দো‘আ সম্পর্কিত কতিপয় জ্ঞাতব্য বিষয়

দো‘আ সম্পর্কিত কতিপয় জ্ঞাতব্য বিষয়

দো‘আ সম্পর্কিত কতিপয় জ্ঞাতব্য বিষয় >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ২৫২: দো‘আ সম্পর্কিত কতিপয় জ্ঞাতব্য বিষয়

1/1504 وَعَنْ أُسَامَةَ بنِ زَيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «مَنْ صُنِعَ إِلَيْهِ مَعْرُوفٌ، فَقَالَ لِفاعِلهِ: جَزَاكَ اللهُ خَيراً، فَقَدْ أَبْلَغَ فِي الثَّنَاءِ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح

১/১৫০৪। উসামাহ ইবনি যায়েদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “যে ব্যক্তির জন্য কোন উপকার করা হল এবং সে উপকারকারীকে ‘জাযাকাল্লাহু খায়রা’ [অর্থাৎ আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দেন] বলে দো‘আ দিল, সে নিঃসন্দেহে [উপকারীর] পূর্ণাঙ্গরূপে প্রশংসা করিল।” [তিরমিযী হাসান সহীহ] [1]

2/1505 وَعَنْ جَابِرٍ رضي الله عنهقَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لاَ تَدْعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ ؛ وَلاَ تَدعُوا عَلَى أَوْلاَدِكُمْ، وَلاَ تَدْعُوا عَلَى أَموَالِكُمْ، لاَ تُوافِقُوا مِنَ اللهِ سَاعَةً يُسأَلُ فِيهَا عَطَاءً فَيَسْتَجِيبَ لَكُمْ». رواه مسلم

২/১৫০৫। জাবের রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধে, নিজেদের সন্তান-সন্ততির বিরুদ্ধে, নিজেদের ধন-সম্পদের বিরুদ্ধে বদ্দু‘আ করো না [কেননা, হয়তো এমন হইতে পারে যে,] তোমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন একটি সময় পেয়ে বস, যখন আল্লাহর কাছে যা প্রার্থনা করিবে, তোমাদের জন্য তা কবূল করে নেবেন।” [কাজেই বদ দো‘আও কবূল হয়ে যাবে। অতএব এ থেকে সাবধান]। [মুসলিম][2]

3/1506 وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَقْرَبُ مَا يَكُونُ العَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ، فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ». رواه مسلم

৩/১৫০৬। আবূ হুরায়রা রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “বান্দা সিজদার অবস্থায় স্বীয় প্রভুর সর্বাধিক নিকটবর্তী হয়। অতএব তোমরা অধিক মাত্রায় [ঐ অবস্থায়] দো‘আ কর।” [মুসলিম][3]  

4/1507 وَعَنْهُ: أنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يُسْتَجَابُ لأَحَدِكُمْ مَا لَمْ يَعْجَلْ: يَقُوْلُ: قَدْ دَعْوتُ رَبِّي، فَلَمْ يَسْتَجِبْ لِي». متفق عَلَيْهِ

وفي روايةٍ لمسلمٍ: «لاَ يَزالُ يُسْتَجَابُ لِلعَبْدِ مَا لَمْ يَدْعُ بإِثْمٍ، أَوْ قَطيعَةِ رَحِمٍ، مَا لَمْ يَسْتَعْجِلْ». قيل: يَا رَسُولَ اللهِ مَا الاِسْتِعْجَالُ ؟ قَالَ: «يَقُوْلُ: قَدْ دَعوْتُ، وَقَدْ دَعَوْتُ، فَلَمْ أرَ يَسْتَجِيبُ لِي، فَيَسْتحْسِرُ عِنْدَ ذَلِكَ وَيَدَعُ الدُّعَاءَ».

৪/১৫০৭। উক্ত রাবী হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “তোমাদের কোন ব্যক্তির দো‘আ গৃহীত হয়; যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে; বলে, ‘আমার প্রভুর নিকট দো‘আ তো করলাম, কিন্তু তিনি আমার দো‘আ কবূল করিলেন না।” [বুখারী ও মুসলিম] [4]

মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, “বান্দার দো‘আ ততক্ষণ পর্যন্ত কবূল করা হয়, যতক্ষণ সে গুনাহর জন্য বা আত্মীয়তা ছিন্ন করার জন্য দো‘আ না করে, আর যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! তাড়াহুড়ো মানে কি?’ তিনি বলিলেন, “দো‘আকারী বলে, ‘দো‘আ করলাম, আবার দো‘আ করলাম, অথচ দেখলাম না যে, তিনি আমার দো‘আ কবূল করছেন।’ কাজেই সে তখন ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে বসে পড়ে ও দো‘আ করা ত্যাগ করে দেয়।”

5/1508 وَعَنْ أَبي أُمَامَة رضي الله عنه قَالَ: قِيلَ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَيُّ الدُّعاءِ أَسْمَعُ ؟ قَالَ: «جَوْفَ اللَّيْلِ الآخِرِ، وَدُبُرَ الصَّلَواتِ المَكْتُوباتِ» . رواه الترمذي،وقال: حديث حسن

৫/১৫০৮। আবূ উমামাহ রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘কোন দো‘আ সর্বাধিক শোনা [কবূল করা] হয়?’ তিনি বলিলেন, “রাত্রির শেষভাগে এবং ফরয নামাযসমূহের শেষাংশে।” [তিরমিযী হাসান][5]

6/1509 وَعَنْ عُبَادَةَ بنِ الصَّامِتِ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا عَلَى الأَرْضِ مُسْلِمٌ يَدْعُو الله تَعَالَى بِدَعْوَةٍ إِلاَّ آتَاهُ اللهُ إيَّاهَا، أَوْ صَرفَ عَنْهُ مِنَ السُّوءِ مِثْلَهَا، مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمٍ، أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ»، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ القَومِ: إِذاً نُكْثِرُ قَالَ: «اللهُ أكْثَرُ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح

وَرَوَاهُ الحَاكِمُ مِنْ رِوَايَةِ أَبِي سَعِيدٍ وَزَادَ فِيهِ: «أَوْ يَدَّخِرَ لَهُ مِن الأَجْرِ مثْلَها» .

৬/১৫০৯। উবাদাহ ইবনি সামেত রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বলেছেন, “ধরার বুকে যে মুসলিম ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে দো‘আ করে [তা ব্যর্থ যায় না]; হয় আল্লাহ তা তাকে দেন অথবা অনুরূপ কোন মন্দ তার উপর থেকে অপসারণ করেন; যতক্ষণ পর্যন্ত সে [দো‘আকারী] গুনাহ বা আত্মীয়তা ছিন্ন করার দো‘আ না করিবে।” একটি লোক বলিল, ‘তাহলে তো আমরা অধিক মাত্রায় দো‘আ করব।’ তিনি বলিলেন, “আল্লাহ সর্বাধিক অনুগ্রহশীল” [তিরমিযী-হাসান সহীহ][6]

হাকেম আবূ সাঈদ হইতে এগুলি বর্ধিত আকারে বর্ণনা করিয়াছেন, “অথবা তার সম পরিমাণ পুণ্য তার জন্য সঞ্চিত রাখা হয় [যা তার পরকালে কাজে আসবে]।”

7/1510 وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُول اللهِ كَانَ يَقُوْلُ عِنْدَ الكَرْبِ: «لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ العَظِيمُ الحَلِيمُ، لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ رَبُّ العَرْشِ العَظيمِ، لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ، وَرَبُّ الأَرْضِ، وَرَبُّ العَرْشِ الكَرِيمِ». متفق عَلَيْهِ

৭/১৫১০।  ইবনি আব্বাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ বিপদ ও কষ্টের সময় এই দো‘আ পড়তেন,

‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল আযীমুল হালীম, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু রাববুল আরশিল আযীম, লা  ইলা-হা  ইল্লাল্লা-হু রাববুস সামা-ওয়া-তি অরাববুল আরযিব অরাববুল আরশিল করীম।’

অর্থ, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মা‘বুদ নেই; যিনি সুমহান, সহিষ্ণু। আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই; যিনি সুবৃহৎ আরশের প্রতিপালক। আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য আরাধ্য নেই; যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও সম্মানিত আরশের অধিপতি। [বুখারী-মুসলিম][7]


[1] তিরমিযী ২০৩৫

[2] মুসলিম ৩০০৯

[3] মুসলিম ৪৮২, নাসায়ী ১১৩৭, আবূ দাউদ ৫৭০, আহমাদ ৯১৬৫

[4] সহীহুল বুখারী ৬৩৪০, মুসলিম ২৭২৯, তিরমিযী ৩৩২৭, আবূ দাউদ ১৪৮৪, ইবনু মাজাহ ৩৮৫৩, আহমাদ ৮৯০৩, ৯৯২৯, মুওয়াত্তা মালিক ৪৯৫

[5] তিরমিযী ৩৪৯৯

[6] তিরমিযী ৩৫৭৩, আহমাদ ২২২৭৯

[7] সহীহুল বুখারী ৫৩৪৫, ৬৩৬৬, ৭৪২৬, ৭৪৩১, মুসলিম ২৭৩০, তিরমিযী ৩৪৩৫, ইবনু মাজাহ ৩৮৮৩, আহমাদ ২০১৩, ২২৯৭, ২৩৪০, ২৪০৭, ২৫২৭, ২৫৬৪, ৩১৩৭, ৩৩৪৪

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply