নফল নামায ও সুন্নত নামায ঘরে পড়া উত্তম।

নফল নামায ও সুন্নত নামায ঘরে পড়া উত্তম।

নফল নামায ও সুন্নত নামায ঘরে পড়া উত্তম।  >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ২০৪: নফল নামায ও সুন্নত নামায ঘরে পড়া উত্তম। তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ হোক কিংবা অন্য কিছু। সুন্নত বা নফলের জন্য, যে স্থানে ফরয নামায পড়া হয়েছে সে স্থান পরিবর্তন করা বা ফরয ও তার মধ্যে কোনো কথা দ্বারা ব্যবধান সৃষ্টি করার নির্দেশ

1/1135 عَن زَيدِ بنِ ثَابِتٍ رضي الله عنه : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «صَلُّوا أَيُّهَا النَّاسُ فِي بُيُوتِكُمْ، فَإنَّ أفْضَلَ الصَّلاَةِ صَلاَةُ المَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلاَّ المَكْتُوبَةَ». متفقٌ عَلَيْهِ

১/১১৩৫। যায়েদ ইবনি সাবেত রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, “হে লোক সকল! তোমরা নিজ নিজ বাড়িতে নামায পড়। কারণ, ফরয নামায ব্যতীত পুরুষের উত্তম নামায হল, যা সে নিজ বাড়িতে পড়ে থাকে।” [বুখারী ও মুসলিম] [1]

2/1136 وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ:«اجْعَلُوا مِنْ صَلاَتِكُمْ فِي بُيُوتِكُمْ، وَلاَ تَتَّخِذُوهَا قُبُوراً». متفقٌ عَلَيْهِ

২/১১৩৬। ইবনি উমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, “তোমরা নিজেদের কিছু নামায তোমাদের বাড়িতে পড় এবং সে [ঘর-বাড়ি]গুলিকে কবরে পরিণত করো না।” [বুখারী ও মুসলিম][2]

3/1137 وَعَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا قَضَى أَحَدُكُمْ صَلاَتَهُ فِي مَسْجِدِهِ فَلْيَجْعَلْ لِبَيْتِهِ نَصِيباً مِنْ صَلاَتِهِ ؛ فَإِنَّ اللهَ جَاعِلٌ فِي بَيْتِهِ مِنْ صَلاَتِهِ خَيْراً». رواه مسلم

৩/১১৩৭। জাবের রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “যে ব্যক্তি স্বীয় [ফরয] নামায মসজিদে আদায় করে নেবে, সে যেন তার কিছু নামায নিজ বাড়ির জন্যও নির্ধারিত করে। কেননা, তার নিজ ঘরে আদায়কৃত [সুন্নত] নামাযে আল্লাহ তার জন্য কল্যাণ ও বরকত প্রদান করেন।” [মুসলিম][3]

4/1138 وَعَنْ عُمَرَ بنِ عَطَاءٍ: أَنَّ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرٍ أَرْسَلَهُ إِلَى السَّائِبِ ابنِ أُخْتِ نَمِرٍ يَسأَلُهُ عَنْ شَيْءٍ رَآهُ مِنْهُ مُعَاوِيَةُ فِي الصَّلاَةِ، فَقَالَ: نَعَمْ، صَلَّيْتُ مَعَهُ الجُمُعَةَ في المَقْصُورَةِ، فَلَمَّا سَلَّمَ الإمَامُ، قُمْتُ فِي مَقَامِي، فَصَلَّيْتُ، فَلَمَّا دَخَلَ أَرْسَلَ إلَيَّ، فَقَالَ: لاَ تَعُدْ لِمَا فَعَلْتَ. إِذَا صَلَّيْتَ الجُمُعَةَ فَلاَ تَصِلْهَا بِصَلاةٍ حَتَّى تَتَكَلَّمَ أَوْ تَخْرُجَ ؛ فَإِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَنَا بِذَلِكَ، أَن لاَ نُوصِلَ صَلاَةً بِصَلاَةٍ حَتَّى نَتَكَلَّمَ أَوْ نَخْرُجَ . رواه مسلم

৪/১১৩৮। উমার ইবনি আতা হইতে বর্ণিত, নাফে‘ ইবনি জুবাইর তাঁকে নামেরের ভাগ্নে সায়েবের নিকট এমন একটি বিষয়ে প্রশ্ন করার উদ্দেশ্যে পাঠালেন, যা মুয়াবিয়া রাঃআঃ তাঁকে নামাযের ব্যাপারে করিতে দেখেছিলেন। তিনি বলিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তাহাঁর [মুয়াবিয়া]র সাথে মাকসূরায় [মসজিদের মধ্যে বাদশাদের জন্য তৈরি বিশেষ নিরাপদ স্থান] জুমার নামায পড়েছি। সুতরাং যখন ইমাম সালাম ফিরালেন, তখন আমি যেখানে ফরয নামায পড়ছিলাম, সেখানেই উঠে দাঁড়িয়ে গেলাম এবং [সুন্নত] নামায পড়লাম। তারপর যখন মুয়াবিয়া রাঃআঃ বাড়ি প্রবেশ করিলেন, তখন আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বলিলেন, “তুমি যা করলে তা আগামীতে আর কখনো করো না। যখন তুমি জুমার [ফরয] নামায পড়বে, তখন তার সাথে মিলিয়ে অন্য নামায পড়ো না; যতক্ষণ না তুমি কারো সাথে কথা বল অথবা সেখান থেকে অন্যত্র সরে যাও। কেননা, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ এই আদেশ আমাদেরকে করিয়াছেন যে, আমরা যেন এক নামাযকে অন্য নামাযের সাথে না মিলাই, যতক্ষণ না কোনো লোকের সাথে কথা বলে নেই, কিংবা সেখান হইতে অন্যত্র সরে যাই।” [মুসলিম][4]


[1] সহীহুল বুখারী ৭৩১, ৬১১৩, ৭২৯০, মুসলিম ৭৮১, তিরমিযী ৪৫০, নাসায়ী ১৫৯৯, আবূ দাউদ ১০৪৪, ১৪৫৭, আহমাদ ২১০৭২, ২১০৮, ২১১১৪, মুওয়াত্তা মালিক ২৯৩, দারেমী ১৩৫৬

[2] সহীহুল বুখারী ৪৩২, ১১৮৭, মুসলিম ৭৭৭, তিরমিযী ৪৫১, নাসায়ী ১৫৯৮, আবূ দাউদ ১৪৫৮, ইবনু মাজাহ ১৩৭৭, আহমাদ ৪৪৯৭, ৪৬৩৯, ৬০০৯

[3] মুসলিম ৭৭৮, ইবনু মাজাহ ১৩৭৬, আহমাদ ১৩৯৮২, ১৩৯৮৬

[4] মুসলিম ৮৮৩, আবূ দাউদ ১১২৯, আহমাদ ১৬৪২৪, ১৬৪৬৮

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply