এবং বললেনঃ যদি আমার উম্মতের পক্ষে কষ্টকর হইবে বলে মনে না করতাম, তবে এটাই মুস্তাহাব ওয়াক্ত ছিল।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৩৭. ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ এক রাতে আমরা ইশার নামাজের জন্য রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর অপেক্ষা করছিলাম। তারপর রাতের এক-তৃতীয়াংশ বা আরও বেশি আতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেনঃ তোমরা এমন একটি নামাজের অপেক্ষা করছো যে, তোমাদের ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের অনুসারীরা তার অপেক্ষা করে না। তিনি আরও বললেনঃ আমার উম্মতের পক্ষে কঠিন না হলে এমন সময়েই আমি তাহাদের নিয়ে [ইশার নামাজ] আদায় করতাম। তারপর মুয়াযযিনকে আদেশ করিলেন, তিনি ইকামত বলিলেন। তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজ আদায় করিলেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৩৮. আবু সাঈদ খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নিয়ে মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন এবং বললেনঃ অন্যান্য লোক নামাজ আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে। তোমরা যতক্ষন পর্যন্ত নামাজের জন্য অপেক্ষা করছ, ততক্ষন পর্যন্ত তোমরা নামাজের মধ্যে আছ [বলে গন্য হইবে]। আর মুসল্লিদের মধ্যে যদি দুর্বল পীড়িত লোক না থাকতো, তবে আমি এ নামাজ অর্ধ রজনী পর্যন্ত দেরী করে আদায় করার আদেশ করতাম।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৩৯. হুমায়দ [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আনাস [রাঃআঃ] -কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, নাবী [সাঃআঃ] কি আংটি ব্যবহার করিতেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইশার নামাজ প্রায় অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্ব করে আদায় করিলেন এবং নামাজের পর নাবী [সাঃআঃ] আমাদের অভিমুখী হয়ে বললেনঃ তোমরা যতক্ষন পর্যন্ত নামাজের অপেক্ষা করিবে ততক্ষন পর্যন্ত নামাজের মধ্যেই আছ [বলে গণ্য হইবে]। আলাস [রাঃআঃ] বলেনঃ আমি ঐ সময় তাহাঁর [রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর ] আংটির উজ্জ্বলতা লক্ষ্য করছিলাম। এতে আলী ইবনি হুজর -এর হাদীসে প্রায় অর্ধ রাত্রির স্থলে অর্ধরাত পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

 ব্যাখ্যা

৫৪০. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ লোকেরা যদি আযান দেয়া ও নামাজে প্রথম কাতারে দাঁড়াবার ফযীলত জানত, আর এ ফযীলত অর্জন করার জন্য লটারী ব্যতীত অন্য কোন [বিকল্প] ব্যবস্থা না পেত তাহলে অবশ্যই তারা লটারীর সাহায্য নিত। আর যদি তারা জানত যে, প্রথম ওয়াক্তে নামাজ আদায় করার কত বেশি ফযীলত তাহলে তারা ওয়াক্তের প্রথমভাগেই নামাজে আসার ব্যাপারে একে অপরের অগ্রগামী হতো। আর তারা যদি জানত যে, আতামা ও ফজরের নামাজে কত বেশি ফযীলত, তাহলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও নামাজে উপস্থিত হতো।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ইশাকে আতামাহ বলা মাকরূহ

৫৪১. ইবনি উমর [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ বেনুঈনগণ যেন এই নামাজের নামের ব্যাপারে তোমাদের উপর প্রভাব বিস্তার করিতে না পারে। কেননা তারা উট দোহনের কারনে আতামা বা অন্ধকারে উপনীত হয় [তাই একে আতামা বলে]। প্রকৃতপক্ষে এটি ইশা।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৪২. ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে মিম্বরে [বসে] বলিতে শুনিয়াছি যে, বেদুঈনগন যেন নামাজের নামের ব্যাপারে তোমাদের উপর প্রভাব বিস্তার না করে। জেনে রেখো, এটি ইশা।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ফজরের প্রথম ওয়াক্ত

৫৪৩. মুহাম্মদ ইবনি আলী ইবনি হুসায়ন [রহঃ] হইতে বর্ণীত

জাবির ইবনি আব্দুল্লাহ [রাঃআঃ] বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফজরের নামাজ আদায় করিতেন, যখন ফজর তাহাঁর কাছে সুস্পষ্ট হয়ে উঠত।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৪৪. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

এক ব্যাক্তি নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে ফজরের নামাজের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিলেন। পরবর্তী দিন প্রভাত হওয়ার পরই তিনি ফজরের প্রথম ওয়াক্তে ইকামত দেয়ার জন্য আদেশ করিলেন এবং আমাদের নিয়ে নামাজ আদায় করিলেন।পরদিন ঊষা ফর্সা হওয়ার পর নামাজের ইকামত বলার জন্য আদেশ করিলেন। নামাজের ইকামত বলা হলো এবং তিনি আমাদেরকে নিয়ে নামাজ আদায় করিলেন। তারপর বললেনঃ নামাজের সময় সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? এ দুই ওয়াক্তের মধ্যখানেই নামাজের সময়।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ আবাসে অন্ধকারে ফজরের নামাজ আদায় করা

৫৪৫. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এমন সময় ফজরের নামাজ আদায় করিতেন যে, মহিলাগন চাদর আবৃত অবস্থায় বাড়ি ফিরে যেতেন অথচ অন্ধকারের কারনে তাহাদের চেনা যেত না।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৪৬. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ মহিলাগন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সঙ্গে চাদর পরিহিত অবস্থায় ফজরের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফিরতেন আর অন্ধকারের কারনে তাঁদের কেউ চিনতে পারত না।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ সফরের ফজরের নামাজ অন্ধকারে আদায় করা

৫৪৭. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খায়বার যুদ্ধের দিন অন্ধকারে ফজরের নামাজ আদায় করিলেন আর তখন তিনি খায়বারবাসীদের নিকটবর্তী ছিলেন। ফজরের পর তাহাদের উপর আক্রমন করিলেন এবং বললেনঃ আল্লাহু আকবর, খায়বার ধ্বংস হোক, এটি দুবার বললেনঃ আরো বললেনঃ “যখন আমরা কোন সম্প্রদায়ের আঙ্গিনায় [আক্রমন পরিচালনার উদ্দেশ্যে] অবতরন করি তখন সতর্কীকৃতদের প্রভাত কতই না মন্দ হয়!”

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ফর্সা হওয়ার পর ফজরের নামাজ আদায় করা

৫৪৮. রাফি ইবনি খাদীজ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ তোমরা ফজরের নামাজ ফর্সা হলে পড়বে।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

৫৪৯. মাহমূদ ইবনি লবীদ [রহঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ফজরের নামাজ যতই ফর্সা হওয়ার পর আদায় করিবে, ততই তোমাদের অধিক সওয়াবের কারন হইবে।{১}

{১} হাদীসে ফজরের নামাজ অন্ধকারে এবং ফর্সা হওয়ার পর আদায় করা সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে। ঈমাম তাহাবী [রহঃ] এ ধরনের হাদিসের মধ্যে এভাবে সমন্বয় সাধন করেন যে, অন্ধকারে ফজরের নামাজ শুরু করিবে এবং এবং শেষ করিবে ভোর ফর্সা হলে। ঈমাম বায়হাকী [রহঃ] হযরত মুআয [রাঃআঃ] সূত্রে বর্ণনা করেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাঁকে ফজরের নামাজ শীতকালে সকালে এবং গ্রীষ্মকালে বিলম্বে পড়তে বলেছিলেন। এ হাদিসের অনুসরন করা হলে হাদিসের একটা মীমাংসা হয়ে যায়।নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি ফজরের এক রাকআত পেল

৫৫০. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের নামাজের এক রাকআত পেল, সে ফজরের নামাজ পেল এবং যে সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের নামাজের এক রাকআত পেল, সে আসরের নামাজ পেল।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৫১. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের এক রাকআত পেল, সে ফজরের নামাজ পেল এবং যে সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকআত পেল, সে আসরের নামাজ পেল।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ফজরের শেষ ওয়াক্ত

৫৫২. আনাস ইবনি মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন সূর্য ঢলে পড়তো তখন যোহরের নামাজ আদায় করিতেন এবং আসরের নামাজ আদায় করিতেন তোমাদের যোহর ও আসর উভয় নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে [অর্থাৎ আসরের নামাজ প্রথম ওয়াক্তে আদায় করিতেন]। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ আদায় করিতেন। আর ইশার নামাজ সূর্যাস্তের পর আকাশের শফক অদৃশ্য হলে আদায় করিতেন। এরপর তিনি আবার বললেনঃ আর যখন দৃষ্টি বিস্তৃত হতো [অর্থাৎ ফর্সা হওয়ার কারনে দূর পর্যন্ত দেখা যেত] তখন ফজরের নামাজ আদায় করিতেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি নামাজের এক রাকআত পেল

৫৫৩. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নামাজের এক রাকআত পেল, সে নামাজ পেল।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৫৪. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নামাজের এক রাকআত পেল, সে নামাজ পেল।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৫৫. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন নামাজের এক রাকআত পেল, সে ঐ নামাজ পেল [অর্থাৎ সে জামাআতের সওয়াব পেল]।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৫৬. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন নামাজের এক রাকআত পেল, সে ঐ নামাজ পেল।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৫৭. সালিম [রহঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমআ বা অন্য কোন নামাজের এক রাকআত পেল, তার নামাজ পূর্ণ হয়ে গেল [অর্থাৎ সে জামায়াতের সওয়াব পেল]।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৫৮. সালিম [রহঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন নামাজের এক রাকআত পেল, সে ঐ নামাজ পেল; তবে [উক্ত নামাজের] যতটুকু ছুটে গেছে ততটুকু আদায় করিবে।

নামাজের ওয়াক্তনামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ লিগাইরিহি

পরিচ্ছেদঃ নামাজের নিষিদ্ধ ওয়াক্তসমূহ

৫৫৯. আবদুল্লাহ সুনাবিহী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, সূর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্য দিয়ে উদিত হয়। যখন সূর্য উপরে উঠে, তখন শয়তান তা থেকে দূরে সরে যায়। আবার যখন সূর্য মাথার উপরে আসে, তখন শয়তান এসে মিলিত হয়। আবার ঢলে পড়লে পৃথক হয়ে যায়। আবার যখন সূর্য অস্তগমনের নিকটবর্তী হয়, তখন শয়তান মিলিত হয় এবং যখন সূর্য অস্তমিত হয়, তখন শয়তান সরে যায়। এ জন্যই রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ তিন সময় নামাজ আদায় করিতে নিষেধ করিয়াছেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

৫৬০. উকবা ইবনি আমির জুহানী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ তিনটি সময় রাসুলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] আমাদের নামাজ আদায় করিতে ও মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থ করিতে নিষেধ করেছেনঃ [১] যখন সূর্য আলোকিত হয়ে উদয় হয়, যাবৎ না ঊর্ধাকাশে উঠে; [২] যখন দ্বিপ্রহর হয়, যাবৎ না সূর্য হেলে পড়ে আর [৩] যখন সূর্য অস্ত যাওয়ার উপক্রম হয়, যাবৎ না সম্পূর্ণ অস্ত যায়।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ফজরের নামাজের পর অন্য কোন নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ

৫৬১. আবু হূরায়রা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] আসরের পর সূর্যাস্ত না যাওয়া পর্যন্ত এবং ফজরের পর সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত নামাজ আদায় করিতে নিষেধ করিয়াছেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৬২. ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি নাবী [সাঃআঃ] এর একাধিক সাহাবীর নিকট শুনিয়াছি, তাহাদের মধ্য উমর [রাঃআঃ] অন্যতম। তিনি আমার অধিক প্রিয় ছিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফজরের পর সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত নামাজ আদায় করিতে নিষেধ করিয়াছেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ সূর্যোদয়ের সময় নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ

৫৬৩. ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় নামাজ আদায়ের ইচ্ছা না করে।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৬৪. ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সূর্যোদয়ের এবং সূর্যাস্তের সময় নামাজ আদায় করিতে নিষেধ করিয়াছেন। {১}

{১} কোন কারনবশত কেউ যদি আসরের নামাজ যথাসময়ে আদায় করিতে অপারগ হয়, তাহলে ঐ ব্যক্তির জন্য ঐ দিনের আসরের নামাজ [ক্বাযা না করে] সূর্যাস্তের সময়ও আদায় করা জায়েজ।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ দ্বিপ্রহরে নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ

৫৬৫. উকরা ইবনি আমির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তিনটি সময়ে আমাদেরকে নামাজ আদায় ও মৃত ব্যক্তিকে দাফন করিতে নিষেধ করেছেনঃ [১] যখন সূর্য উদয় আরম্ভ হয়, তখন থেকে সূর্য উপরে উঠা পর্যন্ত; [২] ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়, পশ্চিম আকাশে সূর্য ঢলে না পড়া পর্যন্ত এবং [৩] যখন সূর্য অস্তমিত হওয়ার উপক্রম হয়, তখন থেকে সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ আসরের পর নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ

৫৬৬. আবু সাঈদ খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফজরের পর সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর সুর্যাস্ত না যাওয়া পর্যন্ত নামাজ আদায় করিতে নিষেধ করিয়াছেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৬৭. আবু সাঈদ খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনিয়াছি, ফজরের পর সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত কোন নামাজ নেই। {১}

{১} ঐ সময় ক্বাযা নামাজ আদায় করা জায়েয। এ হাদীসে নফল নামাজ আদায় করিতে নিষেধ করা হয়েছে। সুনানু নাসাঈ [১ম খণ্ড]—–৩৪

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৬৮. আবু সাঈদ খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

[সাঃআঃ] এর থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

৫৬৯

ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] আসরের পর নামাজ আদায় করিতে নিষেধ করিয়াছেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৭০. তাঊস [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আয়িশাহ [রাঃআঃ] বলেছেনঃ উমর[রাঃআঃ] -এর ভুল হয়ে গেছে {উমর [রাঃআঃ] হাদিসের কিছু অংশ ভুলবশত ছেড়ে দিয়েছেন এবং তিনি আসরের দুরাকআত পড়তে নিষেধ করিয়াছেন}। অথচ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিষেধ করে বলেছেনঃ তোমরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় নামাজ আদায়ের ইচ্ছা করিবে না। কেননা সূর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়ে উদিত হয়।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৭১. ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন যখন সূর্যের উপরিভাগ উদিত হয়, তখন পূর্ণ আলোকিত না হওয়া পর্যন্ত নামাজ আদায় করিবে না এবং যখন সূর্যের এক পার্শ্ব অস্তমিত হয়, তখন পূর্ণ অস্ত না হওয়া পর্যন্ত নামাজ আদায় করা থেকে বিরত থাকিবে।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৭২. আমর ইবনি আবাসা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রসূলুল্লাহ! এমন কোন সময় আছে কি, যে সময় অন্য সময়ের তুলনায় আল্লাহ্‌ তাআলার নৈকট্যলাভের বেশি উপযোগী? অথবা এমন কোন মুহূর্ত আছে কি, সেই সময়ের যিক্‌র কাম্য? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, রাতের শেষার্ধে আল্লাহ্‌ তাআলা বান্দার অতি নিকটবর্তী হন। সক্ষম হলে তুমিও সে মুহূর্তে আল্লাহ্‌র যিকিরকারীদের অন্তর্ভুক্ত হইবে। কারন ঐ মুহূর্তের নামাজে ফেরেশতাগণ শামিল থাকেন এবং প্রত্যক্ষ করেন, আর এ অবস্থা সূর্যোদয় পর্যন্ত থাকে। সূর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়ে উদিত হয়, আর তা কাফিরদের ইবাদতের সময়। কাজেই ঐ সময় নামাজ আদায় করা থেকে বিরত থাকিবে, যতক্ষণ না এক বল্লম বরাবর সূর্য উপরে উঠে এবং তার উদয়কালীন আলোকরশ্মি দূরীভূত হয়। আবার যোহরের নামাজে ফেরেশতাগণ শামিল হন এবং প্রত্যক্ষ করেন। দ্বিপ্রহরের সূর্য বর্শার মত সোজা না হওয়া পর্যন্ত। কেননা তা এমন একটি সময় যে সময়ে জাহান্নামের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং আরো প্রজ্জলিত করা হয়। তখন ছায়া ঝুকে না পড়া পর্যন্ত নামাজ আদায় করিবে না। আবার আসরের নামাজে ফেরেশতাগণ শামিল হন এবং প্রত্যক্ষ করেন যাবৎ না সূর্য অস্ত যায়। কেননা সূর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখানে অস্ত যায় আর তা কাফিরদের ইবাদতের সময়।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ আসরের পর নামাজের অনুমতি

৫৭৩. আলী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আসরের পর নামাজ আদায় করিতে নিষেধ করিয়াছেন। তবে হ্যাঁ, যতক্ষণ পর্যন্ত সূর্য ঊর্ধ্বাকাশে শুভ্র ও উজ্জ্বল থাকে [ততক্ষণ ক্বাযা নামাজ আদায় করা যায়]

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৭৪. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আমার কাছে থাকা অবস্থায় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আসরের পর দুই রাকআত নামাজ কখনও ত্যাগ কেন নি। {১}

{১} যেহেতু অন্য হাদীসে আসরের পর নামাজ আদায় করিতে নিষেধ করা হয়েছে, তাই এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একবার কোন কারনবশত যোহরের পর দুরাকআত নামাজ আদায় করিতে পারেন নি। তিনি আসরের পর সে দুরাকআত আদায় করেন। পরে তার অভ্যাস অনুযায়ী সে দুরাকআত নিয়মিত আদায় করিতে থাকেন। এটা তার জন্য খাস ছিল। এ মর্মে আবু দাঊদ শরীফে আয়িশাহ [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে বলা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিজে আসরের পর নামাজ আদায় করিতেন কিন্তু অন্যদেরকে এ সময়ে নামাজ আদায় করিতে নিষেধ করিয়াছেন। তিনি বিরতিহীন সিয়াম পালন করিতেন কিন্তু অন্যদেরকে এরূপ সিয়াম পালন করিতে নিষেধ করিয়াছেন।নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৭৫. আসওয়াদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ আয়িশাহ [রাঃআঃ] বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আসরের পর যখনই আমার কাছে আসতেন, দুরাকআত নামাজ আদায় করিতেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

৫৭৬. আবু ইসহাক [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃআমি মাসরূক ও আসওয়াদ-কে বলিতে শুনিয়াছিঃআমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আয়িশাহ [রাঃআঃ] বলেছেনঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আসরের পর যখন আমার নিকট আসতেন, দু‌রাক‌আত নামাজ আদায় করিতেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৭৭. আয়িশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার গৃহাভ্যন্তরে এবং গৃহের বাইরে কখনও দু নামাজ ত্যাগ করেন নি। [১] ফজরের পূর্বে দু রাকআত এবং [২] আসরের পর দুরাকআত।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৭৮. আবু সালামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আসরের পরে যে দুরাকআত নামাজ আদায় করিতেন, তিনি সে বিষয়ে আয়িশাহ [রাঃআঃ] -কে জিজ্ঞাসা করিলেন। তদুত্তরে তিনি বলিলেনঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ দুরাকআত আসরের পূর্বেই আদায় করিতেন। একদা তিনি সে দুরাকআত নামাজ আসরের পূর্বে আদায় করিতে পারলেন না অতি ব্যস্ততা বা ভুলে যাওয়ার কারণে, তাই তিনি আসরের পর দুরাকআত আদায় করিলেন [তারপর তেকে তিনি দুরাকআত নামাজ আসরের পর আদায় করিতেন]। কারণ তিনি কোন নামাজ একবার আদায় করলে তা নিয়মিত আদায় করিতেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৭৯. উম্মে সালামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] একদা তাহাঁর ঘরে আসরের পর দুরাকআত নামাজ আদায় করিলেন। এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলিলেনঃএ দুরাকআত নামাজ আমি যোহরের পর আদায় করতাম কিন্তু আমি আসরের নামাজ আদায় করা পর্যন্ত কর্মব্যস্ততার দরুণ সে দুরাকআত আদায় করিতে পারিনি।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৮০. উম্মে সালামা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃ[একদা] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কর্মব্যস্ততার দরুণ আসরের পূর্বে দুরাকআত নামাজ আদায় করিতে পারলেন না। ফলে তা আসরের পর আদায় করিলেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

পরিচ্ছেদঃ সূর্যাস্তের পূর্বে নামাজআদায় করার অনুমতি

৫৮১. ইমরান ইবনি হুদায়র [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃসূর্যাস্তের পূর্বে দুরাকআত আদায় করা সম্বন্ধে আমি লাহিক্ [ইবনি হুমায়দ সাদুসী] [রহঃ] -কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বলিলেন, আবদুল্লাহ ইবনি যুবায়র [রাঃআঃ] তা আদায় করিতেন। তখন মুয়াবিয়া [রাঃআঃ] আবদুল্লাহ ইবনি যুবায়র [রাঃআঃ] -এর নিকট পত্র পাঠালেন যে, সূর্যাস্তের পূর্বে এ দুরাকআত কিসের নামাজ? ইবনি যুবায়র [রাঃআঃ] উম্মে সালামা [রাঃআঃ] -এর শরণাপন্ন হলেন। উম্মে সালামা [রাঃআঃ] বলিলেনঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এ দুরাকআত আসরের পূর্বে আদায় করিতেন। একদিন কর্মব্যস্ততার দরুন আদায় করিতে পারলেন না বলে সূর্যাস্তের সময় তা আদায় করিলেন। আমি এর আগে বা পরে কখনও রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে তা আদায় করিতে দেখিনি।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মাগরিবের পূর্বে নামাজের অনুমতি

৫৮২. ইয়াযীদ ইবনি আবু হাবীব [রহঃ] হইতে বর্ণীত

আবুল খায়র তাহাঁর কাছে বর্ণনা করিয়াছেন যে, আবু তামীম জায়শানী [রাঃআঃ] একদা মাগরিবের পূর্বে দুরাকআত নফল নামাজ আদায় করিতে দাঁড়ালেন, তখন আমি উকবা ইবনি আমির [রাঃআঃ] -কে বললামঃদেখুন! ইনি কিসের নামাজ আদায় করছেন? তিনি ফিরে তাঁকে দেখলেন এবং বলিলেনঃআমরা এ নামাজ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর যুগে আদায় করতাম।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ফজরের প্রকাশের পর নামাজ

৫৮৩. হাফসা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফজর উদ্ভাসিত হওয়ার পর সংক্ষেপে [ফরযের পূর্বে] মাত্র দুরাকআত নামাজ আদায় করিতেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ ফজরের পূর্ব পর্যন্ত নফল নামাজের অনুমতি

৫৮৪ ঃআমর ইবনি আবাসা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃআমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নিকট এসে বললাম, ইয়া রসূলুল্লাহ! আপনার উপর কে ঈমান এনেছিলেন? উত্তরে বলিলেন, একজন আযাদ পুরুষ আর একজন ক্রীতদাস {আবু বকর ও বিলাল [রাঃআঃ]}। জিজ্ঞাসা করলামঃএমন কোন সময় আছে কি যাতে অন্য সময়ের তুলনায় আল্লাহ্ পাকের অধিক নৈকট্য লাভ করা যায়? উত্তরে বলিলেনঃহ্যাঁ! রাত্রের শেষার্ধে, ফজর পড়ার পূর্ব পর্যন্ত যা মনে চায়, পড়। তারপর সূর্যোদয় হওয়া এবং লালিমা কেটে রৌদ্র প্রখর না হওয়া পর্যন্ত বিরত থাকিবে। [রাবী] আইয়্যূব বলেনঃযতক্ষণ সূর্যকে ঢালের মত মনে হয় এবং সূর্যের কিরণ ছড়িয়ে না পড়ে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিরত থাকিবে। তারপর খুঁটি তার মূল ছায়ার উপর অবস্থান না করা পর্যন্ত [দ্বি-প্রহরের পূর্ব পর্যন্ত] যা মনে চায়, আদায় কর। তারপর সূর্য না হেলা পর্যন্ত বিরত থাক। কেননা দ্বি-প্রহরে জাহান্নামের অগ্নি অধিক প্রজ্জ্বলিত করা হয়। তারপর আসরের পূর্ব পর্যন্ত যা মনে চায়, আদায় কর। আবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিরত থাক। কেননা সূর্যের অস্ত এবং উদয় উভয়ই শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়ে হয়।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মক্কা নগরীতে সকল সময় নামাজের অনুমতি

৫৮৫ ঃজুবায়র ইবনি মুতইম [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃহে আবদে মানাফের বংশধরগণ! এ ঘরের [বায়তুল্লাহ] তাওয়াফ এবং এতে নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে রাত বা দিনের যে কোন মুহূর্তে কেউ এতে প্রবেশ করিতে চাইলে তাকে তোমরা বাধা দেবে না।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ যে সময় মুসাফির যোহর ও আসরের নামাজ একত্রে আদায় করিবে

৫৮৬ : আনাস ইবনি মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দ্বি-প্রহরের পূর্বে সফরে রওয়ানা হলে আসর পর্যন্ত যোহরের নামাজকে বিলম্বিত করিতেন। তারপর অবতরণ করে উভয় নামাজ একত্রে আদায় করিতেন। দ্বি-প্রহরের পর রওয়ানা হলে যোহরের নামাজ আদায় করে আরোহণ করিতেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৮৭ : আবু তুফায়ল আমির ইবনি ওয়াসিলা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

মুআয ইবনি জাবাল [রাঃআঃ] তাঁকে বলেছেন যে, তাবূকের যুদ্ধে সাহাবায়ে কিরাম [রাঃআঃ] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সাথে রওয়ানা হলেন। পরে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যোহর এবং আসরের নামাজ একত্রে আদায় করিলেন। আবার মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করিলেন। একদিন যোহরের নামাজকে বিলম্বিত করে বের হলেন। তারপর যোহর ও আসর একত্রে আদায় করিলেন। তারপর ভিতরে প্রবেশ করিলেন। তারপর বের হলেন এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করিলেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ এর বিবরণ

৫৮৮ : কাছীর ইবনি ক্বারাওয়ান্দা [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃআমি সালিম ইবনি আবদুল্লাহ [রহঃ] -কে তাহাঁর পিতার সফরের নামাজ সম্বন্ধে জানতে চাইলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি সফরে দু ওয়াক্তের নামাজ একত্রে আদায় করিতেন কি? তখন সালিম [রহঃ] এই ঘটনা উল্লেখ করিলেন যে, সফিয়্যা বিনত আবু উবায়দ [রাঃআঃ] তাহাঁর [আবদুল্লাহর] সহধর্মিনী ছিলেন। সফিয়্যা অসুস্থ হয়ে আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] -এর নিকট পত্র লিখলেন। তখন আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] তাহাঁর দূরবর্তী যমীনে কৃষিকাজ করছিলেন। পত্রে লিখলেন যে, আমি মনে করি আমার পার্থিব জীবনের শেষ দিনে এবং আখিরাতের প্রথম দিনে উপনীত হয়েছি। সংবাদ পাওয়ামাত্রই তিনি অশ্বারোহণ করে দ্রুতগতিতে আসতে লাগলেন। যখন যোহরের নামাজের সময় হলো, মুয়াযযিন বলিল, হে আবু আবদুর রহমান! নামাজ। তিনি ভ্রুক্ষেপ না করে চলতে লাগলেন। যখন দুই নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে উপনীত হলো, [অর্থাৎ যোহরের শেষ ওয়াক্ত আসরের প্রথম ওয়াক্ত] তখন অবতরণ করিলেন এবং বলিলেন, ইকামত দাও। যখন আমি নামাজ সমাপ্ত করি তখন আবার ইকামত দিবে। তারপর নামাজ আদায় করে আরোহণ করলাম। আবার যখন সূর্যাস্ত গেল, মুয়াযযিন তাঁকে বলিলেন, নামাজ। তিনি বলিলেন, ঐরূপ আমল কর যেরূপ যোহর ও আসরের নামাজে করেছিলে। আবার পথ চললেন। তারপর যখন সমুজ্জ্বল তারকা আকাশে উদ্ভাসিত হলো, তখন অবতরণ করে মুয়াযযিনকে বলিলেন, ইকামত বল। যখন নামাজ সমাপ্ত করি তখন আবার ইকামত বলবে। এবার নামাজ আদায় করে তাহাদের দিকে ফিরলেন এবং বলিলেনঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলছেনঃযখন তোমাদের কারও সামনে এমন কোন জটিল কাজ দেখা দিবে যা ফওত হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকিবে, তখন এভাবে দু ওয়াক্তের নামাজ একত্রে আদায় করে নেবে।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদঃ যে ওয়াক্তে মুকীম দুই নামাজ একত্রে আদায় করিতে পারে

৫৮৯ : ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃআমি মদীনায় নাবী [সাঃআঃ] -এর সঙ্গে আট রাকআত একত্রে এবং সাত রাকআত একত্রে এভাবে আদায় করেছি যে, তিনি যোহরকে শেষ ওয়াক্তে ও আসরকে প্রথম ওয়াক্তে, আবার মাগরিবকে শেষ ওয়াক্তে ও ইশাকে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করিলেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

৫৯০ : ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বসরায় যোহর এবং আসর একত্রে আদায় করেন। তাকে কোন সময়ের ব্যবধান ছিল না আর মাগরিব ও ইশাও একত্রে আদায় করিলেন, তাতেও কোন ব্যবধান ছিল না। কর্মব্যস্ততার কারণেই তিনি এরূপ করেছিলেন। আর ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] বলেন যে, তিনি মদীনায় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সাথে যোহর ও আসর একত্রে আট রাকআত আদায় করিয়াছেন। দুই নামাজের মধ্যে সময়ের কোন ব্যবধান ছিল না।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ যে ওয়াক্তে মুসাফির মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করিতে পারে

৫৯১ : ইসমাঈল ইবনি আবদুর রহমান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃআমি হিমা{১} পর্যন্ত ইবনি উমর [রাঃআঃ] -এর সঙ্গে ছিলাম। যখন সূর্য ডুবে গেল, আমি তাঁকে নামাজের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে সাহস পেলাম না। তিনি চলতে চলতে যখন আকাশ দিগন্তে শুভ্র রেখা অদৃশ্য হওয়ার নিকটবর্তী হল এবং রাতের প্রথমাংশের অন্ধকার অর্থাৎ শফক অদৃশ্য হওয়ার উপক্রম হলো, তখন অবতরণ করে মাগরিবের তিন রাকআত এবং তার সাথে আরও দুরাকআত আদায় করিলেন। তারপর বলিলেনঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে আমি এভাবেই আদায় করিতে দেখেছি।

{১} সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত ভূমিকে হিমা বলা হয়; মদীনায় নিকটবর্তী একটি স্থান। নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৯২ : আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃআমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে দেখেছি যে, যখন কোন সফরে তাহাঁর ত্বরা থাকত তখন মাগরিবের নামাজ এভাবে বিলম্বে আদায় করিতেন যে, মাগরিব ও ইশাকে একত্রিত করে ফেলতেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৯৩ : জাবির [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃসূর্য অস্তমিত হলো এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তখন মক্কাতেই ছিলেন। তারপর সারিফ নামক স্থানে তিনি [মাগরিব ও ইশা] দুই নামাজ একত্রে আদায় করিলেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৫৯৪ : আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন সফরে থাকতেন, তখন যোহরের নামাজ আসর পর্যন্ত বিলম্ব করিতেন। তারপর উভয়কে একত্রে আদায় করিতেন এবং মাগরিবকে বিলম্ব করে মাগরিব ও ইশাকে একত্রে আদায় করিতেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৯৫ : নাফি [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃআবদুল্লাহ ইবনি উমরের কিছু জমি ছিল। সেখানে কৃষিকাজের উদ্দেশ্যে আমি আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাঃআঃ] -এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম ও সেখানে পৌছার পরে হঠাৎ একদিন এক সংবাদদাতা বললো যে, আপনার স্ত্রী সফিয়্যা বিনত আবু উবায়দ [রাঃআঃ] মুমূর্ষু অবস্থায়, দেখিতে চাইলে যেতে পারেন। তারপর তিনি দ্রুতবেগে চললেন। এক কুরায়শী ব্যক্তি সফরসংগী ছিলেন। সূর্য অস্তমিত হলেও কিন্তু মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন না। আমি তাঁকে যতদিন ধরে জানি, যথাসময়ে নামাজ আদায়ে যত্নবান থাকতেন। এরপরও যখন দেরী করছেন, তখন আমি বললামঃনামাজ, আল্লাহপাক আপনাকে রহম করুন। তিনি আমার দিকে তাকালেন এবং চলতে লাগলেন। এ অবস্থায় যখন পশ্চিম আকাশের লালিমা প্রায় অদৃশ্য হলো, তখন মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন। এরপর ইশার ইকামত বলে আমাদের সহ ইশা্র নামাজ আদায় করিলেন। তারপর আমাদের দিকে লক্ষ্য করে বলিলেনঃযখন সফরে কোন ত্বরা থাকত, তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এরূপ করিতেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৯৬ : নাফি [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃআমরা ইবনি উমর [রাঃআঃ] -এর সঙ্গে মক্কা হইতে আসছিলাম। যখন ঐ রাত হলো [তাহাঁর স্ত্রীর মুমূর্ষতার সংবাদ পাওয়ার রাত] তিনি আমাদের নিয়ে দ্রুত চললেন। যখন সন্ধ্যা হলো, আমরা ধারণা করলাম, তিনি নামাজের কথা ভুলে গেছেন, এজন্য আমরা তাঁকে নামাজের কথা স্মরণ করিয়ে দিলাম। তিনি চুপ রইলেন এবং আরও অগ্রসর হলেন। তারপর আকাশের লালিমা অদৃশ্য হওয়ার উপক্রম হলে অবতরণ করে মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন। আবার যখন শফক অদৃশ্য হয়ে গেল তখন তিনি ইশার নামাজ আদায় করিলেন। তারপর আমাদের লক্ষ্য করে বলিলেন ঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সঙ্গে যখন সফরে তাহাঁর কোন ত্বরা থাকত, তখন আমরা এরূপ করতাম।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৯৭ : কাছীর ইবনি কারাওয়ান্দা [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃআমরা সফরে নামাজ সম্বন্ধে সালিম ইবনি আবদুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, আপনার পিতা আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] সফরে একাধিক নামাজ একত্রে আদায় করিয়াছেন কি? উত্তরে বলিলেন ঃনা, মুযদালাফা ব্যতীত আর কোথাও একত্রে আদায় করেননি। পুনরায় সতর্ক হয়ে ঘটনার উল্লেখ করে বলিলেন ঃসাফিয়্যা [রাঃআঃ] আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] -এর স্ত্রী ছিলেন। সাফিয়্যা [রাঃআঃ] তাহাঁর নিকট খবর পাঠালেন যে, আমি পার্থিব জীবনের শেষ দিনে এবং আখিরাতের প্রথম দিনে উপনীত হয়েছি। সংবাদ পাওয়া মাত্রই তিনি আরোহণ করিলেন, আমিও তাহাঁর সঙ্গে ছিলাম। তিনি অত্যন্ত দ্রুতবেগে চললেন। পরে যখন নামাজের সময় হলো, মুয়ায্‌যিন বলিলেন, হে আবদুর রহমান! নামাজ। তিনি চলতে লাগলেন। তারপর দুই নামাজের মাঝামাঝি সময়ে উপনীত হলেন, তখন অবতরণ করে মুয়ায্‌যিনকে বলিলেন ঃইকামত বল। যখন যোহরের নামাজ আদায় সমাপ্ত করি তখন আবার সেখানে দাঁড়িয়েই ইকামত বলবে। ইকামত বলা হলে যোহরের দুরাকাআত আদায় করিলেন। আবার সেখানেই ইকামত দিলে আসরের দুরাকাআত আদায় করে আরোহণ করিলেন এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দ্রুত চললেন। আবার মুয়ায্‌যিন বলিলেন, হে আবদুর রহমান! নামাজ। তিনি বলিলেন ঃপূর্বের মতই কাজ কর, এই বলে চলতে লাগলেন। তারপর যখন আমাশে তারকারাশি ছেয়ে গেল, তখন অবতরণ করেন এবং ইকামতের আদেশ দিলেন। বলিলেন ঃযখন সালাম ফিরাব, আবার ইকামত বলবে। তারপর মাগরিবের তিন রাকাআত আদায় করিলেন। তারপর সেখানেই ইকামত বলে ইশার নামাজ আদায় করিলেন। তারপর একদিকে সালাম ফিরিয়ে বলিলেন, রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন ঃযখন তোমাদের কারও সামনে এমন কোন কাজ দেখা দেয়, যা ফওত হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে, এভাবেই নামাজ আদায় করে নেবে।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদঃ যে অবস্থায় দুনামাজ একত্রে আদায় করা যায়

৫৯৮ : ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে যখন কোথাও সফরে দ্রুত চলতে হতো, তখন মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করে নিতেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৫৯৯ : ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে যখন কোথাও সফরে দ্রুত চলতে হতো, অথবা তাহাঁর সামনে কোন জটিল কাজ উপস্থিত হতো, তখন তিনি মারগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করে নিতেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

৬০০. আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃআমি নাবী [সাঃআঃ] কে দেখেছি, যখন তাঁকে সফরে দ্রুত চলতে হতো, তখন তিনি মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করিতেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ আবাসে দুই নামাজ একত্রে আদায় করা

৬০১. ইবন্‌ আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যোহর ও আসর একত্রে আদায় করিয়াছেন এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করিয়াছেন। তখন সফররত অবস্থায়ও ছিলেন না এবং তাহাঁর মধ্যে কোন ভয়-ভীতিও ছিলনা। {১}

{১} রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যোহরের নামাজ শেষ সময়ে এবং আসরের নামাজ তার প্রথম সময়ে আদায় করেছিলেন। এমনিভাবে মাগরিবের শেষ সময়ে ও ইশার প্রথম ওয়াক্তে আদায় করেছিলেন। যাতে সফরের সময়ে, ব্যাধিগ্রস্থাবস্থায় এবং অতি ব্যস্ততার সময়ে তাহাঁর উম্মতগণ এভাবে নামাজ আদায় করিতে পারে। এটা দৃশ্যত দুই নামাজকে একত্রে আদায় করা বুঝালেও মূলত পৃথক দুই ওয়াক্তেই দুই নামাজ আদায় করা হয়েছিল।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৬০২. ইবন্‌ আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] মদীনায় যোহর ও আসর একত্রে আদায় করিতেন এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করিতেন। তখন কোন ভয়ও ছিলনা বা বৃষ্টিও ছিলনা। ইবন্‌ আব্বাস [রাঃআঃ]-কে জিজ্ঞাসা করা হল, তিনি কেন এরূপ করিতেন? {ইবন্‌ আব্বাস [রাঃআঃ] বলিলেন} তাহাঁর উম্মতের যেন অসুবিধা না হয়।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

৬০৩. ইবন্‌ আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃআমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর পেছনে একত্রে আট রাকাআত আদায় করেছি এবং সাত রাকাআতও। {২}

{২} আট রাকাআত বলিতে যোহর ও আসর এবং সাত রাকাআত বলিতে মাগরিব ও ইশাকে বুঝানো হয়েছে।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ আরাফাতে যোহর ও আসর একত্রে আদায় করা

৬০৪. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সফর করে যখন আরাফাতে আসলেন এবং নামিরা নামক স্থানে তাহাঁর জন্য একটি নির্দিষ্ট তাবু খাটানো হয়েছে দেখিতে পেলেন, তখন তিনি সেখানে অবতরণ করিলেন। যখন সূর্য ঢলে পড়লো তখন তখন তাহাঁর নির্দেশে কাসওয়া নামক উষ্ট্রীর পিঠে হাওদা লাগানো হলো। তারপর যখন বাতনুল ওয়াদী -তে পৌঁছালেন, সমবেত লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তারপর বিলাল [রাঃআঃ] আযান ও ইকামত বলিলেন। তিনি যোহরের নামাজ আদায় করিলেন, পুনরায় ইকামত বলার পর আসর আদায় করিলেন এবং এই দুই নামাজের মধ্যে আর কোন নামাজ আদায় করেন নি।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করা

৬০৫. আবদুল্লাহ ইবনি ইয়াযীদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

আবু আইয়্যূব আনসারী [রাঃআঃ] তাঁকে জানান যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সঙ্গে তিনি বিদায় হজ্জে মু্যদালিফায় মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করিয়াছেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৬০৬. সাঈদ ইবনি জুবায়র[রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃইবনি উমর [রাঃআঃ] যখন আরাফাত হইতে মুযদালিফার দিকে রওয়ানা করেন, তখন আমি তাহাঁর সঙ্গে ছিলাম। মুযদালিফায় এসে তিনি মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করিলেন। নামাজ সমাপ্ত করে বলিলেন ঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এই স্থানে এইরূপ করিয়াছেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৬০৭. ইবনি উমর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] মুযদালিফাতে মাগরিব ও ইশা [একত্রে] আদায় করিয়াছেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৬০৮. আবদুল্লাহ [ইবনি মাসঊদ] [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃআমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে মুযদালিফা ব্যতীত আর কোথাও এই দুই নামাজ একত্রে আদায় করিতে দেখিনি। {রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আরাফাতে এবং সফরে, এমনকি মদীনাতেও যে দুই নামাজ একত্রে আদায় করেছিলেন, সে সম্বন্ধে আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] তখনও অবগত ছিলেন না} এবং ঐ দিন ফজরের নামাজ স্বাভাবিক সময়ের পূর্বেই আদায় করেছিলেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ দুই নামাজ একত্রে আদায় করার পদ্ধতি

৬০৯. উসামা ইবনি যায়দ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] তাঁকে আরাফাত হইতে উষ্ট্রীর পিঠে তাহাঁর পেছনে বসিয়ে ছিলেন। শিবে পৌঁছে তিনি অবতরণ করিলেন। তারপর পেশাব করিলেন। আমি পাত্র হইতে তাহাঁর উযূর জন্য পানি ঢাললাম। তিনি হালকাভাবে উযূ করিলেন। আমি তাঁকে বললাম, নামাজ। তিনি বলিলেন ঃনামাজ সম্মুখে। মুযদালিফায় পৌঁছার পর তিনি মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন। তারপর উষ্ট্রীর পিঠের হাওদা নামানো হলো। এরপর ইশার নামাজ আদায় করিলেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ যথাসময়ে নামাজ আদায় করার ফযীলত

৬১০. আবদুল্লাহ [ইবনি মাসঊদ] [রাঃআঃ হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃআমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমলটি আল্লাহ্‌র নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বলেন ঃযথাসময়ে নামাজ আদায় করা, মা-বাপের সাথে সদ্ব্যবহার করা, আল্লাহ্‌র রাস্তায় জিহাদ করা।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৬১১. আবদুল্লাহ [ইবনি মাসঊদ] [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃআমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে জিজ্ঞাসা করলাম ঃকোন আমলটি আল্লাহ্‌র নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বলেন ঃযথাসময়ে নামাজ আদায় করা, মা-বাপের সাথে সদ্ব্যবহার করা, আল্লাহ্‌র রাস্তায় জিহাদ করা।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৬১২. মুহাম্মদ ইবনি মুনতাশির [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি একদা আমর ইবনি শুরাহবীল [রাঃআঃ] -এর মসজিদে উপস্থিত ছিলেন। এমন সময় ইকামত বলা হলো। মুসল্লীগণ তাহাঁর অপেক্ষা করিতে লাগলেন। পরে তিনি বলিলেন ঃআমি বিতরের নামাজ আদায় করছিলাম [এ জন্যই বিলম্ব হয়েছে]। রাবী বলেন ঃতখন আবদুল্লাহ [রাঃআঃ] -এর নিকট ফাতওয়া জিজ্ঞাসা করা হলো যে, আযানের পর কি বিতর আদায় করা যায়? তিনি বলিলেন ঃহ্যাঁ, শুধু আযান কেন ইকামতের পরও{১} এ ব্যাপারে তিনি নাবী [সাঃআঃ] থেকে হাদিস বর্ণনা করিলেন যে, একদা নাবী [সাঃআঃ] ফজরের নামাজের সময় নিদ্রিত ছিলেন। এমতাবস্থায় সূর্য উদিত হলো। তারপর ঘুম থেকে উঠে নামাজ আদায় করিলেন।{২}

{১} এই সময়ে বিতর কাযা আদায় করা যায়।

{২} এটা ৭ম হিজরীতে খায়বার যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় লাইলাতুত-তারীসের ঘটনা ছিল। প্রায় শেষ রাত্রে পথিমধ্যে অবতরণ করে বিলাল [রাঃআঃ] -কে পাহারাদার নিযুক্ত করে সকলেই ঘুমিয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর বিলাল [রাঃআঃ] -ও ঘুমিয়ে পড়লেন। এমতাবস্থায় সূর্যোদয় হয়ে গেল। সকালে জাগ্রত হওয়ার পর এ জায়গা ত্যাগ করে অন্যত্র গিয়ে নামাজ কাযা করিলেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদঃ যে ব্যাক্তি নামাজ ভুলে যায়

৬১৩. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন ঃযে ব্যক্তি নামাজ ভুলে যায়, তারপর যখন স্মরণ হয় তখন যেন সে তা আদায় করে নেয়।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি নামাজ আদায় না করে নিদ্রা যায়

৬১৪. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নিকট এমন ব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, সে নামাজ আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ে বা নামাজ ভুলে যায়। তিনি বলিলেন ঃএর কাফ্‌ফারা হলো যখনই স্মরণ আসবে তখনই তা আদায় করে নেবে।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৬১৫. আবু কাতাদা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃসাহাবায়ে কিরাম [রাঃআঃ] নিদ্রাবস্থায় নামাজের সময় তাহাদের ঘুমে থাকার বিষয়টি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নিকট উল্লেখ করিলেন। তিনি বলিলেন ঃঘুমে থাকার মধ্যে অবহেলা নেই। অবহেলা হয় জাগ্রত অবস্থায় [যথাসময়ে নামাজ আদায় না করলে]।{১} সুতরাং যদি তোমাদের কেউ নামাজ ভুলে যায় বা ঘুমিয়ে পড়ে, তবে যখনই স্মরণ হয় তখনই পড়ে নেবে।

{১} এ হাদিসের অর্থ এ নয় যে, নামাজ আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকলে কোন অপরাধ হইবেনা। বরং এর অর্থ এই যে, বিশেষ কারণ ও ওযরবশত নিদ্রাবস্থায় কোন সময় নামাজ চলে গেলে তা অপরাধ বলে গণ্য হইবেনা। কিন্তু কেউ যদি একে অভ্যাসে পরিণত করে, তবে এটা অবশ্যই অপরাধ বলে গণ্য হইবে। কেননা হাদীসে যথাসময়ে নামাজ আদায় করার ফযীলত এবং এ বিষয়ে অবহেলার পরিণতি উল্লেখ করা হয়েছে।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৬১৬. আবু কাতাদা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃরাসুলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] বলেছেন ঃঘুমের মধ্যে দোষ নেই। নিশ্চয়ই দোষ ঐ ব্যক্তির বেলায় যে নামাজ আদায় করিল না, এমতাবস্থায় অন্য নামাজের ওয়াক্ত উপস্থিত হলো। তারপর সে নামাজ সম্পর্কে সচেতন হলো।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ নামাজ আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়লে পরদিন সেই সময় কাযা করা

৬১৭. আবু কাতাদা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

[লাইলাতুত্‌-তারীসে] যখন সাহাবায়ে কিরাম [রাঃআঃ] [ক্লান্তিজনিত কারণে] নামাজ আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়লেন [আর] এমতাবস্থায় সূর্য উদিত হলো, তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন ঃআগামীকাল এই নামাজ যথাসময়ে আদায় করিতে সচেষ্ট হইবে।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৬১৮. আবু হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন ঃযখন নামাজ ভুলে যাবে, স্মরণ হওয়ামাত্র আদায় করে নেবে। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন ঃ[আরবি] এবং আমার স্মরণার্থে নামাজ কায়েম কর [২০:১৪]। আব্দুল আলা বলেন ঃএ হাদিসকে ইয়ালা সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করিয়াছেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৬১৯. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন ঃযে ব্যক্তি কোন নামাজ ভুলে যায়, সে যখনই স্মরণ হয় তখনই তা আদায় করে নেবে।{১} কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন ঃ

أَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي

“এবং আমার স্মরণার্থে নামাজ কায়েম কর।” [২০ ঃ১৪]

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৬২০. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন ঃযে ব্যক্তি নামাজ ভুলে যায়, সে যেন যখনই স্মরণ হয় তা আদায় করে নেয়। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন ঃআমার স্মরণার্থে নামাজ কায়েম কর। মামার [রহঃ] বলেন ঃআমি যুহরীকে জিজ্ঞাসা করলাম ঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এভাবেই আদায় করেছিলেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ কিভাবে কাযা নামাজ আদায় করিতে হয়

৬২১. আবু মারয়াম [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃএকদা আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সাথে সারারাত্র সফর করলাম। পড়ে রাতের শেষাংশে ফজরের নিকটবর্তী সময়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক স্থানে অবতরণ করিলেন এবং কিছুক্ষণ পরই ঘুমিয়ে পড়লেন। তার সঙ্গীগণও ঘুমিয়ে পড়লেন। সূর্যের আলোকরশ্মি স্পর্শ না করা পর্যন্ত কেউ জাগ্রত হলেন না। পরে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুয়ায্‌যিনকে আযান দিতে আদেশ করিলেন। মুয়ায্‌যিন আযান দিলে, তিনি দুই রাকআত ফজরের সুন্নত আদায় করিলেন। আবার ইকামত বললে তিনি সাহাবীদের নিয়ে ফরয আদায় করিলেন। তারপর আমাদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য বড় বড় ঘটনাবলীর কথা বর্ণনা করিলেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৬২২. আব্দুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃএকদা আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সঙ্গে ছিলাম। যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশা এই চার ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা হইতে আমরা বাধাপ্রাপ্ত হলাম।{১} এটা আমর নিকট কষ্টদায়ক হলো। মনে মনে ভাবলাম, আমরা তো রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সঙ্গে থেকে আল্লাহর পথে জিহাদ করছি [এরপরও কি আমাদের এরূপ দুর্ভাগ্য?] তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বিলাল [রাঃআঃ] -কে ইকামত দিতে আদেশ করিলেন। ইকামত বললে আমাদের নিয়ে যোহরের নামাজ আদায় করিলেন। আবার ইকামত বললে আসরের নামাজ আদায় করিলেন। আবার ইকামত বললে মাগরিবের নামাজ আদায় করিলেন। পুনরায় ইকামত বললে ইশার নামাজ আদায় করিলেন। তারপর আমাদের উদ্দেশ্য করে বলিতে লাগলেন ঃভূ-পৃষ্ঠে তোমাদের ছাড়া এমন কোন জামাআত নেই যারা আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে।

১. এটা ৫ম হিজরীতে গাযওয়ায়ে খন্দকের ঘটনা। কাফিরদের সাথে অনবরত যুদ্ধ চলার দরুন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -ও তাহাঁর সাহাবীগণ চার ওয়াক্ত নামাজ আদায় করিতে পারেননি। – অনুবাদক

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৬২৩. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন ঃআমরা রাসুলুল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] -এর সাথে সারারাত সফর করার পর শেষরাতে অবতরণ করি এবং ঘুমিয়ে পড়ি, সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কারো নিদ্রাভঙ্গ হলো না। তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের বলিলেন ঃপ্রত্যেকেই নিজ নিজ বাহনের লাগাম ধরে এ স্থান ত্যাগ কর। কেননা এ স্থানে শয়তান আমাদের কাছে হাযির হয়েছে। আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] বলেন ঃআমরা এরূপই করলাম। তারপর কিছুদূর গিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পানি আনিয়ে উযূ করিলেন। এরপর দুই রাকাআত ফজরের সুন্নত আদায় করিলেন। তারপর ইকামত হলে ফজরের ফরয আদায় করিলেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৬২৪. জুবায়র [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

একদা কোন এক সফরে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন ঃকে আমাদের আজ রাতে পাহারা দেবে? যাতে ফজরের নামাজের সময় ঘুমিয়ে না থাকি। বিলাল [রাঃআঃ] বলিলেন, আমি এই বলে তিনি সূর্যের উদয়-অস্ত অভিমুখী হয়ে রইলেন। কিন্তু তাহাদেরকে নিদ্রাগ্রস্ত করে দেওয়া হল। পরিশেষে সূর্যের কিরণ তাহাদের জাগ্রত করিল। তখন সকলে সরে পড়লেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমরা উযূ কর। পরে বিলাল [রাঃআঃ] আযান দিলেন। তিনি দু রাকাআত সুন্নত আদায় করিলেন এবং অন্যরাও দু রাকাআত সুন্নত আদায় করিলেন। তারপর সকলে দুরাকাআত ফজরের ফরয আদায় করিলেন।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৬২৫. আব্দুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেনঃরসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রাত্রে সফর করিলেন এবং শেষরাতে একস্থানে অবতরণ করে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমতাবস্থায় সূর্যোদয় হলো অথবা সূর্যের কিয়দাংশ উদিত হলো। তারপর পূর্ণরূপে সূর্য উদয় না হওয়া পর্যন্ত নামাজ আদায় করিলেন না। তারপর নামাজ আদায় করিলেন। এই নামাজ ছিল উস্‌তা বা মধ্যবর্তী নামাজ।

নামাজের ওয়াক্ত হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

কসম ও মানত

পর্বঃ ৩৫, কসম ও মান্নাত, হাদীস (৩৭৬১ – ৩৮৫৬) কসম করা ও যে সব নামের …

Leave a Reply

%d bloggers like this: