রাসুলুল্লাহ সাঃ কে যে ধোঁকা দেয় তাহাঁর শাস্তি

রাসুলুল্লাহ সাঃ কে যে ধোঁকা দেয় তাহাঁর শাস্তি

রাসুলুল্লাহ সাঃ কে যে ধোঁকা দেয় তাহাঁর শাস্তি << নবুওয়তের মুজিযা হাদীসের মুল সুচিপত্র দেখুন

বিংশ পরিচ্ছেদ – রাঃসাঃ এর বিরূদ্ধে যারা বিদ্রোহ করে তাদের শাস্তি

আনাস রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত যে, নাবী রাঃসাঃ তাহাঁর মামা উম্মে সুলায়মানের [আনাসের মা] ভাই [হারাম ইবনু মিলহান রাদি. আনহু] কে সত্তরজন অশ্বারোহীসহ [আমির ইবনু তুফায়েলের নিকট] পাঠালেন। মুশরিকের দলপতি আমির ইবনু তুফায়েল [পূর্বে] নাবী রাঃসাঃকে তিনটি বিষয়ের যেকোন একটি গ্রহণ করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল। সে বলেছিল, পল্লী এলাকায় আপনার কর্তৃত্ব থাকবে এবং শহর এলাকায় আমার কর্তৃত্ব থাকবে। অথবা আমি আপনার খলীফা হব বা গাতফান গোত্রের দুই হাজার সৈন্য নিয়ে আমি আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। এরপর আমির উম্মে ফুলানের গৃহে মহামারিতে আক্রান্ত হল। সে বলল, অমুক গোত্রের মহিলার বাড়িতে উটের যেমন ফোঁড়া হয় আমারও তেমন ফোঁড়া হয়েছে। তোমরা আমার ঘোড়া নিয়ে আস। তারপর [ঘোড়ায় আরোহণ করে] অশ্বপৃষ্ঠেই সে মৃত্যুবরণ করে। উম্মে সুলাইম রাদি. আনহার ভাই হারাম [ইবনু মিলহান রাদি. আনহু] এক খোঁড়া ব্যক্তি ও কোনো এক গোত্রের অপর এক ব্যক্তি সহ সে এলাকার দিকে রওয়ানা করিলেন। [হারাম ইবনু মিলহান রাদি. আনহু] তার দুই সাথীকে লক্ষ্য করে বলিলেন, তোমরা নিকটেই অবস্থান কর। আমিই তাদের নিকট যাচ্ছি। তারা যদি আমাকে নিরাপত্তা দেয়, তাহলে তোমরা এখানেই থাকবে। আর যদি তারা আমাকে শহীদ করে দেয় তাহলে তোমরা তোমাদের নিজেদের সাথীর কাছে চলে যাবে। এরপর তিনি [তাদের নিকট গিয়ে] বলিলেন, তোমরা [আমাকে] নিরাপত্তা দিবে কি? দিলে রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর একটি পয়গাম তোমাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিতাম। তিনি তাদের সাথে এ ধরণের আলাপ-আলোচনা করছিলেন। এমতাবস্থায় তারা এক ব্যক্তিকে ইঙ্গিত করলে সে পেছন দিক থেকে এসে তাঁকে বর্ষা দ্বারা আঘাত করল। হাম্মাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমার মনে হয় আমার শায়খ [ইসহাক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]] বলেছিলেন যে, বর্শা দ্বারা আঘাত করে এপার ওপার করে দিয়েছিল। [আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে হারাম ইবনু মিলহান রাদি. আনহু বলিলেন, আল্লাহু আকবর, কাবার প্রভুর শপথ! আমি সফলকাম হয়েছি। এরপর উক্ত [হারামের সঙ্গী] লোকটি [অপেক্ষমান সাথীদের সাথে] মিলিত হলেন। তারা হারামের সংগীদের উপর আক্রমণ করলে খোঁড়া ব্যক্তি ব্যতীত সকলেই নিহত হলেন। খোঁড়া লোকটি ছিলেন পাহাড়ের চূড়ায়। এরপর আল্লাহ্তা`আলা আমাদের প্রতি [একখানা] আয়াত নাযিল করিলেন যা পরে মনসূখ হয়ে যায়। আয়াতটি ছিল এই “ আমরা আমাদের প্রতিপালকের সান্নিধ্যে পৌঁছে গিয়েছি। তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আমাদেরকেও সন্তুষ্ট করেছেন”। তাই নাবী রাঃসাঃ ত্রিশ দিন পর্যন্ত ফজরের সালাতে রি`ল, যাকওয়ান, উসায়্যা এবং বনূ লিহইয়ান গোত্রের জন্য বদ-দু`আ করেছেন, যারা আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়েছিল। [1]

রাঃসাঃ  এর বিরূদ্ধে যারা বিদ্রোহ করে ও আল্লাহকে নিয়ে উপহাস করে তাদের শাস্তি

আনাস রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ জাহেলী যুগের এক সর্দারের কাছে আল্লাহর দিকে দাওয়াত নিয়ে তাহাঁর একজন সাহাবী পাঠালেন। সে দম্ভ করে বলল, তোমরা যে রবের দিকে ডাকতেছ সে কিসের তৈরি? লোহা নাকি তামা, নাকি রুপা নাকি সোনার তৈরি? সাহাবী রাঃসাঃ  এর কাছে ফিরে এসে সে লোকের কথা জানালো। তারপর রাঃসাঃ তাকে আবার পাঠালেন। সে আবার অনুরূপ কথা বলল। উক্ত সাহাবী রাঃসাঃ  এর কাছে ফিরে এসে সে লোকের কথা জানালো। রাঃসাঃ তাকে তৃতীয়বার পাঠালেন। সে আবার অনুরূপ কথা বলল। উক্ত সাহাবী রাঃসাঃ  এর কাছে ফিরে এসে সে লোকের কথা জানালো। ফলে আল্লাহ তা`আলা তার উপর বজ্র ফেলে আগুনে ভস্মীভূত করে দিলেন। অতঃপর রাঃসাঃ বলিলেন, আল্লাহ তা`আলা উক্ত ব্যক্তির উপর বজ্র ফেলে আগুনে ভস্মীভূত করে দিয়েছেন। তখন এ আয়াত নাযিল হয়:

“আর তিনি গর্জনকারী বজ্র পাঠান। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তা দ্বারা আঘাত করেন এবং তারা আল্লাহ সম্বন্ধে ঝগড়া করতে থাকে। আর তিনি শক্তিতে প্রবল, শাস্তিতে কঠোর”। [কোরআনের সুরা আর-রা`দ: ১৩][2]


[1] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৪০৯১, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ৬৭৭।

[2] মুসনাদে বাজ্জার, হাদিস নম্বর ৭০০৭, ইমাম বাজ্জার রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দাইলাম সালিহুল হাদীস। ইমাম হাইসামী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, (মাজমাউজ্জাওউয়ায়েদ: ৭/৪২) দাইলাম ইবন গাযওয়ান রহমাতুল্লাহি আলাইহি ব্যতীত হাদীসের সনদের সবাই সহিহ, তিনি সিকাহ।

Leave a Reply