নবীর ওফাত মৃত্যু রোগ এবং তিনি কতটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন

নবীর ওফাত মৃত্যু রোগ এবং তিনি কতটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন

নবীর ওফাত মৃত্যু রোগ এবং তিনি কতটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলে >> বুখারী শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ৬৪, মাগাযী, অধ্যায়ঃ (৮৪-৯০)=৭টি

৬৪/৮৪.অধ্যায়ঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর রোগ ও তাহাঁর ওফাত
৬৪/৮৫. অধ্যায়ঃ নাবী (সাঃআঃ)-এর সর্বশেষ কথা
৬৪/৮৬.অধ্যায়ঃ নাবী (সাঃআঃ)-এর মৃত্যু
৬৪/৮৭. অধ্যায়ঃ পরিচ্ছেদ নেই
৬৪/৮৮. অধ্যায়ঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর মৃত্যু- রোগের অবস্থায় উসামাহ ইবনু যায়দ (রাদি.)-কে যুদ্ধাভিযানে প্রেরণ
৬৪/৮৯. অধ্যায়ঃ পরিচ্ছেদ নেই
৬৪/৯০. অধ্যায়ঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কতটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন?

৬৪/৮৪.অধ্যায়ঃ নবী (সাঃ)- এর রোগ ও তাহাঁর ওফাত

মহান আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয়ই আপনিও মরণশীল আর তারাও মরণশীল। অতঃপর ক্বিয়ামাতের দিনে তোমরা উভয় দলই নিজ নিজ মোকাদ্দমা স্বীয় রবের সামনে পেশ করিবে। (সুরা আয্-যুমার ৩৯/৩০ – ৩১)

৪৪২৯

উম্মুল ফযল বিনতে হারিস [৯৩] (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী সাঃআঃ-কে মাগরিবের সালাতে সুরা وَالْمُرْسَلَاتِ عُرْفًا পাঠ করিতে শুনিয়াছি। তারপর আল্লাহ তাআলা তাহাঁর রূহ কবজ করা পর্যন্ত তিনি আমাদের নিয়ে আর কোন সালাত আদায় করেননি। [৭৬৩] (আঃপ্রঃ ৪০৮০, ইঃফাঃ ৪০৮৩)

[৯৩] আব্বাস (রাদি.)- এর স্ত্রী।

৪৪৩০

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, উমার ইবনু খাত্তাব (রাদি.) ইবনু আববাস (রাদি.)-কে তাহাঁর কাছে বসাতেন।[১] এতে আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাদি.) তাঁকে বলিলেন, আমাদেরও তো ইবনু আববাস (রাদি.)-এর বয়সী ছেলেপুলে আছে! তখন উমার (রাদি.) বলিলেন, সে কেমন মর্যাদার লোক তা তো আপনারাও জানেন। এরপর উমার (রাদি.) ইবনু আববাস (রাদি.)-কে إِذَا جَآءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ এই আয়াতের মর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিলেন। তখন তিনি বলিলেন, এটা রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর ইন্তিকালের খবর। তখন উমার (রাদি.) বলিলেন, এ ত্থেকে তুমি যা (অর্থ) বুঝেছ আমিও তাই বুঝেছি। [৩৬২৭] (আঃপ্রঃ ৪০৮১, ইঃফাঃ ৪০৮৪)

[৯৪] অল্প বয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদি.) ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ। তাই উমার (রাদি.) তাকে তার পাশে বসাতেন।

৪৪৩১

সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ইবনু আব্বাস (রাদি.) বলিলেন, বৃহস্পতিবার! বৃহস্পতিবারের ঘটনা কী? নবী (সাঃআঃ)- এর রোগ-জ্বালা প্রবল হয়ে গেল। তখন তিনি বলিলেন, তোমরা আমার কাছে এসো, আমি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দিয়ে যাই যাতে তোমরা এরপর কখনো বিভ্রান্ত না হও। তখন তারা পরস্পর মতভেদ করিতে থাকে। অথচ নবী (সাঃআঃ)- এর সান্নিধ্যে মতভেদ করা শোভনীয় নয়। এরপর কিছু সংখ্যক লোক বলিলেন, নবী (সাঃআঃ)- এর অবস্থা কেমন? তিনি কি বোধশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন? তোমরা তাহাঁর কাছ থেকে বিষয়টি জেনে নাও। এতে তারা নবী (সাঃআঃ)- এর কাছে ব্যাপারটি আবার উত্থাপন করিল। তখন তিনি বলিলেন, তোমরা আমাকে আমার অবস্থায় থাকতে দাও, তোমরা যে কাজের দিকে আমাকে ডাকছ তার চেয়ে আমি ভাল অবস্থায় অবস্থান আছি। আর নবী (সাঃআঃ) তাঁদের তিনটি ওয়াসীয়াত করিলেন- (১) আরব উপদ্বীপ [৯৫] থেকে মুশরিকদের বহিষ্কার করে দিবে, (২) দূতদের সেরূপ সমাদর করিবে যেমন আমি করতাম এবং তৃতীয়টি বলা থেকে তিনি চুপ থাকলেন অথবা বর্ণনাকারী বলেন, তৃতীয়টি আমি ভুলে গেছি। [১১৪] (আ.প্র. ৪০৮২, ই.ফা. ৪০৮৫)

[৯৫] একদিকে এডেন হইতে ইরাক পর্যন্ত অন্যদিকে জেদ্দা হইতে সিরিয়া পর্যন্ত আরব উপদ্বীপ বিস্তৃত ছিল।

৪৪৩২

ইবনু আব্বাস(রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)- এর ওফাতের সময় যখন ঘনিয়ে এলো এবং ঘরে ছিল লোকের সমাবেশ, তখন নবী (সাঃআঃ) বলিলেন, তোমরা এসো, আমি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দেই, যেন তোমরা পরবর্তীতে পথভ্রষ্ট না হয়ে যাও। তখন তাদের মধ্যকার কিছুলোক বলিলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর রোগ-যন্ত্রণা কঠিন হয়ে গেছে, আর তোমাদের কাছে তো কুরআন মওজুদ আছে। আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এ ব্যাপারে নবী (সাঃআঃ)- এর পরিবারের লোকজনের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয় এবং তারা পরস্পর বাক-বিতণ্ডা করিতে থাকেন। তাদের কেউ বলিলেন, তোমার তাহাঁর নিকট যাও, তিনি তোমাদের জন্য কিছু লিখে দিবেন। যাতে তোমরা তাহাঁর পরে কোন বিভ্রান্তিতে না পড়। আবার কেউ বলিলেন অন্য কথা। বাক-বিতণ্ডা ও মতভেদ যখন চরমে পৌঁছল, তোমরা রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিলেন, তোমরা উঠে চলে যাও। উবাইদুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, ইবনু আব্বাস (রাদি.) বলিতেন, এ ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) সহাবীগনের (রাদি.) জন্য কিছু লিখে দেয়ার ব্যাপারে তাদের মতবিরোধ ও চেঁচামেচিই মূলত প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। [১১৪; মুসলিম ২৫/৫, হাদীস ১৬৩৭, আহমাদ ৪৪৩২] (আ.প্র. ৪০৮৩ ই.ফা. ৪০৮৬)

৪৪৩৩

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী সাঃআঃ মৃত্যু-রোগকালে ফাতিমাহ (রাদি.)-কে ডেকে আনলেন এবং চুপে চুপে কিছু বলিলেন, তখন ফাতেমাহ (রাদি.) কেঁদে ফেললেন; এরপর নবী সাঃআঃ পুনরায় তাঁকে ডেকে চুপে চুপে কিছু বলিলেন, তখন হাসলেন। আমরা এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলেছিলেন, নবী সাঃআঃ যে রোগে আক্রান্ত আছেন এ রোগেই তাহাঁর ইন্তিকাল হইবে এ কথাই তিনি গোপনে আমাকে বলেছেন। তখন আমি কাঁদলাম। আবার তিনি আমাকে চুপে চুপে বলিলেন, তাহাঁর পরিজনের মধ্যে সর্বপ্রথম আমিই তাহাঁর সঙ্গে মিলিত হব, তখন আমি হাসলাম। [৩৬২৩, ৩৬২৪] (আঃপ্রঃ ৪০৮৪, ইঃফাঃ ৪০৮৭)

৪৪৩৪

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী সাঃআঃ মৃত্যু-রোগকালে ফাতিমাহ (রাদি.)-কে ডেকে আনলেন এবং চুপে চুপে কিছু বলিলেন, তখন ফাতেমাহ (রাদি.) কেঁদে ফেললেন; এরপর নবী সাঃআঃ পুনরায় তাঁকে ডেকে চুপে চুপে কিছু বলিলেন, তখন হাসলেন। আমরা এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলেছিলেন, নবী সাঃআঃ যে রোগে আক্রান্ত আছেন এ রোগেই তাহাঁর ইন্তিকাল হইবে এ কথাই তিনি গোপনে আমাকে বলেছেন। তখন আমি কাঁদলাম। আবার তিনি আমাকে চুপে চুপে বলিলেন, তাহাঁর পরিজনের মধ্যে সর্বপ্রথম আমিই তাহাঁর সঙ্গে মিলিত হব, তখন আমি হাসলাম। [৩৬২৩, ৩৬২৪] (আঃপ্রঃ ৪০৮৪, ইঃফাঃ ৪০৮৭)

৪৪৩৫

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি এ কথা শুনিয়াছিলাম যে, কোন নবী মারা যান না যতক্ষণ না তাঁকে বলা হয় দুনিয়া বা আখিরাতের একটি বেছে নিতে। যে রোগে নবী (সাঃআঃ) ইন্তিকাল করেন সে রোগে আমি নবী (সাঃআঃ)- কে যন্ত্রণায় কাতর অবস্থায় বলিতে শুনিয়াছি, তাঁদের সঙ্গে যাঁদের প্রতি আল্লাহ তাআলা নিয়ামত প্রদান করিয়াছেন- [তাঁরা হলেন- নবী (আঃ)-গণ, সিদ্দীকগণ এবং শাহীদগণ] (সুরা আন-নিসা ৪/৬৯)। তখন আমি ধারণা করলাম যে, তাঁকেও একটি বেছে নিতে বলা হয়েছে। [৪৪৩৬, ৪৪৩৭, ৪৪৬৩, ৪৫৮৬, ৬৩৪৮, ৬৫০৯; মুসলিম ৪৪/১৩, হাদীস ২৪৪৪, আহমাদ ২৬৪৭৯] (আ.প্র. ৪০৮৫, ই.ফা. ৪০৮৮)

৪৪৩৬

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন নবী (সাঃআঃ) মৃত্যু-রোগে আক্রান্ত হন, তখন তিনি বলেছিলেন, فِي الرَّفِيْقِ الْأَعْلَى অর্থাৎ উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হইতে চাই)। [৪৪৩৫] (আ.প্র. ৪০৮৬, ই.ফা. ৪০৮৯)

৪৪৩৭

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) সুস্থাবস্থায় বলিতেন, জান্নাতে তাহাঁর স্থান দেখানো ব্যতীত কোন নবী (আঃ)-এর প্রাণ কখনো কবজ করা হয়নি। তারপর তাঁকে জীবন বা মৃত্যু একটি গ্রহণ করিতে বলা হয়। এরপর যখন নবী করীম (সাঃআঃ)অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তাহাঁর মাথা আয়েশাহ (রাদি.)-এর উরুতে রাখাবস্থায় তাহাঁর জান কবজের সময় উপস্থিত হল তখন তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে গেলেন। এরপর যখন তিনি সংজ্ঞা ফিরে পেলেন তখন তিনি ঘরের ছাদের দিকে তাকিয়ে বলিলেন,হে আল্লাহ!উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হইতে চাই)। অনন্তর আমি বললাম,তিনি আর আমাদের মাঝে থাকতে চাচ্ছেন না। এরপর আমি উপলব্ধি করলাম যে,এটা হচ্ছে ঐ কথা যা তিনি আমাদের কাছে সুস্থাবস্থায় বর্ণনা করিতেন। [৪৪৩৫] (আ.প্র.৪০৮৭, ই.ফা. ৪০৯০)

৪৪৩৮

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আবদুর রহমান ইবনু আবু বকর (রাদি.)নবী (সাঃআঃ)-এর কাছে এলেন। তখন আমি নবী (সাঃআঃ)-কে আমার বুকে হেলান দেয়া অবস্থায় রেখেছিলাম এবং আবদুর রহমানের হাতে তাজা মিসওয়াকের ডাল ছিল যা দিয়ে সে দাঁত পরিষ্কার করছিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)তার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করিলেন। আমি মিসওয়াকটি নিলাম এবং তা চিবিয়ে নরম করলাম। তারপর তা নবী (সাঃআঃ)-কে দিলাম। তখন নবী (সাঃআঃ) তা দিয়ে দাঁত মর্দন করিলেন। আমি তাঁকে এর পূর্বে এত সুন্দরভাবে মিসওয়াক করিতে আর কখনও দেখিনি। এ থেকে অবসর হয়েই রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাহাঁর উভয় হাত অথবা আঙ্গুল উপরে উঠিয়ে তিনবার বলিলেন, উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হইতে চাই) তারপর তিনি ইন্তিকাল করিলেন। আয়েশাহ (রাদি.) বলিতেন, নবী (সাঃআঃ) আমার বুকে ও থুতনির মাঝে ইন্তিকাল করেন। [৮৯০] (আ.প্র. ৪০৮০, ই.ফা. ৪০৯১)

৪৪৩৯

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) অসুস্থ হয়ে পড়তেন তখন তিনি আশ্রয় প্রার্থনার দুই সুরা (ফালক ও নাস) পাঠ করে নিজ দেহে ফুঁক দিতেন এবং স্বীয় হাত দ্বারা শরীর মাসাহ করিতেন। এরপর যখন মৃত্যু-রোগে আক্রান্ত হলেন, তখন আমি আশ্রয় প্রার্থনার সুরা দুটি দিয়ে তাহাঁর শরীরে ফুঁ দিতাম, যা দিয়ে তিনি ফুঁ দিতেন। আর আমি তাহাঁর হাত দ্বারা তাহাঁর শরীর মাসাহ করিয়ে দিতাম। [৫০১৬,৫৭৩৫,৫৭৫১:মুসলিম ৩৯/২,হাদীস ২১৯২,আহমাদ ২৬২৪৯] (আ.প্র. ৪০৮৯, ই.ফা.৪০৯২)

৪৪৪০

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী করীম (সাঃআঃ)-এর ইন্তিকালের পূর্বে যখন তাহাঁর পিঠ আমার উপর হেলান দেয়া অবস্থায় ছিল, তখন আমি কান ঝুঁকিয়ে দিয়ে নবী (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার উপর রহম করুন এবং মহান বন্ধুর সঙ্গে আমাকে মিলিত করুন। [৫৬৭৪] (আ.প্র.৪০৯০, ই.ফা.৪০৯৩)

৪৪৪১

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাঃআঃ) তাহাঁর সেই রোগাবস্থায় যাথেকে তিনি আর সেরে উঠেননি- বলেন, ইয়াহুদীদের প্রতি আল্লাহ লানত করিয়াছেন। তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে সাজদাহর জায়গা করে নিয়েছে। আয়েশাহ (রাদি.)মন্তব্য করেন,তা না হলে তবে তাহাঁর কবরকেও সাজদাহর জায়গা বানানোর আশঙ্কা ছিল। [৪৩৫] (আ.প্র. ৪০৯১, ই.ফা. ৪০৯৪)

৪৪৪২

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)– এর রোগ প্রবল হল ও ব্যথা বেড়ে গেল,তখন তিনি আমার ঘরে সেবা-শুশ্রুষা পাওয়ার ব্যাপারে তাহাঁর স্ত্রীগণের নিকট অনুমতি চাইলেন। তাঁরা অনুমতি দিলেন। তারপর তিনি (সাঃআঃ) ঘর থেকে বের হয়ে ইবনু আব্বাস (রাদি.) ও অপর একজন সহাবীর মাঝে যমীনের উপর পা হিঁচড়ে চলতে লাগলেন। উবাইদুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদি.)-কে আয়েশাহ কথিত ব্যক্তি সর্ম্পকে জানালাম, তখন আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদি.) আমাকে বলিলেন, তুমি কি সেই অন্য ব্যক্তিকে জান যার নাম আয়েশাহ (রাদি.) উল্লেখ করেননি? আমি বললাম, না। ইবনু আব্বাস (রাদি.) বলিলেন, তিনি হলেন, আলী (রাদি.)। নবী (সাঃআঃ)-এর সহধর্মিনী  আয়েশাহ (রাদি.) বর্ণনা করিতেন যে, যখন রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমার ঘরে প্রবেশ করিলেন এবং তাহাঁর ব্যথা বেড়ে গেল, তখন তিনি বলিলেন, তোমরা এমন সাত মশক যার মুখ এখনও খোলা হয়নি, তা থেকে আমার শরীরে পানি ঢেলে দাও। যেন আমি (সুস্থ হয়ে) লোকদের নাসীহাত দিতে পারি। এরপর আমরা তাঁকে নবী (সাঃআঃ)-এর সহধমির্নী হাফসাহ (রাদি.)-এর একটি বড় গামলায় বসালাম। তারপর আমরা উক্ত মশক হইতে তাহাঁর উপর ততক্ষণ পযর্ন্ত পানি ঢালতে লাগলাম যতক্ষণ না তিনি তাহাঁর হাত দ্বারা আমাদের ইশারা করে জানালেন যে, তোমরা তোমাদের কাজ পুরা করেছ। আয়েশাহ (রাদি.) বলেন, তারপর নবী (সাঃআঃ) লোকদের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে জামাআতে সলাত আদায় করিলেন এবং তাদের উদ্দেশে খুতবা দিলেন। [১৯৮] (আ.প্র. ৪০৯২, ই.ফা. ৪০৯৫)

৪৪৪৩

আয়েশাহ ও আবদুল্লাহ ইবনু আববাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমাকে জানালেন যে, আয়েশাহ ও আবদুল্লাহ ইবনু আববাস (রাদি.) উভয়ে বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ রোগ-যাতনায় অস্থির হইতেন তখন তিনি তাহাঁর কালো চাদর দিয়ে নিজ মুখমন্ডল ঢেকে রাখতেন। আবার যখন জ্বরের উষ্ণতা কমত তখন মুখমন্ডল থেকে চাদর সরিয়ে ফেলতেন। রাবী বলেন, এরূপ অবস্থায়ও তিনি বলিতেন, ইয়াহূদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর লানত, তারা তাদের নবীদের (নবীদের) কবরকে মাসজিদ বানিয়ে নিয়েছে। তাদের কৃতকর্ম থেকে সতর্ক করা হয়েছে। [৪৩৫, ৪৩৬] (আঃপ্রঃ ৪০৯২, ইঃফাঃ ৪০৯৫)

৪৪৪৪

আয়েশাহ ও আবদুল্লাহ ইবনু আববাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমাকে জানালেন যে, আয়েশাহ ও আবদুল্লাহ ইবনু আববাস (রাদি.) উভয়ে বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ রোগ-যাতনায় অস্থির হইতেন তখন তিনি তাহাঁর কালো চাদর দিয়ে নিজ মুখমন্ডল ঢেকে রাখতেন। আবার যখন জ্বরের উষ্ণতা কমত তখন মুখমন্ডল থেকে চাদর সরিয়ে ফেলতেন। রাবী বলেন, এরূপ অবস্থায়ও তিনি বলিতেন, ইয়াহূদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর লানত, তারা তাদের নবীদের (নবীদের) কবরকে মাসজিদ বানিয়ে নিয়েছে। তাদের কৃতকর্ম থেকে সতর্ক করা হয়েছে। [৪৩৫, ৪৩৬] (আঃপ্রঃ ৪০৯২, ইঃফাঃ ৪০৯৫)

৪৪৪৫

উবাইদুল্লাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

আয়েশাহ (রাদি.) বলেন, আমি আবু বাক্‌র (রাদি.)-এর ইমামতের ব্যাপারে নবী (সাঃআঃ)-এর নিকট বারবার আপত্তি করেছি। আর আমার তাহাঁর কাছে বারবার আপত্তি করার কারণ ছিল এই, আমার অন্তরে এ কথা আসেনি যে, নবী (সাঃআঃ)-এর পরে তাহাঁর স্থলে কেউ দাঁড়ালে লোকেরা তাকে পছন্দ করিবে। বরং আমি মনে করতাম যে, কেউ তাহাঁর স্থলে দাঁড়ালে লোকেরা তাহাঁর প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করিবে, তাই আমি ইচ্ছা করলাম যে, নবী (সাঃআঃ) এ দায়িত্ব আবু বকর (রাদি.)-এর পরিবর্তে অন্য কাউকে প্রদান করুন। আবু আবদুল্লাহ বুখারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, এ হাদীস ইবনু উমার,আবু মূসা ও ইবনু আব্বাস (রাদি.) নবী করীম (সাঃআঃ) থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। [১৯৮] (আ.প্র. ৪০৯২, ই.ফা. ৪০৯৫)

৪৪৪৬

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাঃআঃ)ইন্তিকাল করার সময় আমার বুক ও থুতনির মাঝে ছিলেন। আর নবী (সাঃআঃ)-এর (মৃত্যু-যন্ত্রণার) পর আমি আর কারো জন্য মৃত্যু- যন্ত্রণাকে খারাপ মনে করি না। [৮৯০] (আ.প্র. ৪০৯৩, ই.ফা. ৪০৯৬)

৪৪৪৭

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আলী ইবনু আবু ত্বলিব (রাদি.) রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)- এর কাছ হইতে বের হয়ে আসেন যখন তিনি মৃত্যু রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তখন সাহাবীগণ তাঁকে জিজ্ঞেস করিলেন, হে আবুল হাসান! রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) আজ কেমন আছেন? তিনি বলিলেন, আল্‌হামদুলিল্লাহ, তিনি কিছুটা সুস্থ। তখন আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাদি.) তাহাঁর হাত ধরে তাঁকে বলিলেন, আল্লাহর কসম! তুমি তিন দিন পরে হইবে লাঠির দাস। [৯৬] আল্লাহর শপথ! আমি মনে করি যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) এই রোগে অচিরেই ইন্তিকাল করবেন। কারণ , আমি আবদুল মুত্তালিবের বংশের অনেকের মৃত্যুকালীন অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছি। চল যাই রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর কাছে এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করি যে,তিনি (নেতৃত্বের) দায়িত্ব কার উপর ন্যস্ত করে যাচ্ছেন। যদি আমাদের মধ্যে থাকে তো তা আমরা জানব। আর যদি আমাদের ব্যতীত অন্যদের উপর ন্যস্ত করে যান, তাহলে তাও আমরা জানতে পারব এবং তিনি অসীয়াত করে যাবেন। তখন আলী (রাদি.) বলিলেন, আল্লাহর কসম! যদি এ সর্ম্পকে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)– কে আমরা জিজ্ঞেস করি আর তিনি আমাদের নিষেধ করে দেন, তবে তারপরে লোকেরা আর আমাদের তা প্রদান করিবে না। আল্লাহর কসম! আমি এ সর্ম্পকে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে জিজ্ঞেস করব না। [৬২৬৬] (আ.প্র. ৪০৯৪,ই.ফা ৪০৯৭)

[৯৬] অর্থাৎ তুমি অন্যের (আল্লাহর) অধীনস্থ হইবে। অর্থাৎ তিনি তিনদিন পর মৃত্যুবরণ করলে তার কোন কতৃর্ত্ব চলবে না বরং তারই উপর কতৃর্ত্ব করা হইবে। এ উদ্দেশ্যেই উপরোক্ত কথাটি বলা হয়েছে। ইবনু হাজার আসকালানী তার ফাতহুল বারীতে উল্লেখ করেন যে, এই উক্তি থেকে আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাদি.)-এর তীক্ষ্ণ বিচক্ষণতার পরিচয় পাওয়া যায়।

৪৪৪৮

আনাস ইবনু মালিক (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

সোমবারে সাহাবীগণ ফাজ্‌রের সলাতে ছিলেন। আর আবু বকর (রাদি.) তাদের সলাতের ইমামত করছিলেন। হঠাৎ রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) আয়েশাহ (রাদি.) –এর হুজরার পর্দা উঠিয়ে তাদের দিকে দেখলেন। সাহাবীগণ কাতারবন্দী অবস্থায় সলাতে ছিলেন। তখন নবী (সাঃআঃ) মুচকি হাসি দিলেন। আবু বাক্‌র (রাদি.) মুক্তাদীর সারিতে পিছিয়ে আসতে মনস্থ করিলেন। তিনি ধারণা করেছিলেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) নিজে সলাত আদায়ের জন্য বের হওয়ার ইচ্ছা করছেন। আনাস (রাদি.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর (আগমনের) আনন্দে সাহাবীগণের সলাত ভঙ্গের উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) হাতের ইশারায় তাদের সলাত পূর্ণ করিতে বলিলেন। তারপর তিনি হুজরায় প্রবেশ করিলেন ও পর্দা টেনে দিলেন। [৬৮০] (আ.প্র. ৪০৯৫, ই.ফা. ৪০৯৮)

৪৪৪৯

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি প্রায়ই বলিতেন, আমার প্রতি আল্লাহর এটা নিয়ামাত যে, আমার ঘরে, আমার পালার দিনে এবং আমার গণ্ড ও সিনার মাঝে রাসুলুল্লাহর (সাঃআঃ)-এর ইন্তিকাল হয় এবং আল্লাহ তাআলা তাহাঁর ইন্তিকালের সময় আমার থুথু তাহাঁর থুথুর সঙ্গে মিশ্রিত করে দেন। এ সময় আবদুর রহমান [৯৭] (রাদি.) আমার নিকট প্রবেশ করে এবং তার হাতে মিসওয়াক ছিল। আর আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে (আমার বুকে) হেলান অবস্থায় রেখেছিলাম। আমি লক্ষ্য করলাম যে, তিনি আবদুর রহমানের দিকে তাকাচ্ছেন। আমি বুঝলাম যে, নবী (সাঃআঃ) মিসওয়াক চাচ্ছেন। আমি তখন জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি আপনার জন্য মিসওয়াক নিব? তিনি মাথা নাড়িয়ে জানালেন যে, হ্যাঁ। তখন আমি মিসওয়াকটি নিলাম। কিন্তু মিসওয়াক ছিল তার জন্য শক্ত, তাই আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি এটি আপনার জন্য নরম করে দিব? তখন তিনি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলিলেন। তখন আমি তা চিবিয়ে নরম করে দিলাম। এরপর তিনি ভালভাবে মিসওয়াক করিলেন। তাহাঁর সম্মুখে পাত্র অথবা পেয়ালা ছিল (রাবী উমারের সন্দেহ) তাতে পানি ছিল। নবী (সাঃআঃ) স্বীয় হস্তদ্বয় পানির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে তার দ্বারা তাহাঁর চেহারা মুছতে লাগলেন। তিনি বলছিলেন…….-আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, সত্যিই মৃত্যু-যন্ত্রণা কঠিন। তারপর দুহাত উপরের দিকে উঠিয়ে বলছিলেন, আমি উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হইতে চাই)। এ অবস্থায় তাহাঁর ইন্তিকাল হল আর হাত শিথিল হয়ে গেল। [৮৯০] (আ.প্র. ৪০৯৬, ই.ফা. ৪০৯৯)

[৯৭] আয়েশাহ (রাদি.)-এর ভাই।

৪৪৫০

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

মৃত্যু রোগকালীন অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) জিজ্ঞেস করিতেন, আমি আগামীকাল কার ঘরে থাকব। আগামীকাল কার ঘরে? এর দ্বারা তিনি আয়েশাহ (রাদি.)-এর ঘরের পালার ইচ্ছা পোষণ করিতেন। সহধর্মিণীগণ নবী (সাঃআঃ)-কে যার ঘরে ইচ্ছা অবস্থান করার অনুমতি দিলেন। তখন নবী করীম (সাঃআঃ) আয়েশাহ (রাদি.)-এর ঘরে ছিলেন। এমনকি তাহাঁর ঘরেই তিনি ইন্তিকাল করেন। আয়েশাহ (রাদি.) বলেন, নবী (সাঃআঃ)আমার জন্য নির্ধারিত পালার দিন আমার ঘরে ইন্তিকাল করেন এবং আল্লাহ তাহাঁর রূহ কবজ করেন এ অবস্থায় যে, তাহাঁর মাথা আমার গণ্ড ও সীনার মধ্যে ছিল এবং আমার থুথু (তাহাঁর থুথুর সঙ্গে) মিশ্রিত হয়ে যায়। তারপর তিনি বলেন, আবদুর রহমান ইবনু আবু বকর (রাদি.) তাহাঁর ঘরে প্রবেশ করিল আর তার হাতে একটি মিসওয়াক ছিল যা দিয়ে সে তার দাঁত মাজছিল। রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) তার দিকে তাকালেন। আমি তখন তাকে বললাম, হে আবদুর রহমান! এই মিসওয়াকটি আমাকে দাও; তখন সে আমাকে তা দিয়ে দিল। আমি সেটি চিবিয়ে নরম করে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে দিলাম। তিনি (সাঃআঃ) তা দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করিলেন, তিনি তখন আমার বুকে হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। [৮৯০;মুসলিম ৪৪/১৩, হাদীস ২৪৪৩] (আ.প্র. ৪০৯৭, ই.ফা. ৪১০০)

৪৪৫১

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাঃআঃ) আমার ঘরে আমার পালার দিনে এবং আমার গণ্ড ও সীনার মধ্যস্থলে থাকা অবস্থায় ইন্তিকাল করেন। নবী (সাঃআঃ) অসুস্থ হলে আমাদের মধ্যকার কেউ দুআ পড়ে তাঁকে ঝাড়ফুঁক করিতেন। আমি নবী (সাঃআঃ)-কে ঝাড়ফুঁক করার জন্য তাহাঁর কাছে গেলাম। তখন তিনি তাহাঁর মাথা আকাশের দিকে উঠিয়ে বলিলেন, উচ্চে সমাসীন বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হইতে চাই), উচ্চে সমাসীন মহান বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হইতে চাই)। এ সময় আবদুর রহমান ইবনু আবু বকর (রাদি.) আগমন করিলেন। তাহাঁর হাতে মিসওয়াকের একটি তাজা ডাল ছিল। নবী (সাঃআঃ) তখন সেদিকে তাকালেন। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, তাহাঁর [নবী (সাঃআঃ)]-এর মিসওয়াকের প্রয়োজন। তখন আমি সেটি নিয়ে চিবালাম, ঝেড়ে মুছে পরিস্কার করলাম এবং নবী (সাঃআঃ)-কে তা দিলাম। তখন তিনি এর দ্বারা এত সুন্দরভাবে দাঁত পরিস্কার করিলেন যে, এর আগে কখনও এরূপ করেননি। তারপর তা আমাকে দিলেন। এরপর তাহাঁর হাত ঢলে পড়ল অথবা রাবী বলেন, তাহাঁর হাত থেকে ঢলে পড়ল। আল্লাহ তাআলা আমার থুথুকে নবী (সাঃআঃ)-এর থুথুর সঙ্গে মিলিয়ে দিলেন। তার এ দুনিয়ার শেষ দিনে এবং আখিরাতের প্রথম দিনে। [৮৯০] (আ.প্র. ৪০৯৮, ই.ফা. ৪১০১)

৪৪৫২

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আবু বকর (রাদি.) ঘোড়ার উপর সওয়ার হয়ে তার সুনহের বাড়ি থেকে আগমন করেন। ঘোড়া থেকে অবতরণ করে তিনি মসজিদে নাববীতে প্রবেশ করেন কিন্তু কারো সঙ্গে কোন কথা না বলে আয়েশাহ (রাদি.)-এর কাছে উপস্থিত হন। তখন রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ ইয়ামানী চাদর দ্বারা আবৃত ছিলেন। তখন তিনি চেহারা হইতে কাপড় হটিয়ে তাহাঁর উপর ঝুঁকে পড়লেন এবং তাঁকে চুমু দিলেন ও কেঁদে ফেললেন। তারপর বলিলেন, আমার মাতাপিতা আপনার প্রতি কুরবান হোক! আল্লাহর কসম! আল্লাহ তো আপনাকে দুবার মৃত্যু দিবেন না, যে মৃত্যু ছিল আপনার জন্য নির্ধারিত সে মৃত্যু আপনি গ্রহণ করে নিলেন। [১২৪১, ১২৪২] (আঃপ্রঃ ৪০৯৯, ইঃফাঃ ৪১০২)

৪৪৫৩

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আবু বকর (রাদি.) ঘোড়ার উপর সওয়ার হয়ে তার সুনহের বাড়ি থেকে আগমন করেন। ঘোড়া থেকে অবতরণ করে তিনি মসজিদে নাববীতে প্রবেশ করেন কিন্তু কারো সঙ্গে কোন কথা না বলে আয়েশাহ (রাদি.)-এর কাছে উপস্থিত হন। তখন রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ ইয়ামানী চাদর দ্বারা আবৃত ছিলেন। তখন তিনি চেহারা হইতে কাপড় হটিয়ে তাহাঁর উপর ঝুঁকে পড়লেন এবং তাঁকে চুমু দিলেন ও কেঁদে ফেললেন। তারপর বলিলেন, আমার মাতাপিতা আপনার প্রতি কুরবান হোক! আল্লাহর কসম! আল্লাহ তো আপনাকে দুবার মৃত্যু দিবেন না, যে মৃত্যু ছিল আপনার জন্য নির্ধারিত সে মৃত্যু আপনি গ্রহণ করে নিলেন। [১২৪১, ১২৪২] (আঃপ্রঃ ৪০৯৯, ইঃফাঃ ৪১০২)

৪৪৫৪

ইমাম যুহরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

আমাকে আবু সালামাহ (রাদি.) আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদি.) থেকে বর্ণনা করিয়াছেন, আবু বকর (রাদি.) বের হয়ে আসেন তখন উমার (রাদি.) লোকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। আবু বকর (রাদি.) তাঁকে বলিলেন, হে উমার (রাদি.) বসে পড়। উমার (রাদি.) বসতে অস্বীকার করিলেন। তখন সাহাবীগণ উমার (রাদি.)-কে ছেড়ে আবু বকর (রাদি.)-এর দিকে গেলেন। তখন আবু বকর (রাদি.) বলিলেন- “অতঃপর আপনাদের মধ্যে যারা মুহাম্মাদ (সাঃআঃ)-এর ইবাদত করিতেন, তিনি তো ইন্তিকাল করিয়াছেন। আর যারা আপনাদের মধ্যে আল্লাহর ইবাদাত করিতেন (জেনে রাখুন) আল্লাহ চিরঞ্জীব, কখনো মরবেন না। আল্লাহ বলেন,….. -মুহাম্মাদ (সাঃআঃ) একজন রাসুল মাত্র, তাহাঁর পূর্বে বহু রাসুল গত হয়েছেন। ….. কৃতজ্ঞদের পুরস্কৃত করবেন- (সুরা আলু ইমরান ৩/১৪৪)।

ইবনু আব্বাস (রাদি.) বলেন, আল্লাহর কসম! আবু বকর (রাদি.)- এর পাঠ করার পূর্বে লোকেরা যেন জানত না যে, আল্লাহ তাআলা এরূপ আয়াত অবতীর্ণ করিয়াছেন। এরপর সমস্ত সহাবী তাহাঁর থেকে উক্ত আয়াত শিখে নিলেন। তখন সবাইকে উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করিতে শুনলাম। আমাকে সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) জানিয়েছেন, উমার (রাদি.) বলেছেন, আল্লাহর কসম! আমি যখন আবু বকর (রাদি.)- কে উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করিতে শুনলাম, তখন ভীত হয়ে পড়লাম এবং আমার পা দুটি যেন আমার ভার নিতে পারছিল না, এমনকি আমি মাটিতে পড়ে গেলাম যখন শুনতে পেলাম যে, তিনি তিলাওয়াত করছেন যে নবী (সাঃআঃ) ইন্তিকাল করিয়াছেন। [১২৪২] (আ.প্র. ৪০৯৯ ই.ফা. ৪১০২)

৪৪৫৫

আয়েশাহ ও ইবনু আববাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আবু বকর (রাদি.) নবী সাঃআঃ-এর ইন্তিকালের পর তাঁকে চুমু দেন। [১২৪১, ১২৪২, ৫৭০৯] (আঃপ্রঃ ৪১০০, ইঃফাঃ ৪১০৩)

৪৪৫৬

আয়েশাহ ও ইবনু আববাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আবু বকর (রাদি.) নবী সাঃআঃ-এর ইন্তিকালের পর তাঁকে চুমু দেন। [১২৪১, ১২৪২, ৫৭০৯] (আঃপ্রঃ ৪১০০, ইঃফাঃ ৪১০৩)

৪৪৫৭

আয়েশাহ ও ইবনু আববাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আবু বকর (রাদি.) নবী সাঃআঃ-এর ইন্তিকালের পর তাঁকে চুমু দেন। [১২৪১, ১২৪২, ৫৭০৯] (আঃপ্রঃ ৪১০০, ইঃফাঃ ৪১০৩)

৪৪৫৮

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আমরা নবী (সাঃআঃ)- এর রোগাক্রান্ত অবস্থায় তাহাঁর মুখে ঔষধ ঢেলে দিলাম। তিনি ইশারায় আমাদেরকে তাহাঁর মুখে ঔষধ ঢালতে নিষেধ করিলেন। আমরা বললাম, এটা ঔষধের প্রতি রোগীদের স্বাভাবিক বিরক্তিবোধ। যখন তিনি সুস্থবোধ করিলেন তখন তিনি বলিলেন, আমি কি তোমাদের ওষুধ সেবন করাতে নিষেধ করিনি? আমরা বললাম, আমরা মনে করেছিলাম এটা ঔষধের প্রতি রোগীর সাধারণ বিরক্তিভাব। তখন তিনি বলিলেন, আব্বাস ব্যতীত বাড়ির প্রত্যেকের মুখে ঔষধ ঢাল তা আমি দেখি। [৯৮] কেননা সে তোমাদের মাঝে উপস্থিত নেই। এ হাদীস ইবনু আবু যিনাদ …… আয়েশাহ (রাদি.) থেকে এবং তিনি নবী (সাঃআঃ) থেকে বর্ণনা করেন। [৫৭১২, ৬৮৮৬, ৬৮৯৭; মুসলিম ৩৯/২৭, হাদীস ২২১৩, আহমাদ ২৪৩১৭] (আ.প্র. ৪১০১, ই.ফা. ৪১০৪)

[৯৮] প্রথমতঃ এখানে অতি সামান্য ব্যাপারেও কিসাসের বৈধতা প্রমাণিত হয়। দ্বিতীয়তঃ নবী (সাঃ)-এর সুস্থ ও অসুস্থ সর্বাবস্থাতেই তার নির্দেশ পালনের অপরিহার্যতা সমভাবে প্রযোজ্য।

৪৪৫৯

আসওয়াদ (ইবনু ইয়াযীদ) (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আয়েশাহ (রাদি.)-এর কাছে উল্লেখ করা হল যে, নবী (সাঃআঃ) আলী (রাদি.)- কে ওসীয়াত করে গেছেন। তখন তিনি বলিলেন, এ কথা কে বলেছে? আমার বুকের সঙ্গে হেলান দেয়া অবস্থায় আমি নবী (সাঃআঃ)-কে দেখেছি। তিনি একটি চিলিমচি চাইলেন, তাতে থুথু ফেললেন এবং ইন্তিকাল করিলেন। অতএব আমার বোধগম্য নয় তিনি কীভাবে আলী (রাদি.)- কে ওসীয়াত করিলেন। [২৭৪১] (আ.প্র. ৪১০২, ই.ফা. ৪১০৫)

৪৪৬০

ত্বলহা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আবু আওফা (রাদি.)- কে জিজ্ঞেস করলাম নবী (সাঃআঃ) কি ওসীয়াত করে গেছেন? তিনি বলিলেন, না। তখন আমি বললাম, তাহলে কেমন করে মানুষের জন্য ওসীয়াত লিপিবদ্ধ করা হল অথবা কীভাবে এর নির্দেশ দেয়া হল? তিনি বলিলেন, নবী (সাঃআঃ) কুরআন সম্পর্কে ওসীয়াত করে গেছেন। [২৭৪০] (আ.প্র. ৪১০৩, ই.ফা. ৪১০৬)

৪৪৬১

আমর ইবনু হারিস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) কোন দীনার, দিরহাম, গোলাম ও বাঁদি রেখে যাননি। কেবলমাত্র একটি সাদা খচ্চর যার উপর তিনি আরোহণ করিতেন এবং তাহাঁর যুদ্ধাস্ত্র আর একখণ্ড যমীন যা মুসাফিরদের জন্য ওয়াক্‌ফ করে গেছেন। [২৭৩৯] (আ.প্র. ৪১০৪, ই.ফা. ৪১০৭)

৪৪৬২

আনাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন নবী (সাঃআঃ)- এর রোগ প্রকটরূপ ধারণ করে তখন তিনি বেঁহুশ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় ফাতেমাহ (রাদি.) বলিলেন, উহ! আমার পিতার উপর কত কষ্ট! তখন নবী (সাঃআঃ) তাঁকে বলিলেন, আজকের পরে তোমার পিতার উপর আর কোন কষ্ট নেই। যখন তিনি ইন্তিকাল করিলেন তখন ফাতেমাহ (রাদি.) বলিলেন, হায়! আমার পিতা! রবের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। হায় আমার পিতা! জান্নাতুল ফিরদাউসে তাহাঁর বাসস্থান। হায় পিতা! জিবরীল (আঃ)- কে তাহাঁর ইন্তিকালের খবর শুনাই। যখন নবী (সাঃআঃ)-কে সমাহিত করা হল, তখন ফাতিমাহ (রাদি.) বলিলেন, হে আনাস! রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে মাটি চাপা দিয়ে আসা তোমরা কীভাবে বরদাশত করলে! (আ.প্র. ৪১০৫, ই.ফা. ৪১০৮)

৬৪/৮৫. অধ্যায়ঃ নবী (সাঃআঃ)-এর সর্বশেষ কথা

৪৪৬৩

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাঃআঃ) সুস্থ থাকাকালীন বলিতেন, কোন নবীর ওফাত হয়নি যতক্ষণ না তাকে জান্নাতে তাহাঁর ঠিকানা দেখানো হয়। তারপর তাঁকে দুনিয়া বা আখিরাত একটি বেছে নিতে বলা হয়। যখন নবী (সাঃআঃ)-এর রোগ বৃদ্ধি পেল তখন তাহাঁর মাথা আমার উরুর উপর ছিল এ সময় তিনি মূর্ছা যান। তারপর তাহাঁর হুশ ফিরে এলে, ছাদের দিকে তিনি দৃষ্টি তোলেন। তারপর বলেন, হে আল্লাহ! আমাকে উচ্চে সমাসীন বন্ধুর (সঙ্গে মিলিত করুন)। তখন আমি বললাম, তিনি আর আমাদের মাঝে থাকতে চাচ্ছেন না। আমি বুঝতে পারলাম যে, এটা হল ঐ কথা যা তিনি সুস্থাবস্থায় আমাদের কাছে বর্ণনা করিতেন। আয়েশাহ (রাদি.) বলেন, নবী (সাঃআঃ)-এর শেষ কথা যা তিনি বলেছিলেন তা হল……- হে আল্লাহ! উচ্চে সমাসীন বন্ধুর (সঙ্গে মিলিত করুন)। [৪৪৩৫] (আ.প্র. ৪১০৬, ই.ফা. ৪১০৯)

৬৪/৮৬.অধ্যায়ঃ নবী (সাঃআঃ)-এর মৃত্যু

৪৪৬৪

আয়েশাহ ও ইবনু আববাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাঃআঃ নুযুলে কুরআনের দশ বছর [১] মক্কা্য় কাটান আর মদিনা্তেও দশ বছর কাটান। [৩৮৫১, ৪৯৭৮] (আঃপ্রঃ ৪১০৭, ইঃফাঃ ৪১১০)

[১] বলা হয়েছে নুবুওয়াতের পর হইতে মাক্কাহ্য় নবী সাঃআঃ ১৩ বছর অবস্থান করলেও যে তিন বছর ওয়াহী অবতরণ বন্ধ থাকে সে তিন বছরকে নুযূলে কুরআনের বছর হিসেবে ধরা হয়নি। তাই দশ বছর বলা হয়েছে। (ফতহুল বারী)

৪৪৬৫

আয়েশাহ ও ইবনু আববাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাঃআঃ নুযুলে কুরআনের দশ বছর [১] মক্কা্য় কাটান আর মদিনা্তেও দশ বছর কাটান। [৩৮৫১, ৪৯৭৮] (আঃপ্রঃ ৪১০৭, ইঃফাঃ ৪১১০)

[১] বলা হয়েছে নুবুওয়াতের পর হইতে মাক্কাহ্য় নবী সাঃআঃ ১৩ বছর অবস্থান করলেও যে তিন বছর ওয়াহী অবতরণ বন্ধ থাকে সে তিন বছরকে নুযূলে কুরআনের বছর হিসেবে ধরা হয়নি। তাই দশ বছর বলা হয়েছে। (ফতহুল বারী)

৪৪৬৬

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

ওফাতকালে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর বয়স ছিল তেষট্টি বছর। ইবনু শিহাব যুহরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমাকে সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব এ রকমই জানিয়েছেন। [৩৫৩৬] (আ.প্র. ৪১০৮, ই.ফা. ৪১১১)

৬৪/৮৭. অধ্যায়ঃ পরিচ্ছেদ নেই

৪৪৬৭

আয়েশাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাঃআঃ) ইন্তিকাল করেন এমন অবস্থায় যে, তাহাঁর বর্ম ত্রিশ সা যবের বিনিময়ে ইয়াহূদীর কাছে বন্ধক রাখা ছিল। [২০৬৮] (আ.প্র. ৪১০৯, ই.ফা. ৪১১২)

৬৪/৮৮. অধ্যায়ঃ নবী (সাঃ)- এর মৃত্যু- রোগের অবস্থায় উসামাহ ইবনু যায়দ (রাদি.)-কে যুদ্ধাভিযানে প্রেরণ

৪৪৬৮

আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নবী (সাঃআঃ)- উসামাহ ইবনু যায়দ (রাদি.)- কে (একটি অভিযানে আমীর) নিযুক্ত করেন। [১০০] এটা নিয়ে সাহাবীগণ বলাবলি করেন। তখন নবী (সাঃআঃ) বলিলেন, আমি খবর পেয়েছি, তোমরা উসামাহর আমীর নিযুক্তি নিয়ে বলাবলি করছ, অথচ সে হচ্ছে আমার নিকট সবার চেয়ে প্রিয়। [৩৭৩০] (আ.প্র. ৪১১০, ই.ফা. ৪১১৩)

[১০০] রাসুলুল্লাহ (সাঃ)- এর পালক পুত্র যায়দ-এর পুত্র উসামাহকে তিনি সিরিয়ার দিকে এক জিহাদে আমীর নিযুক্ত করেন। যে সেনাদলে আবু বাক্‌র ও উমার (রাদি.)-এর মত বড় বড় উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন সহাবীও ছিলেন ।

৪৪৬৯

আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) একটি সেনাদল প্রেরণ করেন এবং উসামাহ ইবনু যায়দ (রাদি.)-কে তাদের আমীর নিয়োগ করেন। তখন সাহাবীগণ তাহাঁর নেতৃত্বের সমালোচনা করিতে থাকেন। এতে রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ) দাঁড়ালেন এবং বলিলেন, তোমরা আজ তার নেতৃত্বের সমালোচনা করছ, এভাবে তোমরা তাহাঁর পিতা (যায়দ)- এর নেতৃত্বের সমালোচনা করিতে। আল্লাহর কসম! সে (যায়দ) ছিল নেতৃত্বের জন্য যোগ্য ব্যক্তি এবং আর সে আমার কাছে লোকদের মধ্যে প্রিয়তম ব্যক্তি। তার এ (উসামাহ) লোকদের মধ্যে আমার কাছে প্রিয়তম ব্যক্তি। [৩৭৩০] (আ.প্র. ৪১১১, ই.ফা. ৪১১৪)

৬৪/৮৯. অধ্যায়ঃ পরিচ্ছেদ নেই

৪৪৭০

সুনাবিহী (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তাকে কেউ জিজ্ঞেস করেন, আপনি কখন হিজরাত করেছিলেন? তিনি বলেন, আমরা ইয়ামান থেকে হিজরাতের নিয়্যাতে বের হয়ে জুহফাতে পৌছি। তখন একজন অশ্বারোহী পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, খবর কী খবর কী? তিনি বলিলেন, পাঁচদিন পূর্বে আমরা নবী (সাঃআঃ)- কে সমাহিত করেছি। তখন আমি তাঁকে বললাম, তুমি কি কাদারের রাত সম্পর্কে কিছু শুনেছ? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, নবী (সাঃআঃ)-এর মুয়ায্‌যিন বিলাল (রাদি.) আমাকে জানিয়েছেন যে, তা হল রমাযানের শেষ দশকের সপ্তম দিনে। (আ.প্র. ৪১১২, ই.ফা. ৪১১৫)

৬৪/৯০. অধ্যায়ঃ নবী (সাঃ) কতটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন?

৪৪৭১

আবু ইসহাক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি যায়দ ইবনু আরকাম (রাদি.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর সঙ্গে কয়টি যুদ্ধে করিয়াছেন? তিনি বলেন, সতেরটি। আমি বললাম, নবী (সাঃআঃ) কয়টি যুদ্ধ করিয়াছেন? তিনি বলিলেন, ঊনিশটি। [৩৯৪৯] (আ.প্র. ৪১১৩, ই.ফা. ৪১১৬)

৪৪৭২

বারাআ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাঃআঃ) – এর সঙ্গে পনেরটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। (আ.প্র. ৪১১৪, ই.ফা. ৪১১৭)

৪৪৭৩

বুরাইদাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃআঃ)- এর সঙ্গে ষোলটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। [মুসলিম ৩২/৪৯, হাদীস ১৮১৪] (আ.প্র. ৪১১৫, ই.ফা. ৪১১৮)

By বুখারী শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply