ধুম্র প্রসঙ্গ

ধুম্র প্রসঙ্গ

ধুম্র প্রসঙ্গ

৭. অধ্যায়ঃ ধুম্র প্রসঙ্গ

৬৯৫৯. মাসরূক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.]-এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় তিনি আমাদের মাঝে এক পার্শ্বদেশ হয়ে ঘুমিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় তাহাঁর কাছে জনৈক লোক এসে বলিল, হে আবু আবদুর রহ্‌মান! কিনদা দ্বারপ্রান্তে এক বক্তা বলছেন, কুরআনে বর্ণিত ধোঁয়ার কাহিনীটি ভবিষ্যতে সংঘটিত হইবে। তা প্রবাহিত হয়ে কাফিরদের শ্বাসরুদ্ধ করে দিবে এবং এতে মুমিনদের সর্দির মতো অবস্থা হইবে। এ কথা শুনে তিনি গোস্বা হয়ে বসলেন এবং বলিলেন, হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। তোমাদের কেউ কোন কথার জ্ঞান থাকলে সে যেন তা-ই বলে। আর যে না জানে সে যেন বলে- arbi আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন। কেননা প্রকৃত জ্ঞানের কথা হচ্ছে এই যে, যে বিষয়ে তার জ্ঞান নেই সে বিষয়ে বলবে, আল্লাহই অধিক ভাল জানেন। কারণ আল্লাহ তাআলা তাহাঁর নবী [সাঃআঃ]-কে বলেছেন, “বলো, আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিফল চাই না এবং আমি মিথ্যা দাবীদারদের অন্তর্ভুক্ত নই।” প্রকৃত অবস্থা তো এই যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন লোকেদের মাঝে দীনবিমুখতা দেখলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, হে আল্লাহ! ইউসূফ [আঃ]-এর সময়ের ন্যায় অভাব-অনটনের সাতটি বছর তাদের উপর আপতিত কর। তারপর তাদের উপর অভাব-অনটন এমনভাবে পতিত হলো যে, তা সব কিছুকে নিঃশেষ করে দিল। ফলে ক্ষুধার জ্বালায় তারা চামড়া ও মৃত দেহ খাদ্য উপকরণ হিসেবে গ্রহণ করলো। এমনকি তাদের কোন লোক আকাশের দিকে তাকালে শুধূ ধোঁয়ার মতই দেখিতে পেত। অতঃপর আবু সুফ্‌ইয়ান রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে এসে বলিল, হে মুহাম্মাদ! আপনি তো আল্লাহর আনুগত্যের আদেশ করেন এবং আত্মীয়তার হক আদায় করার আদেশ দিয়ে আসছেন, অথচ আপনার সম্প্রদায় তো ধ্বংস হয়ে গেলো। আপনি তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন। [এ প্রসঙ্গে] আল্লাহ তাআলা বললেনঃ “অতএব আপনি অপেক্ষা করুন সে দিনের, যেদিন স্পষ্ট ধুম্রাচ্ছন্ন হইবে আকাশ এবং সেটা আবৃত করে ফেলবে মানব জাতিকে। এ হইবে কাঠিন শাস্তি। ….. তোমরা তো তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে।” এ পর্যন্ত তিলাওয়াত করিলেন। [সুরা আদ্‌ দুখান ৪৪ : ১০-১২]

আবদুল্লাহ [রাদি.] বলেন, আখিরাতের শাস্তি কি লাঘব করা হইবে? [আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন], “যেদিন আমি তোমাদের সুদৃঢ়ভাবে পাকড়াও করব, অবশ্যই সেদিন আমি তোমাদের নিকট থেকে প্রতিশেষ নিব।” [সুরা আদ্‌ দুখান ৪৪ : ১৬]

অনুরূপ এ আয়াতে বাতশাহ্‌ দ্বারা বাদ্‌রের যুদ্ধ উদ্দেশ্য করা হয়েছে। কাজেই দুখান [ধোয়ার নিদর্শন], আল বাত্বশাহ্‌ [পাকড়াও], লিযাম [আবশ্যিক শাস্তি] এবং রূম [রোমকদের পরাজয়ের কাহিনী] এসব অতীত হয়ে গেছে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮০৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৬৩]

৬৯৬০. মাসরূক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবদুল্লাহ [রাদি.]-এর কাছে এক লোক এসে বলিল, আমি মাসজিদে এক লোককে দেখে এসেছি, সে কুরআনের ইচ্ছামাফিক তাফসীর করছে। সে [আরবী] এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলছে যে, কিয়ামাতের দিন ধোঁয়া এসে লোকেদের আবৃত করে ফেলবে ও তাদের শ্বাসরুদ্ধ করে ফেলবে, এমনকি এতে লোকেদের সর্দির ন্যায় অবস্থা হয়ে যাবে। এ কথা শুনে আবদুল্লাহ [রাদি.] বলিলেন, যে ব্যক্তি যে বিষয়ে জানে সে তা বর্ণনা করিবে। আর যে না জানে তার বলা অনুচিত, আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। কেননা অজানা বিষয় সম্বন্ধে আল্লাহই অধিক জ্ঞাত, এ কথা বলাই মানুষের পরিপূর্ণ জ্ঞানের লক্ষণ। কারণ এ বিষয়টি তখনই সংঘটিত হয়েছিল, যখন কুরায়শরা নবী [সাঃআঃ]-এর অবাধ্যতা করেছিল। তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে দুআ করেন যেন ইউসুফ [আঃ]-এর সময়ের সাত বছরের মতো অভাব-অনটন তাদের উপর নিপতিত হয়। এরপর তাদের উপর অভাব-অনটন এবং ক্ষুধার কষ্ট এমনভাবে নিপতিত হলো যে, কেউ আকাশের দিকে তাকালে সে ধূম্রাচ্ছন্ন দেখত, এমনকি তারা হাড্ডি খাওয়া শুরু করিল। তখন জনৈক লোক এসে নবী [সাঃআঃ]-কে বলিল, হে আল্লাহর রসূল! মুযার গোত্রের জন্য আল্লাহর কাছে মার্জনা প্রার্থনা করুন। তারা নিশ্চয় ধ্বংস হয়ে গেল। তিনি বলিলেন, মুযার গোত্রের জন্য তুমি তো দুর্দান্ত সাহসী। রাবী বলেন, তারপর নবী [সাঃআঃ] তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করিলেন। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করিলেন, “আমি তোমাদের শাস্তি কিছু সময়ের জন্য বিরত রেখেছি। তোমরা তো তোমাদের আগের অবস্থায়ই প্রত্যাবর্তন করিবে”- [সুরা আদ্‌ দুখান ৪৪ : ১৫]।

রাবী বলেন, অতঃপর তাদের উপর অনবরত বৃষ্টি হলো। এরপর তাদের যখন স্বচ্ছলতা ফিরে এলো তখন তারা আবার আগের অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করিল। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করিলেন, “অতএব আপনি অপেক্ষা করুন সেদিনের, যেদিন ধূম্রাচ্ছন্ন হইবে আকাশ এবং সেটা মানব জাতিকে ঢেকে ফেলবে। এ হইবে কঠিন শাস্তি”- [সুরা আদ্‌ দুখান ৪৪ : ১০-১১]। যেদিন আমি তোমাদের শক্তভাবে পাকড়াও করব, সেদিন আমি তোমাদেরকে আযাব দিবই”- [সুরা আদ্‌ দুখান ৪৪ : ১৬]। রাবী বলেন, অর্থাৎ- বাদ্‌রের দিন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮১০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৬৪]

৬৯৬১. আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, পাঁচটি বিষয় অতীত হয়ে গেছেঃ ধোঁয়া, শাস্তি, রোম-এর পরাজয়, পাকড়াও এবং চন্দ্রের নিদর্শন অর্থাৎ বিদীর্ণ হওয়া।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮১১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৬৫]

৬৯৬২. ওয়াকী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে এ সানাদে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮১১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৬৬]

৬৯৬৩. উবাই ইবনি কাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আল্লাহর বাণী- “বড় বড় শাস্তির পূর্বে তাদের আমি অবশ্যই ছোট ছোট শাস্তি আস্বাদন করাব”- [সূরাহ্ আস্ সাজদাহ্ ৩২ : ২১] এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেনঃ উদ্দেশ্য হলো পার্থিব বিপদাপদ, রোমের পরাজয়, পাকড়াও অথবা ধোঁয়া। পাকড়াও না ধোঁয়া এ সম্পর্কে শুবাহ্ সন্দেহ প্রকাশ করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮১৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৬৭]

By Muslim

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply