নবীর জীবিকা । রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর জীবিকা

নবীর জীবিকা – রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর জীবিকা

নবীর জীবিকা , এই অধ্যায়ে হাদীস ৬ টি ( ২৮৪-২৮৯ পর্যন্ত ) << শামায়েলে তিরমিযী হাদীসের মুল সুচিপত্র দেখুন 

অধ্যায়-৫২ঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবিকা

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর কাছে কখনো পেটভরে খাওয়ার মতো খেজুর থাকত না
পরিচ্ছদঃ কখনো কখনো তাহাঁর পরিবারের চুলায় ১ মাসের অধিক সময় পর্যন্তও আগুন জ্বালানো হতো না
পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ও কয়েকজন সাহাবীর ক্ষুধাকালীন এক সময়ের ঘটনা
পরিচ্ছদঃ শিয়াবে তালিবের সময় রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কে গাছের চামড়া ও পাতা খেয়ে জীবনপাত করিতে হয়েছিল
পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ৩০ রাত পর্যন্তও সামান্য আহারেই কাটিয়ে ছিলেন
পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর কাছে কখনো রুটি ও গোশত একত্রিত হতো না

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর কাছে কখনো পেটভরে খাওয়ার মতো খেজুর থাকত না

২৮৪. সিমাক ইবনি হারব [রহঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নুমান ইবনি বশীর [রাদি.] কে বলিতে শুনিয়াছি যে, তোমরা কি তোমাদের চাহিদামতো খাওয়া-দাওয়ায় তৃপ্ত নও? অথচ নাবী (সাঃআঃ) কে দেখেছি যে, পেটভরে খাওয়ার মতো খারাপ খেজুরও তাহাঁর ঘরে থাকত না।{১}

{১} সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/৭৬৫০; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৪০৭১; সহিহ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/৬৩৪০; মুসান্নাফে ইবনি আবি শাইবা, হাদিস নং/৩৫৪৬৩; সহিহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদিস নং/৩২৭৫; মিশকাত, হাদিস নং/৪১৯৫। নবীর জীবিকা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ কখনো কখনো তাহাঁর পরিবারের চুলায় ১ মাসের অধিক সময় পর্যন্তও আগুন জ্বালানো হতো না

২৮৫. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমাদের নাবীর পরিবারে কখনো এমন হতো যে, এক মাসের অধিক সময় পর্যন্ত আগুন জ্বালানো হতো না; শুধু পানি ও খেজুর খেয়ে কাটাতাম।{১}

{১} সহিহ বোখারী, হাদিস নং/৬৪৫৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/৭৬৩৯; ইবনি মাজাহ, হাদিস নং/৪১৪৪; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২৪২৭৮; সহিহ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/৬৩৬১। নবীর জীবিকা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ও কয়েকজন সাহাবীর ক্ষুধাকালীন এক সময়ের ঘটনা

২৮৬. আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন নাবী (সাঃআঃ) এমন সময় ঘর থেকে বের হলেন, যখন সচরাচর তিনি বের হন না। কেউ সাক্ষাৎ করিতেও আসে না। এমন সময় আবু বকর [রাদি.] তাহাঁর কাছে আসলেন। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) জিজ্ঞেস করিলেন, কি জন্য এসেছ হে আবু বকর! বলিলেন, আল্লাহর রাসূলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিতে, তাহাঁর চেহারা দেখিতে ও সালাম জানাতে এসেছি। কিছুক্ষণ পর উমার [রাদি.] আসলেন। জিজ্ঞেস করিলেন, কি জন্য এসেছ উমার? বলিলেন, ক্ষুধার তাড়নায় হে আল্লাহর রাসূল! রসূলুল্লাহ বলিলেন, আমিও তা-ই অনুভব করছি।

অতঃপর তারা তিনজনই আবুল হায়সাম ইবনি তায়্যিহান আল আনসারীর বাড়ি গেলেন। তাহাঁর অনেক খেজুর বাগান, ফল বাগান ও ছাগলের পাল। কিন্তু কোন খাদেম ছিল না। তারা তাহাঁর দেখা পেলেন না। ফলে তারা তাহাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করিলেন, তোমার স্বামী কোথায় গিয়েছেন? বলিল, আমাদের জন্য মিঠা পানি আনতে গিয়েছেন। কিছুক্ষণ পরই আবুল হায়ছাম পানির পাত্র নিয়ে ফিরে আসলেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কে দেখে আনন্দে জড়িয়ে ধরেন এবং তাহাঁর পিতামাতাকে উৎসর্গ করিতে থাকেন।

তারপর তাহাদেরকে নিয়ে বাগানে গেলেন এবং তাঁদের জন্য বিছানা বিছিয়ে দিলেন। খেজুর বাগান হতে এক ছড়া খেজুর এনে দেন। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিলেন, আমাদের জন্য তাজা খেজুর বেছে আনলে না কেন? [পূর্ণ একটি ছড়া আনার কি প্রয়োজন ছিল]। আবুল হায়ছাম বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি চাই আপনি তা হতে কাঁচা ও পাকা খেজুর বেছে নিন। অতঃপর তারা সকলেই খেজুর খেলেন এবং পানি পান করিলেন। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিলেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাহাঁর কসম, এসবও সেসব নিয়ামতের মধ্যে গণ্য, কিয়ামতের দিন যেগুলোর হিসাব নেয়া হইবে। তা হলো, শীতল ছায়া, তরতাজা খেজুর ও ঠাণ্ডা পানি।

অতঃপর আবুল হায়সাম তাহাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য চলে গেলেন। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিলেন, আমাদের জন্য যেন দুগ্ধবতী ছাগী যবেহ করা না হয়। অতঃপর তাহাদের জন্য একটি বাচ্চা ছাগল যবেহ করা হলো এবং যথাশ্ৰীঘ্র খাবার হাযির করা হলো এবং তাঁরা আহার করিলেন।

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাকে বলিলেন, তোমার কোন খাদেম আছে কি? তিনি বলিলেন, না। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিলেন, আমাদের যখন কোন গোলাম আসবে, তখন আমাকে মনে করিয়ে দিও। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর কাছে ২ জন গোলাম আসল। তাহাদের সঙ্গে তৃতীয় কেউ ছিল না। এমন সময় আবুল হায়সাম সেখানে উপস্থিত হলেন। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাকে বলিলেন, এ ২ জনের মধ্য হতে একজনকে বেছে নাও। বলিলেন, হে আল্লাহর নাবী! আপনিই বেছে দিন। নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, পরামর্শদাতা বিশ্বস্ত হয়। অতএব তুমি একে নাও। কারণ, আমি তাকে নামাজ আদায় করিতে দেখেছি। আর আমি তোমাকে তাহাঁর সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার জন্য অসিয়ত করছি।

অতঃপর আবুল হায়সাম স্ত্রীর কাছে ফিরে গেলেন এবং তাকে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর অসিয়তের কথা শুনালেন। তাহাঁর স্ত্রী বলিলেন, আপনার জন্য রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর কথা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা সম্ভব নাও হতে পারে। অতএব আপনি গোলামকে আযাদ করে দিন। তাতে আবুল হায়ছম গোলামটিকে আযাদ করে দেন। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেন, আল্লাহ তাআলা তাহাঁর প্রত্যেক নাবী ও খলীফার জন্য ২ জন গোপন পরামর্শদাতা সৃষ্টি করে দেন। একজন সৎপরামর্শ দেয় এবং অসৎ কাজ হতে বিরত রাখে। অপরজন ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে ইতস্তত করে না। যে ব্যক্তিকে তাহাঁর মন্দ স্বভাব থেকে নিরাপদ রাখা হয়েছে, তাকে সকল অন্যায় হতে নিরাপদ রাখা হয়েছে।{১}

{১} সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/৫৪৩৪; মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস নং/৭১৭৮ সহিহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদিস নং/৩২৯৬ সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হাদিস নং/৬৫৮৩; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৩৬১২। শুআবুল ঈমান, হাদিস নং/৪২৮২। নবীর জীবিকা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ শিয়াবে তালিবের সময় রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কে গাছের চামড়া ও পাতা খেয়ে জীবনপাত করিতে হয়েছিল

২৮৭. সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ইসলামের প্রথম ব্যক্তি, যে কাফিরদের রক্ত প্রবাহিত করেছে। আমি প্রথম ব্যক্তি, যে আল্লাহর রাস্তায় তীর নিক্ষেপ করেছে। আমরা মুহাম্মাদ (সাঃআঃ) এর সাহাবীরা এমন অবস্থায় যুদ্ধ করেছি যে, গাছের বাকল ও পাতা ছাড়া কিছুই খেতে পেতাম না। এসব খাওয়ার ফলে আমাদের মুখে ঘা হয়ে যেত। এমনকি উট ও বকরীর মলের ন্যায় চর্বিযুক্ত মল পড়ত। তা সত্ত্বেও আসাদের লোকেরা দ্বীন সম্পর্কে আমাকে অভিযুক্ত করেছে। দ্বীন সম্পর্কে যদি আমি অজ্ঞই হই, তবে তো আমার সকল আমলই বরবাদ হয়ে গেল।{১}

{১} সহিহ বোখারী, হাদিস নং/৩৭২৮; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৩৯২৩। নবীর জীবিকা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ৩০ রাত পর্যন্তও সামান্য আহারেই কাটিয়ে ছিলেন

২৮৮. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, আমাকে আল্লাহর পথে এমন ভয় প্রদর্শন করা হয়েছে, যখন আর কাউকে ভয় প্রদর্শন করা হয়নি। আমাকে আল্লাহর পথে এমনভাবে কষ্ট দেয়া হয়েছে, যা অন্য কাউকে দেয়া হয়নি। আমাদের ৩০টি রাত এমনভাবে অতিবাহিত হয়েছে, যখন বিলালের বগলের নিচে লুকিয়ে রাখা সামান্য খাদ্য ছাড়া আমার ও বিলালের আহারের মতো কিছুই ছিল না।{১}

{১} ইবনি মাজাহ, হাদিস নং/১৫১; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং/১৪০৮৭; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৪০৮০; মুসনাদুল বাযযার, হাদিস নং/৩২০৫; সহিহ ইবনি হিব্বান, হ/৬৫৬০ মুসান্নাফে ইবনি আবিশাইবা, হাদিস নং/৩৭৭২১। নবীর জীবিকা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর কাছে কখনো রুটি ও গোশত একত্রিত হতো না

২৮৯. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

দিনের খাবারই হোক কিংবা রাতের খাবার, কোন সময়ই রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর কাছে রুটি-গোশত একত্রিত হতো না। তবে মেহমানদারীর জন্য দস্তরখানায় তা থাকত।

{১} আবদুল্লাহ [রাদি.] বলেন, কোন কোন বর্ণনাকারী বলেছেন, ضَفَفٍ এর অর্থ হলো অনেক হাত একত্রিত হওয়া। {১} মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং/১৩৮৮৬; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং/৩১০৮ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/৬৩৫৯ শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/১৩৮৯। নবীর জীবিকা হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply