নবীর উপর দরুদ শরীফ পাঠ ও তার মর্যাদা

নবীর উপর দরুদ শরীফ পাঠ ও তার মর্যাদা

নবীর উপর দরুদ শরীফ পাঠ ও তার মর্যাদা  >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ৪, অধ্যায়ঃ ১৬

  • অধ্যায়ঃ ১৬. প্রথম অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ১৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ১৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

অধ্যায়ঃ ১৬. প্রথম অনুচ্ছেদ

৯১৯. আবদুর রহমান ইবনি আবু লায়লা [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কাব ইবনি উজরাহ [রাদি.] এর সাথে আমার দেখা হলে তিনি বললেন, হে আবদুর রহমান! আমি কি তোমাকে একটি কথা উপহার দিব যা আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে শুনিয়াছি? উত্তরে আমি বললাম, হ্যাঁ আমাকে তা উপহার দিন। তিনি বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে জিজ্ঞেস করে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার প্রতি আমরা সালাম কিভাবে পাঠ করব তা আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। আমরা আপনার ও আপনার পরিবারের প্রতি সলাত কিভাবে পাঠ করব? রসূল [সাঃআঃ] বললেন, তোমরা বল,

اللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلى إِبْرَاهِيمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ اَللّهُمَّ بَارِكْ عَلى مُحَمَّدٍ وَّعَلى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ

“আল্লা-হুম্মা সাল্লি আলা- মুহাম্মাদিও ওয়া আলা- আ –লি মুহাম্মাদিন কামা- সল্লায়তা আলা- ইবরা-হীমা ওয়া আল – আ –লি ইবরা-হীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বা-রিক আলা- মুহাম্মাদিন ওয়া আলা- আ –লি মুহাম্মাদিন কামা-বা-রাকতা আলা- ইবরা-হীমা ওয়া আলা- আ –লি ইবরা-হীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ” – [অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবার-পরিজনের প্রতি রাহমাত বর্ষণ কর, যেভাবে তুমি রাহমাত বর্ষণ করেছ ইবরাহীম ও ইবরাহীমের পরিবার-পরিজনের প্রতি। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও সম্মানিত। হে আল্লাহ! তুমি বারাকাত নাযিল কর মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের প্রতি, যেভাবে তুমি বারাকাত নাযিল করেছ ইবরাহীম ও ইবরাহীমের পরিবার-পরিজনের প্রতি। তুমি বড় প্রশংসিত ও সম্মানিত]। {১}

কিন্তু ঈমাম মুসলিম-এর বর্ণনায় আলা-ইবরা-হীম শব্দ দু স্থানে উল্লিখিত হয়নি।{১} সহীহ : বোখারী ৩৩৭০, মুসলিম ৪০৬। মুসলিমে শুধুমাত্র عَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ রয়েছে। তবে বোখারী, আহমাদ, নাসায়ী, ত্বহাবীসহ অন্যান্যরা দুটিকে একত্রিত করে [عَلى إِبْرَاهِيمَ وَعَلى آلِ إِبْرَاهِيْمَ] বর্ণনা করিয়াছেন। অতএব, যারা দুটি শব্দকে একত্রিত করণকে অস্বীকার করে যে, তা কোন সহীহ হাদীসে নেই এটি তাদের জন্য সুস্পষ্ট প্রমাণ। নবীর উপর দরুদ শরীফ -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

৯২০. আবু হুমায়দ আস্ সাইদী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার প্রতি কিভাবে দরূদ পাঠ করব? রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমরা বল,

 اللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَّأَزْوَاجِه وَذُرِّيَّتِه كَمَا صَلَّيْتَ عَلى الِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلى مُحَمَّدٍ وَّأَزْوَاجِه وَذُرِّيَّتِه كَمَا بَارَكْتَ عَلى الِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ

আল্লাহুম্মা…..” শেষ পর্যন্ত। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ৬৩৬০, মুসলিম ৪০৭, আবু দাউদ ৯৭৯, নাসায়ী ১২৯৪, ইবনি মাজাহ ৯০৫, আহমাদ ২৩৬০০। নবীর উপর দরুদ শরীফ -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

৯২১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ শরীফ পাঠ করে আল্লাহ তাআলা তার প্রতি দশবার রহমাত বর্ষণ করেন। {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ৪০৮, আবু দাউদ ১৫৩০, নাসায়ী ১২৯৬, তিরমিজি ৪৮৫, আহমাদ ৮৮৫৪, দারিমি ২৮১৪, সহীহ আত তারগীব ১৬৫৬। নবীর উপর দরুদ শরীফ -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

অধ্যায়ঃ ১৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৯২২. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করিবে, আল্লাহ তাআলা তার উপর দশবার রাহমাত নাযিল করিবেন। তার দশটি গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে, আর আল্লাহর নৈকট্যের জন্য দশটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়া হবে। {১}

{১} সহীহ : নাসায়ী ১২৯৭, হাকিম ১/৫৫০। নবীর উপর দরুদ শরীফ -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

৯২৩. ইবনি মাস্ঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যারা আমার প্রতি বেশী বেশী দরূদ পাঠ করিবে তারাই ক্বিয়ামাতের দিন আমার বেশী নিকটে হবে। {১}

{১} হাসান লিগয়রিহী : তিরমিজি ৪৮৪, সহীহ আত তারগীব ১৬৬৮। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান লিগাইরিহি

৯২৪. উক্ত রাবী {আনাস [রাদি.]] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহর কিছু মালাক আছেন যারা পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ান। তারা আমার উম্মাতের সালাম আমার কাছে পৌছান। {১}

{১} সহীহ : নাসায়ী ১২৮২, সিলসিলাহ্ আস্ সহীহাহ্ ২৮৫৩, হাকিম ২/৪২১, দারিমী ২৮১৬। নবীর উপর দরুদ শরীফ -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

৯২৫. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কেউ আমার উপর সালাম পাঠ করলে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমার কাছে আমার রূহ ফেরত দেন যাতে আমি তার সালামের উত্তর দিতে পারি। {১}

{১} হাসান : আবু দাউদ ২০৪১, সহীহ আল জামি ৫৬৭৯, বায়হাক্বীর দাওয়াতে কাবীর ১৭৮। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান হাদিস

৯২৬. উক্ত রাবী {আবু হুরাইরাহ [রাদি.]] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ তোমরা তোমাদের ঘরকে কবরস্থান বানিও না, আর আমার কবরকেও উৎসবস্থলে পরিণত কর না। আমার প্রতি তোমরা দরূদ পাঠ করিবে। তোমাদের দরূদ নিশ্চয়ই আমার কাছে পৌছে, তোমরা যেখানেই থাক না কেন। {১}

{১} সহীহ লিগয়রিহী : আবু দাউদ ২০৪২, সহীহ আল জামি ৭২২৬। আলবানী [রাহিমাহুল্লাহ] বলেনঃ আমি নাসায়ীর সুনানে সুগরায় পায়নি। হয়তবা তাহাঁর সুনানে কুবরা বা عَمَلُ الْيَوْمِ اللَّيْلَةِ গ্রন্থে রয়েছে। তবে ঈমাম সুয়ূত্বী তার জামিউল কাবীর গ্রন্থে নাসায়ীর দিকে মোটেও সমন্বিত করেননি। বরং তিনি আবু দাউদ, বায়হাক্বীর দিকে নিসবাত করিয়াছেন। হাদিসের সানাদটি মূলত হাসান তবে তার শাহিদ বর্ণনা থাকায় তা সহীহ-এর স্তরে উন্নীত হয়েছে। এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ লিগাইরিহি

৯২৭. উক্ত রাবী {আবু হুরাইরাহ [রাদি.]] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ লাঞ্চিত হোক সেই ব্যক্তি যার নিকট আমার নাম উচ্চারিত হয় কিন্তু সে আমার প্রতি দরূদ পাঠ করে না। লাঞ্চিত হোক সেই ব্যক্তি যার কাছে রমাযান মাস আসে আবার তার গুনাহ ক্ষমার আগে সে মাস চলে যায়। লাঞ্চিত হোক সেই ব্যক্তি, যার নিকট তার বৃদ্ধ মা-বাপ অথবা দুজনের একজন বেঁচে থাকে অথচ তারা তাকে জান্নাতে পৌছায় না। {১}

{১} হাসান সহীহ : তিরমিজি ৩৫৪৫, সহীহ আত তারগীব, হাকিম ১/৫৪৯। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান সহীহ

৯২৮. আবু ত্বলহাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সাহাবীগণের কাছে তাশরীফ আনলেন। তখন তাহাঁর চেহারায় বড় হাসি-খুশী ভাব। তিনি বললেন, আমার নিকট জিবরীল আলায়হি ওয়াসাল্লাম এসেছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনার রব বলেছেন, আপনি কি এ কথায় সন্তুষ্ট নন যে, আপনার উম্মাতের যে কেউ আপনার উপর একবার দরূদ পাঠ করিবে আমি তার উপর দশবার রাহমাত বর্ষণ করব? আর আপনার উম্মাতের কোন ব্যক্তি আপনার উপর একবার সালাম পাঠালে আমি তার উপর দশবার সালাম পাঠাব? {১}

{১} হাসান সহীহ : নাসায়ী ১২৮৩, দারিমী ২৮১৫। যদিও তাতে হাসান ইবনি আলী [রাদি.]-এর আযাদকৃত দাস সুলায়মান নামে একজন মাজহূল [অপরিচিত] রাবী রয়েছে। কিন্তু মুসনাদে আহমাদে এবং فَضْلُ الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ-তে আবু ত্বলহাহ্ [রাদি.]-এর সূত্রে হাদিসটির আরো দুটি শাহিদ রয়েছে। আর হাকিমে আনাস [রাদি.] থেকে। তাই এ সকল শাহিদ-এর ভিত্তিতে তা সহীহ-এর স্তরে উন্নীত হয়েছে। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান সহীহ

৯২৯. উবাই ইবনি কাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কাছে গিয়ে আরয করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনার উপর অনেক বেশী দরূদ পাঠ করি। আপনি আমাকে বলে দিন আমি [দুআর জন্য যতটুকু সময় বরাদ্দ করে রেখেছি তার] কতটুকু সময় আপনার উপর দরূদ পাঠাবার জন্য নির্দিষ্ট করব? উত্তরে নবী [সাঃআঃ] বললেন, তোমার মন যা চায়। আমি আরয করলাম, যদি এক তৃতীয়াংশ করি? নবী [সাঃআঃ] বললেন, তোমার মন যা চায়, যদি আরো বেশী কর তাহলে তা তোমার জন্য কল্যাণকর। আমি আরয করলাম, যদি অর্ধেক সময় নির্ধারণ করি? নবী [সাঃআঃ] বলেন, তোমার মন যতটুকু চায় কর। যদি আরো বেশী নির্ধারণ কর তাহলে তোমার জন্যই ভাল। আমি বললাম, যদি দুই-তৃতীয়াংশ করি। নবী [সাঃআঃ] বললেন, তোমার মন যা চায়। যদি আরো বেশি নির্ধারণ কর তোমার জন্যই কল্যাণকর। আমি আরয করলাম, তাহলে [আমি আমার দুআর সবটুকু সবসময়ই আপনার উপর দরূদ পড়ার কাজে নির্দিষ্ট করে দেব]। নবী [সাঃআঃ] বললেন, তবে এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে, তোমার দীন-দুনিয়ার মকসুদ পূর্ণ হবে এবং তোমার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। {১}

{১} সহীহ : তিরমিজি ২৪৫৭, সহীহ আত তারগীব ১৬৭০। নবীর উপর দরুদ শরীফ -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

৯৩০. ফুযালাহ্ ইবনি উবায়দ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] উপবিষ্ট ছিলেন। তখন একজন লোক এলেন। তিনি সলাত পড়লেন এবং এই দুআ পড়লেন “আল্লাহুম্মাগফিরলী ওয়ারহামনী” [অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা কর ও আমার উপর রহম কর]। এ কথা শুনে নবী [সাঃআঃ] বললেন, হে সলাত আদায়কারী! তুমি তো নিয়ম ভঙ্গ করে বড্ড তাড়াহুড়া করলে। তারপর তিনি বললেন, তুমি সালাম শেষ করে দুআর জন্য বসবে। আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করিবে। আমার উপর দরূদ পড়। তারপর তুমি যা চাও আল্লাহর কাছে দুআ করিবে। ফুযালাহ [রাদি.] বলেন, এরপর আর এক ব্যক্তি এলো সলাত আদায় করলো। সে সলাত শেষে আল্লাহর প্রশংসা করিল, নবী করীমের উপর দরূদ পাঠ করিল। নবী [সাঃআঃ] বললেন, হে সলাত আদায়কারী! আল্লাহর কাছে দুআও কর। দুআ কবূল করা হবে। {৯৫৪] আবু দাউদ, নাসায়ী-ও এরূপই বর্ণনা করিয়াছেন। {১}

{১} সহীহ : তিরমিজি ৩৪৭৬, সহীহ আত তারগীব ১৬৪৩, নাসায়ী ১/১৮৯, আহমাদ ৬/১৮। যদিও এর সানাদে রিশদীন ইবনি সাদ দুর্বল রাবী কিন্তু নাসায়ীতে আবদুল্লাহ ইবনি ওয়াহ্ব থেকে আর তিরমিজি, আবু দাউদ, আহমাদে হায়ওয়াহ থেকে এর মুতাবি হাদিস রয়েছে যার মাধ্যমে তার সে ত্রুটি দূর হয়ে গেছে। নবীর উপর দরুদ শরীফ -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

৯৩১. আবদুল্লাহ ইবনি মাস্ঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি সলাত আদায় করছিলাম। নবী [সাঃআঃ] ও উপস্থিত ছিলেন। তাহাঁর কাছে ছিলেন আবু বাকর ও উমার [রাদি.]। সলাত শেষে আমি যখন বসলাম আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করলাম, এরপর রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর উপর দরূদ পাঠ করলাম। তারপর আমি আমার নিজের জন্য দুআ করিতে লাগলাম। নবী [সাঃআঃ] বললেন, চাও, তোমাকে দেয়া হবে। চাও, তোমাকে দেয়া হবে। {১}

{১} হাসান সহীহ : তিরমিজি ৫৯৩। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান সহীহ

অধ্যায়ঃ ১৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৯৩২. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পূর্ণ মাপে বেশী বেশী সাওয়াব লাভে আনন্দিত হইতে চায়, সে যেন আমার উপর দরূদ পাঠ করে, আহলে বায়তের উপরও যেন দরূদ পাঠ করে। বলে,

اللّهُمَّ صَلِّ عَلـى مُحَمَّدٍ النَّبِيّ الاَمِّـىِّ وَأَزْوَاجِه أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ وَذُرِّيَّتِه وَأَهْلِ بَيْتِه كَمَا صَلَّيْتَ عَلى الِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيدٌ

আল্লাহুম্মা সল্লি আলা- মুহাম্মাদীন্নাবীয়্যিল উম্মিয়্যি, ওয়া আযওয়াযিহী, ওয়া উম্মাহাতিল মুমিনীনা, ওয়া যুররিয়্যাতিহী ওয়া আহলে বায়তিহী, কামা- সল্লায়তা আলা- আ –লি ইবরাহীমা, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ” । [অর্থাৎ- হে আল্লাহ! নবী মুহাম্মাদ, তাহাঁর স্ত্রীগণ, মুমিনদের মা, তাহাঁর বংশধর ও পরিবার-পরিজনের উপর রহমাত অবতীর্ণ কর। যেভাবে, তুমি রাহমাত অবতীর্ণ করেছ ইবরাহীম ও তাহাঁর পরিবার-পরিজনের উপর]। {১}

{১} জইফ : আবু দাউদ ৯৮২, যঈফুল আল জামি ৫৬২৬। কারণ এর সানাদে হিব্বান ইবনি ইয়াসার আল ক্বিলাবী রয়েছে যাকে আবু হাতিম [রাহিমাহুল্লাহ] হাদিস বর্ণনায় দুর্বল বলেছেন আর ইবনি আদী [রাহিমাহুল্লাহ] তার হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত বলে মন্তব্য করিয়াছেন। ইবনি হাজার [রাহিমাহুল্লাহ] তাক্বরীব-এ বলেছেনঃ সে সত্যবাদী তবে মুখস্থশক্তিতে গড়পড় রয়েছে। আর তাহযীবে তাকে মুখতালাফ ফি বলেছেন। এ হাদিসটি যে আবু মুত্বররাফ উবায়দুল্লাহ ইবনি ত্বলহাহ্ থেকে বর্ণনা করিয়াছেন যাকে ইবনি হিব্বান ছাড়া আর কেউ বিশ্বস্ত বলেননি। আর ইবনি হাজার [রাহিমাহুল্লাহ] তাকে [উবায়দুল্লাহ ইবনি ত্বলহাহ্] হাদিস বর্ণনায় শিথিল বলে উল্লেখ করিয়াছেন। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

৯৩৩. খলীফাহ্ আলী ইবনি আবী ত্বালিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ প্রকৃত কৃপণ হল সে ব্যক্তি যার কাছে আমার নাম উচ্চারিত হবার পর আমার উপর দরূদ পাঠ করেনি। {৯৫৭] হাদিসটি ঈমাম আহমাদ হুসায়ন ইবনি আলী হইতে নকল করিয়াছেন; আর ঈমাম তিরমিজি বলেছেন, হাদিসটি হাসান, সহীহ ও গরীব। {১}

{১} সহীহ : তিরমিজি ৩৫৪৬, ইরওয়া ৫, আহমাদ ১৭৩৬, হাকিম ১/৫৪৯। এর সানাদের সকল রাবীগণ বিশস্ত প্রসিদ্ধ আবদুল্লাহ ইবনি আলী ব্যতীত। কারণ ইবনি হিব্বান ছাড়া কেউ তাকে বিশ্বস্ত বলেননি তবে তার আবু যার ও আনাস [রাদি.] থেকে বর্ণিত শাহিদ হাদিস রয়েছে। নবীর উপর দরুদ শরীফ -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

৯৩৪. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার ক্ববরের কাছে দাঁড়িয়ে থেকে আমার উপর দরূদ পড়ে আমি তা  শুনতে পাই। আর যে ব্যক্তি দূর থেকে আমার প্রতি দরূদ পড়ে তা আমার কাছে পৌছিয়ে দেয়া হয়। {১}

{১} মাওযূ বা বানোয়াট: বায়হাক্বী শুআবুল ঈমান ১৫৮৩, সিলসিলাহ্ আয্ যঈফাহ্ ৩০৩। কারণ এর সানাদে মুহাম্মাদ ইবনি মারওয়ান আয্ যিদী নামে একজন মিথ্যুক রাবী রয়েছে। আর এজন্য ইবনুল ক্বইয়্যিম তাকে তার আল মাওযূআত গ্রন্থে নিয়ে এসেছেন। তবে পরক্ষণেই তিনি বলেছেন যে, এ হাদিসটি মুতাবি রয়েছে যার মাধ্যমে তা সাধারণভাবে বানোয়াট হওয়া থেকে মুক্তি পেয়েছেন। {যেমনটি ঈমাম ইবনি তায়মিয়াহ্ [রাহিমাহুল্লাহ] সহ আরো অনেকে এ নীতি অবলম্বন করিয়াছেন]। ফলে এটি যঈফের অন্তর্গত হয়েছে। তবে ইবনি তাইমিয়্যাহ্ [রাহিমাহুল্লাহ] হাদিসের অর্থটি সঠিক বলেছেন যা অন্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। শায়খ আলবানী বলেনঃ আমি এ হাদিসের উপর সিলসিলাহ্ আয্ যঈফাতে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এই হাদিসটির তাহকীকঃ জাল হাদিস

৯৩৫. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর উপর একবার দরূদ পাঠ করিবে আল্লাহ তাআলা ও তাহাঁর মালায়িকাহ তার উপর সত্তরবার দরূদ পাঠ করেন। {১}

{১} জইফ : আহমাদ ৬৫৬৯, জইফ আত তারগীব ১০৩০। কারণ এর সানাদে ইবনি লাহ্ইয়া নামক দুর্বল রাবী রয়েছে। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

৯৩৬. রুওয়াইফি ইবনি সাবিত আল আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] এর উপর দরূদ পড়বে এবং বলবে,

اللّهُمَّ أَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَجَبَتْ لَه شَفَاعَتِي

“আল্লাহুম্মা আনজিলহু মাকআদাল মুকাররাবা ইনদাকা ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি”। [হে আল্লাহ! তাঁকে তুমি ক্বিয়ামাতের দিন তোমার কাছে মর্যাদাপূর্ণ স্থান দিও] আমার সুপারিশ তার জন্য অনিবার্য হয়ে যাবে। {১}

{১} জইফ : আহমাদ ১৬৫৪৩, জইফ আত তারগীব ১০৩৮। কারণ এর সানাদে ইবনি লাহ্ইয়া রয়েছে। দ্বিতীয়ত এর সানাদে ওয়াফা ইবনি শুরাইহ আল হাযরামী রয়েছে যাকে ইবনি হিব্বান ছাড়া কেউ বিশ্বস্ত বলেননি এবং তার থেকে মাত্র দুজন রাবী হাদিস বর্ণনা করেছে। আর এজন্যই হাফিয ইবনি হাজার তাকে হাদিস বর্ণনায় শিথিল বলেছেন। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

৯৩৭. আবদুর রহমান ইবনি আওফ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ঘর থেকে বের হয়ে একটি খেজুর বাগানে প্রবেশ করিলেন। এখানে তিনি আল্লাহর দরবারে সাজদারত হলেন। সাজদাহ এত দীর্ঘ করিলেন যে, আমি ভীত হয়ে পড়লাম। আল্লাহ না করুক তাঁকে তো আবার আল্লাহ মৃত্যুমুখে পতিত করেননি? আবদুর রহমান বলেন, তাই আমি তাহাঁর কাছে এলাম, পরখ করে দেখার জন্য। তিনি মাথা উঠালেন এবং বললেন, কি হয়েছে? আমি তাঁকে আমার আশংকার কথা বললাম। আবদুর রহমান বলেন, নবী [সাঃআঃ] তখন আমাকে বললেনঃ জিবরীল [আঃ] আমাকে বললেন, আমি কি আপনাকে এই শুভ সংবাদ দিবো না যা আল্লাহ তাআলা আপনার ব্যাপারে বলেন? যে ব্যক্তি আপনার উপর দরূদ পাঠ করিবে আমি তার প্রতি রাহমাত বর্ষণ করব। যে ব্যক্তি আপনার প্রতি সালাম পাঠাবে আমি তার প্রতি শান্তি নাযিল করব। {১}

{১} হাসান লিগয়রিহী : আহমাদ ১৬৬৫, সহীহ আত তারগীব ১৬৫৮। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান লিগাইরিহি

৯৩৮. উমার ইবনুল খাত্ত্বাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, দুআ আসমান ও জমিনের মধ্যে লটকিয়ে থাকে। এর থেকে কিছুই উপরে উঠে না যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের নবীর উপর দরূদ না পাঠাও। {১}

{১} সহীহ লিগয়রিহী : তিরমিজি ৪৮৬, সহীহ আত তারগীব ১৬৭৬। এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ লিগাইরিহি

By মিশকাত মুহিউস সুন্নাহ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply